📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 যা ছালাত ভঙ্গ করে

📄 যা ছালাত ভঙ্গ করে


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন:
يقطع صلاة الرجل إذا لم يكن بين يديه كآخرة الرحل : المرأة ( الحائض ) والحمار والكلب الأسود قال أبو ذر : قلت يا رسول الله ! مابال الأسود من الأحمر ؟ فقال : الكلب الأسود شيطان »
কোন ব্যক্তির সম্মুখে বাহনের পিছনের কাষ্ঠ খণ্ডের ন্যায় কিছু (সুতরা) না থাকলে (সাবালিকা) মহিলা (২), গাধা ও কাল কুকুরের অতিক্রমণ তার ছলাত ভঙ্গ করে ফেলে। আবু যর বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, লাল কুকুর ও কাল কুকুরের মধ্যে ব্যবধান হল কেন? তিনি বললেন: “কাল কুকুর হচ্ছে শয়ত্বান।” (৩)

টিকাঃ
(১) বুখারী, মুসলিম ও ইবনু খুযাইমাহ্ (১/৯৪/১)।
(২) ( الحائض ) শব্দ দ্বারা সাবালিকা মহিলা উদ্দেশ্য। আর ছালাত ভঙ্গ বলতে বাত্বিল হওয়া উদ্দেশ্য; পক্ষান্তরে لا يقطع الصلاة شيء অর্থ : কোন কিছুই ছালাত ভঙ্গ করেনা উক্ত হাদীছটি দুর্বল, আমি تمام المنة কিতাবের ৩০৬ পৃষ্ঠায় ও অন্যান্য কিতাবে এর তথ্য তুলে ধরেছি।
(৩ ও ৪) মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ (১/৯৫/২), আরো দেখুন আমার স্বরচিত أحكام الجنائز وبدعها • تحذير الساجد من اتخاذ القبور المساجد

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 কুবরের দিকে ছালাত (এর বিধান)

📄 কুবরের দিকে ছালাত (এর বিধান)


তিনি কবরের দিকে মুখ করে ছলাত পড়তে নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন : « لا تصلوا إلى القبور، ولا تجلسوا عليها » তোমরা কবরের দিকে (মুখ করে) ছলাত পড়বে না এবং তার উপর বসবেও না। (৪)

টিকাঃ
(৩ ও ৪) মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ (১/৯৫/২), আরো দেখুন আমার স্বরচিত أحكام الجنائز وبدعها • تحذير الساجد من اتخاذ القبور المساجد

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 নিয়ত প্রসঙ্গ

📄 নিয়ত প্রসঙ্গ


তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرىء ما نوى )
অর্থ: আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। (২)

টিকাঃ
(১) ইমাম নববী ( روضة الطالبين )১/২২৪) এ বলেন: নিয়ত অর্থ ইচ্ছা করা। তাই মুছাল্লী স্বীয় অন্তরে ছলাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যেমন যহর, ফরয ইত্যাদি উপস্থিত করবে অতঃপর মনে মনে প্রথম তাকবীর (তাকবীর তাহরীমাহ)-এর সাথে সংযুক্ত করবে ঐসব বিষয়ের সংকল্পকে।
{প্রকাশ থাকে যে, কোন কোন সমাজে মুছাল্লায় দাঁড়িয়ে মুছাল্লাহর দু'আ হিসাব "ইন্নী অজ্জাহতু...." পাঠ করা হয়। নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ছলাত আদায়ের পদ্ধতিতে তাকবীরের পূর্বে এ দু'আ পাঠের কোন নিয়ম নেই। অতএব, ইহা নাবীর তরীকা বহির্ভূত নবাবিষ্কৃত বিদ'আত। হাঁ তবে ছহীহ হাদীছসমূহে শুরুর (ছানার) বহু দু'আর মধ্যে অজ্জাহতু অজহিয়া... এ দু'আটি রয়েছে যা তাকবীরের পরে পাঠযোগ্য, পূর্বে নয়। দেখুন আবু দাউদ ও তিরমিযী। অনুরূপভাবে তাকবীরের পূর্বে বা যে কোন আমল ও ইবাদতের পূর্বে জনৈক মৌলভী সাহেবদের রচিত গদবাধা আরবী বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে নিয়ত পড়ার যে প্রচলন দেখা যায় যেমন "নাঅয়তু আন উছল্লিয়া...... আতাঅয্যাআ.... ইত্যাদিও দ্বীনের ভিতর নতুন আবিষ্কৃত বিদআত। প্রচলিত নিয়ত পড়ার নিয়ম কুরআন হাদীছে নেই। নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), ছাহাবাগণ, তাবিঈগণ, চারজন ইমামসহ ইমসলামে নির্ভরযোগ্য কোন আলিম পড়েননি। অনুরূপভাবে ইমামের "আনা ইমামুল লিমান হাযারা অমান ইয়াহ্যুর" বলাও নবাবিষ্কৃত বিদ'আত। মূলতঃ নিয়ত বলতে ও পড়তে হয় না। নিয়ত করতে হয়।} (সম্পাদক)
(২) বুখারী, মুসলিম ইত্যাদি। হাদীছটি الإرواء তে উদ্ধৃত হয়েছে (২২)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 তাকবীর প্রসঙ্গ

📄 তাকবীর প্রসঙ্গ


অতঃপর তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম( الله أكبر )আল্লাহু আকবার( বলে ছলাত শুরু করতেন। (৩) ছলাতে ত্রুটিকারীকেও তিনি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন যেমন পূর্বে উল্লেখ হয়েছে এবং তাকে আরো বলেছিলেন:
ইন্নাহু লা তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা ইয়াতওয়ায্যা'আ ফায়াওয়াযি'আল উযূআ মাওয়াযি'আহু সুম্মা ইয়াকুূলুল্লাহু আকবার
কারো ছলাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে ঠিক মত ওযু করবে, অতঃপর الله أكبر (আল্লাহু আকবার) বলবে। (১) তিনি আরো বলতেন:
মিফতাহুছ ছলা-তি আত্বত্বুহূরু অতাহরীমুহাত তাকবীরু অতাহলীলুহায তাসলীম
ছলাতের চাবি পবিত্রতা অর্জন (ওযু) আর তাকবীর দ্বারা ছলাতের ভিতর (এর অসংশ্লিষ্ট আল্লাহ ও তদীয় নাবী কর্তৃক) নিষিদ্ধ কাজগুলো হারাম হয়ে যায় (২) এবং সালাম দ্বারা তা হালাল হয়ে যায়। (৩)
তিনি তাকবীর বলা কালে স্বর উচু করতেন যাতে তাঁর পিছনের মুক্তাদীরা শুনতে পায়। (৪)
তিনি অসুস্থ হলে আবু বকর তাঁর স্বর উঁচু করে মুক্তাদীদের কাছে নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাকবীর পৌছিয়ে দিতেন। (৫) তিনি বলতেন- ইমাম যখন الله أكبر (আল্লাহু আকবার) বলেন তখন তোমরাও (আল্লাহু আকবার) বল। (৬)

টিকাঃ
(৩) মুসলিম ও ইবনু মাজাহ। হাদীছে এ কথার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি ঐসব লোকদের ন্যায় শুরু করতেন না যারা বলে, "নাওয়াইতু আন উছাললিয়া" বরং এটি হচ্ছে সর্বসম্মত বিদ'আত। কেবল তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, বিদ'আতটা ভাল ধরনের (হাসানাহ্) না খারাপ (সাইয়িআহ) ধরনের। আমরা বলতে চাই: ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা। নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাধারণ বাণী হচ্ছে وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار অর্থাৎ প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই..... জাহান্নামে প্রবেশের কারণ। এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা এখানে সম্ভব নয়।
(১) ত্বাবরানী বিশুদ্ধ সনদসহ বর্ণনা করেছেন।
(২) হারাম বলতে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা উদ্দেশ্য এবং হালাল বলতে ছলাতের বাহিরে যে সব কাজ হালাল তা-ই উদ্দেশ্য। তাহলীল ও তাহরীম মুহাল্লিল (হালালকারী) ও মুহাররিম (হারামকারী) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। হাদীছটি যেমন এ কথা বুঝাচ্ছে যে, ছলাতে (প্রবেশের) দ্বার রুদ্ধ, কোন বান্দাহ ওযু ব্যতীত তা খুলতে পারবে না, অনুরূপভাবে হাদীছটি একথার প্রতি নির্দেশ করছে যে, ছলাতের নিষিদ্ধতার গণ্ডিতে প্রবেশ করা তাকবীর ছাড়া অন্য কোন কাজ দ্বারা হবে না। আর সালাম ব্যতীত অন্য কোন কাজ দ্বারা তা থেকে বাহির হওয়া চলবে না। এটা অধিকাংশ আলিমদের অভিমত। (কিন্তু হানাফী মাযহাবে ঐ সবই জায়িয বরং সালামের পরিবর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বায়ু নিঃসরণের মাধ্যমে ছলাত সমাপ্ত করা যায়।)
(৩) আবু দাউদ, তিরমিযী এবং হাকিম একে বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সমর্থন দিয়েছেন। হাদীছটি ইরওয়া গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে (৩০১)।
(৪) আহমাদ, হাকিম; তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সমর্থন দিয়েছেন।
(৫) মুসলিম ও নাসাঈ।
(৬) আহমাদ ও বায়হাকী বিশুদ্ধ সনদে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00