📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 যৌযানে ছালাত

📄 যৌযানে ছালাত


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নৌযানে ছলাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন « صل فيها قائما إلا أن تخاف الغرق » অর্থাৎ যদি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা না করলে তার উপর দাঁড়িয়ে ছলাত আদায় করবে। (১)
বয়স বেশী হলে ও বার্ধক্যে উপনীত হলে তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ছলাতের স্থানে স্তম্ভ বানিয়ে নেন যার উপর তিনি ভর দিতেন। (২)

টিকাঃ
(১) বায্যার (৬৮) দারাকুত্বনী, আব্দুল গনী আল মাকদিসী "সুনান” এর (২/৮২) পৃষ্ঠায় হাকিম একে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। (ফায়েদাহ): বিমানে ছলাত পড়ার বিধান নৌযানে ছলাত পড়ার মতই। যদি সম্ভব হয় তবে দাঁড়িয়ে ছলাত পড়বে, তা না হলে বসেই ইশারার মাধ্যমে রুকু সাজদা করে পূর্বোল্লিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী ছলাত পড়বে।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম, তিনি ও যাহাবী একে ছহীহ বলেছেন। আমি একে “ছহীহা" (৩১৯) ও "ইরওয়া” এর (৩৮৩) নং হাদীছে উদ্ধৃত করেছি।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 রাত্রিকালীন ছালাতে দাঁড়ানো ও বসা

📄 রাত্রিকালীন ছালাতে দাঁড়ানো ও বসা


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দীর্ঘরাত ধরে দাঁড়িয়ে আবার কখনও দীর্ঘরাত ধরে বসে ছলাত পড়তেন। তিনি যখন দাঁড়িয়ে কিরা'আত পড়তেন তখন দাঁড়িয়ে রুকু করতেন আর যখন বসে ক্বির'আত পড়তেন তখন বসে রুকু করতেন। (৩)
তিনি কখনও বসে ছলাত আদায়কালে যখন বসে ক্বিরা'আত পড়তেন তখন ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকতে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় সেগুলো পড়ে রুকুতে যেতেন ও সাজদা করতেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক্'আতেও এ রকম করতেন। (৪)
তিনি কেবল বৃদ্ধ হলেই শেষ বয়সে মৃত্যুর এক বৎসর পূর্বে বসে নফল ছলাত পড়েছেন। (৫)
তিনি আসন পেতে (চারজানু হয়ে) ছলাতে বসতেন অর্থাৎ ডান পায়ের তলা বাম উরুর নীচে ও বাম পায়ের তলা ডান উরুর নীচে করে বসতেন। (৬)

টিকাঃ
(৩) মুসলিম ও আবু দাউদ।
(৪) বুখারী ও মুসলিম।
(৫) মুসলিম ও আহমাদ।
(৬) নাসাঈ, ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় "ছহীহ” এর (১/১০৭/২) আব্দুল গনী আল মাকদিসী "আস্ সুনান" এর (১/৮০) ও হাকিম, তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 জুতা পরে ছালাত ও তার আদেশ

📄 জুতা পরে ছালাত ও তার আদেশ


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও খালি পায়ে দাঁড়াতেন আবার কখনও জুতা পরে দাঁড়াতেন। (১) আর উম্মতের জন্য এটা বৈধ রেখেছেন। তিনি বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন ছলাত পড়বে তখন সে যেন স্বীয় জুতা জোড়া পরে নেয়, অথবা খুলে নিয়ে স্বীয় পদদ্বয়ের মধ্যভাগে রেখে দেয়, সে দু'টির দ্বারা যেন অপরকে কষ্ট না দেয়। (২)
কখনও জুতা পরে ছলাত আদায়ের উপর জোর (তাগিদ) দিয়ে বলেছেন: «خالفوا اليهود فإنهم لا يصلون في نعالهم ولا خفافهم» তোমরা ইয়াহুদদের বিরোধিতা কর কেননা তারা জুতা এবং মোজা পরে ছলাত পড়ে না। (৩)
কখনও ছলাতাবস্থাতেই স্বীয় পদযুগল থেকে জুতা জোড়া খুলে ছলাত চালিয়ে যেতেন।
যেমন আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বলেন: আমাদেরকে নিয়ে একদা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছলাত পড়েছিলেন, ছলাতের এক পর্যায়ে তিনি স্বীয় জুতা জোড়া খুলে তাঁর বাম পার্শ্বে রেখে দিলেন। এ দেখে লোকজনও তাদের জুতা খুলে ফেলল, তিনি ছলাত সম্পন্ন করে বললেন: তোমাদের কী হল যে, তোমরা জুতা খুলে রেখে দিলে? তারা বলল: আমরা আপনাকে জুতাদ্বয় খুলে রাখতে দেখেছি তাই আমরাও আমাদের জুতাগুলো খুলে ফেলেছি।
তিনি বললেন: জিবরীল এসে আমাকে বললেন, জুতায় ময়লা (অথবা বললেন: কষ্টদায়ক বস্তু) (অপর বর্ণনায় অপবিত্র বস্তু) রয়েছে। তাই আমি জুতাদ্বয় খুলে ফেলেছি। অতএব তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসবে তখন সে যেন স্বীয় জুতাদ্বয়ের প্রতি লক্ষ করে, তাতে যদি ময়লা (অথবা বললেন: কষ্টদায়ক বস্তু) (অপর বর্ণনায় অপবিত্র বস্তু) দেখে তবে যেন জুতাদ্বয়কে মুছে
নেয় এবং তা পরিধান করে ছলাত পড়ে। (১)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জুতাদ্বয় খুলতেন তখন তাঁর বাম পার্শ্বে রাখতেন। (২) তিনি বলতেন : তোমাদের কেউ যখন ছলাত পড়বে তখন স্বীয় জুতাদ্বয় যেন তার ডান পার্শ্বে না রাখে। আর অন্যের ডানে হলে বাম পার্শ্বেও না রাখে তবে বাম পার্শ্বে কেউ না থাকলে সে পার্শ্বেই রাখবে। অন্যথায় জুতাদ্বয় স্বীয় পদদ্বয়ের মধ্যস্থানে রাখবে। (৩)

টিকাঃ
(১) আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ। হাদীছটি মুতাওয়াতির যেমন ইমাম ত্বাহাবী উল্লেখ করেছেন।
(২) আবু দাউদ, বায্যার (স্বীয় যাওয়াইদে ৫৩) হাকিম একে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমা, হাকিম; তিনি একে ছহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী ও নববী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। প্রথম হাদীছটি الإرواء -তে উদ্ধৃত হয়েছে (২৮৪ নং হাঃ)।
(২) আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু খুযাইমা (১/১১০/২) ছহীহ সনদে।
(৩) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমা, হাকিম; তিনি একে ছহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী ও নববী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 মিম্বরের উপর ছালাত

📄 মিম্বরের উপর ছালাত


তিনি (ছাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা মিম্বরের উপর ছলাত পড়েন (অপর বর্ণনায় এটি ছিল তিন স্তর বিশিষ্ট) (৪) তিনি এর উপর দাঁড়ালেন এবং আল্লাহু আকবার বললেন, লোকেরাও তাঁর পিছনে আল্লাহু আকবার বলল। তখনও তিনি মিম্বরে অবস্থানরত [ অতঃপর মিম্বরের উপরেই রুকু করলেন ] তারপর সোজা হয়ে পিছনে সরে অবতরণ করলেন এবং মিম্বরের পাদদেশে সাজদাহ করলেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তন করলেন [ এবং দ্বিতীয় রাআতে প্রথম রাতের ন্যায় আমল করলেন ]। শেষ পর্যন্ত ছলাত সম্পন্ন করে লোকজনের দিকে মুখ করে বললেন : ( يا أيها الناس ! إني صنعت هذا لتأتموا بي ولتعلموا صلاتي ) হে লোক সমাজ! আমি এমনটি এজন্য করেছি যেন তোমরা আমার অনুকরণ করতে পার এবং আমার ছলাত শিখতে পার। (৫)

টিকাঃ
(৪) মিম্বরের ক্ষেত্রে এই তিন স্তর হওয়াই সুন্নাত, এর চেয়ে বেশী নয়। বেশী করা হচ্ছে উমাইয়াদের কর্তৃক প্রবর্তিত বিদআত যা অনেক ক্ষেত্রে ছফ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আবার এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে অথবা মিহরাবে রাখা এটি আরেকটি বিদআত। এমনিভাবে একে দক্ষিণ দেয়ালে উঁচু করে বারান্দার মত বানানো যাতে প্রাচীর ঘেষা সিড়ি দিয়ে উঠতে হয় (এটিও বিদআত)। বস্তুত সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ। দেখুন "ফাতহুল বারী" (২/৩৩১)।
(৫) বুখারী ও মুসলিম এবং অপর বর্ণনাটিও মুসলিমের, ইবনু সা'দ (১/২৫৩)। এটি "ইরওয়া”তে উদ্ধৃত হয়েছে (৫৪৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00