📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 পীড়িত ব্যক্তির বসে ছালাত আদায়

📄 পীড়িত ব্যক্তির বসে ছালাত আদায়


'ইমরান বিন হুছাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি অর্শ (৩) রোগে আক্রান্ত ছিলাম, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: صل قائما فإن لم تستطع فقاعدا فإن لم تستطع فعلى جنب )
"দাঁড়িয়ে ছলাত পড়, যদি তা না পার তবে বসে পড়বে। যদি তাও না পার তবে কাত হয়ে দেহের পার্শ্বদেশের ভরে শুয়ে পড়বে। (৪)
তিনি আরো বলেন: আমি নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বসে ছলাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বললেন: من صلى قائما فهو أفضل ومن صلى قاعدا فله نصف أجر القائم ومن صلى نائما
) وفي رواية : مضطجعا ) فله نصف أجر القاعد )
যে কোন ব্যক্তির দাঁড়িয়ে ছলাত পড়াই উত্তম। যে ব্যক্তি বসে ছলাত পড়বে সে দাঁড়িয়ে ছলাত আদায়কারীর অর্ধেক ছওয়াব পাবে, আর যে শুয়ে (অপর বর্ণনায় পার্শ্ব দেশের উপর) ছলাত পড়বে সে বসে ছলাত আদায়কারীর অর্ধেক ছওয়াব পাবে। (১)
এ হাদীছে পীড়িত ব্যক্তির কথাই বুঝানো হয়েছে। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: خرج رسول الله ﷺ على ناس وهم يصلون قعودا من مرض، فقال : « إن صلاة القاعد على النصف من صلاة القائم »
রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদল লোকের নিকট গমন করে দেখলেন তারা অসুস্থতার দরুণ বসে ছলাত পড়ছে। এদেখে তিনি বললেন- বসে ছলাত আদায়কারীর ছওয়াব দাঁড়িয়ে ছলাত আদায়কারীর অর্ধেক। (২)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক পীড়িত ব্যক্তিকে পরিদর্শন করতে গিয়ে তাকে বালিশের উপর ছলাত আদায় করতে দেখে তিনি তা টেনে নিয়ে দূরে নিক্ষেপ করেন। অতঃপর সে ব্যক্তি একখণ্ড কাঠ (৩) নিলেন এর উপর ছলাত পড়ার জন্য। তিনি তাও টেনে নিয়ে ফেলে দেন এবং বলেন: যদি সম্ভব হয় তবে মাটির উপর ছলাত পড়বে তা না হলে ইশারা করে পড়বে এবং সাজদাকে রুকু অপেক্ষা বেশী নিচু করবে। (৪)

টিকাঃ
(৩) যে শব্দ দ্বারা অর্শরোগ বুঝানো হয়েছে তাকে এক বচনে باسور বলা হয়। শেষের অক্ষর তখন হবে, রা। এর অর্থ নিতম্বের অভ্যন্তরীণ ফোড়া বিশেষ। আবার একে باسون ও বলা হয়, শেষের অক্ষর নুন সহকারে যার অর্থ এমন ফোড়া বিশেষ যাতে দূষিত রক্ত থাকা পর্যন্ত আরোগ্য লাভ হয় না। (ফতহুল বারী)
(৪) বুখারী, আবু দাউদ ও আহমাদ।
(১) বুখারী, আবূ দাউদ ও আহমাদ। ইমাম খাত্ত্বাবী বলেন: ইমরান (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদীছ দ্বারা ঐ পীড়িত ফরয আদায়কারী ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যে কষ্ট করে হলেও দাঁড়াতে পারে। এমতাবস্থায় বসা ব্যক্তির ছওয়াব দাড়ানো ব্যক্তির ছওয়াব অপেক্ষা অর্ধেক করা হয়েছে তাকে দাঁড়ানোর প্রতি প্রেরণা দান করার উদ্দেশ্যে যদিও (এ অবস্থায়) বসা জাইয রয়েছে। হাফিয ইবনু হাজর ফতহুল বারীতে বলেছেন (২/৪৬৮): এটি যুক্তি সঙ্গত ব্যাখ্যা।
(২) আহমাদ ও ইবnu মাজাহ, সনদ ছহীহ।
(৩) "লিসানুন আরব" অভিধানে রয়েছে, (উদ) কাঠ বলতে চিকন কাঠ বুঝায়। আবার এও বলা হয়েছে যে, যে কোন বৃক্ষের কাঠ চাই তা চিকন হোক বা মোটা হোক। আমি বলবো: হাদীছ দ্বিতীয় অর্থকেই সমর্থন করে। কেননা প্রথম অর্থ দ্বারা ব্যাখ্যা করা দুর্বোধ্য হবে।
(৪) তাবরানী, বায্যার, ইবনুস্ সাম্মাক স্বীয় হাদীছ গ্রন্থে (২/৬৭) বাইহাক্বী, এর সনদ ছহীহ যেমনটি আমি বর্ণনা করেছি "ছহীহা" (৬২৩ হাঃ)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 যৌযানে ছালাত

📄 যৌযানে ছালাত


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নৌযানে ছলাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন « صل فيها قائما إلا أن تخاف الغرق » অর্থাৎ যদি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা না করলে তার উপর দাঁড়িয়ে ছলাত আদায় করবে। (১)
বয়স বেশী হলে ও বার্ধক্যে উপনীত হলে তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ছলাতের স্থানে স্তম্ভ বানিয়ে নেন যার উপর তিনি ভর দিতেন। (২)

টিকাঃ
(১) বায্যার (৬৮) দারাকুত্বনী, আব্দুল গনী আল মাকদিসী "সুনান” এর (২/৮২) পৃষ্ঠায় হাকিম একে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। (ফায়েদাহ): বিমানে ছলাত পড়ার বিধান নৌযানে ছলাত পড়ার মতই। যদি সম্ভব হয় তবে দাঁড়িয়ে ছলাত পড়বে, তা না হলে বসেই ইশারার মাধ্যমে রুকু সাজদা করে পূর্বোল্লিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী ছলাত পড়বে।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম, তিনি ও যাহাবী একে ছহীহ বলেছেন। আমি একে “ছহীহা" (৩১৯) ও "ইরওয়া” এর (৩৮৩) নং হাদীছে উদ্ধৃত করেছি।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 রাত্রিকালীন ছালাতে দাঁড়ানো ও বসা

📄 রাত্রিকালীন ছালাতে দাঁড়ানো ও বসা


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দীর্ঘরাত ধরে দাঁড়িয়ে আবার কখনও দীর্ঘরাত ধরে বসে ছলাত পড়তেন। তিনি যখন দাঁড়িয়ে কিরা'আত পড়তেন তখন দাঁড়িয়ে রুকু করতেন আর যখন বসে ক্বির'আত পড়তেন তখন বসে রুকু করতেন। (৩)
তিনি কখনও বসে ছলাত আদায়কালে যখন বসে ক্বিরা'আত পড়তেন তখন ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকতে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় সেগুলো পড়ে রুকুতে যেতেন ও সাজদা করতেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক্'আতেও এ রকম করতেন। (৪)
তিনি কেবল বৃদ্ধ হলেই শেষ বয়সে মৃত্যুর এক বৎসর পূর্বে বসে নফল ছলাত পড়েছেন। (৫)
তিনি আসন পেতে (চারজানু হয়ে) ছলাতে বসতেন অর্থাৎ ডান পায়ের তলা বাম উরুর নীচে ও বাম পায়ের তলা ডান উরুর নীচে করে বসতেন। (৬)

টিকাঃ
(৩) মুসলিম ও আবু দাউদ।
(৪) বুখারী ও মুসলিম।
(৫) মুসলিম ও আহমাদ।
(৬) নাসাঈ, ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় "ছহীহ” এর (১/১০৭/২) আব্দুল গনী আল মাকদিসী "আস্ সুনান" এর (১/৮০) ও হাকিম, তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 জুতা পরে ছালাত ও তার আদেশ

📄 জুতা পরে ছালাত ও তার আদেশ


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও খালি পায়ে দাঁড়াতেন আবার কখনও জুতা পরে দাঁড়াতেন। (১) আর উম্মতের জন্য এটা বৈধ রেখেছেন। তিনি বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন ছলাত পড়বে তখন সে যেন স্বীয় জুতা জোড়া পরে নেয়, অথবা খুলে নিয়ে স্বীয় পদদ্বয়ের মধ্যভাগে রেখে দেয়, সে দু'টির দ্বারা যেন অপরকে কষ্ট না দেয়। (২)
কখনও জুতা পরে ছলাত আদায়ের উপর জোর (তাগিদ) দিয়ে বলেছেন: «خالفوا اليهود فإنهم لا يصلون في نعالهم ولا خفافهم» তোমরা ইয়াহুদদের বিরোধিতা কর কেননা তারা জুতা এবং মোজা পরে ছলাত পড়ে না। (৩)
কখনও ছলাতাবস্থাতেই স্বীয় পদযুগল থেকে জুতা জোড়া খুলে ছলাত চালিয়ে যেতেন।
যেমন আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বলেন: আমাদেরকে নিয়ে একদা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছলাত পড়েছিলেন, ছলাতের এক পর্যায়ে তিনি স্বীয় জুতা জোড়া খুলে তাঁর বাম পার্শ্বে রেখে দিলেন। এ দেখে লোকজনও তাদের জুতা খুলে ফেলল, তিনি ছলাত সম্পন্ন করে বললেন: তোমাদের কী হল যে, তোমরা জুতা খুলে রেখে দিলে? তারা বলল: আমরা আপনাকে জুতাদ্বয় খুলে রাখতে দেখেছি তাই আমরাও আমাদের জুতাগুলো খুলে ফেলেছি।
তিনি বললেন: জিবরীল এসে আমাকে বললেন, জুতায় ময়লা (অথবা বললেন: কষ্টদায়ক বস্তু) (অপর বর্ণনায় অপবিত্র বস্তু) রয়েছে। তাই আমি জুতাদ্বয় খুলে ফেলেছি। অতএব তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসবে তখন সে যেন স্বীয় জুতাদ্বয়ের প্রতি লক্ষ করে, তাতে যদি ময়লা (অথবা বললেন: কষ্টদায়ক বস্তু) (অপর বর্ণনায় অপবিত্র বস্তু) দেখে তবে যেন জুতাদ্বয়কে মুছে
নেয় এবং তা পরিধান করে ছলাত পড়ে। (১)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জুতাদ্বয় খুলতেন তখন তাঁর বাম পার্শ্বে রাখতেন। (২) তিনি বলতেন : তোমাদের কেউ যখন ছলাত পড়বে তখন স্বীয় জুতাদ্বয় যেন তার ডান পার্শ্বে না রাখে। আর অন্যের ডানে হলে বাম পার্শ্বেও না রাখে তবে বাম পার্শ্বে কেউ না থাকলে সে পার্শ্বেই রাখবে। অন্যথায় জুতাদ্বয় স্বীয় পদদ্বয়ের মধ্যস্থানে রাখবে। (৩)

টিকাঃ
(১) আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ। হাদীছটি মুতাওয়াতির যেমন ইমাম ত্বাহাবী উল্লেখ করেছেন।
(২) আবু দাউদ, বায্যার (স্বীয় যাওয়াইদে ৫৩) হাকিম একে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমা, হাকিম; তিনি একে ছহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী ও নববী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। প্রথম হাদীছটি الإرواء -তে উদ্ধৃত হয়েছে (২৮৪ নং হাঃ)।
(২) আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু খুযাইমা (১/১১০/২) ছহীহ সনদে।
(৩) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমা, হাকিম; তিনি একে ছহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী ও নববী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00