📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 ক্বিয়াম বা দাঁড়ানো

📄 ক্বিয়াম বা দাঁড়ানো


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরয ও নফল ছলাতে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর অনুসরণে: وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ﴾
অর্থ: তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনয় ভরে দাঁড়াও। (২)
তবে সফরে নফল ছলাত তিনি বাহনের উপর পড়তেন এবং স্বীয় উম্মতের জন্য প্রচণ্ড ভীতির সময় পায়ে হাঁটা অথবা আরোহী অবস্থায় ছলাত পড়ার রীতি রেখে যান। যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ হয়েছে। আর তা হচ্ছে আল্লাহর এ বাণী অবলম্বনে- حفِظُوا عَلَى الصَّلَوَٰتِ وَالصَّلوةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ فَنِتِينَ فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا فَإِذَا أَمِنْتُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَمَا عَلَّمَكُمْ مَّا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ ﴾
অর্থ: তোমরা ছলাতসমূহ, বিশেষ করে মধ্যবর্তী ছলাত (৩) পূর্ণ নিয়মানুবর্তিতার সাথে পালন কর এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনয় সহকারে দাঁড়াও, যদি ভীতিগ্রস্ত হও তবে পদব্রজে অথবা আরোহী অবস্থায় (ছলাত পড়)। অতঃপর যখন নিরাপদ হও তখন তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর যেভাবে তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তোমরা (আগে) জানতে না। (৪)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যুর রোগকালীন অবস্থায় বসে ছলাত আদায় করেছেন। (১)
ইতিপূর্বেও তিনি যখন অসুস্থ হয়েছিলেন তখন আরো একবার বসে ছলাত আদায় করেন। লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে ছলাত পড়ছিল তিনি তাদেরকে ইঙ্গিতে বললেন বস, তখন তারা সবাই বসে যায়। ছলাত শেষ করে বললেন: إن كدتم آنفا لتفعلون فعل فارس والروم يقومون على ملوكهم وهم قعود فلا تفعلوا إنما جعل الإمام ليؤتم به فإذا ركع فاركعوا وإذا رفع فارفعوا وإذا صلى جالساً فصلوا جلوسا ( أجمعون ) )
কিছুক্ষণ পূর্বে তোমরা পারস্য ও রোম সম্প্রদায়ের কাজ করতে শুরু করেছিলে। তারা তাদের রাজা-বাদশাদেরকে উপবিষ্ট অবস্থায় রেখে নিজেরা দাঁড়িয়ে থাকে। তোমরা এমনটি করো না। ইমামকে কেবল অনুকরণের জন্যই নিয়োগ করা হয়। তাই তিনি যখন রুকু করেন তখন তোমরা রুকু কর, আর তিনি যখন মাথা উঠান তখন তোমরাও মাথা উঠাও, তিনি যখন বসে ছলাত আদায় করেন তখন তোমরা সবাই বসে ছলাত আদায় কর। (২)

টিকাঃ
(১) বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, আস্সাররাজ ও তাবরানী (৩/১০৮/২), ইবনু সা'দ (১/২৪৩), এটা الإرواء (২৯০) রয়েছে।
(২) সূরা আল-বাকারাহ ২৩৮ আয়াত।
(৩) অধিকাংশ উলামার বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সে ছলাতটি হচ্ছে আছরের ছলাত। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবু হানীফা এবং তাঁর সাথীদ্বয়, এ বিষয়ে অনেক হাদীছ রয়েছে। হাফিয ইবনু কাছীর এগুলোকে তাঁর তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(৪) সূরা আল-বাকারাহ ২৩৮-২৩৯ আয়াত।
(১) তিরমিযী একে বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন, আহমাদও এটি বর্ণনা করেন।
(২) বুখারী, মুসলিম; এটি আমার কিতাব إرواء الغليل এর ৩৯৪নং হাদীছের আওতায় উদ্ধৃত হয়েছে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 পীড়িত ব্যক্তির বসে ছালাত আদায়

📄 পীড়িত ব্যক্তির বসে ছালাত আদায়


'ইমরান বিন হুছাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি অর্শ (৩) রোগে আক্রান্ত ছিলাম, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: صل قائما فإن لم تستطع فقاعدا فإن لم تستطع فعلى جنب )
"দাঁড়িয়ে ছলাত পড়, যদি তা না পার তবে বসে পড়বে। যদি তাও না পার তবে কাত হয়ে দেহের পার্শ্বদেশের ভরে শুয়ে পড়বে। (৪)
তিনি আরো বলেন: আমি নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বসে ছলাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বললেন: من صلى قائما فهو أفضل ومن صلى قاعدا فله نصف أجر القائم ومن صلى نائما
) وفي رواية : مضطجعا ) فله نصف أجر القاعد )
যে কোন ব্যক্তির দাঁড়িয়ে ছলাত পড়াই উত্তম। যে ব্যক্তি বসে ছলাত পড়বে সে দাঁড়িয়ে ছলাত আদায়কারীর অর্ধেক ছওয়াব পাবে, আর যে শুয়ে (অপর বর্ণনায় পার্শ্ব দেশের উপর) ছলাত পড়বে সে বসে ছলাত আদায়কারীর অর্ধেক ছওয়াব পাবে। (১)
এ হাদীছে পীড়িত ব্যক্তির কথাই বুঝানো হয়েছে। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: خرج رسول الله ﷺ على ناس وهم يصلون قعودا من مرض، فقال : « إن صلاة القاعد على النصف من صلاة القائم »
রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদল লোকের নিকট গমন করে দেখলেন তারা অসুস্থতার দরুণ বসে ছলাত পড়ছে। এদেখে তিনি বললেন- বসে ছলাত আদায়কারীর ছওয়াব দাঁড়িয়ে ছলাত আদায়কারীর অর্ধেক। (২)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক পীড়িত ব্যক্তিকে পরিদর্শন করতে গিয়ে তাকে বালিশের উপর ছলাত আদায় করতে দেখে তিনি তা টেনে নিয়ে দূরে নিক্ষেপ করেন। অতঃপর সে ব্যক্তি একখণ্ড কাঠ (৩) নিলেন এর উপর ছলাত পড়ার জন্য। তিনি তাও টেনে নিয়ে ফেলে দেন এবং বলেন: যদি সম্ভব হয় তবে মাটির উপর ছলাত পড়বে তা না হলে ইশারা করে পড়বে এবং সাজদাকে রুকু অপেক্ষা বেশী নিচু করবে। (৪)

টিকাঃ
(৩) যে শব্দ দ্বারা অর্শরোগ বুঝানো হয়েছে তাকে এক বচনে باسور বলা হয়। শেষের অক্ষর তখন হবে, রা। এর অর্থ নিতম্বের অভ্যন্তরীণ ফোড়া বিশেষ। আবার একে باسون ও বলা হয়, শেষের অক্ষর নুন সহকারে যার অর্থ এমন ফোড়া বিশেষ যাতে দূষিত রক্ত থাকা পর্যন্ত আরোগ্য লাভ হয় না। (ফতহুল বারী)
(৪) বুখারী, আবু দাউদ ও আহমাদ।
(১) বুখারী, আবূ দাউদ ও আহমাদ। ইমাম খাত্ত্বাবী বলেন: ইমরান (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদীছ দ্বারা ঐ পীড়িত ফরয আদায়কারী ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যে কষ্ট করে হলেও দাঁড়াতে পারে। এমতাবস্থায় বসা ব্যক্তির ছওয়াব দাড়ানো ব্যক্তির ছওয়াব অপেক্ষা অর্ধেক করা হয়েছে তাকে দাঁড়ানোর প্রতি প্রেরণা দান করার উদ্দেশ্যে যদিও (এ অবস্থায়) বসা জাইয রয়েছে। হাফিয ইবনু হাজর ফতহুল বারীতে বলেছেন (২/৪৬৮): এটি যুক্তি সঙ্গত ব্যাখ্যা।
(২) আহমাদ ও ইবnu মাজাহ, সনদ ছহীহ।
(৩) "লিসানুন আরব" অভিধানে রয়েছে, (উদ) কাঠ বলতে চিকন কাঠ বুঝায়। আবার এও বলা হয়েছে যে, যে কোন বৃক্ষের কাঠ চাই তা চিকন হোক বা মোটা হোক। আমি বলবো: হাদীছ দ্বিতীয় অর্থকেই সমর্থন করে। কেননা প্রথম অর্থ দ্বারা ব্যাখ্যা করা দুর্বোধ্য হবে।
(৪) তাবরানী, বায্যার, ইবনুস্ সাম্মাক স্বীয় হাদীছ গ্রন্থে (২/৬৭) বাইহাক্বী, এর সনদ ছহীহ যেমনটি আমি বর্ণনা করেছি "ছহীহা" (৬২৩ হাঃ)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 যৌযানে ছালাত

📄 যৌযানে ছালাত


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নৌযানে ছলাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন « صل فيها قائما إلا أن تخاف الغرق » অর্থাৎ যদি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা না করলে তার উপর দাঁড়িয়ে ছলাত আদায় করবে। (১)
বয়স বেশী হলে ও বার্ধক্যে উপনীত হলে তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ছলাতের স্থানে স্তম্ভ বানিয়ে নেন যার উপর তিনি ভর দিতেন। (২)

টিকাঃ
(১) বায্যার (৬৮) দারাকুত্বনী, আব্দুল গনী আল মাকদিসী "সুনান” এর (২/৮২) পৃষ্ঠায় হাকিম একে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। (ফায়েদাহ): বিমানে ছলাত পড়ার বিধান নৌযানে ছলাত পড়ার মতই। যদি সম্ভব হয় তবে দাঁড়িয়ে ছলাত পড়বে, তা না হলে বসেই ইশারার মাধ্যমে রুকু সাজদা করে পূর্বোল্লিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী ছলাত পড়বে।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম, তিনি ও যাহাবী একে ছহীহ বলেছেন। আমি একে “ছহীহা" (৩১৯) ও "ইরওয়া” এর (৩৮৩) নং হাদীছে উদ্ধৃত করেছি।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 রাত্রিকালীন ছালাতে দাঁড়ানো ও বসা

📄 রাত্রিকালীন ছালাতে দাঁড়ানো ও বসা


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দীর্ঘরাত ধরে দাঁড়িয়ে আবার কখনও দীর্ঘরাত ধরে বসে ছলাত পড়তেন। তিনি যখন দাঁড়িয়ে কিরা'আত পড়তেন তখন দাঁড়িয়ে রুকু করতেন আর যখন বসে ক্বির'আত পড়তেন তখন বসে রুকু করতেন। (৩)
তিনি কখনও বসে ছলাত আদায়কালে যখন বসে ক্বিরা'আত পড়তেন তখন ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকতে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় সেগুলো পড়ে রুকুতে যেতেন ও সাজদা করতেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক্'আতেও এ রকম করতেন। (৪)
তিনি কেবল বৃদ্ধ হলেই শেষ বয়সে মৃত্যুর এক বৎসর পূর্বে বসে নফল ছলাত পড়েছেন। (৫)
তিনি আসন পেতে (চারজানু হয়ে) ছলাতে বসতেন অর্থাৎ ডান পায়ের তলা বাম উরুর নীচে ও বাম পায়ের তলা ডান উরুর নীচে করে বসতেন। (৬)

টিকাঃ
(৩) মুসলিম ও আবু দাউদ।
(৪) বুখারী ও মুসলিম।
(৫) মুসলিম ও আহমাদ।
(৬) নাসাঈ, ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় "ছহীহ” এর (১/১০৭/২) আব্দুল গনী আল মাকদিসী "আস্ সুনান" এর (১/৮০) ও হাকিম, তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00