📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 আখেরি যামানায় অধিকাংশ ইবাদতকারী হবে মূর্খ

📄 আখেরি যামানায় অধিকাংশ ইবাদতকারী হবে মূর্খ


হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ عُبَادٌ جُهَّالٌ وَقُرَّاءٌ فُسَقَةٌ. “আখেরি যামানায় অনেক ইবাদতকারী হবে মূর্খ। আর অনেক ক্বারিরা হবে ফাসিক (অর্থাৎ কবীরা গোনাহে লিপ্ত)।”১০

আজ অধিকাংশ ইবাদতকারী, সালাত আদায়কারী, সিয়াম পালনকারী দ্বীনের প্রাথমিক বিষয়ে অজ্ঞ। তারা সালাতের ফরজ ওয়াজিব সুন্নাত সম্পর্কে জানে না, অধিকাংশরা সহিহভাবে তিলাওয়াত করতে পারে না, সালাতের নিয়ম নীতিও জানে না। সিয়াম ভঙ্গের কারণ সম্পর্কে বেখবর। অধিকাংশ সালাত আদায়কারী সঠিকভাবে সুরা ফাতিহা পাঠ করতে পারে না। হাদিসের সাথে আমাদের যামানার অবস্থা পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে।

মুসলিমের সন্তান হয়েও দ্বীনের বিষয়ে কোনো জ্ঞান থাকবে না এটা পূর্বে চিন্তাও করা যেত না। ইসলাম ধর্মের একটি সুন্দর বৈশিষ্ট্য হল-বান্দা সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলতে পারে, ইবাদত করতে পারে, সালাত পড়তে ও পড়াতে পারে। তার কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন নেই। যেকোনো মুসলিম ইমাম হতে পারে, জানাজার নামায পড়াতে পারে। যা অন্য ধর্মে নেই। অন্যদিকে পোপ ব্যতীত খ্রিষ্টান ধর্মে বান্দা আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করতে পারে না, দু'আ করতে পারে না। ইসলামের এই সুন্দর বৈশিষ্ট্য আজ বিলুপ্ত। আজকের মুসলিমরা বাবা মা মারা গেলেও দু'আ করতে জানে না, কুর'আন খতম দিতে পারে না। তারা সালাতে প্যান্ট টাখনুর উপরে তুলে রাখে, জানে না যে-সর্বাবস্থায় প্যান্ট টাখনুর নিচে পড়া হারাম। তারা টুপি শুধু সালাতে পড়তে জানে। নারিরা আযানের সময় মাথা ঢাকতে জানে, তারা জানে না গায়রে মাহরামদের সমানে সর্বাবস্থায় চুল-মাথা ঢেকে রাখতে হবে। দুনিয়াবী জ্ঞান থাকলেও আজকের মুসলিমরা দ্বীনের প্রাথমিক বিষয়ে মূর্খ, জাহিল। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِّنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُم عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ.
“দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক বিষয়ের ইলম তাদের রয়েছে। অথচ আখেরাত সম্পর্কে তারা উদাসীন।”১১

টিকাঃ
১০ কানযুল উম্মাল: ১৪/২২২। মুসতাদরাকে হাকিম: ৪/৩৫১।
১১ সুরা রুম : ৭।

📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 দাইয়্যুস সাপ্তাহিক মুসল্লিদের আবির্ভাব

📄 দাইয়্যুস সাপ্তাহিক মুসল্লিদের আবির্ভাব


প্রতিদিনের মুসল্লিদের চাইতে সাপ্তাহিক মুসল্লির সংখ্যা বেশি। এই ফাসিক মুসল্লিগণের অধিকাংশ হারাম হালাল পরওয়া করে না। পরিবারে অশ্লীলতা, বেপর্দা নিয়ন্ত্রণ করে না। এদের স্ত্রী সন্তানরা বেপরোয়া চলাফেরা করে। হাদিসে এদেরকে 'দাইয়্যুস' বলা হয়েছে। হাদিসে এমন মুসল্লি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে-

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
سيكون في آخر هذه الأمة رجال يركبون على المياثر حتى يأتوا أبواب مساجدهم، نساؤهم كاسيات عاريات على رءوسهم كأسنمة البخت العجاف، العنوهن فإنهن ملعونات، لو كانت وراءكم أمة من الأمم لخدمهم كما خدمكم نساء الأمم قبلكم.
“এই উম্মতের শেষ যুগে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা শান- শওকতের সাথে গালিচার উপর দিয়ে হেঁটে মসজিদের দরজায় গিয়ে উপস্থিত হবে। তাদের স্ত্রীরা কাপড় পরিধান করা সত্ত্বেও উলঙ্গ থাকবে। তাদের মাথার উপর দুর্বল বাখতী উটের কুজের মত চুল হবে। তাদের উপর অভিশাপ করো, কারণ তারা অভিশপ্ত। যদি তোমাদের পর আর কোন উম্মতের আবির্ভাব ঘটত—তাহলে তোমরা তাদের গোলামী করতে; যেমন পূর্ববর্তী উম্মতের মহিলারা তোমাদের দাসীতে পরিণত হয়েছে।”১২

টিকাঃ
১২ মুসতাদরাকে হাকিম: ৪/৪৮৩। দুররে মানসুর: ৬/৫৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00