📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 সালাত : প্রত্যেক মুসলিমের অপরিহার্য কর্তব্য

📄 সালাত : প্রত্যেক মুসলিমের অপরিহার্য কর্তব্য


মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুর জীবনের সূচনা হয় ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত শুনার মাধ্যমে। প্রত্যেক পিতা- মাতার উচিত শৈশব থেকেই সন্তানদের নামাযের গুরুত্ব জানানো এবং সালাত পড়ার নিয়ম শিখানো।

সালাতের অপরিসীম গুরুত্বের কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শৈশব-কৈশোর থেকেই সন্তানকে সালাতে অভ্যস্ত করাতে বলেছেন。
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مروا أولادكم بالصلاة وهم أبناء سبع سنين، واضربوهم عليها، وهم أبناء عشر وفرقوا بينهم في المضاجع.
“সাত বছর বয়স হলে তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাতের জন্য নির্দেশ দাও এবং ১০ বছর হলে (সালাত আদায় না করলে) তাদের প্রহার করো। আর তাদের (ছেলে এবং মেয়ের) ঘুমের বিছানা পৃথক করে দাও।”৫১

সালাত পুরুষের মত নারির উপরও ফরজ করা হয়েছে। নারিদের সাধারণত ঘরের অভ্যন্তরে সালাত পড়া উচিত, তবে নারিরা ইচ্ছে করলে মসজিদে গিয়ে ফরজ সালাত কায়েম করতে পারে, এবং তাতে কারোর বাঁধা দেয়া উচিত নয়।

আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا تمنعوا النساء أن يخرجن إلى المساجد، وبيوتهن خير لهن.
“তোমরা তোমাদের নারিদের মসজিদে যেতে নিষেধ করো না। তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম।"৫২

أن عبد الله بن عمر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لا تمنعوا نساءكم المساجد إذا استأذنكم إليها.
অন্যত্র এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যদি তোমাদের কারও স্ত্রী মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায় তবে তাদের নিষেধ করো না।"৫৩

পরিশেষে.....
সালাত প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ।
فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا.
“অতঃপর যখন তোমরা সালাত সম্পন্ন কর, তখন দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন সালাত ঠিক করে আদায় করো। নিশ্চয়ই সালাত মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।”৫৪

হযরত আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
من نام عن صلاة فليصلها إذا استيقظ، ومن نسي صلاة فليصلها إذا ذكرها.
“কোনো ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই তার (সালাতের কথা) স্মরণ হবে, আদায় করে নেবে।”৫৫

দুরুদ ও শান্তির অবিরাম ধারা বর্ষিত হোক নবিকুল শিরোমণি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও তাঁর অনুসারীদের উপর।

টিকাঃ
৫১ সুনানু আবু দাউদ: ৪৯৫। [সনদ 'হাসান সহিহ']; করহুস সুন্নাহ: ৫০৫।
৫২ সুনানু আবু দাউদ: ৫৬৭। [সনদ সহিহ]; মুসনাদু আহমাদ: ৫৪৭২।
৫৩ সহিহ মুসলিম: ১০১৬; ইবনু মাজাহ ৬২৪।
৫৪ সূরা নিসা: ১০৩।
৫৫ ত্বহাবি শরিফ: ২৬৭৪। জ্ঞাতব্য বিষয়: যদি কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে যায়, কিংবা সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে, আর যদি উক্ত ব্যক্তি যখন জাগ্রত হয় বা সালাতের কথা মনে পরে সেই সময়টা যদি ‘মাকরুহ বা হারাম’ ওয়াক্ত না হয়ে থাকে, তাহলে তৎক্ষণাৎ সালাত আদায় করে নিবে। আর যদি মাকরুহ বা হারাম ওয়াক্তে গিয়ে সালাতের কথা মনে পরে তাহলে ‘হারাম বা মাকরুহ’ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর সালাত আদায় করে নিবে। ঐ সময় সালাত আদায় করবে না। সুত্রঃ [বাদায়ে সানায়ে: ১/২৪৫; বিনায়া শারহুল হিদায়া: ২/৫৯।]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00