📄 সালাত : প্রত্যেক নবি-রাসূলদের অন্যতম আমল
বায়তুল্লাহর দেয়াল নির্মাণের সময় নবি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম নিম্নোক্ত দু'আ করেছিলেন-
رَّبَّنَا إِنِّي أَسْكَنتُ مِن ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِندَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ.
“হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার কতক বংশধরদেরকে ফসলহীন উপত্যকায় তোমার পবিত্র ঘরের নিকট বসতি স্থাপন করালাম, হে আমাদের রব! (এটা আমি এজন্য করেছি) যাতে তারা সালাত কায়েম করে।"৩৪
ইবরাহিম আলাহিস সালাম নিজের জন্য এবং তার বংশধরদের জন্য প্রার্থনায় আল্লাহর নিকট ধন-সম্পদ, দুনিয়াবি প্রাচুর্য চাননি, বরং তিনি চেয়েছেন-
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ. رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ.
“হে আমার রব! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার রব! আর আমার দু'আ কবুল করে নিন। হে আমার রব! যে দিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সে দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মু'মিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।"৩৫
পবিত্র কুর'আনে আল্লাহ ইসমাঈল আলাহিস সালামের প্রশংসা করেন এভাবে-
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا. وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا.
“এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন নবি ও রাসূল। তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।”৩৬
নবি যাকারিয়া আলাহিস সালাম নিঃসন্তান ছিলেন, বৃদ্ধ বয়সেও তিনি অবিরত তাঁর প্রতিপালকের নিকট দু'আ করছিলেন-
هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةٌ طَيِّبَةٌ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ.
“সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।”৩৭
সালাতরত অবস্থায় যাকারিয়া আলাহিস সালাম সুসংবাদ পান-
فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمُ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِّنَ الصَّالِحِينَ.
“যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারিদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবি হবেন। "৩৮
ঈসা আলাহিস সালাম শৈশবে আল্লাহর আদেশপ্রাপ্ত হন। কুর'আনে এসেছে, দোলনার শিশু মাসিহ আলাহিস সালাম বলেন-
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا.
“আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করতে। "৩৯
অতএব, প্রতিদিন সালাত পড়ার বিধান প্রথমবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বারা প্রচলিত হয়নি। সালাত হল আল্লাহর সাথে ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যম, আদম আলাহিস সালামের সময় থেকে আল্লাহর সাথে বান্দার যোগাযোগের এই মাধ্যম প্রচলিত রয়েছে।
টিকাঃ
৩৪ সূরা ইবরাহিম: ৩৭।
৩৫ সূরা ইবরাহিম: ৪০-৪১।
৩৬ সূরা মারইয়াম: ৫৪-৫৫।
৩৭ সূরা ইমরান: ৩৮।
৩৮ সূরা ইমরান: ৩৯।
৩৯ সূরা মারইয়াম: ৩১।
📄 সালাত : একটি অবিচ্ছিন্ন আমল
কুর'আনে ৩৫ বার সালাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু সালাতকে বিচ্ছিন্ন আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। কুর'আনে সবসময় সালাতের পাশাপাশি অন্যান্য আমলের উল্লেখ রয়েছে। যেমন যাকাত আদায় ও গরীব মিসকিনদের সাদাকাহ করার আমলকে অধিকাংশ সময়ে সালাতের আমলের পাশে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব আমলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পালনের কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তি যদি বেশি বেশি দান-সাদকাহ করে কিন্তু ৫ ওয়াক্ত ফরজ সালাত কায়েম না করে, তাহলে তা শুধু আল্লাহর অসন্তুষ্টি বয়ে আনতে পারবে।
খোলাফায়ে রাশিদিনের প্রথম খলিফা আবু বকর আস-সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু যাকাত আদায় করতে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি বললেন-
لأقتلن - من فرق بين الصلاة والزكاة،
“আল্লাহর কসম! যারা সালাত ও যাকাতের মাঝে পার্থক্য করবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।”৪০
ধৈর্যধারণ হল মু'মিনদের একটি সৎ গুণ, মহান আল্লাহ নামাযের সাথে সম্পৃক্ত করে এই গুণের বর্ণনা করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ.
“হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।”৪১
মানুষ অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বিভিন্ন মুসিবত ও পেরেশানির মধ্যে অবস্থান করে। এই সকল বিপদ মোকাবেলার জন্য আল্লাহ আমাদের দুটি অস্ত্র দিয়েছেন। একটি হল সালাত, অন্যটি ধৈর্য। ধৈর্য বাহ্যিক মুশকিলের সাথে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং নামায মানুষের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও মনের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক দৃঢ় করতে সাহায্য করে।
মু'মিনদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হল ঈদ এবং হজ্জের সময়ে কুরবাণী করা। আল্লাহ তায়ালা সালাতের পাশাপাশি কুরবানীর কথা উল্লেখ করেছেন-
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ.
“অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।”৪২
এছাড়াও পবিত্র কুর'আনুল কারিমের সূরা আল আন'আমে ইরশাদ হয়েছে-
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
“(হে নবি) আপনি বলুন-আমার সালাত, আমার কুরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।”৪৩
সালাত হল জীবন ও প্রাণের স্বরূপ আর কুরবাণী হল মৃত্যুর প্রতীক। আমাদের কর্মগুলো জীবনের সাথে সম্পৃক্ত থাকুক বা মৃত্যুর সাথে, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। সকল কর্ম আল্লাহর জন্যেই হতে হবে। আল্লাহ ছাড়া আর কারোর জন্য কুরবাণী করা যাবে না, তেমনি দুনিয়াবি লাভের জন্য সালাত আদায় করা যাবে না।
টিকাঃ
৪০ সুনানু আবু দাউদ: ১৫৫৬। [সনদ সহিহ]
৪১ সূরা বাকারা: ১৫৩।
৪২ সূরা কাওছার: ২-৩।
৪৩ সূরা আন'আম: ১৬২।
📄 কেন মানুষ সালাত পরিত্যাগ করে?
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا. إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا.
“তারপর তাদের স্থলাভিষিক্ত হল এমন লোক, যারা সালাত নষ্ট করল এবং ইন্দ্রিয়-চাহিদার অনুগামী হল। সুতরাং তারা অচিরেই তাদের পথভ্রষ্টতার সাক্ষাৎ পাবে। অবশ্য যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।"৪৪
আয়াতদ্বয়ে পূর্বে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বহু নবি-রাসূলগণ এবং তাদের অনুসারীদের উদাহরণ পেশ করেন, তারা ছিলেন সকলে আল্লাহর নেককার ও পরহেজগার বান্দা। অতঃপর আল্লাহ তাদের স্থলাভিষিক্ত ও অপদার্থ লোকদের সম্পর্কে বলেন, তারা দুনিয়াবী স্বার্থের পিছনে ছুটত, কুপ্রবৃত্তির অনুগামী হত এবং তারা সালাত নষ্ট করত। একজন ব্যক্তি হয়তো আল্লাহর অনুসরণ করবে নয়ত তার প্রবৃত্তি ও নফসের খায়েশের অনুসরণ করবে। একসাথে কেউ দুটি পথ গ্রহণ করতে পারবে না। পবিত্র কুর'আনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে-
أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا.
“আপনি কি তাকে দেখেন না, তারা প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন?”৪৫
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন লোকদেরকে দীনার ও দিরহামের বিক্রেতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে আজকের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। একজন পশ্চিমা লেখক আমেরিকানদের সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “তারা সপ্তাহে ৬ দিন ডলারের ইবাদত করে অতঃপর সপ্তম দিনে তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে!”
অন্তর যখন অর্থ সম্পদের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে তখন আল্লাহর জন্য সেখানে কোনো স্থান খালি থাকে না, এবং তখন সালাত হল প্রথম জিনিস যা এই অন্তর পরিত্যাগ করে।
টিকাঃ
৪৪ সূরা মারইয়াম: ৫৯-৬০।
৪৫ সূরা ফুরকান: ৪৩।
📄 সালাত : পাপের প্রায়শ্চিত্ত, পবিত্রতা অর্জন ও জান্নাতে দাখিলের চিরন্তন ব্যবস্থাপত্র
সালাত সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস:
১. আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
عن أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أرأيتم لو أن نهرا بباب أحدكم يغتسل منه كل يوم خمس مرات هل يبقى من درنه شيء؟ قالوا: لا يبقى من درنه شيء. قال: فكذلك مثل الصلوات الخمس يمحو الله بهن الخطايا.
“তোমাদের কি মনে হয়, যদি কারো দরজার কাছে নদি থাকে যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে?” তারা বলল, “তার গায়ে কোনো ময়লা থাকবে না।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- “পাঁচ ওয়াক্ত সালাতও একই রকম। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা পাপসমূহ মুছে দেন। "৪৬
২. আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
عن أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة، ورمضان إلى رمضان، مكفرات ما بينهن ما اجتنبت الكبائر.
“পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমআ থেকে আরেক জুমআ এবং এক রমাদান থেকে আরেক রমাদানের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহকে মুছে দেয়, যদি সে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।”৪৭
৩. আরো বর্ণিত আছে-
হযরত রাবিয়াহ বিন কাব রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন-
حدثني ربيعة بن كعب الأسلمي، قال: كنت أبيت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتيته بوضوئه وحاجته فقال لي: «سل» فقلت: أسألك مرافقتك في الجنة. قال: «أو غير ذلك» قلت: هو ذاك. قال: فأعني على نفسك بكثرة السجود.
“আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে রাত যাপন করতাম; তার অজুর পানি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস হাজির করে দিতাম। একদিন তিনি আমাকে বললেন, "তুমি আমার কাছে কিছু চাও।” আমি বললাম, 'আমি জান্নাতে আপনার সংস্পর্শে থাকতে চাই।' তিনি বললেন, “এছাড়া আর কিছু?” আমি বললাম- 'ওটাই (আমার বাসনা)।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাহলে অধিক থেকে অধিক (নফল সালাত আদায়ের মাধ্যমে) সিজদাহ করে এ ব্যাপারে আমার সহায়তা কর। ৪৮
প্রিয়তম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন-
৪. আবু যর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
عن أبي ذر، أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج زمن الشتاء والورق يتهافت، فأخذ بغصنين من شجرة، قال: فجعل ذلك الورق يتهافت، قال: فقال: «يا أبا ذر قلت: لبيك يا رسول الله. قال: إن العبد المسلم ليصلي الصلاة يريد بها وجه الله فتهافت عنه ذنوبه كما يتهافت هذا الورق عن هذه الشجرة.
“একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শীতকালে বের হন, এই সময় গাছ থেকে পাতা ঝরছিল। তিনি একটি গাছের ডাল ধরে হালকা নাড়ান এতে আরো বেশি পাতা ঝরে পড়ে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'হে আবু যার, আমি বললাম, 'উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বলেন, 'যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সালাত কায়েম করে, তখন তার পাপরাশী গাছের পাতা ঝরার মত করে ঝরতে থাকে।"৪৯
৫. উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
عن عقبة بن عامر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: يعجب ربك من راعي غنم في رأس شظية الجبل يؤذن بالصلاة ويصلي، فيقول الله عز وجل: انظروا إلى عبدي هذا يؤذن ويقيم الصلاة يخاف مني، قد غفرت لعبدي وأدخلته الجنة.
“আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমার রব সে ব্যক্তির উপর খুশি হন, যে পাহাড়ের উচ্চশৃঙ্গে বকরী চরায় এবং নামাযের জন্য আযান দেয় ও সালাত আদায় করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আমার এ বান্দাকে দেখো, সে আযান দিচ্ছে এবং সালাত কায়েম করছে ও আমাকে ভয় করছে। আমি আমার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম।"৫০
টিকাঃ
৪৬ সহিহ বুখারী: ৫২৮; সহিহ মুসলিম: ৬৬৭; সুনানু তিরমিযি: ২৮৬৮; সুনানু নাসাঈ : ৪৬২; মুসনাদু আহমাদ: ৮৯২৪।
৪৭ সহিহ মুসলিম: ২৩৩; মুসনাদু আহমাদ: ৯১৯৭।
৪৮ সহিহ মুসলিম: ৪৮৯; সুনানু আবু দাউদ: ১৩২০ [সনদ সহিহ]।
৪৯ মুসনাদু আহমাদ: ২১৫৫৬ (সনদ হাসান)।
৫০ সুনানু নাসাঈ: ৬৬৫; সুনানু আবু দাউদ: ১২০৩; মুসনাদু আহমাদ: ১৭৪৪২। (সনদ সহিহ]