📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 মসজিদের পবিত্রতা

📄 মসজিদের পবিত্রতা


মসজিদ হল মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক। জিহাদের বিধানে আল্লাহ বহু উপকার রেখেছেন, তার মধ্যে অন্যতম একটি উপকার হলো—এর ফলে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করা হয় এবং ইবাদতকারীর জন্য তা সর্বক্ষণ উন্মুক্ত রাখা হয়।

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرُ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِم بِغَيْرِ حَقٍ إِلَّا أَن يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا وَلَيَنصُرَنَّ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزُ.
“যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে, যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম। যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে—তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে নির্ঝনগির্জা, ইবাদতখানা, উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর।” ৩২

আল্লাহর বিধানকে সমুন্নত রাখতে, অন্যায় অবিচার উৎখাত করতে এবং মুসলিমদের জান ও মালের হিফাজত করতে মুজাহিদগণ আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করেন। মুসলিমরা যদি তা না করে, তাহলে শয়তানি বাতিল শক্তি দুনিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করবে, দুর্বল ও অসহায় মানুষের উপর যুলুম করবে, ইবাদাতঘর ও মসজিদ ধ্বংস করে দিবে। আধুনিক যুগে এর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই শয়তানি শক্তি ধর্মকে নিষিদ্ধ করে ইবাদতের ঘরগুলোকে শূণ্য করে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পবিত্র কুর'আনুল কারিমে আল্লাহর ঘর আবাদকারীদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেন-
اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحُ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَّا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارُ نُورُ عَلَى نُورٍ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَن يَشَاءُ وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ. فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ. رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ.
“আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবির নূর। তাঁর নূরের দৃষ্টান্ত যেন এক তাক। যাতে আছে এক প্রদীপ। প্রদীপটি একটি কাঁচের আবরণের ভেতর। যেন তা (অর্থাৎ কাঁচ) নক্ষত্র, মুক্তার মত উজ্জ্বল। প্রদীপটি প্রজ্বলিত বরকতপূর্ণ যয়তুন বৃক্ষের তেল দ্বারা, যা (কেবল) পূর্বেরও নয়, (কেবল) পশ্চিমের নয়। মনে হয় যেন আগুনের ছোঁয়া না লাগলেও তা এমনিই আলো দেবে। নূরের উপর নূর। আল্লাহ যাকে চান তাকে নিজ নূরে উপনীত করেন। আল্লাহ মানুষের কল্যাণার্থে দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন। আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। আল্লাহ ঘরগুলিকে উচ্চমর্যাদা দিতে এবং তাতে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে আদেশ করেছেন, তাতে সকাল ও সন্ধ্যায় তাসবীহ পাঠ করে এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনায় আল্লাহর স্মরণ, সালাত কায়েম ও যাকাত আদায় থেকে গাফেল করতে পারে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টি ওলট-পালট হয়ে যাবে।”৩৩

কাফিরগণ সম্পূর্ণ অন্ধকারের মাঝে ডুবে থাকে। কিন্তু যখন তারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে, যখন তাদের মনে ঈমানের নূর প্রজ্বলিত হয়, তখন পুরো মহাবিশ্ব তার নিকট আলোকময় হয়ে উঠে। এই পবিত্র নূর সম্পর্কে সূরা নূরের আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতের উপমায় তাক বলে বুঝনো হয়েছে ঈমানদারের অন্তরকে। এই বরকতপূর্ণ তাক আল্লাহর ঘর ব্যতিত অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আল্লাহর ঘর অর্থাৎ যেখানে আল্লাহর স্মরণ করা হয়। আল্লাহর ঘর (মসজিদ) সাধারণ মানুষ আবাদ করতে পারে না, এর আবাদ করে বিশেষ ব্যক্তিগণ, যাদের রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ ওই বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছেন-
১. তারা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। ২. তাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় সালাত কায়েম এবং যাকাত আদায় থেকে বিরত রাখে না। ৩. তারা ভয় করে সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টি ওলট-পালট হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৩২ সূরা হাজ্জ: ৩৯-৪০।
৩৩ সূরা নূর: ৩৫-৩৭।

📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 সালাত : প্রত্যেক নবি-রাসূলদের অন্যতম আমল

📄 সালাত : প্রত্যেক নবি-রাসূলদের অন্যতম আমল


বায়তুল্লাহর দেয়াল নির্মাণের সময় নবি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম নিম্নোক্ত দু'আ করেছিলেন-
رَّبَّنَا إِنِّي أَسْكَنتُ مِن ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِندَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ.
“হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার কতক বংশধরদেরকে ফসলহীন উপত্যকায় তোমার পবিত্র ঘরের নিকট বসতি স্থাপন করালাম, হে আমাদের রব! (এটা আমি এজন্য করেছি) যাতে তারা সালাত কায়েম করে।"৩৪

ইবরাহিম আলাহিস সালাম নিজের জন্য এবং তার বংশধরদের জন্য প্রার্থনায় আল্লাহর নিকট ধন-সম্পদ, দুনিয়াবি প্রাচুর্য চাননি, বরং তিনি চেয়েছেন-
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ. رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ.
“হে আমার রব! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার রব! আর আমার দু'আ কবুল করে নিন। হে আমার রব! যে দিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সে দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মু'মিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।"৩৫

পবিত্র কুর'আনে আল্লাহ ইসমাঈল আলাহিস সালামের প্রশংসা করেন এভাবে-
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا. وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا.
“এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন নবি ও রাসূল। তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।”৩৬

নবি যাকারিয়া আলাহিস সালাম নিঃসন্তান ছিলেন, বৃদ্ধ বয়সেও তিনি অবিরত তাঁর প্রতিপালকের নিকট দু'আ করছিলেন-
هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةٌ طَيِّبَةٌ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ.
“সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।”৩৭

সালাতরত অবস্থায় যাকারিয়া আলাহিস সালাম সুসংবাদ পান-
فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمُ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِّنَ الصَّالِحِينَ.
“যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারিদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবি হবেন। "৩৮

ঈসা আলাহিস সালাম শৈশবে আল্লাহর আদেশপ্রাপ্ত হন। কুর'আনে এসেছে, দোলনার শিশু মাসিহ আলাহিস সালাম বলেন-
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا.
“আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করতে। "৩৯

অতএব, প্রতিদিন সালাত পড়ার বিধান প্রথমবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বারা প্রচলিত হয়নি। সালাত হল আল্লাহর সাথে ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যম, আদম আলাহিস সালামের সময় থেকে আল্লাহর সাথে বান্দার যোগাযোগের এই মাধ্যম প্রচলিত রয়েছে।

টিকাঃ
৩৪ সূরা ইবরাহিম: ৩৭।
৩৫ সূরা ইবরাহিম: ৪০-৪১।
৩৬ সূরা মারইয়াম: ৫৪-৫৫।
৩৭ সূরা ইমরান: ৩৮।
৩৮ সূরা ইমরান: ৩৯।
৩৯ সূরা মারইয়াম: ৩১।

📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 সালাত : একটি অবিচ্ছিন্ন আমল

📄 সালাত : একটি অবিচ্ছিন্ন আমল


কুর'আনে ৩৫ বার সালাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু সালাতকে বিচ্ছিন্ন আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। কুর'আনে সবসময় সালাতের পাশাপাশি অন্যান্য আমলের উল্লেখ রয়েছে। যেমন যাকাত আদায় ও গরীব মিসকিনদের সাদাকাহ করার আমলকে অধিকাংশ সময়ে সালাতের আমলের পাশে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব আমলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পালনের কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তি যদি বেশি বেশি দান-সাদকাহ করে কিন্তু ৫ ওয়াক্ত ফরজ সালাত কায়েম না করে, তাহলে তা শুধু আল্লাহর অসন্তুষ্টি বয়ে আনতে পারবে।

খোলাফায়ে রাশিদিনের প্রথম খলিফা আবু বকর আস-সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু যাকাত আদায় করতে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি বললেন-
لأقتلن - من فرق بين الصلاة والزكاة،
“আল্লাহর কসম! যারা সালাত ও যাকাতের মাঝে পার্থক্য করবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।”৪০

ধৈর্যধারণ হল মু'মিনদের একটি সৎ গুণ, মহান আল্লাহ নামাযের সাথে সম্পৃক্ত করে এই গুণের বর্ণনা করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ.
“হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।”৪১

মানুষ অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বিভিন্ন মুসিবত ও পেরেশানির মধ্যে অবস্থান করে। এই সকল বিপদ মোকাবেলার জন্য আল্লাহ আমাদের দুটি অস্ত্র দিয়েছেন। একটি হল সালাত, অন্যটি ধৈর্য। ধৈর্য বাহ্যিক মুশকিলের সাথে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং নামায মানুষের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও মনের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক দৃঢ় করতে সাহায্য করে।

মু'মিনদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হল ঈদ এবং হজ্জের সময়ে কুরবাণী করা। আল্লাহ তায়ালা সালাতের পাশাপাশি কুরবানীর কথা উল্লেখ করেছেন-
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ.
“অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।”৪২

এছাড়াও পবিত্র কুর'আনুল কারিমের সূরা আল আন'আমে ইরশাদ হয়েছে-
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
“(হে নবি) আপনি বলুন-আমার সালাত, আমার কুরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।”৪৩

সালাত হল জীবন ও প্রাণের স্বরূপ আর কুরবাণী হল মৃত্যুর প্রতীক। আমাদের কর্মগুলো জীবনের সাথে সম্পৃক্ত থাকুক বা মৃত্যুর সাথে, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। সকল কর্ম আল্লাহর জন্যেই হতে হবে। আল্লাহ ছাড়া আর কারোর জন্য কুরবাণী করা যাবে না, তেমনি দুনিয়াবি লাভের জন্য সালাত আদায় করা যাবে না।

টিকাঃ
৪০ সুনানু আবু দাউদ: ১৫৫৬। [সনদ সহিহ]
৪১ সূরা বাকারা: ১৫৩।
৪২ সূরা কাওছার: ২-৩।
৪৩ সূরা আন'আম: ১৬২।

📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 কেন মানুষ সালাত পরিত্যাগ করে?

📄 কেন মানুষ সালাত পরিত্যাগ করে?


মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا. إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا.
“তারপর তাদের স্থলাভিষিক্ত হল এমন লোক, যারা সালাত নষ্ট করল এবং ইন্দ্রিয়-চাহিদার অনুগামী হল। সুতরাং তারা অচিরেই তাদের পথভ্রষ্টতার সাক্ষাৎ পাবে। অবশ্য যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।"৪৪

আয়াতদ্বয়ে পূর্বে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বহু নবি-রাসূলগণ এবং তাদের অনুসারীদের উদাহরণ পেশ করেন, তারা ছিলেন সকলে আল্লাহর নেককার ও পরহেজগার বান্দা। অতঃপর আল্লাহ তাদের স্থলাভিষিক্ত ও অপদার্থ লোকদের সম্পর্কে বলেন, তারা দুনিয়াবী স্বার্থের পিছনে ছুটত, কুপ্রবৃত্তির অনুগামী হত এবং তারা সালাত নষ্ট করত। একজন ব্যক্তি হয়তো আল্লাহর অনুসরণ করবে নয়ত তার প্রবৃত্তি ও নফসের খায়েশের অনুসরণ করবে। একসাথে কেউ দুটি পথ গ্রহণ করতে পারবে না। পবিত্র কুর'আনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে-
أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا.
“আপনি কি তাকে দেখেন না, তারা প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন?”৪৫

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন লোকদেরকে দীনার ও দিরহামের বিক্রেতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে আজকের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। একজন পশ্চিমা লেখক আমেরিকানদের সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “তারা সপ্তাহে ৬ দিন ডলারের ইবাদত করে অতঃপর সপ্তম দিনে তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে!”

অন্তর যখন অর্থ সম্পদের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে তখন আল্লাহর জন্য সেখানে কোনো স্থান খালি থাকে না, এবং তখন সালাত হল প্রথম জিনিস যা এই অন্তর পরিত্যাগ করে।

টিকাঃ
৪৪ সূরা মারইয়াম: ৫৯-৬০।
৪৫ সূরা ফুরকান: ৪৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00