📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 সালাত : পাপ মোচনকারী এবং ছোট ছোট গুনাহের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ

📄 সালাত : পাপ মোচনকারী এবং ছোট ছোট গুনাহের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ


সালাত শুধু ব্যক্তিকে সৎকর্মের প্রতি উৎসাহিত করে না, পাশাপাশি সগিরা গুনাহকে মিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ.
“নিশ্চয়ই পুণ্যরাজি পাপরাশিকে (সগিরা গুনাহকে) মিটিয়ে দেয়”। ২৭

যেহেতু প্রত্যেক ভালো কাজের মধ্যে নামায হল সর্বাপেক্ষা উত্তম। তাই নামায মানুষের ছোট-খাট গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত করে।

আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিস শুনে আমার নিকট বর্ণনা করেন-
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " ما من عبد يذنب ذنبا، فيحسن الطهور، ثم يقوم فيصلي ركعتين، ثم يستغفر الله، إلا غفر الله له.
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন কোনো বান্দা কোনরূপ গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দাঁড়িয়ে দু'রাক'আত সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।”২৮

এর অর্থ এ নয় যে, ব্যক্তি নিজ ইচ্ছামাফিক গুনাহ করতে থাকবে এবং সালাত পড়ে গুনাহের ক্ষমা লাভ করবে। এখানে মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বুঝিয়েছেন যে, তোমরা গুনাহের পর নিরাশ হইও না, প্রায়শ্চিত্তের দরজার তোমাদের জন্য উন্মুক্ত আছে। একজন ব্যক্তি সুন্দরভাবে, একাগ্রচিত্তে, যথাযথ নিয়মে সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং চারিত্রিক উৎকর্ষতা অর্জন করবে। ক্ষমা প্রার্থনার পর তাওবাকারী ব্যক্তির ঈমান দৃঢ় হবে, সে তাঁর ঈমানে নতুন উদ্যম ও প্রাণশক্তি ফিরে পাবে, এবং শয়তানের কুকর্মের প্ররোচনার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পাবে।

সূরা ফুরকানে আল্লাহ তা'আলা কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির তাওবা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন-
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهَا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بالحقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا. يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا. إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا. وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مَتَابًا.
“এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের ইবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতিত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে ব্যক্তি এরূপ করবে তাকে তার গুনাহের (শাস্তির) সম্মুখীন হতে হবে। কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। তবে কেউ তাওবা করলে, ঈমান আনলে এবং সৎকর্ম করলে, আল্লাহ এরূপ লোকদের পাপরাশিকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে ব্যক্তি তাওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে মূলত আল্লাহর দিকে যথাযথভাবে ফিরে আসে।”২৯

টিকাঃ
২৭ সূরা হুদ: ১১৪।
২৮ সহিহ মুসলিম: ৫৬৪; সুনানু আবু দাউদ : ১৫২১; সুনানু ইবনু মাজাহ : ৭৭৭ [সনদ সহিহ]।
২৯ সূরা ফুরকান: ৬৮-৭১।

📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 সালাত : বিচার দিনে মানুষ প্রথম যে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে

📄 সালাত : বিচার দিনে মানুষ প্রথম যে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে


আল্লাহ তা'আলা শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্য মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, এবং এই দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ.
“আমি জ্বিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি”।৩০

মানুষকে এই দুনিয়াই শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদতকারী হয়ে বসবাস করতে হবে, এবং আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ইবাদত হল সালাত। হাশরের ময়দানে বিচারের সময় মানুষকে দুনিয়ায় করা প্রতিটি কাজের জবাবদিহি দিতে হবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, দুনিয়ায় তাকে দেয়া অজস্র নিয়ামতের কথা, সে কিভাবে এই নিয়ামত ব্যবহার করেছে, কোন পথে আয় করেছে কোন পথে ব্যয় করেছে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ. “এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে"।

তবে হাশরের ময়দানে সর্বপ্রথম সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। মানুষ দুইবার তাঁর সৃষ্টিকর্তার সম্মুখে দাঁড়াতে পারে, একবার দুনিয়াতে অন্যবার আখিরাতে। প্রথমবার হল—যখন সে আল্লাহর সম্মুখে প্রতিদিন ‘ফরজ সালাত’ পড়তে জায়নামাজে দাঁড়ায়। দ্বিতীয়বার হল—যখন সে হাশরের ময়দানে বিচার দিনের মালিকের সামনে দাঁড়াবে। যদি তার প্রথমবার দাঁড়ানো (অর্থাৎ সালাতে দাঁড়ানো) সঠিক হয় তাহলে আল্লাহর সম্মুখে দ্বিতীয়বার দাঁড়ানো তার পক্ষে সহজ হবে। যদি আল্লাহর সম্মুখে প্রথমবার (সালাতে) দাঁড়ানো ভুল হয় তাহলে দ্বিতীয়বার আল্লাহর সামনে হাশরের ময়দানে দাঁড়ানো তার জন্য অত্যাধিক কঠিন হবে।

জেনে-বুঝে এক ওয়াক্ত সালাত ছেড়ে দেয়াও ভয়াবহ গুনাহ। এই গুনাহের কোনো কাফফারা নেই। একজন মুসলিম যতই বিপদে থাকুক এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও এক ওয়াক্ত সালাত সে ছেড়ে দিতে পারবে না। তাহলে স্বাভাবিক জীবনে নামায ছেড়ে দেওয়ার আর কী বা কারণ থাকতে পারে। যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে, ইমাম মুসলিমদের দুই অংশে ভাগ করবেন, এক অংশ ইমামের সাথে সালাতে শরিক হবে আরেক অংশ শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান করবে। ইমাম প্রথম অংশকে নিয়ে প্রথম রাকাত শেষ করলে প্রথম অংশ উঠে শত্রুর মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়াবে আর দ্বিতীয় অংশ ইমামের সাথে দ্বিতীয় রাকাতে শরিক হবে। এভাবে প্রত্যেকে সালাত আদায় করবে। এই সালাতকে বলা হয় ‘সালাতুল খাওফ’। অর্থাৎ ভয়-ভীতির সালাত।

আরেক প্রকারের সালাত রয়েছে ‘সংক্ষিপ্ত সালাত’। যুদ্ধ এবং সফরকালিন সময়ে এই সালাত পড়া হয়। এখানে ৪ রাকাতের ফরজ সালাত সংক্ষিপ্ত করে ২ রাকাতে আদায় করা হয়, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সালাত ছাড়া যাবে না। শুধুমাত্র হায়েযের সময়ে নারিরা সালাত ছাড়তে পারে। তাছাড়া নারীদেরকেও পুরুষের মত ফরজ সালাত আদায় করতে হয়। ফরয সালাতের বিধান এতটাই কঠোর যে অসুস্থতার সময় ব্যক্তির অসুস্থতা যতই হোক না কেন, যতক্ষণ ব্যক্তি সচেতন অবস্থায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে সালাত পড়তে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম হয় তাহলে তাকে বসে সালাত পড়তে হবে; যদি সে অসুস্থতার জন্য বসতেও অক্ষম হয় তাহলে তাকে শুয়ে চোখ, হাত ও পা ব্যবহার করে ইশারায় সালাত পড়তে হবে। সালাতের কোনো মাফ নেই।

টিকাঃ
৩০ সূরা যারিআত: ৫৬।
৩১ সূরা তাকাছুর : ৮।

📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 মসজিদের পবিত্রতা

📄 মসজিদের পবিত্রতা


মসজিদ হল মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক। জিহাদের বিধানে আল্লাহ বহু উপকার রেখেছেন, তার মধ্যে অন্যতম একটি উপকার হলো—এর ফলে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করা হয় এবং ইবাদতকারীর জন্য তা সর্বক্ষণ উন্মুক্ত রাখা হয়।

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرُ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِم بِغَيْرِ حَقٍ إِلَّا أَن يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا وَلَيَنصُرَنَّ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزُ.
“যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে, যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম। যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে—তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে নির্ঝনগির্জা, ইবাদতখানা, উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর।” ৩২

আল্লাহর বিধানকে সমুন্নত রাখতে, অন্যায় অবিচার উৎখাত করতে এবং মুসলিমদের জান ও মালের হিফাজত করতে মুজাহিদগণ আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করেন। মুসলিমরা যদি তা না করে, তাহলে শয়তানি বাতিল শক্তি দুনিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করবে, দুর্বল ও অসহায় মানুষের উপর যুলুম করবে, ইবাদাতঘর ও মসজিদ ধ্বংস করে দিবে। আধুনিক যুগে এর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই শয়তানি শক্তি ধর্মকে নিষিদ্ধ করে ইবাদতের ঘরগুলোকে শূণ্য করে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পবিত্র কুর'আনুল কারিমে আল্লাহর ঘর আবাদকারীদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেন-
اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحُ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَّا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارُ نُورُ عَلَى نُورٍ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَن يَشَاءُ وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ. فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ. رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ.
“আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবির নূর। তাঁর নূরের দৃষ্টান্ত যেন এক তাক। যাতে আছে এক প্রদীপ। প্রদীপটি একটি কাঁচের আবরণের ভেতর। যেন তা (অর্থাৎ কাঁচ) নক্ষত্র, মুক্তার মত উজ্জ্বল। প্রদীপটি প্রজ্বলিত বরকতপূর্ণ যয়তুন বৃক্ষের তেল দ্বারা, যা (কেবল) পূর্বেরও নয়, (কেবল) পশ্চিমের নয়। মনে হয় যেন আগুনের ছোঁয়া না লাগলেও তা এমনিই আলো দেবে। নূরের উপর নূর। আল্লাহ যাকে চান তাকে নিজ নূরে উপনীত করেন। আল্লাহ মানুষের কল্যাণার্থে দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন। আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। আল্লাহ ঘরগুলিকে উচ্চমর্যাদা দিতে এবং তাতে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে আদেশ করেছেন, তাতে সকাল ও সন্ধ্যায় তাসবীহ পাঠ করে এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনায় আল্লাহর স্মরণ, সালাত কায়েম ও যাকাত আদায় থেকে গাফেল করতে পারে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টি ওলট-পালট হয়ে যাবে।”৩৩

কাফিরগণ সম্পূর্ণ অন্ধকারের মাঝে ডুবে থাকে। কিন্তু যখন তারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে, যখন তাদের মনে ঈমানের নূর প্রজ্বলিত হয়, তখন পুরো মহাবিশ্ব তার নিকট আলোকময় হয়ে উঠে। এই পবিত্র নূর সম্পর্কে সূরা নূরের আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতের উপমায় তাক বলে বুঝনো হয়েছে ঈমানদারের অন্তরকে। এই বরকতপূর্ণ তাক আল্লাহর ঘর ব্যতিত অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আল্লাহর ঘর অর্থাৎ যেখানে আল্লাহর স্মরণ করা হয়। আল্লাহর ঘর (মসজিদ) সাধারণ মানুষ আবাদ করতে পারে না, এর আবাদ করে বিশেষ ব্যক্তিগণ, যাদের রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ ওই বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছেন-
১. তারা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। ২. তাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় সালাত কায়েম এবং যাকাত আদায় থেকে বিরত রাখে না। ৩. তারা ভয় করে সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টি ওলট-পালট হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৩২ সূরা হাজ্জ: ৩৯-৪০।
৩৩ সূরা নূর: ৩৫-৩৭।

📘 সালাত মুমিনের প্রাণ > 📄 সালাত : প্রত্যেক নবি-রাসূলদের অন্যতম আমল

📄 সালাত : প্রত্যেক নবি-রাসূলদের অন্যতম আমল


বায়তুল্লাহর দেয়াল নির্মাণের সময় নবি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম নিম্নোক্ত দু'আ করেছিলেন-
رَّبَّنَا إِنِّي أَسْكَنتُ مِن ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِندَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ.
“হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার কতক বংশধরদেরকে ফসলহীন উপত্যকায় তোমার পবিত্র ঘরের নিকট বসতি স্থাপন করালাম, হে আমাদের রব! (এটা আমি এজন্য করেছি) যাতে তারা সালাত কায়েম করে।"৩৪

ইবরাহিম আলাহিস সালাম নিজের জন্য এবং তার বংশধরদের জন্য প্রার্থনায় আল্লাহর নিকট ধন-সম্পদ, দুনিয়াবি প্রাচুর্য চাননি, বরং তিনি চেয়েছেন-
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ. رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ.
“হে আমার রব! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার রব! আর আমার দু'আ কবুল করে নিন। হে আমার রব! যে দিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সে দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মু'মিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।"৩৫

পবিত্র কুর'আনে আল্লাহ ইসমাঈল আলাহিস সালামের প্রশংসা করেন এভাবে-
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا. وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا.
“এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন নবি ও রাসূল। তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।”৩৬

নবি যাকারিয়া আলাহিস সালাম নিঃসন্তান ছিলেন, বৃদ্ধ বয়সেও তিনি অবিরত তাঁর প্রতিপালকের নিকট দু'আ করছিলেন-
هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةٌ طَيِّبَةٌ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ.
“সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।”৩৭

সালাতরত অবস্থায় যাকারিয়া আলাহিস সালাম সুসংবাদ পান-
فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمُ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِّنَ الصَّالِحِينَ.
“যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারিদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবি হবেন। "৩৮

ঈসা আলাহিস সালাম শৈশবে আল্লাহর আদেশপ্রাপ্ত হন। কুর'আনে এসেছে, দোলনার শিশু মাসিহ আলাহিস সালাম বলেন-
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا.
“আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করতে। "৩৯

অতএব, প্রতিদিন সালাত পড়ার বিধান প্রথমবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বারা প্রচলিত হয়নি। সালাত হল আল্লাহর সাথে ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যম, আদম আলাহিস সালামের সময় থেকে আল্লাহর সাথে বান্দার যোগাযোগের এই মাধ্যম প্রচলিত রয়েছে।

টিকাঃ
৩৪ সূরা ইবরাহিম: ৩৭।
৩৫ সূরা ইবরাহিম: ৪০-৪১।
৩৬ সূরা মারইয়াম: ৫৪-৫৫।
৩৭ সূরা ইমরান: ৩৮।
৩৮ সূরা ইমরান: ৩৯।
৩৯ সূরা মারইয়াম: ৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00