📄 তাহক্বীক্ব ৫: আবূ যার আল গিফারী (রাঃ) এর বর্ণনা
প্রথম হাদীস:
ইবনু নুমাইর — আ'মাশ — মুনযির — আশইয়াখ তাঈম — আবু যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাদেরকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এমনভাবে রেখে গিয়েছেন যে, আকাশে একটি পাখির ডানা নাড়ানোর মাঝেও কী জ্ঞান রয়েছে তাও আমাদেরকে বলে গেছেন।
শুআইব আল আরনাউত এই আস্বারটিকে হাসান বললেও মুনযিরের শায়খদের মাজহুল হওয়ায় এর সানাদকে দাঈফ বলেছেন。
দ্বিতীয় হাদীস:
হাজ্জাজ — ফিতর — মুনযির — আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]।
শুআইব আল আরনাউত ২১৪৪০ নং হাদীসের তা'লীকে বলেন, মুনযির সাহাবী আবূ যারের দেখা না পাওয়ায় সানাদটি মুনকাতি'। সুতরাং এই সানাদে এ হাদীসটিও দাঈফ।
তৃতীয় হাদীস:
হুসাইন বিন আহমাদ বিন বিসতাম → মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ - সুফইয়ান - ফিতর - আবূ তুফাইল - আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]
শুআইব এই হাদীসের সানাদকে সাহীহ বলেছেন। অথচ এই হাদীসে ফিতর রয়েছে! তাঁকে তিনি স্নিকাহও বলেন। তাঁর ব্যাপারে বিবরণ পরে আসছে।
আল হুসাইন বিন আহমাদ বিন বিসতাম ইবনু হিব্বানের শায়খ, যার তাওসীক বা তাদঈফ সংক্রান্ত সরাসরি কিছুই পাওয়া যায় না। এমনকি ইবনু হিব্বান তাঁকে তাঁর সুবিখ্যাত আস স্নিকাত গ্রন্থেও অন্তর্ভুক্ত করেননি। তবে যেহেতু তিনি ইবনু হিব্বানের শায়খ ও তিনি তাঁর থেকে বর্ণিত হাদীস্ব তাঁর সাহীহ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাই এটি এক প্রকার তাওসীক।
মুহাম্মাদ বিন আবদিল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল মুক্বরী সম্পর্কে আবূ হাতিম বলেন, তিনি সাদূক ও তাঁর ছেলে বলেন, তিনি সাদূক স্নিকাহ। আন নাসাঈ, আল খালীলী ও ইবনু হিব্বان তাঁকে তাওসীক করেছেন।
সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ এখানে আনআনাহ করেছেন। ইবনু হাজার তাঁকে দ্বিতীয় মর্তবাতে রাখলেও যুবাইর আলীর মত অনুযায়ী তিনি তৃতীয় মর্তবার মুদাল্লিস।
আমি আবূ হাযম মনে করি, যুবাইর আলীর যুক্তিটি সুন্দর ও এটিই সঠিক।
ইবনু হাজার বলেন, ফিতর বিন খালীফাহ আল মাখযুমী সাদূক শ্রেণীর। তাঁর বিরুদ্ধে তাশাইউ' এর অভিযোগ করা হয়েছে।
আহমাদ ফিতরের তাওসীক করলেও তাঁর মধ্যে তাশাইয়ু' থাকার উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু ইয়া'কুব বিন সুফইয়ান আল ফাসওয়ী হতে আমরা আহমাদের একটু অন্যরকম মত পাই। তাঁকে প্রশ্ন করা হয় ফিতর ও মুহিল্লের ব্যাপারে। তিনি বলেন, ফিতর তাশাইয়ু'তে গুলু করতেন। মুহিল্লের হাদীস কম ছিলো ও ফিত্বরের বেশী ছিলো। মুহিল্ল অন্ধ ও স্নিকাহ ছিলেন。
আল ফাসওয়ীকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ফিত্বরের ব্যাপারে বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মুহিল্লকে স্নিকাহ বললেও ফিত্বরকে বলেননি। এতে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়, তিনি ফিত্বরকে স্নিকাহ গণ্য করেননি, যা তাঁর মত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আল্লাহু আ'লাম।
এ কারণে অনেক আলিম তাঁর উপর তাদঈফও করেছেন। যেমন,
আহমাদ বিন আলী – আমর বিন হিশাম আল হাররানী – আবূ বাক্কর বিন আইয়াশ বলেন, আমি ফিতরের রিওয়ায়াত তার মন্দ মাযহাব ব্যতীত আর কোন কারণে তরক করিনি。
এই সানাদের সবাই স্নিকাহ।
এছাড়া আল হাকিম বলেন, দারাকুতনী তাকে বিদআতি আখ্যায়িত করেছেন, বুখারী তাঁকে দিয়ে হুজ্জাহ দেননি। আবূ দাউদ বলেন, আহমাদ বিন ইউনুস হতে বর্ণনা করেন ফিতর বর্জনীয়, তাঁর থেকে তাঁরা কিছু বর্ণনা করতেন না。
যাই হোক, ফিতর আসলে একজন মুবতাদি' ও দাঈফের খুব ধারে কাছের সাদূক অথবা মাকবুলও বলা যায়। তাঁর বর্ণনাকে পূর্বের অনেক নুক্কাদ সঠিক বললেও যারা তাঁর তাদঈফ করেছেন তাঁরা মূলত: তাঁর তাশাইয়ু' এর কারণে করেছেন। তাই তাঁর হাদীস এককভাবে নেওয়ার কোন অর্থ নেই। তাঁর হাদীস কেবল ই'তিবারের জন্য উপযুক্ত। ইবনু হাজার বলেন, বুখারীও তাঁর বর্ণিত শুধু একটি হাদীস আসলে শাহেদ আকারেই বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আল আ'মাশ একে মারফু' আকারে বর্ণনা করেননি।
ইবনু হিব্বানের হাদীসের তা'লীকে শুআইব আল আরনাউত আল হাইসামীর একই সনদের ব্যাপারে মন্তব্য পেশ করেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল মুকরী ব্যতীত তাবারানীর সানাদের সবাই সাহীহাইনের, আর তিনি স্নিকাহ। এছাড়া যেসব শায়খদের নাম আহমাদের রিওয়ায়াতে মুবহাম ছিলো তাঁরা ব্যতীত।
আমি আবূ হাযম মনে করি, সানাদের সকলেই সহীহাইনের রাবী হওয়ার অর্থই সকলেই সিকাহ, এ কথাটি সত্য নয়। আমরা ইতিপূর্বে এর পক্ষে দালীল পেশ করেছি।
চতুর্থ হাদীস:
আবূ দাউদ- শু'বাহ- আল আ'মাশ- মুনযির আস সাওরী তাঁর সাথী (মুবহাম) - আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]। এখানে মুনযিরের শায়খ মুবহাম হওয়ায় সানাদটি মুনকাতি'
পঞ্চম হাদীস:
মুহাম্মাদ বিন আবদিল্লাহ আল খাদরামী – মুহাম্মাদ বিন আবদিল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল মুকরী – সুফইয়ান বিন উইয়্যাইনাহ – ফিতর – আবূ তুফাইল – আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।[হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]।
তাবারানী এখানে অতিরিক্ত বলেছেন: "এমন কিছু বাকি নেই যা জান্নাতের কাছে ও আগুনের থেকে দূরে নেবে না, যা তোমাদের বর্ণনা করা হয়নি।” এটি আগের সনদেরই আরেকটি রূপ। এটিও দাঈফ!
ষষ্ঠ হাদীস:
আমাকে লিখেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল মুকরী। তিনি তাঁর লেখাতে আমাকে জানিয়েছেন, সুফইয়ান বিন উইয়্যাইনাহ – ফিতর বিন খালীফাহ – আবূ তুফাইল – আবু যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।[হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]।
এরপর বাযযার বলেন, এই হাদীসটি নিচের সানাদেও বর্ণিত হয়েছে:
সুফইয়ান বিন উইয়্যাইনাহ – ফিতর বিন খালীফাহ – মুনযির আস সাওরী – আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
অর্থাৎ আবূ তুফাইল ব্যতীত। কিন্তু বাযযার বলেন, মুনযির আবূ যারের দেখা পাননি।
এটির হুকুম উপরের হাদীসটির মতই।
সপ্তম হাদীস:
পুঁউমার বিন গাদীর আবদুস সামাদ বিন মুহাম্মাদ আলী বিন মুসলিম - হুসাইন বিন তুল্লাব - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ - ঈসা বিন আবী হারব - ইয়াহইয়া বিন আবী বুকাইর সুফইয়ান ফিতর বিন খালীফাহ - আবূ তুফাইল - আবু যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]।
এটি আসলে সেই একই সানাদ শুধু আয যাহাবীর নিজস্ব সানাদের সাথে যুক্ত হয়ে। সেই সুফইয়ানের আনআনাহ ও ফিতরের উপস্থিতি এতে বিদ্যমান।
অষ্টম হাদীস:
পুফিতর বিন খালীফাহ - মুনযির আস সাওরী - আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীস্ত্রের অনুরূপ]। এটি এই তারীকাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ছোট সানাদ। কিন্তু এ সনদেও একই সমস্যা বিদ্যামান। এখানে ওয়াকী' ফিতর থেকে বর্ণনা করছেন।
নবম হাদীস:
আহমাদ বিন মানী' - মুহাম্মাদ বিন উবাইদ আত তানাফিসী ফিতর বিন খালীফাহ - আবূ ইয়া'লা মুনযির আস সাওরী আবৃদ দারদা' রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীস্ত্রের অনুরূপ]।
ইবনু হাজার বলেন, এর রিওয়ায়াতকারীরা স্নিকাহ, কিন্তু এটি মুনকাতে' ও ফিতরের ব্যাপারে লোকেরা ইখতিলাফ করেছে।
আমি বলি, এই সানাদটি অন্য সব সনদের বিপরীত। পূর্বের আসারগুলোর বক্তা ছিলেন আবু যারা। কিন্তু এই আসনারের বক্তা আবুদ দারদা। সুতরাং এতে ইন্তিরাবেরও গন্ধ রয়েছে!
দশম হাদীস:
ইয়াহিয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান - ফিতর বিন খালিফাহ - আতা' বিন আবী রাবাহ - আবুদ দারদা' রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]।
আমি বলছি, এই সানাদেও ফিতর বিদ্যমান, সুতরাং এ সানাদের হাসান হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।
কিন্তু শুআইব আর্নাউত বলেন, ইবনু হাজার এর সকল বর্ণনাকারীকে সনিকাহ বলেছেন। কিন্তু তা মুনকাতে' 'আতা ও আবু দারদার মাঝে।
আমি আল মুতালিবুল আলিয়াহ্র মূল গ্রন্থে "আতা ও আবু দারদার মাঝে" অংশটুকু পাইনি। আসলে মুনকাতে' বলা হয়েছে এর পূর্বের হাদীসটিকে। তবে তার দাবিটি আসলে সঠিক। আর আতা তাহযীবে ফিতরের উস্তাদের তালিকাতেও আবুদ দারদার নাম নেই。
সা'দ আশ শিথরীও এই হাদিস ও আগের হাদিসটির ব্যাপারে বলেন, 'আতা ও মুনযিরের সাথে আবু দারদার ইনকিতাহর কারণে এ হাদিসটি দাঈফ।
সা'দ আশ শিশ্রী বলেন, এ বিষয়টি পরিষ্কার যে এই হাদীসে ইন্তিরাব আছে। আমার কাছে এই হাদিসের কোন ধারাই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, এই হাদিসটির (প্রতিপাদ্য বিষয়ে) সাহীহ আসল রয়েছে। এর মধ্যে সাহীহ মুসলিম ২৬২, আবু দাউদ ৭, তিরমিযী ১৬, নাসাঈ ৪১, ৪৯, ইবনু মাজাহ ৩১৬।
এই হাদীসগুলোর তাহকীক এখানে করার প্রয়োজন বোধ করছিনা, তবে আল আলবানী ও যুবাইর আলী উভয়েই এ সকল হাদীস্ত্রের সাহীহ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
খুলাসাহ
১। উপরের আলোচনা অনুযায়ী সব মিলিয়ে এ হাদীস্মটি আসলে দাঈফ। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
২। আমার মতে এ হাদীস্বটির মুনকাতে' তারীকাহগুলো বাদ দিলে বাকি সব সানাদে একই ইল্লাহ বিদ্যমান: হয় ফিতরের উপস্থিতি অথবা সুফইয়ানের তাদলীস নতুবা দুটোরই উপস্থিতি। সুতরাং এই হাদীসকে হাসান লি গাইরিহীতে উন্নীত করা কখনই সম্ভব নয়।
২। আমার মতে পাখির ডানা ঝাপটানোর সাথে দ্বীনের শারীআতের কোন সম্পর্ক নেই। পাখির ডানা ঝাপটানোর মাঝে শরীআতের কোন উদেশ্যও নেই। শারীআহ কেবল মানব ও জিন জাতির উপর নাযিল হয়েছে। আর শরীআত পার্থিব জ্ঞানকে নির্দেশনা করেনা আর শরীআহ্ মধ্যে পার্থিব বিজ্ঞান খুঁজতে যাওয়াও অনর্থক। যাই হোক এই হাদীস্ত্রটি সঠিক হলেও পাখির ডানা ঝাপটানোর কথাটি সাহাবী আবূ যারের নিজস্ব মত হতো, নাবী (ﷺ)-এর মত হতো না। তবে আল কুরআনে বরং পাখির ডানা ঝাপটানোর বিষয়টি কেবলমাত্র সমস্ত সৃষ্টির সকল বিষয় লাওই আল মাহফুযে উল্লেখ থাকার বিষয়টি বুঝাতে ব্যক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ডানা ঝাপটানোর বিষয়ে শারীআহ্হ্ কোন দিক নির্দেশনা দেয়া হয়নি। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
৩। ফিতর বিন খালীফা থেকে বর্ণিত হাদীসে তাবারানীর অতিরিক্ত অংশটি আল কুরআনের আয়াতের সাথে মিলে যায়:
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
অর্থ: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিআমাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবুল করে নিলাম।
ইবনু হিব্বানের হাদীসের শেষে তাঁর মন্তব্যও এই বিষয়টিকে পরিষ্কার করে।
তিনি বলেন, এই হাদীসের অর্থ হচ্ছে আমাদের কাছে রয়ে গিয়েছে তাঁর (রাসুলুল্লাহﷺ) আদেশ, নিষেধ, খবর, কর্ম ও মুবাহ করা বিষয়সমূহ。
টিকাঃ
710 মুসনাদ আহমাদ ২১৩৬১
711 প্রাগুক্ত ৩৫/২৯০, নং ২১৩৬১
712 মুসনাদ আহমাদ ২১৪৪০
713 প্রাগুক্ত ৩৫/৩৪৬ নং, হাশিয়াহ ২১৪৪০
714 সাহীহ ইবনু হিব্বান ৬৫
715 আল জার্হ ওয়াত তা'দীল ৭/৩০৮ নং ১৬৬৮
716 তাহযীবুত তাহযীব ৯/২৮৪ নং ৪৬৭
717 মারাতিবুল মুদাল্লিসীন ক্রম ২/৫২
718 আল ফাতহুল মুবীন, হাশিয়াহ ৪০-৪২
719 তাকরীব ৫৪৪১
720 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল আব্দুল্লাহ্ রিওয়ায়াতে) ২/৪৪৩ নং ৯৯৩
721 আল মা'রিফাহ ওয়াত তারীখ ২/১৭৫
722 কিতাবুদ দুআফা আল কাবীর লিল উকাইলী ৩/৪৬৪, নং ১৫২১
723 সু'আলাত আল হাকিম লিল দারাকুতনী ২৬৪, নং ৪৫৪
724 তাহযীবুত তাহযীব ৮/৩০০, নং ৫৫০
725 ফাতহুল বারী ১/৪৩৫
726 মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৮/২৬৩
727 মুসনাদ আবু দাউদ আত-তায়ালিসী ১/৩৮৫ নং ৪৮১
728 মু'জামুল কাবীর নং ১৬৪৭
729 মুসনাদ বাযযার (আল-বাহরুয যুখার), ৯/৩৪১ নং ৩৮৯৭
730 তাযকিরাতুল হুফফায ৩/৩৪ নং ৮১১
731 'আয যুহুদ লিল ওয়াকী', ৮৪৩ নং ৫২২
732 আল মুতালিবুল আলিয়াহ ১৫/৬৩০ নং ৩৮৪৬
733 প্রাগুক্ত
734 মুসনাদ আবী ইয়াল্লা আল মাওসুলি ৯/৪৬, নং ৫১০৯
735 আল মুতালিবুল আলিয়াহ ৪/২৮
736 তাহযীবুল কামাল ২০/৬৯, নং ৩৯৩৩
737 আল মুতালিব আল আলিয়াহ ৬৩০, নং ৩৮৪৬ সা'দ আশ শিশ্রীর তাহকীক
738 প্রাগুক্ত ৬৩১ নং ৩৮৪৬
739 সূরা আল-আনআম ৬: ৩৮
740 সুরা আল-মায়িদাহ ৫: ৩
741 সাহীহ ইবনু হিব্বান ৬৫
প্রথম হাদীস:
ইবনু নুমাইর — আ'মাশ — মুনযির — আশইয়াখ তাঈম — আবু যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাদেরকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এমনভাবে রেখে গিয়েছেন যে, আকাশে একটি পাখির ডানা নাড়ানোর মাঝেও কী জ্ঞান রয়েছে তাও আমাদেরকে বলে গেছেন।
শুআইব আল আরনাউত এই আস্বারটিকে হাসান বললেও মুনযিরের শায়খদের মাজহুল হওয়ায় এর সানাদকে দাঈফ বলেছেন。
দ্বিতীয় হাদীস:
হাজ্জাজ — ফিতর — মুনযির — আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]।
শুআইব আল আরনাউত ২১৪৪০ নং হাদীসের তা'লীকে বলেন, মুনযির সাহাবী আবূ যারের দেখা না পাওয়ায় সানাদটি মুনকাতি'। সুতরাং এই সানাদে এ হাদীসটিও দাঈফ।
তৃতীয় হাদীস:
হুসাইন বিন আহমাদ বিন বিসতাম → মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ - সুফইয়ান - ফিতর - আবূ তুফাইল - আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]
শুআইব এই হাদীসের সানাদকে সাহীহ বলেছেন। অথচ এই হাদীসে ফিতর রয়েছে! তাঁকে তিনি স্নিকাহও বলেন। তাঁর ব্যাপারে বিবরণ পরে আসছে।
আল হুসাইন বিন আহমাদ বিন বিসতাম ইবনু হিব্বানের শায়খ, যার তাওসীক বা তাদঈফ সংক্রান্ত সরাসরি কিছুই পাওয়া যায় না। এমনকি ইবনু হিব্বান তাঁকে তাঁর সুবিখ্যাত আস স্নিকাত গ্রন্থেও অন্তর্ভুক্ত করেননি। তবে যেহেতু তিনি ইবনু হিব্বানের শায়খ ও তিনি তাঁর থেকে বর্ণিত হাদীস্ব তাঁর সাহীহ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাই এটি এক প্রকার তাওসীক।
মুহাম্মাদ বিন আবদিল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল মুক্বরী সম্পর্কে আবূ হাতিম বলেন, তিনি সাদূক ও তাঁর ছেলে বলেন, তিনি সাদূক স্নিকাহ। আন নাসাঈ, আল খালীলী ও ইবনু হিব্বান তাঁকে তাওসীক করেছেন।
সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ এখানে আনআনাহ করেছেন। ইবনু হাজার তাঁকে দ্বিতীয় মর্তবাতে রাখলেও যুবাইর আলীর মত অনুযায়ী তিনি তৃতীয় মর্তবার মুদাল্লিস।
আমি আবূ হাযম মনে করি, যুবাইর আলীর যুক্তিটি সুন্দর ও এটিই সঠিক।
ইবনু হাজার বলেন, ফিতর বিন খালীফাহ আল মাখযুমী সাদূক শ্রেণীর। তাঁর বিরুদ্ধে তাশাইউ' এর অভিযোগ করা হয়েছে।
আহমাদ ফিতরের তাওসীক করলেও তাঁর মধ্যে তাশাইয়ু' থাকার উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু ইয়া'কুব বিন সুফইয়ান আল ফাসওয়ী হতে আমরা আহমাদের একটু অন্যরকম মত পাই। তাঁকে প্রশ্ন করা হয় ফিতর ও মুহিল্লের ব্যাপারে। তিনি বলেন, ফিতর তাশাইয়ু'তে গুলু করতেন। মুহিল্লের হাদীস কম ছিলো ও ফিত্বরের বেশী ছিলো। মুহিল্ল অন্ধ ও স্নিকাহ ছিলেন。
আল ফাসওয়ীকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ফিত্বরের ব্যাপারে বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মুহিল্লকে স্নিকাহ বললেও ফিত্বরকে বলেননি। এতে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়, তিনি ফিত্বরকে স্নিকাহ গণ্য করেননি, যা তাঁর মত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আল্লাহু আ'লাম।
এ কারণে অনেক আলিম তাঁর উপর তাদঈফও করেছেন। যেমন,
আহমাদ বিন আলী – আমর বিন হিশাম আল হাররানী – আবূ বাক্কর বিন আইয়াশ বলেন, আমি ফিতরের রিওয়ায়াত তার মন্দ মাযহাব ব্যতীত আর কোন কারণে তরক করিনি。
এই সানাদের সবাই স্নিকাহ।
এছাড়া আল হাকিম বলেন, দারাকুতনী তাকে বিদআতি আখ্যায়িত করেছেন, বুখারী তাঁকে দিয়ে হুজ্জাহ দেননি। আবূ দাউদ বলেন, আহমাদ বিন ইউনুস হতে বর্ণনা করেন ফিতর বর্জনীয়, তাঁর থেকে তাঁরা কিছু বর্ণনা করতেন না。
যাই হোক, ফিতর আসলে একজন মুবতাদি' ও দাঈফের খুব ধারে কাছের সাদূক অথবা মাকবুলও বলা যায়। তাঁর বর্ণনাকে পূর্বের অনেক নুক্কাদ সঠিক বললেও যারা তাঁর তাদঈফ করেছেন তাঁরা মূলত: তাঁর তাশাইয়ু' এর কারণে করেছেন। তাই তাঁর হাদীস এককভাবে নেওয়ার কোন অর্থ নেই। তাঁর হাদীস কেবল ই'তিবারের জন্য উপযুক্ত। ইবনু হাজার বলেন, বুখারীও তাঁর বর্ণিত শুধু একটি হাদীস আসলে শাহেদ আকারেই বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আল আ'মাশ একে মারফু' আকারে বর্ণনা করেননি।
ইবনু হিব্বানের হাদীসের তা'লীকে শুআইব আল আরনাউত আল হাইসামীর একই সনদের ব্যাপারে মন্তব্য পেশ করেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল মুকরী ব্যতীত তাবারানীর সানাদের সবাই সাহীহাইনের, আর তিনি স্নিকাহ। এছাড়া যেসব শায়খদের নাম আহমাদের রিওয়ায়াতে মুবহাম ছিলো তাঁরা ব্যতীত।
আমি আবূ হাযম মনে করি, সানাদের সকলেই সহীহাইনের রাবী হওয়ার অর্থই সকলেই সিকাহ, এ কথাটি সত্য নয়। আমরা ইতিপূর্বে এর পক্ষে দালীল পেশ করেছি।
চতুর্থ হাদীস:
আবূ দাউদ- শু'বাহ- আল আ'মাশ- মুনযির আস সাওরী তাঁর সাথী (মুবহাম) - আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]। এখানে মুনযিরের শায়খ মুবহাম হওয়ায় সানাদটি মুনকাতি'
পঞ্চম হাদীস:
মুহাম্মাদ বিন আবদিল্লাহ আল খাদরামী – মুহাম্মাদ বিন আবদিল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল মুকরী – সুফইয়ান বিন উইয়্যাইনাহ – ফিতর – আবূ তুফাইল – আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।[হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]।
তাবারানী এখানে অতিরিক্ত বলেছেন: "এমন কিছু বাকি নেই যা জান্নাতের কাছে ও আগুনের থেকে দূরে নেবে না, যা তোমাদের বর্ণনা করা হয়নি।” এটি আগের সনদেরই আরেকটি রূপ। এটিও দাঈফ!
ষষ্ঠ হাদীস:
আমাকে লিখেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল মুকরী। তিনি তাঁর লেখাতে আমাকে জানিয়েছেন, সুফইয়ান বিন উইয়্যাইনাহ – ফিতর বিন খালীফাহ – আবূ তুফাইল – আবু যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।[হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]।
এরপর বাযযার বলেন, এই হাদীসটি নিচের সানাদেও বর্ণিত হয়েছে:
সুফইয়ান বিন উইয়্যাইনাহ – ফিতর বিন খালীফাহ – মুনযির আস সাওরী – আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
অর্থাৎ আবূ তুফাইল ব্যতীত। কিন্তু বাযযার বলেন, মুনযির আবূ যারের দেখা পাননি।
এটির হুকুম উপরের হাদীসটির মতই।
সপ্তম হাদীস:
পুঁউমার বিন গাদীর আবদুস সামাদ বিন মুহাম্মাদ আলী বিন মুসলিম - হুসাইন বিন তুল্লাব - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ - ঈসা বিন আবী হারব - ইয়াহইয়া বিন আবী বুকাইর সুফইয়ান ফিতর বিন খালীফাহ - আবূ তুফাইল - আবু যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]। এটি আসলে সেই একই সানাদ শুধু আয যাহাবীর নিজস্ব সানাদের সাথে যুক্ত হয়ে। সেই সুফইয়ানের আনআনাহ ও ফিতরের উপস্থিতি এতে বিদ্যমান।
অষ্টম হাদীস:
পুফিতর বিন খালীফাহ - মুনযির আস সাওরী - আবূ যার আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীস্ত্রের অনুরূপ]। এটি এই তারীকাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ছোট সানাদ। কিন্তু এ সনদেও একই সমস্যা বিদ্যামান। এখানে ওয়াকী' ফিতর থেকে বর্ণনা করছেন।
নবম হাদীস:
আহমাদ বিন মানী' - মুহাম্মাদ বিন উবাইদ আত তানাফিসী ফিতর বিন খালীফাহ - আবূ ইয়া'লা মুনযির আস সাওরী আবৃদ দারদা' রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীস্ত্রের অনুরূপ]।
ইবনু হাজার বলেন, এর রিওয়ায়াতকারীরা স্নিকাহ, কিন্তু এটি মুনকাতে' ও ফিতরের ব্যাপারে লোকেরা ইখতিলাফ করেছে।
আমি বলি, এই সানাদটি অন্য সব সনদের বিপরীত। পূর্বের আসারগুলোর বক্তা ছিলেন আবু যারা। কিন্তু এই আসনারের বক্তা আবুদ দারদা। সুতরাং এতে ইন্তিরাবেরও গন্ধ রয়েছে!
দশম হাদীস:
ইয়াহিয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান - ফিতর বিন খালিফাহ - আতা' বিন আবী রাবাহ - আবুদ দারদা' রাদিয়াল্লাহু আনহু [হাদীসের অনুবাদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ]।
আমি বলছি, এই সানাদেও ফিতর বিদ্যমান, সুতরাং এ সানাদের হাসান হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।
কিন্তু শুআইব আর্নাউত বলেন, ইবনু হাজার এর সকল বর্ণনাকারীকে সনিকাহ বলেছেন। কিন্তু তা মুনকাতে' 'আতা ও আবু দারদার মাঝে।
আমি আল মুতালিবুল আলিয়াহ্র মূল গ্রন্থে "আতা ও আবু দারদার মাঝে" অংশটুকু পাইনি। আসলে মুনকাতে' বলা হয়েছে এর পূর্বের হাদীসটিকে। তবে তার দাবিটি আসলে সঠিক। আর আতা তাহযীবে ফিতরের উস্তাদের তালিকাতেও আবুদ দারদার নাম নেই。
সা'দ আশ শিথরীও এই হাদিস ও আগের হাদিসটির ব্যাপারে বলেন, 'আতা ও মুনযিরের সাথে আবু দারদার ইনকিতাহর কারণে এ হাদিসটি দাঈফ。
সা'দ আশ শিশ্রী বলেন, এ বিষয়টি পরিষ্কার যে এই হাদীসে ইন্তিরাব আছে। আমার কাছে এই হাদিসের কোন ধারাই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, এই হাদিসটির (প্রতিপাদ্য বিষয়ে) সাহীহ আসল রয়েছে। এর মধ্যে সাহীহ মুসলিম ২৬২, আবু দাউদ ৭, তিরমিযী ১৬, নাসাঈ ৪১, ৪৯, ইবনু মাজাহ ৩১৬。
এই হাদীসগুলোর তাহকীক এখানে করার প্রয়োজন বোধ করছিনা, তবে আল আলবানী ও যুবাইর আলী উভয়েই এ সকল হাদীস্ত্রের সাহীহ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
খুলাসাহ
১। উপরের আলোচনা অনুযায়ী সব মিলিয়ে এ হাদীস্মটি আসলে দাঈফ। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
২। আমার মতে এ হাদীস্বটির মুনকাতে' তারীকাহগুলো বাদ দিলে বাকি সব সানাদে একই ইল্লাহ বিদ্যমান: হয় ফিতরের উপস্থিতি অথবা সুফইয়ানের তাদলীস নতুবা দুটোরই উপস্থিতি। সুতরাং এই হাদীসকে হাসান লি গাইরিহীতে উন্নীত করা কখনই সম্ভব নয়।
২। আমার মতে পাখির ডানা ঝাপটানোর সাথে দ্বীনের শারীআতের কোন সম্পর্ক নেই। পাখির ডানা ঝাপটানোর মাঝে শরীআতের কোন উদেশ্যও নেই। শারীআহ কেবল মানব ও জিন জাতির উপর নাযিল হয়েছে। আর শরীআত পার্থিব জ্ঞানকে নির্দেশনা করেনা আর শরীআহ্ মধ্যে পার্থিব বিজ্ঞান খুঁজতে যাওয়াও অনর্থক। যাই হোক এই হাদীস্ত্রটি সঠিক হলেও পাখির ডানা ঝাপটানোর কথাটি সাহাবী আবূ যারের নিজস্ব মত হতো, নাবী (ﷺ)-এর মত হতো না। তবে আল কুরআনে বরং পাখির ডানা ঝাপটানোর বিষয়টি কেবলমাত্র সমস্ত সৃষ্টির সকল বিষয় লাওই আল মাহফুযে উল্লেখ থাকার বিষয়টি বুঝাতে ব্যক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ডানা ঝাপটানোর বিষয়ে শারীআহ্হ্ কোন দিক নির্দেশনা দেয়া হয়নি। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
৩। ফিতর বিন খালীফা থেকে বর্ণিত হাদীসে তাবারানীর অতিরিক্ত অংশটি আল কুরআনের আয়াতের সাথে মিলে যায়:
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
অর্থ: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিআমাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবুল করে নিলাম।
ইবনু হিব্বানের হাদীসের শেষে তাঁর মন্তব্যও এই বিষয়টিকে পরিষ্কার করে।
তিনি বলেন, এই হাদীসের অর্থ হচ্ছে আমাদের কাছে রয়ে গিয়েছে তাঁর (রাসুলুল্লাহﷺ) আদেশ, নিষেধ, খবর, কর্ম ও মুবাহ করা বিষয়সমূহ。
টিকাঃ
710 মুসনাদ আহমাদ ২১৩৬১
711 প্রাগুক্ত ৩৫/২৯০, নং ২১৩৬১
712 মুসনাদ আহমাদ ২১৪৪০
713 প্রাগুক্ত ৩৫/৩৪৬ নং, হাশিয়াহ ২১৪৪০
714 সাহীহ ইবনু হিব্বান ৬৫
715 আল জার্হ ওয়াত তা'দীল ৭/৩০৮ নং ১৬৬৮
716 তাহযীবুত তাহযীব ৯/২৮৪ নং ৪৬৭
717 মারাতিবুল মুদাল্লিসীন ক্রম ২/৫২
718 আল ফাতহুল মুবীন, হাশিয়াহ ৪০-৪২
719 তাকরীব ৫৪৪১
720 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল আব্দুল্লাহ্ রিওয়ায়াতে) ২/৪৪৩ নং ৯৯৩
721 আল মা'রিফাহ ওয়াত তারীখ ২/১৭৫
722 কিতাবুদ দুআফা আল কাবীর লিল উকাইলী ৩/৪৬৪, নং ১৫২১
723 সু'আলাত আল হাকিম লিল দারাকুতনী ২৬৪, নং ৪৫৪
724 তাহযীবুত তাহযীব ৮/৩০০, নং ৫৫০
725 ফাতহুল বারী ১/৪৩৫
726 মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৮/২৬৩
727 মুসনাদ আবু দাউদ আত-তায়ালিসী ১/৩৮৫ নং ৪৮১
728 মু'জামুল কাবীর নং ১৬৪৭
729 মুসনাদ বাযযার (আল-বাহরুয যুখার), ৯/৩৪১ নং ৩৮৯৭
730 তাযকিরাতুল হুফফায ৩/৩৪ নং ৮১১
731 'আয যুহুদ লিল ওয়াকী', ৮৪৩ নং ৫২২
732 আল মুতালিবুল আলিয়াহ ১৫/৬৩০ নং ৩৮৪৬
733 প্রাগুক্ত
734 মুসনাদ আবী ইয়াল্লা আল মাওসুলি ৯/৪৬, নং ৫১০৯
735 আল মুতালিবুল আলিয়াহ ৪/২৮
736 তাহযীবুল কামাল ২০/৬৯, নং ৩৯৩৩
737 আল মুতালিব আল আলিয়াহ ৬৩০, নং ৩৮৪৬ সা'দ আশ শিশ্রীর তাহকীক
738 প্রাগুক্ত ৬৩১ নং ৩৮৪৬
739 সূরা আল-আনআম ৬: ৩৮
740 সুরা আল-মায়িদাহ ৫: ৩
741 সাহীহ ইবনু হিব্বান ৬৫
📄 তাহক্বীক্ব ৬: মুস‘আব বিন সা‘দ বিন হাতিম (রাঃ) এর বর্ণনা
হুসাইন বিন ইয়াযীদ আল কুফী - আবদুস সালাম বিন হারব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান - মুসআব বিন সা'দ আদী বিন হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি নাবী () এর নিকট আমি হাযির হলাম। আমার গলায় একটি স্বর্ণের ক্রুশ ঝুলছিল। তিনি বললেন: হে আদী! তোমার নিকট থেকে মূর্তিটি ফেলে দাও। আমি তাঁকে সূরা বারাআত পাঠ করতে শুনেছি: اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ অর্থাৎ তাদের আলেম আর দরবেশদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে
তিনি বললেন: এমনটি নয় যে তারা তাদের ইবাদত করত। বস্তুত এরা যদি তাদের জন্য কিছু হালাল করে দিত তখন তারা তা হালাল বলে গ্রহণ করত; আর যখন কোন কিছু হারাম বলে স্থির করত তখন তারাও তা হারাম বলে গ্রহণ করত।
আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুস সালাম ইবন হারব-এর রিওয়ায়ত ছাড়া এ সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। রাবী গুতায়ফ ইবন আ'য়ূন হাদীস বিষয়ে পরিচিত নন।
যুবাইর আলী যাঈ একে দাঈফ বলেছেন। ও তাঁর যুক্তি ছিলো সানাদে থাকা গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আশ শাইবানী সম্পর্কে ইবনু হাজার আল আসকালানী তাঁকে দাঈফ বলেছেন। এছাড়া যুবাইর আলী বলেন, তাফসীর আত তাবারীতে মাওকুফ আকারে যে সনদটি রয়েছে তা সনদটি দাঈফ ও মুনকাতি।
আমি আবু হাযম বলছি, তাফসীর আত তাবারীতে এই হাদীসটির দুটি সনাদ রয়েছে। যার একটি তিরমিযীর সনাদের অনুরূপ।
প্রথমজন আল হুসাইন বিন ইয়াযীদ আত তাহহান হচ্ছেন ইবনু হিব্বানের তাওসীককৃত শায়খ। তাঁকে আবু হাতিম লাইয়িনুল হাদীস বলেছেন।
ইবনু হাজার আব্দুস সালাম বিন হারব সম্পর্কে বলেন, তিনি আল কুফী হিসেবে বর্ণিত হলেও তিনি আসলে বাসরী (অর্থাৎ তিনি কুফাতে ছিলেন)। তিনি স্নিকাহ হাফিয কিন্তু তাঁর থেকে কিছু মুনকার হাদীস আছে। তাঁকে তাহথীক করেছেন আবু হাতিম আর রাযী কিন্তু ইবনু আবী হাতিমের ভাষায় ইয়াহয়া বিন মাঈন তাঁকে সাদৃক বলেছেন। কিন্তু তিনি ইবনু মাহরিযের রিওয়ায়াতে দাবী করেন তিনি স্নিকাহ। আমার ধারণা এটিই তাঁর সর্বশেষ মত। আল্লাহু আ'লাম।
ইবনু হাজার বলেন, বুখারী আব্দুস সালামকে দিয়ে দুটো হাদীস শুধু মুতাবাআতের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এভাবে পরিষ্কার করেছেন তাঁকে হুজ্জাহ হিসেবে পেশ করেননি কিন্তু বাকি সবাই তাঁর রিওয়ায়াত করেছেন。
ইবনু হাজারের এই মতটিকে নেয়ার আগে এই সনাদ দুটিকে পর্যালোচনা করার প্রয়োজন।
আল ফুদাইল বিন দুকাইন - আবদুস সালাম বিন হার্ব - হিশাম - হাফসাহ - উম্মু আতিয়্যাহ
প্রথম সানাদটিতে আব্দুস সালামের ছাত্র আল ফাদল বিন দুকাইন হচ্ছেন আল কুফী। তাঁকে ইবনু হাজার স্নিকাতুন স্নাবতুন বলেছেন।
আবূ নুআইম - আবদুস সালাম বিন হার্ব - আইয়্যুব - আবু কিলাবাহ - যাহদাম
দ্বিতীয় সানাদটিতেও আব্দুস সালামের ছাত্র আল ফাদল বিন দুকাইন যাকে এই সানাদে বুখারী তাঁর কুনিয়া আবূ নুআইম লিপিবদ্ধ করেছেন। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে আল ফাদ্বলের কুফাবাসী হওয়া।
আল ইজলী বলেন, আবু ইসহাক আস সাবীঈর মৃত্যুর দিন আব্দুস সালাম কুফাতে প্রবেশ করেন। তিনি কুফাবাসীর নিকট স্নিকাহ স্বাক্ত। বাগদাদবাসী তাঁর কিছু হাদীসকে ইনকার করেছিলো, কিন্তু কুফাবাসী তাঁর সম্পর্কে বেশী জানতেন।
বুখারী কোন প্রকার জারহ বা তা'দীল ব্যতীত আব্দুস সালামকে উল্লেখ করেছেন।
তবে আমার মতে ইজলী বর্ণিত তথ্যটি বুখারীর জ্ঞাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল, কেননা আব্দুস সালামের হাদীস বুখারী কেবল কুফাবাসী আল ফাদল বিন দুকাইন থেকেই নিয়েছিলেন। আল ফাদল স্বয়ং কুফাবাসী ছিলেন বলে তাঁর সম্পর্কে জানতেন ও কেবল সঠিকটিই বর্ণনা করতেন। তাই ইবনু হাজারের ধারণার সাথে সাথে বুখারী কর্তৃক আব্দুস সালামের হাদীস স্নিকাহ কুফাবাসী থেকে গ্রহণ করার ইহতিমালও রয়ে যায়। সুতরাং সে ক্ষেত্রে বুখারী আব্দুস সালাম থেকে মুতলাকভাবে শুধু মুতাবে' এর ভিত্তিতেই বর্ণনা করেছেন বলে ইবনু হাজারের ধারণা একেবারে অকাট্য নয়। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
আরো লক্ষণীয়, আলোচ্য হাদীসে আব্দুস সালামের ছাত্র আল হুসাইন বিন ইয়াযীদও কুফাবাসী।
ইবন সা'দ বলেন, আব্দুস সালামের বর্ণনায় কিছু দা'ফ ছিল। আর তিনি অনেক হাদীসের অধিকারী ছিলেন。
আমার ধারণা এই জাহটি মূলতঃ তাঁর বর্ণিত গারীব হাদীসে তাঁর ওয়াহমের কারণে। এটাও সত্যি যে আলোচ্য হাদীসটিও গারীব।
ইয়াকূব বিন শায়বাহ থেকে আয যাহাবী একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আব্দুস সালাম হাদীসের ব্যাপারে কঠিন ছিলেন। তিনি ইবনুল মাদিনীকে বলতে শুনেছেন, আব্দুস সালাম প্রতি বছর একবার সাধারণ মানুষের জন্য বসতেন। আলী বলেন, তিনি আব্দুস সালামের জন্য সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে মাজলিসে অংশ নিতেন ও কখনো কখনো আব্দুস সালাম বর্ণিত কিছু হাদীসকে অস্বীকার করতেন যতক্ষণ না সে সব হাদীসকে পুনঃনিরীক্ষণ করে এ কথা জানতে পারতেন যে, কে তাঁর থেকে অধিক রিওয়ায়াত করছে। এ কারণেই তাঁর হাদীস মুগীরাহ ও অন্য মানুষের রিওয়ায়াতের অধিক নিকটবর্তী। কেননা তিনি হাদীস বর্ণনাতে কঠিন ছিলেন, সুতরাং তারা তাঁর গারীব হাদীসকে এক স্থানে জমা করত। তখন আমি সেসবে নজর দিতাম ও অস্বীকার করতাম。
আবু ইসহাক আল হুওয়াইনী বলেন, সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো, ইবনুল মাদিনীর এই অস্বীকৃতি সমস্ত গারীব হাদীসকে একটি স্থানে একত্রিত করারই দরুন। আর গারীব হাদীসে অনেক মুনকার পাওয়া যায়। তাঁরা এভাবে জমা করতেন মুযাকারাহ, গারীব হাদীস বর্ণনা ইত্যাদির জন্য। আর আল্লাহই ভালো জানেন。
আমি ইবনুল মাদিনীর বর্ণিত ঘটনাটির মূল সানাদ পাইনি। যাই হোক, আমার ধারণা আব্দুস সালামের বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা অনেক হওয়াতে কেবলমাত্র তাঁর গারীব হাদীসে কিছু প্রশ্নের দেখা দিয়েছে যেখানে কিছু মুনকার থাকতে পারে। কিন্তু ইন শা আল্লাহ্ সেগুলো অনেক বেশী ও ইচ্ছাকৃতও নয়।
তবে ইবনু মাহরিযের রিওয়ায়াতে ইয়াহয়া বিন মাঈনের বর্ণনায় ইব্ন নুমাইর বলেন, সালিম হতে আন দিয়ে বর্ণনা করা আব্দুস সালামের অর্থাৎ আল মুলা'ইর সকল হাদীস প্রকৃতপক্ষে শারীকের হাদীস। আব্দুস সালাম তাদলীস করতেন।
আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আব্দুস সালামের ব্যাপারে একটি বিষয় আমরা স্মরণ করি। তিনি একটি বা দুটি হাদীস ব্যতিত কোন হাদীস্নেই হাদ্দাস্নানা বলতেন না। সেই একটি বা দুটি হাদীসেই তিনি হাদ্দাস্নানা বলতেন।
সুতরাং আব্দুস সালামের তাদলিসের বিষয়টি প্রমাণিত। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
আল আলবানী এ হাদীস্বটির সনদ বিষয়ে তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থ "সিলসিলাহ আল আহাদীস আস সাহীহাহ ও শাই মিন ফিকহিহা ও ফাওয়াইদিহা” গ্রন্থে (৭/৮৬১) এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। (হাদীস ৩২৯৩)
আল আলবানী বলেন, এটিই এই হাদীসের দুর্বলতা, অর্থাৎ গুতাইফের জাহালাহ। কিন্তু ইবনু হিব্বান তাঁকে তাঁর “আস স্নিকাত” গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেন যেখানে তাঁর থেকে শুধু আব্দুর সালাম রিওয়ায়াত করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ইবনু হাজার এখানে বলেন, গুতাইফ ও গুদাইফ উভয় নামের ব্যক্তি একই আর তাঁরা আল জাযারী, তিনি দাঈফ।
আমি আবূ হাযম বলছি, ইবনু হাজার এটি নকল করেছেন দারাকুতনী থেকে যা রয়েছে আদদুআফা ওয়াল মাতরূকীন গ্রন্থে। কিন্তু ঠিক এর পরপর আছে গুতাইফ আল জাযারী আত তাহফী যার থেকে আল কাসিম বিন মালিক আল মুযনী রিওয়ায়াত করেছেন। আবার বর্ণিত আছে তিনি রাওহ বিন গুতাইফ। এই বর্ণনার শেষে আদ-দারাকুতনী বলেন, হুয়া হুয়া, অর্থাৎ ইনিই তিনি। অর্থাৎ গুতাইফ ও রাওঈ দুজন একই ব্যক্তি।
তাই আল আলবানীর মতে আসলে দারাকুতনী তাঁকে রাওহ বিন গুতাইফ মনে করেছিলেন।
আয যাহাবী এখানে উল্লেখ করেন, আমার মনে হয় ইনি অন্য কেউ。
আল আলবানী বলেন, বুখারী, ইবনু আবী হাতিম ও অন্যরাও এদের (অর্থাৎ দুই গুতাইফের) পার্থক্য করেছেন, যে কারণে আল বুখারী এ দুজনকে আলাদাভাবে বর্ণনা করেছেন। বুখারী বলেন, রাওহ বিন গুতাইফ আস সাকাফী উমার বিন মুসআব থেকে বর্ণনা করেন। রাওই থেকে বর্ণনা করেন মুহাম্মাদ বিন রাবীআহ। তিনি মুনকারুল হাদীস。
আমি বলছি আমাদের আলোচিত গুতাইফের বর্ণনা আলাদাভাবে আছে। এখানে বুখারী আমাদের আলোচিত হাদীষটিও লিপিবদ্ধ করেন।
এ থেকে পরিষ্কার যে দুই গুতাইফ কোন অবস্থাতেই এক নন। আর গুতাইফও রাওই নন। তাঁদের বর্ণনাতে ছাত্রদেরও বুখারী আলাদারূপে বর্ণনা করেছেন।
আল আলবানী আরো বলেন, রাওহকে (রাওহ বিন গুতাইফ বিন আবী সুফইয়ান আস সাকাফী নামে) ইবনু হিব্বانও আদ-দুআফা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন。
ইবনু আবী হাতিম বলেন, রাওহ বিন গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আল জাযারী যুহরী ও আম্র থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। তেমনি মুসআব বিন যুবাইর থেকেও। তাঁর থেকে রিওয়ায়াত করেছেন আব্দুস সালাম বিন হারব্ব ও কাসিম বিন মালিক আল মুযনী ও মুহাম্মাদ বিন রাবীআহ। আমি আমার পিতা (আবূ হাতিম)-কে বলতে শুনেছি (রাওহ) লাইসা বিল কাওয়ী। সে অনেক বেশী মুনকারুল হাদীস。
কিন্তু আল আলবানী বলেন, “আবূ হাতিম রাওহের দাদা হিসেবে আ'ইয়ান আল জাযারীর নাম উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়টি মাহফুয নাকি আমি জানি না। আমি এটি আর কারো কাছে দেখিনি।" একই সাথে তাঁর বক্তব্য "আব্দুস সালাম বিন হারব্ব তাঁর থেকে রিওয়ায়াত করেছেন” অংশটি (অর্থাৎ এ ব্যাপারেও সন্দেহ পোষণ করেন আল আলবানী। বাকি সব কথা বুখারী ও অন্যদের অনুরূপ।"
আল আলবানী এর পর আদ-দারাকুতনীর গুতাইফ ও রাওই নিয়ে সংশয়ের কারণ হিসেবে দিরহামের হাদীস আনেন ইলালুদ দারাকুতনী থেকে। সেই হাদীস্মটি নিম্নরূপ:
আদ দারাকুতনীকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো আবূ হুরাইরাহ হতে আবূ সালামাহর রিওয়ায়াতে "কাপড়ে এক দিরহাম পরিমাণ রক্ত থাকলে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে" হাদীসের সম্পর্কে। তিনি বলেন, এই হাদীস্বটি রাওহ বিন গুতাইফ বর্ণনা করেন যুহরী হতে। কিন্তু তাঁর ব্যাপারে ইখতিলাফ রয়েছে। কাসিম বিন মালিক আল মুযানী বলেন, তা রাওহ বিন গুতাইফ হতে যা যুহরী হতে। এদিকে আসাদ বিন আম্র আল বাজালী বলেন, তা গুতাইফ বিন আত ত্বাইফী হতে যা যুহরী হতে। আর তিনি রাওহ বিন গুতাইফ, কাসিম বিন মালিক যেভাবে বলেছেন। আর রাওই দাঈফ। আর এ হাদীস্বটি যুহরী থেকে জানা নেই।
আল আলবানী বলেন, এখানে অত্যন্ত শক্ত ইশারাহ আছে যে দিরহামের হাদীসের রাবী হচ্ছেন রাওহ বিন গুতাইফ। তিনি গুতাইফ বিন আ'ইয়ান নন। রাওহ নিজে দাঈফ। আর আসাদ বিন আম্র ভুল করে রাওহের স্থানে গুতাইফ বলে ফেলেছেন। আর আদ-দারাকুতনী নিজেই এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তাঁর সুনানে। সেখানে তিনি আল কাসিম বিন মালিকের এই রিওয়ায়াতের শেষে বলেন, রাওহ বিন গুতাইফ নামের ব্যাপারে আসাদ বিন আম্র উল্টিয়ে তাঁকে গুতাইফ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ওয়াহম হয়েছিলো।
আমি আবূ হাযম বলছি সানাদটি নিম্নরূপ:
আবূ আবদুল্লাহ আল মুআদ্দাল আহমাদ বিন আমর বিন উসমান আম্মার বিন খালিদ আত-তাম্মার আল-কাসিম বিন মালিক আল মুযানী রাওহ বিন গুতাইফ যুহরী আবূ সালামাহ আবূ হুরাইরা
আমি আবূ হাযম বলছি, পরের হাদীসটি আসাদ বিন আমরের বর্ণিত হাদীস যার সানাদটি নিম্নরূপ:
আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ ইয়া'কূব বিন ইউসুফ বিন যিয়াদ ইউসুফ বিন বুহলুল আসাদ বিন আমর গুতাইফ আত তায়িফী যুহরী আবূ সালামাহ আবূ হুরাইরা
আমার দৃঢ় মত হচ্ছে, উপরের দুই সানাদে দেখবেন গুতাইফ ও রাওহ উভয়েই আয যুহরী থেকে রিওয়ায়াত করলেও তাঁদের ছাত্র আগে বর্ণিত গুতাইফ থেকে আলাদা। তাই দুই গুতাইফ এক ব্যক্তি হতেই পারে না!
আল আলবানীও বলেন, এই তাহকীক এ কথাই বায়ান করে:
১। গুতাইফ বিন আ'ইয়ান ও রাওহ বিন গুতাইফ এক ব্যক্তি নন।
২। এই রাওহকেই বরং আদ-দারাকুতনী তাদঈফ করেছেন, হাফিয ইবনু হাজার যা তাঁর থেকে নকল করেছেন তা নয়। আর আল কাশিফে “তাঁকে কিছু লোক তালইয়িন করেছেন” বলে আসলে আদ দারাকুতনীর দিকে নির্দেশ করেছেন। কিন্তু তিনি আসলে রাওহকে তালইয়িন করেছেন, যেভাবে আমি জেনেছি।”
আয যাহাবী আল কাশিফের ৪৪২৮ নম্বরে গুদাঈফ বিন আবী সুফইয়ান আত ত্বাঈফীর নাম করে তাঁর সম্পর্কে বলেন, ওয়ুথথিকা বা তাঁকে তাওসীক করা হয়েছে। আর গুতাইফ বিন আ'ইয়ান সম্পর্কে ৪৪২৯ নম্বরে বলেন, তাঁকে কেউ কেউ লাইয়িন করেছেন。
অর্থাৎ আল কাশিফে আয যাহাবীর বর্ণনাতেও আসলে কিছু হযবরল কান্ড আছে। তাঁর এই লাফয ওয়ুস্বষিকাহ শব্দটি নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে বিতর্কের শেষ নেই। তবে এখানে নিশ্চিতভাবে আমরা জানি এই দুই জনের মাত্র একজনের তাওসীক আছে আর তা হচ্ছে গুতাইফ বিন আ'ইয়ানের ব্যাপারে, আর তা ইবনু হিব্বান থেকে। অর্থাৎ আয যাহাবী একজনের তাওস্বীক আরেকজনের উপর আবার সেই জনের তাদঈফ অপর জনের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। আর আল কাঁশিফে রাওই বিন গুতাইফের কোন নামই উল্লেখ করেননি। অর্থাৎ তিনি গুতাইফ বিন আ'ইয়ানকে তিনি রাওই ধরে নিয়ে তাঁর উপর তাদঈফ চাপিয়ে দিয়েছেন। অথচ ইবনু হিব্বান অত্যন্ত পরিষ্কার করে গুতাইফ বিন আ'ইয়ান নাম নিয়েছেন। আয যাহাবী এই দুইজনের আলোচনায় ভুল করে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। ওয়াল্লাহুল মুসতাআন।
আমার মতে, আল আলবানী ইবনু হিব্বানের আত স্নিকাত গ্রন্থ থেকে যে হাওয়ালাটি উল্লেখ করেছেন, জাহালাহ উঠানোর জন্য তাই যথেষ্ট। ইবনু হিব্বানের কিতাবে গুতাইফকে তিনি তাঁর শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেন, কেননা তিনি তাঁর নাম সরাসরি উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু হিব্বান তাঁর কিতাবের শুরুতেই উল্লেখ করেছেন, তাঁর গ্রন্থে শুধু স্নিকাহরা উল্লিখিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, আল মুআল্লিমী ইবনু হিব্বানের আস্ত্র স্নিকাত গ্রন্থের ব্যক্তিদের ব্যাপারে আলোচনায় বলেন যে, গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মর্তবা অর্থাৎ ইবনু হিব্বানের শিক্ষকেদের ব্যাপারে তাঁর তাওসীক নির্দ্বিধায় গ্রহণযোগ্য।
ইবনু হাজার বলেন, মুসআব বিন সা'দ স্নিকাহ। ইবনু হিব্বান তাঁকে তাঁর কিতাবে তাওসীক করেছেন। ইবন সা'দ বলেন, তিনি স্নিকাহ কাসীরুল হাদীস্ত্র。
হুসাইন বিন ইয়াযীদ আল কুফীর কারণে এই সানাদটি দ্বারা কোন হুজ্জাহ হবে না।
দ্বিতীয় হাদীস:
আত তাবারীতে বর্ণিত অপর হাদীসটির সনদ এরূপঃ
— সাঈদ বিন আম্র আস-সাকুনী — বাকিয়্যাহ — কায়স বিন রাবী — আবদুস সালাম বিন হারব আন নাহদী — গুদাইফ — মুসআব বিন সা'দ — আদী বিন হাতিম
সাঈদ বিন আম্র আস সাকুনী আল হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম বলেন, তিনি সাদূক。
বাকিয়্যাহ বিন ওয়ালীদ সম্পর্কে আবু হাতিম বলেন, তাঁর হাদীস লেখা হয় কিন্তু তা দিয়ে হুজ্জাহ দেয়া হয়না। কিন্তু বাকিয়্যাহ মুদাল্লিস ছিলেন। ইবনু হাজার তাঁকে চতুর্থ মার্তাবাতে উল্লেখ করে বলেন, তিনি দাঈফ, মাজহুলদের থেকে প্রচুর তাদলীস করতেন। আর আলিমগণও তাঁকে এমন দোষে দুষ্ট করেছেন। আবু দুমাইনী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। কিন্তু যুবাইর আলী যাঈ তাঁর সাথে ইখতিলাফ করে তাঁকে তৃতীয় মর্তবার উল্লেখ করেছেন। আর আমিও তাঁর সাথে একমত।
কায়স বিন আর রাবী কে অনেকে মানুষ তাদঈফ করেছেন。
এই হাদীসটি এই সানাদে দাঈফ।
তৃতীয় হাদীস:
ইব্রাহীম - মালিক বিন ইসমাঈল - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম
ইবনু হাজার বুখারীকে মুদাল্লিসের প্রথম তাবাকাতে রাখলেও যুবাইর আলী বলেন, বুখারী একেবারেই মুদাল্লিস ছিলেন না। সুতরাং এ সংক্রান্ত সকল দাবী বাতিল।
এই সানাদে ইবরাহীম হচ্ছেন ইবরাহীম বিন ইয়া'কূব বিন ইসহাক আল জুযজানী।
ইবনু হাজার বলেন, ইবরাহীম বিন ইয়া'কুব বিন ইসহাক আল জুযজানী স্নিকাহ হাফিয, কিন্তু তাঁকে নাসিবী হিসেবে দোষারোপ করা হয়।
ইবনু হিব্বان বলেন, তিনি হারীযী মাযহাবের (হারীযী বিন উসমান আন নাসিবী) ছিলেন কিন্তু দাঈফ ছিলেন না। তিনি সুন্নাতের উপর অটল ছিলেন হাদীসে হাফিয ছিলেন। আদ-দারাকুতনী বলেন, তিনি মুসান্নিফ হুফফায মুখাররিজ স্নিকাহদের একজন ছিলেন, কিন্তু তাঁর আলী বিন আবী তালিবের ব্যাপারে ইনহিরাফ ছিলো。
যাই হোক, গাইরু দাঈফ সত্যবাদী মুবতাদি'র হাদীস গ্রহণযোগ্য। ইবনু হাজারের বক্তব্য সঠিক।
ইবনু হাজার বলেন, মালিক বিন ইসমাঈল আন নাহদী স্নিকাহ মুতকিন সাহীহুল কিতাব আবিদ।
আব্দুর রাহমান বিন আবী হাতিম বলেন, ইয়াহয়া বিন মাঈন বলেছেন, কুফাতে তাঁর মত মুতকিন আর কেউ নেই। ইবনু নুমাইর বলেন, মালিক মুহাদ্দিসদের ইমামদের একজন। আবূ হাতিম বলেন, তিনি স্নিকাহ মুতকিন। ইবনু হিব্বান তাঁকে তাওষীক করেছেন。
এই সানাদে আব্দুস সালাম গুতাইফ থেকে হাদ্দাসানা দিয়ে বর্ণনা করেছেন। তাই তাঁর মুদাল্লিস হওয়ার বিষয়টি এখানে কোন সমস্যা নয় ইনশা আল্লাহ্।
এই সানাদটি উত্তম ও হাসান ইনশা আল্লাহ্।
চতুর্থ হাদীস:
(আলী বিন আবদুল আযীয - আবূ গাস্লান মালিক বিন ইসমাঈল - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আল-জাযীরার অধিবাসী - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম ইবনুল আসবাহানী - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আল-জাযীরার অধিবাসী - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম আবূ হুসাইন আল কাদী - ইয়াহইয়া আল হিম্মানী - আব্দুস সালাম বিন হারব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আল জাযীরার অধিবাসী - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম
আবূ হাতিম বলেন, আলী বিন আব্দিল আযীয সাদূক ছিলেন। আদ দারাকুতনী বলেন, তিনি স্নিকাহ মা'মূন। আবু বকর আস সুন্নি বলেন, আন নাসায়ী তাঁর ব্যাপারে সম্পদের বিনিময়ে এমনকি দরিদ্রের সামান্য সম্পদের বিনিময়ে হাদীস রিওয়ায়াত করতে দেখার কথা বলেছেন。
আয যাহাবী একই কিতাবে বলেন, তিনি হাসানুল হাদীস। আবার আল মীযানে বলেন, তিনি স্নিকাহ, কিন্তু হাদীস বর্ণনার বিনিময় চাইতেন, কিন্তু তাঁকে এই বলে ওজর দেওয়া হয় যে, তাঁর এ বিষয়ে অভাবগত চাহিদা ছিলো。
ইবনু হাজার বলেন, ইবনু আইমানকে জিজ্ঞেস করা হলো, এমন কারণে কি তাঁর উপর ঈব অর্পণ করা হবে কিনা। তিনি বললেন, না, বরং তাঁদের কাছে ঈব তো হচ্ছে মিথ্যা বলা আর ইনি ছিলেন স্নিকah।
সুতরাং তাঁর ঈব হচ্ছে তিনি হাদীসের বিনিময় চাইতেন, কিন্তু তাঁকে এই বলে ওজর দেওয়া হয়, তাঁর এ বিষয়ে অভাবগত চাহিদা ছিলো। আর শুধু এ কারণেই তাঁর হাদীসকে বাদ দেওয়া যাবে না। সুতরাং তিনি হাসানুল হাদীস ইনশা আল্লাহ্, ঠিক যেমনটি আয যাহাবী বলেছেন।
অর্থাৎ আমাদের কাছে প্রথম সানাদটি হাসান ও সকল তাওফীক্ব আল্লাহ্র।
দ্বিতীয় সানাদে ইবনুল আসবাহানী হচ্ছেন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল আসবাহানী। আবু হাতিম তাঁর তাওসীক করেন। তাঁকে আরো অনেকে তাওসীক করেছেন。
সুতরাং এ সানাদটিও আমাদের কাছে হাসান।
ইয়াহয়া আল হিম্মানীর সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদীস চুরি করতেন। তিনি আরো বলেন, তিনি জনসম্মুখে মিথ্যা বলতেন ও লোকেরা তাঁর (মিথ্যুক হওয়ার) ব্যাপারে একমত। আল-জুযজানী বলেন, তাঁর হাদীসকে তরক করা হয়। তাঁকে উলামাদের একটা বড় অংশ তাদঈফ করেছেন কিন্তু তিনি আসলে মাতরূক যেমনটি আহমাদ বলেছেন। সুতরাং তৃতীয় সানাদটি মাওদ্'।
পঞ্চম হাদীস:
ইব্রাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন ইব্ৰ্ক আল হিম্মসী - মুহাম্মাদ বিন মুসাফা - বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ - কায়স ইবনুর রাবী' - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম
কিন্তু এই সানাদে কায়স ও বাকিয়্যাহর আনআনাহ বিদ্যমান। সুতরাং এ সানাদটিও দাঈফ।
ষষ্ঠ হাদীস:
আলী বিন আহমাদ বিন আবদান - আহমাদ বিন উবায়দ - ইবনু আবু কুমাশ - সাঈদ বিন সুলায়মান - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ আল জাযারী - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম
খত্বীব আল বাগদাদী বলেন, আলী বিন আহমাদ বিন আবদান বিন মুহাম্মাদ আল আহওয়াযী স্নিকাহ। আহমাদ বিন উবায়দ বিন ইসমাঈল আবুল হাসান মিকাহ স্বাক্ত। মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন আস সাকান, যিনি ইবনু আবী কুমাশ বলে পরিচিত, তিনি স্নিকাহ, সাঈদ বিন সুলাইমান আল ওয়াসিতী মিকাতুন মা'মুনুন।
সাঈদের লাকাব ছিলো সা'দুওয়াইহ যাকে ইবনু হাজার স্নিকাহ হাফিয বলেছেন।
আহমাদ বিন হাম্বাল তাকে তাসহীফকারী বললেও ইবনু হাজার সেটিকে অসাব্যস্ত বলে নাকচ করেছেন।
আদ দারাকুতনী বলেন, লোকেরা সা'দুওয়াইহর সমালোচনা করেছেন।
ইবনু হাজার বলেন, এ তালয়ীন করার কারণ অস্পষ্ট, যা অগ্রহণযোগ্য। বুখারী তাঁর থেকে অধিক রিওয়ায়াত না করলেও বুখারী ও প্রমুখগণ তাঁর ও তাঁর ছাত্র থেকে রিওয়ায়াত করেছেন।
ইবনু হাজার আরও বলেন, বুখারী তাঁর থেকে সর্বমোট পাঁচটি হাদীস রিওয়ায়াত করলেও একটি হাদীস্নেও তাফাররুদ করেননি।
ইবনু সা'দ তার তাওসীক করে বলেন, তিনি অধিক হাদীস্ব বর্ণনা করতেন।
আব্বাস বিন মুহাম্মাদ বিন হাতিম আদ দাউরী ইয়াহয়াকে প্রশ্ন করেন, আমি কি তাঁর সকল রিওয়ায়াত নিতে পারব? তিনি তাতে ইতিবাচক সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
যাই হোক, আমার মনে হয় বুখারীর শিক্ষক সাঈদের অধিক হাদীস বর্ণনার কারণে সামান্য কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি হতেই পারে। ইবনু হাজার তাঁর ব্যাপারে আহমাদের জারকে অমূলক বললেও আহমাদ যাকে তাসহীফ মনে করেছিলেন তা সাঈদের এসকল ভুল বলেই আমাদের ধারণা। আল্লাহু আ'লাম। নতুবা বুখারীতে তাসহীফ করা কোন রাবী নেই। আর কেই বা একেবারেই ত্রুটিমুক্ত? আমি আশা করি, সাঈদ কমপক্ষে হাসানুল হাদীস, আর তাই এ সানাদটিও হাসান ইনশা আল্লাহ্।
সংশয় নিরসন: তিরমিযী কি গুতাইফকে মাজহুল বলেছেন?
আল আলবানী বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে, তিরমিযী তো গুতাইফ (বিন আ'ইয়ান) কে গাইর মা'রুফ হিসেবেই বললেন, তাহলে কিভাবে এই হাদীসকে তিনি হাসান হিসেবে উল্লেখ করলেন?
এর জবাবে তিনি বলেন, উল্লিখিত তাহসীন তিরমিযীর শামায়িলের নয় বরং তা হাফিয ইবনু হাজারের তাখরীজুল কাশশাফ ও আস সুয়ূতীর আদ দুররুল মানসুর গ্রন্থে। (আলবানীর বক্তব্য)
আমি আবূ হাযম বলছি, এই বইটির পুরো নাম الكافي الشافي في تخريج أحاديث الكشاف যা এখনো মাখতৃত আকারে রয়ে গিয়েছে। আমি দেখেছি সেখানে শায়খ ইবনু হাজার তিরমিযীর এই বক্তব্যে গরীব শব্দের আগে হাসান উল্লেখ করেন। সে ক্ষেত্রে তিরমিযী তাঁর সুনানে গুতাইফকে মাজহুল বলে এই হাদীসের তাদঈফ করেছেন – ধারণাটি সঠিক নয়। বরং গুতাইফের গাইর মা'রুফ হওয়ার বর্ণনাটি হাদীসটির সানাদের ব্যাপারে একটি তথ্য ছিলো মাত্র। এই হাদীসের ব্যাপারে তিরমিযীর হুকুম প্রকাশ পেয়েছে আল কাফী আশ শাফ গ্রন্থেই, আর তাতে হাদীসটিকে হাসান বলেই উল্লেখ করেছেন।
আস সুয়ূতীও তিরমিযীর এই হাদীসের তাহসীন উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া আল আলবানী বলেন, হয়তো আবুল বাখতারী শাহেদ হিসেবে যা রিওয়ায়াত করেছেন সে কারণেও তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলে থাকতে পারেন। এই রিওয়ায়াতটি আব্দুর রাযযাক তার আত তাফসীর গ্রন্থে (১/২৭২) ও আত তাবারী ও বায়হাকী তাঁদের সুনানে, ইবনু আব্দিল বার তার জামে' বায়ানুল ইলম (২/১০৯) গ্রন্থে এবং আশ শু'ব (৭/৪৫) এ উল্লেখ করেছেন। আল আলবানী বলেন, সানাদটি সাহীহ কিন্তু মুরসাল। কেননা, আবুল বাখতারী সাঈদ বিন ফাইরুষ বলেন যে তা হুযাইফাহ হতে মুরসাল রূপে।
আমি আবু হাযম বলছি এই আস্নারটির সানাদ দু'টি এরূপ:
* আবূ যাকারিয়্যা বিন আবূ ইসহাক- আবূ আবদুল্লাহ বিন ইয়া'কূব - মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব - জা'ফার বিন আওন - আ'মাশ - আবুল বাখতারী আবু তাহের আল ফাকীহ - আবূ বাক্স আল-কাত্তান - আলী ইবনুল হাসান আল হিলালী - তাল্ল্ফ বিন গান্নাম- যায়েদাহ – আ'মাশ - হাবীব - আবুল বাখতারী
এই সানাদটি মাওকূফ বলে এর পূর্ণ তাহকীক এই আলোচনায় নিষ্প্রয়োজন বলে মনে করছি। তথাপিও এর সকল তারীকাতে আ'মাশের উপস্থিতি রয়েছে যার তাদলীসের ব্যাপারে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আর এ সানাদটির আর কোন তারীকাহ নেই বলে, এর সাহীহ হওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
আল আলবানী ইবনু হাজারের বরাতে বলেন, ইবনু মারদাওয়ী আরেকটি তারীকাহ আদী বিন হাতিম থেকে আতা' বিন ইয়াসার বর্ণনা করেছেন।
কিন্তু আফসোসের বিষয় ইবনু মারদাওয়ীর এই তাফসীরটি মাফকূদ! তবে মারদাওয়ীর তাফসীরটি থেকে আয যাইলাঈ নিচের সানাদটি বর্ণনা করেন।
ইবনু মারদুওয়াইহ ← ইমরান আল কাত্তান ← খালিদ আল আবদী সাফওয়ান বিন সালীম ← আতা' বিন ইয়াসার ← আদী বিন হাতিম
ইবনু হাজার বলেন, ইমরান বিন দাওয়ার আল কাত্তান সাদৃক কিন্তু ওয়াহম করতেন ও তাঁর সম্পর্কে বলা হয় তিনি খাওয়ারিজের মত রাখতেন。
আমি আবূ হাযম বলছি, প্রথমত এই সানাদটি মুআল্লাক। কেননা ইবনু মারদাওয়ীত্র শায়খ ইমরান নন! অর্থাৎ এই সানাদের কোন হুকুম হবে না। তাই আমি এখানে তুলনামূলক হালকা তাহকীক করব্ব ও মুতাআখখিরদের বইয়ের হাওয়ালা দিয়ে শেষ করব্ব ইনশা আল্লাহ্।
ইমরানকে আন নাসাঈ ও আবূ দাউদ তাদঈফ করেছেন। ইবরাহীম বিন আব্দিল্লাহ বিন হাসানের সময় তিনি (ইমরান) সাংঘাতিক ফতোয়া দেন যাতে রক্তপাতের নির্দেশ ছিলো। ইয়াযীদ বিন যুরাই' বলেন, তিনি হারুরী ছিলেন ও তিনি তরবারি দেখেছিলেন (অর্থাৎ তাঁকে সরকার কর্তৃক আটক করা হয়)। কিন্তু আব্বাস বিন ইয়াহয়া বলেন, তিনি এই মতের দাঈ ছিলেন না。
তিরমিযী বুখারীর কওল নকল করে বলেন, তিনি সাদৃক ছিলেন। দারাকুতনী বলেন, তাঁর প্রচুর মুখালাফাহ ও ওয়াহম ছিলো。
আমার ধারণা এই সানাদটিতে আরও কিছু সমস্যা বিদ্যমান। ইমরান বিন দাওয়ারের একজন মাত্র শিক্ষকের নাম খালিদ, আর তিনি হচ্ছেন খালিদ বিন আবী আবদিল্লাহ। কিন্তু তাঁর পরিচয় নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা আছে।
তাহযীবুল কামালে সাফওয়ান বিন সুলাইমের কোন ছাত্র পেলাম না যার নাম খালিদ।
যাই হোক, শুধু নাম মেলার কারণে ইনি হয়তো খালিদ বিন আবদির রাহমান আল আবদী, যদিও ইবনু হাজার তাঁকে মাজহুল বলেছেন।
ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করতেন। তিনি হাদীস চুরি করতেন ও মানুষের কিতাব থেকে রিওয়ায়াত করতেন - যাদেরকে তিনি শোনেনই নি।
আদ দারাকুতনী বলেন, তাঁর হাদীসে কিছু দা'ফ আছে, কিন্তু তিনি মাতরূক নন।
আল আলবানী বলেন, এ সকল তারীকাহ মিলিয়ে হাদীসটি হাসান ইনশা আল্লাহ্।
তবে আয যাইলাঈ উল্লেখ করেন, এই হাদীসটি আছে আল ওয়াকীদীর কিতাবুর রিদ্দাহতে। কিন্তু এই আল ওয়াকীদী হচ্ছেন মুহাম্মাদ বিন উমার বিন ওয়াক্বীদ আল আসলামীকে ইবনু হাজার বলেছেন মাতরূক।
আবু হাতিম ও ইয়াহয়া ইবনু মাঈন একে মাতরুক বলেছেন।
আয যাইলাঈ আরও বলেন, একই হাদীস আছে ইবনু সা'দের আত তাবাকাত গ্রন্থে। এর সানাদটি নিম্নরূপ:
মুহাম্মাদ বিন উমার - আবূ মারওয়ান - আবান বিন সালিহ আমির বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম (রাঃ)।
কিন্তু ইবনু সা'দের শায়খ মুহাম্মাদ বিন উমার কাযযাব, মাতরুক। আগের সানাদে আলোচনা করেছি।
আয যাইলাঈ এ হাদীসটিকে মুসনাদ ইবনু আবী শায়বাহতে থাকার দাবী করলেও আমি তা খুঁজে পাইনি।
খুলাসাহ:
গুতাইফের বিরুদ্ধে একমাত্র অভিযোগ তাঁর মাজহুল হওয়া, যদিও তিনি ইবনু হিব্বান তাঁর আষ স্নিকাত গ্রন্থে তাঁকে তাঁর শায়খ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সাথে আরেকটি সমস্যা আদ দারাকুতনী কর্তৃক নামের তালগোল পাকিয়ে তাঁকে দাঈফ রাবী রাওই বলে ধরে নেওয়া। সুতরাং যারা ইবনু হিব্বানের সকল প্রকার একক তাওস্বীক মেনে নেবে, তাঁদের জন্য হাদীস্বটি এখানেই হাসান লি যাতিহি হিসেবে গণ্য হবে। অপরপক্ষে যারা ইবনু হিব্বানের একক তাওসীক মেনে নেবেন না, কিন্তু হাসান লি গাইরিহির কায়িদাহতে বিশ্বাস করেন ও আ'মাশের আনআনাতে অস্বস্তিবোধ করেন না তাঁরা রিওয়ায়াতটিকে হাসান লি গাইরিহী হিসেবে মনে করতে পারেন।
কিন্তু আমরা বলি, সকল তাওফীক আল্লাহ্, গুতাইফ ইবনু হিব্বানের শায়খ ছিলেন ও এক্ষেত্রে তাঁর তাওসীক আল মুআল্লিমীর পূর্বে বর্ণিত কায়িদাহর কারণে গ্রহণযোগ্য। সুতরাং এই হাদীস্বটি আমাদের কাছে হাসান লি যাতিহী ইনশা আল্লাহ।
২৭ সফর ১৪৪২ হিজরীতে আমি এ তাহকীকের কাজটি সম্পন্ন করলাম। আল-হামদু লিল্লাহ। আবূ হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী, পূর্ব-লন্ডন, যুক্তরাজ্য।
টিকাঃ
742 সূরা আত্-তাওবাহ ৯ : ৩১
743 তিরমিযী ৩০৯৫
744 আনওয়ারুস সাহীফাহ ২৮১
745 তাকরীব ৫৩৬৪
746 তাফসীর আত তাবারী ১০/৮১
747 প্রাগুক্ত ১৪/২০৯ রিওয়ায়াত ১৬৬৩১
748 তাকরীব ১৩৬১
749 আত স্নিকাত ৮/১৮৮, নং ১২৯০৭
750 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৩/৬৭, নং ৩০৪
751 তাকরীব ৪০৬৭
752 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৬/৪৭, নং ২৪৬
753 তারীখ ইবনু মাঈন - রিওয়ায়াহ ইবনি মাহরিয ১/১০৭
754 ফাতহুল বারী ১/৪২০
755 সাহীহুল বুখারী ৫৩৪২
756 তাকরীব ৫৪০১
757 সাহীহুল বুখারী ৪৩৮৫
758 আল-ইজলী কৃত কিতাবুত মিকাত তাবআহ আল বায ৩০৩ নং ১০০১
759 তারীখ আল কাবীর ৬/৬৬, নং ১৭২৯
760 আত-তাবাকাতুল কুবরা তাবআহ দার সাদির ৬/৩৮৬
761 তারীখুল ইসলাম ৪/৯১০, নং ২১৪
762 নাসলুন নাবাল বিমু'জামির রিজাল ২/৩১৫-৩১৬, নং ২০১০
763 তারীখ ইবনু মাঈন - রিওয়ায়াতু ইবনি মাহরিয ২/২২৩
764 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল আবদুল্লাহর রিওয়ায়াত) ৩/৪৮৫, নং ৬০৭৬
765 'আস স্নিকাত ৭/৩১১ রাবী ১০২২৪
766 তাকরীব ৫৩৬৪
767 আদ দুআফা ওয়াল মাতরূকীন ৩/১২৭, আব্দুর রাহীম মুহাম্মাদ কাশমাকরী ৪২৯
768 প্রাগুক্ত ৪৩০
769 মীযানুল ই'তিদাল ৩/৩৩৬, নং ৬৬৬৮
770 আত তারীখুল কাবীর ৩/৩০৮, নং ১০৪৭
771 প্রাগুক্ত ৭/১০৬ নং ৪৭১
772 আল-মাজরূহীন ১/২৯৮ নং ৩৪৩
773 আল জার্হ ওয়াত তা'দীল ৩/৪৯৫, নং ২২৪৫
774 ইলালুদ দারাকুতনী ৮/৪৩, নং ১৪০২
775 সুনান আদ-দারাকুতনী ২/২৫৭, নং ১৪৯৪
776 সুনান আদ দারাকুতনী ২/২৫৭, নং ১৪৯৫
777 আল কাশিফ ২/১১৭, নং ৪৪২৮ ও ৪৪২৯
778 আস স্নিকাত ১/১১
779 আত তানকীল, শায়খ আল আলবানীর তাহকীকে) ১/৪৩৮
780 তাকরীব ৬৬৮৮
781 আত স্নিকাত ৫/৪১১, নং ৫৪৫৫
782 আত তাবাকাতুল কুবরা ২/১২৯, নং ৭০৮
783 তাফসীর আত তাবারী ১৪/২১০-২১১, রিওয়ায়াত ১৬৬৩৩
784 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৪/৫১, নং ২২০
785 তাকরীব ৭৩৮
786 আল জারই ওয়াত তা'দীল ২/৪৩৫
787 তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন পৃষ্ঠা ৪৯, নং ৪/১১৭
788 আত তাদলীস ক্রম ৪/১৬৫
789 আল ফাতহুল মুবীন, ২৯ নং ৪/১১৭ হাশিয়াহ
790 আবু যুরআহর কিতাবুদ দুআফা ২/৬৫০, নং ২৭২, ইবনু হিব্বানের আল মাজরূহীন ২/২১৬, নং ৮৮৭
791 আত তারীখুল কাবীর বিল হাওয়াশী মাহমূদ খালীল ৭/১০৬, হাদীষ ৪৭১
792 আল ফাতহুল মুবীন ক্রম ১/২৩, পৃষ্ঠা ২৭-২৮ হাশিয়াহ
793 তাকরীব ২৭৩
794 আস-সিকাত ৮/৮১, নং ১২৩৩৭
795 সুআলাত আস-সুল্লামী লিদ দারাকুতনী ৩২৯-৩৩০, নং ৪১৯
796 তাকরীব ৬৪২৪
797 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৮/২০৬, নং ৯০৫
798 আত স্নিকাত ৯/১৬৮, নং ১৫৭৯৫
799 আল মু'জামুল কাবীর ১৭/৯২, নং ২১৮
800 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৬/১৯৬, নং ১০৭৬
801 সুআলাত আস সিলমী লিদ দারাকুতনী ২০৯, নং ২১৪
802 সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' ১৩/৩৪৯, নং ১৬৪
803 মীযানুল ই'তিদাল ৩/১৪৩, নং ৫৮৮২
804 লিসানুল মীযান ৪/২৪১, নং ৬৪৮
805 আল জারহ ওয়াত তা'দীল ৭/২৬৫, নং ১৪৪৭
806 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল আব্দুল্লাহর রিওয়ায়াত ৩/৪১, নং ৪০৭৯
807 প্রাগুক্ত ৩/৪০, নং ৪০৭৬
808 কিতাবু আহওয়ালির রিজাল ১৩৬, নং ১১৫
809 আল মু'জামুল কাবীর ১৭/৯২, নং ২১৮
810 আস সুনান আল কুবরা ১০/১৯৮, নং ২০৩৫০
811 তারীখ বাগদাদ ১৩/২৩২, নং ৬১০৮
812 প্রাগুক্ত ৫/৪৩৩, নং ২২৭১
813 তারীখ বাগদাদ ৩/৬৯৯, নং ১১৮৭
814 আল জার্ই ওয়াত তা'দীল ৪/২৬, নং ১০৭
815 তাকরীব ২৩২৯
816 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল আব্দুল্লাহর রিওয়ায়াত ১/৪২৭, নং ৯৪৪
817 ফাতহুল বারী ১/৪০৫
818 সু'আলাত আল হাকিম লিদ দারাকুতনী ২১৪, নং ৩৩২
819 ফাতহুল বারী ১/৪০৫
820 প্রাগুক্ত
821 আত তাবাকাতুল কুবরা ৭/২৪৪, নং ৩৫১৬
822 তারীখ ইবনু মাঈন রিওয়ায়াতুদ দাউরী ৪/৪০৪, নং ৪৯৯৫
823 তাখরীজুল কাশশাফ ৭৫/১০৮
824 আদ দুররুল মানসুর ৩/২৩০
825 আস সাহীহাহ ৭/৮৬৪ নং ৩২৯৩
826 https://bit.ly/34Xv2jB ও https://bit.ly/31824wb নম্বরসহ
827 ইবনু হাজারকৃত আল কাফী আশ শাফ পৃষ্ঠা ৭৫, নং ১০৮
828 আদ দুররুল মানসুর ফিত তাফসীর বিল মা'সূর ৪/১৭৪, নং ৩১
829 আস সুনান আল কুবরা ১০/১৯৮, নং ২০৩৫১
830 ইবনু হাজারকৃত আল কাফী আশ শাফ ৭৫, নং ১০৮
831 তাখরীজুল আহাদীস ওয়াল আমার আল ওয়ারিদাহ ফিল কাশশাফ ২/৬৬
832 তাকরীব ৫১৫৪
833 মীযানুল ই'তিদাল ৩/২৩৬, নং ৬২৮২
834 তাহযীবুত তাহযীব ৮/১৩২, নং ২২৬
835 তাহযীবুল কামাল ২২/৩২৮, নং ৪৪৮৯
836 প্রাগুক্ত ১৩/১৮৪, নং ২৮৮২
837 তাকরীব ১৬৫৩
838 আল মাজরুহীন ১/২৮০, নং ২৯৮
839 তা'লীকাত আদ দারাকুতনী আলাল মাজরূহীন লিবনি হিব্বান ৮৮, নং ৭৯
840 আয যাইলাঈর তাখরীজুল আহাদীস ওয়াল আসার আল ওয়ারিদাহ ফিল কাশশাফ ২/৬৬
841 তাকরীব ৬১৭৫
842 আল জারহ ওয়াত তা'দীল ৮/২০, নং ৯২
843 আয যাইলাঈর তাখরীজুল আহাদীস ওয়াল আসার আল ওয়ারিদাহ ফিল কাশশাফ ২/৬৬
844 আত তাবাকাতুল কুবরা তাবাকাতুর রাবিআহ – ৬৫১, নং ২৯৯
হুসাইন বিন ইয়াযীদ আল কুফী - আবদুস সালাম বিন হারব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান - মুসআব বিন সা'দ আদী বিন হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি নাবী () এর নিকট আমি হাযির হলাম। আমার গলায় একটি স্বর্ণের ক্রুশ ঝুলছিল। তিনি বললেন: হে আদী! তোমার নিকট থেকে মূর্তিটি ফেলে দাও। আমি তাঁকে সূরা বারাআত পাঠ করতে শুনেছি: اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ অর্থাৎ তাদের আলেম আর দরবেশদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে
তিনি বললেন: এমনটি নয় যে তারা তাদের ইবাদত করত। বস্তুত এরা যদি তাদের জন্য কিছু হালাল করে দিত তখন তারা তা হালাল বলে গ্রহণ করত; আর যখন কোন কিছু হারাম বলে স্থির করত তখন তারাও তা হারাম বলে গ্রহণ করত।
আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুস সালাম ইবন হারব-এর রিওয়ায়ত ছাড়া এ সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। রাবী গুতায়ফ ইবন আ'য়ূন হাদীস বিষয়ে পরিচিত নন।
যুবাইর আলী যাঈ একে দাঈফ বলেছেন। ও তাঁর যুক্তি ছিলো সানাদে থাকা গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আশ শাইবানী সম্পর্কে ইবনু হাজার আল আসকালানী তাঁকে দাঈফ বলেছেন। এছাড়া যুবাইর আলী বলেন, তাফসীর আত তাবারীতে মাওকুফ আকারে যে সনদটি রয়েছে তা সনদটি দাঈফ ও মুনকাতি।
আমি আবু হাযম বলছি, তাফসীর আত তাবারীতে এই হাদীসটির দুটি সনাদ রয়েছে। যার একটি তিরমিযীর সনাদের অনুরূপ।
প্রথমজন আল হুসাইন বিন ইয়াযীদ আত তাহহান হচ্ছেন ইবনু হিব্বানের তাওসীককৃত শায়খ। তাঁকে আবু হাতিম লাইয়িনুল হাদীস বলেছেন।
ইবনু হাজার আব্দুস সালাম বিন হারব সম্পর্কে বলেন, তিনি আল কুফী হিসেবে বর্ণিত হলেও তিনি আসলে বাসরী (অর্থাৎ তিনি কুফাতে ছিলেন)। তিনি স্নিকাহ হাফিয কিন্তু তাঁর থেকে কিছু মুনকার হাদীস আছে। তাঁকে তাহথীক করেছেন আবু হাতিম আর রাযী কিন্তু ইবনু আবী হাতিমের ভাষায় ইয়াহয়া বিন মাঈন তাঁকে সাদৃক বলেছেন। কিন্তু তিনি ইবনু মাহরিযের রিওয়ায়াতে দাবী করেন তিনি স্নিকাহ। আমার ধারণা এটিই তাঁর সর্বশেষ মত। আল্লাহু আ'লাম।
ইবনু হাজার বলেন, বুখারী আব্দুস সালামকে দিয়ে দুটো হাদীস শুধু মুতাবাআতের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এভাবে পরিষ্কার করেছেন তাঁকে হুজ্জাহ হিসেবে পেশ করেননি কিন্তু বাকি সবাই তাঁর রিওয়ায়াত করেছেন。
ইবনু হাজারের এই মতটিকে নেয়ার আগে এই সনাদ দুটিকে পর্যালোচনা করার প্রয়োজন।
আল ফুদাইল বিন দুকাইন - আবদুস সালাম বিন হার্ব - হিশাম - হাফসাহ - উম্মু আতিয়্যাহ
প্রথম সানাদটিতে আব্দুস সালামের ছাত্র আল ফাদল বিন দুকাইন হচ্ছেন আল কুফী। তাঁকে ইবনু হাজার স্নিকাতুন স্নাবতুন বলেছেন।
আবূ নুআইম - আবদুস সালাম বিন হার্ব - আইয়্যুব - আবু কিলাবাহ - যাহদাম
দ্বিতীয় সানাদটিতেও আব্দুস সালামের ছাত্র আল ফাদল বিন দুকাইন যাকে এই সানাদে বুখারী তাঁর কুনিয়া আবূ নুআইম লিপিবদ্ধ করেছেন। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে আল ফাদ্বলের কুফাবাসী হওয়া।
আল ইজলী বলেন, আবু ইসহাক আস সাবীঈর মৃত্যুর দিন আব্দুস সালাম কুফাতে প্রবেশ করেন। তিনি কুফাবাসীর নিকট স্নিকাহ স্বাক্ত। বাগদাদবাসী তাঁর কিছু হাদীসকে ইনকার করেছিলো, কিন্তু কুফাবাসী তাঁর সম্পর্কে বেশী জানতেন।
বুখারী কোন প্রকার জারহ বা তা'দীল ব্যতীত আব্দুস সালামকে উল্লেখ করেছেন।
তবে আমার মতে ইজলী বর্ণিত তথ্যটি বুখারীর জ্ঞাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল, কেননা আব্দুস সালামের হাদীস বুখারী কেবল কুফাবাসী আল ফাদল বিন দুকাইন থেকেই নিয়েছিলেন। আল ফাদল স্বয়ং কুফাবাসী ছিলেন বলে তাঁর সম্পর্কে জানতেন ও কেবল সঠিকটিই বর্ণনা করতেন। তাই ইবনু হাজারের ধারণার সাথে সাথে বুখারী কর্তৃক আব্দুস সালামের হাদীস স্নিকাহ কুফাবাসী থেকে গ্রহণ করার ইহতিমালও রয়ে যায়। সুতরাং সে ক্ষেত্রে বুখারী আব্দুস সালাম থেকে মুতলাকভাবে শুধু মুতাবে' এর ভিত্তিতেই বর্ণনা করেছেন বলে ইবনু হাজারের ধারণা একেবারে অকাট্য নয়। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
আরো লক্ষণীয়, আলোচ্য হাদীসে আব্দুস সালামের ছাত্র আল হুসাইন বিন ইয়াযীদও কুফাবাসী।
ইবন সা'দ বলেন, আব্দুস সালামের বর্ণনায় কিছু দা'ফ ছিল। আর তিনি অনেক হাদীসের অধিকারী ছিলেন。
আমার ধারণা এই জাহটি মূলতঃ তাঁর বর্ণিত গারীব হাদীসে তাঁর ওয়াহমের কারণে। এটাও সত্যি যে আলোচ্য হাদীসটিও গারীব।
ইয়াকূব বিন শায়বাহ থেকে আয যাহাবী একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আব্দুস সালাম হাদীসের ব্যাপারে কঠিন ছিলেন। তিনি ইবনুল মাদিনীকে বলতে শুনেছেন, আব্দুস সালাম প্রতি বছর একবার সাধারণ মানুষের জন্য বসতেন। আলী বলেন, তিনি আব্দুস সালামের জন্য সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে মাজলিসে অংশ নিতেন ও কখনো কখনো আব্দুস সালাম বর্ণিত কিছু হাদীসকে অস্বীকার করতেন যতক্ষণ না সে সব হাদীসকে পুনঃনিরীক্ষণ করে এ কথা জানতে পারতেন যে, কে তাঁর থেকে অধিক রিওয়ায়াত করছে। এ কারণেই তাঁর হাদীস মুগীরাহ ও অন্য মানুষের রিওয়ায়াতের অধিক নিকটবর্তী। কেননা তিনি হাদীস বর্ণনাতে কঠিন ছিলেন, সুতরাং তারা তাঁর গারীব হাদীসকে এক স্থানে জমা করত। তখন আমি সেসবে নজর দিতাম ও অস্বীকার করতাম。
আবু ইসহাক আল হুওয়াইনী বলেন, সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো, ইবনুল মাদিনীর এই অস্বীকৃতি সমস্ত গারীব হাদীসকে একটি স্থানে একত্রিত করারই দরুন। আর গারীব হাদীসে অনেক মুনকার পাওয়া যায়। তাঁরা এভাবে জমা করতেন মুযাকারাহ, গারীব হাদীস বর্ণনা ইত্যাদির জন্য। আর আল্লাহই ভালো জানেন。
আমি ইবনুল মাদিনীর বর্ণিত ঘটনাটির মূল সানাদ পাইনি। যাই হোক, আমার ধারণা আব্দুস সালামের বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা অনেক হওয়াতে কেবলমাত্র তাঁর গারীব হাদীসে কিছু প্রশ্নের দেখা দিয়েছে যেখানে কিছু মুনকার থাকতে পারে। কিন্তু ইন শা আল্লাহ্ সেগুলো অনেক বেশী ও ইচ্ছাকৃতও নয়।
তবে ইবনু মাহরিযের রিওয়ায়াতে ইয়াহয়া বিন মাঈনের বর্ণনায় ইব্ন নুমাইর বলেন, সালিম হতে আন দিয়ে বর্ণনা করা আব্দুস সালামের অর্থাৎ আল মুলা'ইর সকল হাদীস প্রকৃতপক্ষে শারীকের হাদীস। আব্দুস সালাম তাদলীস করতেন।
আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আব্দুস সালামের ব্যাপারে একটি বিষয় আমরা স্মরণ করি। তিনি একটি বা দুটি হাদীস ব্যতিত কোন হাদীস্নেই হাদ্দাস্নানা বলতেন না। সেই একটি বা দুটি হাদীসেই তিনি হাদ্দাস্নানা বলতেন।
সুতরাং আব্দুস সালামের তাদলিসের বিষয়টি প্রমাণিত। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
আল আলবানী এ হাদীস্বটির সনদ বিষয়ে তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থ "সিলসিলাহ আল আহাদীস আস সাহীহাহ ও শাই মিন ফিকহিহা ও ফাওয়াইদিহা” গ্রন্থে (৭/৮৬১) এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। (হাদীস ৩২৯৩)
আল আলবানী বলেন, এটিই এই হাদীসের দুর্বলতা, অর্থাৎ গুতাইফের জাহালাহ। কিন্তু ইবনু হিব্বان তাঁকে তাঁর “আস স্নিকাত” গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেন যেখানে তাঁর থেকে শুধু আব্দুর সালাম রিওয়ায়াত করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ইবনু হাজার এখানে বলেন, গুতাইফ ও গুদাইফ উভয় নামের ব্যক্তি একই আর তাঁরা আল জাযারী, তিনি দাঈফ।
আমি আবূ হাযম বলছি, ইবনু হাজার এটি নকল করেছেন দারাকুতনী থেকে যা রয়েছে আদদুআফা ওয়াল মাতরূকীন গ্রন্থে। কিন্তু ঠিক এর পরপর আছে গুতাইফ আল জাযারী আত তাহফী যার থেকে আল কাসিম বিন মালিক আল মুযনী রিওয়ায়াত করেছেন। আবার বর্ণিত আছে তিনি রাওহ বিন গুতাইফ। এই বর্ণনার শেষে আদ-দারাকুতনী বলেন, হুয়া হুয়া, অর্থাৎ ইনিই তিনি। অর্থাৎ গুতাইফ ও রাওঈ দুজন একই ব্যক্তি।
তাই আল আলবানীর মতে আসলে দারাকুতনী তাঁকে রাওহ বিন গুতাইফ মনে করেছিলেন।
আয যাহাবী এখানে উল্লেখ করেন, আমার মনে হয় ইনি অন্য কেউ。
আল আলবানী বলেন, বুখারী, ইবনু আবী হাতিম ও অন্যরাও এদের (অর্থাৎ দুই গুতাইফের) পার্থক্য করেছেন, যে কারণে আল বুখারী এ দুজনকে আলাদাভাবে বর্ণনা করেছেন। বুখারী বলেন, রাওহ বিন গুতাইফ আস সাকাফী উমার বিন মুসআব থেকে বর্ণনা করেন। রাওই থেকে বর্ণনা করেন মুহাম্মাদ বিন রাবীআহ। তিনি মুনকারুল হাদীস。
আমি বলছি আমাদের আলোচিত গুতাইফের বর্ণনা আলাদাভাবে আছে। এখানে বুখারী আমাদের আলোচিত হাদীষটিও লিপিবদ্ধ করেন।
এ থেকে পরিষ্কার যে দুই গুতাইফ কোন অবস্থাতেই এক নন। আর গুতাইফও রাওই নন। তাঁদের বর্ণনাতে ছাত্রদেরও বুখারী আলাদারূপে বর্ণনা করেছেন।
আল আলবানী আরো বলেন, রাওহকে (রাওহ বিন গুতাইফ বিন আবী সুফইয়ান আস সাকাফী নামে) ইবনু হিব্বানও আদ-দুআফা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন。
ইবনু আবী হাতিম বলেন, রাওহ বিন গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আল জাযারী যুহরী ও আম্র থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। তেমনি মুসআব বিন যুবাইর থেকেও। তাঁর থেকে রিওয়ায়াত করেছেন আব্দুস সালাম বিন হারব্ব ও কাসিম বিন মালিক আল মুযনী ও মুহাম্মাদ বিন রাবীআহ। আমি আমার পিতা (আবূ হাতিম)-কে বলতে শুনেছি (রাওহ) লাইসা বিল কাওয়ী। সে অনেক বেশী মুনকারুল হাদীস。
কিন্তু আল আলবানী বলেন, “আবূ হাতিম রাওহের দাদা হিসেবে আ'ইয়ান আল জাযারীর নাম উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়টি মাহফুয নাকি আমি জানি না। আমি এটি আর কারো কাছে দেখিনি।" একই সাথে তাঁর বক্তব্য "আব্দুস সালাম বিন হারব্ব তাঁর থেকে রিওয়ায়াত করেছেন” অংশটি (অর্থাৎ এ ব্যাপারেও সন্দেহ পোষণ করেন আল আলবানী। বাকি সব কথা বুখারী ও অন্যদের অনুরূপ।"
আল আলবানী এর পর আদ-দারাকুতনীর গুতাইফ ও রাওই নিয়ে সংশয়ের কারণ হিসেবে দিরহামের হাদীস আনেন ইলালুদ দারাকুতনী থেকে। সেই হাদীস্মটি নিম্নরূপ:
আদ দারাকুতনীকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো আবূ হুরাইরাহ হতে আবূ সালামাহর রিওয়ায়াতে "কাপড়ে এক দিরহাম পরিমাণ রক্ত থাকলে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে" হাদীসের সম্পর্কে। তিনি বলেন, এই হাদীস্বটি রাওহ বিন গুতাইফ বর্ণনা করেন যুহরী হতে। কিন্তু তাঁর ব্যাপারে ইখতিলাফ রয়েছে। কাসিম বিন মালিক আল মুযানী বলেন, তা রাওহ বিন গুতাইফ হতে যা যুহরী হতে। এদিকে আসাদ বিন আম্র আল বাজালী বলেন, তা গুতাইফ বিন আত ত্বাইফী হতে যা যুহরী হতে। আর তিনি রাওহ বিন গুতাইফ, কাসিম বিন মালিক যেভাবে বলেছেন। আর রাওই দাঈফ। আর এ হাদীস্বটি যুহরী থেকে জানা নেই।
আল আলবানী বলেন, এখানে অত্যন্ত শক্ত ইশারাহ আছে যে দিরহামের হাদীসের রাবী হচ্ছেন রাওহ বিন গুতাইফ। তিনি গুতাইফ বিন আ'ইয়ান নন। রাওহ নিজে দাঈফ। আর আসাদ বিন আম্র ভুল করে রাওহের স্থানে গুতাইফ বলে ফেলেছেন। আর আদ-দারাকুতনী নিজেই এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তাঁর সুনানে। সেখানে তিনি আল কাসিম বিন মালিকের এই রিওয়ায়াতের শেষে বলেন, রাওহ বিন গুতাইফ নামের ব্যাপারে আসাদ বিন আম্র উল্টিয়ে তাঁকে গুতাইফ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ওয়াহম হয়েছিলো।
আমি আবূ হাযম বলছি সানাদটি নিম্নরূপ:
আবূ আবদুল্লাহ আল মুআদ্দাল আহমাদ বিন আমর বিন উসমান আম্মার বিন খালিদ আত-তাম্মার আল-কাসিম বিন মালিক আল মুযানী রাওহ বিন গুতাইফ যুহরী আবূ সালামাহ আবূ হুরাইরা
আমি আবূ হাযম বলছি, পরের হাদীসটি আসাদ বিন আমরের বর্ণিত হাদীস যার সানাদটি নিম্নরূপ:
আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ ইয়া'কূব বিন ইউসুফ বিন যিয়াদ ইউসুফ বিন বুহলুল আসাদ বিন আমর গুতাইফ আত তায়িফী যুহরী আবূ সালামাহ আবূ হুরাইরা
আমার দৃঢ় মত হচ্ছে, উপরের দুই সানাদে দেখবেন গুতাইফ ও রাওহ উভয়েই আয যুহরী থেকে রিওয়ায়াত করলেও তাঁদের ছাত্র আগে বর্ণিত গুতাইফ থেকে আলাদা। তাই দুই গুতাইফ এক ব্যক্তি হতেই পারে না!
আল আলবানীও বলেন, এই তাহকীক এ কথাই বায়ান করে:
১। গুতাইফ বিন আ'ইয়ান ও রাওহ বিন গুতাইফ এক ব্যক্তি নন।
২। এই রাওহকেই বরং আদ-দারাকুতনী তাদঈফ করেছেন, হাফিয ইবনু হাজার যা তাঁর থেকে নকল করেছেন তা নয়। আর আল কাশিফে “তাঁকে কিছু লোক তালইয়িন করেছেন” বলে আসলে আদ দারাকুতনীর দিকে নির্দেশ করেছেন। কিন্তু তিনি আসলে রাওহকে তালইয়িন করেছেন, যেভাবে আমি জেনেছি।”
আয যাহাবী আল কাশিফের ৪৪২৮ নম্বরে গুদাঈফ বিন আবী সুফইয়ান আত ত্বাঈফীর নাম করে তাঁর সম্পর্কে বলেন, ওয়ুথথিকা বা তাঁকে তাওসীক করা হয়েছে। আর গুতাইফ বিন আ'ইয়ান সম্পর্কে ৪৪২৯ নম্বরে বলেন, তাঁকে কেউ কেউ লাইয়িন করেছেন。
অর্থাৎ আল কাশিফে আয যাহাবীর বর্ণনাতেও আসলে কিছু হযবরল কান্ড আছে। তাঁর এই লাফয ওয়ুস্বষিকাহ শব্দটি নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে বিতর্কের শেষ নেই। তবে এখানে নিশ্চিতভাবে আমরা জানি এই দুই জনের মাত্র একজনের তাওসীক আছে আর তা হচ্ছে গুতাইফ বিন আ'ইয়ানের ব্যাপারে, আর তা ইবনু হিব্বান থেকে। অর্থাৎ আয যাহাবী একজনের তাওস্বীক আরেকজনের উপর আবার সেই জনের তাদঈফ অপর জনের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। আর আল কাঁশিফে রাওই বিন গুতাইফের কোন নামই উল্লেখ করেননি। অর্থাৎ তিনি গুতাইফ বিন আ'ইয়ানকে তিনি রাওই ধরে নিয়ে তাঁর উপর তাদঈফ চাপিয়ে দিয়েছেন। অথচ ইবনু হিব্বান অত্যন্ত পরিষ্কার করে গুতাইফ বিন আ'ইয়ান নাম নিয়েছেন। আয যাহাবী এই দুইজনের আলোচনায় ভুল করে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। ওয়াল্লাহুল মুসতাআন।
আমার মতে, আল আলবানী ইবনু হিব্বানের আত স্নিকাত গ্রন্থ থেকে যে হাওয়ালাটি উল্লেখ করেছেন, জাহালাহ উঠানোর জন্য তাই যথেষ্ট। ইবনু হিব্বানের কিতাবে গুতাইফকে তিনি তাঁর শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেন, কেননা তিনি তাঁর নাম সরাসরি উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু হিব্বান তাঁর কিতাবের শুরুতেই উল্লেখ করেছেন, তাঁর গ্রন্থে শুধু স্নিকাহরা উল্লিখিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, আল মুআল্লিমী ইবনু হিব্বানের আস্ত্র স্নিকাত গ্রন্থের ব্যক্তিদের ব্যাপারে আলোচনায় বলেন যে, গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মর্তবা অর্থাৎ ইবনু হিব্বানের শিক্ষকেদের ব্যাপারে তাঁর তাওসীক নির্দ্বিধায় গ্রহণযোগ্য।
ইবনু হাজার বলেন, মুসআব বিন সা'দ স্নিকাহ। ইবনু হিব্বان তাঁকে তাঁর কিতাবে তাওসীক করেছেন। ইবন সা'দ বলেন, তিনি স্নিকাহ কাসীরুল হাদীস্ত্র。
হুসাইন বিন ইয়াযীদ আল কুফীর কারণে এই সানাদটি দ্বারা কোন হুজ্জাহ হবে না।
দ্বিতীয় হাদীস:
আত তাবারীতে বর্ণিত অপর হাদীসটির সনদ এরূপঃ
— সাঈদ বিন আম্র আস-সাকুনী — বাকিয়্যাহ — কায়স বিন রাবী — আবদুস সালাম বিন হারব আন নাহদী — গুদাইফ — মুসআব বিন সা'দ — আদী বিন হাতিম
সাঈদ বিন আম্র আস সাকুনী আল হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম বলেন, তিনি সাদূক。
বাকিয়্যাহ বিন ওয়ালীদ সম্পর্কে আবু হাতিম বলেন, তাঁর হাদীস লেখা হয় কিন্তু তা দিয়ে হুজ্জাহ দেয়া হয়না। কিন্তু বাকিয়্যাহ মুদাল্লিস ছিলেন। ইবনু হাজার তাঁকে চতুর্থ মার্তাবাতে উল্লেখ করে বলেন, তিনি দাঈফ, মাজহুলদের থেকে প্রচুর তাদলীস করতেন। আর আলিমগণও তাঁকে এমন দোষে দুষ্ট করেছেন। আবু দুমাইনী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। কিন্তু যুবাইর আলী যাঈ তাঁর সাথে ইখতিলাফ করে তাঁকে তৃতীয় মর্তবার উল্লেখ করেছেন। আর আমিও তাঁর সাথে একমত।
কায়স বিন আর রাবী কে অনেকে মানুষ তাদঈফ করেছেন。
এই হাদীসটি এই সানাদে দাঈফ।
তৃতীয় হাদীস:
ইব্রাহীম - মালিক বিন ইসমাঈল - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম
ইবনু হাজার বুখারীকে মুদাল্লিসের প্রথম তাবাকাতে রাখলেও যুবাইর আলী বলেন, বুখারী একেবারেই মুদাল্লিস ছিলেন না। সুতরাং এ সংক্রান্ত সকল দাবী বাতিল।
এই সানাদে ইবরাহীম হচ্ছেন ইবরাহীম বিন ইয়া'কূব বিন ইসহাক আল জুযজানী।
ইবনু হাজার বলেন, ইবরাহীম বিন ইয়া'কুব বিন ইসহাক আল জুযজানী স্নিকাহ হাফিয, কিন্তু তাঁকে নাসিবী হিসেবে দোষারোপ করা হয়।
ইবনু হিব্বان বলেন, তিনি হারীযী মাযহাবের (হারীযী বিন উসমান আন নাসিবী) ছিলেন কিন্তু দাঈফ ছিলেন না। তিনি সুন্নাতের উপর অটল ছিলেন হাদীসে হাফিয ছিলেন। আদ-দারাকুতনী বলেন, তিনি মুসান্নিফ হুফফায মুখাররিজ স্নিকাহদের একজন ছিলেন, কিন্তু তাঁর আলী বিন আবী তালিবের ব্যাপারে ইনহিরাফ ছিলো。
যাই হোক, গাইরু দাঈফ সত্যবাদী মুবতাদি'র হাদীস গ্রহণযোগ্য। ইবনু হাজারের বক্তব্য সঠিক।
ইবনু হাজার বলেন, মালিক বিন ইসমাঈল আন নাহদী স্নিকাহ মুতকিন সাহীহুল কিতাব আবিদ।
আব্দুর রাহমান বিন আবী হাতিম বলেন, ইয়াহয়া বিন মাঈন বলেছেন, কুফাতে তাঁর মত মুতকিন আর কেউ নেই। ইবনু নুমাইর বলেন, মালিক মুহাদ্দিসদের ইমামদের একজন। আবূ হাতিম বলেন, তিনি স্নিকাহ মুতকিন। ইবনু হিব্বান তাঁকে তাওষীক করেছেন。
এই সানাদে আব্দুস সালাম গুতাইফ থেকে হাদ্দাসানা দিয়ে বর্ণনা করেছেন। তাই তাঁর মুদাল্লিস হওয়ার বিষয়টি এখানে কোন সমস্যা নয় ইনশা আল্লাহ্।
এই সানাদটি উত্তম ও হাসান ইনশা আল্লাহ্।
চতুর্থ হাদীস:
(আলী বিন আবদুল আযীয - আবূ গাস্লান মালিক বিন ইসমাঈল - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আল-জাযীরার অধিবাসী - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম ইবনুল আসবাহানী - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আল-জাযীরার অধিবাসী - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম আবূ হুসাইন আল কাদী - ইয়াহইয়া আল হিম্মানী - আব্দুস সালাম বিন হারব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান আল জাযীরার অধিবাসী - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম
আবূ হাতিম বলেন, আলী বিন আব্দিল আযীয সাদূক ছিলেন। আদ দারাকুতনী বলেন, তিনি স্নিকাহ মা'মূন। আবু বকর আস সুন্নি বলেন, আন নাসায়ী তাঁর ব্যাপারে সম্পদের বিনিময়ে এমনকি দরিদ্রের সামান্য সম্পদের বিনিময়ে হাদীস রিওয়ায়াত করতে দেখার কথা বলেছেন।
আয যাহাবী একই কিতাবে বলেন, তিনি হাসানুল হাদীস। আবার আল মীযানে বলেন, তিনি স্নিকাহ, কিন্তু হাদীস বর্ণনার বিনিময় চাইতেন, কিন্তু তাঁকে এই বলে ওজর দেওয়া হয় যে, তাঁর এ বিষয়ে অভাবগত চাহিদা ছিলো。
ইবনু হাজার বলেন, ইবনু আইমানকে জিজ্ঞেস করা হলো, এমন কারণে কি তাঁর উপর ঈব অর্পণ করা হবে কিনা। তিনি বললেন, না, বরং তাঁদের কাছে ঈব তো হচ্ছে মিথ্যা বলা আর ইনি ছিলেন স্নিকাহ।
সুতরাং তাঁর ঈব হচ্ছে তিনি হাদীসের বিনিময় চাইতেন, কিন্তু তাঁকে এই বলে ওজর দেওয়া হয়, তাঁর এ বিষয়ে অভাবগত চাহিদা ছিলো। আর শুধু এ কারণেই তাঁর হাদীসকে বাদ দেওয়া যাবে না। সুতরাং তিনি হাসানুল হাদীস ইনশা আল্লাহ্, ঠিক যেমনটি আয যাহাবী বলেছেন।
অর্থাৎ আমাদের কাছে প্রথম সানাদটি হাসান ও সকল তাওফীক্ব আল্লাহ্র।
দ্বিতীয় সানাদে ইবনুল আসবাহানী হচ্ছেন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল আসবাহানী। আবু হাতিম তাঁর তাওসীক করেন। তাঁকে আরো অনেকে তাওসীক করেছেন。
সুতরাং এ সানাদটিও আমাদের কাছে হাসান।
ইয়াহয়া আল হিম্মানীর সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদীস চুরি করতেন। তিনি আরো বলেন, তিনি জনসম্মুখে মিথ্যা বলতেন ও লোকেরা তাঁর (মিথ্যুক হওয়ার) ব্যাপারে একমত। আল-জুযজানী বলেন, তাঁর হাদীসকে তরক করা হয়। তাঁকে উলামাদের একটা বড় অংশ তাদঈফ করেছেন কিন্তু তিনি আসলে মাতরূক যেমনটি আহমাদ বলেছেন। সুতরাং তৃতীয় সানাদটি মাওদ্'।
পঞ্চম হাদীস:
ইব্রাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন ইব্ৰ্ক আল হিম্মসী - মুহাম্মাদ বিন মুসাফা - বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ - কায়স ইবনুর রাবী' - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ বিন আ'ইয়ান - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম
কিন্তু এই সানাদে কায়স ও বাকিয়্যাহর আনআনাহ বিদ্যমান। সুতরাং এ সানাদটিও দাঈফ।
ষষ্ঠ হাদীস:
আলী বিন আহমাদ বিন আবদান - আহমাদ বিন উবায়দ - ইবনু আবু কুমাশ - সাঈদ বিন সুলায়মান - আব্দুস সালাম বিন হার্ব - গুতাইফ আল জাযারী - মুসআব বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম
খত্বীব আল বাগদাদী বলেন, আলী বিন আহমাদ বিন আবদান বিন মুহাম্মাদ আল আহওয়াযী স্নিকাহ। আহমাদ বিন উবায়দ বিন ইসমাঈল আবুল হাসান মিকাহ স্বাক্ত। মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন আস সাকান, যিনি ইবনু আবী কুমাশ বলে পরিচিত, তিনি স্নিকাহ, সাঈদ বিন সুলাইমান আল ওয়াসিতী মিকাতুন মা'মুনুন।
সাঈদের লাকাব ছিলো সা'দুওয়াইহ যাকে ইবনু হাজার স্নিকাহ হাফিয বলেছেন।
আহমাদ বিন হাম্বাল তাকে তাসহীফকারী বললেও ইবনু হাজার সেটিকে অসাব্যস্ত বলে নাকচ করেছেন।
আদ দারাকুতনী বলেন, লোকেরা সা'দুওয়াইহর সমালোচনা করেছেন।
ইবনু হাজার বলেন, এ তালয়ীন করার কারণ অস্পষ্ট, যা অগ্রহণযোগ্য। বুখারী তাঁর থেকে অধিক রিওয়ায়াত না করলেও বুখারী ও প্রমুখগণ তাঁর ও তাঁর ছাত্র থেকে রিওয়ায়াত করেছেন।
ইবনু হাজার আরও বলেন, বুখারী তাঁর থেকে সর্বমোট পাঁচটি হাদীস রিওয়ায়াত করলেও একটি হাদীস্নেও তাফাররুদ করেননি।
ইবনু সা'দ তার তাওসীক করে বলেন, তিনি অধিক হাদীস্ব বর্ণনা করতেন।
আব্বাস বিন মুহাম্মাদ বিন হাতিম আদ দাউরী ইয়াহয়াকে প্রশ্ন করেন, আমি কি তাঁর সকল রিওয়ায়াত নিতে পারব? তিনি তাতে ইতিবাচক সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
যাই হোক, আমার মনে হয় বুখারীর শিক্ষক সাঈদের অধিক হাদীস বর্ণনার কারণে সামান্য কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি হতেই পারে। ইবনু হাজার তাঁর ব্যাপারে আহমাদের জারকে অমূলক বললেও আহমাদ যাকে তাসহীফ মনে করেছিলেন তা সাঈদের এসকল ভুল বলেই আমাদের ধারণা। আল্লাহু আ'লাম। নতুবা বুখারীতে তাসহীফ করা কোন রাবী নেই। আর কেই বা একেবারেই ত্রুটিমুক্ত? আমি আশা করি, সাঈদ কমপক্ষে হাসানুল হাদীস, আর তাই এ সানাদটিও হাসান ইনশা আল্লাহ্।
সংশয় নিরসন: তিরমিযী কি গুতাইফকে মাজহুল বলেছেন?
আল আলবানী বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে, তিরমিযী তো গুতাইফ (বিন আ'ইয়ান) কে গাইর মা'রুফ হিসেবেই বললেন, তাহলে কিভাবে এই হাদীসকে তিনি হাসান হিসেবে উল্লেখ করলেন?
এর জবাবে তিনি বলেন, উল্লিখিত তাহসীন তিরমিযীর শামায়িলের নয় বরং তা হাফিয ইবনু হাজারের তাখরীজুল কাশশাফ ও আস সুয়ূতীর আদ দুররুল মানসুর গ্রন্থে। (আলবানীর বক্তব্য)
আমি আবূ হাযম বলছি, এই বইটির পুরো নাম الكافي الشافي في تخريج أحاديث الكشاف যা এখনো মাখতৃত আকারে রয়ে গিয়েছে। আমি দেখেছি সেখানে শায়খ ইবনু হাজার তিরমিযীর এই বক্তব্যে গরীব শব্দের আগে হাসান উল্লেখ করেন। সে ক্ষেত্রে তিরমিযী তাঁর সুনানে গুতাইফকে মাজহুল বলে এই হাদীসের তাদঈফ করেছেন – ধারণাটি সঠিক নয়। বরং গুতাইফের গাইর মা'রুফ হওয়ার বর্ণনাটি হাদীসটির সানাদের ব্যাপারে একটি তথ্য ছিলো মাত্র। এই হাদীসের ব্যাপারে তিরমিযীর হুকুম প্রকাশ পেয়েছে আল কাফী আশ শাফ গ্রন্থেই, আর তাতে হাদীসটিকে হাসান বলেই উল্লেখ করেছেন।
আস সুয়ূতীও তিরমিযীর এই হাদীসের তাহসীন উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া আল আলবানী বলেন, হয়তো আবুল বাখতারী শাহেদ হিসেবে যা রিওয়ায়াত করেছেন সে কারণেও তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলে থাকতে পারেন। এই রিওয়ায়াতটি আব্দুর রাযযাক তার আত তাফসীর গ্রন্থে (১/২৭২) ও আত তাবারী ও বায়হাকী তাঁদের সুনানে, ইবনু আব্দিল বার তার জামে' বায়ানুল ইলম (২/১০৯) গ্রন্থে এবং আশ শু'ব (৭/৪৫) এ উল্লেখ করেছেন। আল আলবানী বলেন, সানাদটি সাহীহ কিন্তু মুরসাল। কেননা, আবুল বাখতারী সাঈদ বিন ফাইরুষ বলেন যে তা হুযাইফাহ হতে মুরসাল রূপে।
আমি আবু হাযম বলছি এই আস্নারটির সানাদ দু'টি এরূপ:
* আবূ যাকারিয়্যা বিন আবূ ইসহাক- আবূ আবদুল্লাহ বিন ইয়া'কূব - মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব - জা'ফার বিন আওন - আ'মাশ - আবুল বাখতারী আবু তাহের আল ফাকীহ - আবূ বাক্স আল-কাত্তান - আলী ইবনুল হাসান আল হিলালী - তাল্ল্ফ বিন গান্নাম- যায়েদাহ – আ'মাশ - হাবীব - আবুল বাখতারী
এই সানাদটি মাওকূফ বলে এর পূর্ণ তাহকীক এই আলোচনায় নিষ্প্রয়োজন বলে মনে করছি। তথাপিও এর সকল তারীকাতে আ'মাশের উপস্থিতি রয়েছে যার তাদলীসের ব্যাপারে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আর এ সানাদটির আর কোন তারীকাহ নেই বলে, এর সাহীহ হওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ওয়াল্লাহু আ'লাম।
আল আলবানী ইবনু হাজারের বরাতে বলেন, ইবনু মারদাওয়ী আরেকটি তারীকাহ আদী বিন হাতিম থেকে আতা' বিন ইয়াসার বর্ণনা করেছেন।
কিন্তু আফসোসের বিষয় ইবনু মারদাওয়ীর এই তাফসীরটি মাফকূদ! তবে মারদাওয়ীর তাফসীরটি থেকে আয যাইলাঈ নিচের সানাদটি বর্ণনা করেন।
ইবনু মারদুওয়াইহ ← ইমরান আল কাত্তান ← খালিদ আল আবদী সাফওয়ান বিন সালীম ← আতা' বিন ইয়াসার ← আদী বিন হাতিম
ইবনু হাজার বলেন, ইমরান বিন দাওয়ার আল কাত্তান সাদৃক কিন্তু ওয়াহম করতেন ও তাঁর সম্পর্কে বলা হয় তিনি খাওয়ারিজের মত রাখতেন。
আমি আবূ হাযম বলছি, প্রথমত এই সানাদটি মুআল্লাক। কেননা ইবনু মারদাওয়ীত্র শায়খ ইমরান নন! অর্থাৎ এই সানাদের কোন হুকুম হবে না। তাই আমি এখানে তুলনামূলক হালকা তাহকীক করব্ব ও মুতাআখখিরদের বইয়ের হাওয়ালা দিয়ে শেষ করব্ব ইনশা আল্লাহ্।
ইমরানকে আন নাসাঈ ও আবূ দাউদ তাদঈফ করেছেন। ইবরাহীম বিন আব্দিল্লাহ বিন হাসানের সময় তিনি (ইমরান) সাংঘাতিক ফতোয়া দেন যাতে রক্তপাতের নির্দেশ ছিলো। ইয়াযীদ বিন যুরাই' বলেন, তিনি হারুরী ছিলেন ও তিনি তরবারি দেখেছিলেন (অর্থাৎ তাঁকে সরকার কর্তৃক আটক করা হয়)। কিন্তু আব্বাস বিন ইয়াহয়া বলেন, তিনি এই মতের দাঈ ছিলেন না。
তিরমিযী বুখারীর কওল নকল করে বলেন, তিনি সাদৃক ছিলেন। দারাকুতনী বলেন, তাঁর প্রচুর মুখালাফাহ ও ওয়াহম ছিলো。
আমার ধারণা এই সানাদটিতে আরও কিছু সমস্যা বিদ্যমান। ইমরান বিন দাওয়ারের একজন মাত্র শিক্ষকের নাম খালিদ, আর তিনি হচ্ছেন খালিদ বিন আবী আবদিল্লাহ। কিন্তু তাঁর পরিচয় নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা আছে।
তাহযীবুল কামালে সাফওয়ান বিন সুলাইমের কোন ছাত্র পেলাম না যার নাম খালিদ।
যাই হোক, শুধু নাম মেলার কারণে ইনি হয়তো খালিদ বিন আবদির রাহমান আল আবদী, যদিও ইবনু হাজার তাঁকে মাজহুল বলেছেন।
ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করতেন। তিনি হাদীস চুরি করতেন ও মানুষের কিতাব থেকে রিওয়ায়াত করতেন - যাদেরকে তিনি শোনেনই নি।
আদ দারাকুতনী বলেন, তাঁর হাদীসে কিছু দা'ফ আছে, কিন্তু তিনি মাতরূক নন।
আল আলবানী বলেন, এ সকল তারীকাহ মিলিয়ে হাদীসটি হাসান ইনশা আল্লাহ্।
তবে আয যাইলাঈ উল্লেখ করেন, এই হাদীসটি আছে আল ওয়াকীদীর কিতাবুর রিদ্দাহতে। কিন্তু এই আল ওয়াকীদী হচ্ছেন মুহাম্মাদ বিন উমার বিন ওয়াক্বীদ আল আসলামীকে ইবনু হাজার বলেছেন মাতরূক।
আবু হাতিম ও ইয়াহয়া ইবনু মাঈন একে মাতরুক বলেছেন।
আয যাইলাঈ আরও বলেন, একই হাদীস আছে ইবনু সা'দের আত তাবাকাত গ্রন্থে। এর সানাদটি নিম্নরূপ:
মুহাম্মাদ বিন উমার - আবূ মারওয়ান - আবান বিন সালিহ আমির বিন সা'দ - আদী বিন হাতিম (রাঃ)।
কিন্তু ইবনু সা'দের শায়খ মুহাম্মাদ বিন উমার কাযযাব, মাতরুক। আগের সানাদে আলোচনা করেছি।
আয যাইলাঈ এ হাদীসটিকে মুসনাদ ইবনু আবী শায়বাহতে থাকার দাবী করলেও আমি তা খুঁজে পাইনি।
খুলাসাহ:
গুতাইফের বিরুদ্ধে একমাত্র অভিযোগ তাঁর মাজহুল হওয়া, যদিও তিনি ইবনু হিব্বান তাঁর আষ স্নিকাত গ্রন্থে তাঁকে তাঁর শায়খ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সাথে আরেকটি সমস্যা আদ দারাকুতনী কর্তৃক নামের তালগোল পাকিয়ে তাঁকে দাঈফ রাবী রাওই বলে ধরে নেওয়া। সুতরাং যারা ইবনু হিব্বানের সকল প্রকার একক তাওস্বীক মেনে নেবে, তাঁদের জন্য হাদীস্বটি এখানেই হাসান লি যাতিহি হিসেবে গণ্য হবে। অপরপক্ষে যারা ইবনু হিব্বানের একক তাওসীক মেনে নেবেন না, কিন্তু হাসান লি গাইরিহির কায়িদাহতে বিশ্বাস করেন ও আ'মাশের আনআনাতে অস্বস্তিবোধ করেন না তাঁরা রিওয়ায়াতটিকে হাসান লি গাইরিহী হিসেবে মনে করতে পারেন।
কিন্তু আমরা বলি, সকল তাওফীক আল্লাহ্, গুতাইফ ইবনু হিব্বানের শায়খ ছিলেন ও এক্ষেত্রে তাঁর তাওসীক আল মুআল্লিমীর পূর্বে বর্ণিত কায়িদাহর কারণে গ্রহণযোগ্য। সুতরাং এই হাদীস্বটি আমাদের কাছে হাসান লি যাতিহী ইনশা আল্লাহ।
২৭ সফর ১৪৪২ হিজরীতে আমি এ তাহকীকের কাজটি সম্পন্ন করলাম। আল-হামদু লিল্লাহ। আবূ হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী, পূর্ব-লন্ডন, যুক্তরাজ্য।
টিকাঃ
742 সূরা আত্-তাওবাহ ৯ : ৩১
743 তিরমিযী ৩০৯৫
744 আনওয়ারুস সাহীফাহ ২৮১
745 তাকরীব ৫৩৬৪
746 তাফসীর আত তাবারী ১০/৮১
747 প্রাগুক্ত ১৪/২০৯ রিওয়ায়াত ১৬৬৩১
748 তাকরীব ১৩৬১
749 আত স্নিকাত ৮/১৮৮, নং ১২৯০৭
750 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৩/৬৭, নং ৩০৪
751 তাকরীব ৪০৬৭
752 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৬/৪৭, নং ২৪৬
753 তারীখ ইবনু মাঈন - রিওয়ায়াহ ইবনি মাহরিয ১/১০৭
754 ফাতহুল বারী ১/৪২০
755 সাহীহুল বুখারী ৫৩৪২
756 তাকরীব ৫৪০১
757 সাহীহুল বুখারী ৪৩৮৫
758 আল-ইজলী কৃত কিতাবুত মিকাত তাবআহ আল বায ৩০৩ নং ১০০১
759 তারীখ আল কাবীর ৬/৬৬, নং ১৭২৯
760 আত-তাবাকাতুল কুবরা তাবআহ দার সাদির ৬/৩৮৬
761 তারীখুল ইসলাম ৪/৯১০, নং ২১৪
762 নাসলুন নাবাল বিমু'জামির রিজাল ২/৩১৫-৩১৬, নং ২০১০
763 তারীখ ইবনু মাঈন - রিওয়ায়াতু ইবনি মাহরিয ২/২২৩
764 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল আবদুল্লাহর রিওয়ায়াত) ৩/৪৮৫, নং ৬০৭৬
765 'আস স্নিকাত ৭/৩১১ রাবী ১০২২৪
766 তাকরীব ৫৩৬৪
767 আদ দুআফা ওয়াল মাতরূকীন ৩/১২৭, আব্দুর রাহীম মুহাম্মাদ কাশমাকরী ৪২৯
768 প্রাগুক্ত ৪৩০
769 মীযানুল ই'তিদাল ৩/৩৩৬, নং ৬৬৬৮
770 আত তারীখুল কাবীর ৩/৩০৮, নং ১০৪৭
771 প্রাগুক্ত ৭/১০৬ নং ৪৭১
772 আল-মাজরূহীন ১/২৯৮ নং ৩৪৩
773 আল জার্হ ওয়াত তা'দীল ৩/৪৯৫, নং ২২৪৫
774 ইলালুদ দারাকুতনী ৮/৪৩, নং ১৪০২
775 সুনান আদ-দারাকুতনী ২/২৫৭, নং ১৪৯৪
776 সুনান আদ দারাকুতনী ২/২৫৭, নং ১৪৯৫
777 আল কাশিফ ২/১১৭, নং ৪৪২৮ ও ৪৪২৯
778 আস স্নিকাত ১/১১
779 আত তানকীল, শায়খ আল আলবানীর তাহকীকে) ১/৪৩৮
780 তাকরীব ৬৬৮৮
781 আত স্নিকাত ৫/৪১১, নং ৫৪৫৫
782 আত তাবাকাতুল কুবরা ২/১২৯, নং ৭০৮
783 তাফসীর আত তাবারী ১৪/২১০-২১১, রিওয়ায়াত ১৬৬৩৩
784 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৪/৫১, নং ২২০
785 তাকরীব ৭৩৮
786 আল জারই ওয়াত তা'দীল ২/৪৩৫
787 তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন পৃষ্ঠা ৪৯, নং ৪/১১৭
788 আত তাদলীস ক্রম ৪/১৬৫
789 আল ফাতহুল মুবীন, ২৯ নং ৪/১১৭ হাশিয়াহ
790 আবু যুরআহর কিতাবুদ দুআফা ২/৬৫০, নং ২৭২, ইবনু হিব্বানের আল মাজরূহীন ২/২১৬, নং ৮৮৭
791 আত তারীখুল কাবীর বিল হাওয়াশী মাহমূদ খালীল ৭/১০৬, হাদীষ ৪৭১
792 আল ফাতহুল মুবীন ক্রম ১/২৩, পৃষ্ঠা ২৭-২৮ হাশিয়াহ
793 তাকরীব ২৭৩
794 আস-সিকাত ৮/৮১, নং ১২৩৩৭
795 সুআলাত আস-সুল্লামী লিদ দারাকুতনী ৩২৯-৩৩০, নং ৪১৯
796 তাকরীব ৬৪২৪
797 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৮/২০৬, নং ৯০৫
798 আত স্নিকাত ৯/১৬৮, নং ১৫৭৯৫
799 আল মু'জামুল কাবীর ১৭/৯২, নং ২১৮
800 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৬/১৯৬, নং ১০৭৬
801 সুআলাত আস সিলমী লিদ দারাকুতনী ২০৯, নং ২১৪
802 সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' ১৩/৩৪৯, নং ১৬৪
803 মীযানুল ই'তিদাল ৩/১৪৩, নং ৫৮৮২
804 লিসানুল মীযান ৪/২৪১, নং ৬৪৮
805 আল জারহ ওয়াত তা'দীল ৭/২৬৫, নং ১৪৪৭
806 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল আব্দুল্লাহর রিওয়ায়াত ৩/৪১, নং ৪০৭৯
807 প্রাগুক্ত ৩/৪০, নং ৪০৭৬
808 কিতাবু আহওয়ালির রিজাল ১৩৬, নং ১১৫
809 আল মু'জামুল কাবীর ১৭/৯২, নং ২১৮
810 আস সুনান আল কুবরা ১০/১৯৮, নং ২০৩৫০
811 তারীখ বাগদাদ ১৩/২৩২, নং ৬১০৮
812 প্রাগুক্ত ৫/৪৩৩, নং ২২৭১
813 তারীখ বাগদাদ ৩/৬৯৯, নং ১১৮৭
814 আল জার্ই ওয়াত তা'দীল ৪/২৬, নং ১০৭
815 তাকরীব ২৩২৯
816 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল আব্দুল্লাহর রিওয়ায়াত ১/৪২৭, নং ৯৪৪
817 ফাতহুল বারী ১/৪০৫
818 সু'আলাত আল হাকিম লিদ দারাকুতনী ২১৪, নং ৩৩২
819 ফাতহুল বারী ১/৪০৫
820 প্রাগুক্ত
821 আত তাবাকাতুল কুবরা ৭/২৪৪, নং ৩৫১৬
822 তারীখ ইবনু মাঈন রিওয়ায়াতুদ দাউরী ৪/৪০৪, নং ৪৯৯৫
823 তাখরীজুল কাশশাফ ৭৫/১০৮
824 আদ দুররুল মানসুর ৩/২৩০
825 আস সাহীহাহ ৭/৮৬৪ নং ৩২৯৩
826 https://bit.ly/34Xv2jB ও https://bit.ly/31824wb নম্বরসহ
827 ইবনু হাজারকৃত আল কাফী আশ শাফ পৃষ্ঠা ৭৫, নং ১০৮
828 আদ দুররুল মানসুর ফিত তাফসীর বিল মা'সূর ৪/১৭৪, নং ৩১
829 আস সুনান আল কুবরা ১০/১৯৮, নং ২০৩৫১
830 ইবনু হাজারকৃত আল কাফী আশ শাফ ৭৫, নং ১০৮
831 তাখরীজুল আহাদীস ওয়াল আমার আল ওয়ারিদাহ ফিল কাশশাফ ২/৬৬
832 তাকরীব ৫১৫৪
833 মীযানুল ই'তিদাল ৩/২৩৬, নং ৬২৮২
834 তাহযীবুত তাহযীব ৮/১৩২, নং ২২৬
835 তাহযীবুল কামাল ২২/৩২৮, নং ৪৪৮৯
836 প্রাগুক্ত ১৩/১৮৪, নং ২৮৮২
837 তাকরীব ১৬৫৩
838 আল মাজরুহীন ১/২৮০, নং ২৯৮
839 তা'লীকাত আদ দারাকুতনী আলাল মাজরূহীন লিবনি হিব্বান ৮৮, নং ৭৯
840 আয যাইলাঈর তাখরীজুল আহাদীস ওয়াল আসার আল ওয়ারিদাহ ফিল কাশশাফ ২/৬৬
841 তাকরীব ৬১৭৫
842 আল জারহ ওয়াত তা'দীল ৮/২০, নং ৯২
843 আয যাইলাঈর তাখরীজুল আহাদীস ওয়াল আসার আল ওয়ারিদাহ ফিল কাশশাফ ২/৬৬
844 আত তাবাকাতুল কুবরা তাবাকাতুর রাবিআহ – ৬৫১, নং ২৯৯