📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 তাহক্বীক্ব ১: আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) এর বর্ণনা

📄 তাহক্বীক্ব ১: আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) এর বর্ণনা


আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল হুলওয়ানী – সাঈদ বিন সুলায়মান – খালাফ বিন খালীফাহ – আল আলা’ ইবনুল মুসায়্যাব – মুসায়্যাব – আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তিনি তোমাদের সবাইকে নিশ্চিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, কেবল যে অস্বীকার করবে ও আল্লাহ্ থেকে সে উটের হারিয়ে যাওয়ার মত হারিয়ে যাবে, সে ব্যতীত। তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে প্রবেশ করতে কে অস্বীকার করবে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে আগুনে প্রবেশ করবে。
এই হাদীসটি আলা বিন আল মুসায়্যাব থেকে খালাফ বিন খালীফাহ ব্যতীত আর কেউ রিওয়ায়াত করেননি।

এই সনাদের খালাফ বিন খালীফাহ সাদূক, যিনি শেষ বয়সে ইখতিলাত করেছেন। আবূ হাতিম তাঁকে সাদৃক বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বাল যখন তাঁর সাথে দেখা করেন তখন তিনি বয়োঃবৃদ্ধ ছিলেন। লোকে তাকে বলতো: “ও আবু আহমাদ! আপনাকে মুহারিব হাদীস বর্ণনা করেছেন” এরপর বানিয়ে গল্প বলত আর তিনি তা সত্যায়ন করতেন। আহমাদকে তিনি খুব নিম্নঃস্বরে কিছু বললেন, কিন্তু আহমাদ তার কিছুই বুঝতে পারলেন না। তখন তিনি তাঁকে তরক করলেন ও তাঁর কাছ থেকে কিছুই লিখলেন না।

শুধু তাই নয়, আহমাদ তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে বলেন, সুফইয়ান বিন উয়াইনাহকে বলা হয়েছিলো, খালাফ বিন খালীফাহ এই দাবী করেন যে, তিনি আমর বিন হারিসকে দেখেছেন। সুফইয়ান বলেন, তিনি মিথ্যা বলেছেন। হয়ত তিনি জা'ফার বিন আমর বিন হারিসকে দেখেছেন।

এই সানাদটিতে তাঁর ছাত্র সাঈদ বিন সুলাইমান, ইবনু হাজার বলেন, তিনি স্নিক্বাহ হাফিয, কিন্তু তিনি আমার কাছে সাদৃক হাসানুল হাদীস (৬ নম্বর হাদীসে এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন)। ইবনু সাআদ বলেন, খালাফ মৃত্যুবরণ করেন ১৮১ হিজরীতে ও সে সময় খালফের বয়স ছিলো ৯০ বা এর ধারে কাছে। আর সাঈদ মৃত্যুবরণ করেন ২২৫ হিজরীতে। আয যাহাবী বলেন, তিনি একশ বছর বেঁচে ছিলেন। অর্থাৎ তাঁদের মৃত্যুর ব্যবধান ৪৪ বছর। সে সময় সাঈদের বয়স ছিলো ৬৬。
আল মিযযী বলেন, তিনি প্রথমে কুফায় ছিলেন। পরে তিনি ওয়াসিত্ অঞ্চলে যান ও সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। এরপর তিনি বাগদাদে যান ও সেখানেই স্থায়ী হন। আর তাঁর মৃত্যু অবধি সেখানেই অবস্থান করেন।

ইবনু সা'দ বলেন, তিনি বাগদাদে উপনীত হন আর সেখানে ব্যবসায় রত হন। তার বাড়ী ছিল ইরাকের কারখে, আর তিনি সেখানেই ইনতিকাল করেন। অর্থাৎ সাঈদ ওয়াসিতের লোক হলেও থাকতেন বাগদাদে। উপরের তথ্য থেকে মনে হচ্ছে তাঁদের দুজনের দেখা বাগদাদে অর্থাৎ খালফের জীবনের শেষাংশে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। আল্লাহই ভালো জানেন। তবুও তাঁদের কখন দেখা হয়েছিল, সেটি আমরা একেবারে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আর সেটি বলতে না পারলে আমরা হাদীসটিকেও সাহীহ বলতে পারবো না।

খুলাসাঃ
খালাফ বিন খালীফাহ সাদৃশ শ্রেণীর কিন্তু এ বিষয়টি মূলতঃ তাঁর শেষ বয়সের ইখতিলাতের কারণে। কিন্তু তাঁর ইখতিলাতের পূর্বের বর্ণনা ও পরের বর্ণনার মধ্যে নিশ্চিত পার্থক্যকারী কোন ইঙ্গিত নেই। অনেক বড় হাদিস সংগ্রাহক তাঁর সাথে যখন দেখা করেন, তখন তিনি অনেক বয়োবৃদ্ধ ছিলেন। আর তিনি প্রচুর ভুলের মধ্যেও ছিলেন। এ কারণে তাঁরা তাঁকে পরিত্যাগ করেন। ফলে তাঁর পূর্বের ও পরের বর্ণনাগুলোর পার্থক্যকারী চিহ্নিত করা যায়নি। তাই তাঁর একক বর্ণনার হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়, তাঁর বর্ণনা কেবল শাহেদ বা মুতাবে' আকারেই গ্রহণযোগ্য। ঠিক যেমনটি আবু হাতিম বলেছেন।

এছাড়া তাবারানী নিজেই বলছেন, এই হাদিসটি এই তারীকাতে আলা বিন আল মুসাইয়্যাব থেকে খালাফ বিন খালীফাহ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি। অর্থাৎ এই তারীকাতে আর কোন শাহেদ বা মুতাবে' পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অর্থাৎ এই সানাদে এই হাদিসটি আসলে দাঈফ ইনশাআল্লাহ।

বুখারীতে অন্য সানাদে এ হাদিসটির মুতাবে' হাদিস (৭২৮০) বিদ্যমান যার মধ্যে খালাফ বিন খালীফাহ নেই। বুখারীর ইবারতে রয়েছে: وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى আর এটি সাহীহ। কিন্তু فَقَدْ أَبَى এর পরিবর্তে তাবারানীর হাদিসটিতে دَخَلَ النَّارَ উল্লেখ করা হয়েছে। যা খালাফ বিন খালীফাহ ব্যতীত অন্য কারো সানাদে পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ কারণেই হাদিসটিকে আমি দাঈফ বলে বিবেচনা করছি।

টিকাঃ
523 আল-মু’জামুল আউসাত: হা/৮০৮
524 তাকরীব: ১৭৩১
525 আল জারই ওয়াত তা’দীল: ৩/৩৬৯ নং ১৬৮১
526 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল ৩/১২৯, নং ৪৫৫৪
527 প্রাগুক্ত নং ৩য় খন্ড: ৪৪৫৮, ৫৬৫২, ৫৬৫৩, ৬০৩২
528 তাকরীব: ২৩২৯
529 আত তাবাকাতুল কুবরা ৭/২২৭ নং ৩৪২১
530 প্রাগুক্ত ৭/২৪৫ নং ৩৫১৬
531 সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/৪৮২ নং ১৫৭
532 তাহযীবুল কামাল ৮/২৮৫ নং ১৭০৭
533 আত তাবাকাতুল কুবরা: ৭/২৪৫ নং ৩৫১৬
534 তাকরীব: ২৩২৯

আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল হুলওয়ানী – সাঈদ বিন সুলায়মান – খালাফ বিন খালীফাহ – আল আলা’ ইবনুল মুসায়্যাব – মুসায়্যাব – আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তিনি তোমাদের সবাইকে নিশ্চিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, কেবল যে অস্বীকার করবে ও আল্লাহ্ থেকে সে উটের হারিয়ে যাওয়ার মত হারিয়ে যাবে, সে ব্যতীত। তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে প্রবেশ করতে কে অস্বীকার করবে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে আগুনে প্রবেশ করবে。
এই হাদীসটি আলা বিন আল মুসায়্যাব থেকে খালাফ বিন খালীফাহ ব্যতীত আর কেউ রিওয়ায়াত করেননি।

এই সনাদের খালাফ বিন খালীফাহ সাদূক, যিনি শেষ বয়সে ইখতিলাত করেছেন। আবূ হাতিম তাঁকে সাদৃক বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বাল যখন তাঁর সাথে দেখা করেন তখন তিনি বয়োঃবৃদ্ধ ছিলেন। লোকে তাকে বলতো: “ও আবু আহমাদ! আপনাকে মুহারিব হাদীস বর্ণনা করেছেন” এরপর বানিয়ে গল্প বলত আর তিনি তা সত্যায়ন করতেন। আহমাদকে তিনি খুব নিম্নঃস্বরে কিছু বললেন, কিন্তু আহমাদ তার কিছুই বুঝতে পারলেন না। তখন তিনি তাঁকে তরক করলেন ও তাঁর কাছ থেকে কিছুই লিখলেন না।

শুধু তাই নয়, আহমাদ তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে বলেন, সুফইয়ান বিন উয়াইনাহকে বলা হয়েছিলো, খালাফ বিন খালীফাহ এই দাবী করেন যে, তিনি আমর বিন হারিসকে দেখেছেন। সুফইয়ান বলেন, তিনি মিথ্যা বলেছেন। হয়ত তিনি জা'ফার বিন আমর বিন হারিসকে দেখেছেন।

এই সানাদটিতে তাঁর ছাত্র সাঈদ বিন সুলাইমান, ইবনু হাজার বলেন, তিনি স্নিক্বাহ হাফিয, কিন্তু তিনি আমার কাছে সাদৃক হাসানুল হাদীস (৬ নম্বর হাদীসে এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন)। ইবনু সাআদ বলেন, খালাফ মৃত্যুবরণ করেন ১৮১ হিজরীতে ও সে সময় খালফের বয়স ছিলো ৯০ বা এর ধারে কাছে। আর সাঈদ মৃত্যুবরণ করেন ২২৫ হিজরীতে। আয যাহাবী বলেন, তিনি একশ বছর বেঁচে ছিলেন। অর্থাৎ তাঁদের মৃত্যুর ব্যবধান ৪৪ বছর। সে সময় সাঈদের বয়স ছিলো ৬৬。
আল মিযযী বলেন, তিনি প্রথমে কুফায় ছিলেন। পরে তিনি ওয়াসিত্ অঞ্চলে যান ও সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। এরপর তিনি বাগদাদে যান ও সেখানেই স্থায়ী হন। আর তাঁর মৃত্যু অবধি সেখানেই অবস্থান করেন।

ইবনু সা'দ বলেন, তিনি বাগদাদে উপনীত হন আর সেখানে ব্যবসায় রত হন। তার বাড়ী ছিল ইরাকের কারখে, আর তিনি সেখানেই ইনতিকাল করেন। অর্থাৎ সাঈদ ওয়াসিতের লোক হলেও থাকতেন বাগদাদে। উপরের তথ্য থেকে মনে হচ্ছে তাঁদের দুজনের দেখা বাগদাদে অর্থাৎ খালফের জীবনের শেষাংশে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। আল্লাহই ভালো জানেন। তবুও তাঁদের কখন দেখা হয়েছিল, সেটি আমরা একেবারে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আর সেটি বলতে না পারলে আমরা হাদীসটিকেও সাহীহ বলতে পারবো না।

খুলাসাঃ
খালাফ বিন খালীফাহ সাদৃশ শ্রেণীর কিন্তু এ বিষয়টি মূলতঃ তাঁর শেষ বয়সের ইখতিলাতের কারণে। কিন্তু তাঁর ইখতিলাতের পূর্বের বর্ণনা ও পরের বর্ণনার মধ্যে নিশ্চিত পার্থক্যকারী কোন ইঙ্গিত নেই। অনেক বড় হাদিস সংগ্রাহক তাঁর সাথে যখন দেখা করেন, তখন তিনি অনেক বয়োবৃদ্ধ ছিলেন। আর তিনি প্রচুর ভুলের মধ্যেও ছিলেন। এ কারণে তাঁরা তাঁকে পরিত্যাগ করেন। ফলে তাঁর পূর্বের ও পরের বর্ণনাগুলোর পার্থক্যকারী চিহ্নিত করা যায়নি। তাই তাঁর একক বর্ণনার হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়, তাঁর বর্ণনা কেবল শাহেদ বা মুতাবে' আকারেই গ্রহণযোগ্য। ঠিক যেমনটি আবু হাতিম বলেছেন।

এছাড়া তাবারানী নিজেই বলছেন, এই হাদিসটি এই তারীকাতে আলা বিন আল মুসাইয়্যাব থেকে খালাফ বিন খালীফাহ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি। অর্থাৎ এই তারীকাতে আর কোন শাহেদ বা মুতাবে' পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অর্থাৎ এই সানাদে এই হাদিসটি আসলে দাঈফ ইনশাআল্লাহ।

বুখারীতে অন্য সানাদে এ হাদিসটির মুতাবে' হাদিস (৭২৮০) বিদ্যমান যার মধ্যে খালাফ বিন খালীফাহ নেই। বুখারীর ইবারতে রয়েছে: وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى আর এটি সাহীহ। কিন্তু فَقَدْ أَبَى এর পরিবর্তে তাবারানীর হাদিসটিতে دَخَلَ النَّارَ উল্লেখ করা হয়েছে। যা খালাফ বিন খালীফাহ ব্যতীত অন্য কারো সানাদে পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ কারণেই হাদিসটিকে আমি দাঈফ বলে বিবেচনা করছি।

টিকাঃ
523 আল-মু’জামুল আউসাত: হা/৮০৮
524 তাকরীব: ১৭৩১
525 আল জারই ওয়াত তা’দীল: ৩/৩৬৯ নং ১৬৮১
526 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল ৩/১২৯, নং ৪৫৫৪
527 প্রাগুক্ত নং ৩য় খন্ড: ৪৪৫৮, ৫৬৫২, ৫৬৫৩, ৬০৩২
528 তাকরীব: ২৩২৯
529 আত তাবাকাতুল কুবরা ৭/২২৭ নং ৩৪২১
530 প্রাগুক্ত ৭/২৪৫ নং ৩৫১৬
531 সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/৪৮২ নং ১৫৭
532 তাহযীবুল কামাল ৮/২৮৫ নং ১৭০৭
533 আত তাবাকাতুল কুবরা: ৭/২৪৫ নং ৩৫১৬
534 তাকরীব: ২৩২৯

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 তাহক্বীক্ব ২: আলী (রাঃ) এর বর্ণনা

📄 তাহক্বীক্ব ২: আলী (রাঃ) এর বর্ণনা


আবদুল্লাহ বিন উরশ আল মিসরী - মুহাম্মাদ বিন মাইমূন আল হান্নাত আল মাক্কী - সুফইয়ান বিন উইয়াইনাহ – ইসমাঈল বিন আবূ খালিদ কায়স বিন আবূ হাযিম - আলী (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ () বলেন, তিনটি বিষয় সত্য: আল্লাহ্ কারো ইসলামে কোন অংশ থাকলে তাকে এমন করেন না যেন তার কোন অংশ নেই। আর কোন বান্দাকে আল্লাহ্ যত্ন নেন, এরপর তাঁকে আর কেউ পরিচালনা করে। আর কোন ব্যক্তি কোন কাওমকে ভালবাসলে সে তার সাথেই হাশরের ময়দানে উত্থিত হবে।
ইসমাঈল বিন আবূ খালিদ থেকে ইবনু উয়াইনাহ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি। আর ইবনু উয়াইনাহকে তাফাররুদ করেছেন মুহাম্মাদ বিন মাইমূন।

একই সানাদ ও মতনে হাদীস পেশ করে তাবারানী বলেন:
এ হাদীষটি ইবনু উয়াইনাহ থেকে মুহাম্মাদ বিন মাইমূন ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি। আর ইসমাঈল বিন আবী খালিদ থেকে ইবনু উয়াইনাহ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি।

আল আলবানী এ হাদীসটি আলোচনা করেছেন সাহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে। শায়খ বলেন: এই সনাদটি জাইয়িদ বা সুন্দর।

নাম বিভ্রাটের সমাধান:
আমি আবূ হাযম বলছি, আমরা দেখছি উভয় সানাদে তাবারানীর এই শায়খদ্বয়ের নাম ভিন্ন ভিন্ন。
ইবনু মাকুলা বলেন, তাঁর নাম আসলে মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহ বিন ইরস।

ইবনু হাজার বলেন, তাবারানীর শাইখের বাবার নাম আব্দুল্লাহ ও তাঁর কুনিয়াহ আবূ আব্দিল্লাহ। কিন্তু মুহাম্মাদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন উরসকে ইবনু নুকতাহ দ্বম্মাহ (পেশ) দিয়ে শুরু করেছেন। কিন্তু তিনি তাবারানীর পরবর্তীকালের মানুষ। বরং তিনি তাবারানী থেকেই বর্ণনা করেছেন। এমনকি তিনি তাবারানীর ছাত্র থেকেও হাদীস বর্ণনা করেছেন।

এই সনাদ কোন এক সময় তাশকিলবিহীন ছিলো। আমি আবু হাযম মনে করি, যিনি এখানে তাশকীল বসিয়েছেন তিনি কিছুটা গুলিয়ে ফেলেছেন। প্রথম সানাদে তাশকীল বসাতে গিয়ে ভুল করেছেন।

ইবনু নুকতাহ বলেন, কাসরাহ দিয়ে লেখা নাম ঈরস হচ্ছেন মাহমূদ বিন আহমাদ আল-কাদী আল যিনজানী তৎকালীন আমীরুল মু'মিনীন আন নাসির লিদ্বীনিল্লাহ থেকে ইজাযাত নিয়ে বাগদাদে রিওয়ায়াত করতেন। তাঁর মধ্যে প্রচুর বাড়াবাড়ি ছিলো ও ইনসাফ বিষয়ে ঘাটতি ছিলো, যতক্ষণ না পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর এসব ক্ষতি থেকে মুসলিমদের রক্ষা করলেন (অর্থাৎ তিনি মৃত্যুবরণ করলেন)।
তিনি মৃত্যুবরণ করেন ৬১৯ হিজরির ১লা রবিউল আউউয়াল। তাঁর উপনাম ছিলো ইবনু ঈরস।

আব্দুর রহমান আল মুআল্লিমীও আল ইকমালুল ইকমালের তা'লীকে এই বর্ণনা দিয়েছেন।

এতদ্ব্যতীত মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহর কোন তারজুমাহ কোথাও খুঁজে পেলাম না। সে অর্থে তাঁর আদালাহ ছিলো না। এছাড়া এ বর্ণনা বাদ দিলে তাঁকে আমরা কমপক্ষে মাজহুলুল হাল বলতাম। আল্লাহু আ'লাম এই দুই ব্যক্তি এক কিনা।

এবার আসি পরের জনের ব্যাপারে। এখানেও দেখা যাচ্ছে নামের গরমিল আছে। প্রথম সানাদে তিনি মুহাম্মাদ বিন মাইমূন আল হান্নাত ও দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি খায়্যাত। আমার ধারণা এ দুইজন আসলে একই ও আসলে তিনি খায়্যাত। কেননা এই নামে সুফইয়ান বিন উয়াইনাহর একমাত্র ছাত্র কেবল মুহাম্মাদ বিন মাইমূন আল খায়্যাত্ব।
যিনি এখানে তাশকীল বসিয়েছেন তিনি তালগোল পাকিয়েছেন।
তাঁর ব্যাপারে আসলে কেউই তেমন কোন তা'দীল করেননি। ইবনু হাজার বলেন, তিনি সাদূক, হয়তো ওয়াহম করেছেন।

আবূ হাতিম তাঁর ব্যাপারে বলেন, তিনি নিরক্ষর বা মুগাফফাল ছিলেন। তাঁকে এবং বলা হয়েছিলো بن أبي سعيد مولى بنى هاشم عن شعبة সনদ তিনি বাতিল হাদীস বর্ণনা করেন আর তিনি তাঁর শায়খ থেকে বানানো (মাওদু) হাদীস্ব বর্ণনা থেকে খুব বেশী দূরে নন, কেননা তিনি নিরক্ষর ছিলেন!

এই ব্যক্তি আসলে নিরক্ষর ও দাঈফ, যেমনটি আবু হাতিম বলেছেন।
তাঁর পরের জন সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ মাশহুর আলিম ও হাফিয। ইবনু হাজার তাঁকে মুদাল্লিসের তালিকায় দ্বিতীয় মর্তবায় রাখেন। যুবাইর আলী যাঈ বলেন, তিনি আসলে তৃতীয় মর্তবার মুদাল্লিস। তিনি বলেন, ইবনু উয়াইনাহ মাতরুক আবু বাকর আল হুযালী থেকে বর্ণনা করতেন ও মুদাল্লিসদের বর্ণনাতেও তাদলীস করতেন। সুতরাং তাঁর রিওয়ায়াত তাঁর সামা' তাসরীহ করা ব্যতীত মাকবুল নয়।

আমি মনে করি যুবাইর আলীর মতটি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। আর তাবারানী বলেছেন, এই হাদীষটি ইবনু উয়াইনাহ হতে মুহাম্মাদ বিন মাইমূন ভিন্ন আর কেউ বর্ণনা করেননি। আর ইসমাঈল বিন খালিদ থেকে ইবনু উয়াইনাহ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি।

খুলাসাহ:
১। আমি আবু হাযম বলছি, সে ক্ষেত্রে এই হাদীস্টি এই তারীকাতে কেয়ামত পর্যন্ত সাহীহ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এটি দাঈফ ইনশাআল্লাহ।
২। তবে এই হাদীসের মর্মার্থ "আর কোন ব্যক্তি কোন কাওমকে ভালবাসলে সে তার সাথেই হাশরের ময়দানে উত্থিত হবে" অন্য নুসুস দ্বারা সাহীহ প্রমাণিত।

টিকাঃ
535 আল-মু'জামুস সগীর ২/১১৪ নং ৮৭৪
536 আল-মু'জামুল আউসাত ৬/২৯৩ নং ৬৪৫০
537 সাহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩/১৬৮ নং ৩০৩৭
538 আল ইকমাল ফি রাফঙ্গল ইরতিয়াব আনিল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ ফিল আসমা' ওয়াল কুনা ওয়াল আনসাব ৬/১৮৩
539 তাবসীরাতুল মুস্তাবিহ বিতাহরীরিল মুশতাবিহ ৩/৯৪১
540 ইকমালুল ইকমাল ৪/১৪৪ নং ৪১১৯
541 তাহকীক ইকমালুল ইকমাল ৬/১৮৪
542 তাহযীবুল কামাল ১১/১৮৭ নং ২৪১৩
543 তাকরীব ৬৩৪৫
544 আল জার্‌হ ওয়া তা'দীল ৮/৮২ নং ৩৪১
545 তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন ২/৫২)
546 আল ফাতহুল মুবীন, হাশিয়া ৪১, ৪২
547 বুখারী ৩৬৮৮, মুসলিম ২৬৩৯

আবদুল্লাহ বিন উরশ আল মিসরী - মুহাম্মাদ বিন মাইমূন আল হান্নাত আল মাক্কী - সুফইয়ান বিন উইয়াইনাহ – ইসমাঈল বিন আবূ খালিদ কায়স বিন আবূ হাযিম - আলী (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তিনটি বিষয় সত্য: আল্লাহ্ কারো ইসলামে কোন অংশ থাকলে তাকে এমন করেন না যেন তার কোন অংশ নেই। আর কোন বান্দাকে আল্লাহ্ যত্ন নেন, এরপর তাঁকে আর কেউ পরিচালনা করে। আর কোন ব্যক্তি কোন কাওমকে ভালবাসলে সে তার সাথেই হাশরের ময়দানে উত্থিত হবে।

ইসমাঈল বিন আবূ খালিদ থেকে ইবনু উয়াইনাহ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি। আর ইবনু উয়াইনাহকে তাফাররুদ করেছেন মুহাম্মাদ বিন মাইমূন।

একই সানাদ ও মতনে হাদীস পেশ করে তাবারানী বলেন:

এ হাদীষটি ইবনু উয়াইনাহ থেকে মুহাম্মাদ বিন মাইমূন ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি। আর ইসমাঈল বিন আবী খালিদ থেকে ইবনু উয়াইনাহ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি।

আল আলবানী এ হাদীসটি আলোচনা করেছেন সাহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে। শায়খ বলেন: এই সনাদটি জাইয়িদ বা সুন্দর।

নাম বিভ্রাটের সমাধান:
আমি আবূ হাযম বলছি, আমরা দেখছি উভয় সানাদে তাবারানীর এই শায়খদ্বয়ের নাম ভিন্ন ভিন্ন。
ইবনু মাকুলা বলেন, তাঁর নাম আসলে মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহ বিন ইরস।

ইবনু হাজার বলেন, তাবারানীর শাইখের বাবার নাম আব্দুল্লাহ ও তাঁর কুনিয়াহ আবূ আব্দিল্লাহ। কিন্তু মুহাম্মাদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন উরসকে ইবনু নুকতাহ দ্বম্মাহ (পেশ) দিয়ে শুরু করেছেন। কিন্তু তিনি তাবারানীর পরবর্তীকালের মানুষ। বরং তিনি তাবারানী থেকেই বর্ণনা করেছেন। এমনকি তিনি তাবারানীর ছাত্র থেকেও হাদীস বর্ণনা করেছেন।

এই সনাদ কোন এক সময় তাশকিলবিহীন ছিলো। আমি আবু হাযম মনে করি, যিনি এখানে তাশকীল বসিয়েছেন তিনি কিছুটা গুলিয়ে ফেলেছেন। প্রথম সানাদে তাশকীল বসাতে গিয়ে ভুল করেছেন।

ইবনু নুকতাহ বলেন, কাসরাহ দিয়ে লেখা নাম ঈরস হচ্ছেন মাহমূদ বিন আহমাদ আল-কাদী আল যিনজানী তৎকালীন আমীরুল মু'মিনীন আন নাসির লিদ্বীনিল্লাহ থেকে ইজাযাত নিয়ে বাগদাদে রিওয়ায়াত করতেন। তাঁর মধ্যে প্রচুর বাড়াবাড়ি ছিলো ও ইনসাফ বিষয়ে ঘাটতি ছিলো, যতক্ষণ না পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর এসব ক্ষতি থেকে মুসলিমদের রক্ষা করলেন (অর্থাৎ তিনি মৃত্যুবরণ করলেন)।
তিনি মৃত্যুবরণ করেন ৬১৯ হিজরির ১লা রবিউল আউউয়াল। তাঁর উপনাম ছিলো ইবনু ঈরস।

আব্দুর রহমান আল মুআল্লিমীও আল ইকমালুল ইকমালের তা'লীকে এই বর্ণনা দিয়েছেন।

এতদ্ব্যতীত মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহর কোন তারজুমাহ কোথাও খুঁজে পেলাম না। সে অর্থে তাঁর আদালাহ ছিলো না। এছাড়া এ বর্ণনা বাদ দিলে তাঁকে আমরা কমপক্ষে মাজহুলুল হাল বলতাম। আল্লাহু আ'লাম এই দুই ব্যক্তি এক কিনা।

এবার আসি পরের জনের ব্যাপারে। এখানেও দেখা যাচ্ছে নামের গরমিল আছে। প্রথম সানাদে তিনি মুহাম্মাদ বিন মাইমূন আল হান্নাত ও দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি খায়্যাত। আমার ধারণা এ দুইজন আসলে একই ও আসলে তিনি খায়্যাত। কেননা এই নামে সুফইয়ান বিন উয়াইনাহর একমাত্র ছাত্র কেবল মুহাম্মাদ বিন মাইমূন আল খায়্যাত্ব।
যিনি এখানে তাশকীল বসিয়েছেন তিনি তালগোল পাকিয়েছেন।
তাঁর ব্যাপারে আসলে কেউই তেমন কোন তা'দীল করেননি। ইবনু হাজার বলেন, তিনি সাদূক, হয়তো ওয়াহম করেছেন।

আবূ হাতিম তাঁর ব্যাপারে বলেন, তিনি নিরক্ষর বা মুগাফফাল ছিলেন। তাঁকে এবং বলা হয়েছিলো بن أبي سعيد مولى بنى هاشم عن شعبة সনদ তিনি বাতিল হাদীস বর্ণনা করেন আর তিনি তাঁর শায়খ থেকে বানানো (মাওদু) হাদীস্ব বর্ণনা থেকে খুব বেশী দূরে নন, কেননা তিনি নিরক্ষর ছিলেন!

এই ব্যক্তি আসলে নিরক্ষর ও দাঈফ, যেমনটি আবু হাতিম বলেছেন।
তাঁর পরের জন সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ মাশহুর আলিম ও হাফিয। ইবনু হাজার তাঁকে মুদাল্লিসের তালিকায় দ্বিতীয় মর্তবায় রাখেন। যুবাইর আলী যাঈ বলেন, তিনি আসলে তৃতীয় মর্তবার মুদাল্লিস। তিনি বলেন, ইবনু উয়াইনাহ মাতরুক আবু বাকর আল হুযালী থেকে বর্ণনা করতেন ও মুদাল্লিসদের বর্ণনাতেও তাদলীস করতেন। সুতরাং তাঁর রিওয়ায়াত তাঁর সামা' তাসরীহ করা ব্যতীত মাকবুল নয়।

আমি মনে করি যুবাইর আলীর মতটি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। আর তাবারানী বলেছেন, এই হাদীষটি ইবনু উয়াইনাহ হতে মুহাম্মাদ বিন মাইমূন ভিন্ন আর কেউ বর্ণনা করেননি। আর ইসমাঈল বিন খালিদ থেকে ইবনু উয়াইনাহ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি।

খুলাসাহ:
১। আমি আবু হাযম বলছি, সে ক্ষেত্রে এই হাদীস্টি এই তারীকাতে কেয়ামত পর্যন্ত সাহীহ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এটি দাঈফ ইনশাআল্লাহ।
২। তবে এই হাদীসের মর্মার্থ "আর কোন ব্যক্তি কোন কাওমকে ভালবাসলে সে তার সাথেই হাশরের ময়দানে উত্থিত হবে" অন্য নুসুস দ্বারা সাহীহ প্রমাণিত।

টিকাঃ
535 আল-মু'জামুস সগীর ২/১১৪ নং ৮৭৪
536 আল-মু'জামুল আউসাত ৬/২৯৩ নং ৬৪৫০
537 সাহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩/১৬৮ নং ৩০৩৭
538 আল ইকমাল ফি রাফঙ্গল ইরতিয়াব আনিল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ ফিল আসমা' ওয়াল কুনা ওয়াল আনসাব ৬/১৮৩
539 তাবসীরাতুল মুস্তাবিহ বিতাহরীরিল মুশতাবিহ ৩/৯৪১
540 ইকমালুল ইকমাল ৪/১৪৪ নং ৪১১৯
541 তাহকীক ইকমালুল ইকমাল ৬/১৮৪
542 তাহযীবুল কামাল ১১/১৮৭ নং ২৪১৩
543 তাকরীব ৬৩৪৫
544 আল জার্‌হ ওয়া তা'দীল ৮/৮২ নং ৩৪১
545 তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন ২/৫২)
546 আল ফাতহুল মুবীন, হাশিয়া ৪১, ৪২
547 বুখারী ৩৬৮৮, মুসলিম ২৬৩৯

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 তাহক্বীক্ব ৩: হে আল্লাহ! সত্যকে সত্য হিসেবে আমাকে দেখাও

📄 তাহক্বীক্ব ৩: হে আল্লাহ! সত্যকে সত্য হিসেবে আমাকে দেখাও


হে আল্লাহ! সত্যকে সত্য হিসেবে আমাকে দেখাও এবং তা অনুসরণ করার তাউফিক আমাকে দান করো। আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে আমাকে দেখাও এবং তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক আমাকে দান করো এবং সত্য-মিথ্যার বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট রেখো না, তাহলে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো。
ইবনু শাহীন বলেন, এটি আসলে কোন হাদীস নয়। বরং এটি সালাফদের মধ্যে কেউ কেউ করেছেন এমন দু”।" এ দুটি উল্লেখ করেছেন ইবনু কাসীরও।

এই দুআ'টির ধারে কাছে আরেকটি দু'আ আছেঃ
اللهم أرني الحق حقا فأتبعه وأرني المنكر منكرا وارزقني اجتنابه ، وأعذني من أن يشتبه علي فأتبع هواي بغير هدى منك ، واجعل هواي تبعا لطاعتك ...
হে আল্লাহ! সত্যকে সত্য হিসেবে আমাকে দেখাও যাতে আমি তা অনুসরণ করতে পারি। আর মুনকারকে মুনকার হিসেবে আমাকে দেখাও এবং তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক আমাকে দান করো। আমাকে রক্ষা কর নিজের ব্যাপারে সন্দেহে আপতিত হয়ে তোমার তরফ থেকে আসা হিদায়াতকে ছেঁড়ে নিজের প্রবৃত্তিকে অনুসরণ না করি। আমার প্রবৃত্তিকে তোমার অনুগত করে দাও...

হাফিয আল ইরাকী বলেন, প্রথম অংশের আসল আমি খুঁজে পাইনি।
খুলাসাহ
১। এটি কোন হাদীস নয়, কেবল সালাফদের দু'আ।

টিকাঃ
548 শারহু মাযাহিব আহলিস সুন্নাহ ৪০
549 তাফসীর ইবনু কাসীর ১/৫৭১
550 তাখরীজ আহাদীসুল ইইইয়া ৫/৩৯১
551 আরাবী ফাতাওয়ার লিংক https://islamqa.info/ar/answers/140138

হে আল্লাহ! সত্যকে সত্য হিসেবে আমাকে দেখাও এবং তা অনুসরণ করার তাউফিক আমাকে দান করো। আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে আমাকে দেখাও এবং তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক আমাকে দান করো এবং সত্য-মিথ্যার বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট রেখো না, তাহলে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো。
ইবনু শাহীন বলেন, এটি আসলে কোন হাদীস নয়। বরং এটি সালাফদের মধ্যে কেউ কেউ করেছেন এমন দু”।" এ দুটি উল্লেখ করেছেন ইবনু কাসীরও।

এই দুআ'টির ধারে কাছে আরেকটি দু'আ আছেঃ
اللهم أرني الحق حقا فأتبعه وأرني المنكر منكرا وارزقني اجتنابه ، وأعذني من أن يشتبه علي فأتبع هواي بغير هدى منك ، واجعل هواي تبعا لطاعتك ...
হে আল্লাহ! সত্যকে সত্য হিসেবে আমাকে দেখাও যাতে আমি তা অনুসরণ করতে পারি। আর মুনকারকে মুনকার হিসেবে আমাকে দেখাও এবং তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক আমাকে দান করো। আমাকে রক্ষা কর নিজের ব্যাপারে সন্দেহে আপতিত হয়ে তোমার তরফ থেকে আসা হিদায়াতকে ছেঁড়ে নিজের প্রবৃত্তিকে অনুসরণ না করি। আমার প্রবৃত্তিকে তোমার অনুগত করে দাও...

হাফিয আল ইরাকী বলেন, প্রথম অংশের আসল আমি খুঁজে পাইনি।
খুলাসাহ
১। এটি কোন হাদীস নয়, কেবল সালাফদের দু'আ।

টিকাঃ
548 শারহু মাযাহিব আহলিস সুন্নাহ ৪০
549 তাফসীর ইবনু কাসীর ১/৫৭১
550 তাখরীজ আহাদীসুল ইইইয়া ৫/৩৯১
551 আরাবী ফাতাওয়ার লিংক https://islamqa.info/ar/answers/140138

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 তাহক্বীক্ব ৪: জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) এর বর্ণনা

📄 তাহক্বীক্ব ৪: জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) এর বর্ণনা


আবূ মুআবিয়াহ ইসমাঈল বিন আবু খালিদ জারীর বিন ← আবদুল্লাহ( ) থেকে বর্ণিত: খাসআমদের অঞ্চলে রাসূলুল্লাহ( ) একটি ছোট বাহিনী প্রেরণ করেন। সিজদার মাধ্যমে সেখানকার জনগণ আত্মরক্ষা করতে চাইল। কিন্তু দ্রুততার সাথে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ( )এর নিকট আসলে তিনি তাদের অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ) দেওয়ার জন্য হুকুম দেন। তিনি আরো বলেন, মুশরিকদের সাথে যে সকল মুসলিম বসবাস করে আমি তাদের দায়িত্ব হতে মুক্ত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা কেন? তিনি বললেন: তাদের থেকে এইটুকু দূরে থাকবে যেন উভয়ের আগুন না দেখা যায়।

আবূ মুআবিয়াহ্ রিওয়ায়াতসমূহ:
একই রিওয়ায়াত সামান্য ভিন্ন মতনে আছে।

এই হাদীসটিকে যুবাইর আলী যাঈ দাঈফ সাব্যস্ত করেছেন, কেননা এতে আবূ মুআবিয়াহ হচ্ছেন মুহাম্মাদ বিন খাযিম আদ দারীর , যার ব্যাপারে তাদলীসের অভিযোগ আছে। একই সাথে তিনি বলেন এই হাদীসের সকল তারীকাহ দাঈফ।

এছাড়া যুবাইর আলী আলী আদ দারীরকে ইবনু হাজারের ২য় মর্তবায় মুদাল্লিস হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে তাকে ৩য় মর্তবায় রাখেন।

যুবাইর আলী বলেন, আয যাহাবী উল্লেখ করেন যে, তিনি তাদলীস করেছিলেন, আর আয যাহাবী ইয়া'কুব বিন শায়বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমি আবু হাযম বলছি, এ দাবী সানাদসহ তারীখ বাগদাদে নিম্নরূপে পেয়েছি
* উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন উস্নমান আল আযহারী - আব্দুর রাহমান বিন উমার আল খাল্লাল - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইয়া'কূব বিন শায়বাহ- ইয়া'কুব বিন শায়বাহ
উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন উসমান আল-আযহারী -স্নিকাহ - আব্দুর রাহমান বিন উমার আল খাল্লাল-স্নিকাহ- মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইয়া'কূব বিন শায়বাহ-স্নিকাহ - ইয়া'কূব বিন শায়বাহ-স্নিকাহ বলেন, তিনি স্নিকাহদের একজন ছিলেন, তবে হয়তো তিনি তাদলীস করেছেন। তিনি 'ইরজা' এর মত রাখতেন। (শুধু জরুরী অংশ তরজমা করলাম)।

সুতরাং এই সানাদটি সাহীহ।
যুবাইর আলী এরপর উল্লেখ করেন দুমাইনীর কিতাব আত তাদলীসের যার হাওয়ালা রয়েছে ২/১০৩ নাম্বারে ২৮০ পৃষ্ঠায়। দুমাইনী এখানে কিছু উলামা যেমন আলাঈর কাওল আনেন:
আহমাদ বিন আবু তাহের বলেছেন, তিনি (মুহাম্মাদ বিন খাযিম আবূ মুআবিয়াহ আয দারীর) তাদলীস করতেন।

আবুল ফাদল আহমাদ বিন আবী তাহের ২০৪ হিজরীতে জন্ম নেন ও ২৮০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মাজহুলুল হাল। খাতীব আল বাগদাদী তাঁর তারজুমাহ যতটুকু দিয়েছেন তা ব্যতীত আমি তাঁর ব্যাপারে আরও কিছু তা'দীল কিছুই পাইনি। আবু সাঈদ সালাহুদ্দীন আল আলাঈর জন্ম ৬৯৪ হিজরীতে। সুতরাং তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব ৪১৪ বছরের। একই সাথে আহমাদ বিন আবী তাহেরের অল্প কিছু ছাড়া সমস্ত বই-ই হারিয়ে গিয়েছে। আর আমরা আলাঈর বর্ণনাকৃত কাওলের উৎস সম্পর্কেও অবগত হতে পারছি না।

সানাদবিহীন কবিতায় আল মাকদিসী আহমাদ বিন আবু তাহের এর কওলটি উল্লেখ করেন। আল হালাবী কর্তৃকও আহমাদ বিন আবী তাহের থেকে একই কওল সানাদবিহীনভাবে উল্লিখিত হয়েছে।

আর দারাকুতনীর সূত্রে ইবনু হাজার সানাদ ছাড়াই আবূ মা'বিয়াহ্ তাদলীস করার ব্যাপারটি উল্লেখ করেছেন আর আমিও এর সানাদ অন্য কোথাও পাইনি।

দুমাইনী ইবনু সা'দ (দুমাইনীর হাওয়ালাতে) এর বক্তব্য নিয়ে এসেছেন যেখানে তিনি আবু মুআবিয়ার্কে বিবাহ দাবী করার পরও বলেছেন, তিনি অনেক হাদীসে তাদলীস করতেন।

ইবনু আম্মার বলেন, আমি আবূ মুআবিয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে সকল হাদীসে আমি হাদ্দাস্নানা বলেছি তা আমি মুহাদ্দিসের মুখ থেকে মুখস্থ করেছি। আর যা মুহাদ্দিসদের মুখ থেকে মুখস্থ করিনি বরং কিতাব থেকে আমাকে পড়ে শোনানো হয়েছে সেখানে আমি "যাকারা ফুলান" বলেছি। এ বক্তব্যটি সানাদসহ আছে, যার সানাদ এরূপ:

আবু বাকার আল বারকানী - আবুল ফাদল মুহাম্মাদ বিন আবৃদিল্লাহ ইবনু খুমাইরাবীহ আল হারবী - হুসাইন বিন ইদ্রীস - ইবনু আম্মার
আবু বাকার আল বারকানী স্নিকাহ। আব্দুল কারীম আস সামআনী বলেন, আবুল ফাদল মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহ ইবনু খুমাইরাবীহ আল হারবী স্নিকাহ। ইবনু হিব্বান হুসাইন বিন ইদ্রীসকে স্নিকাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনু মাকুলা বলেন, আল হুসাইন হাফিয ছিলেন অনেক হাদীসের অধিকারী । কিন্তু আবূ হাতিম এক অদ্ভুত ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আল হুসাইন তাঁকে তাঁর হাদীস থেকে একটি অংশ লিখে পাঠান, যেগুলো তাঁর শায়খ খালিদ বিন হাইয়াজ বিন বিসতাম থেকে বর্ণিত ছিল, যার প্রথম তিনটি হাদীসই বাতিল। আর তিনি নিশ্চিত ছিলেন না আসলে এই হাদীসগুলো খালিদের, না আল হুসাইনের।

ইবনু আসাকীর এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, এই রিওয়ায়াতগুলো নিশ্চিতই খালিদের।

আমার মতে, আবূ হাতিমের এই বক্তব্য অন্য সকলের বক্তব্যের উপর স্থান পাবে যারা তাঁর সাধারণভাবে প্রশংসা করেছে। আর হুসাইনের মরতবা আসলে সাদৃক ইনশা আল্লাহ্। আর ইবনু আমেরের বক্তব্য ইবনু সা'দের সাথেই মিলে গিয়েছে।
এ সকল কথা উল্লেখ করে দুমাইনী বলেন, সব মিলিয়ে তিনি ইবনু হাজারের সাথে একমত হয়েছেন যে আদ দারীর দ্বিতীয় মারতাবাতে।

কিন্তু আমার মতে ইবনু সা'দ এর বক্তব্য দ্বারা পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে যুবাইর আলীর মতটিই সঠিক ও আবূ মুআবিয়াহ আসলে তৃতীয় মর্তবার মুদাল্লিস। ওয়াল্লাহু আলামু।
আল আলবানী এ পুরো আলোচনাটি করেছেন তাঁর ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে। একই আলোচনা তিনি করেছেন সিলিসিলাতুল আহাদীস আস সাহীহাহ গ্রন্থে নং ৬৩৬ এ। আমরা এখানে সংক্ষেপে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ।

আল আলবানী বলেন, এই সানাদটি সাহীহ ও এই সকল রাবী মিকাহ শাইখানের গ্রন্থদ্বয় হতে। কিন্তু এই সানাদটি মুরসাল বলে এর উপর ইল্লাহ আরোপ করা হয়েছে।

আবূ দাউদ বলেন, এই সানাদটি একই সানাদে সাহাবী জারীরকে বাদ দিয়ে হুশাইম, মা'মার, খালিদ আল ওয়াসিতী ও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

আলবানী বলেন, আবু উবাইদ এই সানাদ এনেছেন "আল গারীব" এ (২/৭৫) হুশাইম থেকে, তিরমিযী আবদাহ থেকে, আন নাসাঈ (২/২৪৫) আবূ খালিদ থেকে আর উভয়েই ইসমাঈল বিন আবী খালিদ বিন আবী হাযিম থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিযী বলেন, এটিই সঠিক, ইসমাঈলের অধিকাংশ সাথীরা বলেছেঃ আন ইসমাঈল আন কায়স কিন্তু তারা জারীরকে উল্লেখ করেননি। আর হাম্মাদ বিন সালামাহ তা বর্ণনা করেছেন আন আল হাজ্জাজ বিন আরতাহ আন ইসমাঈল আন কায়স আন জারীর, আবূ মুআবিয়াহ রিওয়ায়াতকৃত হাদীসের মত। আমি মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী) কে বলতে শুনেছি: সঠিক হচ্ছে নাবী (স) থেকে কায়স্থ যা বর্ণনা করেছেন, তা মুরসাল।

আল আলবানী বলেন, ইবনু আরতাহ এর রিওয়ায়াতকে আল বায়হাকী নিম্নবর্ণিত শব্দসহকারে খুব সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছেন:
مَنْ أَقَامَ مَعَ الْمُشْرِكِينَ, فَقَدْ بَرِئْتُ مِنْهُ النِّمَّةَ
"যে ব্যক্তি মুশরিকদের মাঝে অবস্থান করবে, আমি তার জিম্মা হতে মুক্ত।"

ইবনু আবী হাতিম বলেন, হাজ্জাজ ব্যতীত আর কোন কুফী একে সানাদ আকারে বর্ণনা করেন নি। আল আলবানী আরও বলেন, আর হাজ্জাজ মুদাল্লিস। তাই তার মুতাবি' হাদীস এনে কোন লাভ নেই।

আবু মুআবিয়াহ সম্পর্কে দ্বিতীয় অভিযোগ: আমি আবূ হাযম বলছি: আল হাকিম বলেন, আবূ মুআবিয়াহ তাশাইউ'তে গুলু করতেন। কিন্তু আমি এই দাবীর স্বপক্ষে কোন সানাদ খুঁজে পাইনি।

আমি আবু হাযম বলছি, কিন্তু আমরা ইবনু আবী শায়বাহ থেকে তাঁর ব্যাপারে তাশাইয়ু' ও ইরজা' এর ব্যাপারে আপত্তি পেয়েছি। আর যদিও আমরা হাঁকিমের বক্তব্যের সানাদ পাইনি, এখানে কোন সন্দেহ নেই যে আদ দারীর শাইখানের রিজালের একজন। যদি আবূ মুআবিয়াহ্ মাঝে বিদআতের গুলু থাকত ও তিনি বিদআতের দিকে দাওয়াতকারী হতেন, সে ক্ষেত্রে শাইখান তাঁর থেকে কোন হাদীস্ব গ্রহণ করতেন না। সুতরাং আদ দারীর সত্যবাদী ও কোন বিদআতি মত প্রচার করেননি ইনশা আল্লাহ্।

ইবনু খিরাশ বলেন, তিনি শুধু আ'মাশের বর্ণনায় স্নিকাহ, অন্য সকল রিওয়ায়াতে ইদতিরাব করেন! তাই ইবনু খিরাশ বলেন, তিনি আসলে সাদুক, শুধু আ'মাশের বর্ণনায় স্নিকাহ। আমি এর সানাদ খুঁজে পাইনি।

আহমাদ পুত্র আবদুল্লাহ বলেন, আমি বাবাকে (আহমাদ) বলতে শুনেছি, তিনি আ'মাশ ব্যতীত আর সবার রিওয়ায়াতে মুদ্ধতারিব। তিনি উত্তমরূপে হিফয করেননি।

ইবনু হাজার তাঁর ফাতহুল বারীর মুকাদ্দিমাতে বলেন, বুখারী তাঁর (আবূ মুআবিয়াহ) থেকে আ'মাশ ব্যতীত আর কারো রিওয়ায়াত গ্রহণ করেননি।

আমি আবু হাযম লক্ষ্য করেছি মুসলিম তাঁর সাহীহ এর মধ্যে আদ দারীরকে দু'ভাবে উপস্থাপন করেন। হয় আ'মাশের বর্ণনায় নতুবা অন্য বর্ণনার শেষে শাহেদ বা মুতাবে' হিসেবে।

সুতরাং তাঁর ব্যাপারে হাকিমের বক্তব্য আধা বাস্তবতা। হাদীস্বটি দাঈফ হওয়ার এটিই সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য ইল্লাহ। অর্থাৎ মূলত: এই হাদীস্বটি মুদতারিব। ওয়াল্লাহু আ'লাম।

আব্বাস আদ দাওরী বলেন, ইয়াহয়া ইবনু মাঈন বলেছেন, আবূ মুআবিয়াহ উবাইদুল্লাহ বিন উমার থেকে মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আমি আবূ হাযম মনে করি, এ বিষয়টি উনার দুর্বল হিফযের কারণে হয়েছে, যেমনটি আহমাদ বলেছেন। ইনশা আল্লাহ্ এটি অনিচ্ছাকৃত। এটিও ইদতিরাবের উদাহরণ বৈ কিছু নয়, কেননা তা উবাইদুল্লাহ বিন উমার থেকে। আল্লাহু আ’লাম।

আবু দাউদ তাঁর সুনানে (২৬৪৫) বলেন:
قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هُشَيْمٌ وَمُعْتَمِرٌ وَخَالِدٌ الْوَاسِطِيُّ وَجَمَاعَةٌ لَمْ يَذْكُرُوا جَرِيرًا
এই বর্ণনাটি হুশাইম, মু’তামির, খালিদ আল ওয়াসিত্তী ও জামা’আহ বর্ণনা করেছেন কিন্তু কেউই সাহাবী জারীরকে উল্লেখ করেননি!

আমি আবু হাযম বলছি, এখানে আবু দাউদও সন্দেহ পোষণ করেছেন, কেননা অধিকাংশ বর্ণনায় কায়স সরাসরি মুরসাল আকারে এটি বর্ণনা করেছেন।

যাই হোক এ হাদীসটি এই তারীকাতে আসলে তিনটি কারণে দাঈফ। প্রথমত: ইদতিরাব, দ্বিতীয়ত: ইরসালের গন্ধ, আর তৃতীয়ত আবূ মুআবিয়াহ্ তাদলীস। আল্লাহু আ’লাম।

ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাইমূনের রিওয়ায়াত:
আল আলবানী বলেন, আগের হাদীসের মুতাবেক হচ্ছে সালেহ বিন উমারের এই বর্ণনা। কিন্তু তাঁর থেকে রিওয়ায়াতকারী ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাইমুন শি’আ ও স্নিকাহ নন。
আমি বলছি প্রথমত: এই সানাদে ইরসালের গন্ধ রয়েছে, কেননা কায়স এখানে জারীর থেকে আনআনাহ করছেন। ইবন হাজার বলেন, আল আসদী তাঁকে (ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাইমুন) আদ দুআফা গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন, "তিনি মুনকারুল হাদীস।"

আসলে তিনি আযদী আর তাঁর এই কিতাবটি “আদ দুআফা” মাফকুদ। এর সাথে সাথে এই আল আযদীর নাম আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আল হুসাইন বিন আহমাদ আর তাঁর নিজের ব্যাপারেই মাও' হাদীসের অভিযোগ আছে।

খাতীব আল বাগদাদী বলেন, আমাদের আবুন নাজীব আব্দুল গাফফার বিন আব্দিল ওয়াহিদ আল উরমাবিয়্যু বলেন, আমি মাওসূলবাসীদের দেখেছি, তারা আবুল ফাতহ আল আযদীকে একেবারেই পরিত্যাগ করছেন ও তাঁর থেকে কিছু গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, আমাকে মুহাম্মাদ বিন সাদাকাহ আল মাওসূলী বলেন, আবুল ফাতহ বাগদাদে আমেরের তথা ইবনু বুওয়াই’র কাছে এলো। তখন তিনি তাঁর জন্য একটি হাদীস বানিয়ে দেন। তিনি বলেন, এতে তিনি তাঁকে পুরস্কার দেন ও অনেক দিরহাম দেন। খাতীব আরো বলেন, আমি আবূ বাকার আল বারকানীর কাছে আবুল ফাতহ আল আযদীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি তাঁর দাঈফ হওয়ার ব্যাপারে ইশারাহ করেন। তিনি বলেন, তাঁকে আমি দেখেছি সমগ্র মাদীনাহ্ আসহাবুল হাদীসেরা তাঁকে চিনতেন না ও তাঁকে পরিত্যাগ করে চলতেন।

আব্দুল গাফফারের তারজুমাহ তারীখ বাগদাদে রয়েছে কিন্তু কোন জার্হ বা তা’দীল ব্যতীত। আর আমি তাঁর ব্যাপারে আর কোন জার্হ বা তা’দীল পাইনি। একমাত্র যাহাবী তাঁকে হাফিয বলেছেন।

ইবনু হাজার বলেন, ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাইমূন একেবারে কট্টর শিয়া ছিলেন। এরপর তিনি বলেন, আমি আবুল ফাদল আল হাফিযের লেখা থেকে নকল করছি, তিনি বলেছেন, এই ব্যক্তি স্নিকাহ নন।

উপরোক্ত বিশ্লেষণের পর আমার নিকট উক্ত হাদীসটি এই সানাদে দাঈফ বলেই বিবেচিত হয়েছে।

হাম্মাদ বিন সালামাহ্’র রিওয়ায়াত
'আলী বিন আবদুল আযীয — আর মুসলিম আল কাশী — হাজ্জাজ বিন আল মিনহাল — আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হানবাল — আল আব্বাস বিন আল ওয়ালীদ আন-নারসী — হাম্মাদ বিন সালামাহ — হাজ্জাজ — ইসমাঈল — কায়স বিন আবু হাযিম — জারীর বিন আবদুল্লাহ আল বাজালী

এই সানাদের মধ্যে বেশ কিছু ইল্লাত আছে। প্রথমতঃ এতে হাজ্জাজ বিন আরতাহ রয়েছেন, যিনি চতুর্থ মরতবার মুদাল্লিস, যা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।

দ্বিতীয়তঃ এতে ইদতিরাবের গন্ধ রয়েছে। কেননা হাম্মাদের হিফয শেষ বয়সে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। তাই যারা তাঁর কাছ থেকে পূর্বে শুনেছেন, তাঁর কিছু হাতে গোনা শায়খদের বর্ণনা থেকে, তাঁদের সামা' সঠিক ও সেসব বর্ণনাতে তিনি স্নিকাহ। বাকি সব ক্ষেত্রে তিনি সাদূক বলে গণ্য হবেন।

ইয়া'কূব বিন শায়বাহ বলেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ বিকিছু কিন্তু তাঁর হাদীসে সাংঘাতিক ইদতিরাব রয়েছে। কিন্তু তাঁর শুয়ুখদের থেকে তাঁর বর্ণনা ব্যতীত; সে সব ক্ষেত্রে তিনি হাসানুল হাদীস। তাঁদের মধ্যে রয়েছে স্মবিত আল বুনানী ও আম্মার বিন আবী আম্মার।

আষরামের রিওয়ায়াতে আহমাদ বলেন, আমি হুমাইদ হতে হাম্মাদের মত সুন্দর হাদীস আর কারো থেকে পাইনি। তিনি তাঁর থেকে আগে শুনেছিলেন। কিন্তু পরে আহমাদ মত দেন, হুমাইদের ব্যাপারে লোকেরা অনেক শক্ত ইখতিলাফ করেছে。
যাই হোক, হাজ্জাজ বিন আরতাহ তাঁর পুরানো শোনা শায়খদের মধ্যে একজন নন, যা উপরের আলোচনা থেকে বোঝা গেলো। আর এই তারীকাতে শায়খান না নির্ভর করেছেন, আর না ইজ্জাহ দিয়েছেন।

তৃতীয়তঃ উল্লিখিত হাদীসের সনদদ্বয়ের উভয়টি কায়স কর্তৃক জারীর হতে বর্ণিত, আর তাই উভয়টি মুরসাল।
সুতরাং উভয় সানাদই দাঈফ!

হাফস বিন গিয়াসের যত রিওয়ায়াতঃ
আবুয যিনবা' রাওহ ইবনুল ফারহ উমার বিন আবদুল আযীয বিন মিকলাস- ইউসুফ বিন আদী - হাফস বিন গিয়াস্ত্র - ইসমাঈল বিন আবূ খালিদ কায়স বিন আবূ হাযিম- খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খালিদ বিন ওয়ালীদকে খাসআম গোত্রের মানুষের কাছে পাঠালেন, তখন তারা (তাদের কিছু লোক) নিজেদের রক্ষার্থে সিজদারত হলো। তখন তিনি তাদের হত্যা করেন ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে তাদের ওয়ারিশদের অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ) প্রদানের আদেশ দেন। তিনি বললেন: আমি ঐ মুসলিম থেকে দায়মুক্ত যারা মুশরিকদের মধ্যে বসবাস করে। তিনি বললেন: তাদের থেকে এইটুকু দূরে থাকবে যেন উভয়ের আগুন না দেখা যায়।

আল আলবানী বলেন, এই সানাদের সকলে স্নিকাহ ও বুখারীর রাবী। কিন্তু ইবনু গিয়াস্ত্র ব্যতীত, কেননা তিনি তাঁর (জীবনের শেষ দিকে) হিফযে সামান্য ভুলভ্রান্তি করেছেন।
আমি আবূ হাযম বলছি, তবে হাফস বিন গিয়াস্নকে ইবনু হাজার তাদলীসের ক্ষেত্রে প্রথম মরতবায় বর্ণনা করেন কিন্তু যুবাইর আলী তাঁকে তৃতীয় মরতবায় উল্লেখ করেন, কেননা তাঁর তাদলীস প্রমাণিত। তিনি এ ক্ষেত্রে নিচের কারণসমূহ উল্লেখ করেছেন,
১। আল আস্বরামের রিওয়ায়াতে আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, হাফস তাদলীস করতেন।

কিন্তু আমি আবূ হাযম বলছি, আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে আহমাদ হাফসের তাদলীসের বর্ণনা দেন。
২। ইবনু সা’দের বক্তব্যঃ كانَ ثِقَةً مَأْمُونًا ثَبْتًا إِلا أَنَّهُ كَانَ يُدَلِّسُ তিনি স্নিগ্ধ মা’মূন স্থাবত কিন্তু তিনি তাদলীস করতেন。
সুতরাং আমার নিকট হাফসের মুদাল্লিস হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলেও তাঁর তৃতীয় মর্তবাতে হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। কেননা যাকে তৃতীয় মর্তবাতে রাখা হবে তার অনেক তাদলীস থাকতে হবে। আমরা জানি না হাফসের তাদলীসের সংখ্যা কেমন ছিলো, শুধু জানি তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু আমার নিজের কায়িদাহ আছে এ ক্ষেত্রে যা ইবনুস সালাহ ও ইবনু হাযমের মাঝামাঝি। আমি বলি যদি কালীলুত তাদলীস রাবীর তাদলীসের তারীকাহ উম্মোচিত হয়, সে ক্ষেত্রে তাঁর অন্যান্য তারীকাহ থেকে হাদীস নিতে কোন সমস্যা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর এই সব তারীকাহ অনেক বেশী না হবে। আর যদি তা হয়, তাহলে তার তাহদীস না পাওয়া পর্যন্ত তার হাদীস গ্রহণ করা হবে না।
এ ক্ষেত্রে আমরা জানি না হাফস কোন তারীকাতে তাদলীস করেছেন, হয়তো তা বেশী বা কম ছিলো। কিন্তু ইবনু সা’দ ও আহমাদের আকওয়ালের ধরণ তার স্বভাবগত তাদলীসের দিকে ইশারাহ করে।
তাই আমরা ইবনুস সালাহর কাঈদাহতে চলবো ও তার আনআনাহ কবুল করবো না।
তবে আমাদের আগেই অনেক আলিম যাঁদের মধ্যে হাফিয মু’আল্লিমী হাফসকে মুদাল্লিস বলেন。
আমার মনে হয় এখানে আসলে বিষয়টি শুধু তাদলীসের না। এখানে আরো একটি ইল্লাহ আছে।
আবূ যুরআহ বলেন, কাজী নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর হিফ্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। সুতরাং যে তাঁর বই থেকে লিখেছে তা সঠিক, বাকি সব যেন তেন।
ইয়া'কূব বিন সুফইয়ান আল ফাসবী মুহাম্মাদ বিন আবদির রাহীম - আলী ইবনুল মাদীনি - ইয়াহয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলতেন, হাফস স্মবত। আমি (আলী) বললাম, তিনি তো ওয়াহম করেছেন, তাই নয় কি? তিনি (ইয়াহয়া) বললেন, তাঁর কিতাব সাহীহ।

ইয়াইয়া বিন মা'ঈন থেকে বর্ণিত বাগদাদ ও কুফাতে হাফস তাঁর হিফ্য ছাড়া আর কোন ভাবে হাদীস বর্ণনা করেননি। আর তিনি এ সময় কিতাব থেকে বর্ণনা করেননি। তাঁর হিফ্য থেকে তিন বা চার হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ করা হয়!
উপরোক্ত বক্তব্যের সানাদটি নিম্নরূপ:
আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল কাতিব স্নিকাহ, মুহাম্মাদ বিন হুমাইদ আল মুখাররিমী স্নিকাহ, সানাদের ইবনু হিব্বান হচ্ছেন আবূ খালীফাহ ফাদল বিন আমর যাকে তাওসীক করেছেন ইবনু হিব্বান ও তাঁর পিতা আমর আল হাব্বাব যাকে ইবনু হিব্বান স্নিকাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এ কওলটির সানাদ সাহীহ।
আলোচ্য হাদীসে হাফসের ছাত্র হচ্ছেন ইউসুফ বিন আদী ও তিনি কুফাবাসী! ,
সুতরাং এই হাদীস্থটির সনদও দাঈফ!
এখানে আরো একটি বিষয় হচ্ছে যারা হাসান লি গাইরিহিতে বিশ্বাস করেন, তারা এখানে এই সানাদের মতনকে শাষ আখ্যা দিতে পারেন দুটো কারণেঃ
প্রথমত: একই মাতানের অধিকাংশ কায়স থেকে বর্ণিত মুরসাল আকারে। সেখানে খালিদ বিন ওয়ালিদের কোন উল্লেখ নেই।
দ্বিতীয়ত: মারফু' আকারে যারা বর্ণনা করছেন সকলেই বর্ণনাকারী হিসেবে জারীরের নাম উল্লেখ করেছেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ সেই যুদ্ধে নেতৃত্ব হয়তো দিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি হাদীস্বটি বর্ণনা করেছেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আমাদের বদ্ধমূল ধারণা, এটি হাফসের ইদতিরাব। সম্ভবত শায়খ এখানে কিছুটা এলোমেলো করে জারীরের স্থলে খালিদ বিন ওয়ালিদের নাম বলে থাকতে পারেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
আবু ওয়াইলের যত রিওয়ায়াত:
প্রথম হাদীস:
মুহাম্মাদ বিন কুদামাহ - জারীর বিন হাযিম - মানসূর - আবু ওয়ায়িল - আবূ নুখাইলাহ আল বাজালী - জারীর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ() এর নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম সালাত আদায় করার, যাকাত প্রদান করার, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শুভ কামনার এবং মুশরিকদের থেকে পৃথক থাকার।

আমি আবু হাযম বলছি, এখানে প্রথম জারীর হচ্ছেন জারীর বিন হাযিম বিন যাইদ আল আযদী।

আবূ হাতিম বলেন, জারীর বিন হাযিম সাদূক। তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর এক বছর পূর্বে জারীর বিন হাযিমের হিফ্য পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল।

আল উকাইলী বলেন, আবূ আব্দিল্লাহ (আহমাদ বিন হানবাল) বলেন, কাতাদাহ হতে তাঁর হাদীস মানুষের (হুবহু) হাদীস নয়। একরকম শুনে অন্যরকম কথা সংযুক্ত করেছেন।

আল আস্ত্ররাম বলেন, আবূ আবদিল্লাহ (আহমাদ বিন হানবাল) বলেছেন, জারীর ওয়াহম নিয়ে হাদীস্ব বর্ণনা করতেন। আমি বললাম, তিনি কি লোকেদের কেবল মিশরেই ওয়াহম নিয়ে বর্ণনা করেননি? তিনি বললেন, সেখানে এবং অন্যত্রও। তিনি আরো বলেন, জারীর কাতাদাহ্ থেকে কিছু হাদীস সংযোগ করেছেন যা বাতিল।

ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি ভুল করতেন, কেননা তিনি অধিকাংশই তাঁর হিফ্য থেকে বর্ণনা করতেন।

তিরমিযী বলেন, আমি তাঁকে (বুখারীকে) বললাম, জারীর বিন হাযিম কেমন ছিলেন? তিনি বললেন, তাঁর কিতাব সঠিক। কিন্তু হয়তো তিনি ওয়াহম করেছেন।

সুতরাং ইনি সাদূক, যেমনটি আবূ হাতিম বলেছেন।
ইবনু হাজার তাঁকে তাদলীসের প্রথম মরতবাতে উল্লেখ করেছেন। ইয়াহয়া আল হামানী তাঁকে তাদলীসের দোষে দুষ্ট করেন। যার সানাদটি হলো: اله عن أبي حازم عن سهل عن سعد নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের সিফাতের হাদীস। আল মাকদিসী তাঁর আগে জারীরকে মুদাল্লিস বলে দাবী করেন। কিন্তু দুমাইনী বলেন, তিনি এই রিওয়ায়াতটি তুহফাতুল আশরাফ, মুসনাদ আহমাদ, সুনান দারাকুতনীতে খুঁজে পাননি। আর তাঁকে যিনি মুদাল্লিস বলছেন সেই আল হামানী নিজেই একজন বড় মুদাল্লিস। আমি বলছি এই সানাদটি মাফকূদ। আর এমনটি না হলে তাঁর তাদলীসের তাদীকাটি উন্মোচিত হতো। কিন্তু যা পাওয়া যায়না তার উপর কোন হুকুম দেওয়া যায় না। যুবাইর আলীও জারীর বিন হাযিমকে তাদলীস মুক্ত ঘোষণা দিয়েছেন। যাই হোক জারীর এখানে মানসূর থেকে আন দিয়ে বর্ণনা করার এতে কোন সমস্যা নেই ইনশা আল্লাহ।
উসমান বিন সাঈদ আদ দারিমী বলেন, ইয়াহয়া বিন মাঈনকে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনার কাছে মানসূরের থেকে করা রিওয়ায়াত কারটি বেশী পছন্দ? জারীরের না শারিকের? তিনি বললেন, জারীর মানসূর সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে ভাল জানতেন।
এ থেকে প্রমাণিত হয় জারীরের মানসূর হতে বর্ণনাতে কোন সমস্যা নেই, বরং তা পছন্দনীয়।
হাদীসের সানাদের আবূ ওয়াইল হচ্ছেন শাকীক বিন সালামাহ আল আসাদী। ইনি স্নিকাহ। আর আবূ নুখাইলাহ আল বাজালী হচ্ছেন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু。

এই সানাদের বাকি সবাই স্নিকাহ কিন্তু জারীর বিন হাযিমের উপস্থিতির কারণে শাহেদ বা মুতাবে' হাদীস না পাওয়া পর্যন্ত হাদীসটিকে হুজ্জা হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না।

দ্বিতীয় হাদীস:
মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ – আল হাসান বিন রাবী' - আবুল আহওয়াস - আ'মাশ - আবু ওয়ায়িল - আবূ নুখাইলাহ আল বাজালিয়্যু - জারীর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট, সালাত আদায়ের, যাকাত প্রদানের, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শুভ কামনার এবং মুশরিকদের থেকে পৃথক থাকার ব্যাপারে বায়আত গ্রহণ করলাম।

আমি বলছি এই আবুল আহওয়াস হচ্ছেন সালাম বিন সালীম আল কুফী আল হানাফী। ইনি স্নিকাহ। এই সানাদের বাকি সবাই স্নিকাহ। কিন্তু আল আ'মাশ তাঁর তাদলীসের জন্য মাশহুর। ইবনু হাজার তাঁকে দ্বিতীয় মরতবায় রাখলেও আদ দুমাইনী বলেন, তিনি অনেক তাদলীস করতেন, এমনকি দাঈফ ও মাতরূক লোকেদের থেকেও তাদলীস করেছেন। এমন ব্যক্তির হাল তৃতীয় বা চতুর্থ মরতবায় হওয়ার কথা, দ্বিতীয় মর্তবায় নয়। তাই আদ দুমাইনী তাঁকে তৃতীয় মরতবায় রাখেন। আরও আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে ইবনু হাজার নিজেই তাঁকে তৃতীয় মর্তবায় রেখেছেন। সুতরাং এ হাদীসটি এই সানাদে দাঈফ।

তৃতীয় হাদীস:
পুবিশ্ব বিন খালিদ - গুনদার - শু'বাহ - সুলাইমান - আবূ ওয়ায়িল - জারীর (হাদীসের অনুবাদ উপরে উদ্ধৃত হয়েছে)।

আমি আবু হাযম বলছি, এই সানাদের সকলেই সাহীহ। এই সানাদটি অত্যন্ত চমৎকার ও সাহীহ। এ পর্যন্ত সর্বোত্তম সানাদ। একই সাথে এটি সুনান আন নাসায়ীর (৪১৭৭) হাদীসের মুতাবে', তবে এই হাদীসটি আবু ওয়াইল আবু নুখাইলাহকে বাদ দিয়ে সরাসরি জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমার মনে হয় আবু ওয়াইল শুরুতে আবু নুখাইলার কাছ থেকে শুনলেও পরে জারীর থেকেও সরাসরি শুনে থাকতে পারেন, সে অর্থে আলোচ্য সানাদটি আ'লা। আল্লাহই ভালো জানেন।
উপরের তিনটি হাদীসকে আল আলবানী ও যুবাইর আলী উভয়েই সাহীহ বলেছেন।
একই সাথে এই হাদীসটি থেকে প্রমাণিত হয়, আবু দাউদ (২৬৪৫) এর অর্থের দিক থেকে মুতাবে' হাদীস রয়েছে। যদিও একই তারীখের নয়, কিন্তু তা জারীর হতেই!

চতুর্থ হাদীস:
আল-হুসাইন বিন ইসহাক আল-তুস্তারী - আবদুল হামীদ বিন সালিহ - আবু শিহাব - আ'মাশ - আবু ওয়ায়িল - জারীর বলেন, আমি বললাম ও ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে বায়আত করান ও আমার উপর শর্ত দিন কেননা আপনিই অধিক জানেন। তখন তিনি হাত প্রশস্ত করলেন ও বাইআত গ্রহণ করলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, মুসলিমদের ব্যাপারে সচেতন হবে, কাফির থেকে দূরে থাকবে।

আয যাহাবী বলেন, আল হুসাইন বিন ইসহাক আল তুস্তারী হাফিয ছিলেন। আবূ হাতিম বলেন, আব্দুল হামীদ বিন সালেহ আল কূফী সাদূক।

আবু শিহাব আব্দুর রহমান বিন নাফে' সম্পর্কে ইবনু হাজার আন নাসায়ীর কওল নকল করে বলেন, তিনি কাওবী নন। কিন্তু আমি এর সানাদ পাইনি।
খাতীব আল বাগদাদী বলেন, ইয়া'কূব বিন শায়বাহ বলেছেন, তিনি স্নিকাহ অনেক হাদীসের অধিকারী ছিলেন। মানুষ হিসেবে সালেহ ছিলেন কিন্তু মুতকিন লোক ছিলেন না। তাঁর হিফযের ব্যাপারে লোকেরা নানা কথা বলেছে।

এর সানাদটি সাহীহ যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলী ইবনুল মাদিনী বলেন, আমি ইয়াহয়া আল কাত্তানকে বলতে শুনেছি আবূ শিহাব আল হান্নাত হাফিয ছিলেন না।
এর সানাদটি নিম্নরূপ:
এই সানাদের রাবী সালেহ বিন আহমাদকে আবু হাতিম সাদৃক স্নিকাহ বলেছেন。
এই সানাদের সকলেই স্নিকাহ, তাই সানাদটি সাহীহ।
আবূ হাতিম বলেন, আবূ শিহাব সালেহুল হাদীস।

ইবনু হাজার বলেন, তাঁর থেকে তিরমিযী ব্যতীত অনেকেই বর্ণনা করেছেন। আর এটি পরিষ্কার যে তাঁর (আবূ শিহাব) উপর তাদঈফ যারা করেছেন তাঁরা তাঁর আকরানদের মতের উপর নির্ভর করে এ কাজটি করেছেন।

যাই হোক, আমাদের গবেষণা থেকে এ কথা পরিষ্কার যে আবু শিহাব সাদূক, ঠিক যেমনটি ইবনু হাজার বলেছেন। ওয়াল্লাহু আ’লাম।

এরপরেই আছে আল আ’মাশ। সুতরাং এই হাদীসটি এই তরীকাতে দাঈফ, যদিও এর মতনটি সাহীহ কেননা উপরে আমরা একই মতনের সাহীহ তারীকাহ পেয়েছি।

শাকীক বিন সালামাহ্‌র রিওয়ায়াত:
আহমাদ বিন আলী আল জারুদী - উসাইদ বিন আসিম - আমির বিন ইব্রাহীম - ইয়া’কুব আল কুমিয়্যি - আবু রাবী’ - আ’মাশ - শাকীক বিন সালামাহ - জারীর বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাত প্রশস্ত করুন, আমি আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করি। আপনিই আমাকে গ্রহণ করুন কেননা আপনি শর্তের ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, আমি তোমার বায়আত গ্রহণ করলাম এই মর্মে যে তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুর শরীক করবেনা। সালাত কায়েম করবে। যাকাত আদায় করবে। মুসলিমদের ব্যাপারে সচেতন হবে। মুশরিকদের থেকে দূরে থাকবে。

আহমাদ বিন আলী আল জারুদী তাবারানীর শিক্ষক সম্পর্কে শায়খ আবু নুআইম আল আসবাহানী বলেন তিনি হাফিয, মুতাক্কিন। আর যাহাবীও অনুরূপ বলেছেন। ইবনু আবী হাতিম উসাইদ বিন আসিম কে স্নিকাহ বলেছেন。

আমীর বিন ইবরাহীম সিকাহ। ইবনু হাজার বলেন, ইয়া'কূব আল কুম্মিয়্যি সাদুক ইয়াহিমু (ভ্রান্তি করতেন) যা তিনি নকল করেন আদ দারাকুতনী থেকে। তিনি বলেন, লাইসা বিল কাউই।
এরপরেই রয়েছেন আল আ'মাশ। সুতরাং এই হাদীসটি এই তারীকাতে দাঈফ, যদিও এর মতনটি সাহীহ। কেননা উপরে আমরা একই মতনের সাহীহ তারীকাহ পেয়েছি।

আল আলবানী এখানে আবুল আহওয়াসের সানাদকে মানসুরের সাথে মিলে যাওয়ার কারণে তুলনামূলক কাওবী বলেছেন ও তাকে সাহীহ বলেছেন। আমার নিকট এ হাদীসটির সানাদ দাঈফ! আল্লাহু আ'লাম

সাহাবী হওয়ার দাবীদার মুবহাম (অনুল্লেখিত) বেদুঈনের ঘটনা:
আবূ আবদুল্লাহ আল হাফিয — আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়া'কূব — আল আব্বাস ইবনু মুহাম্মাদ — রাওহ বিন উবাদাহ — কুররাহ বিন খালিদ ইয়াযীদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ শিখখীর বলেন, আমরা উটের খোঁয়াড়ে বসে ছিলাম। আমাকে সেখানকার মানুষের ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে গত এক বছরের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছিলো। তখন আমাদের কাছে মরুবাসী (বেদুইন) এক ব্যক্তি এলো। আমরা যখন তাঁকে দেখলাম, তখন বললাম, এই ব্যক্তি মনে হয় এ অঞ্চলের নয়। তিনি বললেন, জী হ্যাঁ। এ কারণেই তাঁর চামড়ার টুকরোতে একটি কিতাব রয়েছে। অথবা হয়তো তিনি বলেছিলেন, থলেতে। সেই লোকটি বললো, এই কিতাবটি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য লিখে দিয়েছেন। এতে রয়েছে:

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। নাবী মুহাম্মাদ হতে বনী যুহাইর বিন উকাইশের প্রতি। আর তা হচ্ছে উকল অঞ্চলের একটি গ্রাম। তোমরা সালাত কায়েম, যাকাত আদায়, মুশরিকদের থেকে নিজেদের পৃথক রাখা এবং গানীমাতের সম্পদ হতে এক পঞ্চমাংশ ও এরপর সাফী অথবা সাফিয়্যাহ (নাবীর (ﷺ) অংশ) দান করলে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের প্রতিরক্ষায় সুরক্ষিত।
তারা বলল, দাও দেখি, আল্লাহ্ তোমার সুব্যবস্থা করুন, আমাদের তুমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছ তা থেকে বর্ণনা কর। সে বলল, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি:

সবরের মাসে (রামাদান) ও প্রত্যেক মাসে তিন দিন (আইয়ামে বীদ) সাওম পালন অন্তরের বহু কাঠিন্যতা দূর করে দেয়।

কুররা বললেন, আমি তাঁকে বললাম, অন্তরে অপরের ক্ষতি করার বাসনা? তিনি বললেন, না, অন্তরের কাঠিন্যতা। একদল লোক বললো, আপনি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছেন? তখন তিনি সেই সহীফাহর প্রতি যত্নশীল হলেন ও তা নিজের কব্জায় নিলেন। এরপর দ্রুত সে স্থানটি ত্যাগ করতে করতে বললেন:
আমি তোমাদেরকে দেখছি তোমরা আমার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ()-এর উপর মিথ্যারোপের আশংকা করছ? আল্লাহ্র কসম, আজকে আমি তোমাদের একটি হাদীসও রিওয়ায়াত করবনা।

আমি আবু হাযম বলছি, এই হাদীসের সব রাবী স্নিকাহ। আল-হামদুলিল্লাহ। কিন্তু এ হাদীস্বটিতে সাহাবী হওয়ার দাবীদারের নাম উল্লেখ নেই।

আবূ আবদুল্লাহ আল হাফিয - আবু সাঈদ বিন আবূ আম্র - আহমাদ বিন আবদুল জাব্বার - আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়া'কূব - য়ুনুস বিন বুকাইর - কুররাহ বিন খালিদ - ইয়াযীদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ শিখখীর (উপরের হাদীস্বটির অনুবাদ সামান্য শব্দের তারতম্য ছাড়া প্রায় অনুরূপ)

আহমাদ বিন আব্দিল জাব্বারকে ইবনু হাজার দাঈফ বলেছেন।

ইবনু আদী বলেন, আহলে ইরাক তাঁর দাঈফ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর তিনি যার তার থেকে রিওয়ায়াত করা থেকে নিজেকে রক্ষা করতেন না। ইবনু আদী আরো বলেন, তিনি তাঁর হতে কোন মুনকার হাদীস্ব জানেন না, কিন্তু লোকেরা তাঁর তাদঈফ করেছে, কেননা তিনি তাদের থেকে বর্ণনা করতেন যাদের থেকে তিনি শোনেননি。
সুতরাং এই সানাদটি দাঈফ।

আল আলবানী বলেন, এ সানাদটি সাহীহ ও সাহাবী অজ্ঞাত হওয়াটা আসলে সমস্যাজনক নয়。
আমি আবূ হাযম বলছি, এই কায়িদাহর সাথে আসলে সবাই একমত নন। মুবহাম সাহাবীকে ইবনু হাযম অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। তিনি বলেন, সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জমানায় মুনাফিক ও মুরতাদও ছিলো। সুতরাং কারো এই দাবী যে আমাকে সাহাবীদের মধ্যে একজন রিওয়ায়াত করেছেন বা আমাকে রাসুলুল্লাহ(ﷺ)-এর সাহচর্য পেয়েছেন এমন একজন বলেছেন বললেই তা গ্রহণ করা হবে না, যদি না তাঁর নাম প্রকাশ করা হয় ও তাঁর রাসুলুল্লাহ(ﷺ)-এর সাথে সাহচর্য মা'লুম হয়। আল্লাহ্ বলেন:
وَمِمَّنْ حَوْلَكُم مِّنَ الْأَعْرَابِ مُنَافِقُونَ وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَرَدُوا عَلَى النِّفَاقِ لَا تَعْلَمُهُمْ نَحْنُ نَعْلَمُهُمْ سَنُعَذِّبُهُم مَّرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ )
“তোমাদের চতুষ্পার্শ্বে কতক বেদুঈন হল মুনাফিক, আর মাদীনাবাসীদের কেউ কেউ মুনাফিকীতে অন্তর্ভুক্ত, তুমি তাদেরকে চেন না, আমি তাদেরকে চিনি, আমি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দেব, (ক্ষুধা বা নিহত হওয়া এবং কবরের শাস্তি) অতঃপর তাদেরকে মহা শাস্তির পানে ফিরিয়ে আনা হবে।”

আমি মনে করি এই হাদীসের বেদুইন সম্পর্কে ইয়াযীদ বিন আব্দিল্লাহ আসলে জানতেন না, পুরোটা ছিলো ঐ বেদুঈনের দাবী। আর এই ব্যক্তি সম্পর্কে জানার কোন রাস্তাই আর অবশিষ্ট নেই। আর তাবেঈর নিকট থেকে এই ব্যক্তির হালও কোন দিক থেকেই পরিষ্কার হয়নি। সুতরাং নিশ্চিত হওয়া গেল এই ব্যক্তি আসলে মাজহুলুল আইন! অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের দুটো বিষয়ে পার্থক্য করতে হবে। তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে, তাবেঈ কর্তৃক কোন সাহাবীকে জানা সত্ত্বেও তার নাম উল্লেখ না করেই রিওয়ায়াত করা। অপরটি হচ্ছে তাবেঈর ঐ ব্যক্তি সম্পর্কেই অবগত না হওয়া অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি তাবেঈর কাছে মাজহুল। আলোচ্য হাদীসে ইয়াযীদ বিন আবদিল্লাহ সাহাবী হওয়ার দাবীদার ব্যক্তির পরিচয়েই জানতেন না। সে ক্ষেত্রে এই হাদীস কবুল করার কোন রাস্তা রইলনা যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা তাঁর পরিচয় ও হাল সম্পর্কে জানতে পারি। সেক্ষেত্রে উভয় হাদীসই দুঃখজনকভাবে দাঈফই গণ্য হবে।

বাহ্য বিন হাকীম এর রিওয়ায়াত: প্রথম হাদীস:
আবূ বকর ইবন আবী শায়বাহ - আবূ উসামাহ - বাহ্য বিন হাকীম - হাকীম - মুআবিয়াহ বিন হাইদাহ আল কুশাইরী বলেন, রাসূলুল্লাহ () বলেছেন: আল্লাহ ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় শির্কে লিপ্ত হওয়া মুশরিকের কোন আমল কবুল করেন না, যতক্ষণ না সে মুশরিকদের থেকে পৃথক হয়ে মুসলিমদের নিকট ফিরে আসে।

আল আলবানী এর সানাদকে হাসান বলেছেন। একই সাথে যুবাইর আলীও একে সাহীহ বলেছেন।

কিন্তু এই সানাদে আবু উসামাহ হচ্ছেন হাম্মাদ বিন উসামাহ বিন যাইদ ইবনু হাজারের মতে ইনি স্নিকাহ স্নাবত। কিন্তু ইবনু হাজার তাঁকে দ্বিতীয় তাবাকার মুদাল্লিস হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু যুবাইর আলী তাঁকে তাদলীস মুক্ত মনে করেন。
দুমাইনীর যুক্তি ছিলো হাম্মাদ বিন উসামাহর বিরুদ্ধে দু' প্রকার অভিযোগ পাওয়া যায়।
তাঁর মধ্যে একটি হচ্ছে আল আযদীর রিওয়ায়াতে আল মুআয়তী বলেছেন, তিনি অনেক তাদলীস করতেন। এরপর তিনি তাঁকে তরক (পরিত্যাগ) করেন।

আয যাহাবী বলছেন, আযদী সুফইয়ান সাওরীর থেকে সানাদবিহীন বলেন, সুফইয়ান হাম্মাদ সম্পর্কে বলেন, তিনি মানুষের মধ্যে উত্তম হাদীয়ের ব্যাপারে অনেক বড় চোর ছিলেন। আয যাহাবী এই সানাদবিহীন দাবীকে বাতিল করে দিয়েছেন। কেননা, তাঁর থেকে আহমাদ, আলী (ইবনুল মাদিনী), ইবনু মাঈন ও ইবনু রাহাবীহ বর্ণনা করেছেন。
দুমাইনী বলেন, তা'রীফ আহলিত তাকদীস ৫৯ পৃষ্ঠায় আল কুফতীর বর্ণনা আছে তাঁর ব্যাপারে। কিন্তু তিনি আল আযদীর আগে মুআয়তী বা আল কুফতী বলে কেউ ছিল বলে কোন প্রমাণ পাননি!
আসলে এই মুআয়তী হচ্ছেন আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ বিন উমার আল মুআয়তী, ইনি বিক্রেতা। কিন্তু তাঁর উপরের বক্তব্যের কোন সানাদ আমি পাইনি। আল্লাহু আ'লাম।
আমার মতে আসলে এ বিষয়টি কঠিন। কেননা, আল আযদীর আল দুআফা গ্রন্থটি মাফকূদ! ওয়াল্লাহুল মুসতাআন।
এসব কথার মধ্যে একমাত্র গ্রহণযোগ্যতার ধারে কাছের কথাটি হচ্ছে ইবন সা'দ থেকে। তিনি বলেন, তাঁর বর্ণিত অনেক হাদীস ছিলো। তিনি তাদলীস করতেন ও তাঁর নিজের তাদলীসকে বায়ান করতেন。
একারণে দুমাইনী তাঁকে প্রথম তবাক্বায় রাখেন।

পক্ষান্তরে যুবাইর আলী বলেন, এর অর্থ তাঁর আনআনাহ আসলে তাঁর সামা' এর সম্ভাবনার সাথে সম্পর্কিত। সে ক্ষেত্রে তিনি মুদাল্লিস নন, কেননা কেউ তাঁর তাদলীসের বিষয়টি পরিষ্কার করে দিলে, সে ক্ষেত্রে তাকে মুদাল্লিস বলা হয়না। সুতরাং তিনি তাদলীসমুক্ত。

আমি যুবাইর আলীর সাথে একমত পোষণ করছি। কেউ যদি কালীলুত তাদলীস হয় ও তাঁর তাদলীসের বায়ান করে দেয় অথবা তাঁর তাদলীসের তারীকাহগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পারি, তাহলে বাকি সব তারীকাতে আমরা তাঁকে বিশ্বাস করতেই পারি যদি সে স্নিকাহ হয়। আর এই বিশেষ ক্ষেত্রে তাঁর আনআনাকে তাদলীসে গণনা করা হবে না কেননা, তিনি তা বায়ান করে দিতেন। ওয়াল্লাহু আ'লাম।

আহমাদ বলেন, হাম্মাদ স্বাক্ত ও তিনি যে বিষয়ে দৃঢ় ছিলেন, সে বিষয়ে ভুল করতেন না।

আদ দারিমী বলেন,
وَسَأَلْتُ يَحْيىٰ قُلْتُ أَبُو أُسَامَة أَحَبُّ إِلَيْكَ أَوْ عَبْدَة بن سُلَيْمَانِ فَقَالَ مَا مِنْهُمَا إِلَّا ثِقَة
আমি ইয়াহয়া বিন মাঈনকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আবূ উসামাহকে না আব্দাহ বিন সুলাইমানকে বেশী পছন্দ করেন? তিনি বলেন, উভয়েই স্নিকাহ ভিন্ন কিছু নন।

হাফিয ইবনু হাজার বলেন, তিনি (হাম্মাদ) শেষ জীবনে অন্যের কিতাব থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন।

আল আজুররী বলেন- আবু দাউদ বলেন- ওয়াকী' বলেন, আমি আবূ উসামাহকে ধার করা কিতাব থেকে রিওয়ায়াত করতে নিষেধ করেছিলাম। তিনি তাঁর কিতাবসমূহ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

এ কারণে আবূ হাতিম বলেন, আবু উসামাহ, তাঁর লেখনী সাহীহ ও হাদীসের দিক থেকে তিনি দাবত সম্পন্ন উত্তম সাদূক।

আমার ধারণা আবূ হাতিম তাঁকে তাঁর শেষ বেলায় অন্যের কিতাব থেকে বর্ণনার কারণে সাদৃক বলে থাকতে পারেন। তবে অন্যের কিতাব থেকে তাঁর মুনকার হাদীস বর্ণনার সে রকম কোন দালীল পাওয়া যায় না। সে অর্থে তিনি সাদূক হাসানুল হাদীস।

ইবনু আদী আল জুরজানী বাহয বিন হাকিমের ব্যাপারে বলেন, তিনি মিকাহদের থেকে রিওয়ায়াতে ‘লা বা’সা বিহি’।

কিন্তু আল জার ওয়াত তা’দীলে রয়েছে, আবু হাতিম বলেন, তিনি শায়খ, তাঁর হাদীস লেখা হয় কিন্তু হুজ্জাহ দেওয়া হয়না। আবু হাতিমকে প্রশ্ন করা হয় আম্ম বিন শুআইব আন আবীহি আন জাদ্দিহি কে পছন্দ করেন না বাহয বিন হাকিম আন আবীহি আন জাদ্দিহি। আবু হাতিম বলেন: আম্ম বিন শুআইব আন আবীহি আন জাদ্দিহি। আবু যুরআহ বলেন, বাহয বিন হাকিম সালেহ কিন্তু তিনি মাশহুর নন。
ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি (বাহয) অনেক ভুল করতেন। যদিও আহমাদ, ইসহাক বিন ইবরাহীম তাঁকে দিয়ে হুজ্জাহ দেন ও তাঁর থেকে রিওয়ায়াত করেন, তাঁকে আমাদের ইমামদের একটা জামাআত বর্জন করেন。
আল হাকিম বলেন, তিনি বাসরী মিকাহদের একজন। আল সাহীহ থেকে তাঁর রিওয়ায়াত আন আবীহি আন জাদ্দিহি বাদ দেয়া হয়েছে, কেননা শায ও সাহীহতে তাঁর কোন মুতাবে’ নেই。

সুতরাং বাহয প্রকৃতপক্ষে শুধু সাধুক ছিলেন, যেভাবে ইবনু হাজার বলেছেন。

আল নাসাঈ বাহযের পিতা হাকিম বিন মুআবিয়াহ বিন হাইদাহ সম্পর্কে বলেন, লাইসা বিহী বা’স。
কিন্তু এর কোন সানাদ আমি খুঁজে পাইনি।

আল ইজলী তাঁর ব্যাপারে বলেন, তিনি তাবেঈ মিকাহ। ইবনু হাজার তাকরীবে হাকীমকে সাদূক বললেও ফাতহুল বারীতে বলেন, ইবনু হাযম একে শায ও দাঈফ ঘোষণা করেছেন।

ইবনু হাযম আসলে বলেছেন: বাহয বিন হাকীমের আদালাহ গাইর মাশহুর। তাঁর পিতা হাকীমের অবস্থাও অনুরূপ।
ইবনু হাযমের বক্তব্য শুধু হাকিমের বেলায় সত্যি। কেননা বাহযকে অনেক নাকীদ তা'দীলও করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আহমাদ, আলী ইবনুল মাদীনি, আন নাসাঈ, আত তিরমিযী প্রমুখ। কিন্তু তাঁর পিতার তাওসীক করেছেন আল ইজলী। আর ইবনু হিব্বানও তাঁকে স্নিকারে তালিকায় রেখেছেন। এ দুইজন ব্যতীত আমি হাকিমের ব্যাপারে আর কারো তা'দীল পাইনি। তাই আমি বিশ্বাস করি তিনি সাদুক হাসানুল হাদীস ইনশা আল্লাহ্ ইবনু হাজার। যেমনটি বলেছেন। কেননা তিনি মুতাকাদ্দিমদের নিকট গাইর মাশহুর। হাকীমের পিতা মুআবিয়াহ বিন হাইদাহ আল কুশাইরী সাহাবী。
সুতরাং এই আলোচনার পর আমরা এই সানাদের এই হাদীস দিয়ে কোন হুজ্জাহ দেবনা, কেবল লেখা হবে ও নজর বিশ্লেষণ করা হবে।

দ্বিতীয় হাদীস:
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আলা - মু’তামির বিন সুলাইমান - বাহ্য বিন হাকীম - হাকীম - মুআবিয়াহ বিন হাইদাহ আল কুশাইরী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নাবী! আমি আপনার কাছে আসার পূর্বে আমার উভয় হস্তের অঙ্গুলীসমূহের সংখ্যার চেয়েও অধিক সংখ্যক শপথ করেছিলাম যে, আমি আপনার কাছে আসব না এবং আপনার ধর্মও গ্রহণ করব না। এখন আমি এমন এক ব্যক্তি, যে আল্লাহ তাআলা এবং তদীয় রাসূলের শিখানো শিক্ষা ছাড়া আর কিছুই আমি জানি না। আমি আল্লাহর ওয়াস্তে (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) আপনার কাছে জানতে চাই আল্লাহ তাআলা আপনাকে কি সহ আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে ইসলামসহ পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, ইসলামের পরিচয় কি? তিনি বললেন, তুমি বলবে যে, আমি স্বীয় চেহারা আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরিয়ে দিলাম এবং শিরক পরিত্যাগ করলাম। এবং তুমি সালাত আদায় করবে, যাকাত আদায় করবে। প্রত্যেক মুসলিম অন্য মুসলিমের জন্য সম্মানের পাত্র; তারা ভাইয়ের ন্যায় একে অন্যের সাহায্যকারী। আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের ইসলাম গ্রহণের পরও তাদের কোন আমল কবুল করবেন না যতক্ষণ না তারা মুশরিকদেরকে পরিত্যাগ করে মুসলিমদের কাছে এসে যায়।

মুহাম্মাদ বিন আব্দিল আ’লা স্নিকাহ। কিন্তু আল মু’তামিরের ব্যাপারে কিছু কালাম আছে।
আবূ দাউদ বলেন, আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি, মু’তামির হাফিয ছিলেন, যখনই আমরা তাঁর কাছে কিছু জানতে চাইতাম তখন তাঁর কাছে সে বিষয়ে কোন না কোন বক্তব্য থাকতো।

কিন্তু আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ রিওয়ায়াত করেন, আমার পিতা বলেন, প্রথমবার যখন আমরা মু’তামিরের সাথে বসি তখন তিনি মাগাযী থেকে তাঁর পিতা ও অন্যদের হতে মুরসাল হাদীস পড়ছিলেন। সেসবের আমরা কিছুই বুঝতে পারলাম না ও সেগুলো থেকে কিছুই লিখলাম না। এরপর তিনি আমাদেরকে তাঁর পিতা মাধ্যমে আর তার পিতা মুগীরাহ হতে কিছু হাদীস পড়ে শুনান। সেখান থেকে আমি শুধু তাঁর কিতাব কিতাবু খালক হতে সালেহ হাদীসসমূহ তা’লীক করি। আর হিমসের হাদীসসমূহের ক্ষেত্রে আমরা সেগুলো লিপিবদ্ধ করি তিনি আমাদের পড়ে শুনান। তিনি সে সকল হাদীস আমাদের পড়ে শোনান ও এসব ক্ষেত্রেও তিনি অপরের গ্রন্থে ফেরত যান। ফুদাইল বিন মাইসারার কিতাবের ক্ষেত্রে আমরা সমস্ত মুরসাল লিখলাম ও সমস্ত মুসনাদকে তরক করলাম একটি ব্যতীত যা আমরা লিখলাম ও সেটিও কিতাবে তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু মুগীরাহর হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে শুধু একটি নিলাম। আব্দুল্লাহ এর পর বলেন, আমার বাবা বলেন, মু'তামির হিফযে জাইয়িদ ছিলেন না।

যদি কোন রাবীর ব্যাপারে কোন নাকীদের দুটো কাওল পাওয়া যায়, তাহলে আমরা জার্হ সম্বলিত কওলকেই প্রাধান্য দেব, যদি না তা'দীলের মধ্যে জারহের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার বিষয়টি পরিষ্কার হয়। তাই এ ক্ষেত্রে আমরা আব্দুল্লাহর বর্ণনাকেই সামনে রাখব ইনশা আল্লাহ্।

ইবনু খিরাশ বলেন, তিনি (মু'তামির) সাদৃক ইয়ুখতি' যদি তিনি তাঁর হিফয থেকে রিওয়ায়াত করতেন, কিন্তু তিনি তাঁর কিতাব থেকে রিওয়ায়াত করলে তিনি স্নিকাহ।

খাতীব আল বাগদাদী বলেন,
ইয়াহয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, যদি তোমাদের আল মু'তামির বিন সুলাইমান কোন রিওয়ায়াত করেন তবে তা প্রত্যাখ্যান কর। কেননা তিনি সাইয়িউল হিফয।

এই সানাদে আহমাদ বিন আলী বিন মুসলিম হচ্ছে আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আলী বিন মুসলিম। খাতীব বলেন, তিনি স্নিকাহ, হাফিয, মুতকীন। এছাড়া তাঁকে একই গ্রন্থে সাহীহ সানাদে তাওসীক করেছেন আদ-দারাকুতনী ও অন্যরা।

এখানে ইবনুল ফাদল হচ্ছেন মুহাম্মাদ বিন আল হুসাইন বিন আল ফাদল। খাতীব তাঁর তাওসীক করেছেন।

এই কওলটির সানাদের অবশিষ্ট সকলেই স্নিকাহ। সুতরাং ইয়াহয়া বিন সাঈদ আল কাত্তানের এই সানাদটি সাহীহ।

আবূ ইসহাক আল হুওয়াইনী বলেন, ইয়াহয়া ইবনুল কাত্তান ও ইবন খিরাশের মু’তামিরের সাইয়িউল হিফয হওয়ার ব্যাপারে জাহটি আসলে গুলু! আয যাহাবী এর রদ করে বলেন, তিনি মুতলাকভাবে স্নিকাহ।

আল হুওয়াইনী মু’তামিরের এই স্নিকাহ হওয়ার ক্ষেত্রে আয যাহাবীর রদ ব্যতীত আর কোন কারণ দেখান নি। আমরা কিভাবে একজন মুতাক্বাদ্দিমের জাহকে আলোচ্য রাবীর জমানা থেকে অনেক দূরের যাহাবীর মত একজন মুতাআখখীরের বক্তব্যের কারণে অগ্রাহ্য করব, যেখানে আল কাত্তান ও আহমাদের কাওল সাহীহ সানাদে আছে ও ইবনু খিরাশের মন্তব্য তাঁদের পক্ষেই যায় যদিও সে কাওলের কোন সানাদ নেই। তাই বরং আমাদের কাছে আল মু’তামির সাদৃক সাইয়ি’উল হিফয ইনশা আল্লাহ্।

ইবনু হাজার আল মু’তামিরের ব্যাপারে বলেন, বুখারী তাঁর থেকে অধিকাংশ যা কিছু তাখরীজ করেছেন সেগুলো অন্য সাহীহ হাদীসের মুতাবে’। বাকি সকলেই তাঁকে দিয়ে হুজ্জাহ দিয়েছেন।

তাই এখানে অনেক শক্ত ইশারাহ আছে যে, বুখারী তাঁকে সাদৃক হিসেবেই নিয়েছেন। আমরা তাই এ সুপ্রসিদ্ধ ইমামের পথচলাতেই পা মেলাব ইনশা আল্লাহ্।

সুতরাং এই হাদীসটি দিয়েও কোন হুজ্জাহ দেওয়া হবে না। বরং কেবল লেখা হবে ও নজর বিশ্লেষণ করা হবে ইনশা আল্লাহ্।

সামুরাহ বিন জুনদুব কর্তৃক রিওয়ায়াতকৃত হাদীস:
প্রথম হাদীস:
* মুহাম্মদ বিন দাউদ বিন সুফইয়ান - ইয়াহয়া বিন হাসান - সুলাইমান বিন মূসা আবু দাউদ জা'ফর বিন সা'দ বিন সামুরাহ বিন জুনদুব - খুবাইব বিন সুলাইমান- সুলাইমান বিন সামুরাহ বিন জুনদুব সামুরাহ বিন জুনদুব সূত্রে বর্ণিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: কেউ কোনো মুশরিকের সাহচর্যে থাকলে এবং তাদের সাথে বসবাস করলে সে তাদেরই মতো।

এই হাদীসটি সম্পর্কে যুবাইর আলী বলেন, এখানে খুবাইব বিন সুলাইমান মাজহুল ও জা'ফার বিন সা'দ বিন সামুরাহ বিন জুনদুব দাঈফ। এই হাদীসের সব শাওয়াহিদ দাঈফ। আবু দাউদের ৪৫৬ নং হাদীসের তাহকীকে যুবাইর আলী জা'ফার সম্পর্কে বলেন, তাঁকে জুমহুর মুহাদ্দিসগণ দাঈফ বলেছেন।

আমি বলছি, জা'ফার বিন সা'দ বিন সামুরাহ বিন জুনদুবের ব্যাপারে মুতাকাদ্দিমদের থেকে জারহ বা তা'দীল কিছুই পাওয়া যায় না। ইবনু হাযম এই সানাদটি উল্লেখ করে বলেন, সামুরাহ বিন জুনদুবের হাদীস সাকিত। কেননা সুলাইমান বিন মূসা থেকে সামুরাহ পর্যন্ত এ দুইজনের মাঝে সমস্ত রাবী মাজহুল - তারা কারা জানা নেই।

মুতা'আখখিরদের মধ্যে ইবনু হাজার বলেন, তিনি লাইসা বিল কাওয়ী। কিন্তু আমরা জানিনা তিনি কোথা থেকে এ হুকুম নিয়ে এলেন। আমার কাছে যা পরিষ্কার হয়েছে তা হচ্ছে জা'ফর মাজহুলুল হাল যেভাবে ইবনু হাযম বলেছেন। আয় যাহাবীও এ কথা উল্লেখ করেন। বড় আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আমরা জানি না যুবাইর আলী কোথা থেকে বললেন, জুমহুর জা'ফারের উপর তাদঈফ করেছেন, বরং আমরা তাদের তাজহীল পেয়েছি।

আল আলবানী এই হাদীসটির আলোচনা করেছেন সিলসিলাহ আল আহাদীস আস সাহীহাহ গ্রন্থে। আল আলবানী উপরে দেওয়া একই কারণ দেখিয়ে এই সনাদটিকে দাঈফ বলেছেন। একই সাথে এই তরীকাতে সমস্ত হাদীসকে তিনি দাঈফ বলেছেন। তবে উভয় দাঈফ হাদীস একত্রে হাসান লি গাইরিহী বলেছেন।

এই সনাদটিতে মুসালসাল মাজহুল রয়েছে — যেমনটি করে ইবনু হাযম বলেছেন। সুতরাং এই সনাদে হাদীসটি দাঈফ।

দ্বিতীয় হাদীস:
* আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব — মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আস সাগানী — ইসহাক বিন ইদরীস — হাম্মাম — কাতাদাহ — হাসান — সামুরাহ বিন জুনদুব (নবী) হতে, “তোমরা মুশরিকদের মাঝে বসবাস করনা ও তাদের সাথে একত্র হবে না। যে তাদের মাঝে থাকবে বা তাদের সাথে একত্রিত হবে সে আমাদের মধ্যে গণ্য নয়।” হাকিম বলেন, বুখারীর শর্তে এ হাদীষটি সাহীহ, কিন্তু বুখারী ও মুসলিম এর তাখরীজ করেন নি।

আল আলবানী বলেন, এই সানাদে ইসহাক বিন ইদ্রীস মুত্তাহাম বিল কাযিব।

এ বর্ণনাটি আছে আব্বাস বিন মুহাম্মাদ আদ দাওরী থেকে। তিনি বলেন, ইয়াহয়া বিন মাঈন বলেন, ইসহাক বিন ইদরীস আল বাসরী কাযযাব। ইমাম বুখারী বলেন, তাকে মানুষ তরক করেছিল। সুতরাং এই হাদীসটি এই সানাদে মাওদু'।

বুরাইদাহ বিন সুফিয়ান আল আসলামী কর্তৃক রিওয়ায়াতকৃত হাদীস:
* আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়া'কূব - আহমাদ বিন আবদুল জাব্বার ইউনুস বিন বুকাইর - মুহাম্মাদ বিন ইসহাক - বুরাইদাহ বিন সুফইয়ান আল আসলামী - আবুল ইয়াসার কা'ব বিন আম্র।
বলেন, আমি নাবী (ﷺ)-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি মানুষদের বায়আত নিচ্ছিলেন। আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাত প্রসারিত করুন। যাতে আমি বায়আত নিতে পারি। আমার উপর শর্তারোপ করুন, কেননা আপনিই শর্তের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, আমি তোমার বাইআত নিলাম এর উপর যে, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, মুসলিমদের প্রতি যত্নবান ও সহানুভুতিশীল হবে, মুশরিকদের হতে পৃথক থাকবে。

আল আলবানী বলেন, এতে বুরাইদাহ বিন মুসুফইয়ান আল আসলামী আছেন। আর তিনি লাইসা বিল কাওবী।

আমি আবু হাযম বলছি, এখানে পূর্বে আলোচিত আহমাদ বিন আব্দিল জাব্বার দাঈফ।
ইবনু হাজার বলেন, বুরাইদাহ বিন মুসুফইয়ান আল আসলামী লাইসা বিল কাওবী। কিন্তু আবু হাতিম বলেন, তিনি দাঈফুল হাদীস。

তবে আদ-দারাকুতনী বলেন, বুরাইদাহ মাতরুক!

অর্থাৎ এই হাদীসটি আসলে এই সানাদে মাওদু'!

খুলাসাহ:
১। সুনান তিরমিযীতে এই হাদীসটি নিজে দাঈফ হলেও তার শাহেদ সাহীহ। এই হাদীসটি আলফাযের দিক থেকে মূল হাদীস থেকে পৃথক হলেও গাইরু মুসলিমদের সাথে থাকার বিষয়ে এই সকল হাদীসের বিষয় এক। তাই যুবাইর আলীর বক্তব্য সত্যি যদি তা শুধু আলোচ্য হাদীসের সানাদের দিকে নির্দেশ করে থাকে। কিন্তু যদি সকল সানাদকে বিবেচনা করি তাহলে আমরা পাই আন নাসাঈর মাকবুল হাদীসটি আলোচ্য হাদীসের সাথে সহমত পোষণ করে।
২। মূল ফিকহী বিষয়টির দালীল আসলে আল কুরআনেও বিদ্যমান। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّهُمُ الْمَلَيْكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الارْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَئِكَ مَأْوَتُهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
“যারা নিজেদের আত্মার উপর যুলম করেছিল এমন লোকেদের প্রাণ হরণের সময় ফেরেশতারা তাদেরকে জিজ্ঞেস করে- 'তোমরা কোন কাজে নিমজ্জিত ছিলে? তারা বলে, 'দুনিয়ায় আমরা দুর্বল ক্ষমতাহীন ছিলাম', ফেরেশতারা বলে, 'আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যাতে তোমরা হিজরাত করতে'? সুতরাং তাদের আবাসস্থল হবে জাহানণাম এবং তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন স্থানা”

টিকাঃ
552 তিরমিযী ১৬০৪
553 সুনান আবু দাউদ ২৬৪৫, মু’জামুল কাবীর ১/১০৯/১, মু’জাম ইবনুল আরাবী ৮৪/১-২
554 আত তাকরীব ৫৮৪১
555 আনওয়ারুস সাহীফাহ ৯৬, সুনান আবু দাউদের হাদীসের ব্যাপারে নং ২৬৪৫
556 আল ফাতহুল মুবীন ক্রম ২/৬১, পৃষ্ঠা ৮৭, হাশিয়াহ
557 মীযানুল ই'তিদাল ৪/৫৭৫ নং ১০৬১৮
558 তারিখ বাগদাদ ১২/১২০ নং ৫৫১২
559 প্রাগুক্ত ১১/৬০৮ নং ৫৩৯৯
560 প্রাগুক্ত ২/২৪৮ নং ২৮০
561 তারীখ বাগদাদ ৩/১৩৪ নং ৭৫৬
562 জামে' আত তাহসীল ১০৯
563 তারীখ বাগদাদ ৫/৩৪৫ নং ২৭৭০
564 আল আ'লামুয যারকালী ২/৩২১
565 কাসীদাতুল মাকদিসী ৩৮
566 আত তাবয়ীন ৫০ নং ৬৩
567 মারাতিবুল মুদাল্লিসীন ক্রম ২/৬১
568 আত তাবাকাতুল কুবরা ৬/৩৬৪ নং ২৭২০
569 তাহযীবুত তাহযীব ৯/১৩৯
570 তারীখ বাগদাদ ৩/১৩৪ নং ৭৫৬
571 প্রাগুক্ত ৬/২৬ নং ২৫১৫
572 কিতাবুল আনসাব ৫/১৯৮ নং ৭৫৬
573 আত স্নিকাত ৮/১৯৩ নং ১২৯৩৪
574 আল ইকমাল ২/৪৫৩
575 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৩/৪৭ নং ২০৬
576 তারীখ দিমাশক ১৪/৪৩ নং ১৫১৭
577 ইরওয়াউল গালীল ৫/২৯ নং ১২০৮
578 সুনান আবী দাউদ ২৬৪৫
579 সুনান আত তিরমিযী ৪/১৫৫ নং ১৬০৫
580 বায়হাকী ৯/১২-১৩
581 ইলালুল হাদীষ ৩/৩৭০ নং ৯৪২
582 মারাতিবুল মুদাল্লিসীন ক্রম ৪/১১৮ ও আল ফাতহুল মুবীন, হাশিয়াহ ৬৯
583 মীযানুল ই'তিদাল ৪/৫৭৫ নং ১০৬১৮
584 প্রাগুক্ত ৪/৫৭৫ নং ১০৬১৮
585 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল ১/৩৭৮ নং ৭২৬
586 ফাতহুল বারী ১/৪৩৮
587 তারীখ ইবনু মাঈন রিওয়ায়াতুদ দাওরী ৩/৩৯৪ নং ১৯২০
588 মু’জামুল কাবীর ২/৩০৩ নং ২২৬৫
589 লিসানুল মীযান ১/১০৭ নং ৩১৮
590 তারীখ বাগদাদ ৩/৩৬ নং ৬৫৮
591 সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ ১৭/৪৪৭ নং ৩০০
592 লিসানুল মীযান ১/১০৭ নং ৩১৮
593 মু'জামুল কাবীর ২/৩০২ নং ২২৬১
594 শারহু ইলালিত তিরমিযী ২/৭৮১-৭৮২
595 মু'জামুল কাবীর ৪/১১৪ নং ৩৮৩৬
596 তাকরীব ১৪৩০
597 মারাতিবুল মুদাল্লিসীন ক্রম ১/৯
598 ফাতহুল মুবীন, হাশিয়াহ ২২
599 তাহযীবুত তাহযীব ২/৩৫৯ নং ৭২৫
600 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল রিওয়ায়াতু ইবনিহি আবদিল্লাহ ২/১৮৪ নং ১৯৪১
601 তাবাকাত আল কুবরা ৬/৩৬২ নং ২৭০৬
602 আস্লারুশ শায়খ আল-আল্লামাহ আব্দুর রাহমান বিন ইয়াইয়া আল মুআল্লিমী আল ইয়ামানী ১৬/৩৫৮
603 'আল জারই ওয়াত তা'দীল ৩/১৮৬ নং ৮০৩
604 আল মা'রিফাহ ওয়াত তারীখ ২/৬৪৬
605 তারীখ বাগদাদ ৯/৬৮ নং ৪২৬৬
606 তারীখ বাগদাদ ৬/৮ নং ২৪৮৫
607 প্রাগুক্ত ৩/৬৭ নং ৬৮৩
608 আস্ত্র মিকাত ৯/৮ নং ১৪৮৮৮
609 প্রাগুক্ত ৮/২১৭ নং ১৩০৮২
610 তাকরীব ৭৮৭২
611 নাসায়ী ৪১৭৭, আল বায়হাকী ৯/১৩, আহমাদ ৪/৩৬৫
612 তাকরীব ৯১১
613 আল জার্হ ওয়াত তা'দীল ২/৫০৫ নং ২০৭৯
614 আদ দুআফা' আল-কাবীর ১/১৯৯
615 সুনান বায়হাকী ৪/২৮১
616 আস্ত্র স্নিকাত ২/১৪৫ নং ৭০৯১
617 ইলালুত তিরমিযী আল কাবীর ১৩০ নং ২২৪
618 মারাতিবুল মুদাল্লিসীন ক্রম ১/৮
619 তা'রীফ আহলিল তাকদীস ১/২০, নং ৭
620 কাসীদাতুল মাকদিসী ৩৮
621 আত-তাদলীস ১৮৯-১৯০
622 আল ফাতহুল মুবীন ২১
623 তারীখ ইবনু মাঈন রিওয়ায়াতুদ দারিমী ৬০, নং ৮৮
624 তাকরীব ২৮১৬
625 প্রাগুক্ত ৮৪১০
626 সুনান নাসায়ী ৭/১৮০ নং ৪১৭৬
627 তাকরীব ২৭০৩
628 আত তাদলীস ৩/১১৬
629 আন নুকাত আলা ইবনিস সালাহ ২/৬৪০
630 সুনান নাসায়ী ৪১৭৭
631 আল মু'জামুল কাবীর ২৩১৫
632 সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' ২৫৪৭
633 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৬৭
634 ফাতহুল বারী ১/৪১৭
635 তারীখ বাগদাদ ১২/৪৩৭ নং ৫৭৭৫
636 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৬/৪৬, নং ২১৭
637 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৪/৩৯৪, নং ১৭২৪
638 প্রাগুক্ত ৬/৪৬, নং ২১৭
639 ফাতহুল বারী ১/৪১৭
640 তাকরীব ৩৭৯০
641 আল মু’জামুল কাবীর ২/৩১৬ নং ২৩১৬
642 তারীখ আসবাহান ১/১৫৩ নং ১২০
643 সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ ১৪/২৩৯
644 আল জার্হ ওয়াত তা’দীল ২/৩১৮, নং ১২০৪
645 তাকরীব ৩০৮৫
646 প্রাগুক্ত ৭৮২২
647 ইলালু আদ-দারাকুতনী ৩/৯১, নং ২৯৮
648 আস সুনান আল কুবরা ৬/৪৯৫, নং ১২৭৪৯
649 আস সুনান আল কুবরা ৯/২২, নং ১৭৭৫২
650 তাকরীব ৬৪
651 আল কামিল ফি দুআফায়ির রিজাল ১/৩১৪, নং ৩০
652 ইরওয়াউল গালীল ৫/৩২ নং ১২০৭
653 সুরা আত-তাওবাহ ৯: ১০১
654 আল ইহকাম ফী উসূলিল আহকাম ২/৩
655 ইবনু মাজাহ ২৫৩৬
656 তাকরীব ১৪৮৭
657 তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন ক্রম ২/৪৪
658 ফাতহুল মুবীন ৩৭
659 'আত তাদলীস পৃষ্ঠা ২৫৯-২৬০, ক্রম ২/৮৫
660 মীযানুল ই'তিদাল ১/৫৮৮ নং ২২৩৫
661 আত তাদলীস ২৫৯ ও ২৬০ পৃষ্ঠার হাশিয়া
662 তারিখ বাগদাদ ৪/৩৪ নং ১২০৫
663 তাবাকাতুল কুবরা ৬/৩৬৫, নং ২৭২৮
664 আল ফাতহুল মুবীন ৩৭, ২/৪৪ হাশিয়াহ
665 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল ১/৩৮৩, নং ৭৪৫
666 তারীখ ইবনু মাঈন রিওয়ায়াতুদ দারিমী ৯২, নং ২৪২
667 তাকরীব ১৪৮৭
668 সুআলাত আবী উবাইদ আল আজুররী আবা দাউদ আস সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তা'দীল ২০৮, নং ২৩৫
669 আল জারই ওয়াত তা'দীল ৩/১৩৩, নং ৬০০
670 আল কামিল ফিদ্ দুআফায়ির রিজাল ২/২৫৪, নং ২৯৯
671 আল জার ওয়াত তা’দীল ২/৪৩১, নং ১৭১৪
672 আল মাজরূহীন ১/১৯৪, নং ১৪২
673 সু’আলাত আল সিজযী লিল হাকিম ১৪৮, নং ১৫০
674 তাকরীব ৭৭২
675 তাহযীবুত তাহযীব ২/৪৫১, নং ৭৮৪
676 আল ইজলীর আল মিকাত তাবাআহ আল বায ১৩০
677 তাকরীব ১৪৭৮
678 ফাতহুল বারী ১/৪৫৭
679 আল মুহাল্লা ৪/১৬২
680 আস্ত্র স্নিকাত নং ২২৭৭
681 তাকরীব ১৪৭৮
682 আন নাসাঈ ২৫৬৮
683 সুআলাত আবী দাউদ লিল ইমাম আহমাদ ৩৪৮, নং ৫৩৫
684 আল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল আব্দুল্লাহর রিওয়ায়াতে) ৩/২৬৬ নং ৫১৭৫
685 তাহযীবুত তাহযীব ১০/২২৮
686 আল কিফায়াহ ২২৩
687 তারীখ বাগদাদ ৫/৫০১ নং ২৩৬২
688 প্রাগুক্ত ৩/৪৪ নং ৬৬৭
689 নাসলুন নাবাল ৩/৩৫৬, নং ৩৮২৩
690 ফাতহুল বারী ১/৪৪৮
691 আবূ দাউদ ২৭৮৭
692 তাকরীব ১৭০০
693 আনওয়ারুস সাহীফাহ পৃষ্ঠা ১০১
694 প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩০
695 আল মুহাল্লা ৪/৪০
696 তাকরীব ৯৪১
697 যাইল দিওয়ানিদ দুআফা ২৭ নং ৯৩
698 সাহীহাহ ২৩৩০
699 আল হাকিম ২/১৪১-১৪২
700 আল হাকিম ২/১৫৪, নং ২৬২৭
701 তারীখ ইবনু মাঈন - রিওয়ায়াহ আদ দাওরী ৪/৩৩৫ নং ৪৬৭৭
702 আত তারীখ আল কাবীর ১/৩৮২, নং ১২২০
703 হাকিম ৩/৫৭৭, নং ৬১৩৭
704 তাকরীব ৬৬১
705 আল জারই ওয়াত তা’দীল ২/৪২৪ নং ১৬৮৫
706 আদ দুআফা ওয়াল মাতরূকীন ১/২৬০, নং ১৩২
707 সুনান আন নাসাঈ ৪১৭৫
708 তিরমিযী ১৬০৪
709 সুরাতুন নিসা': ৯৭

আবূ মুআবিয়াহ ইসমাঈল বিন আবু খালিদ জারীর বিন আবদুল্লাহ( ) থেকে বর্ণিত: খাসআমদের অঞ্চলে রাসূলুল্লাহ( ) একটি ছোট বাহিনী প্রেরণ করেন। সিজদার মাধ্যমে সেখানকার জনগণ আত্মরক্ষা করতে চাইল। কিন্তু দ্রুততার সাথে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ( )এর নিকট আসলে তিনি তাদের অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ) দেওয়ার জন্য হুকুম দেন। তিনি আরো বলেন, মুশরিকদের সাথে যে সকল মুসলিম বসবাস করে আমি তাদের দায়িত্ব হতে মুক্ত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা কেন? তিনি বললেন: তাদের থেকে এইটুকু দূরে থাকবে যেন উভয়ের আগুন না দেখা যায়।

আবূ মুআবিয়াহ্ রিওয়ায়াতসমূহ:
একই রিওয়ায়াত সামান্য ভিন্ন মতনে আছে।

এই হাদীসটিকে যুবাইর আলী যাঈ দাঈফ সাব্যস্ত করেছেন, কেননা এতে আবূ মুআবিয়াহ হচ্ছেন মুহাম্মাদ বিন খাযিম আদ দারীর , যার ব্যাপারে তাদলীসের অভিযোগ আছে। একই সাথে তিনি বলেন এই হাদীসের সকল তারীকাহ দাঈফ।

এছাড়া যুবাইর আলী আলী আদ দারীরকে ইবনু হাজারের ২য় মর্তবায় মুদাল্লিস হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে তাকে ৩য় মর্তবায় রাখেন।

যুবাইর আলী বলেন, আয যাহাবী উল্লেখ করেন যে, তিনি তাদলীস করেছিলেন, আর আয যাহাবী ইয়া'কুব বিন শায়বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমি আবু হাযম বলছি, এ দাবী সানাদসহ তারীখ বাগদাদে নিম্নরূপে পেয়েছি
* উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন উস্নমান আল আযহারী - আব্দুর রাহমান বিন উমার আল খাল্লাল - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইয়া'কূব বিন শায়বাহ- ইয়া'কুব বিন শায়বাহ
উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন উসমান আল-আযহারী -স্নিকাহ - আব্দুর রাহমান বিন উমার আল খাল্লাল-স্নিকাহ- মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইয়া'কূব বিন শায়বাহ-স্নিকাহ - ইয়া'কূব বিন শায়বাহ-স্নিকাহ বলেন, তিনি স্নিকাহদের একজন ছিলেন, তবে হয়তো তিনি তাদলীস করেছেন। তিনি 'ইরজা' এর মত রাখতেন। (শুধু জরুরী অংশ তরজমা করলাম)।

সুতরাং এই সানাদটি সাহীহ।
যুবাইর আলী এরপর উল্লেখ করেন দুমাইনীর কিতাব আত তাদলীসের যার হাওয়ালা রয়েছে ২/১০৩ নাম্বারে ২৮০ পৃষ্ঠায়। দুমাইনী এখানে কিছু উলামা যেমন আলাঈর কাওল আনেন:
আহমাদ বিন আবু তাহের বলেছেন, তিনি (মুহাম্মাদ বিন খাযিম আবূ মুআবিয়াহ আয দারীর) তাদলীস করতেন।

আবুল ফাদল আহমাদ বিন আবী তাহের ২০৪ হিজরীতে জন্ম নেন ও ২৮০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মাজহুলুল হাল। খাতীব আল বাগদাদী তাঁর তারজুমাহ যতটুকু দিয়েছেন তা ব্যতীত আমি তাঁর ব্যাপারে আরও কিছু তা'দীল কিছুই পাইনি। আবু সাঈদ সালাহুদ্দীন আল আলাঈর জন্ম ৬৯৪ হিজরীতে। সুতরাং তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব ৪১৪ বছরের। একই সাথে আহমাদ বিন আবী তাহেরের অল্প কিছু ছাড়া সমস্ত বই-ই হারিয়ে গিয়েছে। আর আমরা আলাঈর বর্ণনাকৃত কাওলের উৎস সম্পর্কেও অবগত হতে পারছি না।

সানাদবিহীন কবিতায় আল মাকদিসী আহমাদ বিন আবু তাহের এর কওলটি উল্লেখ করেন। আল হালাবী কর্তৃকও আহমাদ বিন আবী তাহের থেকে একই কওল সানাদবিহীনভাবে উল্লিখিত হয়েছে।

আর দারাকুতনীর সূত্রে ইবনু হাজার সানাদ ছাড়াই আবূ মা'বিয়াহ্ তাদলীস করার ব্যাপারটি উল্লেখ করেছেন আর আমিও এর সানাদ অন্য কোথাও পাইনি।

দুমাইনী ইবনু সা'দ (দুমাইনীর হাওয়ালাতে) এর বক্তব্য নিয়ে এসেছেন যেখানে তিনি আবু মুআবিয়ার্কে বিবাহ দাবী করার পরও বলেছেন, তিনি অনেক হাদীসে তাদলীস করতেন।

ইবনু আম্মার বলেন, আমি আবূ মুআবিয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে সকল হাদীসে আমি হাদ্দাস্নানা বলেছি তা আমি মুহাদ্দিসের মুখ থেকে মুখস্থ করেছি। আর যা মুহাদ্দিসদের মুখ থেকে মুখস্থ করিনি বরং কিতাব থেকে আমাকে পড়ে শোনানো হয়েছে সেখানে আমি "যাকারা ফুলান" বলেছি। এ বক্তব্যটি সানাদসহ আছে, যার সানাদ এরূপ:

আবু বাকার আল বারকানী - আবুল ফাদল মুহাম্মাদ বিন আবৃদিল্লাহ ইবনু খুমাইরাবীহ আল হারবী - হুসাইন বিন ইদ্রীস - ইবনু আম্মার
আবু বাকার আল বারকানী স্নিকাহ। আব্দুল কারীম আস সামআনী বলেন, আবুল ফাদল মুহাম্মাদ বিন আব্দিল্লাহ ইবনু খুমাইরাবীহ আল হারবী স্নিকাহ। ইবনু হিব্বান হুসাইন বিন ইদ্রীসকে স্নিকাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনু মাকুলা বলেন, আল হুসাইন হাফিয ছিলেন অনেক হাদীসের অধিকারী । কিন্তু আবূ হাতিম এক অদ্ভুত ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আল হুসাইন তাঁকে তাঁর হাদীস থেকে একটি অংশ লিখে পাঠান, যেগুলো তাঁর শায়খ খালিদ বিন হাইয়াজ বিন বিসতাম থেকে বর্ণিত ছিল, যার প্রথম তিনটি হাদীসই বাতিল। আর তিনি নিশ্চিত ছিলেন না আসলে এই হাদীসগুলো খালিদের, না আল হুসাইনের।

ইবনু আসাকীর এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, এই রিওয়ায়াতগুলো নিশ্চিতই খালিদের।

আমার মতে, আবূ হাতিমের এই বক্তব্য অন্য সকলের বক্তব্যের উপর স্থান পাবে যারা তাঁর সাধারণভাবে প্রশংসা করেছে। আর হুসাইনের মরতবা আসলে সাদৃক ইনশা আল্লাহ্। আর ইবনু আমেরের বক্তব্য ইবনু সা'দের সাথেই মিলে গিয়েছে।
এ সকল কথা উল্লেখ করে দুমাইনী বলেন, সব মিলিয়ে তিনি ইবনু হাজারের সাথে একমত হয়েছেন যে আদ দারীর দ্বিতীয় মারতাবাতে।

কিন্তু আমার মতে ইবনু সা'দ এর বক্তব্য দ্বারা পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে যুবাইর আলীর মতটিই সঠিক ও আবূ মুআবিয়াহ আসলে তৃতীয় মর্তবার মুদাল্লিস। ওয়াল্লাহু আলামু।
আল আলবানী এ পুরো আলোচনাটি করেছেন তাঁর ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে। একই আলোচনা তিনি করেছেন সিলিসিলাতুল আহাদীস আস সাহীহাহ গ্রন্থে নং ৬৩৬ এ। আমরা এখানে সংক্ষেপে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ।

আল আলবানী বলেন, এই সানাদটি সাহীহ ও এই সকল রাবী মিকাহ শাইখানের গ্রন্থদ্বয় হতে। কিন্তু এই সানাদটি মুরসাল বলে এর উপর ইল্লাহ আরোপ করা হয়েছে।

আবূ দাউদ বলেন, এই সানাদটি একই সানাদে সাহাবী জারীরকে বাদ দিয়ে হুশাইম, মা'মার, খালিদ আল ওয়াসিতী ও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

আলবানী বলেন, আবু উবাইদ এই সানাদ এনেছেন "আল গারীব" এ (২/৭৫) হুশাইম থেকে, তিরমিযী আবদাহ থেকে, আন নাসাঈ (২/২৪৫) আবূ খালিদ থেকে আর উভয়েই ইসমাঈল বিন আবী খালিদ বিন আবী হাযিম থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিযী বলেন, এটিই সঠিক, ইসমাঈলের অধিকাংশ সাথীরা বলেছেঃ আন ইসমাঈল আন কায়স কিন্তু তারা জারীরকে উল্লেখ করেননি। আর হাম্মাদ বিন সালামাহ তা বর্ণনা করেছেন আন আল হাজ্জাজ বিন আরতাহ আন ইসমাঈল আন কায়স আন জারীর, আবূ মুআবিয়াহ রিওয়ায়াতকৃত হাদীসের মত। আমি মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী) কে বলতে শুনেছি: সঠিক হচ্ছে নাবী (স) থেকে কায়স্থ যা বর্ণনা করেছেন, তা মুরসাল।

আল আলবানী বলেন, ইবনু আরতাহ এর রিওয়ায়াতকে আল বায়হাকী নিম্নবর্ণিত শব্দসহকারে খুব সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছেন:
مَنْ أَقَامَ مَعَ الْمُشْرِكِينَ, فَقَدْ بَرِئْتُ مِنْهُ النِّمَّةَ
"যে ব্যক্তি মুশরিকদের মাঝে অবস্থান করবে, আমি তার জিম্মা হতে মুক্ত।"

ইবনু আবী হাতিম বলেন, হাজ্জাজ ব্যতীত আর কোন কুফী একে সানাদ আকারে বর্ণনা করেন নি। আল আলবানী আরও বলেন, আর হাজ্জাজ মুদাল্লিস। তাই তার মুতাবি' হাদীস এনে কোন লাভ নেই।

আবু মুআবিয়াহ সম্পর্কে দ্বিতীয় অভিযোগ: আমি আবূ হাযম বলছি: আল হাকিম বলেন, আবূ মুআবিয়াহ তাশাইউ'তে গুলু করতেন। কিন্তু আমি এই দাবীর স্বপক্ষে কোন সানাদ খুঁজে পাইনি।

আমি আবু হাযম বলছি, কিন্তু আমরা ইবনু আবী শায়বাহ থেকে তাঁর ব্যাপারে তাশাইয়ু' ও ইরজা' এর ব্যাপারে আপত্তি পেয়েছি। আর যদিও আমরা হাঁকিমের বক্তব্যের সানাদ পাইনি, এখানে কোন সন্দেহ নেই যে আদ দারীর শাইখানের রিজালের একজন। যদি আবূ মুআবিয়াহ্ মাঝে বিদআতের গুলু থাকত ও তিনি বিদআতের দিকে দাওয়াতকারী হতেন, সে ক্ষেত্রে শাইখান তাঁর থেকে কোন হাদীস্ব গ্রহণ করতেন না। সুতরাং আদ দারীর সত্যবাদী ও কোন বিদআতি মত প্রচার করেননি ইনশা আল্লাহ্।

ইবনু খিরাশ বলেন, তিনি শুধু আ'মাশের বর্ণনায় স্নিকাহ, অন্য সকল রিওয়ায়াতে ইদতিরাব করেন! তাই ইবনু খিরাশ বলেন, তিনি আসলে সাদুক, শুধু আ'মাশের বর্ণনায় স্নিকাহ। আমি এর সানাদ খুঁজে পাইনি।

আহমাদ পুত্র আবদুল্লাহ বলেন, আমি বাবাকে (আহমাদ) বলতে শুনেছি, তিনি আ'মাশ ব্যতীত আর সবার রিওয়ায়াতে মুদ্ধতারিব। তিনি উত্তমরূপে হিফয করেননি।

ইবনু হাজার তাঁর ফাতহুল বারীর মুকাদ্দিমাতে বলেন, বুখারী তাঁর (আবূ মুআবিয়াহ) থেকে আ'মাশ ব্যতীত আর কারো রিওয়ায়াত গ্রহণ করেননি।

আমি আবু হাযম লক্ষ্য করেছি মুসলিম তাঁর সাহীহ এর মধ্যে আদ দারীরকে দু'ভাবে উপস্থাপন করেন। হয় আ'মাশের বর্ণনায় নতুবা অন্য বর্ণনার শেষে শাহেদ বা মুতাবে' হিসেবে।

সুতরাং তাঁর ব্যাপারে হাকিমের বক্তব্য আধা বাস্তবতা। হাদীস্বটি দাঈফ হওয়ার এটিই সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য ইল্লাহ। অর্থাৎ মূলত: এই হাদীস্বটি মুদতারিব। ওয়াল্লাহু আ'লাম।

আব্বাস আদ দাওরী বলেন, ইয়াহয়া ইবনু মাঈন বলেছেন, আবূ মুআবিয়াহ উবাইদুল্লাহ বিন উমার থেকে মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আমি আবূ হাযম মনে করি, এ বিষয়টি উনার দুর্বল হিফযের কারণে হয়েছে, যেমনটি আহমাদ বলেছেন। ইনশা আল্লাহ্ এটি অনিচ্ছাকৃত। এটিও ইদতিরাবের উদাহরণ বৈ কিছু নয়, কেননা তা উবাইদুল্লাহ বিন উমার থেকে। আল্লাহু আ’লাম।

আবু দাউদ তাঁর সুনানে (২৬৪৫) বলেন:
قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هُشَيْمٌ وَمُعْتَمِرٌ وَخَالِدٌ الْوَاسِطِيُّ وَجَمَاعَةٌ لَمْ يَذْكُرُوا جَرِيرًا
এই বর্ণনাটি হুশাইম, মু’তামির, খালিদ আল ওয়াসিত্তী ও জামা’আহ বর্ণনা করেছেন কিন্তু কেউই সাহাবী জারীরকে উল্লেখ করেননি!

আমি আবু হাযম বলছি, এখানে আবু দাউদও সন্দেহ পোষণ করেছেন, কেননা অধিকাংশ বর্ণনায় কায়স সরাসরি মুরসাল আকারে এটি বর্ণনা করেছেন।

যাই হোক এ হাদীসটি এই তারীকাতে আসলে তিনটি কারণে দাঈফ। প্রথমত: ইদতিরাব, দ্বিতীয়ত: ইরসালের গন্ধ, আর তৃতীয়ত আবূ মুআবিয়াহ্ তাদলীস। আল্লাহু আ’লাম।

ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাইমূনের রিওয়ায়াত:
আল আলবানী বলেন, আগের হাদীসের মুতাবেক হচ্ছে সালেহ বিন উমারের এই বর্ণনা। কিন্তু তাঁর থেকে রিওয়ায়াতকারী ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাইমুন শি’আ ও স্নিকাহ নন。
আমি বলছি প্রথমত: এই সানাদে ইরসালের গন্ধ রয়েছে, কেননা কায়স এখানে জারীর থেকে আনআনাহ করছেন। ইবন হাজার বলেন, আল আসদী তাঁকে (ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাইমুন) আদ দুআফা গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন, "তিনি মুনকারুল হাদীস।"

আসলে তিনি আযদী আর তাঁর এই কিতাবটি “আদ দুআফা” মাফকূদ। এর সাথে সাথে এই আল আযদীর নাম আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আল হুসাইন বিন আহমাদ আর তাঁর নিজের ব্যাপারেই মাও' হাদীসের অভিযোগ আছে।

খাতীব আল বাগদাদী বলেন, আমাদের আবুন নাজীব আব্দুল গাফফার বিন আব্দিল ওয়াহিদ আল উরমাবিয়্যু বলেন, আমি মাওসূলবাসীদের দেখেছি, তারা আবুল ফাতহ আল আযদীকে একেবারেই পরিত্যাগ করছেন ও তাঁর থেকে কিছু গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, আমাকে মুহাম্মাদ বিন সাদাকাহ আল মাওসূলী বলেন, আবুল ফাতহ বাগদাদে আমেরের তথা ইবনু বুওয়াই’র কাছে এলো। তখন তিনি তাঁর জন্য একটি হাদীস বানিয়ে দেন। তিনি বলেন, এতে তিনি তাঁকে পুরস্কার দেন ও অনেক দিরহাম দেন। খাতীব আরো বলেন, আমি আবূ বাকার আল বারকানীর কাছে আবুল ফাতহ আল আযদীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি তাঁর দাঈফ হওয়ার ব্যাপারে ইশারাহ করেন। তিনি বলেন, তাঁকে আমি দেখেছি সমগ্র মাদীনাহ্ আসহাবুল হাদীসেরা তাঁকে চিনতেন না ও তাঁকে পরিত্যাগ করে চলতেন।

আব্দুল গাফফারের তারজুমাহ তারীখ বাগদাদে রয়েছে কিন্তু কোন জার্হ বা তা’দীল ব্যতীত। আর আমি তাঁর ব্যাপারে আর কোন জার্হ বা তা’দীল পাইনি। একমাত্র যাহাবী তাঁকে Hafiz বলেছেন।

ইবনু হাজার বলেন, ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাইমূন একেবারে কট্টর শিয়া ছিলেন। এরপর তিনি বলেন, আমি আবুল ফাদল আল হাফিযের লেখা থেকে নকল করছি, তিনি বলেছেন, এই ব্যক্তি স্নিকাহ নন।

উপরোক্ত বিশ্লেষণের পর আমার নিকট উক্ত হাদীসটি এই সানাদে দাঈফ বলেই বিবেচিত হয়েছে।

হাম্মাদ বিন সালামাহ্’র রিওয়ায়াত
'আলী বিন আবদুল আযীয — আর মুসলিম আল কাশী — হাজ্জাজ বিন আল মিনহাল — আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হানবাল — আল আব্বাস বিন আল ওয়ালীদ আন-নারসী — হাম্মাদ বিন সালামাহ — হাজ্জাজ — ইসমাঈল — কায়স বিন আবু হাযিম — জারীর বিন আবদুল্লাহ আল বাজালী

এই সানাদের মধ্যে বেশ কিছু ইল্লাত আছে। প্রথমতঃ এতে হাজ্জাজ বিন আরতাহ রয়েছেন, যিনি চতুর্থ মরতবার মুদাল্লিস, যা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।

দ্বিতীয়তঃ এতে ইদতিরাবের গন্ধ রয়েছে। কেননা হাম্মাদের হিফয শেষ বয়সে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। তাই যারা তাঁর কাছ থেকে পূর্বে শুনেছেন, তাঁর কিছু হাতে গোনা শায়খদের বর্ণনা থেকে, তাঁদের সামা' সঠিক ও সেসব বর্ণনাতে তিনি স্নিকাহ। বাকি সব ক্ষেত্রে তিনি সাদূক বলে গণ্য হবেন।

ইয়া'কূব বিন শায়বাহ বলেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ বিকিছু কিন্তু তাঁর হাদীসে সাংঘাতিক ইদতিরাব রয়েছে। কিন্তু তাঁর শুয়ুখদের থেকে তাঁর বর্ণনা ব্যতীত; সে সব ক্ষেত্রে তিনি হাসানুল হাদীস। তাঁদের মধ্যে রয়েছে স্মবিত আল বুনানী ও আম্মার বিন আবী আম্মার।

আষরামের রিওয়ায়াতে আহমাদ বলেন, আমি হুমাইদ হতে হাম্মাদের মত সুন্দর হাদীস আর কারো থেকে পাইনি। তিনি তাঁর থেকে আগে শুনেছিলেন। কিন্তু পরে আহমাদ মত দেন, হুমাইদের ব্যাপারে লোকেরা অনেক শক্ত ইখতিলাফ করেছে。
যাই হোক, হাজ্জাজ বিন আরতাহ তাঁর পুরানো শোনা শায়খদের মধ্যে একজন নন, যা উপরের আলোচনা থেকে বোঝা গেলো। আর এই তারীকাতে শায়খান না নির্ভর করেছেন, আর না ইজ্জাহ দিয়েছেন।

তৃতীয়তঃ উল্লিখিত হাদীসের সনদদ্বয়ের উভয়টি কায়স কর্তৃক জারীর হতে বর্ণিত, আর তাই উভয়টি মুরসাল।
সুতরাং উভয় সানাদই দাঈফ!

হাফস বিন গিয়াসের যত রিওয়ায়াতঃ
আবুয যিনবা' রাওহ ইবনুল ফারহ উমার বিন আবদুল আযীয বিন মিকলাস- ইউসুফ বিন আদী - হাফস বিন গিয়াস্ত্র - ইসমাঈল বিন আবূ খালিদ কায়স বিন আবূ হাযিম- খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খালিদ বিন ওয়ালীদকে খাসআম গোত্রের মানুষের কাছে পাঠালেন, তখন তারা (তাদের কিছু লোক) নিজেদের রক্ষার্থে সিজদারত হলো। তখন তিনি তাদের হত্যা করেন ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে তাদের ওয়ারিশদের অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ) প্রদানের আদেশ দেন। তিনি বললেন: আমি ঐ মুসলিম থেকে দায়মুক্ত যারা মুশরিকদের মধ্যে বসবাস করে। তিনি বললেন: তাদের থেকে এইটুকু দূরে থাকবে যেন উভয়ের আগুন না দেখা যায়।

আল আলবানী বলেন, এই সানাদের সকলে স্নিকাহ ও বুখারীর রাবী। কিন্তু ইবনু গিয়াস্ত্র ব্যতীত, কেননা তিনি তাঁর (জীবনের শেষ দিকে) হিফযে সামান্য ভুলভ্রান্তি করেছেন।
আমি আবূ হাযম বলছি, তবে হাফস বিন গিয়াস্নকে ইবনু হাজার তাদলীসের ক্ষেত্রে প্রথম মরতবায় বর্ণনা করেন কিন্তু যুবাইর আলী তাঁকে তৃতীয় মরতবায় উল্লেখ করেন, কেননা তাঁর তাদলীস প্রমাণিত। তিনি এ ক্ষেত্রে নিচের কারণসমূহ উল্লেখ করেছেন,
১। আল আস্বরামের রিওয়ায়াতে আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, হাফস তাদলীস করতেন।

কিন্তু আমি আবূ হাযম বলছি, আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে আহমাদ হাফসের তাদলীসের বর্ণনা দেন。
২। ইবনু সা’দের বক্তব্যঃ كانَ ثِقَةً مَأْمُونًا ثَبْتًا إِلا أَنَّهُ كَانَ يُدَلِّسُ তিনি স্নিগ্ধ মা’মূন স্থাবত কিন্তু তিনি তাদলীস করতেন。
সুতরাং আমার নিকট হাফসের মুদাল্লিস হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলেও তাঁর তৃতীয় মর্তবাতে হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। কেননা যাকে তৃতীয় মর্তবাতে রাখা হবে তার অনেক তাদলীস থাকতে হবে। আমরা জানি না হাফসের তাদলীসের সংখ্যা কেমন ছিলো, শুধু জানি তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু আমার নিজের কায়িদাহ আছে এ ক্ষেত্রে যা ইবনুস সালাহ ও ইবনু হাযমের মাঝামাঝি। আমি বলি যদি কালীলুত তাদলীস রাবীর তাদলীসের তারীকাহ উম্মোচিত হয়, সে ক্ষেত্রে তাঁর অন্যান্য তারীকাহ থেকে হাদীস নিতে কোন সমস্যা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর এই সব তারীকাহ অনেক বেশী না হবে। আর যদি তা হয়, তাহলে তার তাহদীস না পাওয়া পর্যন্ত তার হাদীস গ্রহণ করা হবে না।
এ ক্ষেত্রে আমরা জানি না হাফস কোন তারীকাতে তাদলীস করেছেন, হয়তো তা বেশী বা কম ছিলো। কিন্তু ইবনু সা’দ ও আহমাদের আকওয়ালের ধরণ তার স্বভাবগত তাদলীসের দিকে ইশারাহ করে।
তাই আমরা ইবনুস সালাহর কাঈদাহতে চলবো ও তার আনআনাহ কবুল করবো না।
তবে আমাদের আগেই অনেক আলিম যাঁদের মধ্যে হাফিয মু’আল্লিমী হাফসকে মুদাল্লিস বলেন。
আমার মনে হয় এখানে আসলে বিষয়টি শুধু তাদলীসের না। এখানে আরো একটি ইল্লাহ আছে।
আবূ যুরআহ বলেন, কাজী নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর হিফ্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। সুতরাং যে তাঁর বই থেকে লিখেছে তা সঠিক, বাকি সব যেন তেন।
ইয়া'কূব বিন সুফইয়ান আল ফাসবী মুহাম্মাদ বিন আবদির রাহীম - আলী ইবনুল মাদীনি - ইয়াহয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলতেন, হাফস স্মবত। আমি (আলী) বললাম, তিনি তো ওয়াহম করেছেন, তাই নয় কি? তিনি (ইয়াহয়া) বললেন, তাঁর কিতাব সাহীহ।

ইয়াইয়া বিন মা'ঈন থেকে বর্ণিত বাগদাদ ও কুফাতে হাফস তাঁর হিফ্য ছাড়া আর কোন ভাবে হাদীস বর্ণনা করেননি। আর তিনি এ সময় কিতাব থেকে বর্ণনা করেননি। তাঁর হিফ্য থেকে তিন বা চার হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ করা হয়!
উপরোক্ত বক্তব্যের সানাদটি নিম্নরূপ:
আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল কাতিব স্নিকাহ, মুহাম্মাদ বিন হুমাইদ আল মুখাররিমী স্নিকাহ, সানাদের ইবনু হিব্বان হচ্ছেন আবূ খালীফাহ ফাদল বিন আমর যাকে তাওসীক করেছেন ইবনু হিব্বان ও তাঁর পিতা আমর আল হাব্বাব যাকে ইবনু হিব্বান স্নিকাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এ কওলটির সানাদ সাহীহ।
আলোচ্য হাদীসে হাফসের ছাত্র হচ্ছেন ইউসুফ বিন আদী ও তিনি কুফাবাসী! ,
সুতরাং এই হাদীস্থটির সনদও দাঈফ!
এখানে আরো একটি বিষয় হচ্ছে যারা হাসান লি গাইরিহিতে বিশ্বাস করেন, তারা এখানে এই সানাদের মতনকে শাষ আখ্যা দিতে পারেন দুটো কারণেঃ
প্রথমত: একই মাতানের অধিকাংশ কায়স থেকে বর্ণিত মুরসাল আকারে। সেখানে খালিদ বিন ওয়ালিদের কোন উল্লেখ নেই।
দ্বিতীয়ত: মারফু' আকারে যারা বর্ণনা করছেন সকলেই বর্ণনাকারী হিসেবে জারীরের নাম উল্লেখ করেছেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ সেই যুদ্ধে নেতৃত্ব হয়তো দিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি হাদীস্বটি বর্ণনা করেছেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আমাদের বদ্ধমূল ধারণা, এটি হাফসের ইদতিরাব। সম্ভবত শায়খ এখানে কিছুটা এলোমেলো করে জারীরের স্থলে খালিদ বিন ওয়ালিদের নাম বলে থাকতে পারেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
আবু ওয়াইলের যত রিওয়ায়াত:
প্রথম হাদীস:
মুহাম্মাদ বিন কুদামাহ - জারীর বিন হাযিম - মানসূর - আবু ওয়ায়িল - আবূ নুখাইলাহ আল বাজালী - জারীর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ() এর নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম সালাত আদায় করার, যাকাত প্রদান করার, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শুভ কামনার এবং মুশরিকদের থেকে পৃথক থাকার।

আমি আবু হাযম বলছি, এখানে প্রথম জারীর হচ্ছেন জারীর বিন হাযিম বিন যাইদ আল আযদী।

আবূ হাতিম বলেন, জারীর বিন হাযিম সাদূক। তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর এক বছর পূর্বে জারীর বিন হাযিমের হিফ্য পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল।

আল উকাইলী বলেন, আবূ আব্দিল্লাহ (আহমাদ বিন হানবাল) বলেন, কাতাদাহ হতে তাঁর হাদীস মানুষের (হুবহু) হাদীস নয়। একরকম শুনে অন্যরকম কথা সংযুক্ত করেছেন।

আল আস্ত্ররাম বলেন, আবূ আবদিল্লাহ (আহমাদ বিন হানবাল) বলেছেন, জারীর ওয়াহম নিয়ে হাদীস্ব বর্ণনা করতেন। আমি বললাম, তিনি কি লোকেদের কেবল মিশরেই ওয়াহম নিয়ে বর্ণনা করেননি? তিনি বললেন, সেখানে এবং অন্যত্রও। তিনি আরো বলেন, জারীর কাতাদাহ্ থেকে কিছু হাদীস সংযোগ করেছেন যা বাতিল।

ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি ভুল করতেন, কেননা তিনি অধিকাংশই তাঁর হিফ্য থেকে বর্ণনা করতেন।

তিরমিযী বলেন, আমি তাঁকে (বুখারীকে) বললাম, জারীর বিন হাযিম কেমন ছিলেন? তিনি বললেন, তাঁর কিতাব সঠিক। কিন্তু হয়তো তিনি ওয়াহম করেছেন।

সুতরাং ইনি সাদূক, যেমনটি আবূ হাতিম বলেছেন।
ইবনু হাজার তাঁকে তাদলীসের প্রথম মরতবাতে উল্লেখ করেছেন। ইয়াহয়া আল হামানী তাঁকে তাদলীসের দোষে দুষ্ট করেন। যার সানাদটি হলো: اله عن أبي حازم عن سهل عن سعد নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের সিফাতের হাদীস। আল মাকদিসী তাঁর আগে জারীরকে মুদাল্লিস বলে দাবী করেন। কিন্তু দুমাইনী বলেন, তিনি এই রিওয়ায়াতটি তুহফাতুল আশরাফ, মুসনাদ আহমাদ, সুনান দারাকুতনীতে খুঁজে পাননি। আর তাঁকে যিনি মুদাল্লিস বলছেন সেই আল হামানী নিজেই একজন বড় মুদাল্লিস। আমি বলছি এই সানাদটি মাফকূদ। আর এমনটি না হলে তাঁর তাদলীসের তাদীকাটি উন্মোচিত হতো। কিন্তু যা পাওয়া যায়না তার উপর কোন হুকুম দেওয়া যায় না। যুবাইর আলীও জারীর বিন হাযিমকে তাদলীস মুক্ত ঘোষণা দিয়েছেন। যাই হোক জারীর এখানে মানসূর থেকে আন দিয়ে বর্ণনা করার এতে কোন সমস্যা নেই ইনশা আল্লাহ।
উসমান বিন সাঈদ আদ দারিমী বলেন, ইয়াহয়া বিন মাঈনকে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনার কাছে মানসূরের থেকে করা রিওয়ায়াত কারটি বেশী পছন্দ? জারীরের না শারিকের? তিনি বললেন, জারীর মানসূর সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে ভাল জানতেন।
এ থেকে প্রমাণিত হয় জারীরের মানসূর হতে বর্ণনাতে কোন সমস্যা নেই, বরং তা পছন্দনীয়।
হাদীসের সানাদের আবূ ওয়াইল হচ্ছেন শাকীক বিন সালামাহ আল আসাদী। ইনি স্নিকাহ। আর আবূ নুখাইলাহ আল বাজালী হচ্ছেন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু。

এই সানাদের বাকি সবাই স্নিকাহ কিন্তু জারীর বিন হাযিমের উপস্থিতির কারণে শাহেদ বা মুতাবে' হাদীস না পাওয়া পর্যন্ত হাদীসটিকে হুজ্জা হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না।

দ্বিতীয় হাদীস:
মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ – আল হাসান বিন রাবী' - আবুল আহওয়াস - আ'মাশ - আবু ওয়ায়িল - আবূ নুখাইলাহ আল বাজালিয়্যু - জারীর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট, সালাত আদায়ের, যাকাত প্রদানের, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শুভ কামনার এবং মুশরিকদের থেকে পৃথক থাকার ব্যাপারে বায়আত গ্রহণ করলাম।

আমি বলছি এই আবুল আহওয়াস হচ্ছেন সালাম বিন সালীম আল কুফী আল হানাফী। ইনি স্নিকাহ। এই সানাদের বাকি সবাই স্নিকাহ। কিন্তু আল আ'মাশ তাঁর তাদলীসের জন্য মাশহুর। ইবনু হাজার তাঁকে দ্বিতীয় মরতবায় রাখলেও আদ দুমাইনী বলেন, তিনি অনেক তাদলীস করতেন, এমনকি দাঈফ ও মাতরূক লোকেদের থেকেও তাদলীস করেছেন। এমন ব্যক্তির হাল তৃতীয় বা চতুর্থ মরতবায় হওয়ার কথা, দ্বিতীয় মর্তবায় নয়। তাই আদ দুমাইনী তাঁকে তৃতীয় মরতবায় রাখেন। আরও আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে ইবনু হাজার নিজেই তাঁকে তৃতীয় মর্তবায় রেখেছেন। সুতরাং এ হাদীসটি এই সানাদে দাঈফ।

তৃতীয় হাদীস:
পুবিশ্ব বিন খালিদ - গুনদার - শু'বাহ - সুলাইমান - আবূ ওয়ায়িল - জারীর (হাদীসের অনুবাদ উপরে উদ্ধৃত হয়েছে)। আমি আবু হাযম বলছি, এই সানাদের সকলেই সাহীহ। এই সানাদটি অত্যন্ত চমৎকার ও সাহীহ। এ পর্যন্ত সর্বোত্তম সানাদ। একই সাথে এটি সুনান আন নাসায়ীর (৪১৭৭) হাদীসের মুতাবে', তবে এই হাদীসটি আবু ওয়াইল আবু নুখাইলাহকে বাদ দিয়ে সরাসরি জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমার মনে হয় আবু ওয়াইল শুরুতে আবু নুখাইলার কাছ থেকে শুনলেও পরে জারীর থেকেও সরাসরি শুনে থাকতে পারেন, সে অর্থে আলোচ্য সানাদটি আ'লা। আল্লাহই ভালো জানেন।
উপরের তিনটি হাদীসকে আল আলবানী ও যুবাইর আলী উভয়েই সাহীহ বলেছেন।
একই সাথে এই হাদীসটি থেকে প্রমাণিত হয়, আবু দাউদ (২৬৪৫) এর অর্থের দিক থেকে মুতাবে' হাদীস রয়েছে। যদিও একই তারীখের নয়, কিন্তু তা জারীর হতেই!

চতুর্থ হাদীস:
আল-হুসাইন বিন ইসহাক আল-তুস্তারী - আবদুল হামীদ বিন সালিহ - আবু শিহাব - আ'মাশ - আবু ওয়ায়িল - জারীর বলেন, আমি বললাম ও ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে বায়আত করান ও আমার উপর শর্ত দিন কেননা আপনিই অধিক জানেন। তখন তিনি হাত প্রশস্ত করলেন ও বাইআত গ্রহণ করলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, মুসলিমদের ব্যাপারে সচেতন হবে, কাফির থেকে দূরে থাকবে।

আয যাহাবী বলেন, আল হুসাইন বিন ইসহাক আল তুস্তারী হাফিয ছিলেন। আবূ হাতিম বলেন, আব্দুল হামীদ বিন সালেহ আল কূফী সাদূক।

আবু শিহাব আব্দুর রহমান বিন নাফে' সম্পর্কে ইবনু হাজার আন নাসায়ীর কওল নকল করে বলেন, তিনি কাওবী নন। কিন্তু আমি এর সানাদ পাইনি।
খাতীব আল বাগদাদী বলেন, ইয়া'কূব বিন শায়বাহ বলেছেন, তিনি স্নিকাহ অনেক হাদীসের অধিকারী ছিলেন। মানুষ হিসেবে সালেহ ছিলেন কিন্তু মুতকিন লোক ছিলেন না। তাঁর হিফযের ব্যাপারে লোকেরা নানা কথা বলেছে।

এর সানাদটি সাহীহ যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলী ইবনুল মাদিনী বলেন, আমি ইয়াহয়া আল কাত্তানকে বলতে শুনেছি আবূ শিহাব আল হান্নাত হাফিয ছিলেন না।
এর সানাদটি নিম্নরূপ:
এই সানাদের রাবী সালেহ বিন আহমাদকে আবু হাতিম সাদৃক স্নিকাহ বলেছেন。
এই সানাদের সকলেই স্নিকাহ, তাই সানাদটি সাহীহ।
আবূ হাতিম বলেন, আবূ শিহাব সালেহুল হাদীস।

ইবনু হাজার বলেন, তাঁর থেকে তিরমিযী ব্যতীত অনেকেই বর্ণনা করেছেন। আর এটি পরিষ্কার যে তাঁর (আবূ শিহাব) উপর তাদঈফ যারা করেছেন তাঁরা তাঁর আকরানদের মতের উপর নির্ভর করে এ কাজটি করেছেন।

যাই হোক, আমাদের গবেষণা থেকে এ কথা পরিষ্কার যে আবু শিহাব সাদূক, ঠিক যেমনটি ইবনু হাজার বলেছেন। ওয়াল্লাহু আ’লাম।

এরপরেই আছে আল আ’মাশ। সুতরাং এই হাদীসটি এই তরীকাতে দাঈফ, যদিও এর মতনটি সাহীহ কেননা উপরে আমরা একই মতনের সাহীহ তারীকাহ পেয়েছি।

শাকীক বিন সালামাহ্‌র রিওয়ায়াত:
আহমাদ বিন আলী আল জারুদী - উসাইদ বিন আসিম - আমির বিন ইব্রাহীম - ইয়া’কুব আল কুমিয়্যি - আবু রাবী’ - আ’মাশ - শাকীক বিন সালামাহ - জারীর বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাত প্রশস্ত করুন, আমি আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করি। আপনিই আমাকে গ্রহণ করুন কেননা আপনি শর্তের ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, আমি তোমার বায়আত গ্রহণ করলাম এই মর্মে যে তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুর শরীক করবেনা। সালাত কায়েম করবে। যাকাত আদায় করবে। মুসলিমদের ব্যাপারে সচেতন হবে। মুশরিকদের থেকে দূরে থাকবে。

আহমাদ বিন আলী আল জারুদী তাবারানীর শিক্ষক সম্পর্কে শায়খ আবু নুআইম আল আসবাহানী বলেন তিনি হাফিয, মুতাক্কিন। আর যাহাবীও অনুরূপ বলেছেন। ইবনু আবী হাতিম উসাইদ বিন আসিম কে স্নিকাহ বলেছেন。

আমীর বিন ইবরাহীম সিকাহ। ইবনু হাজার বলেন, ইয়া'কূব আল কুম্মিয়্যি সাদুক ইয়াহিমু (ভ্রান্তি করতেন) যা তিনি নকল করেন আদ দারাকুতনী থেকে। তিনি বলেন, লাইসা বিল কাওয়ী।
এরপরেই রয়েছেন আল আ'মাশ। সুতরাং এই হাদীসটি এই তারীকাতে দাঈফ, যদিও এর মতনটি সাহীহ। কেননা উপরে আমরা একই মতনের সাহীহ তারীকাহ পেয়েছি।

আল আলবানী এখানে আবুল আহওয়াসের সানাদকে মানসুরের সাথে মিলে যাওয়ার কারণে তুলনামূলক কাওবী বলেছেন ও তাকে সাহীহ বলেছেন। আমার নিকট এ হাদীসটির সানাদ দাঈফ! আল্লাহু আ'লাম

সাহাবী হওয়ার দাবীদার মুবহাম (অনুল্লেখিত) বেদুঈনের ঘটনা:
আবূ আবদুল্লাহ আল হাফিয — আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়া'কূব — আল আব্বাস ইবনু মুহাম্মাদ — রাওহ বিন উবাদাহ — কুররাহ বিন খালিদ ইয়াযীদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ শিখখীর বলেন, আমরা উটের খোঁয়াড়ে বসে ছিলাম। আমাকে সেখানকার মানুষের ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে গত এক বছরের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছিলো। তখন আমাদের কাছে মরুবাসী (বেদুইন) এক ব্যক্তি এলো। আমরা যখন তাঁকে দেখলাম, তখন বললাম, এই ব্যক্তি মনে হয় এ অঞ্চলের নয়। তিনি বললেন, জী হ্যাঁ। এ কারণেই তাঁর চামড়ার টুকরোতে একটি কিতাব রয়েছে। অথবা হয়তো তিনি বলেছিলেন, থলেতে। সেই লোকটি বললো, এই কিতাবটি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য লিখে দিয়েছেন। এতে রয়েছে:

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। নাবী মুহাম্মাদ হতে বনী যুহাইর বিন উকাইশের প্রতি। আর তা হচ্ছে উকল অঞ্চলের একটি গ্রাম। তোমরা সালাত কায়েম, যাকাত আদায়, মুশরিকদের থেকে নিজেদের পৃথক রাখা এবং গানীমাতের সম্পদ হতে এক পঞ্চমাংশ ও এরপর সাফী অথবা সাফিয়্যাহ (নাবীর (ﷺ) অংশ) দান করলে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের প্রতিরক্ষায় সুরক্ষিত।
তারা বলল, দাও দেখি, আল্লাহ্ তোমার সুব্যবস্থা করুন, আমাদের তুমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছ তা থেকে বর্ণনা কর। সে বলল, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি:

সবরের মাসে (রামাদান) ও প্রত্যেক মাসে তিন দিন (আইয়ামে বীদ) সাওম পালন অন্তরের বহু কাঠিন্যতা দূর করে দেয়।

কুররা বললেন, আমি তাঁকে বললাম, অন্তরে অপরের ক্ষতি করার বাসনা? তিনি বললেন, না, অন্তরের কাঠিন্যতা। একদল লোক বললো, আপনি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছেন? তখন তিনি সেই সহীফাহর প্রতি যত্নশীল হলেন ও তা নিজের কব্জায় নিলেন। এরপর দ্রুত সে স্থানটি ত্যাগ করতে করতে বললেন:
আমি তোমাদেরকে দেখছি তোমরা আমার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ()-এর উপর মিথ্যারোপের আশংকা করছ? আল্লাহ্র কসম, আজকে আমি তোমাদের একটি হাদীসও রিওয়ায়াত করবনা।

আমি আবু হাযম বলছি, এই হাদীসের সব রাবী স্নিকাহ। আল-হামদুলিল্লাহ। কিন্তু এ হাদীস্বটিতে সাহাবী হওয়ার দাবীদারের নাম উল্লেখ নেই।

আবূ আবদুল্লাহ আল হাফিয - আবু সাঈদ বিন আবূ আম্র - আহমাদ বিন আবদুল জাব্বার - আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়া'কূব - য়ুনুস বিন বুকাইর - কুররাহ বিন খালিদ - ইয়াযীদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ শিখখীর (উপরের হাদীস্বটির অনুবাদ সামান্য শব্দের তারতম্য ছাড়া প্রায় অনুরূপ)

আহমাদ বিন আব্দিল জাব্বারকে ইবনু হাজার দাঈফ বলেছেন।

ইবনু আদী বলেন, আহলে ইরাক তাঁর দাঈফ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর তিনি যার তার থেকে রিওয়ায়াত করা থেকে নিজেকে রক্ষা করতেন না। ইবনু আদী আরো বলেন, তিনি তাঁর হতে কোন মুনকার হাদীস্ব জানেন না, কিন্তু লোকেরা তাঁর তাদঈফ করেছে, কেননা তিনি তাদের থেকে বর্ণনা করতেন যাদের থেকে তিনি শোনেননি。
সুতরাং এই সানাদটি দাঈফ।

আল আলবানী বলেন, এ সানাদটি সাহীহ ও সাহাবী অজ্ঞাত হওয়াটা আসলে সমস্যাজনক নয়。
আমি আবূ হাযম বলছি, এই কায়িদাহর সাথে আসলে সবাই একমত নন। মুবহাম সাহাবীকে ইবনু হাযম অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। তিনি বলেন, সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জমানায় মুনাফিক ও মুরতাদও ছিলো। সুতরাং কারো এই দাবী যে আমাকে সাহাবীদের মধ্যে একজন রিওয়ায়াত করেছেন বা আমাকে রাসুলুল্লাহ(ﷺ)-এর সাহচর্য পেয়েছেন এমন একজন বলেছেন বললেই তা গ্রহণ করা হবে না, যদি না তাঁর নাম প্রকাশ করা হয় ও তাঁর রাসুলুল্লাহ(ﷺ)-এর সাথে সাহচর্য মা'লুম হয়। আল্লাহ্ বলেন:
وَمِمَّنْ حَوْلَكُم مِّنَ الْأَعْرَابِ مُنَافِقُونَ وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَرَدُوا عَلَى النِّفَاقِ لَا تَعْلَمُهُمْ نَحْنُ نَعْلَمُهُمْ سَنُعَذِّبُهُم مَّرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ )
“তোমাদের চতুষ্পার্শ্বে কতক বেদুঈন হল মুনাফিক, আর মাদীনাবাসীদের কেউ কেউ মুনাফিকীতে অন্তর্ভুক্ত, তুমি তাদেরকে চেন না, আমি তাদেরকে চিনি, আমি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দেব, (ক্ষুধা বা নিহত হওয়া এবং কবরের শাস্তি) অতঃপর তাদেরকে মহা শাস্তির পানে ফিরিয়ে আনা হবে।”

আমি মনে করি এই হাদীসের বেদুইন সম্পর্কে ইয়াযীদ বিন আব্দিল্লাহ আসলে জানতেন না, পুরোটা ছিলো ঐ বেদুঈনের দাবী। আর এই ব্যক্তি সম্পর্কে জানার কোন রাস্তাই আর অবশিষ্ট নেই। আর তাবেঈর নিকট থেকে এই ব্যক্তির হালও কোন দিক থেকেই পরিষ্কার হয়নি। সুতরাং নিশ্চিত হওয়া গেল এই ব্যক্তি আসলে মাজহুলুল আইন! অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের দুটো বিষয়ে পার্থক্য করতে হবে। তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে, তাবেঈ কর্তৃক কোন সাহাবীকে জানা সত্ত্বেও তার নাম উল্লেখ না করেই রিওয়ায়াত করা। অপরটি হচ্ছে তাবেঈর ঐ ব্যক্তি সম্পর্কেই অবগত না হওয়া অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি তাবেঈর কাছে মাজহুল। আলোচ্য হাদীসে ইয়াযীদ বিন আবদিল্লাহ সাহাবী হওয়ার দাবীদার ব্যক্তির পরিচয়েই জানতেন না। সে ক্ষেত্রে এই হাদীস কবুল করার কোন রাস্তা রইলনা যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা তাঁর পরিচয় ও হাল সম্পর্কে জানতে পারি। সেক্ষেত্রে উভয় হাদীসই দুঃখজনকভাবে দাঈফই গণ্য হবে।

বাহ্য বিন হাকীম এর রিওয়ায়াত: প্রথম হাদীস:
আবূ বকর ইবন আবী শায়বাহ - আবূ উসামাহ - বাহ্য বিন হাকীম - হাকীম - মুআবিয়াহ বিন হাইদাহ আল কুশাইরী বলেন, রাসূলুল্লাহ () বলেছেন: আল্লাহ ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় শির্কে লিপ্ত হওয়া মুশরিকের কোন আমল কবুল করেন না, যতক্ষণ না সে মুশরিকদের থেকে পৃথক হয়ে মুসলিমদের নিকট ফিরে আসে।

আল আলবানী এর সানাদকে হাসান বলেছেন। একই সাথে যুবাইর আলীও একে সাহীহ বলেছেন।

কিন্তু এই সানাদে আবু উসামাহ হচ্ছেন হাম্মাদ বিন উসামাহ বিন যাইদ ইবনু হাজারের মতে ইনি স্নিকাহ স্নাবত। কিন্তু ইবনু হাজার তাঁকে দ্বিতীয় তাবাকার মুদাল্লিস হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু যুবাইর আলী তাঁকে তাদলীস মুক্ত মনে করেন。
দুমাইনীর যুক্তি ছিলো হাম্মাদ বিন উসামাহর বিরুদ্ধে দু' প্রকার অভিযোগ পাওয়া যায়।
তাঁর মধ্যে একটি হচ্ছে আল আযদীর রিওয়ায়াতে আল মুআয়তী বলেছেন, তিনি অনেক তাদলীস করতেন। এরপর তিনি তাঁকে তরক (পরিত্যাগ) করেন।

আয যাহাবী বলছেন, আযদী সুফইয়ান সাওরীর থেকে সানাদবিহীন বলেন, সুফইয়ান হাম্মাদ সম্পর্কে বলেন, তিনি মানুষের মধ্যে উত্তম হাদীয়ের ব্যাপারে অনেক বড় চোর ছিলেন। আয যাহাবী এই সানাদবিহীন দাবীকে বাতিল করে দিয়েছেন। কেননা, তাঁর থেকে আহমাদ, আলী (ইবনুল মাদিনী), ইবনু মাঈন ও ইবনু রাহাবীহ বর্ণনা করেছেন。
দুমাইনী বলেন, তা'রীফ আহলিত তাকদীস ৫৯ পৃষ্ঠায় আল কুফতীর বর্ণনা আছে তাঁর ব্যাপারে। কিন্তু তিনি আল আযদীর আগে মুআয়তী বা আল কুফতী বলে কেউ ছিল বলে কোন প্রমাণ পাননি!
আসলে এই মুআয়তী হচ্ছেন আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ বিন উমার আল মুআয়তী, ইনি বিক্রেতা। কিন্তু তাঁর উপরের বক্তব্যের কোন সানাদ আমি পাইনি। আল্লাহু আ'লাম।
আমার মতে আসলে এ বিষয়টি কঠিন। কেননা, আল আযদীর আল দুআফা গ্রন্থটি মাফকূদ! ওয়াল্লাহুল মুসতাআন।
এসব কথার মধ্যে একমাত্র গ্রহণযোগ্যতার ধারে কাছের কথাটি হচ্ছে ইবন সা'দ থেকে। তিনি বলেন, তাঁর বর্ণিত অনেক হাদীস ছিলো। তিনি তাদলীস করতেন ও তাঁর নিজের তাদলীসকে বায়ান করতেন。
একারণে দুমাইনী তাঁকে প্রথম তবাক্বায় রাখেন।

পক্ষান্তরে যুবাইর আলী বলেন, এর অর্থ তাঁর আনআনাহ আসলে তাঁর সামা' এর সম্ভাবনার সাথে সম্পর্কিত। সে ক্ষেত্রে তিনি মুদাল্লিস নন, কেননা কেউ তাঁর তাদলীসের বিষয়টি পরিষ্কার করে দিলে, সে ক্ষেত্রে তাকে মুদাল্লিস বলা হয়না। সুতরাং তিনি তাদলীসমুক্ত。

আমি যুবাইর আলীর সাথে একমত পোষণ করছি। কেউ যদি কালীলুত তাদলীস হয় ও তাঁর তাদলীসের বায়ান করে দেয় অথবা তাঁর তাদলীসের তারীকাহগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পারি, তাহলে বাকি সব তারীকাতে আমরা তাঁকে বিশ্বাস করতেই পারি যদি সে স্নিকাহ হয়। আর এই বিশেষ ক্ষেত্রে তাঁর আনআনাকে তাদলীসে গণনা করা হবে না কেননা, তিনি তা বায়ান করে দিতেন। ওয়াল্লাহু আ'লাম।

আহমাদ বলেন, হাম্মাদ স্বাক্ত ও তিনি যে বিষয়ে দৃঢ় ছিলেন, সে বিষয়ে ভুল করতেন না।

আদ দারিমী বলেন,
وَسَأَلْتُ يَحْيىٰ قُلْتُ أَبُو أُسَامَة أَحَبُّ إِلَيْكَ أَوْ عَبْدَة بن سُلَيْمَانِ فَقَالَ مَا مِنْهُمَا إِلَّا ثِقَة
আমি ইয়াহয়া বিন মাঈনকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আবূ উসামাহকে না আব্দাহ বিন সুলাইমানকে বেশী পছন্দ করেন? তিনি বলেন, উভয়েই স্নিকাহ ভিন্ন কিছু নন।

হাফিয ইবনু হাজার বলেন, তিনি (হাম্মাদ) শেষ জীবনে অন্যের কিতাব থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন।

আল আজুররী বলেন- আবু দাউদ বলেন- ওয়াকী' বলেন, আমি আবূ উসামাহকে ধার করা কিতাব থেকে রিওয়ায়াত করতে নিষেধ করেছিলাম। তিনি তাঁর কিতাবসমূহ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

এ কারণে আবূ হাতিম বলেন, আবু উসামাহ, তাঁর লেখনী সাহীহ ও হাদীসের দিক থেকে তিনি দাবত সম্পন্ন উত্তম সাদূক।

আমার ধারণা আবূ হাতিম তাঁকে তাঁর শেষ বেলায় অন্যের কিতাব থেকে বর্ণনার কারণে সাদৃক বলে থাকতে পারেন। তবে অন্যের কিতাব থেকে তাঁর মুনকার হাদীস বর্ণনার সে রকম কোন দালীল পাওয়া যায় না। সে অর্থে তিনি সাদূক হাসানুল হাদীস।

ইবনু আদী আল জুরজানী বাহয বিন হাকিমের ব্যাপারে বলেন, তিনি মিকাহদের থেকে রিওয়ায়াতে ‘লা বা’সা বিহি’।

কিন্তু আল জার ওয়াত তা’দীলে রয়েছে, আবু হাতিম বলেন, তিনি শায়খ, তাঁর হাদীস লেখা হয় কিন্তু হুজ্জাহ দেওয়া হয়না। আবু হাতিমকে প্রশ্ন করা হয় আম্ম বিন শুআইব আন আবীহি আন জাদ্দিহি কে পছন্দ করেন না বাহয বিন হাকিম আন আবীহি আন জাদ্দিহি। আবু হাতিম বলেন: আম্ম বিন শুআইব আন আবীহি আন জাদ্দিহি। আবু যুরআহ বলেন, বাহয বিন হাকিম সালেহ কিন্তু তিনি মাশহুর নন。
ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি (বাহয) অনেক ভুল করতেন। যদিও আহমাদ, ইসহাক বিন ইবরাহীম তাঁকে দিয়ে হুজ্জাহ দেন ও তাঁর থেকে রিওয়ায়াত করেন, তাঁকে আমাদের ইমামদের একটা জামাআত বর্জন করেন。
আল হাকিম বলেন, তিনি বাসরী মিকাহদের একজন। আল সাহীহ থেকে তাঁর রিওয়ায়াত আন আবীহি আন জাদ্দিহি বাদ দেয়া হয়েছে, কেননা শায ও সাহীহতে তাঁর কোন মুতাবে’ নেই。

সুতরাং বাহয প্রকৃতপক্ষে শুধু সাধুক ছিলেন, যেভাবে ইবনু হাজার বলেছেন。

আল নাসাঈ বাহযের পিতা হাকিম বিন মুআবিয়াহ বিন হাইদাহ সম্পর্কে বলেন, লাইসা বিহী বা’স。
কিন্তু এর কোন সানাদ আমি খুঁজে পাইনি।

আল ইজলী তাঁর ব্যাপারে বলেন, তিনি তাবেঈ মিকাহ। ইবনু হাজার তাকরীবে হাকীমকে সাদূক বললেও ফাতহুল বারীতে বলেন, ইবনু হাযম একে শায ও দাঈফ ঘোষণা করেছেন।

ইবনু হাযম আসলে বলেছেন: বাহয বিন হাকীমের আদালাহ গাইর মাশহুর। তাঁর পিতা হাকীমের অবস্থাও অনুরূপ।
ইবনু হাযমের বক্তব্য শুধু হাকিমের বেলায় সত্যি। কেননা বাহযকে অনেক নাকীদ তা'দীলও করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আহমাদ, আলী ইবনুল মাদীনি, আন নাসাঈ, আত তিরমিযী প্রমুখ। কিন্তু তাঁর পিতার তাওসীক করেছেন আল ইজলী। আর ইবনু হিব্বানও তাঁকে স্নিকারে তালিকায় রেখেছেন। এ দুইজন ব্যতীত আমি হাকিমের ব্যাপারে আর কারো তা'দীল পাইনি। তাই আমি বিশ্বাস করি তিনি সাদুক হাসানুল হাদীস ইনশা আল্লাহ্ ইবনু হাজার। যেমনটি বলেছেন। কেননা তিনি মুতাকাদ্দিমদের নিকট গাইর মাশহুর। হাকীমের পিতা মুআবিয়াহ বিন হাইদাহ আল কুশাইরী সাহাবী。
সুতরাং এই আলোচনার পর আমরা এই সানাদের এই হাদীস দিয়ে কোন হুজ্জাহ দেবনা, কেবল লেখা হবে ও নজর বিশ্লেষণ করা হবে।

দ্বিতীয় হাদীস:
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আলা - মু’তামির বিন সুলাইমান - বাহ্য বিন হাকীম - হাকীম - মুআবিয়াহ বিন হাইদাহ আল কুশাইরী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নাবী! আমি আপনার কাছে আসার পূর্বে আমার উভয় হস্তের অঙ্গুলীসমূহের সংখ্যার চেয়েও অধিক সংখ্যক শপথ করেছিলাম যে, আমি আপনার কাছে আসব না এবং আপনার ধর্মও গ্রহণ করব না। এখন আমি এমন এক ব্যক্তি, যে আল্লাহ তাআলা এবং তদীয় রাসূলের শিখানো শিক্ষা ছাড়া আর কিছুই আমি জানি না। আমি আল্লাহর ওয়াস্তে (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) আপনার কাছে জানতে চাই আল্লাহ তাআলা আপনাকে কি সহ আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে ইসলামসহ পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, ইসলামের পরিচয় কি? তিনি বললেন, তুমি বলবে যে, আমি স্বীয় চেহারা আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরিয়ে দিলাম এবং শিরক পরিত্যাগ করলাম। এবং তুমি সালাত আদায় করবে, যাকাত আদায় করবে। প্রত্যেক মুসলিম অন্য মুসলিমের জন্য সম্মানের পাত্র; তারা ভাইয়ের ন্যায় একে অন্যের সাহায্যকারী। আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের ইসলাম গ্রহণের পরও তাদের কোন আমল কবুল করবেন না যতক্ষণ না তারা মুশরিকদেরকে পরিত্যাগ করে মুসলিমদের কাছে এসে যায়।

মুহাম্মাদ বিন আব্দিল আ’লা স্নিকাহ। কিন্তু আল মু’তামিরের ব্যাপারে কিছু কালাম আছে।
আবূ দাউদ বলেন, আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি, মু’তামির Hafiz ছিলেন, যখনই আমরা তাঁর কাছে কিছু জানতে চাইতাম তখন তাঁর কাছে সে বিষয়ে কোন না কোন বক্তব্য থাকতো।

কিন্তু আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ রিওয়ায়াত করেন, আমার পিতা বলেন, প্রথমবার যখন আমরা মু’তামিরের সাথে বসি তখন তিনি মাগাযী থেকে তাঁর পিতা ও অন্যদের হতে মুরসাল হাদীস পড়ছিলেন। সেসবের আমরা কিছুই বুঝতে পারলাম না ও সেগুলো থেকে কিছুই লিখলাম না। এরপর তিনি আমাদেরকে তাঁর পিতা মাধ্যমে আর তার পিতা মুগীরাহ হতে কিছু হাদীস পড়ে শুনান। সেখান থেকে আমি শুধু তাঁর কিতাব কিতাবু খালক হতে সালেহ হাদীসসমূহ তা’লীক করি। আর হিমসের হাদীসসমূহের ক্ষেত্রে আমরা সেগুলো লিপিবদ্ধ করি তিনি আমাদের পড়ে শুনান। তিনি সে সকল হাদীস আমাদের পড়ে শোনান ও এসব ক্ষেত্রেও তিনি অপরের গ্রন্থে ফেরত যান। ফুদাইল বিন মাইসারার কিতাবের ক্ষেত্রে আমরা সমস্ত মুরসাল লিখলাম ও সমস্ত মুসনাদকে তরক করলাম একটি ব্যতীত যা আমরা লিখলাম ও সেটিও কিতাবে তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু মুগীরাহর হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে শুধু একটি নিলাম। আব্দুল্লাহ এর পর বলেন, আমার বাবা বলেন, মু'তামির হিফযে জাইয়িদ ছিলেন না।

যদি কোন রাবীর ব্যাপারে কোন নাকীদের দুটো কাওল পাওয়া যায়, তাহলে আমরা জার্হ সম্বলিত কওলকেই প্রাধান্য দেব, যদি না তা'দীলের মধ্যে জারহের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার বিষয়টি পরিষ্কার হয়। তাই এ ক্ষেত্রে আমরা আব্দুল্লাহর বর্ণনাকেই সামনে রাখব ইনশা আল্লাহ্।

ইবনু খিরাশ বলেন, তিনি (মু'তামির) সাদৃক ইয়ুখতি' যদি তিনি তাঁর হিফয থেকে রিওয়ায়াত করতেন, কিন্তু তিনি তাঁর কিতাব থেকে রিওয়ায়াত করলে তিনি স্নিকাহ।

খাতীব আল বাগদাদী বলেন,
ইয়াহয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, যদি তোমাদের আল মু'তামির বিন সুলাইমান কোন রিওয়ায়াত করেন তবে তা প্রত্যাখ্যান কর। কেননা তিনি সাইয়িউল হিফয।

এই সানাদে আহমাদ বিন আলী বিন মুসলিম হচ্ছে আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আলী বিন মুসলিম। খাতীব বলেন, তিনি স্নিকাহ, হাফিয, মুতকীন। এছাড়া তাঁকে একই গ্রন্থে সাহীহ সানাদে তাওসীক করেছেন আদ-দারাকুতনী ও অন্যরা।

এখানে ইবনুল ফাদল হচ্ছেন মুহাম্মাদ বিন আল হুসাইন বিন আল ফাদল। খাতীব তাঁর তাওসীক করেছেন।

এই কওলটির সানাদের অবশিষ্ট সকলেই স্নিকাহ। সুতরাং ইয়াহয়া বিন সাঈদ আল কাত্তানের এই সানাদটি সাহীহ।

আবূ ইসহাক আল হুওয়াইনী বলেন, ইয়াহয়া ইবনুল কাত্তান ও ইবন খিরাশের মু’তামিরের সাইয়িউল হিফয হওয়ার ব্যাপারে জাহটি আসলে গুলু! আয যাহাবী এর রদ করে বলেন, তিনি মুতলাকভাবে স্নিকাহ।

আল হুওয়াইনী মু’তামিরের এই স্নিকাহ হওয়ার ক্ষেত্রে আয যাহাবীর রদ ব্যতীত আর কোন কারণ দেখান নি। আমরা কিভাবে একজন মুতাক্বাদ্দিমের জাহকে আলোচ্য রাবীর জমানা থেকে অনেক দূরের যাহাবীর মত একজন মুতাআখখীরের বক্তব্যের কারণে অগ্রাহ্য করব, যেখানে আল কাত্তান ও আহমাদের কাওল সাহীহ সানাদে আছে ও ইবনু খিরাশের মন্তব্য তাঁদের পক্ষেই যায় যদিও সে কাওলের কোন সানাদ নেই। তাই বরং আমাদের কাছে আল মু’তামির সাদৃক সাইয়ি’উল হিফয ইনশা আল্লাহ্।

ইবনু হাজার আল মু’তামিরের ব্যাপারে বলেন, বুখারী তাঁর থেকে অধিকাংশ যা কিছু তাখরীজ করেছেন সেগুলো অন্য সাহীহ হাদীসের মুতাবে’। বাকি সকলেই তাঁকে দিয়ে হুজ্জাহ দিয়েছেন।

তাই এখানে অনেক শক্ত ইশারাহ আছে যে, বুখারী তাঁকে সাদৃক হিসেবেই নিয়েছেন। আমরা তাই এ সুপ্রসিদ্ধ ইমামের পথচলাতেই পা মেলাব ইনশা আল্লাহ্।

সুতরাং এই হাদীসটি দিয়েও কোন হুজ্জাহ দেওয়া হবে না। বরং কেবল লেখা হবে ও নজর বিশ্লেষণ করা হবে ইনশা আল্লাহ্।

সামুরাহ বিন জুনদুব কর্তৃক রিওয়ায়াতকৃত হাদীস:
প্রথম হাদীস:
* মুহাম্মদ বিন দাউদ বিন সুফইয়ান - ইয়াহয়া বিন হাসান - সুলাইমান বিন মূসা আবু দাউদ জা'ফর বিন সা'দ বিন সামুরাহ বিন জুনদুব - খুবাইব বিন সুলাইমান- সুলাইমান বিন সামুরাহ বিন জুনদুব সামুরাহ বিন জুনদুব সূত্রে বর্ণিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: কেউ কোনো মুশরিকের সাহচর্যে থাকলে এবং তাদের সাথে বসবাস করলে সে তাদেরই মতো।

এই হাদীসটি সম্পর্কে যুবাইর আলী বলেন, এখানে খুবাইব বিন সুলাইমান মাজহুল ও জা'ফার বিন সা'দ বিন সামুরাহ বিন জুনদুব দাঈফ। এই হাদীসের সব শাওয়াহিদ দাঈফ। আবু দাউদের ৪৫৬ নং হাদীসের তাহকীকে যুবাইর আলী জা'ফার সম্পর্কে বলেন, তাঁকে জুমহুর মুহাদ্দিসগণ দাঈফ বলেছেন।

আমি বলছি, জা'ফার বিন সা'দ বিন সামুরাহ বিন জুনদুবের ব্যাপারে মুতাকাদ্দিমদের থেকে জারহ বা তা'দীল কিছুই পাওয়া যায় না। ইবনু হাযম এই সানাদটি উল্লেখ করে বলেন, সামুরাহ বিন জুনদুবের হাদীস সাকিত। কেননা সুলাইমান বিন মূসা থেকে সামুরাহ পর্যন্ত এ দুইজনের মাঝে সমস্ত রাবী মাজহুল - তারা কারা জানা নেই।

মুতা'আখখিরদের মধ্যে ইবনু হাজার বলেন, তিনি লাইসা বিল কাওয়ী। কিন্তু আমরা জানিনা তিনি কোথা থেকে এ হুকুম নিয়ে এলেন। আমার কাছে যা পরিষ্কার হয়েছে তা হচ্ছে জা'ফর মাজহুলুল হাল যেভাবে ইবনু হাযম বলেছেন। আয় যাহাবীও এ কথা উল্লেখ করেন। বড় আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আমরা জানি না যুবাইর আলী কোথা থেকে বললেন, জুমহুর জা'ফারের উপর তাদঈফ করেছেন, বরং আমরা তাদের তাজহীল পেয়েছি।

আল আলবানী এই হাদীসটির আলোচনা করেছেন সিলসিলাহ আল আহাদীস আস সাহীহাহ গ্রন্থে। আল আলবানী উপরে দেওয়া একই কারণ দেখিয়ে এই সনাদটিকে দাঈফ বলেছেন। একই সাথে এই তরীকাতে সমস্ত হাদীসকে তিনি দাঈফ বলেছেন। তবে উভয় দাঈফ হাদীস একত্রে হাসান লি গাইরিহী বলেছেন।

এই সনাদটিতে মুসালসাল মাজহুল রয়েছে — যেমনটি করে ইবনু হাযম বলেছেন। সুতরাং এই সনাদে হাদীসটি দাঈফ।

দ্বিতীয় হাদীস:
* আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব — মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আস সাগানী — ইসহাক বিন ইদরীস — হাম্মাম — কাতাদাহ — হাসান — সামুরাহ বিন জুনদুব (নবী) হতে, “তোমরা মুশরিকদের মাঝে বসবাস করনা ও তাদের সাথে একত্র হবে না। যে তাদের মাঝে থাকবে বা তাদের সাথে একত্রিত হবে সে আমাদের মধ্যে গণ্য নয়।” হাকিম বলেন, বুখারীর শর্তে এ হাদীষটি সাহীহ, কিন্তু বুখারী ও মুসলিম এর তাখরীজ করেন নি。

আল আলবানী বলেন, এই সানাদে ইসহাক বিন ইদ্রীস মুত্তাহাম বিল কাযিব।

এ বর্ণনাটি আছে আব্বাস বিন মুহাম্মাদ আদ দাওরী থেকে। তিনি বলেন, ইয়াহয়া বিন মাঈন বলেন, ইসহাক বিন ইদরীস আল বাসরী কাযযাব। ইমাম বুখারী বলেন, তাকে মানুষ তরক করেছিল। সুতরাং এই হাদীসটি এই সানাদে মাওদু'।

বুরাইদাহ বিন সুফিয়ান আল আসলামী কর্তৃক রিওয়ায়াতকৃত হাদীস:
* আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়া'কূব - আহমাদ বিন আবদুল জাব্বার ইউনুস বিন বুকাইর - মুহাম্মাদ বিন ইসহাক - বুরাইদাহ বিন সুফইয়ান আল আসলামী - আবুল ইয়াসার কা'ব বিন আম্র।
বলেন, আমি নাবী (ﷺ)-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি মানুষদের বায়আত নিচ্ছিলেন। আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাত প্রসারিত করুন। যাতে আমি বায়আত নিতে পারি। আমার উপর শর্তারোপ করুন, কেননা আপনিই শর্তের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, আমি তোমার বাইআত নিলাম এর উপর যে, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, মুসলিমদের প্রতি যত্নবান ও সহানুভুতিশীল হবে, মুশরিকদের হতে পৃথক থাকবে。

আল আলবানী বলেন, এতে বুরাইদাহ বিন মুসুফইয়ান আল আসলামী আছেন। আর তিনি লাইসা বিল কাওবী।

আমি আবু হাযম বলছি, এখানে পূর্বে আলোচিত আহমাদ বিন আব্দিল জাব্বার দাঈফ।
ইবনু হাজার বলেন, বুরাইদাহ বিন মুসুফইয়ান আল আসলামী লাইসা বিল কাওবী। কিন্তু আবু হাতিম বলেন, তিনি দাঈফুল হাদীস。

তবে আদ-দারাকুতনী বলেন, বুরাইদাহ মাতরুক!

অর্থাৎ এই হাদীসটি আসলে এই সানাদে মাওদু'!

খুলাসাহ:
১। সুনান তিরমিযীতে এই হাদীসটি নিজে দাঈফ হলেও তার শাহেদ সাহীহ। এই হাদীসটি আলফাযের দিক থেকে মূল হাদীস থেকে পৃথক হলেও গাইরু মুসলিমদের সাথে থাকার বিষয়ে এই সকল হাদীসের বিষয় এক। তাই যুবাইর আলীর বক্তব্য সত্যি যদি তা শুধু আলোচ্য হাদীসের সানাদের দিকে নির্দেশ করে থাকে। কিন্তু যদি সকল সানাদকে বিবেচনা করি তাহলে আমরা পাই আন নাসাঈর মাকবুল হাদীসটি আলোচ্য হাদীসের সাথে সহমত পোষণ করে।
২। মূল ফিকহী বিষয়টির দালীল আসলে আল কুরআনেও বিদ্যমান। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّهُمُ الْمَلَيْكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الارْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَئِكَ مَأْوَتُهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
“যারা নিজেদের আত্মার উপর যুলম করেছিল এমন লোকেদের প্রাণ হরণের সময় ফেরেশতারা তাদেরকে জিজ্ঞেস করে- 'তোমরা কোন কাজে নিমজ্জিত ছিলে? তারা বলে, 'দুনিয়ায় আমরা দুর্বল ক্ষমতাহীন ছিলাম', ফেরেশতারা বলে, 'আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যাতে তোমরা হিজরাত করতে'? সুতরাং তাদের আবাসস্থল হবে জাহানণাম এবং তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন স্থানা”

টিকাঃ
691 আবূ দাউদ ২৭৮৭
692 তাকরীব ১৭০০
693 আনওয়ারুস সাহীফাহ পৃষ্ঠা ১০১
694 প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩০
695 আল মুহাল্লা ৪/৪০
696 তাকরীব ৯৪১
697 যাইল দিওয়ানিদ দুআফা ২৭ নং ৯৩
698 সাহীহাহ ২৩৩০
699 আল হাকিম ২/১৪১-১৪২
700 আল হাকিম ২/১৫৪, নং ২৬২৭
701 তারীখ ইবনু মাঈন - রিওয়ায়াহ আদ দাওরী ৪/৩৩৫ নং ৪৬৭৭
702 আত তারীখ আল কাবীর ১/৩৮২, নং ১২২০
703 হাকিম ৩/৫৭৭, নং ৬১৩৭
704 তাকরীব ৬৬১
705 আল জারই ওয়াত তা’দীল ২/৪২৪ নং ১৬৮৫
706 আদ দুআফা ওয়াল মাতরূকীন ১/২৬০, নং ১৩২
707 সুনান আন নাসাঈ ৪১৭৫
708 তিরমিযী ১৬০৪
709 সুরাতুন নিসা': ৯৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00