📄 ইলমুল গায়েবের দাবীদার
৬. ইলমুল গায়েবের দাবীদার: 'গায়েব' হচ্ছে এমন বিষয় যা মানুষ থেকে লুকায়িত ও অদৃশ্য। গায়েব দু ধরনের:
ক. বর্তমান কালের গায়েব: এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই বিষয় উপস্থিত সময়ে কারো নিকট জানা এবং কারো নিকট অজানা থাকতে পারে। যার নিকট তা অজানা, তা তার জন্য গায়েব।
খ. ভবিষ্যৎ কালের গায়েব: এটিই হচ্ছে প্রকৃত গায়েব যা কেবল আল্লাহ্ ব্যতীত কিংবা রাসূলগণের মধ্যে যাকে আল্লাহ্ অবহিত করেছেন, সেই রাসূল ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। কাজেই কেউ যদি তা জানার দাবি করে, তাহলে সে অবশ্যই কাফির বলে গণ্য হবে। কেননা এই দাবির মাধ্যমে সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে থাকে।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
قُل لَّا يَعْلَمُ مَنَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللهُ وَمَا يَعْلَمُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ
“বল, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জীবিত ক'রে উঠানো হবে।”
আর যেখানে মহান আল্লাহ্ তাঁর নাবী মুহাম্মাদ (ﷺ) কে নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি যেন বিশ্ববাসীকে সুস্পষ্টভাবে এ কথা জানিয়ে দেন যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আসমান ও যমীনের আর কেউই গায়েব সম্পর্কে জানে না, সেখানে কারো গায়েব জানার দাবি করার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে এ বার্তাতে অস্বীকার করা।
যারা গায়েবী বিষয় সম্পর্কে জানে বলে দাবি করে তাদেরকে আমরা বলবো, যেখানে নাবী (ﷺ) গায়েবী বিষয় সম্পর্কে জানতেন না সেখানে তোমাদের পক্ষে গায়েবী বিষয় সম্পর্কে জানা কি করে সম্ভব হতে পারে?
তাহলে সবচেয়ে মর্যাদাবান কে, তোমরা নাকি রাসূল? এই প্রশ্নের উত্তরে তারা যদি বলে ‘আমরা রাসূল (ﷺ) থেকে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান’ তাহলে তো তারা এ কথা বলে সরাসরি কুফর করলো। আর যদি তারা বলে রাসূল (ﷺ) তাদের থেকে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান, তাহলে আমরা তাদেরকে বলবো, তাহলে রাসূল (ﷺ) থেকে গায়েবী বিষয় কেন লুকিয়ে রাখা হলো অথচ তোমরা গায়েবী বিষয় সম্পর্কে জানো?!
যেখানে আল্লাহ্ নিজেই ইরশাদ করেছেন:
عَلِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا إِلَّا مَنِ ارْتَضَىٰ مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمَا خَلْفَهُ رَصَدًا
“একমাত্র তিনিই অদৃশ্যের জ্ঞানী, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না। তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত। কেননা তিনি তখন তাঁর রসূলের আগে-পিছে পাহারাদার নিযুক্ত করেন।”
এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, যে ব্যক্তি গায়েবের জ্ঞান রাখে বলে দাবি করে, সে কাফির।
টিকাঃ
507 সূরা আন-নামল ২৭: ৬৫
508 সূরা আল-জিন ৭২: ২৬-২৭
📄 আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ভিন্ন আইন দ্বারা বিচার ফায়সালাকারী
৭. আল্লাহ্র অবতীর্ণ বিধানভিন্ন আইন দ্বারা বিচার ফায়সালাকারী: আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিধান দিয়ে বিচার ফায়সালা করা হলো তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ বা প্রতিপালকত্বে আল্লাহ্র একত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার অন্তর্ভুক্ত বিষয়। কেননা আল্লাহ্ হুকুম বাস্তবায়ন করা হলো তাঁর রুবুবিয়্যাহ (প্রতিপালকত্ব) এবং তাঁর পরিপূর্ণ রাজত্ব ও ক্ষমতার দাবি। এজন্য আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিধান বহির্ভূত যাদেরকে অনুসরণ করা হয়, আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের অনুসারীদের রব্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِن دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَّا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْعْنَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
“আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা তাদের 'আলিম আর দরবেশদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে; আর মারইয়াম-পুত্র মাসীকেও। অথচ তাদেরকে এক ইলাহ ব্যতীত (অন্যের) ইবাদাত করার আদেশ দেয়া হয়নি। তিনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, পবিত্রতা আর মহিমা তাঁরই, (বহু ঊর্ধ্বে তিনি) তারা যাদেরকে (তাঁর) অংশীদার গণ্য করে তাথেকে।”
কাজেই আল্লাহ্ ব্যতীত যাদেরকে তারা অনুসরণ করছে, তাদেরকে তিনি ‘আরবাব’ (‘রব’ শব্দের বহুবচন) বলে অভিহিত করেছেন। কেননা তারা আল্লাহ্র সাথে তাদেরকে (নকল রব্ব) শরীআহ প্রবর্তক সাব্যস্ত করেছে। আর যারা তাদেরকে অনুসরণ করছে, তাদেরকে তিনি এদের উপাসনাকারী বলে অভিহিত করেছেন। কেননা তারা আল্লাহ্র হুকুমের বিরোধিতা করে এসব মিথ্যা রবের প্রতি আত্মসমর্পন করেছে ও তাদের আনুগত্য করেছে।
عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَفِي عُنُقِي صَلِيبٌ مِنْ ذَهَبٍ . فَقَالَ يَا عَدِيُّ اطْرَحُ عَنْكَ هَذَا الْوَثَنَ " . وَسَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فِي سُورَةِ بَرَاءَةَ : اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِن دُونِ اللَّهِ قَالَ أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ وَلَكِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا أَحَلُّوا لَهُمْ شَيْئًا اسْتَحَلُّوهُ وَإِذَا حَرَّمُوا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوهُ
আদী ইবনু হাতিম ( ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি গলায় স্বর্ণের ক্রুশ পরে নাবী ( ) এর সামনে এলাম। তিনি বললেন: হে ‘আদী! তোমার গলা হতে এই প্রতীমা সরিয়ে ফেল। আর আমি তাঁকে সূরা বারাআতের নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করতে শুনলাম: “আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা তাদের ‘আলিম আর দরবেশদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে।” তারপর তিনি বললেন: তারা অবশ্য তাদের পূজা করত না। তবে তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হালাল বলত তখন সেটাকে তারা হালাল বলে মেনে নিত। আবার তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হারাম বলত তখন নিজেদের জন্য উহাকে হারাম বলে মেনে নিত।
উপরোল্লিখিত কথাগুলো বুঝার পর এবার জেনে রাখুন, যারা আল্লাহ্ যা (কুরআন-সুন্নাহ) নাযিল করেছেন তা দিয়ে বিচার-ফায়সালা করে না, বরং বিচার-ফায়সালার ক্ষেত্রে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ( ) এর বিধান ব্যতীত অন্য কোন বিধান অনুযায়ী তা করে থাকে, তাদের সম্পর্কে বর্ণিত কোন কোন আয়াতে তাদের ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, আবার কোন কোন আয়াতে তাদের কুফ্র, যুগ্ম (অত্যাচার) এবং ফিস্ক (পাপাচার) উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম প্রকার: যেমন মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكِ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَنُ أَنْ يُضِلَّهُمُ ضَلَلًا بَعِيدًا وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنْفِقِينَ يَصُدُّونَ عَنْكَ صُدُودًا فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا أُولَئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللَّهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُلْ لَهُمْ فِي أَنْفُسِهِمْ قَوْلًا بَلِيغًا وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
"তুমি কি সেই লোকেদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা তোমাদের প্রতি অবর্তীর্ণ কিতাবের এবং তোমার আগে অবতীর্ণ কিতাবের উপর ঈমান এনেছে বলে দাবী করে, কিন্তু তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, অথচ তাকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, শায়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে বহুদূরে নিয়ে যেতে চায়। যখন তাদেরকে বলা হয়- তোমরা আল্লাহর অবর্তীর্ণ কিতাবের এবং রসূলের দিকে এসো, তখন তুমি ঐ মুনাফিকদেরকে দেখবে, তারা তোমা হতে ঘৃণা ভরে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। যখন তাদের কৃতকার্যের জন্য তাদের উপর বিপদ আপতিত হবে, তখন কী অবস্থা হবে? তখন তারা আল্লাহর নামে শপথ করতে করতে তোমার কাছে এসে বলবে, ‘আমরা সম্ভাব ও সম্প্রীতি ছাড়া অন্য কিছু চাইনি।’ তারা সেই লোক, যাদের অন্তরস্থিত বিষয়ে আল্লাহ পরিজ্ঞাত, কাজেই তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর, তাদেরকে সদুপদেশ দান কর, আর তাদেরকে এমন কথা বল যা তাদের অন্তর স্পর্শ করে। আমি রসূল এ উদ্দেশেই প্রেরণ করেছি, যেন আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হয়। যখন তারা নিজেদের উপর যুলম করেছিল, তখন যদি তোমার নিকট চলে আসত আর আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হত এবং রসূলও তাদের পক্ষে ক্ষমা চাইত, তাহলে তারা আল্লাহকে নিরতিশয় তাওবাহ কবুলকারী ও পরম দয়ালুরূপে পেত। কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের বিবাদ-বিসম্বাদের মীমাংসার ভার তোমার উপর ন্যস্ত না করে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কিছু মাত্র কুণ্ঠাবোধ না থাকে, আর তারা তার সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সমর্পণ করে。
বিচার ফায়সালার ক্ষেত্রে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যাবলী: কাজেই মহান আল্লাহ্ উল্লিখিত আয়াতসমূহে ঈমানের দাবিদার ঐসব মুনাফিকদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন:
ক. তারা ত্বাগৃতী বিচার-ফায়সালা গ্রহণ করতে চায়। আর তা হলো প্রত্যেক এমন হুকুম যা আল্লাহ্ ও রাসূল (স) এর হুকুম বিরোধী। কারণ মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (স) এর হুকুমের বিপরীত সবকিছুকে তুগইয়ান (সীমালঙ্ঘন) বলা হয়। আর সবকিছুর প্রত্যাবর্তন যার দিকে, সেই মহান সত্ত্বা আল্লাহ্ হুকুমের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করাই হলো তুগইয়ান।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
“إِنَّ الْخَلْقَ وَالْأَمْرَ لِلَّهِ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ”
“জেনে রেখ, সৃষ্টি তাঁর, হুকুমও (চলবে) তাঁর, বরকতময় আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক।”
খ. তাদেরকে যখন আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিষয় (কুরআন মাজীদ) এবং রাসূল (স) এর (সুন্নাহর) দিকে আহ্বান করা হয়, তখন তারা দূরে সরে যায় এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়।
গ. তারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য যখন কোন বিপদে পতিত হয় এবং তাদের অপকর্মগুলো যখন উন্মুক্ত হয়ে যায়, তখন তারা নিজেদের অপকর্মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শপথ করে বলে থাকে যে, তাদের ঐসকল কাজের উদ্দেশ্য ছিল ইহসান ও সমন্বয় সাধন। যেমন বর্তমানে যারা ইসলামী বিধান বাদ দিয়ে ইসলাম বিরোধী বিধান দিয়ে বিচার-ফায়সালা করে থাকে তাদের দাবি হলো, এগুলো উত্তম কাজ ও যুগোপযোগী।
এরপর মহান আল্লাহ্ ঈমানের এসব তথাকথিত দাবিদারদের কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনার পর তিনি তাদেরকে এই মর্মে সাবধান করে দিয়েছেন যে, তাদের অন্তরে যা আছে, তারা মুখে যা বলে এবং নিজেদের অন্তরে এর বিপরীত যা কিছু লুকিয়ে রাখে, সে সব সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত। সাথে সাথে তিনি তাঁর নাবীকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরকে ওয়ায-নসীহত করার জন্য এবং তাদেরকে তাদের বিষয়ে বিশুদ্ধ, সুস্পষ্ট, হৃদয়গ্রাহী ও প্রভাব বিস্তার করে এমন কথা বলার জন্য। অতঃপর আল্লাহ্ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, রাসূল পাঠানোর পেছনে তাঁর হিকমাহ হলো, যেন কেবল রাসূল (স) এর আনুগত্য ও অনুসরণ করা হয়। অন্য লোকদের চিন্তা-গবেষণা যতই শক্তিশালী হোক না কেন কিংবা তাদের উপলব্ধি শক্তি ও অন্তর্দৃষ্টির পরিধি যতই বিস্তৃত হোক না কেন, রাসূল (স) ব্যতীত আনুগত্য ও অনুসরণ যাতে অন্য কারো না করা হয়।
রসূলের আনুগত্যে ঈমান বিশুদ্ধ হওয়া: এরপর মহান আল্লাহ্ তাঁর প্রতিপালকত্বের শপথ করে রাসূল (স) কে বলেছেন যে, তিনটি বিষয় ব্যতীত ঈমান বিশুদ্ধ হবে না। এই শপথের মাঝে রয়েছে তাঁর রুবুবিয়্যাহ তথা প্রতিপালকত্বের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা রাসূল (স) এর রিসালাতের সত্যতা ও বিশুদ্ধতার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। বিষয় তিনটি হলো:
১. সকল মতবিরোধের বিচার-ফায়সালার জন্য রাসূল (স) এর দিকে যেতে হবে।
২. রাসূল (স) এর ফায়সালাকে প্রফুল্ল চিত্তে গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে অন্তরে কোনরূপ বাঁধা এবং সংকীর্ণতা থাকতে পারবে না।
৩. কোনরূপ শিথিলতা কিংবা পরিবর্তন ব্যতীত রাসূল (স) এর ফায়সালাকে যথাযথভাবে কবুল করার মাধ্যমে পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
টিকাঃ
509 সূরা আল-আনআম ৬:৫০
510 সূরা আত-তাওবাহ ৯: ৩১
511 সূরা আত্-তাওবাহ্ ৯ : ৩১
512 তিরমিযী: হা/৩০৯৫-মুহাক্কিক মুহাদ্দিস আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন - যুবাইর আলী যাঈ দাঈফ বলেছেন। হাদীসটির বিস্তারিত তাহকীক "তাহকীক ৬" দ্রষ্টব্য।
513 সূরা আন-নিসা' ৪: ৬০-৬৫
514 সূরা আল-আ'রাফ ৭: ৫৪