📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 ইবলীস

📄 ইবলীস


৩. ইবলীস: ইবলীস হলো মহান আল্লাহ্‌ কর্তৃক বিতাড়িত ও অভিশপ্ত সেই শায়তান যাকে আল্লাহ্‌ বলেছেন:
وَإِنَّ عَلَيْكَ لَعَنَتِي إِلَى يَوْمِ الدِّينِ
"বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার উপর থাকল আমার অভিশাপ।"
এক সময় ইবলীস ফেরেশতাদের সঙ্গী ছিল। ফেরেশতাগণ যে সব কাজ করতেন সে তাই করতো। কিন্তু আল্লাহ্‌ যখন তাদেরকে আদমকে সেজদা করার নির্দেশ দিলেন, তখনই ইবলীসের মধ্যে যে শয়তানী, অবজ্ঞা ও দাম্ভিকতা লুক্কায়িত ছিল তা প্রকাশিত হয়ে গেল। সে দম্ভ ও অহংকার করল, এভাবে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল এবং আল্লাহ্‌র রহমত থেকে চিরতরে বঞ্চিত হয়ে গেল।

এ সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ إِلَى وَاسْتَكْبَرَهُ وَكَانَ مِنَ الْكَفِرِينَ
"আর স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, আদমকে সাজদাহ কর, তখন ইবলীস ছাড়া সকলেই সাজদাহ করল, সে অমান্য করল ও অহষ্কার করল, কাজেই সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।"

টিকাঃ
505 সূরা আস-সাদ ৩৮:৭৮
506 সূরা আল-বাকারাহ ২: ৩৪

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 উপাসিত সন্তুষ্ট ব্যক্তি

📄 উপাসিত সন্তুষ্ট ব্যক্তি


৪. উপাসিত সন্তুষ্ট: আল্লাহ্ ব্যতীত যদি অন্য কারো ইবাদাত করা হয় এবং সে যদি তাতে সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে এ ধরনের ব্যক্তি প্রধান প্রধান ত্বাগুতের অন্তর্ভুক্ত হবে (এ থেকে আমরা আল্লাহ্ আশ্রয় চাই)। তার জীবদ্দশায় হোক কিংবা মৃত্যুর পর হোক, যদি কেউ তার নিজের উপাস্য হওয়া নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে।

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 স্বীয় উপাসনার প্রতি আহ্বানকারী

📄 স্বীয় উপাসনার প্রতি আহ্বানকারী


৫. স্বীয় উপাসনার প্রতি আহ্বানকারী: কেউ যদি তার নিজের উপাসনার দিকে মানুষকে আহ্বান করে থাকে, তাহলে কেউ তার উপাসনা করুক বা না করুক, কেউ তার দাওয়াত কবুল করুক বা না করুক, তবে সে প্রধান প্রধান ত্বাগুতের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 ইলমুল গায়েবের দাবীদার

📄 ইলমুল গায়েবের দাবীদার


৬. ইলমুল গায়েবের দাবীদার: 'গায়েব' হচ্ছে এমন বিষয় যা মানুষ থেকে লুকায়িত ও অদৃশ্য। গায়েব দু ধরনের:
ক. বর্তমান কালের গায়েব: এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই বিষয় উপস্থিত সময়ে কারো নিকট জানা এবং কারো নিকট অজানা থাকতে পারে। যার নিকট তা অজানা, তা তার জন্য গায়েব।
খ. ভবিষ্যৎ কালের গায়েব: এটিই হচ্ছে প্রকৃত গায়েব যা কেবল আল্লাহ্ ব্যতীত কিংবা রাসূলগণের মধ্যে যাকে আল্লাহ্ অবহিত করেছেন, সেই রাসূল ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। কাজেই কেউ যদি তা জানার দাবি করে, তাহলে সে অবশ্যই কাফির বলে গণ্য হবে। কেননা এই দাবির মাধ্যমে সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে থাকে।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
قُل لَّا يَعْلَمُ مَنَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللهُ وَمَا يَعْلَمُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ
“বল, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জীবিত ক'রে উঠানো হবে।”

আর যেখানে মহান আল্লাহ্ তাঁর নাবী মুহাম্মাদ (ﷺ) কে নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি যেন বিশ্ববাসীকে সুস্পষ্টভাবে এ কথা জানিয়ে দেন যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আসমান ও যমীনের আর কেউই গায়েব সম্পর্কে জানে না, সেখানে কারো গায়েব জানার দাবি করার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে এ বার্তাতে অস্বীকার করা।
যারা গায়েবী বিষয় সম্পর্কে জানে বলে দাবি করে তাদেরকে আমরা বলবো, যেখানে নাবী (ﷺ) গায়েবী বিষয় সম্পর্কে জানতেন না সেখানে তোমাদের পক্ষে গায়েবী বিষয় সম্পর্কে জানা কি করে সম্ভব হতে পারে?
তাহলে সবচেয়ে মর্যাদাবান কে, তোমরা নাকি রাসূল? এই প্রশ্নের উত্তরে তারা যদি বলে ‘আমরা রাসূল (ﷺ) থেকে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান’ তাহলে তো তারা এ কথা বলে সরাসরি কুফর করলো। আর যদি তারা বলে রাসূল (ﷺ) তাদের থেকে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান, তাহলে আমরা তাদেরকে বলবো, তাহলে রাসূল (ﷺ) থেকে গায়েবী বিষয় কেন লুকিয়ে রাখা হলো অথচ তোমরা গায়েবী বিষয় সম্পর্কে জানো?!
যেখানে আল্লাহ্ নিজেই ইরশাদ করেছেন:
عَلِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا إِلَّا مَنِ ارْتَضَىٰ مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمَا خَلْفَهُ رَصَدًا
“একমাত্র তিনিই অদৃশ্যের জ্ঞানী, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না। তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত। কেননা তিনি তখন তাঁর রসূলের আগে-পিছে পাহারাদার নিযুক্ত করেন।”

এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, যে ব্যক্তি গায়েবের জ্ঞান রাখে বলে দাবি করে, সে কাফির।

টিকাঃ
507 সূরা আন-নামল ২৭: ৬৫
508 সূরা আল-জিন ৭২: ২৬-২৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00