📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 ইহসান ও তার উপায়সমূহ

📄 ইহসান ও তার উপায়সমূহ


তৃতীয় স্তর: আল-ইহসান যা একটি রুকন। আর তা হলো, এমনভাবে আল্লাহ্ ইবাদাত করা যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর আপনি তাঁকে দেখতে না পেলেও নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।
আর প্রমাণ আল্লাহ্ তাআলার বাণী: “যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করে আর সৎকর্মশীল, আল্লাহ তো তাদেরই সঙ্গে আছেন।”
আর তাঁর বাণী: “আর তুমি প্রবল পরাক্রান্ত পরম দয়ালুর উপর নির্ভর কর; যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাযের জন্য) দণ্ডায়মান হও। আর (তিনি দেখেন) সাজদাকারীদের সঙ্গে তোমার চলাফিরা। তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।”
আর তাঁর বাণী: “তুমি যে অবস্থাতেই থাক না কেন, আর তুমি কুরআন থেকে যা কিছুই তিলাওয়াত কর না কেন, আর যে আমালই তোমরা কর না কেন, আমি তোমাদের উপর রয়েছি প্রত্যক্ষদর্শী, যখন তোমরা তাতে পূর্ণরূপে মনোনিবেশ কর। এমন অণু পরিমাণ বা তাথেকে ছোট বা তাথেকে বড় বস্তু না আছে পৃথিবীতে, আর না আছে আসমানে যা তোমার প্রতিপালকের দৃষ্টির আড়ালে আছে। তা (লেখা) আছে এক সুস্পষ্ট কিতাবে।”

ইহসান
১. ইহসানের মর্মার্থ: খারাপ বা অসদাচরণের বিপরীত হলো ইহসান তথা সদাচরণ। এর অর্থ হলো, ভাল ও কল্যাণমূলক কাজ করা এবং ক্ষতিকর ও কষ্টদায়ক কাজ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং কোন ব্যক্তি তার ধন-সম্পদ, মান- সম্মান, জ্ঞান এবং শারীরিকভাবে আল্লাহ্র বান্দাদের কল্যাণার্থে নিজেকে নিয়োজিত করবে এবং তাদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

ইহসানের উপায়সমূহ:
ধন-সম্পদ খরচের মাধ্যমে: নিজের মাল বা অর্থ-সম্পদ দ্বারা ইহসান করার অর্থ হলো, ধন-সম্পদ খরচ করা, সদাকাহ করা এবং যাকাত প্রদান করা। তবে ধন-সম্পদ দ্বারা সর্বোত্তম ইহসান হলো যাকাত প্রদান করা। কেননা যাকাত হলো ইসলামের অন্যতম একটি রুকন এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি ভিত্তি। যাকাত আদায় না করলে কারো ইসলাম পূর্ণ বা সম্পন্ন হবে না। যাকাত হলো মহান আল্লাহ্র নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় খরচ বা ব্যয়। যাকাতের পর সর্বোত্তম ইহসান হলো নিজের স্ত্রী, মা-বাবা, সন্তান-সন্তুতি, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগনা-ভাগনি, চাচা-চাচি, ফুফা-ফুফু, খালা-খালু এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা। অতঃপর ফকীর-মিসকীন এবং অন্যান্য যারা সদাকাহ পাওয়ার যোগ্য, যেমন দ্বীনী জ্ঞান অর্জনরত শিক্ষার্থীদেরকে সদাকাহ প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতি ইহসান করা।

মান-মর্যাদা দ্বারা: নিজের মান-মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে ইহসান করার বিষয়টি হলো, একটি সমাজে বিভিন্ন স্তরের লোক থাকে। তন্মধ্যে কারো কারো প্রশাসনের নিকট সম্মানজনক অবস্থান থাকে। এ ধরনের কোন ব্যক্তিকে যদি কেউ তার কোন ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য অথবা কোন উপকার লাভের জন্য প্রশাসনের নিকট সুপারিশ করার অনুরোধ করে, তাহলে নিজের ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে বিপদগ্রস্ত কিংবা কল্যাণপ্রার্থী লোকটির জন্য সুপারিশ করার মাধ্যমে লোকটির প্রতি ইহসান করা যায়।

ইলমের মাধ্যমে: সাধারণ কিংবা বিশেষ কোন সার্কেল ও মজলিসে আল্লাহ্র বান্দাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিজের ইলম বিতরণ করার মাধ্যমে ইহসান করা। এমনকি আপনি যদি কোন কফি খাওয়ার সার্কেলে বসেন আর সেখানে যদি মানুষকে ইসলামী জ্ঞান শিক্ষা দিতে পারেন, তাহলে সেটাও হবে এক ধরনের ইহসান। আপনি যদি কোন সাধারণ মজলিসে উপস্থিত থাকেন এবং সেখানে যদি মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দিতে পারেন, তাহলে এটাও হবে একটি উত্তম কাজ। তবে এ ধরনের মজলিসে দ্বীন শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই হিকমাহ্ (প্রজ্ঞা ও কৌশল) অবলম্বন করতে হবে। কোন বৈঠকে বসলে ওয়ায-নসীহত শুরু করে দেওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করে মানুষের জন্য আপনি তা কঠিন করে দেবেন না। রাসূল (ﷺ) মাঝে মাঝে ওয়ায-নসীহত করতেন, খুব ঘন ঘন করতেন না। কারণ এতে মানুষের অন্তরগুলো ক্লান্ত-শ্রান্ত ও বিরক্ত হয়ে যেতে পারে। বক্তার ওয়ায-নসীহতের আধিক্যের কারণে যখন তারা বিরক্ত ও নিস্তেজ হয়ে যাবে, তখন বক্তার ভাল কথাগুলোকেও তাদের কাছে অপছন্দনীয় মনে হবে।

শারীরিক: শারীরিকভাবে মানুষের প্রতি ইহসান বিষয়ে রাসূল (ﷺ) বলেছেন:
وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ
'কোন ব্যক্তিকে সওয়ারীর উপর আরোহণে সাহায্য করা অথবা তার মালামাল সওয়ারীর উপরে তুলে দেয়াও একটি সদাকাহ্'।

আপনি যদি কাউকে তার মাল-সামগ্রী বাহনে উঠাতে সাহায্য করেন অথবা তাকে কোন রাস্তা দেখিয়ে দেন কিংবা এ ধরনের উপকারী অন্য কোন কাজ করেন, তাহলে এসবই হবে আল্লাহর বান্দাদের প্রতি আপনার ইহসান।

আল্লাহর ইবাদাতে: আল্লাহর ইবাদাতে ইহসান হলো যেমনটি বলেছেন রাসূল (ﷺ), তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো। মানুষ তার রবের প্রতি যে ইবাদাতে মনে করে, সে তার রবকে দেখতে পাচ্ছে, এমন ইবাদাত হচ্ছে তার রবের অনুসন্ধান ও প্রবল আগ্রহের ইবাদাত। আর এমন ইবাদাত মানুষ তার অন্তর থেকে পেয়ে থাকে যা তাকে ইবাদাত করতে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে। কারণ সে যাকে ভালোবাসে কেবল তাকেই পেতে চায়। তাই সে এমনভাবে ইবাদাত করে যেন সে আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছে। সে তখন তার উদ্দেশ্যেই অগ্রসর হয়, তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং কেবল তাঁরই নৈকট্য কামনা করে।

فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ (আর যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও, তাহলে (মনে করবে) অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখছেন)। এ ধরনের ইবাদাত হলো (আল্লাহর শাস্তি থেকে) ভয়ে পলায়ন এবং ভয়যুক্ত ইবাদাত। আর এ কারণে এটি হলো দ্বিতীয় স্তরের ইহসান। কেননা যদি তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করতে না পারো, যেন তুমি তাঁকে দেখছো ও খুঁজছো আর তোমার অন্তর তোমাকে তাঁর দিকে উদ্বুদ্ধ করছে, তাহলে কমপক্ষে এভাবে ইবাদাত কর, যেন আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে দেখছেন। ইবাদাত কর আল্লাহর প্রতি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে। ইবাদাত কর আল্লাহর আযাব ও শাস্তি থেকে পলায়ন করে। আল্লাহর পথের পথিকদের দৃষ্টিতে ইবাদাতের ক্ষেত্রে ইহসানের এই স্তরটি প্রথমটির তুলনায় অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্তরের।

ইবাদাতের স্তম্ভ: আল্লাহর ইবাদাতের ব্যাপারে ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেছেন:
مَعَ ذُلِّ عَابِدِهِ هُمَا رُكْنَانِ * وَعِبَادَةُ الرَّحْمَنِ غَايَةُ حُبِّهِ
আর রহমানের ইবাদাত তাঁর প্রতি পরম ভালোবাসা
আর বান্দার পূর্ণ আনুগত্যের মিশ্রণে, এ দুটিই (ইবাদাতের) স্তম্ভ

অর্থাৎ দু'টি বিষয়ের উপর ইবাদাত নির্ভরশীল:
পরম ভালোবাসা: পরম ভালোবাসা যাতে রয়েছে আল্লাহর প্রতি অনুসন্ধান।
পূর্ণ আনুগত্য: পূর্ণ আনুগত্য যাতে রয়েছে আল্লাহর প্রতি ভয়-ভীতি ও তাঁর আযাবের ভয়ে পলায়ন।

এটাই হলো মহান আল্লাহ্ ইবাদাতে ইহসানের অর্থ।
যখন কোন লোক এভাবে পূর্ণ ইহসান সহকারে আল্লাহ্ ইবাদাত করবে, সে তখন আল্লাহ্ ইবাদাতে একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ হবে। সে তখন লোক দেখানো, লোক শোনানো এবং মানুষের নিকট থেকে প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইবাদাত করবে না। মানুষ তাকে দেখছে নাকি দেখছে না, এতে তার কিছু যায় আসবে না, উভয়টি তার কাছে সমান বলে মনে হবে। সর্বাবস্থায় সে ইহসান অনুযায়ী ইবাদাত করবে। পরিপূর্ণ ইখলাস বা একনিষ্ঠতা হলো এটাই যে, ব্যক্তি মনে প্রাণে এটা চাবে যে, মানুষ যেন তাকে ইবাদাতরত অবস্থায় না দেখে। বরং সে তাঁর রবের ইবাদাত করবে গোপনীয়তার সাথে।

ইবাদাত প্রকাশের উত্তম সময়: তবে হ্যাঁ, ইবাদাত প্রকাশ করার মাধ্যমে যদি ইসলাম ও মুসলিমদের বিশেষ কোন কল্যাণ নিহিত থাকে, যেমন ইবাদাতকারী যদি কোন অনুসরণীয় এবং উদাহরণযোগ্য কোন ব্যক্তিত্ব হয়ে থাকেন এবং তিনি যদি চান যে, তার ইবাদাতের কথা জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন যাতে মানুষ একে উদাহরণ হিসেবে নেয় এবং তা অনুসরণ করে, কিংবা তিনি যদি মনে করেন যে, প্রকাশ্যে ইবাদাত করলে সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী- সাথীরা তার অনুকরণ করবে, তাহলে এক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ইবাদাত করার মাঝে রয়েছে কল্যাণ। কখনো কখনো কল্যাণের দিক বিবেচনায় গোপনে ইবাদাত করার চেয়ে প্রকাশ্যে ইবাদাত করা অপেক্ষাকৃত বেশি উত্তম হতে পারে। এজন্য যারা গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহ্র পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, কুরআন মাজীদে আল্লাহ্ তাদের উভয়ের প্রশংসা করেছেন।
গোপনে ইবাদাত করাটা যদি অন্তরের জন্য বেশি কল্যাণকর ও উপকারী হয় এবং এর মাধ্যমে যদি আল্লাহ্র প্রতি খুব বেশি বিনয় প্রকাশ পায় এবং অনুশোচিত হয়ে দৃঢ়ভাবে আল্লাহ্র দিকে ফিরে আসা যায়, তাহলে এরূপ ক্ষেত্রে সংগোপনে ইবাদাত করতে হবে। আর যদি প্রকাশ্যে ইবাদাত করার মাঝে ইসলাম ও মুসলিমদের কোনরূপ কল্যাণ নিহিত থাকে, যেমন এর দ্বারা ইসলামের বিধি- বিধান প্রকাশিত হবে এবং তা দেখে অন্যান্য মুসলিমরাও ঐ ইবাদাতকারীর অনুসরণ করবে, তাহলে এরূপ ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ইবাদাত করতে হবে।

মোটকথা ইবাদাত করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক মু’মিন ব্যক্তিকে দেখতে হবে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর। যে পদ্ধতিটি অধিক কল্যাণকর ও উপকারী, সেটিই হবে ইবাদাত করার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোৎকৃষ্ট পদ্ধতি।
সুন্নাহ হতে দালীল যা 'হাদীসে জিব্রীল' নামে সুপ্রসিদ্ধ:
উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়, যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল ভীষণ কালো। তার মাঝে ভ্রমণের কোন চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারে নি। সে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে গিয়ে বসে, নিজের হাঁটু তার হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেন: হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ইসলাম হচ্ছে এই যে, আপনি সাক্ষ্য দিবেন আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সলাত প্রতিষ্ঠা করবেন, যাকাত আদায় করবেন, রমাদান মাসে সিয়াম পালন করবেন এবং যদি সামর্থ্য থাকে তবে (আল্লাহ্) ঘরের হজ্জ করবেন।
তিনি (লোকটি) বললেন: আপনি ঠিক বলেছেন। আমরা বিস্মিত হলাম, সে নিজে তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করেছে আবার নিজেই তার জবাবকে ঠিক বলে ঘোষণা করছে। এরপর বলল: আচ্ছা, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তা হচ্ছে আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, আখিরাত এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।
সে (আগন্তুক) বলল: আপনি ঠিক বলেছেন। তারপর বলল: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।

তিনি বলেন: তা হচ্ছে এমনভাবে আল্লাহ্ ইবাদাত করা যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর আপনি তাঁকে দেখতে না পেলে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।
সে (আগন্তুক) বলল: আমাকে কিয়ামাহ সম্পর্কে বলুন। তিনি (আ) বললেন: জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারী থেকে বেশী জানে না।
সে (আগন্তুক) বলল: আচ্ছা, তার আলামাত সম্পর্কে বলুন। তিনি (আ) বললেন: তা হলো, দাসী নিজের মালিককে জন্ম দেবে, সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ উঁচু উঁচু প্রাসাদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে।
তারপর ঐ ব্যক্তি চলে যায়, আর আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকি। তখন তিনি (আ) আমাকে বললেন: হে উমার, প্রশ্নকারী কে ছিলেন, তুমি কি জান? আমি বললাম: আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন। তিনি বললেন: তিনি হলেন জিবরাঈল তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তিনি তোমাদের কাছে এসেছিলেন।
১. উপরোল্লিখিত হাদীসের অধিকাংশের ব্যাখ্যা ইতঃপূর্বে পেশ করা হয়েছে। এছাড়াও মাজমুউল ফাতাওয়া ওয়ার- রসায়িল (১৪৩/৩)' কিতাবে আমরা এই হাদীসের একটি ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছি।

টিকাঃ
421 সূরা আন্-নাহল ১৬: ১২৮
422 সূরা আশ-শুআরা' ২৬: ২১৭-২২০
423 সূরা ইউনুস ১০: ৬১
424 বুখারী হা/২৮৯১; সহীহ মুসলিম হা/২২২৫ (১০০৯); বায়হাকী কুবরা হা/৭৮২০; মিশকাত হা/১৮৯৬।
425 সহীহ বুখারী ৫০, ৪৭৭৭, মুসলিম ৮ আরবী, তিরমিযী ২৬১০

তৃতীয় স্তর: আল-ইহসান যা একটি রুকন। আর তা হলো, এমনভাবে আল্লাহ্ ইবাদাত করা যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর আপনি তাঁকে দেখতে না পেলেও নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।
আর প্রমাণ আল্লাহ্ তাআলার বাণী: “যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করে আর সৎকর্মশীল, আল্লাহ তো তাদেরই সঙ্গে আছেন।”
আর তাঁর বাণী: “আর তুমি প্রবল পরাক্রান্ত পরম দয়ালুর উপর নির্ভর কর; যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাযের জন্য) দণ্ডায়মান হও। আর (তিনি দেখেন) সাজদাকারীদের সঙ্গে তোমার চলাফিরা। তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।”
আর তাঁর বাণী: “তুমি যে অবস্থাতেই থাক না কেন, আর তুমি কুরআন থেকে যা কিছুই তিলাওয়াত কর না কেন, আর যে আমালই তোমরা কর না কেন, আমি তোমাদের উপর রয়েছি প্রত্যক্ষদর্শী, যখন তোমরা তাতে পূর্ণরূপে মনোনিবেশ কর। এমন অণু পরিমাণ বা তাথেকে ছোট বা তাথেকে বড় বস্তু না আছে পৃথিবীতে, আর না আছে আসমানে যা তোমার প্রতিপালকের দৃষ্টির আড়ালে আছে। তা (লেখা) আছে এক সুস্পষ্ট কিতাবে।”

ইহসান
১. ইহসানের মর্মার্থ: খারাপ বা অসদাচরণের বিপরীত হলো ইহসান তথা সদাচরণ। এর অর্থ হলো, ভাল ও কল্যাণমূলক কাজ করা এবং ক্ষতিকর ও কষ্টদায়ক কাজ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং কোন ব্যক্তি তার ধন-সম্পদ, মান- সম্মান, জ্ঞান এবং শারীরিকভাবে আল্লাহ্র বান্দাদের কল্যাণার্থে নিজেকে নিয়োজিত করবে এবং তাদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

ইহসানের উপায়সমূহ:
ধন-সম্পদ খরচের মাধ্যমে: নিজের মাল বা অর্থ-সম্পদ দ্বারা ইহসান করার অর্থ হলো, ধন-সম্পদ খরচ করা, সদাকাহ করা এবং যাকাত প্রদান করা। তবে ধন-সম্পদ দ্বারা সর্বোত্তম ইহসান হলো যাকাত প্রদান করা। কেননা যাকাত হলো ইসলামের অন্যতম একটি রুকন এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি ভিত্তি। যাকাত আদায় না করলে কারো ইসলাম পূর্ণ বা সম্পন্ন হবে না। যাকাত হলো মহান আল্লাহ্র নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় খরচ বা ব্যয়। যাকাতের পর সর্বোত্তম ইহসান হলো নিজের স্ত্রী, মা-বাবা, সন্তান-সন্তুতি, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগনা-ভাগনি, চাচা-চাচি, ফুফা-ফুফু, খালা-খালু এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা। অতঃপর ফকীর-মিসকীন এবং অন্যান্য যারা সদাকাহ পাওয়ার যোগ্য, যেমন দ্বীনী জ্ঞান অর্জনরত শিক্ষার্থীদেরকে সদাকাহ প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতি ইহসান করা।

মান-মর্যাদা দ্বারা: নিজের মান-মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে ইহসান করার বিষয়টি হলো, একটি সমাজে বিভিন্ন স্তরের লোক থাকে। তন্মধ্যে কারো কারো প্রশাসনের নিকট সম্মানজনক অবস্থান থাকে। এ ধরনের কোন ব্যক্তিকে যদি কেউ তার কোন ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য অথবা কোন উপকার লাভের জন্য প্রশাসনের নিকট সুপারিশ করার অনুরোধ করে, তাহলে নিজের ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে বিপদগ্রস্ত কিংবা কল্যাণপ্রার্থী লোকটির জন্য সুপারিশ করার মাধ্যমে লোকটির প্রতি ইহসান করা যায়।

ইলমের মাধ্যমে: সাধারণ কিংবা বিশেষ কোন সার্কেল ও মজলিসে আল্লাহ্র বান্দাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিজের ইলম বিতরণ করার মাধ্যমে ইহসান করা। এমনকি আপনি যদি কোন কফি খাওয়ার সার্কেলে বসেন আর সেখানে যদি মানুষকে ইসলামী জ্ঞান শিক্ষা দিতে পারেন, তাহলে সেটাও হবে এক ধরনের ইহসান। আপনি যদি কোন সাধারণ মজলিসে উপস্থিত থাকেন এবং সেখানে যদি মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দিতে পারেন, তাহলে এটাও হবে একটি উত্তম কাজ। তবে এ ধরনের মজলিসে দ্বীন শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই হিকমাহ্ (প্রজ্ঞা ও কৌশল) অবলম্বন করতে হবে। কোন বৈঠকে বসলে ওয়ায-নসীহত শুরু করে দেওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করে মানুষের জন্য আপনি তা কঠিন করে দেবেন না। রাসূল (ﷺ) মাঝে মাঝে ওয়ায-নসীহত করতেন, খুব ঘন ঘন করতেন না। কারণ এতে মানুষের অন্তরগুলো ক্লান্ত-শ্রান্ত ও বিরক্ত হয়ে যেতে পারে। বক্তার ওয়ায-নসীহতের আধিক্যের কারণে যখন তারা বিরক্ত ও নিস্তেজ হয়ে যাবে, তখন বক্তার ভাল কথাগুলোকেও তাদের কাছে অপছন্দনীয় মনে হবে।

শারীরিক: শারীরিকভাবে মানুষের প্রতি ইহসান বিষয়ে রাসূল (ﷺ) বলেছেন:
وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ
'কোন ব্যক্তিকে সওয়ারীর উপর আরোহণে সাহায্য করা অথবা তার মালামাল সওয়ারীর উপরে তুলে দেয়াও একটি সদাকাহ্'।

আপনি যদি কাউকে তার মাল-সামগ্রী বাহনে উঠাতে সাহায্য করেন অথবা তাকে কোন রাস্তা দেখিয়ে দেন কিংবা এ ধরনের উপকারী অন্য কোন কাজ করেন, তাহলে এসবই হবে আল্লাহর বান্দাদের প্রতি আপনার ইহসান।

আল্লাহর ইবাদাতে: আল্লাহর ইবাদাতে ইহসান হলো যেমনটি বলেছেন রাসূল (ﷺ), তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো। মানুষ তার রবের প্রতি যে ইবাদাতে মনে করে, সে তার রবকে দেখতে পাচ্ছে, এমন ইবাদাত হচ্ছে তার রবের অনুসন্ধান ও প্রবল আগ্রহের ইবাদাত। আর এমন ইবাদাত মানুষ তার অন্তর থেকে পেয়ে থাকে যা তাকে ইবাদাত করতে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে। কারণ সে যাকে ভালোবাসে কেবল তাকেই পেতে চায়। তাই সে এমনভাবে ইবাদাত করে যেন সে আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছে। সে তখন তার উদ্দেশ্যেই অগ্রসর হয়, তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং কেবল তাঁরই নৈকট্য কামনা করে।

فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ (আর যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও, তাহলে (মনে করবে) অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখছেন)। এ ধরনের ইবাদাত হলো (আল্লাহর শাস্তি থেকে) ভয়ে পলায়ন এবং ভয়যুক্ত ইবাদাত। আর এ কারণে এটি হলো দ্বিতীয় স্তরের ইহসান। কেননা যদি তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করতে না পারো, যেন তুমি তাঁকে দেখছো ও খুঁজছো আর তোমার অন্তর তোমাকে তাঁর দিকে উদ্বুদ্ধ করছে, তাহলে কমপক্ষে এভাবে ইবাদাত কর, যেন আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে দেখছেন। ইবাদাত কর আল্লাহর প্রতি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে। ইবাদাত কর আল্লাহর আযাব ও শাস্তি থেকে পলায়ন করে। আল্লাহর পথের পথিকদের দৃষ্টিতে ইবাদাতের ক্ষেত্রে ইহসানের এই স্তরটি প্রথমটির তুলনায় অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্তরের।

ইবাদাতের স্তম্ভ: আল্লাহর ইবাদাতের ব্যাপারে ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেছেন:
مَعَ ذُلِّ عَابِدِهِ هُمَا رُكْنَانِ * وَعِبَادَةُ الرَّحْمَنِ غَايَةُ حُبِّهِ
আর রহমানের ইবাদাত তাঁর প্রতি পরম ভালোবাসা
আর বান্দার পূর্ণ আনুগত্যের মিশ্রণে, এ দুটিই (ইবাদাতের) স্তম্ভ

অর্থাৎ দু'টি বিষয়ের উপর ইবাদাত নির্ভরশীল:
পরম ভালোবাসা: পরম ভালোবাসা যাতে রয়েছে আল্লাহর প্রতি অনুসন্ধান।
পূর্ণ আনুগত্য: পূর্ণ আনুগত্য যাতে রয়েছে আল্লাহর প্রতি ভয়-ভীতি ও তাঁর আযাবের ভয়ে পলায়ন।

এটাই হলো মহান আল্লাহ্ ইবাদাতে ইহসানের অর্থ।
যখন কোন লোক এভাবে পূর্ণ ইহসান সহকারে আল্লাহ্ ইবাদাত করবে, সে তখন আল্লাহ্ ইবাদাতে একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ হবে। সে তখন লোক দেখানো, লোক শোনানো এবং মানুষের নিকট থেকে প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইবাদাত করবে না। মানুষ তাকে দেখছে নাকি দেখছে না, এতে তার কিছু যায় আসবে না, উভয়টি তার কাছে সমান বলে মনে হবে। সর্বাবস্থায় সে ইহসান অনুযায়ী ইবাদাত করবে। পরিপূর্ণ ইখলাস বা একনিষ্ঠতা হলো এটাই যে, ব্যক্তি মনে প্রাণে এটা চাবে যে, মানুষ যেন তাকে ইবাদাতরত অবস্থায় না দেখে। বরং সে তাঁর রবের ইবাদাত করবে গোপনীয়তার সাথে।

ইবাদাত প্রকাশের উত্তম সময়: তবে হ্যাঁ, ইবাদাত প্রকাশ করার মাধ্যমে যদি ইসলাম ও মুসলিমদের বিশেষ কোন কল্যাণ নিহিত থাকে, যেমন ইবাদাতকারী যদি কোন অনুসরণীয় এবং উদাহরণযোগ্য কোন ব্যক্তিত্ব হয়ে থাকেন এবং তিনি যদি চান যে, তার ইবাদাতের কথা জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন যাতে মানুষ একে উদাহরণ হিসেবে নেয় এবং তা অনুসরণ করে, কিংবা তিনি যদি মনে করেন যে, প্রকাশ্যে ইবাদাত করলে সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী- সাথীরা তার অনুকরণ করবে, তাহলে এক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ইবাদাত করার মাঝে রয়েছে কল্যাণ। কখনো কখনো কল্যাণের দিক বিবেচনায় গোপনে ইবাদাত করার চেয়ে প্রকাশ্যে ইবাদাত করা অপেক্ষাকৃত বেশি উত্তম হতে পারে। এজন্য যারা গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহ্র পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, কুরআন মাজীদে আল্লাহ্ তাদের উভয়ের প্রশংসা করেছেন।
গোপনে ইবাদাত করাটা যদি অন্তরের জন্য বেশি কল্যাণকর ও উপকারী হয় এবং এর মাধ্যমে যদি আল্লাহ্র প্রতি খুব বেশি বিনয় প্রকাশ পায় এবং অনুশোচিত হয়ে দৃঢ়ভাবে আল্লাহ্র দিকে ফিরে আসা যায়, তাহলে এরূপ ক্ষেত্রে সংগোপনে ইবাদাত করতে হবে। আর যদি প্রকাশ্যে ইবাদাত করার মাঝে ইসলাম ও মুসলিমদের কোনরূপ কল্যাণ নিহিত থাকে, যেমন এর দ্বারা ইসলামের বিধি- বিধান প্রকাশিত হবে এবং তা দেখে অন্যান্য মুসলিমরাও ঐ ইবাদাতকারীর অনুসরণ করবে, তাহলে এরূপ ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ইবাদাত করতে হবে।

মোটকথা ইবাদাত করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক মু’মিন ব্যক্তিকে দেখতে হবে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর। যে পদ্ধতিটি অধিক কল্যাণকর ও উপকারী, সেটিই হবে ইবাদাত করার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোৎকৃষ্ট পদ্ধতি।
সুন্নাহ হতে দালীল যা 'হাদীসে জিব্রীল' নামে সুপ্রসিদ্ধ:
উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়, যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল ভীষণ কালো। তার মাঝে ভ্রমণের কোন চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারে নি। সে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে গিয়ে বসে, নিজের হাঁটু তার হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেন: হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ইসলাম হচ্ছে এই যে, আপনি সাক্ষ্য দিবেন আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সলাত প্রতিষ্ঠা করবেন, যাকাত আদায় করবেন, রমাদান মাসে সিয়াম পালন করবেন এবং যদি সামর্থ্য থাকে তবে (আল্লাহ্) ঘরের হজ্জ করবেন।
তিনি (লোকটি) বললেন: আপনি ঠিক বলেছেন। আমরা বিস্মিত হলাম, সে নিজে তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করেছে আবার নিজেই তার জবাবকে ঠিক বলে ঘোষণা করছে। এরপর বলল: আচ্ছা, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তা হচ্ছে আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, আখিরাত এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।
সে (আগন্তুক) বলল: আপনি ঠিক বলেছেন। তারপর বলল: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।

তিনি বলেন: তা হচ্ছে এমনভাবে আল্লাহ্ ইবাদাত করা যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর আপনি তাঁকে দেখতে না পেলে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।
সে (আগন্তুক) বলল: আমাকে কিয়ামাহ সম্পর্কে বলুন। তিনি (আ) বললেন: জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারী থেকে বেশী জানে না।
সে (আগন্তুক) বলল: আচ্ছা, তার আলামাত সম্পর্কে বলুন। তিনি (আ) বললেন: তা হলো, দাসী নিজের মালিককে জন্ম দেবে, সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ উঁচু উঁচু প্রাসাদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে।
তারপর ঐ ব্যক্তি চলে যায়, আর আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকি। তখন তিনি (আ) আমাকে বললেন: হে উমার, প্রশ্নকারী কে ছিলেন, তুমি কি জান? আমি বললাম: আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন। তিনি বললেন: তিনি হলেন জিব্রাঈল তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তিনি তোমাদের কাছে এসেছিলেন।
১. উপরোল্লিখিত হাদীসের অধিকাংশের ব্যাখ্যা ইতঃপূর্বে পেশ করা হয়েছে। এছাড়াও মাজমুউল ফাতাওয়া ওয়ার- রসায়িল (১৪৩/৩)' কিতাবে আমরা এই হাদীসের একটি ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছি।

টিকাঃ
421 সূরা আন্-নাহল ১৬: ১২৮
422 সূরা আশ-শুআরা' ২৬: ২১৭-২২০
423 সূরা ইউনুস ১০: ৬১
424 বুখারী হা/২৮৯১; সহীহ মুসলিম হা/২২২৫ (১০০৯); বায়হাকী কুবরা হা/৭৮২০; মিশকাত হা/১৮৯৬।
425 সহীহ বুখারী ৫০, ৪৭৭৭, মুসলিম ৮ আরবী, তিরমিযী ২৬১০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00