📄 ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান ও তার ফলাফল
আর তাঁর মালায়িকাহ বা ফেরেশতাগণের প্রতি'।
মালায়িকাহ বা ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান
১. ফেরেশতারা হলেন আল্লাহ্র সৃষ্টি এবং অদৃশ্য জগতের বাসিন্দা। তারা সর্বদা আল্লাহ্ ইবাদাতে মশগুল থাকেন। তাদের মাঝে রুবুবিয়্যাহ বা উলুহিয়্যাহ্র কোন কিছুই নেই। মহান আল্লাহ্ তাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর আদেশের প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যশীল ও আত্মসমর্পণকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। একই সাথে তাদেরকে আল্লাহ্ তাঁর হুকুম বাস্তবায়নের শক্তি- সামর্থ্য দান করেছেন। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَمَا عِنْدَةً لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ
"আর তাঁর সান্নিধ্যে যারা আছে তারা অহংকার বশে তাঁর ইবাদাত করা হতে বিমুখ হয় না এবং বিরক্তি বোধ করে না। তারা রাত-দিন তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং ক্লান্তও হয় না।”
ফেরেশতারা সংখ্যায় অনেক। তাদের সঠিক সংখ্যা কেবল আল্লাহই জানেন। সাহীহ বুখারী ও মুসলিমে আনাস () থেকে বর্ণিত মি'রাজের ঘটনা সম্পর্কিত হাদীসে রয়েছে যে, মি'রাজের রজনীতে ঊর্ধ্বাকাশের 'বাইতুল মা'মূর' রাসূল () এর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা সলাত আদায় করেন। সলাت আদায় করা শেষ হলে তারা সেখান থেকে বের হয়ে যান এবং আর সেখানে তারা ফিরে আসেন না।
ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান পোষণ করার মাঝে ৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:
ক. তাদের অস্তিত্বের প্রতি ঈমান পোষণ করা।
খ. তাদের মধ্য থেকে যাদের নাম আমরা জানি (যেমন জিবরীল), নাম সহকারে তাদের প্রতি ঈমান পোষণ করা এবং যাদের নাম আমাদের জানা নেই তাদের প্রতি সাধারণভাবে ঈমান পোষণ করা।
গ. ফেরেশতাদের মধ্য থেকে যাদের গুণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমরা অবগত, তার প্রতি ঈমান পোষণ। যেমন জিবরীল এর গুণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তিনি তাকে তার সৃষ্টিগত আসল রূপে ও আকৃতিতে দেখেছেন। তার ৬০০টি ডানা রয়েছে, যা দিগন্তকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে।
কখনো কখনো কোন কোন ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশে মানুষের রূপ ধারণ করে থাকেন। যেমন: জিবরীল কে আল্লাহ যখন মারইয়াম এর ওয়াস নিকট পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁর নিকট মানুষরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অনুরূপভাবে রাসূল (ﷺ) একদিন যখন তাঁর সাহাবায়ি কিরামদের নিয়ে বৈঠকরত অবস্থায় ছিলেন, তখন জিবরাঈল ধবধবে সাদা কাপড় পরিহিত এবং ঘন-কালো কেশে এমন এক মানুষের বেশে রাসূল (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়েছিলেন, যার মাঝে সফর করার কোন ছাপ দেখা যাচ্ছিল না। আবার বৈঠকে উপস্থিত কোন সাহাবীর কাছে তাকে পরিচিত বলেও মনে হচ্ছিল না। তিনি এসে রাসূল (ﷺ) এর পাশে গিয়ে তাঁর হাঁটুর সাথে নিজের হাঁটু লাগিয়ে বসলেন এবং তাঁর হাত দু'টি তার উরুতে রাখলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) কে ইসলাম, ঈমান, ইহসান এবং কিয়ামাহ ও এর আলামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূল (ﷺ) তাকে এগুলোর উত্তর দিলেন। এরপর জিবরীল (ﷺ) চলে গেলেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ) উপস্থিত সাহাবায়ি কিরামকে লক্ষ করে বললেন:
فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ
'ইনি হলেন জিবরীল তিনি এসেছিলেন তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে'।
এমনিভাবে মহান আল্লাহ্ যে সকল ফেরেশতাকে ইবরাহীম এবং লুত্ব এর নিকট পাঠিয়েছিলেন তারাও তাদের নিকট মানুষের রূপ ধারণ করে এসেছিলেন।
ঘ. ফেরেশতাগণ আল্লাহ্র নির্দেশে যেসব কাজ করে থাকেন বলে আমরা অবগত হয়েছি, সেসবের প্রতি ঈমান পোষণ করা। যেমন ফেরেশতারা রাত-দিন আল্লাহ্ তাসবীহ এবং তাঁর ইবাদাত করে থাকেন এবং এতে তারা কোনরূপ ক্লান্তি বা অবসাদ বোধ করেন না।
ফেরেশতাদের মধ্যে কারো কারো বিশেষ কিছু কাজ বা দায়িত্ব রয়েছে। যেমন:
১. জিবরীল, তিনি আল্লাহ্র ওয়াইয়ীর ব্যাপারে বিশ্বস্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত। আল্লাহ্ তাকে নাবী-রাসূলদের নিকট ওয়াইয়ী দিয়ে প্রেরণ করেন。
২. মীকাঈল, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ ও তৃণ-উদ্ভিদ উৎপাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত।
৩. ইসরাফীল, তিনি কিয়ামাতের ঘণ্টা প্রতিষ্ঠার সময় ও সৃষ্টিজগতের পুনরুত্থানের সময় শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত।
৪. মালাকুল মাউত, তিনি মানুষের মৃত্যুর সময় প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত।
৫. মালিক, তিনি জাহান্নামের অগ্নিকুন্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত এবং জাহান্নামের প্রহরী।
(৬) কিছু ফেরেশতা আছেন যারা মাতৃগর্ভস্থ সন্তানের দায়িত্বে নিয়োজিত। মাতৃগর্ভে যখন কোন সন্তানের ৪ মাস পূর্ণ হয়, তখন আল্লাহ্ তার প্রতি একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে সেই সন্তানের রিয্ক, হায়াত, আমল এবং সে সৌভাগ্যবান নাকি দুর্ভাগা, এসব লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন।
(৭) কিছু ফেরেশতা আছেন যারা প্রতিটি আদম সন্তানের কাজকর্ম সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করে রাখেন। এ কাজের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট দু'জন ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের একজন আছেন ডানপাশে এবং অপরজন বামপাশে।
(৮) এমনিভাবে আরো কিছু ফেরেশতা রয়েছেন যারা কোন মৃত ব্যক্তিকে কবরে প্রশ্ন করার দায়িত্বে নিয়োজিত। কোন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর দু'জন ফেরেশতা তার কবরে আসেন এবং তাকে তার রব, তার দ্বীন এবং তার নাবী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মালায়িকাহর প্রতি ঈমান এর ফলাফল: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান পোষণ যেসব গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল প্রদান করে তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
ক. আল্লাহ্র মহত্ত্ব, অপরিসীম শক্তি এবং তাঁর মহান ক্ষমতা ও রাজত্ব সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা। কেননা কোন সৃষ্টির মহত্ত্বের মাঝেই সৃষ্টিকর্তার মহত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।
খ. যেহেতু মহান আল্লাহ্ প্রতিটি আদম সন্তানের দেখাশোনা, তাদের কাজকর্ম লিপিবদ্ধ করা এবং মানবজাতির আরো অগণিত কল্যাণার্থে বিভিন্ন ফেরেশতা নিয়োজিত করে রেখেছেন, কাজেই ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান পোষণের মাধ্যমে আল্লাহ্র এসব বিশেষ অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা হয়।
গ. ফেরেশতাগণ সর্বদা মহান আল্লাহ্র ইবাদাতে মশগুল থাকেন, তাই তাদের প্রতি মুহাব্বত ও ভালবাসা পোষণ করা হয়।
মালায়িকার দেহ অস্বীকারকারীদের রদ: পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী কোন কোন সম্প্রদায় ফেরেশতাদের দেহ ও আকার বিশিষ্ট হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে। তারা বলে, সৃষ্টির মাঝে লুকায়িত যে কল্যাণী শক্তি রয়েছে, তাই হলো ফেরেশতা। তাদের এই দাবিটি মূলত কুরআন মাজীদ, সুন্নাতে রাসূল (ﷺ) এবং মুসলিমদের ইজমা'কে মিথ্যা সাব্যস্ত করার নামান্তর।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَٰوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَٰۤئِكَةِ رُسُلًا أُولِىۤ أَجْنِحَةٍ مَّثْنٰىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ
"সকল প্রশংসা আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই, যিনি ফিরিশতাদেরকে দূত বানিয়েছেন যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পাখাবিশিষ্ট।"
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন:
وَلَوْ تَرَىٰۤ إِذْ يَّتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلٰۤئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ
“আর আপনি যদি দেখতে পেতেন যখন ফেরেশতাগণ তাদের প্রাণ হরণ করছিল যারা কুফরী করেছে এবং তাদের মুখমণ্ডলে ও পিঠে আঘাত করছিল।”
তিনি আরো ইরশাদ করেছেন:
وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّلِمُونَ فِي غَمَرَتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَيْكَةُ بَاسِطُوا أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمْ
“আর যদি আপনি দেখতে পেতেন, যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকবে এবং ফেরেশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের করে দাও।”
অন্য আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে:
حَتَّى إِذَا فَرْعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقِّ ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ
‘অবশেষে যখন তাদের (আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতা কিংবা সুপারিশের অনুমতিপ্রাপ্তদের) অন্তর থেকে ভয় বিদূরিত হবে, তখন তারা পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, তোমাদের রব্ব কী বললেন? এর উত্তরে তারা বলবে, যা সত্য তিনি তা-ই বলেছেন। আর তিনি সমুচ্চ, সুমহান।’
আর জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
وَالْمَلَيْكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِّن كُلِّ بَابٍ سَلَّمٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ
“আর ফেরেশতাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে এবং বলবে, তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি সালাম। আর পরকালের এই আবাস প্রতিদান হিসেবে কতই না উত্তম!”
সাহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা ( ) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَبَّ فُلَانًا فَأَحِبَّهُ فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ، ثُمَّ يُنَادِي جِبْرِيلُ فِي السَّمَاءِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَبَّ فُلَانًا فَأَحِبُّوهُ، فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ وَيُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي أَهْলِ الْأَرْضِ
'আল্লাহ্ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি জিব্রীল ( ) কে ডেকে বলেন, আল্লাহ্ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, অতএব তুমিও তাকে ভালবাস। ফলে জিব্রীল ( ) তাকে ভালবাসেন। অতঃপর জিব্রীল ( ) আসমানে এ ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ্ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তোমরাও তাকে ভালবাস। তখন তাকে আসমানবাসীরা ভালবাসে এবং পৃথিবীবাসীদের মধ্যেও তাকে কবুল করে নেওয়া হয়।
আবু হুরায়রা ( ) থেকে বর্ণিত আরও একটি হাদীসে রাসূল ইরশাদ করেছেন:
إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، وَقَفَتِ الْمَلَائِكَةُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ يَكْتُبُونَ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ، وَمَثَلُ الْمُهَجِّرِ كَمَثَلِ الَّذِي يُهْدِي بَدَنَةً، ثُمَّ كَالَّذِي يُهْدِي بَقَرَةً، ثُمَّ كَبْشًا، ثُمَّ دَجَاجَةً، ثُمَّ بَيْضَةً، فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ طَوَوْا صُحُفَهُمْ، وَيَسْتَمِعُونَ الذَّكْرَ
'জুমু'আর দিন মসজিদের দরজায় মালাইকা (ফেরেশতাগণ) অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগে যারা আসেন তাদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার পূর্বে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানী করে। অতঃপর যে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে। অতঃপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। অতঃপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। অতঃপর ইমাম যখন খুতবা দিতে বের হন তখন মালাইকা (ফেরেশতাগণ) তাঁদের খাতা বন্ধ করে দিয়ে মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবণ করতে থাকেন।
অতএব কুরআন-হাদীসের এসব দালীল দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ফেরেশতাগণ দেহ ও আকৃতি সম্বলিত সৃষ্টি। তারা মানুষের ভাবগত শক্তি নয়, যেমনটি দাবী করে থাকে পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী লোকজন। এ ব্যাপারে উপরোল্লিখিত কুরআন-সুন্নাহর দালীলের ভিত্তিতে মুসলিমদের ইজমা' রয়েছে।
টিকাঃ
321 সূরা আল-আমবিয়া' ২১: ১৯-২০
৩২২ সহীহ মুসলিম: হা/১, আহমাদ হা/৩৬৭; আবু দাউদ হা/৪৬৯৫; মিশকাত হা/২।
৩২৩ সূরা আল-ফাতির ৩৫: ১
324 সূরা আল-আনফাল ৮:৫০
325 সূরা আল-আনআম ৬:৯৩
326 সূরা সাবা ৩৪: ২২-২৩
327 সূরা আর-রা'দ ১৩: ২৩-২৪
৩২৮ সহীহ বুখারী: হা/৭৪৮৫, মুসলিম হা/২৬৩৭; আহমাদ হা/৮৫০০; সহীহ ইবনু হিব্বان হা/৩৬৫; মিশকাত হা/৫০০৫।
৩২৯ সহীহ বুখারী: হা/৯২৯, আহমাদ হা/১০৫৬৮; বায়হাকী কুবরা হা/৫৮৬২; মিশকাত হা/১৩৮৪。
আর তাঁর মালায়িকাহ বা ফেরেশতাগণের প্রতি'।
মালায়িকাহ বা ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান
১. ফেরেশতারা হলেন আল্লাহ্র সৃষ্টি এবং অদৃশ্য জগতের বাসিন্দা। তারা সর্বদা আল্লাহ্ ইবাদাতে মশগুল থাকেন। তাদের মাঝে রুবুবিয়্যাহ বা উলুহিয়্যাহ্র কোন কিছুই নেই। মহান আল্লাহ্ তাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর আদেশের প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যশীল ও আত্মসমর্পণকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। একই সাথে তাদেরকে আল্লাহ্ তাঁর হুকুম বাস্তবায়নের শক্তি- সামর্থ্য দান করেছেন। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَمَا عِنْدَةً لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ
"আর তাঁর সান্নিধ্যে যারা আছে তারা অহংকার বশে তাঁর ইবাদাত করা হতে বিমুখ হয় না এবং বিরক্তি বোধ করে না। তারা রাত-দিন তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং ক্লান্তও হয় না।”
ফেরেশতারা সংখ্যায় অনেক। তাদের সঠিক সংখ্যা কেবল আল্লাহই জানেন। সাহীহ বুখারী ও মুসলিমে আনাস () থেকে বর্ণিত মি'রাজের ঘটনা সম্পর্কিত হাদীসে রয়েছে যে, মি'রাজের রজনীতে ঊর্ধ্বাকাশের 'বাইতুল মা'মূর' রাসূল () এর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা সলাত আদায় করেন। সলাت আদায় করা শেষ হলে তারা সেখান থেকে বের হয়ে যান এবং আর সেখানে তারা ফিরে আসেন না।
ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান পোষণ করার মাঝে ৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:
ক. তাদের অস্তিত্বের প্রতি ঈমান পোষণ করা।
খ. তাদের মধ্য থেকে যাদের নাম আমরা জানি (যেমন জিবরীল), নাম সহকারে তাদের প্রতি ঈমান পোষণ করা এবং যাদের নাম আমাদের জানা নেই তাদের প্রতি সাধারণভাবে ঈমান পোষণ করা।
গ. ফেরেশতাদের মধ্য থেকে যাদের গুণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমরা অবগত, তার প্রতি ঈমান পোষণ। যেমন জিবরীল এর গুণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তিনি তাকে তার সৃষ্টিগত আসল রূপে ও আকৃতিতে দেখেছেন। তার ৬০০টি ডানা রয়েছে, যা দিগন্তকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে।
কখনো কখনো কোন কোন ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশে মানুষের রূপ ধারণ করে থাকেন। যেমন: জিবরীল কে আল্লাহ যখন মারইয়াম এর ওয়াস নিকট পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁর নিকট মানুষরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অনুরূপভাবে রাসূল (ﷺ) একদিন যখন তাঁর সাহাবায়ি কিরামদের নিয়ে বৈঠকরত অবস্থায় ছিলেন, তখন জিবরাঈল ধবধবে সাদা কাপড় পরিহিত এবং ঘন-কালো কেশে এমন এক মানুষের বেশে রাসূল (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়েছিলেন, যার মাঝে সফর করার কোন ছাপ দেখা যাচ্ছিল না। আবার বৈঠকে উপস্থিত কোন সাহাবীর কাছে তাকে পরিচিত বলেও মনে হচ্ছিল না। তিনি এসে রাসূল (ﷺ) এর পাশে গিয়ে তাঁর হাঁটুর সাথে নিজের হাঁটু লাগিয়ে বসলেন এবং তাঁর হাত দু'টি তার উরুতে রাখলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) কে ইসলাম, ঈমান, ইহসান এবং কিয়ামাহ ও এর আলামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূল (ﷺ) তাকে এগুলোর উত্তর দিলেন। এরপর জিবরীল (ﷺ) চলে গেলেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ) উপস্থিত সাহাবায়ি কিরামকে লক্ষ করে বললেন:
فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ
'ইনি হলেন জিবরীল তিনি এসেছিলেন তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে'।
এমনিভাবে মহান আল্লাহ্ যে সকল ফেরেশতাকে ইবরাহীম এবং লুত্ব এর নিকট পাঠিয়েছিলেন তারাও তাদের নিকট মানুষের রূপ ধারণ করে এসেছিলেন।
ঘ. ফেরেশতাগণ আল্লাহ্র নির্দেশে যেসব কাজ করে থাকেন বলে আমরা অবগত হয়েছি, সেসবের প্রতি ঈমান পোষণ করা। যেমন ফেরেশতারা রাত-দিন আল্লাহ্ তাসবীহ এবং তাঁর ইবাদাত করে থাকেন এবং এতে তারা কোনরূপ ক্লান্তি বা অবসাদ বোধ করেন না।
ফেরেশতাদের মধ্যে কারো কারো বিশেষ কিছু কাজ বা দায়িত্ব রয়েছে। যেমন:
১. জিবরীল, তিনি আল্লাহ্র ওয়াইয়ীর ব্যাপারে বিশ্বস্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত। আল্লাহ্ তাকে নাবী-রাসূলদের নিকট ওয়াইয়ী দিয়ে প্রেরণ করেন。
২. মীকাঈল, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ ও তৃণ-উদ্ভিদ উৎপাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত।
৩. ইসরাফীল, তিনি কিয়ামাতের ঘণ্টা প্রতিষ্ঠার সময় ও সৃষ্টিজগতের পুনরুত্থানের সময় শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত।
৪. মালাকুল মাউত, তিনি মানুষের মৃত্যুর সময় প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত।
৫. মালিক, তিনি জাহান্নামের অগ্নিকুন্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত এবং জাহান্নামের প্রহরী।
(৬) কিছু ফেরেশতা আছেন যারা মাতৃগর্ভস্থ সন্তানের দায়িত্বে নিয়োজিত। মাতৃগর্ভে যখন কোন সন্তানের ৪ মাস পূর্ণ হয়, তখন আল্লাহ্ তার প্রতি একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে সেই সন্তানের রিয্ক, হায়াত, আমল এবং সে সৌভাগ্যবান নাকি দুর্ভাগা, এসব লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন।
(৭) কিছু ফেরেশতা আছেন যারা প্রতিটি আদম সন্তানের কাজকর্ম সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করে রাখেন। এ কাজের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট দু'জন ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের একজন আছেন ডানপাশে এবং অপরজন বামপাশে।
(৮) এমনিভাবে আরো কিছু ফেরেশতা রয়েছেন যারা কোন মৃত ব্যক্তিকে কবরে প্রশ্ন করার দায়িত্বে নিয়োজিত। কোন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর দু'জন ফেরেশতা তার কবরে আসেন এবং তাকে তার রব, তার দ্বীন এবং তার নাবী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মালায়িকাহর প্রতি ঈমান এর ফলাফল: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান পোষণ যেসব গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল প্রদান করে তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
ক. আল্লাহ্র মহত্ত্ব, অপরিসীম শক্তি এবং তাঁর মহান ক্ষমতা ও রাজত্ব সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা। কেননা কোন সৃষ্টির মহত্ত্বের মাঝেই সৃষ্টিকর্তার মহত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।
খ. যেহেতু মহান আল্লাহ্ প্রতিটি আদম সন্তানের দেখাশোনা, তাদের কাজকর্ম লিপিবদ্ধ করা এবং মানবজাতির আরো অগণিত কল্যাণার্থে বিভিন্ন ফেরেশতা নিয়োজিত করে রেখেছেন, কাজেই ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান পোষণের মাধ্যমে আল্লাহ্র এসব বিশেষ অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা হয়।
গ. ফেরেশতাগণ সর্বদা মহান আল্লাহ্র ইবাদাতে মশগুল থাকেন, তাই তাদের প্রতি মুহাব্বত ও ভালবাসা পোষণ করা হয়।
মালায়িকার দেহ অস্বীকারকারীদের রদ: পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী কোন কোন সম্প্রদায় ফেরেশতাদের দেহ ও আকার বিশিষ্ট হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে। তারা বলে, সৃষ্টির মাঝে লুকায়িত যে কল্যাণী শক্তি রয়েছে, তাই হলো ফেরেশতা। তাদের এই দাবিটি মূলত কুরআন মাজীদ, সুন্নাতে রাসূল (ﷺ) এবং মুসলিমদের ইজমা'কে মিথ্যা সাব্যস্ত করার নামান্তর।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَٰوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَٰۤئِكَةِ رُسُلًا أُولِىۤ أَجْنِحَةٍ مَّثْنٰىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ
"সকল প্রশংসা আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই, যিনি ফিরিশতাদেরকে দূত বানিয়েছেন যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পাখাবিশিষ্ট।"
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন:
وَلَوْ تَرَىٰۤ إِذْ يَّتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلٰۤئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ
“আর আপনি যদি দেখতে পেতেন যখন ফেরেশতাগণ তাদের প্রাণ হরণ করছিল যারা কুফরী করেছে এবং তাদের মুখমণ্ডলে ও পিঠে আঘাত করছিল।”
তিনি আরো ইরশাদ করেছেন:
وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّلِمُونَ فِي غَمَرَتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَيْكَةُ بَاسِطُوا أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمْ
“আর যদি আপনি দেখতে পেতেন, যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকবে এবং ফেরেশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের করে দাও।”
অন্য আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে:
حَتَّى إِذَا فَرْعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقِّ ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ
‘অবশেষে যখন তাদের (আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতা কিংবা সুপারিশের অনুমতিপ্রাপ্তদের) অন্তর থেকে ভয় বিদূরিত হবে, তখন তারা পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, তোমাদের রব্ব কী বললেন? এর উত্তরে তারা বলবে, যা সত্য তিনি তা-ই বলেছেন। আর তিনি সমুচ্চ, সুমহান।’
আর জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
وَالْمَلَيْكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِّن كُلِّ بَابٍ سَلَّمٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ
“আর ফেরেশতাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে এবং বলবে, তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি সালাম। আর পরকালের এই আবাস প্রতিদান হিসেবে কতই না উত্তম!”
সাহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা ( ) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَبَّ فُلَانًا فَأَحِبَّهُ فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ، ثُمَّ يُنَادِي جِبْرِيلُ فِي السَّمَاءِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَبَّ فُلَانًا فَأَحِبُّوهُ، فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ وَيُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي أَهْলِ الْأَرْضِ
'আল্লাহ্ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি জিব্রীল ( ) কে ডেকে বলেন, আল্লাহ্ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, অতএব তুমিও তাকে ভালবাস। ফলে জিব্রীল ( ) তাকে ভালবাসেন। অতঃপর জিব্রীল ( ) আসমানে এ ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ্ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তোমরাও তাকে ভালবাস। তখন তাকে আসমানবাসীরা ভালবাসে এবং পৃথিবীবাসীদের মধ্যেও তাকে কবুল করে নেওয়া হয়।
আবু হুরায়রা ( ) থেকে বর্ণিত আরও একটি হাদীসে রাসূল ইরশাদ করেছেন:
إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، وَقَفَتِ الْمَلَائِكَةُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ يَكْتُبُونَ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ، وَمَثَلُ الْمُهَجِّرِ كَمَثَلِ الَّذِي يُهْدِي بَدَنَةً، ثُمَّ كَالَّذِي يُهْدِي بَقَرَةً، ثُمَّ كَبْشًا، ثُمَّ دَجَاجَةً، ثُمَّ بَيْضَةً، فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ طَوَوْا صُحُفَهُمْ، وَيَسْتَمِعُونَ الذَّكْرَ
'জুমু'আর দিন মসজিদের দরজায় মালাইকা (ফেরেশতাগণ) অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগে যারা আসেন তাদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার পূর্বে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানী করে। অতঃপর যে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে। অতঃপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। অতঃপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। অতঃপর ইমাম যখন খুতবা দিতে বের হন তখন মালাইকা (ফেরেশতাগণ) তাঁদের খাতা বন্ধ করে দিয়ে মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবণ করতে থাকেন।
অতএব কুরআন-হাদীসের এসব দালীল দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ফেরেশতাগণ দেহ ও আকৃতি সম্বলিত সৃষ্টি। তারা মানুষের ভাবগত শক্তি নয়, যেমনটি দাবী করে থাকে পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী লোকজন। এ ব্যাপারে উপরোল্লিখিত কুরআন-সুন্নাহর দালীলের ভিত্তিতে মুসলিমদের ইজমা' রয়েছে।
টিকাঃ
321 সূরা আল-আমবিয়া' ২১: ১৯-২০
৩২২ সহীহ মুসলিম: হা/১, আহমাদ হা/৩৬৭; আবু দাউদ হা/৪৬৯৫; মিশকাত হা/২।
৩২৩ সূরা আল-ফাতির ৩৫: ১
324 সূরা আল-আনফাল ৮:৫০
325 সূরা আল-আনআম ৬:৯৩
326 সূরা সাবা ৩৪: ২২-২৩
327 সূরা আর-রা'দ ১৩: ২৩-২৪
৩২৮ সহীহ বুখারী: হা/৭৪৮৫, মুসলিম হা/২৬৩৭; আহমাদ হা/৮৫০০; সহীহ ইবনু হিব্বان হা/৩৬৫; মিশকাত হা/৫০০৫।
৩২৯ সহীহ বুখারী: হা/৯২৯, আহমাদ হা/১০৫৬৮; বায়হাকী কুবরা হা/৫৮৬২; মিশকাত হা/১৩৮৪。
📄 কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান ও তার ফলাফল
আর তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি'।
কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান
১. 'কুতুব' হলো 'কিতাব' শব্দের বহুবচন যার অর্থ হলো, যা কিছু লিখিত হয়েছে। এখানে কিতাবসমূহ বলতে সেই সব কিতাবকে বুঝানো হয়েছে যেগুলো মহান আল্লাহ্ তাঁর রাসূলগণের প্রতি জগতবাসীর জন্য রহমত ও হিদায়াত স্বরূপ নাযিল করেছেন, যাতে করে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে সার্বিক কল্যাণ লাভ করতে পারে।
কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান পোষণের মাঝে ৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:
ক. এই ঈমান পোষণ করা যে, এসব কিতাব নিঃসন্দেহে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে।
ख. এসব আসমা'নী কিতাবের মধ্য থেকে যেগুলোর নাম আমরা জানতে পেরেছি, নামসহ সেগুলোর উপর ঈমান পোষণ করা। যেমন কুরআন মাজীদ নাযিল হয়েছে মুহাম্মাদ (আ.) এর উপর, তাওরাত নাযিল হয়েছে মূসা (আ.) এর উপর, ইনজিল নাযিল হয়েছে ঈসা (আ.) এর উপর এবং যাবুর নাযিল হয়েছে দাউদ (আ.) এর উপর। আর যে সব কিতাবের নাম আমাদের জানা নেই, সে সব কিতাবের প্রতি সামষ্টিকভাবে ঈমান পোষণ করা।
গ. আল্লাহ্র নাযিলকৃত কিতাবসমূহে যা কিছু সত্যরূপে নিরুপিত হয়েছে তার সত্যায়ন করা। যেমন কুরআন মাজীদে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে সেগুলোকে সত্য ও সঠিক বলে স্বীকৃতি দেওয়া। তেমনি পূর্ববর্তী আসমা'নী কিতাবসমূহের অপরিবর্তিত ও অবিকৃত সংবাদসমূহকে সত্য ও সঠিক বলে স্বীকার করা।
ঘ. কিতাবসমূহে যেসব বিধান মানসূখ বা রহিত করা হয় নি, সেসব বিধান পালন করা এবং এসব বিধানের হিকমাহ্ বা অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আমরা বুঝি আর নাই বুঝি, সর্বাবস্থায় সেগুলোর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও সন্তুষ্টি প্রদর্শন করা। আর কুরআন মাজীদ নাযিলের মধ্য দিয়ে পূর্বেকার সকল আসমা'নী কিতাব রহিত হয়ে গেছে。
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ الْكِتٰبِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ
"আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যা এর পূর্বে নাযিলকৃত কিতাবের সত্যায়নকারী ও সংরক্ষক।"
এ আয়াতে مُهَيْمِن তথা 'সত্যায়নকারী ও সংরক্ষক' বলতে অন্য বিচারক বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এর ভিত্তিতে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সমূহের কোন হুকুম পালন করা এখন আর জায়েয নেই। তবে সেসব কিতাবের যে হুকুমগুলো কুরআন মাজীদ সমর্থন করে, সেগুলো অবশ্যই পালনীয়।
কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান এর ফলাফল: আল্লাহ্র নাযিলকৃত কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান পোষণের দ্বারা যেসব গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জিত হয় তন্মধ্যে রয়েছে:
ক. এ বিষয়ে জ্ঞানার্জন যে মহান আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে প্রত্যেক জাতি ও সম্প্রদায়ের জন্য কিতাব নাযিল করে তা দ্বারা তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন।
খ. মহান আল্লাহ্ প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের অবস্থা উপযোগী যে শারীয়াত দিয়েছেন, এর মাঝে যে হিকমাহ্ বা পরম প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে, তা জানা যায়। যেমন আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
لِكُلِّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا
"তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমি একটি করে শরীয়ত ও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি।"
টিকাঃ
330 সূরা আল-মায়েদাহ ৫:৪৮
331 সূরা আল-মায়েদাহ ৫: ৪৮
আর তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি'।
কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান
১. 'কুতুব' হলো 'কিতাব' শব্দের বহুবচন যার অর্থ হলো, যা কিছু লিখিত হয়েছে। এখানে কিতাবসমূহ বলতে সেই সব কিতাবকে বুঝানো হয়েছে যেগুলো মহান আল্লাহ্ তাঁর রাসূলগণের প্রতি জগতবাসীর জন্য রহমত ও হিদায়াত স্বরূপ নাযিল করেছেন, যাতে করে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে সার্বিক কল্যাণ লাভ করতে পারে।
কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান পোষণের মাঝে ৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:
ক. এই ঈমান পোষণ করা যে, এসব কিতাব নিঃসন্দেহে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে।
ख. এসব আসমা'নী কিতাবের মধ্য থেকে যেগুলোর নাম আমরা জানতে পেরেছি, নামসহ সেগুলোর উপর ঈমান পোষণ করা। যেমন কুরআন মাজীদ নাযিল হয়েছে মুহাম্মাদ (আ.) এর উপর, তাওরাত নাযিল হয়েছে মূসা (আ.) এর উপর, ইনজিল নাযিল হয়েছে ঈসা (আ.) এর উপর এবং যাবুর নাযিল হয়েছে দাউদ (আ.) এর উপর। আর যে সব কিতাবের নাম আমাদের জানা নেই, সে সব কিতাবের প্রতি সামষ্টিকভাবে ঈমান পোষণ করা।
গ. আল্লাহ্র নাযিলকৃত কিতাবসমূহে যা কিছু সত্যরূপে নিরুপিত হয়েছে তার সত্যায়ন করা। যেমন কুরআন মাজীদে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে সেগুলোকে সত্য ও সঠিক বলে স্বীকৃতি দেওয়া। তেমনি পূর্ববর্তী আসমা'নী কিতাবসমূহের অপরিবর্তিত ও অবিকৃত সংবাদসমূহকে সত্য ও সঠিক বলে স্বীকার করা।
ঘ. কিতাবসমূহে যেসব বিধান মানসূখ বা রহিত করা হয় নি, সেসব বিধান পালন করা এবং এসব বিধানের হিকমাহ্ বা অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আমরা বুঝি আর নাই বুঝি, সর্বাবস্থায় সেগুলোর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও সন্তুষ্টি প্রদর্শন করা। আর কুরআন মাজীদ নাযিলের মধ্য দিয়ে পূর্বেকার সকল আসমা'নী কিতাব রহিত হয়ে গেছে。
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ الْكِتٰبِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ
"আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যা এর পূর্বে নাযিলকৃত কিতাবের সত্যায়নকারী ও সংরক্ষক।"
এ আয়াতে مُهَيْمِن তথা 'সত্যায়নকারী ও সংরক্ষক' বলতে অন্য বিচারক বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এর ভিত্তিতে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সমূহের কোন হুকুম পালন করা এখন আর জায়েয নেই। তবে সেসব কিতাবের যে হুকুমগুলো কুরআন মাজীদ সমর্থন করে, সেগুলো অবশ্যই পালনীয়।
কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান এর ফলাফল: আল্লাহ্র নাযিলকৃত কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান পোষণের দ্বারা যেসব গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জিত হয় তন্মধ্যে রয়েছে:
ক. এ বিষয়ে জ্ঞানার্জন যে মহান আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে প্রত্যেক জাতি ও সম্প্রদায়ের জন্য কিতাব নাযিল করে তা দ্বারা তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন।
খ. মহান আল্লাহ্ প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের অবস্থা উপযোগী যে শারীয়াত দিয়েছেন, এর মাঝে যে হিকমাহ্ বা পরম প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে, তা জানা যায়। যেমন আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
لِكُلِّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا
"তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমি একটি করে শরীয়ত ও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি।"
টিকাঃ
330 সূরা আল-মায়েদাহ ৫:৪৮
331 সূরা আল-মায়েদাহ ৫: ৪৮
📄 রাসূলগণের প্রতি ঈমান ও তার ফলাফল
আর তাঁর রাসূলগণের প্রতি।
রাসূলগণের প্রতি ঈমান
১. রাসূল এর মর্মার্থ: 'রাসূল' হলো একবচন, এর বহুবচন হলো 'বুসুল'। কোন কিছু পৌঁছানোর জন্য যাকে পাঠানো হয়, শাব্দিক অর্থে তাকে রাসূল বলে। এখানে রুসুল বলতে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, মানুষের মধ্যে যারা আল্লাহ্ পক্ষ থেকে শারীআত বিষয়ে ওয়াহয়ী প্রাপ্ত হয়েছেন এবং তা প্রচারের নির্দেশ পেয়েছেন।
আল্লাহ্ পক্ষ থেকে মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বপ্রথম রাসূল হলেন নূহ এবং সর্বশেষ রাসূল হলেন মুহাম্মাদ()। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى nُوحٍ وَالنَّبِيِّنَ مِنْ بَعْدِهِ
“নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট ওয়াহয়ী প্রেরণ করেছিলাম যেমন প্রেরণ করেছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নাবীগণের প্রতি।”
সাহীহ বুখারীতে আনাস() থেকে শাফাআত (সুপারিশ) সম্পর্কিত হাদীয়ে রয়েছে যে মানুষ আদম এর কাছে শাফায়াতের জন্য আসবে ও তখন তিনি তাদেরকে ওজর দেখাবেন ও বলবেন তোমরা নূহ এর কাছে যাও, যিনি প্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ্ প্রেরণ করেছিলেন।...
মুহাম্মাদ () সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّنَ
“মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নাবী।”
এমন কোন জাতি নেই যাদের প্রতি আল্লাহ্ স্বতন্ত্র শারীআত দিয়ে রাসূল প্রেরণ করেননি কিংবা পূর্ববর্তী কোন রাসূলের শারীআতকে নবায়ন করার ওয়াহয়ী দিয়ে কোন নাবী প্রেরণ করেন নি。
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
"আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছিলাম এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং স্বাগুতকে বর্জন কর।"
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন:
وَإِنْ مِّنَ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ
"আর এমন কোন উম্মত নেই যার কাছে গত হয়নি কোন সতর্ককারী।"
আল্লাহ্ আরো ইরশাদ করেছেন:
إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَيَةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا
“নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাযিল করেছিলাম। এতে ছিল হিদায়াত ও নূর। নাবীগণ যারা ছিলেন অনুগত, তারা ইয়াহুদীদেরকে তা অনুযায়ী হুকুম দিতেন।"
রাসূলগণ হলেন আল্লাহ্র সৃষ্টি মানুষ। তাঁদের মাঝে রুবুবিয়্যাহ কিংবা উলুহিয়্যাহর কিছু নেই। তাইতো দেখা যায়, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ্র নিকট সবচেয়ে মর্যাদাবান রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
مَا شَاءَ اللهُ وَلَوْ كُنْتُ قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
"বলুন, আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ব্যতীত আমার নিজের ভাল-মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নেই। আমি যদি গায়েবের খবর জানতাম, তবে তো আমি অনেক কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া আমি তো আর কিছুই নই। ”
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন:
قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا قُلْ إِنِّي لَنْ يُجِيرَنِي مِنَ اللهِ أَحَدٌهُ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا
"বলুন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কোন ক্ষতি বা কল্যাণের মালিক নই৷ বলুন, আল্লাহর পাকড়াও হতে কেউই আমাকে রক্ষা করতে পারবে না এবং আল্লাহ ছাড়া আমি কখনও কোন আশ্রয় পাব না। ”
রোগ, মৃত্যু, ক্ষুধা, পিপাসা এবং অন্যান্য মানবীয় বৈশিষ্ট্য সকল নাবী-রাসূলের মাঝে ছিল। যেমন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক তাঁর রব্ব সম্পর্কে দেওয়া বিবরণ উল্লেখ করে মহান আল্লাহ্ বলেন:
وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ
“আর তিনিই আমাকে খাওয়ান ও পান করান। আর রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন। আর তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাবেন এবং তারপর আমাকে পুনর্জীবিত করবেন। "
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ، أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ، فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكَّرُونِي
'আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। কাজেই আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে'।
নবী-রাসূলদের উচ্চ মর্যাদার বিবরণ দিতে গিয়ে এবং তাঁদের প্রশংসা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ্ তাঁদেরকে তাঁর বান্দা বলে অভিহিত করেছেন। যেমন নূহ(আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
إِنَّهُ كَانَ عَبْدًا شَكُورًا
"তিনি তো ছিলেন একজন পরম কৃতজ্ঞ বান্দা।"
এমনিভাবে মুহাম্মাদ(সাঃ) সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَىٰ عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا
"কত বরকতময় তিনি! যিনি তাঁর বান্দার উপর সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব নাযিল করেছেন, যাতে সে সৃষ্টিজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।"
ইবরাহীম(আঃ), ইসহাক(আঃ) এবং ইয়া'কুব(আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ্ ওয়াস সালাম ইরশাদ করেছেন:
وَاذْكُرْ عِبَادَنَا إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ أُولِي الْأَيْدِي وَالْأَبْصَارِ إِنَّا أَخْلَصْنَاهُمْ بِخَالِصَةٍ ذِكْرَى الدَّارِ ۖ وَإِنَّهُمْ عِنْدَنَا لَمِنَ الْمُصْطَفَيْنَ الْأَخْيَارِ
“স্মরণ কর আমার বান্দা ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়া'কুব-এর কথা- তারা ছিল শক্তি ও সূক্ষ্মদর্শিতার অধিকারী। বস্তুত আমি তাদেরকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছিলাম এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যে- তা হল পরলোকের স্মরণ। আমার দৃষ্টিতে তারা ছিল আমার বাছাইকৃত উত্তম বান্দাহদের অন্তর্ভুক্ত।”
ঈসা ইবনু মারইয়াম সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
إِنْ هُوَ إِلَّا عَبْدٌ أَنْعَمْنَا عَلَيْهِ وَجَعَلْنَهُ مَثَلًا لِبَنِي إِسْرَاعِيلَ
“তিনি তো শুধু একজন বান্দাহ যার প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলাম আর বানী ইসরাঈলের জন্য আমি তাকে করেছিলাম (আমার কুদরাতের বিশেষ এক) নমুনা।”
রাসূলগণের প্রতি ঈমানের মাঝে ৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:
ক. এই ঈমান পোষণ করা যে, আল্লাহ্র পক্ষ থেকে পাওয়া তাঁদের রিসালাত তথা বার্তা অকাট্য সত্য। যে ব্যক্তি কোন একজন রাসূলের রিসালাতকে অস্বীকার করবে, সে সকল রাসূলকে অস্বীকারকারী বলে গণ্য হবে। যেমন মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحِ الْمُرْسَلِينَ
"নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল।”
এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ্ নূহ এর সম্প্রদায়কে সকল নাবী-রাসূলকে অস্বীকারকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। অথচ তারা যখন নূহ কে অস্বীকার করেছিল, তখন দুনিয়াতে তিনি ব্যতীত অন্য কোন নাবী বা রাসূল ছিলেন না।
এমনিভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায় (নাসারা) যারা মুহাম্মাদ কে রাসূল বলে স্বীকার করে না এবং তাঁর অনুসরণ করে না, তারাও ঈসা ইবনু মারইয়াম কে অস্বীকারকারী এবং তাঁর বিরোধিতাকারী। কেননা ঈসা তাদেরকে মুহাম্মাদ এর আগমনের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। আর এই সুসংবাদ দেওয়ার অর্থই হলো, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাদের প্রতি আল্লাহ্ প্রেরিত রাসূল হিসেবে আগমন করবেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ্ তাদেরকে বিপথগামীতা থেকে রক্ষা করবেন। আর তিনি তাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখাবেন।
খ. যে সকল নাবী-রাসূলের নাম আমরা জানতে পেরেছি, নামসহ তাদের প্রতি ঈমান পোষণ করা। যেমন: মুহাম্মাদ (ﷺ), ইবরাহীম ( عليه السلام ), মূসা ( عليه السلام ), ঈসা ( عليه السلام ) এবং নূহ ( عليه السلام )। এই পাঁচজন হলেন উলূল ‘আযম তথা দৃঢ় সংকল্পের অধীকারী বিশেষ মর্যাদাবান রাসূল। কুরআন মাজীদের দু’টি স্থানে মহান আল্লাহ্ এই পাঁচজন রাসূলের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন সূরা আহযাবে তিনি ইরশাদ করেন:
وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّنَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ
“স্মরণ কর, আমি যখন নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম আর তোমার কাছ থেকেও; আর নূহ, ইব্রাহীম, মূসা আর মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা থেকেও।”
সূরা শুরা তে তিনি ইরশাদ করেন:
فَرَعَ لَكُمْ مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ
“তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধি-ব্যবস্থাই দিয়েছেন যার হুকুম তিনি দিয়েছিলেন নূহকে। আর সেই (বিধি ব্যবস্থাই) (তোমাকে ওয়াহয়ীর মাধ্যমে দিলাম যার হুকুম দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ‘ঈসাকে- তা এই যে, তোমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠিত কর, আর তাতে বিভক্তি সৃষ্টি করো না।”
আর তাঁদের মধ্যে যাদের নাম আমাদের জানা নেই, আমরা তাদের উপর সামষ্টিকভাবে ঈমান পোষণ করব।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ مِنْهُم مَّا قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُم مَّا لَمْ نَقْصُصُ عَلَيْكَ
“আমি তোমার পূর্বে অনেক রসূল পাঠিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে কারো কারো কাহিনী আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি, তাদের মধ্যে কারো কারো কথা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করিনি।”
গ. নাবী-রাসূল থেকে তাঁদের নিজেদের সম্পর্কে যে সকল কথা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করা।
ঘ. নাবী-রাসূলদের মধ্যে যাকে গোটা মানবজাতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে সেই সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ () এর শারীআত পালন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
“কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের বিবাদ-বিসম্বাদের মীমাংসার ভার তোমার উপর ন্যস্ত না করে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কিছু মাত্র কুণ্ঠাবোধ না থাকে, আর তারা তার সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সমর্পণ করে।”
রাসূল এর প্রতি ঈমান এর ফলাফল: নবী রাসূলগণের প্রতি ঈমান পোষণের দ্বারা যেসব গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জিত হয় তন্মধ্যে রয়েছে:
ক. আল্লাহ্র অশেষ রহমত এবং বান্দাদের প্রতি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ হয়। কেননা মহান আল্লাহ্ রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন যাতে তাঁরা মানবজাতিকে আল্লাহ্র পথ প্রদর্শন করেন এবং তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে জনিয়ে দেন কিভাবে তারা আল্লাহ্ ইবাদাত করবে। কারণ কেবল মানবীয় বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা আল্লাহ্র পথ চেনা এবং আল্লাহ্ ইবাদাতের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানা মোটেও সম্ভব নয়।
খ। এই মহান নিয়ামতের জন্য আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করা হয়।
গ। নাবী-রাসূলদের প্রতি ঈমান পোষণের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি যথাযথ ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করা এবং যেভাবে তাঁদের প্রশংসা করা উচিত সেভাবে তাদের প্রশংসা করা হয়। কেননা তাঁরা হলেন আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল যারা আল্লাহ্ ইবাদাত করে থাকেন, তাঁর বার্তা প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত থাকেন এবং আল্লাহর বান্দাদেরকে উত্তম নসীহত করে থাকেন।
বিরোধিতাকারীরা নাবী-রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছে এই ধারণাবলে যে, আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল কখনো মানুষের মধ্য থেকে হতে পারে না। কুরআন মাজীদে মহান আল্লাহ্ তাদের এই ধারণার কথা উল্লেখ করার সাথে সাথে তা বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى إِلَّا أَنْ قَالُوا أَبَعَثَ اللَّهُ بَشَرًا رَسُولًا قُلِ لَوْ كَانَ فِي الْأَرْضِ مَلَائِكَةٌ يَمْشُونَ مُطْمَئِنِّينَ لَنَزَلْنَا عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ مَلَكًا رَّسُولًا
“আর যখন মানুষের কাছে হিদায়াত আসে, তখন তাদেরকে ঈমান আনা থেকে বিরত রাখে কেবল তাদের এই কথা যে, আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন? বলুন, ফেরেশতাগণ যদি নিশ্চিন্ত হয়ে যমীনে বিচরণ করত (অর্থাৎ যমীনে বসবাস করতো), তবে আমি আসমান থেকে তাদের কাছে অবশ্যই ফেরেশতাকে রাসূল করে পাঠাতাম।”
এই আয়াত দ্বারা আল্লাহ্ বিরোধিতাকারীদের ভ্রান্ত ধারণাকে বাতিল করে দিয়েছেন এই মর্মে যে, রাসূল যেহেতু দুনিয়াবাসীর প্রতি প্রেরিত, আর এই দুনিয়াবাসী হল মানুষ, কাজেই রাসূলকে অবশ্যই মানুষ হতে হবে। যদি দুনিয়াবাসী মানুষ না হয়ে ফেরেশতা হতো, তাহলে তাদের প্রতি রাসূল হিসেবে আল্লাহ্ আসমান থেকে ফেরেশতা পাঠাতেন যাতে করে যাদের প্রতি রাসূল পাঠানো হবে, তারা যেমন, প্রেরিত রাসূলও তেমন হয়।
যারা রাসূলগণকে অস্বীকার করতো, তাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَنْ تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَنٍ مُّبِينٍ قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِنْ نَحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَن يَشَاءُ مِنَ عِبَادِهِ وَمَا كَانَ لَنَا أَنْ نَأْتِيَكُمُ بِسُلْطَنٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ
"তাদের রসূলগণ বলেছিল, 'আল্লাহ সম্পর্কে সন্দেহ? যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, তিনি তোমাদেরকে ডাকছেন তোমাদের অপরাধ সার্জনা করার জন্য আর একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দেয়ার জন্য।' তারা বলল, 'তুমি আমাদেরই মত মানুষ বৈ তো নও, আমাদের পূর্বপুরুষরা যার ইবাদাত করত তাত্থেকে আমাদেরকে তুমি বাধা দিতে চাও, তাহলে তুমি (তোমার দাবীর স্বপক্ষে) আমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত কর। তাদের রসূলগণ তাদেরকে বলেছিল, 'যদিও আমরা তোমাদের মতই মানুষ ব্যতীত নই, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের মধ্যে যার উপর ইচ্ছে অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর হুকুম ছাড়া তোমাদের কাছে কোন প্রমাণ উপস্থিত করা আমাদের কাজ নয়। মু'মিনদের উচিত আল্লাহরই উপর ভরসা করা।”
টিকাঃ
332 'সূরা আন-নিসা' ৪: ১৬৩
333 সূরা আল-আহযাব ৩৩: ৪০
৩৩৪ সূরা আন-নাহল ১৬: ৩৬
৩৩৫ সূরা আল-ফাতির ৩৫: ২৪
৩৩৬ সূরা আল-মায়িদাহ ৫: ৪৮
337 সূরা আল-আ'রাফ ৭: ১৮৮
338 সূরা আল-জিন্ন ৭২: ২১-২২
339 'সূরা আশ্-শুআরা' ২৬: ৭৯-৮১
৩৪০ সাহীহ বুখারী: হা/৪০১, মুসলিম হা/৫৭২; আবু দাউদ হা/১০২০; নাসাঈ হা/১২৪২; ইবনু মাজাহ হা/১২০৩; মিশকাত হা/১০১৬。
৩৪১ সূরা আল-ইসরা ১৭:৩
৩৪২ সূরা আল-ফুরকান ২৫:১
343 সূরা সাদ ৩৮: ৪৫-৪৭
344 সূরা আয-যুখরুফ ৪৩: ৫৯
345 সূরা আশ্-শুআরা' ২৬: ১০৫
৩৪৬ সূরা আল-আহযাব ৩৩:৭
৩৪৭ সূরা আশ-শুরা ৪২:১৩
348 সূরা গাফির (মুমিন) ৪০ : ৭৮
349 সূরা আন-নিসা' ৪ : ৬৫
৩৫০ সূরা আল-ইসরা' ১৭ : ৯৪-৯৫
351 সূরা ইবরাহীম ১৪: ১০-১১
আর তাঁর রাসূলগণের প্রতি।
রাসূলগণের প্রতি ঈমান
১. রাসূল এর মর্মার্থ: 'রাসূল' হলো একবচন, এর বহুবচন হলো 'বুসুল'। কোন কিছু পৌঁছানোর জন্য যাকে পাঠানো হয়, শাব্দিক অর্থে তাকে রাসূল বলে। এখানে রুসুল বলতে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, মানুষের মধ্যে যারা আল্লাহ্ পক্ষ থেকে শারীআত বিষয়ে ওয়াহয়ী প্রাপ্ত হয়েছেন এবং তা প্রচারের নির্দেশ পেয়েছেন।
আল্লাহ্ পক্ষ থেকে মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বপ্রথম রাসূল হলেন নূহ এবং সর্বশেষ রাসূল হলেন মুহাম্মাদ()। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى nُوحٍ وَالنَّبِيِّنَ مِنْ بَعْدِهِ
“নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট ওয়াহয়ী প্রেরণ করেছিলাম যেমন প্রেরণ করেছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নাবীগণের প্রতি।”
সাহীহ বুখারীতে আনাস() থেকে শাফাআত (সুপারিশ) সম্পর্কিত হাদীয়ে রয়েছে যে মানুষ আদম এর কাছে শাফায়াতের জন্য আসবে ও তখন তিনি তাদেরকে ওজর দেখাবেন ও বলবেন তোমরা নূহ এর কাছে যাও, যিনি প্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ্ প্রেরণ করেছিলেন।...
মুহাম্মাদ () সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّنَ
“মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নাবী।”
এমন কোন জাতি নেই যাদের প্রতি আল্লাহ্ স্বতন্ত্র শারীআত দিয়ে রাসূল প্রেরণ করেননি কিংবা পূর্ববর্তী কোন রাসূলের শারীআতকে নবায়ন করার ওয়াহয়ী দিয়ে কোন নাবী প্রেরণ করেন নি。
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
"আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছিলাম এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং স্বাগুতকে বর্জন কর।"
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন:
وَإِنْ مِّنَ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ
"আর এমন কোন উম্মত নেই যার কাছে গত হয়নি কোন সতর্ককারী।"
আল্লাহ্ আরো ইরশাদ করেছেন:
إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَيَةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا
“নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাযিল করেছিলাম। এতে ছিল হিদায়াত ও নূর। নাবীগণ যারা ছিলেন অনুগত, তারা ইয়াহুদীদেরকে তা অনুযায়ী হুকুম দিতেন।"
রাসূলগণ হলেন আল্লাহ্র সৃষ্টি মানুষ। তাঁদের মাঝে রুবুবিয়্যাহ কিংবা উলুহিয়্যাহর কিছু নেই। তাইতো দেখা যায়, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ্র নিকট সবচেয়ে মর্যাদাবান রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
مَا شَاءَ اللهُ وَلَوْ كُنْتُ قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
"বলুন, আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ব্যতীত আমার নিজের ভাল-মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নেই। আমি যদি গায়েবের খবর জানতাম, তবে তো আমি অনেক কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া আমি তো আর কিছুই নই। ”
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন:
قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا قُلْ إِنِّي لَنْ يُجِيرَنِي مِنَ اللهِ أَحَدٌهُ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا
"বলুন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কোন ক্ষতি বা কল্যাণের মালিক নই৷ বলুন, আল্লাহর পাকড়াও হতে কেউই আমাকে রক্ষা করতে পারবে না এবং আল্লাহ ছাড়া আমি কখনও কোন আশ্রয় পাব না। ”
রোগ, মৃত্যু, ক্ষুধা, পিপাসা এবং অন্যান্য মানবীয় বৈশিষ্ট্য সকল নাবী-রাসূলের মাঝে ছিল। যেমন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক তাঁর রব্ব সম্পর্কে দেওয়া বিবরণ উল্লেখ করে মহান আল্লাহ্ বলেন:
وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ
“আর তিনিই আমাকে খাওয়ান ও পান করান। আর রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন। আর তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাবেন এবং তারপর আমাকে পুনর্জীবিত করবেন। "
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ، أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ، فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكَّرُونِي
'আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। কাজেই আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে'।
নবী-রাসূলদের উচ্চ মর্যাদার বিবরণ দিতে গিয়ে এবং তাঁদের প্রশংসা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ্ তাঁদেরকে তাঁর বান্দা বলে অভিহিত করেছেন। যেমন নূহ(আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
إِنَّهُ كَانَ عَبْدًا شَكُورًا
"তিনি তো ছিলেন একজন পরম কৃতজ্ঞ বান্দা।"
এমনিভাবে মুহাম্মাদ(সাঃ) সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَىٰ عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا
"কত বরকতময় তিনি! যিনি তাঁর বান্দার উপর সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব নাযিল করেছেন, যাতে সে সৃষ্টিজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।"
ইবরাহীম(আঃ), ইসহাক(আঃ) এবং ইয়া'কুব(আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ্ ওয়াস সালাম ইরশাদ করেছেন:
وَاذْكُرْ عِبَادَنَا إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ أُولِي الْأَيْدِي وَالْأَبْصَارِ إِنَّا أَخْلَصْنَاهُمْ بِخَالِصَةٍ ذِكْرَى الدَّارِ ۖ وَإِنَّهُمْ عِنْدَنَا لَمِنَ الْمُصْطَفَيْنَ الْأَخْيَارِ
“স্মরণ কর আমার বান্দা ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়া'কুব-এর কথা- তারা ছিল শক্তি ও সূক্ষ্মদর্শিতার অধিকারী। বস্তুত আমি তাদেরকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছিলাম এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যে- তা হল পরলোকের স্মরণ। আমার দৃষ্টিতে তারা ছিল আমার বাছাইকৃত উত্তম বান্দাহদের অন্তর্ভুক্ত।”
ঈসা ইবনু মারইয়াম সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
إِنْ هُوَ إِلَّا عَبْدٌ أَنْعَمْنَا عَلَيْهِ وَجَعَلْنَهُ مَثَلًا لِبَنِي إِسْرَاعِيلَ
“তিনি তো শুধু একজন বান্দাহ যার প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলাম আর বানী ইসরাঈলের জন্য আমি তাকে করেছিলাম (আমার কুদরাতের বিশেষ এক) নমুনা।”
রাসূলগণের প্রতি ঈমানের মাঝে ৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:
ক. এই ঈমান পোষণ করা যে, আল্লাহ্র পক্ষ থেকে পাওয়া তাঁদের রিসালাত তথা বার্তা অকাট্য সত্য। যে ব্যক্তি কোন একজন রাসূলের রিসালাতকে অস্বীকার করবে, সে সকল রাসূলকে অস্বীকারকারী বলে গণ্য হবে। যেমন মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحِ الْمُرْسَلِينَ
"নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল।”
এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ্ নূহ এর সম্প্রদায়কে সকল নাবী-রাসূলকে অস্বীকারকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। অথচ তারা যখন নূহ কে অস্বীকার করেছিল, তখন দুনিয়াতে তিনি ব্যতীত অন্য কোন নাবী বা রাসূল ছিলেন না।
এমনিভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায় (নাসারা) যারা মুহাম্মাদ কে রাসূল বলে স্বীকার করে না এবং তাঁর অনুসরণ করে না, তারাও ঈসা ইবনু মারইয়াম কে অস্বীকারকারী এবং তাঁর বিরোধিতাকারী। কেননা ঈসা তাদেরকে মুহাম্মাদ এর আগমনের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। আর এই সুসংবাদ দেওয়ার অর্থই হলো, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাদের প্রতি আল্লাহ্ প্রেরিত রাসূল হিসেবে আগমন করবেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ্ তাদেরকে বিপথগামীতা থেকে রক্ষা করবেন। আর তিনি তাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখাবেন।
খ. যে সকল নাবী-রাসূলের নাম আমরা জানতে পেরেছি, নামসহ তাদের প্রতি ঈমান পোষণ করা। যেমন: মুহাম্মাদ (ﷺ), ইবরাহীম ( عليه السلام ), মূসা ( عليه السلام ), ঈসা ( عليه السلام ) এবং নূহ ( عليه السلام )। এই পাঁচজন হলেন উলূল ‘আযম তথা দৃঢ় সংকল্পের অধীকারী বিশেষ মর্যাদাবান রাসূল। কুরআন মাজীদের দু’টি স্থানে মহান আল্লাহ্ এই পাঁচজন রাসূলের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন সূরা আহযাবে তিনি ইরশাদ করেন:
وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّنَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ
“স্মরণ কর, আমি যখন নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম আর তোমার কাছ থেকেও; আর নূহ, ইব্রাহীম, মূসা আর মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা থেকেও।”
সূরা শুরা তে তিনি ইরশাদ করেন:
فَرَعَ لَكُمْ مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ
“তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধি-ব্যবস্থাই দিয়েছেন যার হুকুম তিনি দিয়েছিলেন নূহকে। আর সেই (বিধি ব্যবস্থাই) (তোমাকে ওয়াহয়ীর মাধ্যমে দিলাম যার হুকুম দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ‘ঈসাকে- তা এই যে, তোমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠিত কর, আর তাতে বিভক্তি সৃষ্টি করো না।”
আর তাঁদের মধ্যে যাদের নাম আমাদের জানা নেই, আমরা তাদের উপর সামষ্টিকভাবে ঈমান পোষণ করব।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ مِنْهُم مَّا قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُم مَّا لَمْ نَقْصُصُ عَلَيْكَ
“আমি তোমার পূর্বে অনেক রসূল পাঠিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে কারো কারো কাহিনী আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি, তাদের মধ্যে কারো কারো কথা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করিনি।”
গ. নাবী-রাসূল থেকে তাঁদের নিজেদের সম্পর্কে যে সকল কথা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করা।
ঘ. নাবী-রাসূলদের মধ্যে যাকে গোটা মানবজাতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে সেই সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ () এর শারীআত পালন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
“কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের বিবাদ-বিসম্বাদের মীমাংসার ভার তোমার উপর ন্যস্ত না করে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কিছু মাত্র কুণ্ঠাবোধ না থাকে, আর তারা তার সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সমর্পণ করে।”
রাসূল এর প্রতি ঈমান এর ফলাফল: নবী রাসূলগণের প্রতি ঈমান পোষণের দ্বারা যেসব গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জিত হয় তন্মধ্যে রয়েছে:
ক. আল্লাহ্র অশেষ রহমত এবং বান্দাদের প্রতি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ হয়। কেননা মহান আল্লাহ্ রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন যাতে তাঁরা মানবজাতিকে আল্লাহ্র পথ প্রদর্শন করেন এবং তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে জনিয়ে দেন কিভাবে তারা আল্লাহ্ ইবাদাত করবে। কারণ কেবল মানবীয় বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা আল্লাহ্র পথ চেনা এবং আল্লাহ্ ইবাদাতের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানা মোটেও সম্ভব নয়।
খ। এই মহান নিয়ামতের জন্য আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করা হয়।
গ। নাবী-রাসূলদের প্রতি ঈমান পোষণের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি যথাযথ ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করা এবং যেভাবে তাঁদের প্রশংসা করা উচিত সেভাবে তাদের প্রশংসা করা হয়। কেননা তাঁরা হলেন আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল যারা আল্লাহ্ ইবাদাত করে থাকেন, তাঁর বার্তা প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত থাকেন এবং আল্লাহর বান্দাদেরকে উত্তম নসীহত করে থাকেন।
বিরোধিতাকারীরা নাবী-রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছে এই ধারণাবলে যে, আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল কখনো মানুষের মধ্য থেকে হতে পারে না। কুরআন মাজীদে মহান আল্লাহ্ তাদের এই ধারণার কথা উল্লেখ করার সাথে সাথে তা বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى إِلَّا أَنْ قَالُوا أَبَعَثَ اللَّهُ بَشَرًا رَسُولًا قُلِ لَوْ كَانَ فِي الْأَرْضِ مَلَائِكَةٌ يَمْشُونَ مُطْمَئِنِّينَ لَنَزَلْنَا عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ مَلَكًا رَّسُولًا
“আর যখন মানুষের কাছে হিদায়াত আসে, তখন তাদেরকে ঈমান আনা থেকে বিরত রাখে কেবল তাদের এই কথা যে, আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন? বলুন, ফেরেশতাগণ যদি নিশ্চিন্ত হয়ে যমীনে বিচরণ করত (অর্থাৎ যমীনে বসবাস করতো), তবে আমি আসমান থেকে তাদের কাছে অবশ্যই ফেরেশতাকে রাসূল করে পাঠাতাম।”
এই আয়াত দ্বারা আল্লাহ্ বিরোধিতাকারীদের ভ্রান্ত ধারণাকে বাতিল করে দিয়েছেন এই মর্মে যে, রাসূল যেহেতু দুনিয়াবাসীর প্রতি প্রেরিত, আর এই দুনিয়াবাসী হল মানুষ, কাজেই রাসূলকে অবশ্যই মানুষ হতে হবে। যদি দুনিয়াবাসী মানুষ না হয়ে ফেরেশতা হতো, তাহলে তাদের প্রতি রাসূল হিসেবে আল্লাহ্ আসমান থেকে ফেরেশতা পাঠাতেন যাতে করে যাদের প্রতি রাসূল পাঠানো হবে, তারা যেমন, প্রেরিত রাসূলও তেমন হয়।
যারা রাসূলগণকে অস্বীকার করতো, তাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَنْ تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَنٍ مُّبِينٍ قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِنْ نَحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَن يَشَاءُ مِنَ عِبَادِهِ وَمَا كَانَ لَنَا أَنْ نَأْتِيَكُمُ بِسُلْطَنٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ
"তাদের রসূলগণ বলেছিল, 'আল্লাহ সম্পর্কে সন্দেহ? যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, তিনি তোমাদেরকে ডাকছেন তোমাদের অপরাধ সার্জনা করার জন্য আর একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দেয়ার জন্য।' তারা বলল, 'তুমি আমাদেরই মত মানুষ বৈ তো নও, আমাদের পূর্বপুরুষরা যার ইবাদাত করত তাত্থেকে আমাদেরকে তুমি বাধা দিতে চাও, তাহলে তুমি (তোমার দাবীর স্বপক্ষে) আমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত কর। তাদের রসূলগণ তাদেরকে বলেছিল, 'যদিও আমরা তোমাদের মতই মানুষ ব্যতীত নই, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের মধ্যে যার উপর ইচ্ছে অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর হুকুম ছাড়া তোমাদের কাছে কোন প্রমাণ উপস্থিত করা আমাদের কাজ নয়। মু'মিনদের উচিত আল্লাহরই উপর ভরসা করা।”
টিকাঃ
332 'সূরা আন-নিসা' ৪: ১৬৩
333 সূরা আল-আহযাব ৩৩: ৪০
৩৩৪ সূরা আন-নাহল ১৬: ৩৬
৩৩৫ সূরা আল-ফাতির ৩৫: ২৪
৩৩৬ সূরা আল-মায়িদাহ ৫: ৪৮
337 সূরা আল-আ'রাফ ৭: ১৮৮
338 সূরা আল-জিন্ন ৭২: ২১-২২
339 'সূরা আশ্-শুআরা' ২৬: ৭৯-৮১
৩৪০ সাহীহ বুখারী: হা/৪০১, মুসলিম হা/৫৭২; আবু দাউদ হা/১০২০; নাসাঈ হা/১২৪২; ইবনু মাজাহ হা/১২০৩; মিশকাত হা/১০১৬。
৩৪১ সূরা আল-ইসরা ১৭:৩
৩৪২ সূরা আল-ফুরকান ২৫:১
343 সূরা সাদ ৩৮: ৪৫-৪৭
344 সূরা আয-যুখরুফ ৪৩: ৫৯
345 সূরা আশ্-শুআরা' ২৬: ১০৫
৩৪৬ সূরা আল-আহযাব ৩৩:৭
৩৪৭ সূরা আশ-শুরা ৪২:১৩
348 সূরা গাফির (মুমিন) ৪০ : ৭৮
349 সূরা আন-নিসা' ৪ : ৬৫
৩৫০ সূরা আল-ইসরা' ১৭ : ৯৪-৯৫
351 সূরা ইবরাহীম ১৪: ১০-১১
📄 শেষ দিবসের প্রতি ঈমান ও তার ফলাফল
আর শেষ দিবসের প্রতি'।
শেষ দিবসের প্রতি ঈমান
১. শেষ দিবস বলতে এখানে কিয়ামাহ দিবসকে বুঝানো হয়েছে, যেদিন মানুষ তার কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান লাভের জন্য পুনরুত্থিত হবে। কিয়ামাহ দিবসকে শেষ দিবস এ কারণেই বলা হয়, যেহেতু এই দিনের পর আর কোন দিন নেই। সেদিন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে অবস্থান নিবে।
শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের মাঝে ৩টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:
ক. পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান: আর তা হলো, দ্বিতীয়বার যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে তখন মৃতরা পুনরুজ্জীবিত হয়ে জুতাবিহীন খালি পায়ে, পোশাক বিহীন খালি গায়ে এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় তার রবের দরবারে হাযির হবে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
كَمَا بَدَانَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَعِلِينَ
“যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে আবার সৃষ্টি করব। ওয়া'দা আমি করেছি, তা আমি পূর্ণ করবই।”
পুনরুত্থান এমন একটি প্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য সত্য বিষয় যা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা' দ্বারা প্রমাণিত। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
ثُمَّ إِنَّكُمُ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ تُبْعَثُونَ
“এরপর নিশ্চয়ই তোমরা মারা যাবে, অতঃপর কিয়ামাতের দিন নিশ্চয়ই তোমাদেরকে উত্থিত করা হবে।”
রাসূল (ﷺ) বলেছেন:
يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرُلًاً
'কিয়ামাতের দিন সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে খালি পা, উলঙ্গ দেহ এবং খতনাবিহীন অবস্থায়'।
কিয়ামাতের দিন যে মানুষের পুনরুত্থান হবে, এ ব্যাপারে সকল মুসলিম একমত। এছাড়া হিকমাহ্ এদিকেই নির্দেশ করে। অর্থাৎ তা এই নির্দেশ করে যে আল্লাহ্ তাআলা সৃষ্টিজগতকে তাদের রাসূলগণের জিহ্বানিঃসৃত বাণী থেকে যেসব কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে প্রতিদান দিবেন。
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّهَا خَلَقْنَكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ
“তোমরা কি ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে তামাশার বস্তু হিসেবে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?"
মহান আল্লাহ্ তাঁর নাবী () কে বলেছেন:
إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقَانَ تَرَادُّكَ إِلَى مَعَادِ
"যিনি তোমার প্রতি কুরআন বিধিবদ্ধ করেছেন তিনি অবশ্যই তোমাকে মূলভূমিতে (মাক্কার) ফিরিয়ে আনবেন।"
খ. পরকালের হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান লাভের প্রতি ঈমান: এই ঈমান পোষণ করা যে, বান্দাকে তার আমলের হিসাব দেয়া হবে ও তদানুযায়ী প্রতিদান দেয়া হবে। এটি কুরআন, সুন্নাহ এবং মুসলিমদের ইজমা' দ্বারা প্রমাণিত।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُمْ
"তাদেরকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। অতঃপর তাদের হিসাব নেয়া তো আমারই কাজ।”
তিনি আরো বলেন:
مَنَ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَا جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
“যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে তার জন্য আছে দশ গুণ পুরস্কার, আর যে ব্যক্তি অসৎকাজ করবে তাকে শুধু কৃতকর্মের তুল্য প্রতিফল দেয়া হবে, তাদের উপর অত্যাচার করা হবে না।”
মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেছেন:
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَىٰ بِنَا حَاسِبِينَ
“আর কিয়ামাত দিবসে আমি সুবিচারের মানদন্ড স্থাপন করব, অতঃপর কারো প্রতি এতটুকুও অন্যায় করা হবে না (কর্ম) সরিষার দানা পরিমাণ হলেও তা আমি হাযির করব, হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট।”
ইবনু উমার ( ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (স) বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ يُدْنِي الْمُؤْمِنَ فَيَضَعُ عَلَيْهِ كَنَفَهُ، وَيَسْتُرُهُ فَيَقُولُ أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا فَيَقُولُ نَعَمْ أَيُّ رَبِّ، حَتَّى إِذَا قَرَّرَهُ بِذُنُوبِهِ وَرَأَىٰ فِي نَفْسِهِ أَنَّهُ هَلَكَ قَالَ سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا، وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ، فَيُعْطَىٰ كِتَابَ حَسَنَاتِهِ، وَأَمَّا الْكَافِرُ وَالْمُنَافِقُونَ فَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَىٰ رَبِّهِمْ، أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
“মহান আল্লাহ মু'মিন ব্যক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার উপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নিবেন। তারপর বলবেন, অমুক পাপের কথা কি তুমি জান? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! এভাবে তিনি তার কাছ থেকে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নিবেন। আর সে মনে করবে, তার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দিব। তারপর তার নেক কাজের আমলনামা তাকে দেয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের সম্পর্কে সাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। সাবধান, যালিমদের উপর আল্লাহ্র অভিসম্পাত。
রাসূল () আরো ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ اللهَ كَتَبَ الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ ثُمَّ بَيَّنَ ذَلِكَ فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلُهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً فَإِنْ هُوَ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ عِنْدَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلُهَا كَتَبَهَا اللهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةٌ كَامِلَةٌ فَإِنْ هُوَ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً
'মহান আল্লাহ্ ভাল-মন্দ লিখে দিয়েছেন। এরপর তিনি সেগুলো বর্ণনা করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছা করল, কিন্তু তা বাস্তবে করল না, আল্লাহ্ তাঁর কাছে এটার জন্য পূর্ণ সওয়াব লিখবেন। আর সে ভাল কাজের ইচ্ছা করল এবং তা বাস্তবেও করল, তবে আল্লাহ্ তাঁর কাছে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ' গুণ পর্যন্ত এমনকি এর চেয়েও অধিক সওয়াব লিখে দেন। আর যে কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করল, কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত করল না, আল্লাহ্ তাঁর কাছে তার জন্য পূর্ণ সওয়াব লিখবেন। আর যদি সে মন্দ কাজের ইচ্ছা করার পর বাস্তবেও তা করে, তবে তার জন্য আল্লাহ্ মাত্র একটা গুনাহ লিখেন'।
সমগ্র মুসলিম জাতি কৃতকর্মের পরকালীন হিসাব-নিকাশ এবং প্রতিদান প্রাপ্তির বিষয়টির সত্য হওয়ার ব্যাপারে একমত। কেননা আল্লাহ্ তাআলা কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন, রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তাকে কবুল করা আর এ সকল নির্দেশ পালন করাকে ওয়াজিব করেছেন, যারা এগুলোর বিরোধিতা করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে ওয়াজিব করেছেন ও (যুদ্ধে) তাদের রক্তকে হালাল করেছেন, তাদের সন্তান-সন্তুতি, স্ত্রী ও ধন-সম্পদকে (গনীমত হিসেবে) বৈধ করেছেন; হিকমাহ্ তাই এদিকেই (পরকালের হিসাব নিকাশ ও প্রতিদান থাকা) নির্দেশ করে।
কেননা যদি হিসাব-নিকাশ বা প্রতিদানের কোন ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে এসব কাজ হবে সম্পূর্ণ অনর্থক। অথচ মহাপ্রজ্ঞাবান আল্লাহ্ সকল প্রকার অনর্থক কাজ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। আর এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করেই মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
فَلَنَسْتَكَنَّ الَّذِينَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ وَلَنَسْتَلَنَّ الْمُرْسَلِينَ فَلَتَقُضَنَّ عَلَيْهِমْ بِعِلْمٍ وَمَا كُনَّا غَابِبِينَ
“অতঃপর যাদের নিকট রসূল পাঠানো হয়েছিল আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব আর রসূলগণকেও (আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়া সম্পর্কে) অবশ্যই জিজ্ঞেস করব। অতঃপর পরিপূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাদের নিকট তাদের সমস্ত কাহিনী অবশ্যই জানিয়ে দেব, কেননা আমি তো মোটেই অনুপস্থিত ছিলাম না।”
গ. জান্নাত-জাহান্নামের প্রতি ঈমান: এই দু'টি হলো আল্লাহর বান্দাদের জন্য চিরস্থায়ী প্রত্যাবর্তনস্থল। তন্মধ্যে জান্নাত হচ্ছে আল্লাহর অফুরন্ত নিয়ামত সমৃদ্ধ ঠিকানা যা তিনি সেই সব মু'মিন-মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। এরা হচ্ছে তারা যারা যে সব বিষয়ের প্রতি ঈমান পোষণ করাকে মহান আল্লাহ্ ওয়াজিব করে দিয়েছেন, সে সব বিষয়ের প্রতি ঈমান পোষণ করে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এর আনুগত্য করে, একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদাত করে রাসূল (ﷺ) এর অনুসরণ করে।
এই জান্নাতে রয়েছে এমন সব বিভিন্ন প্রকারের নিয়ামত:
مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلَا أُذُنْ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ
'যা কোন চোখ কখনো দেখেনি, কোন কান কখনো শোনেনি এবং কোন মানব মন কখনো কল্পনা করেনি'।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَاتِ أُولَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ جَزَاؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنْتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خُلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ لِمَن خَشِيَ رَبَّهُ
“কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফুরী করে তারা আর মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। এরাই সৃষ্টির অধম। যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে তারা সৃষ্টির উত্তম। তাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের প্রতিদান আছে স্থায়ী জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদ-নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল স্থায়ীভাবে থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট, আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এ সব কিছু তার জন্য যে তার প্রতিপালককে ভয় করে।”
তিনি আরো ইরশাদ করেছেন:
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا روروور يعملون
“কোন ব্যক্তিই (এখন) জানে না চোখ জুড়ানো কী (জিনিস) তাদের জন্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কাজের পুরস্কার হিসেবে।”
পক্ষান্তরে জাহান্নাম হলো ভয়ানক আযাবের স্থান, যা মহান আল্লাহ্ সেই সব কাফির ও যালিমদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে এবং তাঁর রাসূলদের অবাধ্যতা করে। এই জাহান্নামে রয়েছে এমন সব ভয়ানক শাস্তি, যা কোন মানব মন কল্পনাও করতে পারে না।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَفِرِينَ
“ভয় কর সেই আগুনকে, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।”
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন:
إِنَّا أَعْتَدْনَا لِلظَّلِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَافُوا بِمَاءٍ كَانَلْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقان
"আমি (অস্বীকারকারী) যালিমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি যার লেলিহান শিখা তাদেরকে ঘিরে ফেলেছে। তারা পানীয় চাইলে তাদেরকে গলিত শিশার ন্যায় পানি দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে, কতই না নিকৃষ্ট পানীয়! আর কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থলা।"
মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ اللَّهَ لَعَنَ الْكَفِرِينَ وَأَعَدَّ لَهُمْ سَعِيرًا خُلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا لَا يَجِدُونَ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًانَ يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يُلَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا
“আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন আর তাদের জন্য জবলন্ত অগিণ প্রস্তুত রেখেছেন। তাতে তারা চিরকাল থাকবে, তারা না পাবে কোন অভিভাবক, আর না পাবে কোন সাহায্যকারী। আগুনে যেদিন তাদের মুখ উপুড় করে দেয়া হবে সেদিন তারা বলবে- হায়! আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম ও রসূলকে মানতাম।”
শেষ দিবসের প্রতি ঈমান পোষণের মাঝে মৃত্যু পরবর্তী সকল বিষয়ের প্রতি ঈমান পোষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন:
ক. কবরের ফিতনার প্রতি ঈমান: কবরের ফিতনা বা কবরের পরীক্ষার বিষয়ে ঈমান পোষণ করা, আর তা হলো কোন মৃতকে ব্যক্তিকে দাফন করার পর তাকে তার রব, তার দ্বীন এবং তার নাবী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। এ সময় প্রত্যেক মু'মিন বান্দাকে আল্লাহ্ সঠিক কথার উপর সুদৃঢ় রাখবেন [অনুবাদক: অর্থাৎ তাকে এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার তাউফীক দান করবেন]। তাই উত্তরে সে বলবে: আমার রব্ব হলেন আল্লাহ্, দ্বীন হলো ইসলাম এবং আমার নাবী হলেন মুহাম্মাদ ()। পক্ষান্তরে যালিমদেরকে আল্লাহ্ এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দানের পথ থেকে বিচ্যুত করবেন। তাই প্রত্যেক কাফির এসকল প্রশ্নের প্রতিটির উত্তরে বলবে: হায়! হায়! এ প্রশ্নের উত্তর তো আমি জানি না! আর মুনাফিক এবং ইসলামের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণকারী ব্যক্তিরা এসব প্রশ্নের উত্তরে বলবে: আমি জানি না, আমি মানুষকে যা বলতে শুনেছি তাই বলেছি।
খ. কবরের আযাব ও আরাম-আয়েশের প্রতি ঈমান: অত্যাচারী কাফির এবং মুনাফিকদের জন্য রয়েছে কবরের ভয়াবহ আযাব। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّلِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَيْكَةُ بَاسِطُوا أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ أَيْتِهِ تستكبرون
“যদি তুমি ঐ যালিমদেরকে দেখতে পেতে যখন তারা মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকবে, আর ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলবে, তোমাদের জানগুলোকে বের করে দাও, আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর আযাব দেয়া হবে যেহেতু তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলতে যা প্রকৃত সত্য নয় আর তাঁর নিদর্শনগুলোর ব্যাপারে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করতে।”
ফিরআউন সম্প্রদায় সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ . أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ
“(কবরে) তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা য় আর যেদিন কিয়ামাত সংঘটিত হবে সেদিন (বলা হবে) ফেরাউনের জাতি গোষ্ঠীকে কঠিন আযাবে প্রবিষ্ট কর।”
সাহীহ মুসলিমে যাইদ বিন সাবিত ( ) থেকে বর্ণিত হাদীস:
زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ فِي حَائِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ وَنَحْনُ مَعَهُ إِذْ حَادَتْ بِهِ فَكَادَتْ تُلْقِيهِ وَإِذَا أَقْبُرٌ سِتَّةٌ أَوْ خَمْসَةٌ أَوْ أَرْبَعَةٌ - قَالَ كَذَا كَানَ يَقُولُ الْجُرَيْرِيُّ - فَقَالَ " مَنْ يَعْرِفُ أَصْحَابَ هَذِهِ الأَقْبُرِ " . فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا . قَالَ " فَمَتَى مَاتَ هَؤُلاءِ " . قَالَ مَاتُوا فِي الإِشْرَاكِ . فَقَالَ " إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ " . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ فَقَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْরِ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْরِ . قَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ قَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ
যায়দ ইবনু সাবিত ( ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ ( ) নাজ্জার গোত্রের একটি প্রাচীর ঘেরা বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। এ সময় আমরা তাঁর সাথে ছিলাম। অকস্মাৎ তা লাফিয়ে উঠল এবং তাঁকে ফেলে দেয়ার উপক্রম করল। দেখা গেল, সেখানে ছয়টি কিংবা পাঁচটি অথবা চারটি কবর রয়েছে।
বর্ণনাকারী বলেন, জুরাইরী এমনটিই বর্ণনা করতেন। অতঃপর তিনি ( ) প্রশ্ন করলেন, এই কবরবাসীদেরকে কে চিনে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি চিনি। রাসূলুল্লাহ ( ) জিজ্ঞেস করলেন, তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে? তিনি বললেন, তারা শির্কের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ ( ) বললেন, এই উম্মতকে তাদের কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এই আশঙ্কা না হলে আমি আল্লাহ্র নিকট দু’আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকেও কবরের আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি।
তারপর তিনি আমাদের প্রতি মনোনিবেশ করে বললেন, তোমরা সবাই জাহান্নামের আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সাহাবাগণ বললেন, জাহান্নামের শাস্তি হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা সকলে কবরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সাহাবাগণ বললেন, কবরের আযাব হতে আমরা আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনা হতে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। তারা বললেন, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনা হতে আমরা আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় চাই। তিনি আবারো বললেন, তোমরা দাজ্জালের ফিতনা হতে আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাও। সাহাবাগণ বললেন, দাজ্জালের ফিতনা হতে আমরা আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাই।
পক্ষান্তরে সত্যবাদী মু'মিনদের জন্য কবরে রয়েছে পরম সুখ শান্তি। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَئِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمُ وووور توعدون
“যারা বলে- আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর (সে কথার উপর) সুদৃঢ় থাকে, ফেরেশতারা তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় আর বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না, আর জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর যার ওয়া'দা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে। ”
আল্লাহ্ আরো ইরশাদ করেছেন:
فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ فَلَوْلا إِنْ كُنتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ تَرْجِعُونَهَا إِن كُنتُمْ صَدِقِينَ فَأَمَّا إِنْ كَانَنَ مِنَ فروح وريحان وَجَنَّتُ نَعِيمٍ الْمُقَرَّبِينَ
"তাহলে কেন (তোমরা বাধা দাও না) যখন প্রাণ এসে যায় কণ্ঠনালীতে? আর তোমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখ, আর আমি তোমাদের চেয়ে তার (অর্থাৎ প্রাণের) নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা। তোমরা যদি (আমার) কর্তৃত্বের অধীন না হও তাহলে তোমরা তাকে (অর্থাৎ তোমাদের প্রাণকে মৃত্যুর সময়) ফিরিয়ে নাও না কেন যদি তোমরা (তোমাদের দাবীতে) সত্যবাদী হয়েই থাক? অতএব সে যদি (আল্লাহর) নৈকট্য প্রাপ্তদের একজন হয় তাহলে (তার জন্য আছে) আরাম-শান্তি, উত্তম রিযক আর নি'মাত-ভরা জান্নাত।
বারা বিন আযিব (رضিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মু'মিন ব্যক্তি যখন কবরে ফেরেশতাদ্বয়ের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিবে তখন:
فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَفْرِشُوهُ مِنْ الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنْ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ فَيُفْتَحُ قَالَ فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا وَيُفْسَحُ لَهُ فِيهَا مَدَّ بَصَرِهِ
'আকাশমণ্ডলী থেকে একজন আহ্বানকারী ঘোষণা দিয়ে বলবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তাঁর জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাঁকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। আর তাঁর জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। অতএব তাঁর জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফলে তাঁর দিকে জান্নাতের বাতাস ও সুগন্ধি দোলা দিতে থাকবে এবং দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তাঁর কবরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে'।
শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের ফলাফল: শেষ দিবসের প্রতি ঈমান পোষণের দ্বারা যেসব মহান ফলাফল অর্জিত হয় তন্মধ্যে রয়েছে:
ক. পরকালে উত্তম প্রতিদান লাভের আশায় আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আনুগত্যের প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
খ. পরকালে শাস্তি পাওয়ার ভয়ে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা এবং এই অবাধ্যতায় সন্তুষ্ট থাকার প্রতি ভয়-ভীতি সঞ্চার হয়।
গ. মু'মিন ব্যক্তি পরকালে অফুরন্ত নিয়ামত ও প্রতিদান লাভের আশায় ইহজগতে কোন কিছু হারানোর সান্ত্বনা ও স্বস্তি বোধ করতে পারে।
পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের রদ
মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের বিষয়টিকে কাফিররা এই বলে অস্বীকার করে যে, এটি সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব একটি বিষয়। ইসলামী শারীআত, মানবীয় বোধশক্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তিতে তাদের এই ধারণা বাতিল বলে প্রমাণিত।
শারঈ দালীল: মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلِ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّونَ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
“কাফিররা ধারণা করে যে, তাদেরকে কক্ষনো আবার জীবিত করে উঠানো হবে না। বল, নিশ্চয়ই (উঠানো) হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই আবার জীবিত করে উঠানো হবে, অতঃপর তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই জানিয়ে দেয়া হবে তোমরা (দুনিয়ায়) কী কাজ করেছ। এ কাজ (করা) আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।"
এছাড়া এ বিষয়ে সকল আসমানী কিতাবের বক্তব্য এক ও অভিন্ন।
মানবেন্দ্রিয় ভিত্তিক প্রমাণ: পুনরুত্থানের বিষয়ে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং মানবীয় বোধশক্তি সম্পন্ন দালীল হলো, মহান আল্লাহ্ এই দুনিয়াতেই মৃতকে জীবিত করে তাঁর বান্দাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন। সূরা বাকারাতেই এর ৫টি দৃষ্টান্ত বর্ণিত হয়েছে:
প্রথম দৃষ্টান্ত: মূসা (আ:) এর সম্প্রদায় যখন তাঁকে বলেছিল:
لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً
“আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যভাবে না দেখা পর্যন্ত তোমার প্রতি কখনও ঈমান আনবো না।”
তখন আল্লাহ্ তাদেরকে মৃতে পরিণত করলেন। অতঃপর তাদেরকে তিনি পুনর্জীবিত করলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে সম্বোধন করে বলেছেন:
وَإِذْ قُلْتُمْ يٰمُوسٰى لَنْ نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّىٰ نَرٰى اللّٰهَ جَهْرَةً ۖ فَاَخَذَتْكُمُ الصَّعْقَةُ وَاَنْتُمْ تَنْظُرُونَ ۖ ثُمَّ بَعَثْنَاكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
“স্মরণ কর, যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মুসা! আমরা আল্লাহকে সরাসরি না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনো বিশ্বাস করব না’। তখন বজ্র তোমাদেরকে পাকড়াও করেছিল আর তোমরা নিজেরাই তা প্রত্যক্ষ করছিলে। অতঃপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমি তোমাদেরকে আবার জীবিত করলাম, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।”
দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত: সেই নিহত ব্যক্তির ঘটনা, যাকে নিয়ে বনী ইসরাঈল পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে একটি গাভী জবাই করে সেই গাভীর গোশতের টুকরা দিয়ে নিহত ব্যক্তিকে আঘাত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে করে নিহত ব্যক্তি তাদেরকে বলে দেয় কে তাকে হত্যা করেছিল।
এ ঘটনা সম্পর্কে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
وَاِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَاَدْرَعْتُمْ فِيْهَا ۖ وَاللّٰهُ مُخْرِجٌ مَّا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ ۚ فَقُلْنَا اضْرِبُوْهُ بِبَعْضِهَا ۚ كَذٰلِكَ يُحْيِ اللّٰهُ الْمَوْتٰى وَيُرِيْكُمْ اٰيٰتِهٖ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
“স্মরণ কর, তোমরা যখন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে এবং একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করছিলে, তোমরা যা গোপন করছিলে আল্লাহ তা প্রকাশ করে দিলেন। আমি বললাম, ‘তার (অর্থাৎ যবহকৃত গরুর) কোন অংশ দ্বারা একে আঘাত কর’। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবন দান করেন, আর তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন দেখিয়ে থাকেন যাতে তোমরা জ্ঞানলাভ করতে পার।”
তৃতীয় দৃষ্টান্ত: সেই জাতির ঘটনা, যাদের কয়েক হাজার লোক মৃত্যু ভয়ে নিজ ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল। আল্লাহ্ তাদের সকলকে মেরে ফেলেন এবং এরপর পুনরায় জীবিত করেন। এ ঘটনা সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَهُمُ الْوُفُ حَذَرَ الْمَوْتِ . فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيَاهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ
“আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা মৃত্যুভয়ে হাজারে হাজারে স্বীয় আবাসভূমি পরিত্যাগ করেছিল? অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে বলেছিলেন, তোমরা মরে যাও। তারপর আল্লাহ তাদেরকে জীবিত করেছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।”
চতুর্থ দৃষ্টান্ত: ঐ ব্যক্তির ঘটনা, যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একটি গ্রাম অতিক্রম করছিল এবং ভেবেছিল যে, এখানকার মৃত অধিবাসীদেরকে আল্লাহ্ কিভাবে পুনর্জীবিত করবেন, এটা তো অসম্ভব ব্যাপার। ফলে আল্লাহ্ তাকে ১০০ বছর মৃতে পরিণত করে রাখলেন। অতঃপর তাকে আবার জীবিত করলেন। এই ঘটনা সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا ۚ قَالَ أَنَّى يُحْيِ هَذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ قَالَ كَمُ لَبِثْتَ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ bَلْ لَبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانْظُرْ إِلَى طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهُ ۖ وَانْظُرُ إِلَى حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً لِلنَّاسِ وَانْظُرُ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“কিংবা এমন ব্যক্তির ঘটনা সম্পর্কে (তুমি কি চিন্তা করনি) যে এক নগর দিয়ে এমন অবস্থায় যাচ্ছিল যে তা উজাড় অবস্থায় ছিল। সে বলল, ‘আল্লাহ এ নগরীকে এর মৃত্যুর পরে কীভাবে জীবিত করবেন? তখন আল্লাহ তাকে একশ’ বছর মৃত রাখলেন। তারপর তাকে জীবিত করে তুললেন ও জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি এ অবস্থায় কতকাল ছিলে’? সে বলল, ‘একদিন ছিলাম কিংবা একদিন হতেও কম’। আল্লাহ বললেন, ‘বরং তুমি একশ’ বছর ছিলে, এক্ষণে তুমি তোমার খাদ্যের ও পানীয়ের দিকে লক্ষ্য কর, এটা পচে যায়নি। আর গাধাটার দিকে তাকিয়ে দেখ, আর এতে উদ্দেশ্য এই যে, আমি তোমাকে মানুষের জন্য উদাহরণ করব। আবার তুমি হাড়গুলোর দিকে লক্ষ্য কর, আমি কীভাবে ওগুলো জোড়া লাগিয়ে দেই, তারপর গোশত দ্বারা ঢেকে দেই। এরপর যখন এটা কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন সে বলল, ‘এখন আমি পূর্ণ বিশ্বাস করছি যে, আল্লাহই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।”
পঞ্চম দৃষ্টান্ত: মহান আল্লাহ্র অন্তরঙ্গ বন্ধু ইবরাহীম (আঃ) এর ঘটনা। আল্লাহ কিভাবে মৃতকে জীবিত করেন তা দেখানোর জন্য যখন তিনি আল্লাহ্র নিকট আবেদন জানালেন, তখন আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিলেন চারটি পাখি যবেহ করে সেগুলোর বিভিন্ন টুকরা আশেপাশের বিভিন্ন পাহাড়ে রেখে দিতে এবং অতঃপর সেগুলোকে নিজের কাছে ডাক দিতে। তিনি আল্লাহ্র নির্দেশ মোতাবেক তাই করলেন। আর তখন সেই বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলো জোড়া লেগে প্রতিটি পাখি দৌড়ে এসে তাঁর কাছে হাযির হলো।
এ ঘটনা সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنَ قَالَ بَلَى وَلَٰكِنْ لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةً مِّنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلَىٰ كُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًا ۚ وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
"যখন ইবরাহীম বলেছিল, 'হে আমার প্রতিপালক! তুমি মৃতকে কীরূপে জীবিত করবে আমাকে দেখাও'। আল্লাহ বললেন, 'তুমি কি বিশ্বাস কর না'? সে আরয করল, 'নিশ্চয়ই, তবে যাতে আমার অন্তঃকরণ স্বস্তি লাভ করে (এজন্য তা দেখতে চাই)'। আল্লাহ বললেন, তাহলে চারটি পাখী নাও এবং তাদেরকে বশীভূত কর। তারপর ওদের এক এক টুকরো প্রত্যেক পাহাড়ের উপর রেখে দাও, অতঃপর সেগুলোকে ডাক দাও, তোমার নিকট দৌড়ে আসবে। জেনে রেখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
উপরোল্লিখিত বোধগম্য এবং বাস্তব দৃষ্টান্তগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মৃতকে জীবিত করা খুবই সম্ভবপর একটি বিষয়। তাছাড়া আল্লাহ্র নির্দেশে মৃতকে জীবিত করা এবং কবরস্থ ব্যক্তিকে কবর থেকে জীবিত করে বের করে আনার যে মু'জিযা ঈসা (আ.) কে আল্লাহ্ দান করেছিলেন, সে সম্পর্কে পূর্বে আলোকপাত করা হয়েছে।
বুদ্ধিবৃত্তিক দালীল: বুদ্ধিবৃত্তিক দালীলসমূহের মধ্য থেকে দু'টি দালীল হলো:
ক. আসমান, যমীন এবং এই দু'য়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সব কিছুর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও উদ্ভাবক হলেন মহান আল্লাহ্। তিনি অনস্তিত্ব থেকে এগুলোর সৃষ্টিকারী এবং এগুলোর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। কাজেই তাঁর পক্ষে সেগুলোকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া মোটেও অসম্ভব নয়।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَهُوَ الَّذِي يَبْدَوُا الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ
"আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনি সেটার পুনরাবৃত্তি করবেন। আর এটা তাঁর জন্য অতিব সহজ।"
তিনি আরো ইরশাদ করেছেন:
كَمَا بَدَانَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَعِلِينَ
“যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে আবার সৃষ্টি করব। ওয়াদা আমি করেছি, তা আমি পূর্ণ করবই।”
ক্ষয় হয়ে যাওয়া হাড্ডিগুলোকে পুনর্জীবিত করার কথাকে যারা অস্বীকার করে, তাদেরকে রদ করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেনঃ
قُلِ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَاهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
“বল, তাকে তিনিই জীবন্ত করবেন যিনি ওগুলোকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি প্রতিটি সৃষ্টি সম্পর্কে সর্বোত্তম অবগত।”
খ। সাধারণত মাটি মৃত ও শুষ্ক হলে তাতে কোন সবুজ গাছ-পালা, পাতা থাকে না। কিন্তু আল্লাহ যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, ভূমি তখন প্রাণ ফিরে পায় এবং বিভিন্ন কচি বৃক্ষ শাখা জন্ম নিয়ে তা সবুজ-শ্যামল ও সজীব হয়ে উঠে। কাজেই মৃত ভূমিকে যিনি পুনরায় সতেজ করে তুলতে পারেন, তিনি মৃত প্রাণীদেরকেও পুনর্জীবিত করতে পুরোপুরি সক্ষম। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেনঃ
وَمَا أَيْتِه أَنَّكَ تَرَى الْأَرْضُ خَاشِعَةً فَأَذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتُ وَرَبَتْ إِنَّ الَّذِي أَحْيَاهَا لَهُحْيِ الْمَوْتَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হল এই যে, তুমি যমীনকে দেখ শুষ্ক অনুর্বর পড়ে আছে। অতঃপর আমি যখন তার উপর বৃষ্টি বর্ষণ করি তখন তা সতেজ হয় ও বেড়ে যায়। যিনি এ মৃত যমীনকে জীবিত করেন, তিনি অবশ্যই মৃতদেরকে জীবিত করবেন। তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।”
আল্লাহ্ আরও ইরশাদ করেছেনঃ
وَنَزَّلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً مُبْرَكًا فَاثْبَتَنَا بِهِ جَنَّتِ وَحَبَّ الْحَصِيدِ وَالنَّخْلَ بُسِقَتْ لَهَا طَلْعُ نَصِيدُهُ رِزْقًا لِلْعِبَادِ وَأَحْيَيْنَا بِهِ بَلْدَةً مَّيْتًا كَذَلِكَ الْخُرُوجُ
“আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি আর তা দিয়ে সৃষ্টি করি বাগান আর মাজাইযোগ্য শস্যদানা, আর উঁচু খেজুর গাছ যাতে আছে খেজুর গুচ্ছ স্তরে স্তরে সাজানো। বান্দাহদের রিক হিসেবে। আর আমি পানি দিয়ে জীবন্ত করে তুলি মৃত যমীনকে। এভাবেই বের করা হবে কেবর থেকে মানুষদের)।"
কোন কোন পথভ্রষ্ট সম্প্রদায় কবরের আযাব এবং সুখ শান্তিকে এ ধারণা বশতঃ অস্বীকার করে যে, এটা সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব এবং বাস্তবতা বিরোধী একটি বিষয়। তারা বলে, কোন মৃত ব্যক্তির কবর খোলা হলে দেখা যাবে, তা যেমন ছিল তেমনই আছে। তা সংকীর্ণ কিংবা প্রশস্ত কোনটিই হয়নি।
কিন্তু তাদের এই ধারণা ইসলামী শরীআত, মানবীয় বোধশক্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তি দ্বারা বাতিল বলে প্রমাণিত।
শারঈ দালীল: কবরের আযাব এবং আরাম-আয়েশের বিষয়টি যে একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য বিষয়, এ সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক দালীলসমূহ 'শেষ দিবস বা পরকালের প্রতি ঈমান' অধ্যায়ে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে,
مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِحَائِطِ مِنْ حِيطَانِ الْمَدِينَةِ أَوْ مَكَّةَ، فَسَمِعَ صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذَّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ يُعَذِّبَانِ، وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ ، ثُمَّ قَالَ " بَلَى، كَانَ أَحَدُهُمَا لَا يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ، وَكَانَ الْآخَرُ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ
নবী (স) একদিন মদীনা বা মক্কার বাগানগুলোর মধ্য থেকে কোন একটি বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এমন দু'জন ব্যক্তির আওয়ায শুনতে পেলেন যাদেরকে কবরে আযাব দেয়া হচ্ছিল। তখন নাবী (স) বললেন, এদের দু'জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে, অথচ কোন গুরুতর অপরাধে তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তারপর তিনি বললেন, “হ্যাঁ, এদের একজন প্রস্রাব করতে গিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতো না এবং অপর ব্যক্তি চোগলখোরী করতো (একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগিয়ে সম্পর্ক নষ্ট করতো)।
মানবেন্দ্রিয় ভিত্তিক প্রমাণ: কবরের আযাব এবং আরাম-আয়েশের বিষয়টি যে একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য বিষয়, এ সম্পর্কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দালীল হলো: একজন ঘুমন্ত ব্যক্তি কখনো স্বপ্নে দেখে যে, সে সুপ্রশস্ত কোন জায়গায় সুন্দর ও নির্মল পরিবেশে আরাম-আয়েশ করছে কিংবা সংকীর্ণ কোন জায়গায় জনশূন্য পরিবেশে সে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করছে। এমনকি কখনো কখনো এ ধরনের স্বপ্ন দেখে সে ঘুম থেকে জেগে উঠে। কিন্তু এসব যাই দেখুক না কেন, প্রকৃতপক্ষে সে তার শয়নকক্ষে যে বিছানায় শুয়ে ছিল সেখানে সে অবস্থাতেই থাকে। ঘুম হলো মৃত্যুর ভাই। আর এ কারণেই মহান আল্লাহ্ ঘুম বা নিদ্রাকে মৃত্যু বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি ইরশাদ করেন:
اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى
“Allah প্রাণ গ্রহণ করেন সেগুলোর মৃত্যুর সময়, আর যারা মরেনি তাদের নিদ্রাকালে। অতঃপর যার মৃত্যুর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তার (প্রাণ) রেখে দেন, আর অন্যগুলো একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফিরিয়ে দেন।”
বুদ্ধিবৃত্তিক দালীল: কবরের আযাব এবং সুখ শান্তির বিষয়টি যে একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য বিষয়, এ সম্পর্কে বুদ্ধিবৃত্তিক দালীল হলো: ঘুমন্ত ব্যক্তিও কখনো কখনো তার ঘুমের মাঝে বাস্তব-সম্মত সঠিক স্বপ্ন দেখতে পারে। যেমন: কখনো কেউ স্বপ্নযোগে রাসূল (ﷺ) কে তাঁর স্বীয় রূপ-বৈশিষ্ট্যে দেখতে পারে। আর কেউ যদি তাঁকে এভাবে রূপ-বৈশিষ্ট্য সহকারে স্বপ্নযোগে দেখে থাকে, তাহলে সে সত্যিকার অর্থেই রাসূল () কে দেখেছে (তবে স্বপ্নের সাথে হাদীসে বর্ণিত রাসূল () এর দৈহিক বিবরণের মিল থাকতে হবে)। তা সত্ত্বেও কোন ঘুমন্ত ব্যক্তি স্বপ্নে যা দেখে, মূলত: সে সেই দেখা জিনিস থেকে অনেক দূরে নিজ শয়নকক্ষে নিজ বিছানাতেই থাকে। কাজেই দুনিয়াতেই যখন এমনটি ঘটা সম্ভব, তখন পরকালে তা কেন সম্ভবপর হবে না?!
এখন আসি কবরের আযাব এবং আরাম-আয়েশ অস্বীকারকারীদের এই ধারণা প্রসঙ্গে যে, কোন মৃত ব্যক্তির কবর যদি খোলা হয়, তাহলে দেখা যাবে তা যেমন ছিল তেমনই আছে, প্রশস্ত কিংবা সংকীর্ণ কিছুই হয় নি।
তাদের এই ভ্রান্ত ধারণার জবাব হলো:
প্রথমত: ইসলামী শারীআত দ্বারা প্রমাণিত কোন বিষয়কে এ ধরনের অনর্থক সন্দেহের বশে বিরোধিতা করা মোটেও জায়েয নয়। তাছাড়া বিরোধিতাকারী যদি এ বিষয়ে ইসলামী শারীআতের দালীল-প্রমাণসমূহ সঠিকভাবে বিবেচনা করে, তাহলে তার এসব সন্দেহ ও সংশয়ের অসারতা সে নিজেই বুঝতে পারবে। তাই কবির ভাষায় বলা যায়:
وَكَمْ مِنْ عَائِبٍ قَوْلًا صَحِيحًا وَآفَتْهُ مِن الفَهْمِ السَّقِيمِ
'সঠিক কথাকে দোষারোপকারী কত মানুষ সমস্যা হলো তার দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ বুঝ'।
দ্বিতীয়ত: বারযাখী জীবনের অবস্থা হলো অদৃশ্য বিষয়। এগুলোকে দুনিয়াবী জীবন থেকে অনুভব করা যায় না। পরকালের অবস্থা যদি ইহকালে অনুভব করা যেতো, তাহলে অদৃশ্যের বিষয়ের উপর ঈমান আনার বিষয়টি অর্থহীন হয়ে যেতো। তখন অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী উভয়ে সমান হয়ে যেতো।
তৃতীয়ত: কবরের আযাব, সুখ-শান্তি, কবরের প্রশস্ততা-সংকীর্ণতা যাই হোক না কেন, সেটা কেবল মৃত ব্যক্তি নিজে ভোগ করে থাকে, অন্য কেউ নয়। যেমন ঘুমন্ত কোন ব্যক্তি কখনো স্বপ্নে দেখতে পারে যে, সে নির্জন ও সংকীর্ণ কোন স্থানে অথবা সুপ্রশস্ত ও মনোরম কোন স্থানে অবস্থান করছে। কিন্তু বাকিরা বাস্তবে দেখতে পায়, সেই ব্যক্তি তার কাথা নিয়ে তার বিছানাতেই শুয়ে আছে, তার অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয় নি। যেমন সাহাবায়ি কিরামের সাথে যখন রাসূল (স) অবস্থান করতেন এবং তাঁর নিকট ওয়াইয়ী আসতো, তখন ওয়াহয়ীর শব্দ কেবল রাসূল (স) শুনতে পেতেন, উপস্থিত সাহাবীদের কেউই তা শুনতে পেতেন না। কখনো কখনো কোন ফেরেশতা মানুষের রূপ ধরে এসে রাসূল (স) এর সাথে কথা বলতেন, কিন্তু উপস্থিত সাহাবায়ী কিরামের কেউই সেই ফেরেশতাকে দেখতে বা তার কথা শুনতে পেতেন না।
চতুর্থত: মহান আল্লাহ্ মানুষ সহ অন্যান্য মাখলুককে যতটুকু উপলব্ধি শক্তি দিয়েছেন, তাদের উপলব্ধি শক্তি ততটুকুর মাঝেই সীমাবদ্ধ। তাই তাদের কারো পক্ষে জগতে যা কিছুর অস্তিত্ব রয়েছে, সবকিছুকে বুঝা আদৌ সম্ভবপর নয়। যেমন সাত আসমান, যমীন এবং এই দু'য়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে, প্রতিটি বস্তু সত্যিকার অর্থেই আল্লাহ্র প্রশংসা ও তাসবীহ করে থাকে। কিন্তু এই প্রশংসা আমরা শুনতে পাই না, আমাদের থেকে তা গোপন রাখা হয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ্ তাঁর মাখলুকের মধ্য থেকে কখনো কাউকে যদি তা শুনাতে চান তাহলে কেবল সেই তা শুনতে পায়। এতদসত্বেও এ সকল কিছুই আমাদের কাছে অদৃশ্যমান। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
تُسَبِّحُ لَهُ السَّمُوتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَا فِيهِنَّ وَإِنْ مِّن شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِن لَّا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ
"সাত আসমান, যমীন আর এগুলোর মাঝে যা আছে সব কিছুই তাঁর মহিমা ঘোষণা করে। এমন কোন জিনিসই নেই যা তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না। কিন্তু তোমরা বুঝতে পার না।"
এমনিভাবে শায়তান ও জ্বিন সব সময় পৃথিবীতে চলাফেরা করে, কিন্তু আমরা তাদের চলাফেরা কিছুই টের পাই না। জ্বিনদের একটি দল একদা রাসূল (স) এর নিকট উপস্থিত হয়েছিল এবং তারা নিরবে তাঁর কুরআন তিলাওয়াত মনযোগ দিয়ে শ্রবণ করে নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শনকারী হয়ে ফিরে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও জ্বিন বা শায়তান আমাদের থেকে লুকায়িত, আমরা তাঁদেরকে দেখতে পাই না। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
يُبَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَنُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِّنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَواتِهِمَا إِنَّهُ يَرَىكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنَ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيْطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ
“হে আদাম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ফিতনায় ফেলতে না পারে যেমনভাবে তোমাদের পিতা-মাতাকে (আদম ও হাওয়াকে) জান্নাত থেকে বের করেছিল। সে তাদের পরস্পরকে লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য তাদের দেহ হতে পোষাক খুলিয়ে ফেলেছিল। সে আর তার সাথীরা তোমাদেরকে এমনভাবে দেখতে পায় যে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। যারা ঈমান আনে না তাদের জন্য আমি শয়তানকে অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি।”
সুতরাং যেখানে আল্লাহ্র কোন সৃষ্টি জগতে বিদ্যমান সব বস্তুকে উপলব্ধি করতে পারে না, সেখানে তাদের পক্ষে কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত গায়েবী বিষয়গুলোকে দেখতে এবং বুঝতে না পারার কারণে সেগুলোকে অস্বীকার করা মোটেও জায়েয নয়।
টিকাঃ
352 সূরা আল-আমবিয়া ২১: ১০৪
353 সূরা আল-মুমিনূন ২৩: ১৫-১৬
354 সাহীহ মুসলিম: হা/৭০৯০ (২৮৫৯); তিরমিযী হা/২৪২৩; নাসাঈ হা/২০৮২; মিশকাত হা/৫৫৩৬।
355 সূরা আল-মুমিনূন ২৩: ১১৫
356 সূরা আল-কাসাস ২৮: ৮৫
357 সূরা আল-গশিয়াহ ৮৮: ২৫-২৬
358 সূরা আল-আনআম ৬ : ১৬০
359 সূরা আল-আম্বিয়া' ২১ : ৪৭
360 সূরা আল-আমবিয়া' ২১: ৪৭
361 সাহীহ বুখারী: হা/৬৪৯১, মুসলিম হা/১৩১; আহমাদ হা/২৮২৭; মিশকাত হা/২৩৭৪।
362 সূরা আল-আ'রাফ ৭: ৬-৭
363 সাহীহ বুখারী: হা/৪৭৮০, মুসলিম হা/২৮২৪; তিরমিযী হা/৩১৯৭; ইবনু মাজাহ হা/৪৩২৮; মিশকাত হা/৫৬১২।
364 সূরা আল-বাইয়্যিনাহ ৯৮ : ৭-৮
365 সূরা আস-সাজদাহ ৩২ : ১৭
366 সূরা আলু ইমরান ৩: ১৩১
367 সূরা আল-কাহফ ১৮: ২৯
368 সূরা আল-আহযাব ৩৩ : ৬৪-৬৬
369 সূরা আল-আনআম ৬: ৯৩
370 সূরা আল-গাফির ৪০: ৪৬
371 সহীহ মুসলিম: হা/৭১০৫, (২৮৬৭); মুসনাদু ইবনু আবী শায়বাহ হা/১২২; বায়হাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর হা/২০৩; মিশকাত হা/১২৯।
372 সূরা ফুসসিলাত ৪১: ৩০
373 সূরা আল-ওয়াকিআহ ৫৬: ৮৩-৮৯
374 আবু দাউদ ৪৭৫৩ মুহাদ্দিস আল্লামাহ্ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন মিশকাতুল মাসাবীহ: ১৩১, সহীহুল জামে হা/১৬৭৬।
375 সূরা আত-তাগাবুন ৬৪: ৭
376 সূরা আল-বাকারাহ ২:৫৫
377 সূরা আল-বাকারাহ ২: ৫৫-৫৬
378 সূরা আল-বাকারাহ ২: ৭২-৭৩
379 সূরা আল-বাকারাহ ২: ২৪৩
৩৮০ সূরা আল-বাকারাহ ২: ২৬৯
381 সূরা আল-বাক্বারাহ ২: ২৬০
382 সূরা আর-রূম ৩০ : ২৭
383 সূরা আল-আমবিয়া’ ২১ঃ ১০৪
384 সূরা ইয়াসীন ৩৬ঃ ৭৯
385 সূরা ফুসিলাت ৪১ঃ ৩৯
386 সূরা কাফ ৫০: ৯-১১
387 সাহীহ বুখারী: হা/২১৬, মুসলিম হা/২৯২; আবু দাউদ হা/২০; তিরমিযী হা/৭০; নাসাঈ হা/৩১; ইবনু মাজাহ হা/৩৪৭।
388 সূরা আয-যুমার ৩৯:৪২
389 সূরা আল-ইসরা ১৭:৪৪
390 সুরা আল-আ'রাফ ৭: ২৭