📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 সিয়াম

📄 সিয়াম


আর সিয়ামের প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকেদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।”

সিয়াম
১. রমাদান মাসে সিয়াম পালন করা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ হলো কুরআন মাজীদের এই আয়াত:
يَايُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমনভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”

) كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ CO (যেমনিভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববতীদের উপর) কথাটি থেকে যে সব ফায়দা পাওয়া যায় সেগুলো নিম্নরূপ:
ক. মহান আল্লাহ্ আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের উপরও সিয়াম পালন ফরয করে দিয়েছিলেন। এতে বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ্ সিয়ামকে খুব বেশি ভালবাসেন এবং সিয়াম পালন প্রত্যেক জাতির জন্য আবশ্যক।
খ. মহান আল্লাহ্ এ উম্মতকে এ কথা বলে হালকা করে দিয়েছেন যে এ সিয়ামের আদেশ শুধু তাদেরকেই দেয়া হয়নি যা দৈহিক ও আত্মিক ভাবে কষ্টকর হতেও পারে (বরং এ আদেশ পূর্ববর্তীদেরকেও দেয়া হয়েছিল)
গ. আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ্ এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছেন যে, এই উম্মতের জন্য তিনি তাঁর দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন, অর্থাৎ আগের উম্মতদের প্রতি যেসব ফযীলত তিনি দান করেছিলেন, সেসবকে তিনি পরিপূর্ণরূপ দান করেছেন।

২. এই আয়াতে মহান আল্লাহ্ সিয়াম পালনের হিকমাহ্ (অন্তর্নিহিত তাৎপর্য) বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো لَعَلَّكُمُ تَتَّقُونَ )যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার)। অর্থাৎ সিয়াম পালনের মাধ্যমে তাকওয়া এবং এর আরো যে সব গুণ ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তা যাতে তোমরা অর্জন করতে পারো। সিয়ামের এসব ফায়দার প্রতি ইঙ্গিত করেই রাসূল () ইরশাদ করেছেন:

مَنْ لَمْ يَدَعُ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ، وَالجَهْلَ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
'যে ব্যক্তি মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলা এবং সে অনুসারে কাজ করা এবং মূর্খতা পরিহার করলো না, আল্লাহর নিকট তার পানাহার বর্জনে কিছু যায় আসে না"।

টিকাঃ
277 সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৮৩
279 সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৮৩
২৮০ সহীহ বুখারী: হা/৬০৫৭, আবূ দাউদ হা/২৩৬২; তিরমিযী হা/৭০৭; ইবনু মাজাহ হা/১৬৮৯; মিশকাত হা/১৯৯৯。

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 হজ্জ

📄 হজ্জ


আর হজ্জের প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: “আল্লাহর জন্য উক্ত ঘরের হাজ্জ করা লোকেদের উপর আবশ্যক যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে এবং যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, (সে জেনে রাখুক) নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্ব জাহানের মুখাপেক্ষী নন।”

হাজ্জ
৩. হাজ্জ পালন ফরয। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী:
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنَ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَا كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ
"আল্লাহর উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহর হজ্জ করা মানুষের জন্য অবশ্য কর্তব্য, যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে। আর যে কেউ কুফরী করে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন।"

এই আয়াতটি নবম হিজরীতে নাযিল হয় এবং এর দ্বারা হজ্জ ফরয করা হয়। যেহেতু এই আয়াতে হজ্জ সম্পর্কে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا (যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে), অর্থাৎ যে ব্যক্তি হজ্জ পালনের সামর্থ্য রাখে, হজ্জ কেবল তার উপরই ফরয। কাজেই এ থেকে প্রমাণিত হয়, যাদের সামর্থ্য নেই তাদের জন্য হজ্জ পালন করা ফরয নয়।

৪. আলোচ্য আয়াতের শেষাংশে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
وَمَا كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ
"(আর যে কেউ কুফরী করে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন।"

এ থেকে প্রমাণিত হয়, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্জ পালন না করা হচ্ছে কুফরী কাজ। তবে অধিকাংশ উলামায়ে কিরামের মত হলো, তা এমন পর্যায়ের কুফর নয় যা ইসলাম ধর্ম থেকে কাউকে বের করে দেয় (অর্থাৎ তা হলো ছোট কুফর)।
এ সম্পর্কে আব্দুল্লাহ্ বিন শাকীক বলেন:
كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ
'মুহাম্মাদ () এর কোন সাহাবী কেবল সালাত ব্যতীত অন্য কোন আমল ছেড়ে দেওয়াকে কুফরী কাজ মনে করতেন না'।

টিকাঃ
278 সূরা আল ইমরান ৩: ৯৭
২৮১ সূরা আল ইমরান ৩: ৯৭
282 তিরমিযী হা/২৬২২; মিশকাত হা/৫৭৯; আলবানী সহীহ বলেছেন, হুকমু তারিকিস সালাত পৃ. ১৭; সহীহা হা/৮৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00