📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 দ্বীন ইসলামকে জানা

📄 দ্বীন ইসলামকে জানা


দ্বিতীয় মূলনীতি

১. দ্বীন ইসলামকে জানা: যে সব মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ওয়াজিব, সে তিনটি নীতির দ্বিতীয়টি হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহ তে বর্ণিত দালীল-প্রমাণ দ্বারা দ্বীন ইসলামের সঠিক পরিচয় ও জ্ঞানলাভ।

২. ইসলামের মর্মার্থ: দ্বীন ইসলাম বা যদি চান তবে এভাবে বলতে পারেন যে ইসলাম হচ্ছে, ক. তাওহীদসহকারে আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণ খ. আল্লাহ্র আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর বশ্যতা স্বীকার করা এবং গ. শির্ক এবং মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা।

৩. তাওহীদসহকারে আত্মসমর্পণ: বান্দা তার রব্বের নিকট শারীআতগত ভাবে আত্মসমর্পণ করবে। আর সেটি আল্লাহ্র প্রতি তাওহীদসহকারে ও ইবাদাতে আল্লাহকে একক ও অদ্বিতীয় সাব্যস্ত করার মাধ্যমে। আর এই ইসলামে কেবল শারীআতগত ভাবে আত্মসমর্পণ করার মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহ্র নিকট প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়ে থাকে。
পক্ষান্তরে আল্লাহ্ নির্ধারিত যেসব বিষয়ে মানুষের করার কিছু নেই, সেসব বিষয়ে আত্মসমর্পণ করার মাঝে কোন সাওয়াব নেই। কেননা এক্ষেত্রে মানুষের কিছু করার কোন ক্ষমতা নেই, সে এমনিতেই তা করতে বাধ্য।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
وَلَهُ أَسْلَمَ مَنَ فِي السَّمَواتِ وَالْأَرْضُ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يرجعون
“অথচ আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবকিছুই ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করেছে। আর তাঁর দিকেই তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।”

৮. আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বশ্যতা স্বীকার: আর তা করতে হবে আল্লাহ যে সকল কাজের আদেশ দিয়েছেন সেগুলো যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে এবং যেসব কাজ থেকে নিষেধ করেছেন সেসব কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে। কেননা আদিষ্ট কাজসমূহ করা এবং নিষিদ্ধ কাজসমূহ পরিত্যাগ করাই হলো আনুগত্য।

৫. শির্ক ও শির্ককারীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ: শির্কের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা হলো শির্ক থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থাকা। শির্ক থেকে মুক্ত থাকতে হলে অবশ্যই মুশরিকদের সাথেও সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে。
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
مَعَهُ إِذْ قَالُوا قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أَسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَءُوا مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَةً
“অবশ্যই তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তাঁর সাথে যারা ছিল, তাঁদের মাঝে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন তাঁরা তাঁদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদাত কর তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে প্রত্যাখ্যান করছি। তোমাদের এবং আমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য শুরু হয়ে গেল যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহতে ঈমান আন। "

টিকাঃ
২৫২ সূরা আলে ইমরান ৩ : ৮৩
253 সূরা ইবরাহীম ১৪ : ৪

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 দ্বীনের স্তর

📄 দ্বীনের স্তর


আর তার (দ্বীনের) তিনটি স্তর': ইসলাম, ঈমান ও ইহসান। এ তিনটি স্তরের প্রত্যেকটির আবার কয়েকটি রুকন (স্তম্ভ) রয়েছে'।

(দ্বীনের প্রথম স্তর) ইসলামের রুকন পাঁচটি। সাক্ষ্য প্রদান যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন সত্য মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ () আল্লাহ্র রাসূল। সলাত কায়েম। যাকাত প্রদান। রামাদ্বান মাসে সিয়াম পালন। আল্লাহ্র পবিত্র ঘরের হজ্জ।

দ্বীনের স্তর
১. পুস্তকের লেখক দ্বীন ইসলামের তিনটি স্তরের কথা বর্ণনা করেছেন। ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত এই তিনটি স্তরের একটি আরেকটি থেকে উচ্চ পর্যায়ের। আর সেগুলো হচ্ছে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান।

২. দ্বীন ইসলামের যে তিনটি স্তর (ইসলাম, ঈমান ও ইহসান) রয়েছে, এর প্রমাণ হলো উমার বিন খাত্তাব () থেকে বর্ণিত হাদীস্ব। এতে উল্লেখ রয়েছে যে, জিবরাঈল () নাবী () এর নিকট আগমন করলেন এবং তাঁকে প্রশ্ন করলেন ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান সম্পর্কে। নাবী () তাকে এ সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদান করলেন এবং সে চলে যাওয়ার পর তিনি উপস্থিত সাহাবায়ি কিরামকে বললেন, আগন্তুক প্রশ্নকারী ছিলেন জিবরাঈল এসেছিলেন তোমাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিতে।

৩. ইসলামের রুকন বা স্তম্ভ: এর প্রমাণ হলো ইবনু উমার (رضي.) থেকে বর্ণিত হাদীসঃ
بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامُ الصَّلاةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَحَجُّ الْبَيْتِ
রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি:
এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল।
সলাত কায়েম করা
যাকাত প্রদান করা
রমজান মাসে সিয়াম পালন করা এবং
আল্লাহর ঘরে হজ্জ করা。

টিকাঃ
254 বুখারী হা/৮; মুসলিম হা/১৬; তিরমিযী হা/২৬০৯; নাসাঈ হা/৫০০১; মিশকাত হা/৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00