📄 রাগবাহ্ (গভীর আগ্রহ), রাহ্বাহ্ (সক্রিয় ভীতি), খুশূ’ (নম্রতা ও বিনয়)
রাগবাহ: অর্থাৎ গভীর আগ্রহ হচ্ছে প্রিয় বস্তু পর্যন্ত পৌছার মুহাব্বত বা ভালবাসা。
রাহবাহ: অর্থাৎ সক্রিয় ভীতি হচ্ছে এমন ধরনের ভয়, যার দরুন মানুষ ভীতিপ্রদ বস্তু থেকে পলায়ন করতে থাকে। সংগত কারনেই এটি এমন এক প্রকার ভয়, যা আমলের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।
খুশু: অর্থাৎ নম্রতা ও বিনয় হচ্ছে আল্লাহ্র মহত্ত্বের প্রতি বিনয় ও বশ্যতা প্রদর্শন। আর তা করতে হবে মহান আল্লাহ্র জাগতিক এবং শারীআত সম্বন্ধীয় ফায়সালাগুলোকে নির্দ্বিধায় মেনে নেওয়ার মাধ্যমে。
এই আয়াতে কারীমায় মহান আল্লাহ্ তাঁর সবচেয়ে একনিষ্ঠ বান্দাদের গুণাগুণ এভাবে বর্ণনা করেছেন, তারা রাগবাহ (গভীর আগ্রহ) ও রাহবাহ (সক্রিয় ভীতি) নিয়ে বিনীতভাবে আল্লাহকে ডাকে। আয়াতে উল্লিখিত দু'আর মাঝে (الدعاء العبادة )ইবাদাত জনিত দুআ') এবং (الدعاء المسألة ) (অনুরোধ জনিত দুআ') উভয় প্রকারের দু'আ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আল্লাহ্র বিশিষ্ট বান্দাগণ তাঁর নিকট যেসব মহান নিয়ামত রয়েছে তা লাভ করার গভীর আগ্রহ নিয়ে এবং তাঁর নিকট থেকে উত্তম প্রতিদান পাওয়ার গভীর আশা নিয়ে তাঁকে ডাকেন। সাথে সাথে তাঁর ভয়ঙ্কর শাস্তিকে এবং নিজেদের পাপের প্রতিফলকেও ভয় করেন। প্রত্যেক ঈমানদারের উচিত আল্লাহ্র প্রতি (الخوف )ভয়( ও (الرجاء ) (আশা) উভয়টি নিয়েই তার পথে এগিয়ে চলা। তবে আল্লাহ্র আনুগত্যের ক্ষেত্রে আশাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, যাতে সে ইবাদাতে সক্রিয় থাকে আবার একই সাথে আশা করে যে তার ইবাদাত আল্লাহ্ কবুল করবেন। পক্ষান্তরে আল্লাহ্ অবাধ্যতার ক্ষেত্রে ভয়-ভীতিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, যাতে করে সে দ্রুত আল্লাহ্ অবাধ্যতা থেকে পলায়ন করতে পারে এবং শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে।
আর কিছু সংখ্যক উলামায়ে কিরাম বলেছেন, অসুস্থ অবস্থায় অন্তরে আল্লাহ্র প্রতি ভয়ের চেয়ে আশা বেশি রাখা উচিত এবং সুস্থ অবস্থায় আশার চেয়ে ভয় বেশি করা উচিত। কেননা অসুস্থ অবস্থায় মন সাধারণত নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে এই আশঙ্কায় যে, মৃত্যুর সময় হয়তো ঘনিয়ে এসেছে এবং তার হয়তো মৃত্যু হয়ে আর সে এ কথা চিন্তা করবে আল্লাহ্র প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করেই। পক্ষান্তরে সুস্থ অবস্থায় সে প্রাণবন্ত থাকে এবং দীর্ঘ জীবন লাভের প্রত্যাশা করে, যা তার মাঝে দাম্ভিকতা ও অসাধুতা এনে দিতে পারে। এই অবস্থায় আল্লাহ্র প্রতি আশার চেয়ে ভয় বেশি রাখা উচিত, যাতে এসব নিরাপদ থাকা যায়।
এমনও বলা হয়ে থাকে যে, আল্লাহ্র প্রতি মানুষের আশা ও ভয় একইসাথে সমভাবে থাকা উচিত, যাতে করে কেবল আশা পোষণ করে কেউ যেন আল্লাহ্ শাস্তি থেকে নিশ্চিন্ত না হয়ে যায় এবং কেবল ভয় পোষণ করে।
কেউ যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে যায়। কেননা দু'টি কাজই হচ্ছে কোন মানুষের জন্য ধ্বংস আনয়নকারী জঘন্য বিষয়।
টিকাঃ
[২০৮] সূরা আল-আম্বিয়া' ২১: ৯০
📄 খাশইয়াহ (শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়)
আর খাশইয়াহ (শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়) এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী: “কাঝেই তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর।”
১. খাশইয়াহ (শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়): কোন কিছুর মহত্ত্ব ও সার্বভৌম ক্ষমতা ও আধিপত্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর অন্তরে যে শ্রদ্ধাযুক্ত ভীতির অবতারণা হয়, তাকে খাশইয়াহ বলা হয়। যেমন মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنَ عِبَادِهِ الْعُلَمُوا
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই কেবল তাঁকে ভয় করে।”
অর্থাৎ যারা আলিম তথা জ্ঞানী তারা, কেননা তাদের এ খাশইয়াহ আল্লাহর মহত্ত্ব ও সার্বভৌম ক্ষমতা ও আধিপত্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার সাথে। কাজেই সাধারণ ভয় (الخوف) থেকে শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ের (الخشية) বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য আমরা একটি উদাহরণ পেশ করছি। যেমন: আপনি যদি এমন কাউকে ভয় করেন যার সম্পর্কে আপনি জানেন না যে, সে আপনার চেয়ে বেশি ক্ষমতাবান কিনা, তাহলে এ ধরনের ভয়কে ‘খউফ’ বা সাধারণ ভয় বলা হয়। পক্ষান্তরে কারো ক্ষমতা সম্পর্কে আপনি এটা জানেন যে, তিনি আপনার থেকে অধিক ক্ষমতাবান, তাহলে এ ধরনের ভয়কে ‘খাশইয়াহ’ বা শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয় বলে। সাধারণ ভয়ের হুকুম-আহকাম যত প্রকার, শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ের ক্ষেত্রেও তা তত প্রকার।
টিকাঃ
২০৯ সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৫০
২১০ সূরা আল-ফাতির ৩৫: ২৮
📄 ইনাবাহ (আল্লাহ্র দিকে প্রত্যাবর্তন)
আর ইনাবাহ তথা অনুতপ্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: “আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর।”
১. ইনাবাহ (অনুতপ্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন): 'ইনাবাহ' হলো আল্লাহর আনুগত্য করার মাধ্যমে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। অর্থের দিক থেকে ইনাবাহ অনেকটা তাওবার কাছাকাছি। তবে الْإِنَابَةِ হলো তাওবা থেকে অধিকতর সূক্ষ্ম একটি বিষয়। কেননা الْإِنَابَةِ দ্বারা আল্লাহ্র উপর পূর্ণ ভরসা পোষণ করা হয় এবং তাঁর আশ্রয়ে প্রত্যাবর্তন করা হয়, যা কেবল আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো জন্য হতে পারে না。
এ কথার প্রমাণ হচ্ছে কুরআন মাজীদের এই আয়াত: وَأَنِيبُوا إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ
"আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর।"
আয়াতটিতে বর্ণিত وَأَسْلِمُوا لَهُ )তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ কর) কথা দ্বারা ইসলামী শারীআতকে বুঝানো হয়েছে, যার অর্থ হলো আল্লাহ্র বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করা।
আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণ দুই প্রকার:
ক. জাগতিক আত্মসমর্পণ: আর তা হলো সমগ্র সৃষ্টজগতের প্রতি মহান আল্লাহ্ হুকুম-আহকামের প্রতি আত্মসমর্পণ। এ ধরনের সাধারণ আত্মসমর্পণ নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের প্রত্যেক মু'মিন, কাফির, নেককার, বদকার সবাই নিজ ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় করে থাকে। কারো পক্ষে তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহ্র এই বাণী:
وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ
“অথচ আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সবকিছুই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আর তাঁর দিকেই তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।”
খ. শারঈ আত্মসমর্পণ: আর তা হলো মহান আল্লাহর শারীআত বিষয়ক হুকুম-আহকামের প্রতি আত্মসমর্পণ। এই শারীআতগত আত্মসমর্পণ বিশেষভাবে কেবল নাবী-রাসূলগণ এর প্রতি বাধ্যতা ও তাঁদের উত্তম অনুসরণের উপরেই স্থাপিত। এর অসংখ্য দালীল কুরআন মাজীদে বিদ্যমান। সেসব দালীলের মধ্য থেকে একটি দালীল পুস্তকের সংকলক [] এখানে উল্লেখ করেছেন।
টিকাঃ
২১১ সূরা আয-যুমার ৩৯ : ৫৪
২১২ সূরা আয-যুমার ৩৯ : ৫৪
২১৩ সূরা আলু ইমরান ৩ : ৮৩
📄 ইসতি‘আনাহ্ (সাহায্য প্রার্থনা)
আর ইসতিআনাহ বা সাহায্য প্রার্থনা' এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "আমরা কেবল তোমারেই ইবাদাত করি এবং কেবলমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।"
আর হাদীসে রয়েছে: "যখন তুমি সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন তা আল্লাহর নিকট করবে।"
ইসতিআনাহ (সাহায্য প্রার্থনা)
১. এর অর্থ হচ্ছে সাহায্য প্রার্থনা ও তা কয়েক রকম হতে পারে। যেমন:
ক. আল্লাহর নিকট: আর তা হলো আল্লাহর প্রতি বান্দার পূর্ণ আনুগত্য ও বিনয় প্রদর্শন, তাঁর নিকট নিজের যাবতীয় বিষয়াদি অর্পণ করা এবং আল্লাহকেই নিজের জন্য যথেষ্ট হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা। এ ধরনের সাহায্য প্রার্থনা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট করা যায় না。
এর প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহর এই বাণী:
أَيَّتِكَ نَعْبُدُ وَإِيَّتِكَ نَسْتَعِينُ
"আমরা কেবল আপনারই ইবাদাত করি এবং আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।"
কুরআন মাজীদের ভাষা হলো আরবী, আর আরবী ব্যাকরণের নিয়ম হলো কর্ম (object) সাধারণত কর্তা (subject) ও ক্রিয়াপদের (verb) পরে আসে。
কিন্তু যদি কর্ম কখনো কর্তা এবং ক্রিয়াপদের পূর্বে আসে তাহলে এর দ্বারা ক্রিয়াপদকে কর্মের জন্য সুনির্দিষ্ট করা উদ্দেশ্য হয়। যেহেতু উপরোল্লিখিত আয়াতে কর্ম إِيَّ )কেবল আপনারই) শব্দটি কর্তা ও ক্রিয়াপদ نَعْبُدُ )আমরা ইবাদাত করি) এবং نَسْتَعِينُ )আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি) এর পূর্বে উল্লেখ হয়েছে, সুতরাং এ থেকে প্রমাণিত হয়, উপরে বর্ণিত সাহায্য প্রার্থনামূলক ইবাদাত কেবল আল্লাহ্ জন্যই নির্দিষ্ট এবং তা কেবল তাঁরই অধিকার। আর তা একমাত্র আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো জন্য করা হচ্ছে এমন পর্যায়ের শির্ক, যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় (মুশরিক বানিয়ে দেয়)।
খ. সামর্থ্যবান কারো নিকট: এমন কোন সৃষ্টির নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, যে প্রার্থিত বিষয়ে সাহায্য করার শক্তি-সামর্থ্য রাখে। এটার বিধান হবে সাহায্য প্রার্থনার বিষয় অনুযায়ী। এক্ষেত্রে প্রার্থিত বিষয় যদি উত্তম কোন বিষয় হয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করা যেমন বৈধ, তেমনি সেক্ষেত্রে সাহায্য করাও শারীআত সম্মত। কেননা আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন: وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوى من
"সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে। "
আর যদি প্রার্থিত বিষয় কোন গুনাহের কাজ হয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করা যেমন হারাম, তেমনি তাতে সাহায্য-সহযোগিতা করাটাও হবে হারাম। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন: وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ من
“পাপ ও সীমালংঘনের কাজে তোমরা একে অন্যকে সাহায্য করবে না। "
আর যদি প্রার্থিত বিষয়টি মুবাহ (পাপ বা পুণ্য কোনটিই নয়) হয়ে থাকে, তাহলে এ ধরনের কাজে সাহায্য প্রার্থনা করা যেমন বৈধ, তেমনি তাতে সাহায্য-সহযোগিতা করাও বৈধ। তবে মুবাহ কাজে যদিও সাওয়াব বা গুনাহ কিছুই নেই, তথাপি কোন কোন ক্ষেত্রে এ ধরনের কাজে সাহায্যকারী ব্যক্তি পরোপকার বা অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শনের জন্য সাওয়াব লাভ করতে পারে। আর এ কারণেই এসব বিষয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করা শারীআত সম্মত।
কেননা মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
وَاحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
“আর তোমরা ইহসান (সদাচরণ) কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালবাসেন তাদেরকে যারা সদাচরণ করে।”
গ. অক্ষম কারো নিকট: উপস্থিত এবং জীবিত এমন কোন সৃষ্টির নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, যে প্রার্থিত বিষয়ে সাহায্য করতে সক্ষম নয়। এ ধরনের সাহায্য প্রার্থনা করা হচ্ছে অনর্থক ও অযৌক্তিক কাজ। যেমন অতিশয় দুর্বল কোন লোকের নিকট ভারী কোন বস্তু উঠানোর ব্যাপারে সাহায্য চাওয়া।
ঘ. মৃত, অনুপস্থিত বা জীবিত কোন অক্ষম ব্যক্তির নিকট: যে কোন কাজ বা বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করা অথবা জীবিতদের নিকট অদৃশ্য এমন কোন বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করা, যে বিষয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করতে তারা অপারগ ও অক্ষম। এ ধরনের সাহায্য প্রার্থনা করা হলো শির্ক। কেননা এ ধরনের সাহায্য প্রার্থনা কেবল সেই ব্যক্তি করে থাকে, যে বিশ্বাস পোষণ করে যে, এক্ষেত্রে সে যাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছে, জগৎ পরিচালনায় তাদের অদৃশ্য কোন হাত বা ক্ষমতা রয়েছে।
ঙ. আল্লাহ্র প্রিয় ও পছন্দনীয় কোন আমল দ্বারা: এ ধরনের সাহায্য প্রার্থনা করা শারীআত সম্মত। কেননা কুরআন মাজীদে আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন:
اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلوةِ
“তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর ধৈর্য ও সলাতের মাধ্যমে।”
উপরোল্লিখিত ১ম প্রকার সাহায্য প্রার্থনার দালীল স্বরূপ পুস্তকের সংকলক কুরআন মাজীদের এই আয়াত إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (আমরা কেবল আপনারই ইবাদাত করি এবং আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি) এবং রাসূল (ﷺ) এর এই হাদীস وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ (যখন তুমি সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন তা আল্লাহ্র নিকট করবে) পেশ করেছেন।
টিকাঃ
২১৪ সূরা আল-ফাতিহাহ ১:৫
২১৫ মুসলিম হা/২৩৬২; তিরমিযী হা/২৫১৬; আহমাদ হা/২৬৬৯; তাবারানী, আদ-দুআ হা/৪২; মিশকাত হা/৫৩০২; সহীহুল জামে হা/৭৯৫৭।
২১৬ সূরা আল-ফাতিহাহ ১:৫
217 সূরা আল-মায়িদাহ ৫:২
218 সূরা আল-মায়িদাহ ৫: ২
২১৯ সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৯৫
২২০ সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৫৩