📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 তাওয়াক্কুল (ভরসা বা নির্ভরতা)

📄 তাওয়াক্কুল (ভরসা বা নির্ভরতা)


কোন কিছুর উপর তাওয়াক্কুল করার অর্থ হলো কোন কিছুর উপর নির্ভর করা। আল্লাহর উপর ভরসা করার অর্থ হলো যে কোন প্রকার উপকার ও কল্যাণ লাভে এবং যে কোন প্রকার অনিষ্ট ও অমঙ্গল দূরীকরণে একমাত্র আল্লাহকেই যথেষ্টরূপে গ্রহণ করে ভরসা করা। এটি পরিপূর্ণ ঈমান হতে ও একই সাথে এটি পরিপূর্ণ ঈমানের একটি বিশেষ লক্ষণ।
কেননা মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَعَلَى اللَّهِ فَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
“আল্লাহর উপরই তোমরা নির্ভর কর যদি তোমরা মু’মিন হও।”[২০৪]
বান্দা যদি সত্যিকার অর্থেই আল্লাহর উপর নির্ভর করে তাহলে অবশ্যই আল্লাহ্ তার সমস্যা-উদ্বেগের সমাধানের জন্য যথেষ্ট হবেন। তাইতো মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
وَمَا يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করবে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট হবেন।”[২০৫]
অতঃপর আল্লাহ্ তাঁর উপর ভরসা পোষণকারীকে পূর্ণ মাত্রায় আশ্বস্ত করে ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা পূরণ করবেন।”[২০৬]
সেক্ষেত্রে তিনি যা চান সে ব্যাপারে কোন কিছু তাকে ঠেকাতে পারে না।
জেনে রাখুন! ভরসা কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন:
ক. আল্লাহ্র উপর ভরসা: আল্লাহ্র উপর আস্থা ও ভরসা রাখা হলো পরিপূর্ণ ঈমান এবং এর সত্যতার বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ্র প্রতি এ ধরনের ভরসা পোষণ করা ওয়াজিব। কেননা এটা ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হয় না。
খ. গুপ্ত বা গোপনীয় ভরসা: আর তা হলো কোন মৃত ব্যক্তির উপর এমন ভরসা পোষণ করা যে, সে তার কোন উপকার করতে পারবে অথবা তাকে কোন অমঙ্গল ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারবে। এ ধরনের তাওয়াক্কুল বা ভরসা হচ্ছে শিকুল আকবার বা বড় শির্ক। কেননা এ ধরনের ভরসা কেবল সেই ব্যক্তিই করতে পারে যে বিশ্বাস করে, জগত পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই মৃত ব্যক্তির কোন গোপনীয় ক্ষমতা বা হাত রয়েছে। সেই মৃত ব্যক্তি আল্লাহ্র কোন নাবী হোক, কোন ওলী হোক কিংবা আল্লাহ্র কোন শত্রু হোক, তাতে কোন পার্থক্য নেই।
গ. কোন বিষয় বা কাজে কোন ব্যক্তির উপর ভরসা কোন বিষয় বা কাজে কোন ব্যক্তির উপর কেবল এটুকু মনে করে ভরসা করা যে, অবস্থান ও মর্যাদার দিক দিয়ে সেই ব্যক্তি তাওয়াক্কুলকারী ব্যক্তির চেয়ে উন্নত ও ঊর্ধ্বে রয়েছে। যেমন: জীবিকা অর্জনের জন্য কারো উপর তাওয়াক্কুল করা। এ ধরনের তাওয়াক্কুল বা ভরসা হচ্ছে শির্কে আসগার বা ছোট শির্ক। কেননা এতে যার উপর নির্ভর করা হয় তার প্রতি নির্ভরকারীর অন্তর প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং সে তার উপর দৃঢ়-নির্ভরশীল হয়ে যায়।
তবে যদি কারো উপর এইটুকু মনে করে নির্ভর করা হয় যে, সে হলো এই কাজের জন্য একটি মাধ্যম মাত্র, আল্লাহ্ তাকে তাঁর হতেই এ কাজের ক্ষমতা ও সামর্থ্য দিয়েছেন তাহলে সে ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই যদি সত্যিই ভরসাকৃত ব্যক্তির কোন প্রভাব সত্যিই সেই নির্দিষ্ট কাজ বা বিষয়ে থেকে থাকে।
ঘ. প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে কারো উপর ভরসাঃ তাওয়াক্কুলকারী ব্যক্তি নিজে যে বিষয় বা কাজের সামর্থ্য রাখে, সেই বিষয় বা কাজে কাউকে নিজের প্রতিনিধি নিয়োগ করে তার উপর নির্ভর করা। এ ধরনের নির্ভরতা বা তাওয়াক্কুল কুরআন, হাদীস ও ইজমা' দ্বারা জায়েয বলে প্রমাণিত। যেমন কুরআন মাজীদে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ্ নাবী ইয়াকুব তার ছেলেদের বলেছিলেনঃ
يُبَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِنَ يُوسُفَ وَأَخِيهِ
“হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তাঁর সহোদরের সন্ধান কর।”[২০৭]
তাছাড়া নাবী (ﷺ) তাঁর পক্ষ থেকে সদাক্বাহ (যাকাত) সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্বে কিছু লোক নিয়োগ দিয়েছিলেন। ‘হাদ’ বা অপরাধের জন্য শারীআত নির্ধারিত শাস্তির বিধান প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করার জন্যও তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কিছু সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন। এমনিভাবে বিদায় হজ্জের সময় আলী ইবনু আবি তালিব (رضي) কে রাসূল (ﷺ) স্বীয় কুরবানীকৃত পশুর গোশত ও চামড়া বিতরণের জন্য এবং ১০০ টি কুরবানীর পশুর মধ্যে নাবী (ﷺ) ৬৩ টি নিজ হাতে কুরবানী করে অবশিষ্ট গুলো কুরবানী করার জন্য তিনি আলী (رضي) কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে অন্যের উপর তাওয়াক্কুল করা যে জায়েয, তা ইজমা' দ্বারা প্রমাণিত এবং সবাই তা জানে।

টিকাঃ
[২০২] সূরা আল-মায়িদাহ ৫: ২৩
[২০৩] সূরা আত্-তালাক ৬৫: ৩
[২০৪] সূরা আল-মায়িদাহ ৫: ২৩
[২০৫] সূরা আত্-তালাক ৬৫: ৩
[২০৬] সূরা আত্-তালাক ৬৫: ৩
[২০৭] সূরা ইউসুফ ১২: ৮৭

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 রাগবাহ্ (গভীর আগ্রহ), রাহ্বাহ্ (সক্রিয় ভীতি), খুশূ’ (নম্রতা ও বিনয়)

📄 রাগবাহ্ (গভীর আগ্রহ), রাহ্বাহ্ (সক্রিয় ভীতি), খুশূ’ (নম্রতা ও বিনয়)


রাগবাহ: অর্থাৎ গভীর আগ্রহ হচ্ছে প্রিয় বস্তু পর্যন্ত পৌছার মুহাব্বত বা ভালবাসা。
রাহবাহ: অর্থাৎ সক্রিয় ভীতি হচ্ছে এমন ধরনের ভয়, যার দরুন মানুষ ভীতিপ্রদ বস্তু থেকে পলায়ন করতে থাকে। সংগত কারনেই এটি এমন এক প্রকার ভয়, যা আমলের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।
খুশু: অর্থাৎ নম্রতা ও বিনয় হচ্ছে আল্লাহ্র মহত্ত্বের প্রতি বিনয় ও বশ্যতা প্রদর্শন। আর তা করতে হবে মহান আল্লাহ্র জাগতিক এবং শারীআত সম্বন্ধীয় ফায়সালাগুলোকে নির্দ্বিধায় মেনে নেওয়ার মাধ্যমে。
এই আয়াতে কারীমায় মহান আল্লাহ্ তাঁর সবচেয়ে একনিষ্ঠ বান্দাদের গুণাগুণ এভাবে বর্ণনা করেছেন, তারা রাগবাহ (গভীর আগ্রহ) ও রাহবাহ (সক্রিয় ভীতি) নিয়ে বিনীতভাবে আল্লাহকে ডাকে। আয়াতে উল্লিখিত দু'আর মাঝে (الدعاء العبادة )ইবাদাত জনিত দুআ') এবং (الدعاء المسألة ) (অনুরোধ জনিত দুআ') উভয় প্রকারের দু'আ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আল্লাহ্র বিশিষ্ট বান্দাগণ তাঁর নিকট যেসব মহান নিয়ামত রয়েছে তা লাভ করার গভীর আগ্রহ নিয়ে এবং তাঁর নিকট থেকে উত্তম প্রতিদান পাওয়ার গভীর আশা নিয়ে তাঁকে ডাকেন। সাথে সাথে তাঁর ভয়ঙ্কর শাস্তিকে এবং নিজেদের পাপের প্রতিফলকেও ভয় করেন। প্রত্যেক ঈমানদারের উচিত আল্লাহ্র প্রতি (الخوف )ভয়( ও (الرجاء ) (আশা) উভয়টি নিয়েই তার পথে এগিয়ে চলা। তবে আল্লাহ্র আনুগত্যের ক্ষেত্রে আশাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, যাতে সে ইবাদাতে সক্রিয় থাকে আবার একই সাথে আশা করে যে তার ইবাদাত আল্লাহ্ কবুল করবেন। পক্ষান্তরে আল্লাহ্ অবাধ্যতার ক্ষেত্রে ভয়-ভীতিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, যাতে করে সে দ্রুত আল্লাহ্ অবাধ্যতা থেকে পলায়ন করতে পারে এবং শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে।
আর কিছু সংখ্যক উলামায়ে কিরাম বলেছেন, অসুস্থ অবস্থায় অন্তরে আল্লাহ্র প্রতি ভয়ের চেয়ে আশা বেশি রাখা উচিত এবং সুস্থ অবস্থায় আশার চেয়ে ভয় বেশি করা উচিত। কেননা অসুস্থ অবস্থায় মন সাধারণত নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে এই আশঙ্কায় যে, মৃত্যুর সময় হয়তো ঘনিয়ে এসেছে এবং তার হয়তো মৃত্যু হয়ে আর সে এ কথা চিন্তা করবে আল্লাহ্র প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করেই। পক্ষান্তরে সুস্থ অবস্থায় সে প্রাণবন্ত থাকে এবং দীর্ঘ জীবন লাভের প্রত্যাশা করে, যা তার মাঝে দাম্ভিকতা ও অসাধুতা এনে দিতে পারে। এই অবস্থায় আল্লাহ্র প্রতি আশার চেয়ে ভয় বেশি রাখা উচিত, যাতে এসব নিরাপদ থাকা যায়।
এমনও বলা হয়ে থাকে যে, আল্লাহ্র প্রতি মানুষের আশা ও ভয় একইসাথে সমভাবে থাকা উচিত, যাতে করে কেবল আশা পোষণ করে কেউ যেন আল্লাহ্ শাস্তি থেকে নিশ্চিন্ত না হয়ে যায় এবং কেবল ভয় পোষণ করে।
কেউ যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে যায়। কেননা দু'টি কাজই হচ্ছে কোন মানুষের জন্য ধ্বংস আনয়নকারী জঘন্য বিষয়।

টিকাঃ
[২০৮] সূরা আল-আম্বিয়া' ২১: ৯০

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 খাশইয়াহ (শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়)

📄 খাশইয়াহ (শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়)


আর খাশইয়াহ (শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়) এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী: “কাঝেই তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর।”

১. খাশইয়াহ (শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়): কোন কিছুর মহত্ত্ব ও সার্বভৌম ক্ষমতা ও আধিপত্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর অন্তরে যে শ্রদ্ধাযুক্ত ভীতির অবতারণা হয়, তাকে খাশইয়াহ বলা হয়। যেমন মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنَ عِبَادِهِ الْعُلَمُوا
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই কেবল তাঁকে ভয় করে।”

অর্থাৎ যারা আলিম তথা জ্ঞানী তারা, কেননা তাদের এ খাশইয়াহ আল্লাহর মহত্ত্ব ও সার্বভৌম ক্ষমতা ও আধিপত্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার সাথে। কাজেই সাধারণ ভয় (الخوف) থেকে শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ের (الخشية) বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য আমরা একটি উদাহরণ পেশ করছি। যেমন: আপনি যদি এমন কাউকে ভয় করেন যার সম্পর্কে আপনি জানেন না যে, সে আপনার চেয়ে বেশি ক্ষমতাবান কিনা, তাহলে এ ধরনের ভয়কে ‘খউফ’ বা সাধারণ ভয় বলা হয়। পক্ষান্তরে কারো ক্ষমতা সম্পর্কে আপনি এটা জানেন যে, তিনি আপনার থেকে অধিক ক্ষমতাবান, তাহলে এ ধরনের ভয়কে ‘খাশইয়াহ’ বা শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয় বলে। সাধারণ ভয়ের হুকুম-আহকাম যত প্রকার, শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ের ক্ষেত্রেও তা তত প্রকার।

টিকাঃ
২০৯ সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৫০
২১০ সূরা আল-ফাতির ৩৫: ২৮

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 ইনাবাহ (আল্লাহ্র দিকে প্রত্যাবর্তন)

📄 ইনাবাহ (আল্লাহ্র দিকে প্রত্যাবর্তন)


আর ইনাবাহ তথা অনুতপ্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: “আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর।”

১. ইনাবাহ (অনুতপ্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন): 'ইনাবাহ' হলো আল্লাহর আনুগত্য করার মাধ্যমে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। অর্থের দিক থেকে ইনাবাহ অনেকটা তাওবার কাছাকাছি। তবে الْإِنَابَةِ হলো তাওবা থেকে অধিকতর সূক্ষ্ম একটি বিষয়। কেননা الْإِنَابَةِ দ্বারা আল্লাহ্র উপর পূর্ণ ভরসা পোষণ করা হয় এবং তাঁর আশ্রয়ে প্রত্যাবর্তন করা হয়, যা কেবল আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো জন্য হতে পারে না。
এ কথার প্রমাণ হচ্ছে কুরআন মাজীদের এই আয়াত: وَأَنِيبُوا إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ
"আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর।"

আয়াতটিতে বর্ণিত وَأَسْلِمُوا لَهُ )তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ কর) কথা দ্বারা ইসলামী শারীআতকে বুঝানো হয়েছে, যার অর্থ হলো আল্লাহ্র বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করা।
আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণ দুই প্রকার:
ক. জাগতিক আত্মসমর্পণ: আর তা হলো সমগ্র সৃষ্টজগতের প্রতি মহান আল্লাহ্ হুকুম-আহকামের প্রতি আত্মসমর্পণ। এ ধরনের সাধারণ আত্মসমর্পণ নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের প্রত্যেক মু'মিন, কাফির, নেককার, বদকার সবাই নিজ ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় করে থাকে। কারো পক্ষে তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহ্র এই বাণী:
وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ
“অথচ আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সবকিছুই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আর তাঁর দিকেই তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।”

খ. শারঈ আত্মসমর্পণ: আর তা হলো মহান আল্লাহর শারীআত বিষয়ক হুকুম-আহকামের প্রতি আত্মসমর্পণ। এই শারীআতগত আত্মসমর্পণ বিশেষভাবে কেবল নাবী-রাসূলগণ এর প্রতি বাধ্যতা ও তাঁদের উত্তম অনুসরণের উপরেই স্থাপিত। এর অসংখ্য দালীল কুরআন মাজীদে বিদ্যমান। সেসব দালীলের মধ্য থেকে একটি দালীল পুস্তকের সংকলক [] এখানে উল্লেখ করেছেন।

টিকাঃ
২১১ সূরা আয-যুমার ৩৯ : ৫৪
২১২ সূরা আয-যুমার ৩৯ : ৫৪
২১৩ সূরা আলু ইমরান ৩ : ৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00