📄 তৃতীয় বিষয়: তাওহীদ ও রাসূলের অনুসারীদের জন্য মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব বৈধ নয়
তৃতীয়টি:', যে রাসূল () এর আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে একক ও অদ্বিতীয় বলে স্বীকার করে, তার জন্য জায়েয নয় আল্লাহ্ ও রাসূল () এর বিরোধিতাকারীদের কারো সাথে বন্ধুত্ব পোষণ করা। যদিও সে তার নিকটাত্মীয় হয়।
আর দলীল আল্লাহ্র বাণী: “আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায় তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতাকারীদেরকে ভালবাসে- হোক না এই বিরোধীরা তাদের পিতা অথবা পুত্র অথবা তাদের ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠী। আল্লাহ এদের অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন, আর নিজের পক্ষ থেকে রুহ দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। তাদেরকে তিনি দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী-নালা, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এরাই আল্লাহর দল; জেনে রেখ, আল্লাহর দলই সাফল্যমন্ডিত।”[১২৮]
তৃতীয় যে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা এবং তদানুযায়ী আমল করা ওয়াজিব: তৃতীয় যে বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আমাদের প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য আবশ্যক তা হচ্ছে ‘আল-ওয়ালা ওয়াল বারা’ তথা ‘মিত্রতা ও শত্রুতার মূলনীতি’। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক বিষয়। এ সম্পর্কে কুরআন-হাদীসে অনেক দালীল রয়েছে।
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِّن دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে ত্রুটি করবে না।”[১২৯]
অন্য আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصْرَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَا يَتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও নাসারাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে নিশ্চয়ই সে তাদেরই একজন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না।”[১৩০]
মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَكُمْ هُزُوًا وَلَعِبَا مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ مِنَ قَبْلِكُمْ وَالْكُفَّارَ أَوْلِيَاء وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنْ كُنتُمْ مُؤْمِنِينَ
"হে ঈমানদারগণা তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে হাসি-তামাশা ও খেলার বস্তুরুপে গ্রহণ করে, তাদেরকে এবং কাফিরদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা মু'মিন হয়ে থাক।"[১৩১]
অন্য আয়াতে তিনি বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا أَبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمُ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ وَمَا يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُونَ قُلْ إِنْ كَانَ أَبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالُ بِاقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشُونَ كَسَادَهَا وَمَسْكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادِ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَسِقِينَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পিতৃবর্গ ও ভাতৃবৃন্দ যদি ঈমান অপেক্ষা কুফরীকে পছন্দ করে, তবে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারাই যালিম। হে নাবী! আপনি বলুন, তোমাদের নিকট আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করার চেয়ে যদি বেশী প্রিয় হয় তোমাদের পিতৃবর্গ, তোমাদের সন্তানেরা, তোমাদের ভ্রাতাগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের আপনগোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ ও তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশঙ্কা তোমরা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরা ভালবাস, তবে অপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ তোমাদের কাছে নিয়ে আসেন। আর আল্লাহ্র ফাসিক সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।[১৩২]
মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
قَدْ كَানَتْ لَكُمْ أَسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ ، إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَءُوا مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَةً
“অবশ্যই তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদাত কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হলো শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহতে ঈমান আন।”[১৩৩]
কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরোধিতা করে তার সাথে বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা এটাই প্রমাণ করে যে, তার অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যে ঈমান রয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির। তা না হলে এটা কোন যুক্তিসঙ্গত কথা হতে পারে না যে, কোন ব্যক্তি এমন কাউকে বা কোন কিছুকে ভালবাসবে যা তার প্রিয়তমের ঘোরতর শত্রু। কাফিরদের সাথে মিত্রতার অর্থ হচ্ছে, কুফর ও গোমরাহী নিয়ে তারা যা অবস্থায় আছে সে অবস্থায় তাদেরকে সাহায্য- সহযোগিতা করা। আর তাদেরকে ভালবাসার অর্থ হচ্ছে, যেসব কাজ করলে তাদের ভালবাসা লাভ করা যায়, সে সব কাজের মাধ্যমে তাদের ভালবাসা অর্জন করা, হোক তা যে কোন উপায়ে। নিঃসন্দেহে এটি ঈমানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলে নতুবা কমপক্ষে একে অসম্পূর্ণ করে ফেলে। অতএব প্রত্যেক মু’মিন-মুমিনার জন্য অবশ্য কর্তব্য হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(ﷺ) এর বিরোধিতা যারা করে, তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা, যদিও তারা তার কোন নিকটতম আত্মীয় হোক না কেন। তবে এ কথার অর্থ এটা নয় যে, তাদেরকে সদুপদেশ দেওয়া এবং সত্যের পথে আহ্বান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
টিকাঃ
[১২৮] সূরা আল-মুজাদালাহ ৫৮ : ২২
[১২৯] সূরা আল ইমরান ৩: ১১৮
[১৩০] সূরা আল-মায়িদাহ ৫: ৫১
[১৩১] সূরা আল-মায়িদাহ ৫: ৫৭
[১৩২] সূরা আত-তাওবাহ ৯: ২৩-২৪
[১৩৩] সূরা আল-মুমতাহিনা ৬০: ৪