📘 সালাসাতুল উসুল 📄 সূরাতুল আসর এর তাফসীর

📄 সূরাতুল আসর এর তাফসীর


সূরাতুল আস্ত্র এর তাফসীর: উল্লিখিত চার স্তর সম্পর্কিত প্রমাণ হল সূরা আস্ত্র। এই সূরায় মহান আল্লাহ্ الْعَصْرِ (আল আসর) শব্দ দ্বারা কসম করেছেন, যা হচ্ছে সময়। সময় হল নানা ঘটনা ঘটার স্থল যাতে ভাল-মন্দ সব ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। এ কারণে আল্লাহ্ সময়ের শপথ করে বলেছেন যে, সকল মানুষই ক্ষতির মাঝে রয়েছে। তবে যারা এই ৪টি গুণে গুণান্বিত হবে, তারা উপরোল্লিখিত ক্ষতির আওতাধীন নয়। এই ৪টি গুণ হচ্ছে যথাক্রমেঃ
ক. ঈমান
খ. নেক আমল
গ. সত্যের উপদেশ প্রদান
ঘ. ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের উপদেশ প্রদান
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম [রঃ] বলেছেন: 'নাফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদের ৪টি স্তর বা পর্যায় রয়েছে। যথাঃ
ক. হিদায়াত এবং সত্য ধর্ম, যা ব্যতীত ইহকাল ও পরকালে শান্তি ও সফলতা অর্জন করা আদৌ সম্ভবপর নয়, তা জানার জন্য নাফসের সাথে জিহাদ।
খ. সঠিক পথ ও সত্য ধর্মকে জানার পর সে অনুযায়ী আমল করার জন্য নাফসের সাথে জিহাদ।
গ. সঠিক পথ ও সত্য ধর্মের দিকে মানুষকে আহ্বান করা এবং যারা এ সম্পর্কে জানে না তাদেরকে তা শিক্ষা প্রদানের কাজে নাফসের সাথে জিহাদ করা।
ঘ. আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বানের কাঠিন্যতা ও সৃষ্টি জগত কর্তৃক অত্যাচার-নির্যাতনে ধৈর্য ধারণের জন্য নাফসের সাথে জিহাদ করা। দাঈকে এই সবকিছু করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। যে ব্যক্তি এই ৪টি গুণে পরিপূর্ণরূপে গুণান্বিত হয়ে যাবে, সে আল্লাহ্ ওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
এই সূরায় মহান আল্লাহ্ যুগের শপথ করে বলেছেন যে, প্রতিটি মানুষ, তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি যত বেশিই হোক না কেন কিংবা সে যতই উচ্চ পর্যায়ের ও মান-মর্যাদার অধিকারী হোক না কেন, তথাপি সে ক্ষতির মাঝে নিপতিত। তবে যারা ৪টি গুণে সামগ্রিকভাবে গুণান্বিত, তারা নয়। এই ৪টি গুণ হলো:
ক. ঈমান: যে সব বিশুদ্ধ আকীদাহ্ ও বিশুদ্ধ ইল্ম দ্বারা মানুষ তার মহান প্রতিপালকের নৈকট্য অর্জন করতে পারে সে সবকিছুই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
খ. নেক আমল: আর তা হচ্ছে এমন প্রতিটি কথা ও কাজ, যা দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। আর তা তখনই সম্ভব যখন আমল সম্পাদনকারী ব্যক্তি তার প্রতিটি কথা ও কাজে মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হবে এবং রাসূল (ﷺ) এর যথাযথ অনুসারী হবে (সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করবে)।
গ. হকের (সত্যের) উপদেশ প্রদান: আর তা হলো পরস্পর ভাল কাজের উপদেশ দেওয়া, ভাল কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং ভাল কাজের প্রতি একে অপরকে উৎসাহ যোগানো।
ঘ. ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের উপদেশ প্রদান: আর তা হচ্ছে একে অপরকে আল্লাহর যাবতীয় আদেশসমূহ ধৈর্য সহকারে পালন করা, তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে ধৈর্য সহকারে পরিহার করা এবং আল্লাহর তাকদীর বা নির্ধারিত বিষয়াদিকে ধৈর্য সহকারে মেনে নেওয়ার উপদেশ প্রদান করা।
এখানে পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া বলতে ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করাকে বুঝানো হয়েছে। এই দু'টি বিষয়ের উপরই মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, উম্মতের জন্য আল্লাহর সাহায্য, সম্মান অর্জন ও উম্মতের সমৃদ্ধি রয়েছে।

টিকাঃ
[৮৩] সূরা আল-আস্ত্র ১০৩: ১-৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية