📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 ইলম অনুযায়ী আমল করা

📄 ইলম অনুযায়ী আমল করা


ইল্ম অনুযায়ী আমল করা: এই ইল্ম অনুযায়ী আমল করার অর্থ হচ্ছে এই জ্ঞানের বুঝ অনুযায়ী আমল করা। আর তা হলো আল্লাহ্‌র প্রতি দৃঢ় ঈমান পোষণ, তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ যথাযথভাবে পালন এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক ইবাদাতসমূহ সঠিকভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করা। ব্যক্তিগত ইবাদাত হচ্ছে সালাত, সিয়াম, হজ্জ ইত্যাদি এবং সামাজিক ইবাদাত হচ্ছে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা, আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করা এবং এ ধরনের আরো অন্যান্য ইবাদাতসমূহ।

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 অর্জিত জ্ঞানের দিকে মানুষকে আহ্বান

📄 অর্জিত জ্ঞানের দিকে মানুষকে আহ্বান


অর্জিত জ্ঞানের দিকে মানুষকে আহ্বান: রাসূল (ﷺ) আল্লাহ্ পক্ষ থেকে যে শারীআত নিয়ে এসেছেন সেই ইসলামী শারীআতের দিকে মানুষকে আহ্বান করা। এই দাওয়াতের কাজ করতে হবে কুরআন মাজীদে বর্ণিত ৩টি বা ৪টি পর্যায় এবং পদ্ধতিতে। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
اُدْعُ إِلٰى سَبِيْلِ رَبُّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمُ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
"আপনি মানুষকে আপনার রবের পথে দাওয়াত দিন হিকমাহ ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে তর্ক করুন উত্তম পন্থায়।”[৭০]
উপরোল্লিখিত আয়াতে দাওয়াতের তিনটি পর্যায় ও পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। চতুর্থ পর্যায় ও পদ্ধতিটি নিম্নের আয়াতে বর্ণিত হয়েছে:
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتٰبِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ
“আর তোমরা উত্তম পন্থা ছাড়া আহলে কিতাবের সাথে বিতর্ক করবে না। তবে তাদের সাথে করতে পার, যারা তাদের মধ্যে যুলুম করেছে।"[৭১]
ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করার জন্য আহ্বানকারীর (দাঈর) অবশ্যই আল্লাহ্ প্রদত্ত ইসলামী শরীয়াহ সম্পর্কে ইল্ম থাকতে হবে, যাতে করে দাওয়াতের কাজটি জ্ঞান ও দূরদর্শিতার ভিত্তিতে হয়।
কেননা মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
قُلْ هُذِهِ سَبِيلِي أَدْعُوا إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي ، وَسُبْحَنَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
"বল, 'এটাই আমার পথ, আল্লাহর পথে আহবান জানাচ্ছি, আমি ও আমার অনুসারীরা, স্পষ্ট জ্ঞানের মাধ্যমে। আল্লাহ মহান, পবিত্র; আমি কখনো মুশরিকদের মধ্যে শামিল হব না।"[৭২]
বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা হচ্ছে, দাঈ যে বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছেন প্রথমত: তাকে সে বিষয় সম্পর্কে ইসলামের কী হুকুম রয়েছে তা ভাল করে জানতে হবে। দ্বিতীয়ত: দাওয়াত প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে দাঈর সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে। তৃতীয়ত: যাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের অবস্থা ও প্রকৃতি সম্পর্কে দাঈর অবগত হতে হবে।
আল্লাহ্‌র দিকে মানুষকে আহ্বান করার অনেক পন্থা রয়েছে। যেমন:
ক. ভাষণ ও বক্তৃতার মাধ্যমে দাওয়াত প্রদান
খ. কলাম, প্রবন্ধ ইত্যাদি লিখনের মাধ্যমে দাওয়াত প্রদান
গ. জ্ঞানচর্চার কোন সার্কেলে দাওয়াত প্রদান
ঘ. পুস্তক-পুস্তিকা রচনা ও সংকলনের মাধ্যমে দাওয়াত প্রদান এবং দ্বীন ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটানো।
ঙ. বিশেষ বিশেষ বৈঠক বা মিটিং এ ইসলামের দাওয়াত প্রদান। যেমন: বিশেষ কোন উপলক্ষে কোন স্থানে কিছু মানুষ যদি একত্র হয়ে বসে, উদাহরণস্বরূপ কোন নেমন্ত্রণে, তবে সেখানেও আল্লাহ্‌র দিকে মানুষকে আহ্বান করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে এমনভাবে দাওয়াত দিতে হবে যাতে উপস্থিত লোকজনের মনে বিরক্তি ও অনীহার উদ্রেক না হয়। এ ধরনের পরিবেশে দাওয়াত দেওয়ার একটি জুতসই ও সুন্দর পদ্ধতি হচ্ছে, দাঈ একটি শিক্ষণীয় বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করবেন যাতে মজলিসে উপস্থিত লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়, অতঃপর মূল আলোচনা শুরু করবেন। আর এটা জানা কথা যে, মহান আল্লাহ্‌ তাঁর নবী (সাঃ) এর উপর যা নাযিল করেছেন তা নিজে বুঝা এবং অপরকে বুঝানোর ক্ষেত্রে আলোচনা-পর্যালোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি বিরাট ভূমিকা রাখে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা মুক্ত ও গতানুগতিক ওয়াজ-নসীহত, ভাষণ-বক্তৃতা থেকেও অনেক বেশি কার্যকরী হয়ে থাকে।
আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করা হচ্ছে নাবী-রাসূলদের কাজ এবং তাঁদের অতি উত্তম অনুসারীদের অনুসৃত পথ। কাজেই যখন কোন মানুষ মহান আল্লাহর অপার করুণা এবং হিদায়াত লাভ করে তার মা'বৃদ, তার নাবী এবং তার দ্বীনকে চিনতে ও জানতে পারে, তখন তার জন্য উচিত হবে তার ভাইদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করার মাধ্যমে তাদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করা। আর এর মাধ্যমে এই মর্মে সুসংবাদ গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকা যে, খায়বার যুদ্ধের দিন রাসূল (ﷺ) আলী (রাঃ)-কে বলেছিলেনঃ
انْفُذُ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ وَأَخْبِرُهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ مِنْ حَقِّ اللَّهِ فِيْهِ فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ
'তুমি বর্তমান অবস্থায়ই তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে হাজির হও, এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করো, আল্লাহর অধিকার প্রদানে তাদের প্রতি যে দায়িত্ব বর্তায় সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত কর। কারণ আল্লাহর কসম! তোমার দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্ যদি মাত্র একজন মানুষকেও হিদায়াত দেন তাহলে তা তোমার জন্য লাল রঙের (মূল্যবান) উটের[৭৩] মালিক হওয়ার চেয়েও উত্তম হবে'।[৭৪]
সাহীহ মুসলিমের এক হাদীসে রাসূল (ﷺ) বলেছেন:
مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنْ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ, لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا, وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْئًا
'যে ব্যক্তি সঠিক পথের দিকে ডাকে, তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য পরিমাণ ঘাটতিও হবে না। আর যে ব্যক্তি বিভ্রান্তির দিকে ডাকে, তার উপর সেই রাস্তার অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে। এতে তাদের পাপরাশি সামান্য পরিমাণও হালকা করা হবে না।[৭৫]
সাহীহ মুসলিমের অপর হাদীসে তিনি বলেনঃ
مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرٍ فَاعِلِهِ
'যে ব্যক্তি কোন ভাল আমলের পথ প্রদর্শন করে, তার জন্যে আমলকারীর সমান সওয়াব রয়েছে।'[৭৬]

টিকাঃ
[৭০] সূরা আন্-নাহল ১৬: ১২৫
[৭১] সূরা আন্-আনকাবুত ২৯: ৪৬
[৭২] সূরা ইউসুফ ১২: ১০৮
[৭৩] আরবীয় উটের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, অভিজাত, আকর্ষণীয় ও মূল্যবান উট হচ্ছে লাল রঙের উট。
[৭৪] বুখারী হা/৪২১০; মুসলিম হা/২৪০৬; আবূ দাউদ হা/৩৬৬১; মিশকাত হা/৬০৮৯。
[৭৫] সহীহ মুসলিমঃ হা/৬৬৯৭, আবু দাউদ হা/৪৬০৯; তিরমিযী হা/২৬৭৪; ইবনু মাজাহ হা/২০৬
[৭৬] সহীহ মুসলিমঃ হা/৪৭৯৩, আবু দাউদ হা/৫১২৯; তিরমিযী হা/২৬৭১; মিশকাত হা/২০৬

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 ইলমের কারণে আপতিত দুঃখ-কষ্টে সবর করা

📄 ইলমের কারণে আপতিত দুঃখ-কষ্টে সবর করা


ইলমের কারণে আপতিত দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যধারণ: ধৈর্য হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যের উপর নাক্সকে অটল ও অবিচল রাখা, আত্মাকে আল্লাহর নাফরমানী থেকে বিরত রাখা এবং একে আল্লাহর ফায়সালা সমূহের ব্যাপারে ক্রোধান্বিত, অসন্তুষ্ট বা বিরক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা। দ্বীনের দাওয়াতের কাজে যতই কষ্ট-যন্ত্রণা আপতিত হোক না কেন, আল্লাহ্ দিকে আহ্বানকারীকে সর্বাবস্থায় আগ্রহী ও প্রাণবন্ত হয়ে দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কেননা কল্যাণ ও মঙ্গলের দিকে যারা আহ্বান করে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে মানুষের স্বভাব, তবে যাদেরকে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করেছেন, তারা অবশ্যই তা করে না। আল্লাহ্ তাঁর নাবী (ﷺ) কে সম্বোধন করে বলেছেনঃ
وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِن قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا
“তোমার পূর্বেও রসূলগণকে মিথ্যে মনে করা হয়েছে কিন্তু তাদেরকে মিথ্যে মনে করা এবং কষ্ট দেয়া সত্ত্বেও তারা ধৈর্যধারণ করেছে, যতক্ষণ না তাদের কাছে আমার সাহায্য এসেছে। আল্লাহর ওয়াদার পরিবর্তন হয় না, নাবীগণের কিছু সংবাদ তো তোমার নিকট পৌঁছেছেই।”[৭৭]
দ্বীনের দাওয়াতের কাজে কষ্ট-যন্ত্রণা যত বেশি মারাত্মক হবে আল্লাহর সাহায্য ততই নিকটবর্তী হবে। আল্লাহর সাহায্য কেবল এভাবে নির্দিষ্ট নয় যে, তিনি কোন মানুষকে তার জীবদ্দশাতেই সাহায্য করবেন এবং সে তার দাওয়াতের প্রতিক্রিয়া ও বাস্তব প্রতিফলন নিজের জীবদ্দশাতেই দেখে যেতে পারবে। বরং তা এভাবে যে, দাঈ যে বিষয়ের প্রতি মানুষকে আহ্বান করে গেছেন তার মৃত্যুর পর আল্লাহ্ মানুষের অন্তরে সে বিষয়টি গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে দিবেন, ফলে মানুষ সেটাকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা অনুসরণ করবে। এটাও এই দাঈর প্রতি মহান আল্লাহ্র একপ্রকার সুস্পষ্ট অনুগ্রহ ও সাহায্য হিসেবে গণ্য হবে, যদিও ইতোমধ্যে দাঈ মৃত্যুবরণ করে থাকেন। তাই দাঈর জন্য কর্তব্য ও করণীয় হলো ধৈর্য সহকারে দ্বীনের দাওয়াতের কাজ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়া, আল্লাহর দ্বীনের দিকে মানুষকে আহ্বানের পথে ধৈর্য ধারণ করা এবং সকল প্রকার বাধা-বিপত্তি, প্রতিবন্ধকতা ও দুঃখ-কষ্টকে ধৈর্য সহকারে মোকাবেলা করে দাওয়াতের কাজে অটল ও অবিচল থাকা। নাবী-রাসূলগণ দ্বীনের দাওয়াতের কাজে প্রতিপক্ষের কথা ও কাজের দ্বারা শারীরিক ও মানসিকভাবে কত দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণাই না ভোগ করেছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
كَذَلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ مِّن رَّسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مجنون
“এভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রাসূল এসেছেন তখনই তারা তাঁকে বলেছে, এ তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!”[৭৮]
তিনি আরো বলেন:
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِي عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ
"আর এভাবেই আমরা প্রত্যেক নাবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়ে থাকি"।[৭৯]
কাজেই দাঈর কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহ্র দ্বীনের কাজে সকল বাধা-বিপত্তি, দুঃখ-কষ্ট ও নির্যাতন ধৈর্যের সাথে মুকাবিলা করা। দেখুন! মহান আল্লাহ্ তাঁর নাবী মুহাম্মাদ () কে সম্বোধন করে বলেছেন:
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ تَنْزِيلًا
"নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি ধাপে ধাপে।”[৮০]
মানবীয় বিবেচনায় এই আয়াতের পর ‘অতএব আপনি আপনার মহান প্রতিপালকের নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করুন’ এমন কোন অর্থবোধক আয়াত নাযিল হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু দেখা যায়, পরবর্তী আয়াতে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبُّكَكَ
"কাজেই আপনি ধৈর্যের সাথে আপনার রবের নির্দেশের প্রতীক্ষা করুন।"[৮১]
এই আয়াতে থেকে একটি কথার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তা হলো, যে ব্যক্তি কুরআন মাজীদের দাওয়াত ও খিদমতে নিয়োজিত হবে, তাকে এমন অনেক কিছুর মুকাবিলা করতে হবে যাতে প্রচুর ধৈর্যশক্তির প্রয়োজন।
রাসূল (ﷺ) এর অবস্থার প্রতি একটু দৃষ্টিপাত করুন! তাঁকে যখন তাঁর গোত্রের লোকেরা মেরে রক্তাক্ত করলো, তখন তিনি তাঁর চেহারা থেকে রক্ত মুছতে মুছতে আল্লাহ্র সমীপে দু'আ করলেন,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
‘হে আল্লাহ্! আপনি আমার জাতিকে ক্ষমা করে দিন। কেননা তারা এমন এক জাতি যারা জানে না (অজ্ঞ)’।[৮২]
সুতরাং দাঈকে অবশ্যই ধৈর্যশীল এবং আল্লাহ্র নিকট থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান লাভের আশাবাদী হতে হবে।

টিকাঃ
[৭৭] সূরা আল-আনআম ঃ ৩৪
[৭৮] সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫২
[৭৯] সূরা আল-ফুরকান ২৫: ৩১
[৮০] সূরা আল-ইনসান (দাহর) ৭৬: ২৩
[৮১] সূরা আল-ইনসান (দাহর) ৭৬: ২৪
[৮২] সহীহ বুখারী: হা/৩৪৭৭, মুসলিম হা/১৭৯২; ইবনু মাজাহ হা/৪০২৫; মিশকাত হা/৫৩১৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00