📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 মহান আল্লাহকে জানা

📄 মহান আল্লাহকে জানা


মহান আল্লাহকে জানা: অন্তর দিয়ে আল্লাহকে এমনভাবে জানা বা তাঁর পরিচয় লাভ করা, যা তাঁর হুকুম-আহকামকে গ্রহণ করতে, সেগুলোর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল হতে এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিয়ে আসা শারীআতকে চূড়ান্ত বিধান হিসেবে মেনে নিয়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় তা বাস্তবায়নে বাধ্য করে। কুরআন মাজীদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ ও রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহ হতে এবং সৃষ্টিজগতের পরতে পরতে থাকা মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে বান্দা তাঁর মহান প্রতিপালক সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করবে। মানুষ এ সকল নিদর্শন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই, তখনই মহান সৃষ্টিকর্তা ও একমাত্র মা'বূদ সম্পর্কে তার জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে এবং সে আরো বেশি মহান আল্লাহ্র পরিচয় লাভে সক্ষম হবে।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করছেন:
وَفِي الْأَرْضِ أَيْتُ لِلْمُوقِنِينَ وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
“যমীনে রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শন এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও। তাহলে কেন তোমরা দেখ না?”[৫৯]

টিকাঃ
[৫৯] সূরা আয-যারিয়াত ৫১: ২০-২১

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 তাঁর নাবী (ﷺ) কে জানা

📄 তাঁর নাবী (ﷺ) কে জানা


তাঁর নাবী (র) কে জানা: আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কে এমনভাবে চেনা ও জানা, যা তাঁর নিয়ে আসা হেদায়াত হতে সরল-সঠিক পথ ও সত্য ধর্মকে গ্রহণ করতে, আল্লাহর তরফ থেকে তিনি যে সকল বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন সেক্ষেত্রে তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করতে, তিনি যেসব বিষয় আদেশ করেছেন সেগুলো যথাযথভাবে পালন করতে, তিনি যা কিছু থেকে নিষেধ করেছেন সেগুলোকে পরিহার ও বর্জন করতে, তাঁর শারিয়াত অনুযায়ী শাসন করতে এবং তাঁর আদেশের প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে অন্তরকে অনুপ্রাণিত ও বাধ্য করে তোলে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
فَلَا رَبُّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
"অতএব আপনার পালনকর্তার শপথ! তারা কখনোই ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে এবং এরপর আপনার মিমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা না রাখে এবং তারা তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেয়।"[৬০]
অন্য আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে:
إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
“মু’মিনদের উক্তি তো এটাই, যখন তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করে দেয়ার জন্য তাদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। আর তারাই হলো সফলকাম।”[৬১]
মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন:
يَايُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَأَنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
“হে ঈমাদারগণা তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর, আরও আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীলদের। অতঃপর কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসূলের নিকট, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান এনে থাক। এ পন্থাই উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর।”[৬২] অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন:
لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذَا فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”[৬৩]
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল [রহ.] বলেন: 'তুমি কি জানো ফিতনা কী? ফিতনা হচ্ছে শির্ক। কেননা যখনই কোন ব্যক্তি আল্লাহ্ কিংবা তাঁর রাসূলের নির্দেশের কোন অংশকে প্রত্যাখ্যান করবে, তখনই তাঁর অন্তরে গোমরাহি বা ভ্রষ্টতা নিপতিত হবে এবং এটা তাকে ধ্বংস করে দিবে'।

টিকাঃ
[৬০] সূরা আন্-নিসা' ৪: ৬৫
[৬১] সূরা আন্-নূর ২৪: ৫১
[৬২] সূরা আন্-নিসা' ৪ : ৫৯
[৬৩] সূরা আন্-নূর ২৪ : ৬৩

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 তাঁর দ্বীন বা জীবনব্যবস্থাকে জানা

📄 তাঁর দ্বীন বা জীবনব্যবস্থাকে জানা


তাঁর দ্বীন বা জীবনব্যবস্থাকে জানা: সাধারণ অর্থে ইসলাম হলো আল্লাহ্ ইবাদাত ঠিক সেভাবে করা, আমাদের জন্য যেভাবে আল্লাহ্ প্রথম রসূল পাঠানো থেকে শুরু করে কিয়ামাহ পর্যন্ত শারীআহ্ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
আর এই অর্থে কুরআন মাজীদে আল্লাহ্র বর্ণিত অসংখ্য আয়াত প্রমাণ করে যে, পূর্বের আসমানী ধর্মগুলো প্রকৃতপক্ষে ইসলাম তথা মহান আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণের ধর্ম ছিল। কুরআন মাজীদে ইবরাহীম মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেনঃ
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمَنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةٌ مُسْلِمَةٌ لَكَ
“হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর থেকে আপনার এক অনুগত জাতি তৈরি করুন।”[৬৪]
বিশেষ অর্থে ইসলাম হলো, সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (ﷺ) কে আল্লাহ্ যে দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তাঁর আগমনের পর থেকে ‘ইসলাম’ বলতে কেবল এই ধর্মকেই বুঝায়। কেননা মুহাম্মদ (ﷺ) কে যে ধর্ম দিয়ে পাঠানো হয়েছে তা তাঁর পূর্ববর্তী সকল ধর্মকে রহিত করে দিয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি এই সর্বশেষ নবীর অনুসরণ করবে সে-ই কেবল মুসলিম বলে গণ্য হবে এবং যে তাঁর বিরোধিতা করবে সে অবশ্যই মুসলিম বলে গণ্য হবে না। প্রত্যেক রাসূলের অনুসারীরা তাদের নবী বা রাসূলের যুগে মুসলিম বলে গণ্য ছিলেন। যেমনঃ ইহুদীরা নবী মূসা (আঃ) এর যুগে মুসলিম ছিল এবং নাসারাগণ নবী ঈসা (আঃ) এর যুগে মুসলিম ছিল। কিন্তু যখন নবী মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হলেন এবং তারা তাঁকে অস্বীকার করল, তাই তারা অমুসলিম বলে পরিগণিত হল।
এই দ্বীন ইসলাম হচ্ছে মহান আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা, যা এর অনুসারীদের কল্যাণকর। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ
“আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন হচ্ছে ইসলাম।”[৬৫]
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেনঃ
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। "[৬৬]
আমাদের এই ইসলাম হচ্ছে সেই ইসলাম যা দ্বারা মহান আল্লাহ্ মুহাম্মাদ (ﷺ) কে এবং তাঁর উম্মতের প্রতি অশেষ দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন:
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পন্ন করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদেরকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করে দিলাম। ”[৬৭]

টিকাঃ
[৬৪] সূরা আল-বাকারাহ ২ঃ ১২৮
[৬৫] সূরা আলে ইমরান ৩ঃ ১৯
[৬৬] সূরা আলু ইমরান ৩:৮৫
[৬৭] সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00