📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 ইদরাক বা জানার স্তরসমূহ

📄 ইদরাক বা জানার স্তরসমূহ


ইদরাক বা জানার স্তরসমূহ: আর এই জানার স্তর হলো ৬টি:
ক. (العلم) ইল্ম: (প্রকৃত জ্ঞান) কোন বিষয় যেভাবে আছে তাকে সেভাবে নিশ্চিতভাবে জানা।
খ. (الجهل البسيط) জালুল বাসীত: (সম্পূর্ণ অজ্ঞতা) অর্থাৎ কোন বিষয় সম্পর্কে আদৌ কোন কিছু না জানা।
গ. (الجهل المركب) জালুল মুরাক্কাব: (ভ্রান্ত ধারণাকেই সত্য মনে করা) কোন কিছুর এমন দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝ যা প্রকৃত জ্ঞানের বিপরীত। (এতদসত্ত্বেও জাহলুল মুরাকাব্বাসম্পন্ন ব্যক্তি নিজেকেই সঠিক মনে করে)
ঘ. (الوهم) আল-ওয়াহম: (প্রসিদ্ধ মতের বিপরীত ধারণা) এমন কোন বুঝ, যার বিপরীত কোন অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত থাকার সম্ভাবনাও আছে।
ঙ. (الشك) আশ শাক: (সন্দেহ) এমন কোন বুঝ যার বিপরীত কোন অধিকতর গ্রহণযোগ্য কিংবা কম গ্রহণযোগ্য উভয়প্রকার মত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
চ. (الظن) আয-যন্ত্র: (প্রবল সুধারণা) এমন কোন বুঝ, যার বিপরীত কোন কম গ্রহণযোগ্য মত থাকার সম্ভাবনাও আছে।

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 ইলম এর প্রকারভেদ

📄 ইলম এর প্রকারভেদ


ইলম এর প্রকারভেদ: ইলম বা জ্ঞান ২ প্রকার:
ক. (الضروري) যরূরী: আর তা হচ্ছে এমন জ্ঞান যা জরুরিয়‍্যাতের ভিত্তিতে লব্ধ, অর্থাৎ এমন জ্ঞান যা কোন প্রকার গবেষণা বা দলিলপ্রমাণ ব্যতীতই আমরা গ্রহণ করতে বাধ্য হই। উদাহরণস্বরূপ আগুনের উত্তাপ।
খ. (النظري) নযরী: আর তা হচ্ছে যা অর্জন করতে গবেষণা বা দলিলপ্রমাণের প্রয়োজন হয়। যেমন: ওযুর জন্য নিয়ত করা ওয়াজিব কিনা তা জানা।

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 মহান আল্লাহকে জানা

📄 মহান আল্লাহকে জানা


মহান আল্লাহকে জানা: অন্তর দিয়ে আল্লাহকে এমনভাবে জানা বা তাঁর পরিচয় লাভ করা, যা তাঁর হুকুম-আহকামকে গ্রহণ করতে, সেগুলোর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল হতে এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিয়ে আসা শারীআতকে চূড়ান্ত বিধান হিসেবে মেনে নিয়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় তা বাস্তবায়নে বাধ্য করে। কুরআন মাজীদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ ও রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহ হতে এবং সৃষ্টিজগতের পরতে পরতে থাকা মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে বান্দা তাঁর মহান প্রতিপালক সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করবে। মানুষ এ সকল নিদর্শন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই, তখনই মহান সৃষ্টিকর্তা ও একমাত্র মা'বূদ সম্পর্কে তার জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে এবং সে আরো বেশি মহান আল্লাহ্র পরিচয় লাভে সক্ষম হবে।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করছেন:
وَفِي الْأَرْضِ أَيْتُ لِلْمُوقِنِينَ وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
“যমীনে রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শন এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও। তাহলে কেন তোমরা দেখ না?”[৫৯]

টিকাঃ
[৫৯] সূরা আয-যারিয়াত ৫১: ২০-২১

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 তাঁর নাবী (ﷺ) কে জানা

📄 তাঁর নাবী (ﷺ) কে জানা


তাঁর নাবী (র) কে জানা: আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কে এমনভাবে চেনা ও জানা, যা তাঁর নিয়ে আসা হেদায়াত হতে সরল-সঠিক পথ ও সত্য ধর্মকে গ্রহণ করতে, আল্লাহর তরফ থেকে তিনি যে সকল বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন সেক্ষেত্রে তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করতে, তিনি যেসব বিষয় আদেশ করেছেন সেগুলো যথাযথভাবে পালন করতে, তিনি যা কিছু থেকে নিষেধ করেছেন সেগুলোকে পরিহার ও বর্জন করতে, তাঁর শারিয়াত অনুযায়ী শাসন করতে এবং তাঁর আদেশের প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে অন্তরকে অনুপ্রাণিত ও বাধ্য করে তোলে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
فَلَا رَبُّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
"অতএব আপনার পালনকর্তার শপথ! তারা কখনোই ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে এবং এরপর আপনার মিমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা না রাখে এবং তারা তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেয়।"[৬০]
অন্য আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে:
إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
“মু’মিনদের উক্তি তো এটাই, যখন তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করে দেয়ার জন্য তাদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। আর তারাই হলো সফলকাম।”[৬১]
মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন:
يَايُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَأَنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
“হে ঈমাদারগণা তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর, আরও আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীলদের। অতঃপর কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসূলের নিকট, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান এনে থাক। এ পন্থাই উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর।”[৬২] অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন:
لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذَا فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”[৬৩]
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল [রহ.] বলেন: 'তুমি কি জানো ফিতনা কী? ফিতনা হচ্ছে শির্ক। কেননা যখনই কোন ব্যক্তি আল্লাহ্ কিংবা তাঁর রাসূলের নির্দেশের কোন অংশকে প্রত্যাখ্যান করবে, তখনই তাঁর অন্তরে গোমরাহি বা ভ্রষ্টতা নিপতিত হবে এবং এটা তাকে ধ্বংস করে দিবে'।

টিকাঃ
[৬০] সূরা আন্-নিসা' ৪: ৬৫
[৬১] সূরা আন্-নূর ২৪: ৫১
[৬২] সূরা আন্-নিসা' ৪ : ৫৯
[৬৩] সূরা আন্-নূর ২৪ : ৬৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00