📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 শারহু ছালাছাতিল উছুল

📄 শারহু ছালাছাতিল উছুল


بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহ্র নামে', যিনি আর-রহমান এবং আর- রহীম।

'বিসমিল্লাহ' এর ব্যাখ্যা: গ্রন্থকার তাঁর কিতাব শুরু করেছেন 'বিসমিল্লাহ' এর মাধ্যমে, যেমনটি 'বিসমিল্লাহ' দ্বারা শুরু হয়েছে মহান আল্লাহ্র কিতাব। এক্ষেত্রে তিনি যে হাদীস্ব অনুসরণ করেছেন তা হলো: كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيْهِ بِبِسْمِ اللَّهِ فَهُوَ أَبْتَرُ 'প্রত্যেকটি কাজ যার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা হয় না, তা বরকতহীন'।[৫৬] রাসূল () এর পদ্ধতিও ছিল এমনটি, যখন তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করতেন তখন তিনি বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করতেন।
(বাক্যটির অর্থ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য একটি অংশ অব্যক্ত রয়ে গেছে) আরবী বাক্যটিতে জার ও মাজরুর অপ্রকাশিত বিলম্বিত ক্রিয়াপদের দিকে নির্দেশ করে যা সহ বাক্যটির পরিপূর্ণ অর্থ হলো: 'আল্লাহর নামে লেখা বা রচনা শুরু করছি'। যেহেতু কাজ সম্পাদনের জন্য ক্রিয়াপদ জরুরি, তাই অব্যক্ত অংশটি হলো একটি فعل (ক্রিয়াপদ) (আমি লিখা শুরু করছি)। আর এই ক্রিয়াপদটিকে ধারণা করতে হবে বিলম্বিত আকারে মূলতঃ দু'টি কারণে:
ক. আল্লাহর নামে শুরু করার মাধ্যমে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করা, যিনি সুউচ্চ এবং সকল প্রকার অপূর্ণতা থেকে মুক্ত।
খ. সীমা নির্ধারণ অর্থাৎ সম্পর্কযুক্ত বিষয়কে শুরুতে উল্লেখ করলে তা মূল বক্তব্যের একটি সীমা নির্ধারণ করে দেয়। [অর্থাৎ শুধু আল্লাহর নামেই শুরু করছি, আর কারো নামে নয়।]
কাজেই বাক্যটির পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশের জন্য আমরা একে এভাবে উল্লেখ করেছি। উদাহরণস্বরূপ যদি আমরা কোন বই পড়তে উদ্যত হই এবং এতে বলা হয় 'আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি', সে ক্ষেত্রে আমরা জানি না কি শুরু করছি। কিন্তু যদি বলা হয় 'আল্লাহর নামে আমি পড়তে শুরু করছি', তাহলে এতে আর কোন প্রকার সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

মহান আল্লাহর পরিচয়: 'আল্লাহ্' হলো সেই একক সত্ত্বার নাম যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু সাজিয়েছেন, যিনি মহামান্যিত ও সর্বোচ্চ। 'আল্লাহ্' হলো সেই নাম যাকে তাঁর অন্যান্য সকল নাম অনুসরণ করে। যেমন তিনি বলেছেন:
كِتُبْ أَنْزَلْتُهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبُّكُهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَواتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ
"আলিফ লাম-রা। এই কিতাব আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে করে আপনি মানব জাতিকে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে বের করে আনতে পারেন অন্ধকার থেকে আলোকের দিকে; পরাক্রমশালী, সর্বপ্রশংসিতের পথে। আল্লাহ- আসমানসমূহে যা কিছু আছে আর পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তাঁর মালিকানাধীন।"*

টিকাঃ
[৫৬] এ হাদীসটি আল জামে' আস সাগীর লির রাহাউয়ী ৪/১৪৭ ও খাতীব আল বাগদাদীর আল জামে' ২/৬৯ গ্রন্থেও বিদ্যমান। [আবূ দাউদ ৪৮৪০) ইবনু মাজাহ ১৮৯৪), সুনান নাসাঈ আল কুবরা ১০৩২৮), আল আযকার লি ইমাম নাবাবী ১৪৯)]। এ হাদিসটির ব্যাপারে শায়খ আল আল্লামাহ্ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমীন বলেন, "এ হাদিসটি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে হাদীস্ত্রবিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত রয়েছে। উলামাদের মধ্যে ইমাম আন নাবাবী একে সহীহ বলেছেন ও এর উপর নির্ভর করেছেন। পক্ষান্তরে কেউ কেউ একে যঈফ বলেছেন। কিন্তু এ হাদিসটিকে আলিমগণ সকলে গ্রহণ করেছেন ও তাদের নানা গ্রন্থে তা অন্তর্ভুক্ত করেছেন এই ভেবে যে এ হাদিসটির সঠিক মূল হাদিস রয়েছে।" - শাইখের কিতাবুল ইলম গ্রন্থের ব্যাখ্যা থেকে। ফাহাদ বিন নাসির বিন ইবরাহীম আস-সুলাইমান এর বক্তব্য)। এ হাদীস্বটিকে মুহাদ্দিস আল আল্লামাহ্ শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী তাঁর 'ইরওয়াউল গালীল' গ্রন্থে হা/১) খুবই দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। এই হাদীসের একজন রাবী কুররা বিন আবদুর রহমান হুওয়াইল আল মাআফিরী সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের অভিযোগ রয়েছে। তথাপি বিসমিল্লাহ দ্বারা কোন কাজ শুরু করার অসংখ্য উদাহরণ অন্যান্য হাদীসেও বিদ্যমান। যদিও হাদীস্মটিতে কিছু শাব্দিক পরিবর্তন হয়ে বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। যেমন: كل أمر ذي بال لا يُبدأُ بالحمد لله فهو أقطع، وفي رواية: بالحمد فهو أقطع، وفي رواية: كُل كلام لا يُبدأُ فيه بالحمد لله فَهُوَ أَجدَّمُ، وَفي رواية: كُلُّ أَمْرٍ ذي بال لا يَبْدَأُ فيه ببسم اللهِ الرَّحمنِ الرَّحِيمِ فَهُوَ أَقطع
* সূরা ইবরাহীম ১৪: ১-২

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 সবরের প্রকারভেদ

📄 সবরের প্রকারভেদ


সবরের প্রকারভেদ: ধৈর্য ৩ প্রকারঃ
ক. আল্লাহ্র আনুগত্য করার জন্য ধৈর্য ধারণ
খ. আল্লাহ্ কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকার জন্য ধৈর্য ধারণ
গ. তাকদীর তথা আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত বিষয়াদি যা তিনি কার্যকর করে থাকেন, সেগুলোর উপর ধৈর্য ধারণ
মহান আল্লাহ্ তাঁর নির্ধারিত যেসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করে থাকেন সেগুলো দুই রকমের হয়ে থাকে: কিছু আছে যেগুলোতে মানুষের কোন হাত নেই। আবার কিছু আছে যেগুলো আল্লাহ্ তাঁর কোন বান্দার মাধ্যমে ঘটিয়ে থাকেন, যেমন: যুলম-অত্যাচার, ক্ষতিসাধন ইত্যাদি।

📘 সালাসাতুল উসুল > 📄 সূরাতুল আসর এর তাফসীর

📄 সূরাতুল আসর এর তাফসীর


সূরাতুল আস্ত্র এর তাফসীর: উল্লিখিত চার স্তর সম্পর্কিত প্রমাণ হল সূরা আস্ত্র। এই সূরায় মহান আল্লাহ্ الْعَصْرِ (আল আসর) শব্দ দ্বারা কসম করেছেন, যা হচ্ছে সময়। সময় হল নানা ঘটনা ঘটার স্থল যাতে ভাল-মন্দ সব ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। এ কারণে আল্লাহ্ সময়ের শপথ করে বলেছেন যে, সকল মানুষই ক্ষতির মাঝে রয়েছে। তবে যারা এই ৪টি গুণে গুণান্বিত হবে, তারা উপরোল্লিখিত ক্ষতির আওতাধীন নয়। এই ৪টি গুণ হচ্ছে যথাক্রমেঃ
ক. ঈমান
খ. নেক আমল
গ. সত্যের উপদেশ প্রদান
ঘ. ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের উপদেশ প্রদান
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম [রঃ] বলেছেন: 'নাফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদের ৪টি স্তর বা পর্যায় রয়েছে। যথাঃ
ক. হিদায়াত এবং সত্য ধর্ম, যা ব্যতীত ইহকাল ও পরকালে শান্তি ও সফলতা অর্জন করা আদৌ সম্ভবপর নয়, তা জানার জন্য নাফসের সাথে জিহাদ।
খ. সঠিক পথ ও সত্য ধর্মকে জানার পর সে অনুযায়ী আমল করার জন্য নাফসের সাথে জিহাদ।
গ. সঠিক পথ ও সত্য ধর্মের দিকে মানুষকে আহ্বান করা এবং যারা এ সম্পর্কে জানে না তাদেরকে তা শিক্ষা প্রদানের কাজে নাফসের সাথে জিহাদ করা।
ঘ. আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বানের কাঠিন্যতা ও সৃষ্টি জগত কর্তৃক অত্যাচার-নির্যাতনে ধৈর্য ধারণের জন্য নাফসের সাথে জিহাদ করা। দাঈকে এই সবকিছু করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। যে ব্যক্তি এই ৪টি গুণে পরিপূর্ণরূপে গুণান্বিত হয়ে যাবে, সে আল্লাহ্ ওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
এই সূরায় মহান আল্লাহ্ যুগের শপথ করে বলেছেন যে, প্রতিটি মানুষ, তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি যত বেশিই হোক না কেন কিংবা সে যতই উচ্চ পর্যায়ের ও মান-মর্যাদার অধিকারী হোক না কেন, তথাপি সে ক্ষতির মাঝে নিপতিত। তবে যারা ৪টি গুণে সামগ্রিকভাবে গুণান্বিত, তারা নয়। এই ৪টি গুণ হলো:
ক. ঈমান: যে সব বিশুদ্ধ আকীদাহ্ ও বিশুদ্ধ ইল্ম দ্বারা মানুষ তার মহান প্রতিপালকের নৈকট্য অর্জন করতে পারে সে সবকিছুই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
খ. নেক আমল: আর তা হচ্ছে এমন প্রতিটি কথা ও কাজ, যা দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। আর তা তখনই সম্ভব যখন আমল সম্পাদনকারী ব্যক্তি তার প্রতিটি কথা ও কাজে মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হবে এবং রাসূল (ﷺ) এর যথাযথ অনুসারী হবে (সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করবে)।
গ. হকের (সত্যের) উপদেশ প্রদান: আর তা হলো পরস্পর ভাল কাজের উপদেশ দেওয়া, ভাল কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং ভাল কাজের প্রতি একে অপরকে উৎসাহ যোগানো।
ঘ. ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের উপদেশ প্রদান: আর তা হচ্ছে একে অপরকে আল্লাহর যাবতীয় আদেশসমূহ ধৈর্য সহকারে পালন করা, তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে ধৈর্য সহকারে পরিহার করা এবং আল্লাহর তাকদীর বা নির্ধারিত বিষয়াদিকে ধৈর্য সহকারে মেনে নেওয়ার উপদেশ প্রদান করা।
এখানে পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া বলতে ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করাকে বুঝানো হয়েছে। এই দু'টি বিষয়ের উপরই মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, উম্মতের জন্য আল্লাহর সাহায্য, সম্মান অর্জন ও উম্মতের সমৃদ্ধি রয়েছে।

টিকাঃ
[৮৩] সূরা আল-আস্ত্র ১০৩: ১-৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00