📄 ‘ছালাছাতুল উছুল মূল মাতান ও তার বঙ্গানুবাদ
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহ্ নামে, যিনি আর-রহমান এবং আর-রহীম।
اعْلَمُ رَحِمَكَ اللَّهُ أَنَّهُ يَجِبُ عَلَيْنَا تَعَلَّمُ أَرْبَعِ مَسَائِلَ
الأُولَى الْعِلْمُ، وَهُوَ مَعْرِفَةُ اللهِ، وَمَعْرِفَةُ نَبِيِّهِ، وَمَعْرِفَةُ دِينِ الإِسْلامِ بِالْأَدِلَّةِ
জেনে রাখুন! আল্লাহ্ আপনাকে রহম করুন, আমাদের জন্য ওয়াজিব হচ্ছে চারটি বিষয়ের জ্ঞানার্জন।
প্রথমত: ইলম্ (জ্ঞান), আর তা হলো মহান আল্লাহ্, তাঁর নাবী এবং দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে দালীলভিত্তিক জ্ঞানার্জন।
الثَّانِيَةُ : الْعَمَلُ بِهِ
الثَّالِثَةُ: الدَّعْوَةُ إِلَيْهِ
الرَّابِعَةُ : الصَّبْرُ عَلَى الْأَذَى فِيهِ
দ্বিতীয়ত: এই ইল্ম অনুযায়ী আমল করা।
তৃতীয়ত: এর প্রতি মানুষকে আহ্বান করা।
চতুর্থত: এতে দুঃখ-যাতনায় ধৈর্যধারণ করা।
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ، وَالْعَصْرِةُ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرهُ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
আর দলীল মহান আল্লাহ্ বাণী: "কালের শপথ। মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে (ডুবে) আছে। কিন্তু তারা নয় যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়।"[২]
قَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: لَوْ مَا أَنْزَلَ اللهُ حُجَّةً عَلَى خَلْقِهِ إِلَّا هَذِهِ السُّورَةَ لَكَفَتْهُمْ
وَقَالَ الْبُخَارِيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: بَابٌ: الْعِلْمُ قَبْلَ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: فَاعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرُ لِذَنْبِكَ فَبَدَأَ بِالْعِلْمِ قَبْلَ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ
ইমাম শাফেঈ[১] বলেছেন: যদি মহান আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টিকুলের প্রতি কেবল এই সূরা ব্যতীত আর অন্য কোন দালীল নাযিল না করতেন তবে এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো।
ইমাম বুখারী[২] বলেছেন: 'অধ্যায়: কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান'। আর দালীল আল্লাহ্ তাআলার বাণী: “কাজেই জেনে রেখ, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার ভুলত্রুটির জন্য।"[৩] সুতরাং আল্লাহ্ কথা ও কাজের পূর্বে ইল্মের উল্লেখ করে শুরু করেছেন।
اعْلَمُ رَحِمَكَ اللهُ أَنَّهُ يَجِبُ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَمُسْلِمَةٍ تَعَلَّمُ الثَّلَاثِ هَذِهِ الْمَسَائِلِ وَالْعَمَلُ بِهِنَّ
الأُولَى: أَنَّ اللَّهَ خَلَقَنَا وَرَزَقَنَا وَلَمْ يَتْرُكْنَا هَمَلًا، بَلْ أَرْسَلَ إِلَيْنَا رَسُولًا
জেনে রাখুন! আল্লাহ্ আপনার উপর রহম করুন, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর নিন্মলিখিত ৩টি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা এবং তদানুযায়ী আমল করা ওয়াজিব। প্রথমটি: মহান আল্লাহ্ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের রিষ্ক দিয়েছেন, তিনি আমাদেরকে অনর্থক ছেড়ে দেননি; বরং তিনি আমাদের প্রতি রাসূল প্রেরণ করেছেন।
فَمَنْ أَطَاعَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَاهُ دَخَلَ النَّارَ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى : إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمُ رَسُولًا شَاهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَا ارْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولًا فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ فَأَخَذْتُهُ أَخْذَا وَبِيلًا
অতএব কেউ তাঁর আনুগত্য করলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তাঁর অবাধ্য হলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর দালীল আল্লাহর বাণী:
"আমি তোমাদের কাছে তেমনিভাবে একজন রসূলকে তোমাদের প্রতি সাক্ষ্যদাতা হিসেবে পাঠিয়েছি (যিনি কিয়ামাতে সাক্ষ্য দিবেন যে, দ্বীনের দাওয়াত তিনি যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন) যেমনভাবে আমি ফেরআউনের কাছে পাঠিয়েছিলাম একজন রসূলকে। তখন ফেরাউন সেই রসূলকে অমান্য করল। ফলে আমি তাকে শক্ত ধরায় ধরলাম।"[৪]
الثَّانِيَةُ : أَنَّ اللهَ لَا يَرْضَى أَنْ يُشْرَكَ مَعَهُ أَحَدٌ فِي عِبَادَتِهِ، لَا مَلَكٌ مُقَرَّبٌ وَلَا نَبِي مُرْسَلٌ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَأَنَّ الْمَسْجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا
দ্বিতীয়টি: আল্লাহ্ তাঁর ইবাদাতে কাউকে তাঁর সাথে শরীক করা আদৌ পছন্দ করেন না। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ কোন ফেরেশতা কিংবা তাঁর প্রেরিত কোন নাবীকেও না।
আর দলীল আল্লাহ্র বাণী: “মাসজিদগুলো কেবলমাত্র আল্লাহরই জন্য, কাজেই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য আর কাউকে ডেকো না।"[৫]
الثَّالِثَةُ: أَنَّ مَنْ أَطَاعَ الرَّسُولَ وَوَحَدَ اللهَ لَا يَجُوزُ لَهُ مَوَالَاةُ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، وَلَوْ كَانَ أَقْرَبَ قَرِيبٍ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حاد اللهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَبِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خُلِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولَبِكَ حِزْبُ اللَّهِ إِلَّا إِنَّ حِزْبُ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
তৃতীয়টি:, যে রাসূল (ﷺ) এর আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে একক ও অদ্বিতীয় বলে স্বীকার করে, তার জন্য জায়েয নয় আল্লাহ্ ও রাসূল (ﷺ) এর বিরোধিতাকারীদের কারো সাথে বন্ধুত্ব পোষণ করা। যদিও সে তার নিকটাত্মীয় হয়।
আর দলীল আল্লাহ্র বাণী: "আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায় তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতাকারীদেরকে ভালবাসে- হোক না এই বিরোধীরা তাদের পিতা অথবা পুত্র অথবা তাদের ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠী। আল্লাহ এদের অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন, আর নিজের পক্ষ থেকে কহ দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। ভাদেরকে তিনি দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী-নালা, ভাতে ভারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এরাই আল্লাহর দল; জেনে রেখ, আল্লাহর দলই সাফল্যমন্ডিত।”[৬]
وَبِذَلِكَ أَمَرَ اللَّهُ جَمِيعَ النَّاسِ وَخَلَقَهُمْ لَهَا، كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
وَمَعْنَى يَعْبُدُونَ: يُوَحِّدُونَ
এর দ্বারাই আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে আদেশ করেছেন এবং এ কারণেই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: “আমি জিন ও মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই ইবাদাত করবে।”[৭]
এখানে ‘একমাত্র আমারই ইবাদাতের উদ্দেশ্যে’ এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তাওহীদ (একত্ব) প্রতিষ্ঠা করা।
وَأَعْظَمُ مَا أَمَرَ اللهُ بِهِ: التَّوْحَيْدُ، وَهُوَ إِفْرَادُ اللَّهِ بِالْعِبَادَةِ
আর আল্লাহর আদেশকৃত বিষয়াবলীর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো: তাওহীদ, আর তা হলো, ইবাদাতে আল্লাহকে একক ও অদ্বিতীয় সাব্যস্ত করা।
وَأَعْظَمُ مَا نَهَى عَنْهُ: الشَّرْكُ وَهُوَ دَعْوَةُ غَيْرِهِ مَعَهُ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا
আর যা নিষেধ করেছেন তন্মধ্যে বড় হলো শির্ক। আর তা হলো, তাঁর সাথে অন্য কাউকে ডাকা।
আর দলীল আল্লাহর বাণী: “তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, কিছুকেই তাঁর শরীক করো না।”[৮]
الأصل الأول
فَإِذَا قِيلَ لَكَ : مَنْ رَبُّكَ؟ فَقُلْ رَبِّيَ اللَّهُ الَّذِي رَبَّانِي وَرَبِّي جَمِيعَ الْعَالَمِينَ بِنِعَمِهِ وَهُوَ مَعْبُودِي لَيْسَ لِي مَعْبُودٌ سِوَاهُ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى : الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ
প্রথম মূলনীতি: সুতরাং যদি আপনাকে বলা হয়, আপনার রব্ব কে? তখন বলুন, আমার রব্ব আল্লাহ্। যিনি আমাকে এবং সমগ্র জগতসমূহকে তাঁর নিয়ামত দিয়ে প্রতিপালন করেছেন। তিনিই আমার মা'বৃদ। তিনি ব্যতীত আমার আর কোন মা'বুদ নেই। আর দলীল আল্লাহর বাণী: “যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।”[৯]
وَكُلُّ مَا سِوَى اللَّهِ عَالَمٌ، وَأَنَا وَاحِدٌ مِنْ ذَلِكَ الْعَالَمِ
فَإِذَا قِيلَ لَكَ: بِمَ عَرَفْتَ رَبَّكَ؟ فَقُلْ بِآيَاتِهِ وَمَخْلُوقَاتِهِ، وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ، وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ، وَمِنْ مَخْلُوقَاتِهِ السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُونَ السَّبْعُ وَمَا فِيهِنَّ وَمَا بَيْنَهُمَا
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَمِنْ أَيْتِهِ الَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
আল্লাহ্ ব্যতীত যা আছে সব কিছুই সৃষ্ট। আর আমিও এই সৃষ্টের একজন। অতএব যদি আপনাকে বলা হয়, কি দিয়ে আপনি আপনার প্রতিপালককে চিনলেন? তাহলে বলুন, তাঁর নিদর্শনসমূহ এবং সৃষ্টিসমূহ দ্বারা। আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মাঝে রয়েছে রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্র এবং তাঁর সৃষ্টিসমূহের মাঝে রয়েছে সাত আসমান, সাত যমীন, আর এ দুইয়ের মধ্যবর্তী যাবতীয় কিছু। আর দলীল আল্লাহ্র বাণী: "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না, চন্দ্রকেও নয়; বরং সিজদা কর আল্লাহকে যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদাত কর'। "[১০]
وَقَوْلُهُ تَعَالَى: إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْنِي الَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَب بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَلَمِينَ
আর আল্লাহর বাণী: “তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি ছয় দিনে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন। দিনকে তিনি রাতের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেন, তারা একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে এবং সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি তাঁরই আজ্ঞাবহ। জেনে রেখ, সৃষ্টি তাঁর, হুকুমও (চলবে) তাঁর, বরকতময় আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক।”[১১]
وَالرَّبُّ هُوَ الْمَعْبُودُ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: يَأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: الْخَالِقُ لِهَذِهِ الْأَشْيَاءِ هُوَ الْمُسْتَحِقُّ لِلْعِبَادَةِ
আর ‘রব্ব’ বা পালনকর্তাই হলেন মা’বুদ।
আর দলীল আল্লাহর বাণী: “হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদাত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ হতে পানি বর্ষণ করে তদ্দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেন, কাজেই জেনে বুঝে কাউকেও আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করো না।”[১২]
ইবনু কাসীর বলেছেন: এ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা যিনি তিনিই ইবাদাতের একমাত্র যোগ্য।
وَأَنْوَاعُ الْعِبَادَةِ الَّتِي أَمَرَ اللهُ بِهَا مِثْلُ الإِسْلَامِ وَالْإِيْمَانِ وَالْإِحْسَانِ، وَمِنْهَا الدُّعَاءُ وَالْخَوْفُ وَالرَّجَاءُ وَالتَّوَكَّلُ وَالرَّغْبَةُ وَالرَّهْبَةُ وَالخُشُوعُ وَالْخَشْيَةُ وَالْإِنَابَةُ وَالاسْتِعَانَةُ وَالاسْتِعَاذَةُ وَالاسْتِغَاثَةُ وَالذَّبْحُ وَالنَّذْرُ، وَغَيْرَ ذَلِكَ مِنْ أَنْوَاعِ الْعِبَادَةِ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ بِهَا، كُلُّهَا لِلَّهِ تَعَالَى
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَأَنَّ الْمَسْجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًاهُ، فَمَنْ صَرَفَ مِنْهَا شَيْئًا لِغَيْرِ اللَّهِ فَهُوَ مُشْرِكٌ كَافِرُ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَّهَا أَخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِندَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَفِرُونَ
আর আল্লাহ্ আমাদেরকে যেসব ইবাদাত করার নির্দেশ দিয়েছেন যেমন ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান এবং তন্মধ্যে আরো রয়েছে দু'আ, )الخوف ভয়(, الرجاء )আশা(, التوكل )ভরসা(, الرغبة )গভীর আগ্রহ(, الرهبة )সক্রিয় ভীতি(, الخشوع )নম্রতা ও বিনয়(, الخشية )শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়(, الانابة )অনুশোচনা পূর্বক প্রত্যাবর্তন(, الاستعانة )সাহায্য প্রার্থনা(, الاستعاذة )আশ্রয় বা নিরাপত্তা প্রার্থনা(, الاستغاثة )বিপদ থেকে মুক্তি বা উদ্ধার কামনা), কুরবানী করা এবং নযর, মানত বা প্রতিজ্ঞা করা ও এ ব্যতিত অন্যান্য যে সকল ইবাদাত আছে সেগুলো কেবল আল্লাহ্র জন্যই পালন করতে হবে।
আর দলীল মহান আল্লাহ্র বাণী: “আর মাসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। কাজেই আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।"[১৩]
সুতরাং এসব ইবাদাতের মধ্য হতে বিন্দুমাত্র ইবাদাত কেউ যদি আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করে থাকে, তাহলে সে মুশরিক এবং কাফির বলে গণ্য হবে।
আর দলীল মহান আল্লাহ্র বাণী: “আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডাকে যে বিষয়ে তার নিকট কোন প্রমাণ নেই, তার হিসাব তো আছে তার রব্বের নিকটই। নিশ্চয় কাফিররা সফলকাম হবে না।”[১৪]
وَفِي الْحَدِيثِ: الدُّعَاءُ مُخُ الْعِبَادَةِ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
হাদীসে রয়েছে, ‘দুআ’ই হলো ইবাদাতের সারাংশ।
আর দলীল আল্লাহর বাণী: “আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। নিশ্চয়ই যারা অহংকারবশে আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।”[১৫]
وَدَلِيلُ الْخَوْفِ قَوْلُهُ تَعَالَى: فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
আর খাউফ বা ভয়ের প্রমাণ আল্লাহর বাণী: “তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর, যদি তোমরা মু'মিন হও।”[১৬]
وَدَلِيلُ الرَّجَاءِ قَوْلُهُ تَعَالَى: فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاوَبُكُهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَتِي أَحَدًا
আর রাজা’ বা আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রমাণ আল্লাহর বাণী: “কাউকে যে তার রবের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকেও শরীক না করে।”[১৭]
وَدَلِيلُ التَّوَكَّلِ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَعَلَى اللهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُনْتُمْ مُؤْمِنِينَ وَقَالَ: وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
আর তাওয়াক্কুল বা ভরসা-নির্ভরতার প্রমাণ আল্লাহর বাণী: “তোমরা মু’মিন হলে আল্লাহর উপর ভরসা কর।”[১৮]
তিনি আরও বলেন, “যে কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।”[১৯]
وَ دَلِيلُ الرَّغْبَةِ وَالرَّهْبَةِ وَالْخُشُوعِ قَوْلُهُ تَعَالَى: إِنَّهُمْ كَانُوا يُسْرِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا الْخَشِعِينَ
আর রাগবাহ (গভীর আগ্রহ), রাহবাহ (সক্রিয় ভীতি) ও খুশ্' (নম্রতা ও বিনয়) এর প্রমাণ আল্লাহ্ তাআলার বাণী: “এরা সৎ কাজে ছিল ক্ষিপ্রগতি, তারা আমাকে ডাকত আশা নিয়ে ও ভীত হয়ে, আর তারা ছিল আমার প্রতি বিনয়ী।”[২০]
وَدَلِيلُ الْخَشْيَةِ قَوْلُهُ تَعَالَى: فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي
আর খাশইয়াহ (শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়) এর প্রমাণ আল্লাহ্র বাণী: “কাজেই তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর।'[২১]
وَدَلِيلُ الْإِنَابَةِ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَأَنِيبُوا إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ
আর ইনাবাহ তথা অনুতপ্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন এর প্রমাণ মহান আল্লাহ্র বাণী: “আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তোমাদের কাছে শাস্তি আসার পূর্বেই তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ কর।”[২২]
وَدَلِيلُ الاسْتِعَانَةِ قَوْلُهُ تَعَالَى : إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
وَفِي الْحَدِيثِ: إِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنُ بِاللَّهِ
আর ইসতিনাহ বা সাহায্য প্রার্থনা এর প্রমাণ মহান আল্লাহ্র বাণী: “আমরা কেবল তোমারই ইবাদাত করি এবং কেবলমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।”[২৩] আর হাদীসে রয়েছে: 'যখন তুমি সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন তা আল্লাহ্ নিকট করবে'।
وَدَلِيلُ الاسْتِعَاذَةِ قَوْلُهُ تَعَالَى: قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
আর ইসতিযাহ বা আশ্রয় প্রার্থনা এর প্রমাণ মহান আল্লাহ্র বাণী: “বল, 'আমি আশ্রয় চাচ্ছি সকাল বেলার রব-এর।”[২৪] এবং 'বল, 'আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের।"[২৫]
وَدَلِيلُ الاسْتِغَاثَةِ قَوْلُهُ تَعَالَى: إِذْ تَسْتَطِيعُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمُ
আর ইসতিগাসাহ (বিপদ থেকে উদ্ধার বা মুক্তির জন্য সাহায্য প্রার্থনা) এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "স্মরণ কর, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে তখন তিনি তোমাদেরকে জবাব দিলেন।"[২৬]
وَدَلِيلُ الذَّبْحِ قَوْلُهُ تَعَالَى: قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ
وَمِنْ السُّنَّةِ: لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ
আর যব্হ (জবাই করা) এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: “বল, আমার সালাত, আমার যাবতীয় ইবাদাত, আমার জীবন, আমার মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই নিবেদিত। তাঁর কোন শরীক নেই।”[২৭]
আর সুন্নাহ হতে: 'আল্লাহ অভিশাপ তার উপর, যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে কোন কিছু যব্হ করে'।[২৮]
وَدَلِيلُ النَّذْرِ قَوْلُهُ تَعَالَى: يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرَةً
আর নযর, মানত বা প্রতিজ্ঞা এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: “যারা মানত পূরণ করে আর সেই দিনকে ভয় করে যার অনিষ্ট হবে সুদূর প্রসারী।”[২৯]
الأصل الثاني
مَعْرِفَةُ دِينِ الإِسْلَامِ بِالأَدِلَّةِ، وَهُوَ الاِسْتِسْلَامُ لِلَّهِ بِالتَّوْحِيدِ، وَالانْقِيَادُ لَهُ بِالطَّاعَةِ، وَالْبَرَاءَةُ مِن الشِّرْكِ وَأَهْلِهِ
দ্বিতীয় মূলনীতি
দ্বীন ইসলামকে দালীল সহকারে জানা। আর ইসলাম হচ্ছে:
ক. তাওহীদ সহকারে আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণ
খ. আল্লাহ্ আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর বশ্যতা স্বীকার এবং
গ. শির্ক এবং মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ।
وَهُوَ ثَلَاثُ مَرَاتِبَ : الإِسْلَامُ وَالإِيمَانُ وَالإِحْسَانُ. وَكُلُّ مَرْتَبَةٍ لَهَا أَرْكَانٌ
(المرتبة الأولى) فَأَرْكَانُ الإِسْلامِ خَمْسَةٌ : شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامُ الصَّلاةَ، وَإيتَاءُ الزَّكَاةَ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَحَجُّ بَيْتِ اللَّهِ الْحَرَامِ
আর তার (দ্বীনের) তিনটি স্তর: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান। এ তিনটি স্তরের প্রত্যেকটির আবার কয়েকটি রুকন (স্তম্ভ) রয়েছে।
(দ্বীনের প্রথম স্তর) ইসলামের রুকন পাঁচটি। সাক্ষ্য প্রদান যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন সত্য মা'বৃদ নেই এবং মুহাম্মাদ (স) আল্লাহ্র রাসূল সলাত কায়েম। যাকাত প্রদান। রামাদ্বান মাসে সিয়াম পালন। আল্লাহ্র পবিত্র ঘরের হজ্জ।
فَدَلِيلُ الشَّهَادَةِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَيْكَةُ وَأُولُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
وَمَعْنَاهَا لَا مَعْبُودَ بِحَقِّ إِلَّا اللهُ لا إله" نَافِيًا جَمِيعَ مَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ، إِلَّا اللهُ مُثْبِتًا الْعِبَادَةَ لِلَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ فِي عِبَادَتِهِ كَمَا أَنَّهُ لَا شَرِيكَ لَهُ فِي مُلْكِهِ
সুতরাং শাহাদাহ (সাক্ষ্য প্রদান) এর প্রমাণ মহান আল্লাহ্ বাণী: “আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই এবং ফেরেশতাগণ ও ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানীগণও (সাক্ষ্য দিচ্ছে যে,) তিনি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই, তিনি মহাপরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী। ”[৩০]
এর অর্থ হচ্ছে اللهَ إلاّ مَعْبُودٌ بِحَقّ অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা'বুদ নেই। إلاّ الله (নেই কোন ইলাহ) কথাটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছুর ইবাদাত করা হয় সে সব কিছুকে অস্বীকৃতি জানায় এবং إلاّ الله (আল্লাহ ব্যতীত) কথাটি সকল প্রকার ইবাদাতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করে দেয়। তাঁর ইবাদাতে কোন অংশীদার নেই, ঠিক যেমনি শরীক নেই তাঁর রাজত্বেও।
وَتَفْسِيرُهَا الَّذِي يُوَضْحُهَا قَوْلُهُ تَعَالَى: وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاء مِمَّا تَعْبُدُونَ إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمُ يَرْجِعُونَ
وَقَوْلُهُ: قُلْ يَأْهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
আর এর ব্যাখ্যা যাকে পরিষ্কার করেছে মহান আল্লাহর বাণী: "স্মরণ কর, ইব্রাহীম যখন তার পিতাকে ও তার জাতিকে বলেছিল- তোমরা যেগুলোর পূজা কর, সেগুলো থেকে আমি সম্পর্কহীন। আমার সম্পর্ক আছে শুধু তাঁর সাথে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন। এ কথাটিকে সে স্থায়ী বাণীরূপে তার পরবর্তীদের মধ্যে রেখে গেছে, যাতে তারা (আল্লাহর পথে) ফিরে আসে।[৩১]
আর তাঁর বাণী: “বল, 'হে আহলে কিতাব! এমন এক কথার দিকে আসো, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই, তা এই যে, আমরা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত করব না এবং কোন কিছুকে তাঁর শরীক করব না এবং আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে আমাদের মধ্যে কেউ কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না।' তারপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলে দাও, তোমরা এ বিষয়ে সাক্ষী থাক যে, আমরা আত্মসমর্পণকারী।"[৩২]
وَدَلِيلُ شَهَادَةِ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَوْلُهُ تَعَالَى: لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
وَمَعْنَى شَهَادَةِ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ: طَاعَتُهُ فِيمَا أَمَرَ، وَتَصْدِيقُهُ فِيمَا أَخْبَرَ، وَاجْتِنَابُ مَا عَنْهُ نَهَى وَزَجَرَ، وَأَنَّ لَا يُعْبَدُ اللَّهُ إِلَّا بِمَا شَرَعَ
আর 'মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ্র রাসূল' সাক্ষ্যের প্রমাণ মহান আল্লাহ্ বাণী: “তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রসূল এসেছেন, তোমাদেরকে যা কিছু কষ্ট দেয় তা তার নিকট খুবই কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী, মু'মিনদের প্রতি করুণাসিক্ত, বড়ই দয়ালু।”[৩৩]
আর 'মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ্র রাসূল' সাক্ষ্যের অর্থ: তাঁর আদেশকৃত বিষয়ের আনুগত্য, তাঁর প্রদানকৃত সংবাদের সত্যায়ন, তাঁর নিষেধ ও বারণকৃত বিষয় থেকে বিরত থাকা এবং তার পেশকৃত শরীয়ত ব্যতীত অন্য কোনভাবে আল্লাহর ইবাদাত না হওয়া।
وَدَلِيلُ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ، وَتَفْسِيرِ التَّوْحِيدِ : قَوْلُهُ تَعَالَى: وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلوةَ وَيُؤْتُوا الزَّكُوةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ
আর সলাত এবং যাকাত আর তাওহীদের ব্যাখ্যার প্রমাণ মহান আল্লাহ্ বাণী: “তাদেরকে এ ছাড়া অন্য কোন হুকুমই দেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদাত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে। আর তারা নামায প্রতিষ্ঠা করবে আর যাকাত দিবে। আর এটাই সঠিক সুদৃঢ় দ্বীন।”[৩৪]
وَدَلِيلُ الصِّيَامِ قَوْلُهُ تَعَالَى: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
وَدَلِيلُ الْحَجِّ قَوْলُهُ تَعَالَى: وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَلَمِينَ
আর সিয়ামের প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকেদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।”[৩৫]
আর হজ্জের প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: “আল্লাহর জন্য উক্ত ঘরের হাজ্জ করা লোকেদের উপর আবশ্যক যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে এবং যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, (সে জেনে রাখুক) নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্ব জাহানের মুখাপেক্ষী নন।”[৩৬]
:المَرْتَبَةُ الثَّانِيَةُ: الإِيمَانُ: وَهُوَ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً فَأَعْلَاهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنْ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنْ الْإِيْمَانِ
দ্বিতীয় স্তর: ঈমান
ঈমানের সত্তরটি এবং এর কিছু বেজোড় সংখ্যক বেশি শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ্ ব্যতীত কোন সত্য মা’বুদ নেই) এই সাক্ষ্য প্রদান করা এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক কোন বস্তু সরিয়ে দেওয়া। আর লজ্জা হলো ঈমানের অন্যতম একটি শাখা।
وَأَرْكَانُهُ سِتَّةٌ: أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ
আর এর রুকন বা স্তম্ভ ৬টি: আল্লাহর প্রতি ঈমান।
আর তাঁর মালায়িকাহ বা ফেরেশতাগণের প্রতি।
আর তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি।
وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدْرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ
وَالدَّلِيلُ عَلَى هَذِهِ الأَرْكَانِ السِّتَّةِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنَ أَمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَكَةِ وَالْكِتُبِ وَالنَّبِيِّنَ
وَدَلِيلُ القدر : قَوْلُهُ تَعَالَى : إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْتُهُ بِقَدَرٍ
আর তাঁর রাসূলগণের প্রতি।
আর শেষ দিবসের প্রতি।
আর তাকদীরের ভাল ও মন্দের প্রতি ঈমান।
আর এ ছয়টি রুকনের দালীল মহান আল্লাহ্র বাণী: “তোমরা নিজেদের মুখ পূর্ব দিকে কর কিংবা পশ্চিম দিকে এতে কোন কল্যাণ নেই বরং কল্যাণ আছে এতে যে, কোন ব্যক্তি ঈমান আনবে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নাবীগণের প্রতি।”[৩৭]
আর তাকদীরের দালীল হলো আল্লাহ্ বাণী: ‘নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জিনিস সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাণে'।[৩৮]
الْمَرْتَبَةُ الثَّالِثَةُ : الإِحْسَانُ رُكْنْ وَاحِدٌ وَهُوَ: أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى : إِنَّ اللهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ
وَقَوْلُهُ: وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ الَّذِي يَرْنكَ حِينَ تَقُومُ وَتَقَلُّبَكَ فِي فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُوا مِنْهُ السُّجِدِينَ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
وَقَوْلُهُ: وَمَا تَكُونُ فِي مِنَ قُرْآنٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنَ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ
তৃতীয় স্তর: আল-ইহসান যা একটি রুকন। আর তা হলো, এমনভাবে আল্লাহ্ ইবাদাত করা যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর আপনি তাঁকে দেখতে না পেলেও নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।
আর প্রমাণ আল্লাহ্ তাআলার বাণী: “যারা তাকওয়া অবলম্বন করে আর সৎকর্মশীল, আল্লাহ তো তাদেরই সঙ্গে আছেন।”[৩৯]
আর তাঁর বাণী: “আর তুমি প্রবল পরাক্রান্ত পরম দয়ালুর উপর নির্ভর কর; যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাযের জন্য) দণ্ডায়মান হও। আর তিনি (দেখেন) সাজদাকারীদের সঙ্গে তোমার চলাফেরা। তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।”[৪০]
আর তাঁর বাণী: “আর আপনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন এবং আপনি সে সম্পর্কে কুরআন থেকে যা কিছুই তিলাওয়াত করেন না কেন আর তোমরা যে আমলই কর না কেন, আমি তোমাদের সাক্ষী থাকি, যখন তোমরা তাতে প্রবৃত্ত হও। আর যমীন ও আসমানের অণু পরিমাণ জিনিস এবং তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর কিছুই নেই যা আপনার রব্বের দৃষ্টির বাইরে এবং যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।”[৪১]
وَالدَّلِيلُ مِن السُّنَّةِ حَدِيثُ جِبْرَائِيلَ الْمَশْهُورُ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا، إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثَّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ، حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْবَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، وَقَالَ: «يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرُنِي عَنِ الإِسْلَامِ»، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلاً، قَالَ: «صَدَقْتَ»، قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ،
قَالَ: «فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِيمَانِ»،
قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ»، قَالَ: «صَدَقْتَ»،
قَالَ: «فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ»،
قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»، قَالَ: «فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ»، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ»، قَالَ: «فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا»، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ»، قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا، ثُمَّ قَالَ لِي: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» قُلْتُ: «اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ»، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ» [أخرجه مسلم (۸)].
সুমাইর হতে দারীল যা 'হাদীছে জিবরীল' নামে সুপ্রসিদ্ধঃ
উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়, যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল ভীষণ কালো। তার মাঝে ভ্রমণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারে নি। সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকটে গিয়ে বসে, নিজের হাঁটু তাঁর হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেনঃ হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ইসলাম হচ্ছে এই যে, আপনি সাক্ষ্য দিবেন আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ্র রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করবেন, যাকাত আদায় করবেন, রমাদান মাসে সিয়াম পালন করবেন এবং যদি সামর্থ্য থাকে তবে (আল্লাহ্র) ঘরের হজ্ব করবেন।
তিনি (লোকটি) বললেনঃ আপনি ঠিক বলেছেন। আমরা বিস্মিত হলাম, সে নিজে তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করেছে আবার নিজেই তাঁর জবাবকে ঠিক বলে ঘোষণা করছে। এরপর বললঃ আচ্ছা, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন।
তিনি ( ) বললেন: তা হচ্ছে আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, আখিরাত এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।
সে (আগন্তুক) বলল: আপনি ঠিক বলেছেন। তারপর বলল: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।
তিনি বলেন: তা হচ্ছে এমনভাবে আল্লাহ্ ইবাদাত করা যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর আপনি তাঁকে দেখতে না পেলে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।
সে (আগন্তুক) বলল: আমাকে কিয়ামাহ সম্পর্কে বলুন।
তিনি ( ) বললেন: জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারী থেকে বেশী জানে না।
সে (আগন্তুক) বলল: আচ্ছা, তার আলামাত সম্পর্কে বলুন।
তিনি ( ) বললেন: তা হলো, দাসী নিজের মালিককে জন্ম দেবে, সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ উঁচু উঁচু প্রাসাদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে।
তারপর ঐ ব্যক্তি চলে যায়, আর আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকি। তখন তিনি ( ) আমাকে বললেন: হে উমার, প্রশ্নকারী কে ছিলেন, তুমি কি জান? আমি বললাম: আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন। তিনি বললেন: তিনি হলেন জিবরাঈল। তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তিনি তোমাদের কাছে এসেছিলেন।
الأصل الثالث
مَعْرِفَةُ نَبِيِّكُمْ مُحَمَّدٍ , وَهُوَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمٍ، وَهَاشِمٌ مِنْ قُرَيْشٍ، وَقُرَيْشُ مِنْ العَرَبِ، وَالْعَرَبُ مِنْ ذُرِّيَّةِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ عَلَيْهِ وَعَلَى نَبِيِّنَا أَفْضَلُ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ. وَلَهُ مِنْ العُمْرِ ثَلَاثُ وَسِتُونَ سَنَةٌ مِنْهَا أَرْبَعُونَ قَبْلَ النُّبُوَّةِ، وَثَلَاثُ وَعِشْرُونَ نَبِيًّا رَسُولًا نُبِّيَ بِـ أَقْرَأْ وأُرْسِلَ بِالْمُدَّثَرِ. وَبَلَدُهُ مَكَّةُ، وَهَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ
তৃতীয় মূলনীতি: তোমাদের নাবী মুহাম্মাদ () এর পরিচয় লাভ।
আর তিনি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ্ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম। হাশিম কুরাইশ বংশ থেকে আর কুরাইশ আরব জাতিভুক্ত, আর আরব খলীলুল্লাহ ইবরাহীম তনয় ইসমাঈল) এর বংশ থেকে।
ইবরাহীম ও আমাদের নাবীর উপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম। তিনি তেষট্টি বছর জীবন লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে নবুওয়াতের পূর্বে চল্লিশ বছর আর নাবী-রাসূল হিসেবে তেইশ বছর। (সূরা আলাক) নাযিল হওয়ার মাধ্যমে তিনি নবুওয়াত এবং সূরা মুদ্দাচ্ছির নাযিল হওয়ার মাধ্যমে রিসালাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি মাক্কার অধিবাসী ছিলেন আর মাদীনায় হিজরাত করেছিলেন।
بَعَثَهُ اللهُ بِالنَّذَارَةِ عَنْ الشَّرْكِ وَيَدْعُو إِلَى التَّوْحِيدِ، وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: يَأَيُّهَا الْمُدَّثِرُهُ قُمْ فَانْذِرْهُ وَرَبَّكَ فَكَبِّرُ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرُ وَالرِّجْزَ فَاهْجُرُهُ وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُهُ وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرُهُ
وَمَعْنَى قُمْ فَانْذِرْ، يُنْذِرُ عَن الشَّرْكِ وَيَدْعُو إِلَى التَّوْحِيدِ
وَرَبَّكَ فَكَبِّرُهُ، أَيْ عَظَمُهُ بِالتَّوْحِيدِ
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرُهُ، أَيْ طَهَّرُ أَعْمَالَكَ عَنْ الشَّرْكِ
وَالرِّجْزَ فَاهْجُرُهُ الرُّجْزُ الأَصْنَامُ، وَهَجْرُهَا تَرْكُهَا وَالْبَرَاءَةُ مِنْهَا وَأَهْلِهَا
আল্লাহ তাকে শির্ক থেকে সতর্ক এবং তাওহীদের দিকে আহ্বানের জন্য প্রেরণ করেছেন।
এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: “ওহে বস্ত্র আবৃত (ব্যক্তি)। ওঠ, সতর্ক কর। আর তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ। (যাবতীয়) অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকে। (কারো প্রতি) অনুগ্রহ করো না অধিক পাওয়ার উদ্দেশে। তোমার প্রতিপালকের (সন্তুষ্টির) জন্য ধৈর্য ধর।”[৪২]
এখানে قُمْ فَأَنْذِرُ এর মর্মার্থ: তিনি শির্ক থেকে সতর্ক এবং তাওহীদের দিকে আহ্বান করেন।
وَرَبَّكَ فَكَبِّرُ এর মর্মার্থ: তাওহীদ দ্বারা আপনার রব্বকে সম্মানিত করুন।
وَثِيَابَكَ فَطَهَّرُ এর মর্মার্থ: আপনার আমলসমূহকে শির্ক থেকে পবিত্র করুন।
وَالرُّجْزَ فَاهْجُرُ এর মর্মার্থ : وَالرُّجُزُ এর অর্থ মূর্তি-প্রতিমা, هَجْر এর অর্থ বর্জন ও পরিত্যাগ অর্থাৎ মূর্তি ও মূর্তিপূজারীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ।
أَخَذَ عَلَى هَذَا عَشْرَ سِنِينَ يَدْعُو إِلَى التَّوْحِيدِ. وَبَعْدَ الْعَشْرِ عُرِجَ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ।
রাসূল (ﷺ) আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে দশ বছর ধরে মানবজাতিকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে থাকেন। দশ বছর পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঊর্ধ্বাকাশে।
وَفَرَضَتْ عَلَيْهِ الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ، وَصَلَّى فِي مَكَّةَ ثَلَاثَ سِنِينَ، وَبَعْدَهَا أُمِرَ بِالْهِجْرَةِ إِلَى الْمَدِينَةِ।
আর তার উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়। আর মক্কায় তিনি তিন বছর সালাত আদায় করেন। এরপর তাকে মদীনায় হিজরাতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
وَالْهِجْرَةُ: الانْتِقَالُ مِنْ بَلَدِ الشَّرْكِ إِلَى بَلَدِ الإِسْلامِ
وَالْهِجْرَةُ فَرِيضَةٌ عَلَى هَذِهِ الأُمَّةِ مِنْ بَلَدِ الشَّرْكِ إِلَى بَلَدِ الإِসْلامِ، وَهِيَ بَاقِيَةٌ إِلَى أَنْ تَقُوْمَ السَّاعَةُ।
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّهُمُ الْمَلَيْكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمُ قَالُوا فِيمَ كُنتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنُ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَبِكَ مَا وَلَهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيرًا إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلًا فَأُولَئِكَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَعْفُو عَنْهُمْ وَكَانَ اللَّهُ عَفُوا غفوران
আর হিজরাত: শির্কের দেশ থেকে ইসলামী দেশে দেশান্তর। এ উম্মাতের উপর ফরয হচ্ছে শির্কের দেশ ছেড়ে ইসলামী দেশে হিজরাত করা। আর হিজরাতের এ হুকুম শেষ প্রহর স্থাপিত হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।
এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী: “যারা নিজেদের আত্মার উপর যুলম করেছিল এমন লোকেদের প্রাণ হরণের সময় ফেরেশতারা তাদেরকে জিজ্ঞেস করে- 'তোমরা কোন কাজে নিমজ্জিত ছিলে'? তারা বলে, 'দুনিয়ায় আমরা দুর্বল ক্ষমতাহীন ছিলাম', ফেরেশতারা বলে, 'আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যাতে তোমরা হিজরাত করতে'? সুতরাং তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম এবং তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন স্থান! কিন্তু যে সকল সহায়হীন পুরুষ, নারী ও বালক যারা উপায় বের করতে পারে না আর তারা পথও পায় না, আশা আছে যে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং আল্লাহ গুনাহ মোচনকারী, বড়ই ক্ষমাশীল।”[৪৩]
وَقَوْلُهُ تَعَالَى: يُعِبَادِيَ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ أَرْضِي وَاسِعَةٌ فَأَيَّايَ فَاعْبُدُونِ
قَالَ البَغَوِيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: سَبَبُ نُزُولِ هَذِهِ الْآيَةِ فِي الْمُسْلِمِينَ الَّذِينَ بِمَكَّةَ لَمْ يُهَاجِرُوْا، نَادَاهُمُ اللَّهُ بِاسْمِ الْإِيْمَانِ
وَالدَّلِيلُ عَلَى الْهِجْرَةِ مِنَ السُّنَّةِ قَوْلُهُ : لَا تَنْقَطِعُ الهِجْرَةُ حَتَّى تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ، وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِن مَغْرِبِهَا
আর আল্লাহ্ তাআলার বাণী: “হে আমার বান্দারা! যারা ঈমান এনেছ, আমার যমীন প্রশস্ত, কাজেই তোমরা একমাত্র আমারই ইবাদাত কর।”[৪৪]
ইমাম বাগাভী [رحمه الله] বলেন: আয়াতটি নাযিল হওয়ার কারণ মাক্কায় অবস্থানরত হিজরাত না করা মুসলিমগণ। আল্লাহ্ তাদেরকে ঈমানের নামকরণেই সম্বোধন করেছেন।
আর হিজরাতের ব্যাপারে সুন্নাহ হতে দালীল তাঁর (স) বাণী:
'হিজরাত বন্ধ হবে না তাওবাহ্ বন্ধ না হওয়া অবধি। আর তাওবাহ্ বন্ধ হবে না সূর্যের তার পশ্চিম হতে উদয় অবধি'।
فَلَمَّا اسْتَقَرَّ بِالْمَدِينَةِ أَمَرَ بِبَقِيَّةِ شَرَائِعِ الإِسْلَامِ، مِثْلُ: الزَّكَاةِ وَالصَّوْمِ وَالْحَجِّ وَالْجِهَادِ وَالْأَذَانِ، وَالْأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ شَرَائِعِ الإِسْلَام
আর মদীনাতে যখন রাসূল (স) স্থায়ী অবস্থান গ্রহণ করেন, তখন তাঁকে ইসলামী শরীআহ্র অবশিষ্ট বিধান যেমন: যাকাত, সিয়াম, হজ্জ, জিহাদ, আযান, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ এবং ইসলামী শরীআত অন্যান্য বিধান পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
أَخَذَ عَلَى هَذَا عَشْرَ سِنِينَ وَبَعْدَهَا تُوُفِّيَ صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ
তথায় তিনি (স) দশ বছর যাবত ইসলামের এসব বিধান প্রতিষ্ঠিত করেন এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর উপর।
وَدِينُهُ بَاقٍ وَهَذَا دِينُهُ لَا خَيْرَ إِلَّا دَلَّ الأُمَّةَ عَلَيْهِ، وَلَا شَرَّ إِلَّا حَذَرَهَا مِنْهُ
وَالْخَيْرُ الَّذِي دَلَّ عَلَيْهِ : التَّوْحِيدُ، وَجَمِيعُ مَا يُحِبُّهُ اللَّهُ وَيَرْضَاهُ
وَالشَّرُّ الَّذِي حَذَرَ مِنْهُ: الشَّرْكُ، وَجَمِيعُ مَا يَكْرَهُهُ اللَّهُ وَيَأْبَاهُ
بَعَثَهُ اللهُ إِلَى النَّاسِ كَأَفَّةً، وَافْتَرَضَ اللهُ طَاعَتَهُ عَلَى جَمِيعِ الثَّقَلَيْنِ: الْجِنِّ وَالإِنسِ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: قُلْ يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا
আর তাঁর দ্বীন রয়ে গেল। এটি তাঁর সেই দ্বীন, এমন কোন কল্যাণকর বিষয় নেই যার নির্দেশনা তিনি তাঁর উম্মাতকে দেননি। আর কোন ক্ষতিকর বিষয়ও নেই যে সম্পর্কে তিনি তাঁর উম্মাতকে সতর্ক ও সাবধান করেন নি। আর তাঁর নির্দেশিত কল্যাণকর বিষয়সমূহ হচ্ছে: তাওহীদ ও আল্লাহর যাবতীয় পছন্দনীয় বিষয় ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট। আর ক্ষতিকর যা থেকে তিনি (ﷺ) সতর্ক ও সাবধান করেছেন: সেগুলো হলো শির্ক এবং আল্লাহ্র যাবতীয় ঘৃণা ও অপছন্দনীয় বিষয়।
আর আল্লাহ্ তাঁকে সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরণ করেছেন আর আল্লাহ্ তাঁর আনুগত্যকে ফরয করে দিয়েছেন স্নাকালাইন তথা মানুষ ও জ্বিন দু'টি জাতির সকলের উপর।
আর প্রমাণ মহান আল্লাহ্র বাণী: “বল, হে মানুষা আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রসূল। "[৪৫]
وَأَكْمَلَ اللَّهُ بِهِ الدِّينَ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: اَلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ্ দ্বীনকে পূর্ণ করেন। আর প্রমাণ মহান আল্লাহ্র বাণী: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিআমাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবুল করে নিলাম।"[৪৬]
وَالدَّلِيلُ عَلَى مَوْتِهِ ﷺ قَوْلُهُ تَعَالَى: إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ ثُمَّ إِنَّكُمُ يَوْمَ الْقِيمَةِ عِنرَبُّكُكُمْ تَخْتَصِمُونَ الله
وَالنَّاسُ إِذَا مَاتُوا يُبْعَثُونَ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: مِنْهَا خَلَقْنَكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمُ تَارَةً أُخْرَى
وَقَوْلُهُ تَعَالَى: وَاللَّهُ أَنْبَتَكُم مِّنَ الْأَرْضِ نَبَاتَاهُ ثُمَّ يُعِيدُكُمُ فِيهَا وَيُخْرِجُكُمْ إِخْرَاجًا
আর তার মৃত্যুর প্রমাণে মহান আল্লাহ্র বাণী: “তুমিও মরবে আর তারাও মরবে। অতঃপর কিয়ামাত দিবসে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাদানুবাদ করবে। "[৪৭]
মানুষের মৃত্যু হলে পুনরুত্থিত হবেই। আর দালীল মহান আল্লাহর বাণী: “মাটি থেকে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেব, আর তাথেকে তোমাদেরকে আবার বের করব।”[৪৮]
আর আল্লাহ তাআলার বাণী: “আল্লাহ তোমাদেরকে মাটি থেকে উদগত করেন (এবং ক্রমশঃ বাড়িয়ে তোলেন যেমন বাড়িয়ে তোলেন বৃক্ষকে) অতঃপর এই মাটিতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনবেন এবং তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন।”[৪৯]
وَبَعْدَ الْبَعْثِ مُحَاسَبُونَ وَمُجْزِيُّونَ بِأَعْمَالِهِمْ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى : لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاءُوا بِمَا عَمِلُوا وَيَجْرِيَ الَّذِينَ احْسَنُوا بِالْحُسْنَى
আর পুনরুত্থানের পর হিসাব গ্রহণ এবং তাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া হবে।
আর দালীল মহান আল্লাহর বাণী: “যাতে তিনি যারা মন্দ কাজ করে তাদেরকে তাদের কাজের প্রতিফল দেন আর যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে দেন শুভ প্রতিফল।”[৫০]
وَمَنْ كَذَّبَ بِالْبَعْثِ كَفَرَ
وَالدَّلِيلُ قَوْলُهُ تَعَالَى: زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثْنَ ثُمَّ لَتُنَبَّونَ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
পুনরুত্থানকে যে অস্বীকার করলো, সে কুফর করলো।
আর দালীল আল্লাহর বাণী: “কাফিররা ধারণা করে যে, তাদেরকে কখনো আবার জীবিত করে উঠানো হবে না। বল, নিশ্চয়ই (উঠানো) হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই আবার জীবিত করে উঠানো হবে, অতঃপর তোমাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই জানিয়ে দেয়া হবে তোমরা (দুনিয়ায়) কী কাজ করেছ। এ কাজ (করা) আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।”[৫১]
وَأَرْسَلَ اللَّهُ جَمِيعَ الرُّسُلِ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ
আর সকল রাসূলকে আল্লাহ্ সুসংবাদ দাতা ও ভীতিপ্রদর্শনকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
আর দালীল আল্লাহ্র বাণী: “রসূলগণ ছিলেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী যাতে রসূলদের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোন অযুহাতের সুযোগ না থাকে।”[৫২]
وَأَوَّلُهُمْ نُوحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَآخِرُهُمْ مُحَمَّدٌ
وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ أَوَّلَهُمْ نُوحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَوْلُهُ تَعَالَى: إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّنَ مِنْ بَعْدِهِ
আর তাদের সর্বপ্রথম রাসূল হলেন নূহ এবং সর্বশেষ হলেন মুহাম্মাদ (স:) ।
নূহ (আ:) এর তাদের প্রথম হওয়ার দালীল আল্লাহর বাণী: “আমি তোমার কাছে ওয়াহয়ী পাঠিয়েছি যেমন নূহ ও তার আগের নাবীগণের নিকট ওয়াহয়ী পাঠিয়েছিলাম।”[৫৩]
وَكُلُّ أُمَّةٍ بَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهَا رَسُولًا مِنْ نُوحٍ إِلَى مُحَمَّدٍ يَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ اللَّهِ وَحْدَهُ، وَيَنْهَاهُمْ عَنْ عِبَادَةِ الطَّاغُوتِ
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ :
নূহ (আ:) থেকে নিয়ে মুহাম্মাদ (স:) পর্যন্ত প্রত্যেক জাতির প্রতি মহান আল্লাহ্ রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁরা তাদেরকে কেবল এক আল্লাহ্র ইবাদাত করার নির্দেশ দিতেন এবং তাগূতের ইবাদাত হতে নিষেধ করতেন।
আর দালীল মহান আল্লাহর বাণী: “প্রত্যেক জাতির কাছে আমি রসূল পাঠিয়েছি (এ সংবাদ দিয়ে) যে, আল্লাহর ইবাদাত কর আর তাগুতকে বর্জন কর।”[৫৪]
وَافْتَرَضَ اللَّهُ عَلَى جَمِيعِ الْعِبَادِ الْكُفْرَ بِالطَّاغُوتِ وَالْإِيْمَانَ بِاللَّهِ قَالَ ابْنُ القَيِّمُ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: الطَّاغُوتُ مَا تَجَاوَزَ بِهِ الْعَبْدُ حَدَّهُ مِنْ مَعْبُودٍ أَوْ مَتْبُوعٍ أَوْ مُطَاع
আল্লাহ্ সকল বান্দার উপর ফরয করে দিয়েছেন তাগূতকে অস্বীকার এবং এক আল্লাহ্র প্রতি ঈমান।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: তাগূত হচ্ছে মা'বুদ, মাতব্' (অনুসৃত ব্যক্তি) অথবা মুতা' (যার আনুগত্য করা হয়) যার দ্বারা বান্দা সীমালঙ্ঘন করে।
وَالطَّوَاغِيْتُ كَثِيرَةٌ وَرُؤُوسُهُمْ خَمْسَةٌ : إِبْلِيسُ - لَعْنَهُ اللهُ، وَمَنْ عُبِدَ وَهُوَ رَاضٍ، وَمَنْ دَعَا النَّاسَ إِلَى عِبَادَةِ نَفْسِهِ، وَمَن ادَّعَى شَيْئًا مِنْ عِلْمِ الْغَيْبِ، وَمَنْ حَكَمَ بِغَيْرِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ
অসংখ্য তাগূত এর মধ্যে প্রধান হলো পাঁচটি: ক. ইবলীস, তার উপর আল্লাহ্র লা'নত খ. যার উপাসনা করা হয় এবং সে এতে সন্তুষ্ট থাকে গ. যে মানুষকে তার নিজের উপাসনার প্রতি আহ্বান জানায় ঘ. যে গায়েবী কোন বিষয় সম্পর্কে জানে বলে দাবি করে ঙ. যে আল্লাহ্র অবতীর্ণ বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে বিচার-ফায়সালা করে
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرُ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنُ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى
وَهَذَا مَعْنَى لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ
আর দালীল মহান আল্লাহ্র বাণী: "দীনের মধ্যে জবরদস্তির অবকাশ নেই, নিশ্চয় হিদায়াত গোমরাহী হতে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। কাজেই যে ব্যক্তি মিথ্যে মা'বুদদেরকে (তাগুতকে) অমান্য করল এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল, নিশ্চয়ই সে দৃঢ়তর রজ্জু ধারণ করল।"[৫৫] আর এটিই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর মর্মার্থ।
وَفِي الْحَدِيثِ: رَأْسُ هَذَا الْأَمْرِ الإِسْلامُ، وَعُمُودُهُ الصَّلاةُ، وَذِرْوَةٌ سَنَامِهِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ
হাদীয়েও ইরশাদ করা হয়েছে: 'সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, স্তম্ভ হলো সলাত এবং সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করা।
মহান আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের উপর।
টিকাঃ
[২] সূরা আল-আসর ১০৩: ১-৩
[৩] সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ : ১৯
[৪] সূরা আল-মুয্যাম্মিল ৭৩ : ১৫-১৬
[৫] সূরা আল-জিন্ন ৭২: ১৮
[৬] সূরা আল-মুজাদালাহ ৫৮: ২২
[৭] সূরা আয-যারিয়াত ৫১: ৫৬
[৮] সূরা আন-নিসা ৪: ৩৬
[৯] সূরা আল-ফাতিহা ১:২
[১০] সূরা ফুসসিলাত ৪১: ৩৭
[১১] সূরা আল-আ'রাফ ৭: ৫৪
[১২] সূরা আল-বাকারাহ ২: ২১-২২
[১৩] সূরা আল-জিন্ন ৭২: ১৮
[১৪] সূরা আল-মু'মিনূন ৪০: ১১৭
[১৫] সূরা গাফির (মুমিন) ৪০:৬০
[১৬] সূরা আল-ইমরান ৩:১৭৫
[১৭] সূরা আল-কাহফ ১৮:১১০
[১৮] সূরা আল-মায়িদাহ ৫:২৩
[১৯] সূরা আত-তালাক ৬৫:৩
[২০] সূরা আল-আমবিয়া' ২১: ৯০
[২১] সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৫০
[২২] সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৪
[২৩] সূরা আল-ফাতিহাহ ১:৫
[২৪] সূরা আল-ফালাক ১১৩ : ১
[২৫] সূরা আন্-নাস ১১৪ : ১
[২৬] সূরা আনফাল ৮ : ৯
[২৭] সূরা আনআম ৬ : ১৬২-১৬৩
[২৮] সহীহ মুসলিম : হা/৫০১৮
[২৯] সূরা আল-ইনসান (দাহর) ৭৬ : ৭
[৩০] সূরা আলু ইমরান ৩: ১৮
[৩১] সূরা যুখরুফ ৪৩: ২৬-২৮
[৩২] সূরা আল ইমরান ৩: ৬৪
[৩৩] সূরা আত-তাওবাহ ৯: ১২৮
[৩৪] সূরা আল-বাইয়্যিনাহ ৯৮ : ৫
[৩৫] সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৮৩
[৩৬] সূরা আলু ইমরান ৩: ৯৭
[৩৭] সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৭৭
[৩৮] সূরা আল-কামার ৫৪: ৪৯
[৩৯] সূরা আন-নাহল ১৬: ১২৮
[৪০] সূরা আশ-শুআরা ২৬: ২১৭-২২০
[৪১] সূরা ইউনুস ১০: ৬১
[৪২] সূরা আল-মুদ্দাস্থির ৭৪: ১-৭
[৪৩] সূরা আন-নিসা' ৪: ৯৭-৯৯
[৪৪] সূরা আল-আনকাবৃত ২৯: ৫৬
[৪৫] সূরা আল-আ'রাফ ৭: ১৫৮
[৪৬] সূরা আল-মায়েদাহ ৫:৩
[৪৭] সূরা আয-যুমার ৩৯ : ৩০-৩১
[৪৮] সূরা তাহা ২০ : ৫৫
[৪৯] সূরা নূহ ৭১: ১৭-১৮
[৫০] সূরা আন-নাজম ৫৩: ৩১
[৫১] সূরা আত-তাগাবুন ৬৪: ৭
[৫২] সূরা আন্-নিসা' ৪: ১৬৫
[৫৩] সূরা আন্-নিসা' ৪: ১৬৩
[৫৪] সূরা আন্-নাহল ১৬: ৩৬
[৫৫] সূরা আল-বাকারাহ ২: ২৫৬
📄 শারহু ছালাছাতিল উছুল
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহ্র নামে', যিনি আর-রহমান এবং আর- রহীম।
'বিসমিল্লাহ' এর ব্যাখ্যা: গ্রন্থকার তাঁর কিতাব শুরু করেছেন 'বিসমিল্লাহ' এর মাধ্যমে, যেমনটি 'বিসমিল্লাহ' দ্বারা শুরু হয়েছে মহান আল্লাহ্র কিতাব। এক্ষেত্রে তিনি যে হাদীস্ব অনুসরণ করেছেন তা হলো: كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيْهِ بِبِسْمِ اللَّهِ فَهُوَ أَبْتَرُ 'প্রত্যেকটি কাজ যার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা হয় না, তা বরকতহীন'।[৫৬] রাসূল () এর পদ্ধতিও ছিল এমনটি, যখন তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করতেন তখন তিনি বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করতেন।
(বাক্যটির অর্থ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য একটি অংশ অব্যক্ত রয়ে গেছে) আরবী বাক্যটিতে জার ও মাজরুর অপ্রকাশিত বিলম্বিত ক্রিয়াপদের দিকে নির্দেশ করে যা সহ বাক্যটির পরিপূর্ণ অর্থ হলো: 'আল্লাহর নামে লেখা বা রচনা শুরু করছি'। যেহেতু কাজ সম্পাদনের জন্য ক্রিয়াপদ জরুরি, তাই অব্যক্ত অংশটি হলো একটি فعل (ক্রিয়াপদ) (আমি লিখা শুরু করছি)। আর এই ক্রিয়াপদটিকে ধারণা করতে হবে বিলম্বিত আকারে মূলতঃ দু'টি কারণে:
ক. আল্লাহর নামে শুরু করার মাধ্যমে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করা, যিনি সুউচ্চ এবং সকল প্রকার অপূর্ণতা থেকে মুক্ত।
খ. সীমা নির্ধারণ অর্থাৎ সম্পর্কযুক্ত বিষয়কে শুরুতে উল্লেখ করলে তা মূল বক্তব্যের একটি সীমা নির্ধারণ করে দেয়। [অর্থাৎ শুধু আল্লাহর নামেই শুরু করছি, আর কারো নামে নয়।]
কাজেই বাক্যটির পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশের জন্য আমরা একে এভাবে উল্লেখ করেছি। উদাহরণস্বরূপ যদি আমরা কোন বই পড়তে উদ্যত হই এবং এতে বলা হয় 'আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি', সে ক্ষেত্রে আমরা জানি না কি শুরু করছি। কিন্তু যদি বলা হয় 'আল্লাহর নামে আমি পড়তে শুরু করছি', তাহলে এতে আর কোন প্রকার সন্দেহের অবকাশ থাকে না।
মহান আল্লাহর পরিচয়: 'আল্লাহ্' হলো সেই একক সত্ত্বার নাম যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু সাজিয়েছেন, যিনি মহামান্যিত ও সর্বোচ্চ। 'আল্লাহ্' হলো সেই নাম যাকে তাঁর অন্যান্য সকল নাম অনুসরণ করে। যেমন তিনি বলেছেন:
كِتُبْ أَنْزَلْتُهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبُّكُهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَواتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ
"আলিফ লাম-রা। এই কিতাব আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে করে আপনি মানব জাতিকে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে বের করে আনতে পারেন অন্ধকার থেকে আলোকের দিকে; পরাক্রমশালী, সর্বপ্রশংসিতের পথে। আল্লাহ- আসমানসমূহে যা কিছু আছে আর পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তাঁর মালিকানাধীন।"*
টিকাঃ
[৫৬] এ হাদীসটি আল জামে' আস সাগীর লির রাহাউয়ী ৪/১৪৭ ও খাতীব আল বাগদাদীর আল জামে' ২/৬৯ গ্রন্থেও বিদ্যমান। [আবূ দাউদ ৪৮৪০) ইবনু মাজাহ ১৮৯৪), সুনান নাসাঈ আল কুবরা ১০৩২৮), আল আযকার লি ইমাম নাবাবী ১৪৯)]। এ হাদিসটির ব্যাপারে শায়খ আল আল্লামাহ্ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমীন বলেন, "এ হাদিসটি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে হাদীস্ত্রবিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত রয়েছে। উলামাদের মধ্যে ইমাম আন নাবাবী একে সহীহ বলেছেন ও এর উপর নির্ভর করেছেন। পক্ষান্তরে কেউ কেউ একে যঈফ বলেছেন। কিন্তু এ হাদিসটিকে আলিমগণ সকলে গ্রহণ করেছেন ও তাদের নানা গ্রন্থে তা অন্তর্ভুক্ত করেছেন এই ভেবে যে এ হাদিসটির সঠিক মূল হাদিস রয়েছে।" - শাইখের কিতাবুল ইলম গ্রন্থের ব্যাখ্যা থেকে। ফাহাদ বিন নাসির বিন ইবরাহীম আস-সুলাইমান এর বক্তব্য)। এ হাদীস্বটিকে মুহাদ্দিস আল আল্লামাহ্ শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী তাঁর 'ইরওয়াউল গালীল' গ্রন্থে হা/১) খুবই দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। এই হাদীসের একজন রাবী কুররা বিন আবদুর রহমান হুওয়াইল আল মাআফিরী সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের অভিযোগ রয়েছে। তথাপি বিসমিল্লাহ দ্বারা কোন কাজ শুরু করার অসংখ্য উদাহরণ অন্যান্য হাদীসেও বিদ্যমান। যদিও হাদীস্মটিতে কিছু শাব্দিক পরিবর্তন হয়ে বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। যেমন: كل أمر ذي بال لا يُبدأُ بالحمد لله فهو أقطع، وفي رواية: بالحمد فهو أقطع، وفي رواية: كُل كلام لا يُبدأُ فيه بالحمد لله فَهُوَ أَجدَّمُ، وَفي رواية: كُلُّ أَمْرٍ ذي بال لا يَبْدَأُ فيه ببسم اللهِ الرَّحمنِ الرَّحِيمِ فَهُوَ أَقطع
* সূরা ইবরাহীম ১৪: ১-২
📄 সবরের প্রকারভেদ
সবরের প্রকারভেদ: ধৈর্য ৩ প্রকারঃ
ক. আল্লাহ্র আনুগত্য করার জন্য ধৈর্য ধারণ
খ. আল্লাহ্ কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকার জন্য ধৈর্য ধারণ
গ. তাকদীর তথা আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত বিষয়াদি যা তিনি কার্যকর করে থাকেন, সেগুলোর উপর ধৈর্য ধারণ
মহান আল্লাহ্ তাঁর নির্ধারিত যেসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করে থাকেন সেগুলো দুই রকমের হয়ে থাকে: কিছু আছে যেগুলোতে মানুষের কোন হাত নেই। আবার কিছু আছে যেগুলো আল্লাহ্ তাঁর কোন বান্দার মাধ্যমে ঘটিয়ে থাকেন, যেমন: যুলম-অত্যাচার, ক্ষতিসাধন ইত্যাদি।
📄 সূরাতুল আসর এর তাফসীর
সূরাতুল আস্ত্র এর তাফসীর: উল্লিখিত চার স্তর সম্পর্কিত প্রমাণ হল সূরা আস্ত্র। এই সূরায় মহান আল্লাহ্ الْعَصْرِ (আল আসর) শব্দ দ্বারা কসম করেছেন, যা হচ্ছে সময়। সময় হল নানা ঘটনা ঘটার স্থল যাতে ভাল-মন্দ সব ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। এ কারণে আল্লাহ্ সময়ের শপথ করে বলেছেন যে, সকল মানুষই ক্ষতির মাঝে রয়েছে। তবে যারা এই ৪টি গুণে গুণান্বিত হবে, তারা উপরোল্লিখিত ক্ষতির আওতাধীন নয়। এই ৪টি গুণ হচ্ছে যথাক্রমেঃ
ক. ঈমান
খ. নেক আমল
গ. সত্যের উপদেশ প্রদান
ঘ. ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের উপদেশ প্রদান
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম [রঃ] বলেছেন: 'নাফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদের ৪টি স্তর বা পর্যায় রয়েছে। যথাঃ
ক. হিদায়াত এবং সত্য ধর্ম, যা ব্যতীত ইহকাল ও পরকালে শান্তি ও সফলতা অর্জন করা আদৌ সম্ভবপর নয়, তা জানার জন্য নাফসের সাথে জিহাদ।
খ. সঠিক পথ ও সত্য ধর্মকে জানার পর সে অনুযায়ী আমল করার জন্য নাফসের সাথে জিহাদ।
গ. সঠিক পথ ও সত্য ধর্মের দিকে মানুষকে আহ্বান করা এবং যারা এ সম্পর্কে জানে না তাদেরকে তা শিক্ষা প্রদানের কাজে নাফসের সাথে জিহাদ করা।
ঘ. আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বানের কাঠিন্যতা ও সৃষ্টি জগত কর্তৃক অত্যাচার-নির্যাতনে ধৈর্য ধারণের জন্য নাফসের সাথে জিহাদ করা। দাঈকে এই সবকিছু করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। যে ব্যক্তি এই ৪টি গুণে পরিপূর্ণরূপে গুণান্বিত হয়ে যাবে, সে আল্লাহ্ ওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
এই সূরায় মহান আল্লাহ্ যুগের শপথ করে বলেছেন যে, প্রতিটি মানুষ, তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি যত বেশিই হোক না কেন কিংবা সে যতই উচ্চ পর্যায়ের ও মান-মর্যাদার অধিকারী হোক না কেন, তথাপি সে ক্ষতির মাঝে নিপতিত। তবে যারা ৪টি গুণে সামগ্রিকভাবে গুণান্বিত, তারা নয়। এই ৪টি গুণ হলো:
ক. ঈমান: যে সব বিশুদ্ধ আকীদাহ্ ও বিশুদ্ধ ইল্ম দ্বারা মানুষ তার মহান প্রতিপালকের নৈকট্য অর্জন করতে পারে সে সবকিছুই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
খ. নেক আমল: আর তা হচ্ছে এমন প্রতিটি কথা ও কাজ, যা দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। আর তা তখনই সম্ভব যখন আমল সম্পাদনকারী ব্যক্তি তার প্রতিটি কথা ও কাজে মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হবে এবং রাসূল (ﷺ) এর যথাযথ অনুসারী হবে (সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করবে)।
গ. হকের (সত্যের) উপদেশ প্রদান: আর তা হলো পরস্পর ভাল কাজের উপদেশ দেওয়া, ভাল কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং ভাল কাজের প্রতি একে অপরকে উৎসাহ যোগানো।
ঘ. ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের উপদেশ প্রদান: আর তা হচ্ছে একে অপরকে আল্লাহর যাবতীয় আদেশসমূহ ধৈর্য সহকারে পালন করা, তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে ধৈর্য সহকারে পরিহার করা এবং আল্লাহর তাকদীর বা নির্ধারিত বিষয়াদিকে ধৈর্য সহকারে মেনে নেওয়ার উপদেশ প্রদান করা।
এখানে পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া বলতে ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করাকে বুঝানো হয়েছে। এই দু'টি বিষয়ের উপরই মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, উম্মতের জন্য আল্লাহর সাহায্য, সম্মান অর্জন ও উম্মতের সমৃদ্ধি রয়েছে।
টিকাঃ
[৮৩] সূরা আল-আস্ত্র ১০৩: ১-৩