📄 অর্থনৈতিক সংস্কার
সালাহউদ্দীনের শাসনামলে মুসলিম জাতির ধনভাণ্ডার পরিপুষ্ট হয়ে ওঠে। সেসময় রাষ্ট্রের আয়ের প্রচুর উৎস ছিলো। যেমন:
* ১। মিশরের ফাতিমিদের ধনসম্পদ সালাহউদ্দীনের হাতে আসে।
* ২। অমুসলিম নাগরিকরা জিযইয়া প্রদান করে।
* ৩। বন্দীদের থেকে মুক্তিপণ নেওয়া হয়।
* ৪। প্রচুর গানীমাতের মাল পাওয়া যায়।
* ৫। চুক্তির মাধ্যমে মুসলিমদের অর্জিত জমিজমা থেকে প্রাপ্ত খেরাজ।
সালাহউদ্দীন এসব আয় জিহাদ, কেল্লা ও দূর্গ নির্মাণ, কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ বিভিন্ন জায়গায় খরচ করতেন।
যুদ্ধের কারণে যাতে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে সালাহউদ্দীন কৃষি ও সেচব্যবস্থার যত্ন নিতেন। মিশর ও শামের মধ্যে কৃষিজ ফসল আমদানি-রপ্তানি হতে থাকতো। এছাড়া অন্যান্য অর্থনৈতিক ও সামরিক লেনদেন তো আছেই। জালিম ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধেও দুটি দেশ একত্রে লড়াই করতো।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যকার সেতুবন্ধন হিসেবে মিশরের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেনকে তিনি খুব গুরুত্ব দিতেন। এই বাণিজ্যের ফলে ইউরোপের অনেক শহরও লাভবান হয়। যেমন ইতালির ভেনিস ও পিসা। ভেনেশিয়ানরা আলেক্সান্দ্রিয়ায় আল-আইক বাজার স্থাপন করে।
সালাহউদ্দীন মিশর ও শামে বড় বড় বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করেন ও সংস্কার করেন। এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জিত হয় ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ৫৭৮ হিজরিতে ইবনু জুবাইর এসব বাণিজ্যকেন্দ্রের কয়েকটি পরিদর্শন করেন ও এগুলোর প্রশংসা করেন। হালাবের (আলেপ্পো) ব্যাপারে তিনি লিখেন:
“এটি খুবই সুন্দর ও চমৎকার। বাজারগুলো বড়, প্রশস্ত, সুবিন্যস্ত ও দীর্ঘ। বিভিন্ন পণ্য ও উৎপাদন কারখানা তাদের নিজ নিজ জায়গায় বিন্যস্ত। প্রতিটি দোকান কাঠের ছাদযুক্ত। প্রতিটি দোকানই ব্যস্ত পথচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাকে দাঁড়াতে বাধ্য করবে। বেশিরভাগ দোকানই সুন্দর করে খোদাই করা পাথরের তৈরি।”
সালাহউদ্দীনের সময়ের শামের অন্তর্গত ত্রিপোলির বর্ণনা দিয়ে নাসির খসরু তাঁর সফরনামায় লেখেন:
"আখ, টক কমলা, কলা, ও লেবুর খামার ও বাগানে ঘেরা সুন্দর একটি শহর এটি। এখানে চার, পাঁচ বা ছয়তলাবিশিষ্ট সুতা কারখানা আছে। রাস্তাঘাট-দোকানপাটগুলো এত পরিপাটি যে, দেখে মনে হয় প্রতিটি দোকানই সুসজ্জিত প্রাসাদ। শহরের মাঝখানে কারুকার্য খচিত এক বিশাল সুন্দর মাসজিদ। মাসজিদের উঠানের পরই বিশাল গম্বুজের নিচে মার্বেলের তৈরি চৌবাচ্চা। উঠানের মাঝখানে আছে হলুদ তামার তৈরি একটি ঝর্ণা। এই ঝর্ণার পানি পাঁচটি কলের মাধ্যমে বাজারের লোকদের তৃষ্ণা মেটায়। এখানে একটি কাজগকলও ছিলো। কিন্তু শহরটি বিজিত হওয়ার সময় কারখানাটি ধ্বংস হয়, এর ভেতরের লোকেরা নিহত হয় আর পাঠাগার, বিদ্যালয় ও কারখানা ছাই হয়ে যায়।"
এ আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, সালাহউদ্দীন শহর-বন্দরে দালানকোঠা নির্মাণ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনে মনোযোগী ছিলেন। ত্রিপোলির কাগজকলও সালাহউদ্দীনের অর্জন। ক্রুসেডের বদৌলতে এসব কারখানা তৈরির শিক্ষা ইউরোপে আমদানী হয়। সেখানে প্রথম কারখানা স্থাপিত হয় ১১৮৯ খ্রিষ্টাব্দে বেলজিয়ামে। ষোড়শ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে কোনো কাগজকল ছিলোই না।
মূলত অস্ত্র, বুননশিল্প, রেশমি কাপড়, ঘোড়ার জিন ও কাঁচ উৎপাদন শিল্পকে সালাহউদ্দীন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এছাড়া মৃত্তিকাশিল্প ও জাহাজশিল্পও সে যুগে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। এছাড়া আরো অন্যান্য শিল্পও ছিলো যেগুলো মিলিয়ে অর্থনীতির চাকা সজোরে ঘুরতে থাকে।
📄 সমাজ সংস্কার
সালাহউদ্দীনের সময়কার সামাজিক অবস্থা জুড়ে ছিলো ফ্র্যাংক ও অন্যান্য শত্রুদের সাথে জিহাদ ও প্রতিরোধ। লোক দেখানো বাহাদুরি, মিছে আত্মগৌরব ও বিলাস-প্রমোদের কোনো ছাপ ছিলো না।
সাধারণ পোশাক পরিধান, সাধারণ মানের খাবার গ্রহণ আর বিনয়ী ভঙ্গিতে বসার ক্ষেত্রে সালাহউদ্দীন ছিলেন সাধারণ সৈনিক ও জনগণের জন্য আদর্শ। আল-'ইমাদ আল-আসফাহানি তাঁর পোশাক-আশাক ও চাল-চলনের বর্ণনায় বলেন, “তিনি শুধু হালাল পোশাকই পরতেন। যেমন- লিনেন, সুতি বা পশমের। কেউ তাঁর সাথে বসলে মনেই হতো না যে সে সুলতানের পাশে বসে আছে।”
ঘোড়সওয়ারগিরি ও বল খেলায় সালাহউদ্দীন ছিলেন দক্ষ খেলুড়ে। যুহর সালাতের পর তিনি তাঁর লোকদেরকে নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে 'আসর পর্যন্ত পোলো খেলা দেখতেন। লোকলস্কর ও সঙ্গীসাথীদের সাথে তিনি খেলাধুলাও করতেন। শিকার করা ছিলো সে সময়কার মানুষের প্রিয় একটি শখ। শিকারী কুকুর, বাজপাখি ও নানারকম সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাঁরা পাখি, মাছ, রাজহাঁস, খরগোশ ইত্যাদি শিকার করতেন।
এসব থেকেই বোঝা যায় শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তিনি সহজাতভাবেই গড়ে উঠেছিলেন। সালাহউদ্দীনের হাতে যেসব সমাজ সংস্কারমূলক কাজ হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফাতিমি যুগ থেকে চলে আসা বিভিন্ন অশ্লীলতা-পাপাচার বন্ধ করা। বিশেষ করে নওরোজ উৎসবে যেসব বিশ্রী কাজকারবার ঘটতো, সেগুলো তিনি বন্ধ করে দেন।
সালাহউদ্দীন এসব পাপাচার-অশ্লীলতা বন্ধ করে দিয়ে ইসলামী নিয়ম মেনে জনগণকে পবিত্র জীবনযাপনের সুযোগ করে দেন। বিভিন্ন পালা-পার্বণে যেসব বিদ'আত ও ধর্মদ্রোহী কাজকারবার হতো, সেগুলোও তিনি বন্ধ করে দেন। যেমন- 'আশুরা'র দিনে (১০ই মুহাররম) মানুষ কান্নাকাটি আর মাতম করে একে শোকদিবস বানিয়ে ফেলেছিলো। কাজকর্ম থামিয়ে, দোকানপাট বন্ধ করে মানুষকে এমনভাবে বিরক্ত করা হতো যেন তাদের কাছের কেউ মরে গেছে। সালাহউদ্দীন এসব বিদ'আতকে উৎখাত করেন। শোকের এই দিনকে আনন্দের দিনে পরিণত করেন এবং এই দিনে দান-সদকার প্রচলন করেন। এটি রাসূলুল্লাহর শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সালাহউদ্দীন প্রজাদের প্রতি খুবই দানশীল ছিলেন। তিনি দারিদ্র্যের ভয় করতেন না। তাঁর কাছে টাকাপয়সা আর ধূলাবালি ছিলো সমান। তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ তো আগেই বলা হয়েছে। মাত্র সাতচল্লিশ দিরহাম ও এক জুর্ম। কোনো বাড়ি, ক্ষেত-খামার বা প্রাসাদ তিনি রেখে যাননি।
তিনি যদি নিজের জন্য ও নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য কিছু না-ই নিয়ে থাকেন, তাহলে এত সম্পদ ব্যয় করেছেন কোথায়? এ সবই বণ্টিত হয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সামরিক খরচ, গোলাবারুদ প্রস্তুতি এবং গরীব-দুঃখীদের মাঝে। সালাহউদ্দীন চেয়েছিলেন ঐক্যবদ্ধ সমাজ, শক্তিশালী রাষ্ট্র, এবং মানুষের উন্নত জীবনমান।
সালাহউদ্দীন অনেক অন্যায় কর প্রত্যাহার করেন। বিশেষ করে মক্কার শাসক কর্তৃক হাজ্জযাত্রীদের উপর আরোপিত কর তিনি বাতিল করেন। হাজ্জযাত্রীরা জেদ্দায় ঢোকার আগে এই কর পরিশোধ করতে হতো। সালাহউদ্দীন এর বদলে নিজ খরচে মক্কার শাসককে আট হাজার আরদেব দিতেন এই শর্তে যে, মক্কার প্রকৃত গরীব-দুখীদের মাঝে তা বণ্টন করতে হবে। এভাবে তিনি হাজীদের কষ্টও কমালেন, মক্কার দরিদ্র লোকদেরও উপকার করলেন।
সালাহউদ্দীন শান্তি প্রতিষ্ঠা, মুসলিমদের ঐক্য রক্ষা ও যুলুম প্রতিরোধে তৎপর ছিলেন। পুত্র আল-মালিক আয-যাহিরকে আলেপ্পোর শাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তিনি তাঁকে যে উপদেশ দেন, সেটির বাক্যগুলোতেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ইবনু শাদ্দাদ সেই উপদেশ উদ্ধৃত করেন:
"আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি আল্লাহকে ভয় করার এবং তাঁর বিধি-বিধানগুলো প্রতিষ্ঠিত করার। কারণ এটিই নাজাতের পথ। রক্ত ঝরানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হও, কারণ রক্ত কখনো (প্রতিশোধ না নিয়ে) থেমে থাকে না। আমি আদেশ দিচ্ছি আমার প্রতিনিধি এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে তুমি জনগণের অধিকার সংরক্ষণ কর ও যত্নশীল হও। রাজ-রাজড়া ও সম্ভ্রান্তদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখবে যাতে তোমার লক্ষ্য অর্জিত হয়। সবারই মৃত্যু আসে, কাজেই কারো জন্য অন্তরে বিদ্বেষ পুষে রেখো না। কারো প্রতি অবিচার করবে না। কারণ মাযলুম তোমাকে মাফ না করলে আল্লাহও তোমাকে মাফ করবেন না। অথচ আল্লাহর অধিকার ক্ষুণ্ণ করলে তিনি তা মাফ করে দেন, তিনি তো ক্ষমাশীল।”
মোটকথা, সালাহউদ্দীনের সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে মুসলিম সমাজ থেকে অশ্লীলতা-পাপাচার দূরীভূত হয়ে ইসলামী নীতি-নৈতিকতার পুনর্জাগরণ ঘটে।
টিকাঃ
[৭৪] আরদেব পরিমাপের একটি বড় একক যার সমমান হলো ২৪ সা'আ। এক সা'আ সমান ৩.৫ কিলোগ্রাম।
📄 ধর্মীয় সংস্কার
উপরে বলা হয়েছে সালাহউদ্দীন তাকওয়াসম্পন্ন, ঈমানদার ও আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলকারী ইবাদাতগুজার ব্যক্তি ছিলেন। ইবনু শাদ্দাদ বলেন, “তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) ঈমান ছিলো উত্তম এবং তিনি আল্লাহর অনেক যিকির করতেন। বড় বড় আলিম ও কাযিদের সাহচর্যে থেকে তিনি এসব গুণাবলি অর্জন করেন।" এমন ইসলামী শিক্ষা পেয়ে গড়ে ওঠা একজন মানুষের কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশিত যে, তিনি দ্বীনি সংস্কার কার্যক্রম চালাবেন, ত্রুটি-বিচ্যুতি শুধরে দিবেন, কুফরের অন্ধকার দূর করে ইসলামের আলোকবর্তিকা হবেন। সালাহউদ্দীনও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না।
দৃঢ় ঈমান ও ইয়াকীনে বলীয়ান হয়ে তিনি মুসলিম ভূমিগুলো থেকে নাস্তিকতা ও ধর্মদ্রোহের মূল উপড়ে ফেলেন। আলিম ও কাযিদের সাথে পরামর্শ করে তিনি আল্লাহর আইনের বিরোধিতাকারী লোকদেরকে হত্যা করতেন।
ফাতিমি খলিফার উজির হওয়ার পর মিশরের জনগণের ত্রুটিপূর্ণ আকিদা দেখে তিনি অত্যন্ত দুঃখ করতেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সাহাবাদের (রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুম) সুন্নাহর সাথে এসব আকিদা সাংঘর্ষিক ছিলো। যেমন, এসব ফির্কা বিশ্বাস করতো যে নেতৃত্ব (ইমামতি) মানুষের হাতে নেই। এটি যেহেতু দ্বীনি বিষয়, তাই জনগণ নাকি কখনোই তাদের নেতা নির্বাচন করতে পারবে না। একজন নবীর নাকি কোনো অধিকার নেই জনগণকে এই কাজে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার। নবীকে নাকি মৃত্যুর আগে অবশ্যই একজন ইমাম নির্ধারণ করে দিয়ে যেতে হবে আর সেই ইমাম হবেন নবীদের মতোই পাপের ঊর্ধ্বে। তারা বিশ্বাস করতো যে রাসূলুল্লাহ ﷺ 'আলীকে (রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু) ইমাম নিযুক্ত করে গেছেন, আর আবু বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু) ও 'উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু) তাঁকে টপকে নেতা হয়ে ভুল করেছেন (না'উযুবিল্লাহ)। এসব যালিম আরো বিশ্বাস করতো যে, নেতা হওয়া মানুষেরা অবশ্যই অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন হবেন আর নয়তো ঐশ্বরিক অবতার হবেন। তাদের কিছু ফির্কা এমনও বলে যে, যিনি মারা যাননি তাঁর মাধ্যমে ইমামতি স্থগিত হয়ে গেছে। তিনি এখন আত্মগোপন করে আছেন, শেষ জামানায় বেরিয়ে এসে ন্যায় প্রতিষ্ঠা শুরু করবেন। ৪০৮ হিজরিতে হামযাহ ইবনু 'আলী ঘোষণা দেয় যে খলিফাই আল্লাহ। ফলে শি'য়াদের একটি দল ও ইসমা'ঈলীরা ফাতিমি খলিফা আল-হাকিম বিআমরিল্লাহকে আল্লাহ বলে মেনে নেয়। না'উযুবিল্লাহ। এছাড়া সে একটি বইও প্রকাশ করে যাতে লেখা ছিলো, "ঐশ্বরিক ক্ষমতা অবতার রূপে আদমের মধ্যে আসে, তারপর সেখান থেকে 'আলী ইবনু আবি তালিবের কাছে, সেখান থেকে আল-'আযীযের কাছে, সেখান থেকে তার ছেলে আল-হাকিম বিআমরিল্লাহর কাছে। আর তাদের অবতারের বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি আল্লাহয় পরিণত হয়েছেন।” বাতিনিদের মধ্যে অবতারের বিশ্বাস হামযাহ বিন 'আলীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে উজির হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই সালাহউদ্দীনকে এসব বাতিল আকিদার বিরুদ্ধে সংগ্রামে নামতে হয় আর ইসলামের বিশুদ্ধ আকিদা সুন্নী মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হয়। এর কয়েক মাস পরেই তিনি দেশ জুড়ে শিক্ষালয় স্থাপন শুরু করেন, যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো আন-নাসিরিইয়্যাহ মাদ্রাসা ও কামিলিয়্যাহ মাদ্রাসা। তিনি সর্বস্তরের মানুষকে এসকল বিদ্যাপীঠের সাথে জড়িত হয়ে বিশুদ্ধ ঈমান-আকিদা, রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সাহাবাদের পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দেন।
বাতিলের বিরুদ্ধে সালাহউদ্দীনকে সাহায্য করেছিলো তাঁর প্রতি মিশরের জনগণের ভালোবাসা। দামিয়েটা ও গাযায় ফ্র্যাংকদের উপর জয়লাভ এবং মিশরীয়-অমিশরীয়দের হাজ্জযাত্রার পথ লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার আকাবা জয় করায় তিনি সবার ভালোবাসায় সিক্ত হন। এসকল বিজয়ে খুশি হয়ে মিশরীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শি'য়া মতবাদ ছেড়ে সুন্নী মতবাদ গ্রহণ করে এবং সালাহউদ্দীনের সাথে মিলে আল্লাহর শত্রু ও তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আজকের মিশরের সুন্নীরা সালাহউদ্দীনের কাছে চিরঋণী。