📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 মুসলিম ভূখণ্ডের মুক্তি সমগ্র উম্মাহ’র দায়িত্ব

📄 মুসলিম ভূখণ্ডের মুক্তি সমগ্র উম্মাহ’র দায়িত্ব


ইসলামী বিধান হলো, মুসলিমদের কোনো ভূখণ্ড শত্রু কাফিরদের দখলে চলে গেলে তা পুনরুদ্ধার করতে সমগ্র উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। পূর্ব থেকে পশ্চিমে তাদের সবাই যদি এ আসমানি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে, তাহলে সবাই গুনাহগার হবে।

আল্লাহ বলেন:
“তোমরা যদি (যুদ্ধে) অগ্রসর না হও, তাহলে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন আর তোমাদেরকে অন্য জাতি দিয়ে প্রতিস্থাপিত করে দেবেন। আর তোমরা তাঁর কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর কর্তৃত্বশীল”।

আল্লাহ আরো বলেন,
“বেরিয়ে পড়ো, (স্বাস্থ্য, বয়স, সম্পদ বা অস্ত্রের দিক থেকে) অবস্থা ভারীই হোক আর হালকাই হোক। আর আল্লাহর রাস্তায় তোমাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে যুদ্ধ করতে থাকো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।”

এই মূলনীতির ভিত্তিতেই সালাহউদ্দীন বিভিন্ন ভাষা ও বর্ণের সেনাদেরকে এক ইসলামের পতাকার নিচে সমবেত করেন। তারা এক দেহের মতো হয়ে সম্মিলিতভাবে শত্রুদেরকে আক্রমণ করে। কেন হবে না? এক ইসলামের পতাকাতলে আসলে তারা একে অপরের প্রতি এমনই দয়ালু হয়ে ওঠে যেমনটা দেহের এক অঙ্গে ব্যথা হলে সকল অঙ্গই অস্থির হয়ে যায়।

বিভিন্ন জাতি-গোত্র-ভাষা-বর্ণের মানুষেরা এক পতাকাতলে এসে গেলে তাদের মাঝে তাকওয়া ছাড়া আর কোনো শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি থাকে না। আরব-অনারব, সাদা-কালো দিয়ে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ হয় না। তারা সকলে যে এক ঈমান, এক দ্বীন, এক কুর'আন ও আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী। যত বিঘত ভূমিতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়, যত কেল্লায় ইসলামের পতাকা ওড়ে, সবই তো তাদের সমষ্টিগত মালিকানা।

এক কবি বলেন:
স্বদেশ আমার ইসলাম নীলনদ কিংবা শাম,
আল্লাহর যিকর হলেই হলো যা-ই হোক স্থানের নাম।

সালাহউদ্দীনের শত্রুরা জীবনকে ভালোবাসতো আর তাঁর সৈনিকেরা শাহাদাতকে ভালোবাসতো। শাহাদাতের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে শহীদের কাছে মনে হয়:
মৃত্যু তো আসবেই থাকি আমি যেকোনো শহরে,
হোক না তাহলে সে মৃত্যু ইসলামেরই চাদরে।
বলবো আমি, "দৌড়ে এসেছি, হে আল্লাহ! তোমার পথ।
সফল হয়ে গিয়েছি আমি, কা'বার রবের শপথ!”

ভাষা-বর্ণ নির্বিশেষে যে কেউ আল্লাহকে রব্ব, ইসলামকে দ্বীন আর মুহাম্মাদকে নবী ও রাসূল বলে মেনে নিয়েছে, সে-ই সালাহউদ্দীনের সেনা। কারণ তারা যে উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে যুদ্ধ করতো, তার শেষ প্রান্তে মৃত্যু নেই, আছে শাহাদাত।

টিকাঃ
[৪২] সূরাহ আত-তাওবাহ ৯:৩৯
[৪৩] সূরাহ আত-তাওবাহ ৯:৪১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00