📄 যুদ্ধের সমাপ্তি
দুই দলের মাঝে যুদ্ধ চলতে থাকে। ক্রুসেডাররা কয়েকবার জেরুজালেমের কাছাকাছি চলে আসে। একবার জেরুজালেমের দুই লীগ দূরত্বে পৌঁছে যায় তারা। কিন্তু নিজের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রের আশংকায় ইংরেজ রাজা জেরুজালেম অবরোধ করার সাহস পাননি। আর এই যুদ্ধে যারা জেরুজালেমের প্রতিরক্ষায় আছে, তারা আগেরবারের লোকদের চেয়ে আলাদা। দুই পক্ষের যুদ্ধের ফলাফল একরকম অমীমাংসিত হয়ে যায়। ক্রুসেডাররাও জেরুজালেম বা অন্য কোনো শহর দখল করতে পারেনি, সালাহউদ্দীনও ক্রুসেডারদেরকে বিতাড়িত করে উপকূল থেকে সমুদ্রে ঠেলে দিতে পারেননি। উভয় পক্ষই সন্ধি করতে আগ্রহী হয়। কিন্তু সন্ধির শর্ত নিয়ে মতবিরোধ লেগে যায়। অবশেষে ৫৮৮ হিজরি তথা ১१९২ খ্রিষ্টাব্দে শা'বান মাসে রামাল্লায় সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো:
* ক্রুসেডাররা উপকূলেই টায়ার থেকে হাইফা পর্যন্ত অবস্থান করবে।
* খ্রিষ্টানরা কর পরিশোধ ছাড়াই জেরুজালেম ভ্রমণ করতে পারবে।
* চুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর আট মাস।
উপকূলীয় যে এলাকায় ফ্র্যাংকরা অবস্থান করছিলো, তাকে পূর্ববর্তী জেরুসালেম রাজ্যের বর্ধিত অংশ বলে বিবেচনা করা হতো। নব্য জেরুজালেম রাজ্যের রাজধানী হয় অ্যাকর। চুক্তি সই করে তৃতীয় ক্রুসেডের সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্র রিচার্ড দ্য লায়ন-হার্ট দেশে ফিরে যান।
এভাবে অসংখ্য প্রাণহানি, শহর ধ্বংস, জার্মান সাম্রাজ্যের ভরাডুবি, এবং ইংলিশ ও ফ্রেঞ্চ সাম্রাজ্যের অসংখ্য সৈন্য হারানোর মাধ্যমে পাঁচ বছর পর তৃতীয় ক্রুসেডের অবসান ঘটে। ফ্র্যাংকরা অ্যাকর দখল করা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারেনি। প্রাপ্তি ও হারানোর বিচারে এ যুদ্ধে পরাজিত হয় ইউরোপীয় পক্ষ। পক্ষান্তরে সালাহউদ্দীনের আগমনের আগে যে মুসলিমদের হাতে কিছুই ছিলো না, হাত্তিনের যুদ্ধ ও রামাল্লা চুক্তির মাধ্যমে তাদের অধীনে এখন টায়ার ও অ্যাকরের মধ্যকার সরু উপকূলবর্তী এলাকা ছাড়া পুরো ফিলিস্তিন চলে আসে।
এভাবেই সালাহউদ্দীন হয়ে থাকেন ইতিহাসের স্মরণীয়তম চরিত্রগুলোর একটি। তিনি রাজাদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করান, ক্রুসেডারদের বিতাড়িত করেন, জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন, ইসলামের গৌরব ফিরিয়ে আনেন, আর এমন এক রাজ্য গড়ে তোলেন যার পরিধি ছিলো উত্তর ইরাক (কুর্দিস্তান), লেভান্তের অধিকাংশ, শাম, মিশর, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, এবং বারকাহ। আর এ সবই ঘটে মাত্র অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে।