📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 ক্রুসেডারদের বিজয়ের কারণ

📄 ক্রুসেডারদের বিজয়ের কারণ


ক্রুসেডারদের বিজয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হলো জেরুজালেম ও এর আশপাশের এলাকার মুসলিমদের মধ্যকার হাজারো অন্তর্কলহ এবং মতপার্থক্য। জেরুজালেম হলো সেই ভূমি যেখান থেকে রাসূলুল্লাহকে ﷺ মি'রাজে নেওয়া হয়। এই ভূমিতে ক্রুসেডাররা নিজ যোগ্যতায় কখনো মুসলিমদের উপর চোখ তুলে তাকাতে পারেনি। মুসলিম উম্মাহ'র মধ্যকার বিভিন্ন ঝগড়া-বিবাদ লক্ষ করেই তারা এই দুর্বল জায়গায় আঘাত করে। এভাবেই সুযোগ বুঝে মুসলিম বিশ্বে হামলে পড়ে, ঘরবাড়ি ধ্বংস করে এবং সম্মানিত এক জাতিকে লাঞ্ছিত করে ছাড়ে।

এ কারণেই প্রথম ক্রুসেডের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইতিহাসবিদগণ সেসময় মুসলিম সমাজের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে থাকেন। যেমন

* ক্রুসেডাররা যখন জেরুসালেম অবরোধ করে রেখেছিলো, মুহাম্মাদ ইবনু মালিকশাহ। তাঁর সৎভাই বারকিয়ারুকের সাথে লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
* শামের রাজারা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত থাকা অবস্থায় ফ্র্যাংকরা অ্যাকর অঞ্চল দখল করে নেয়।
* মুসলিম দেশগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতো। কিছু মুসলিম দেশ অপর মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ফ্র্যাংকদের সাহায্য চাইতো।

ইবনুল আসির সহ অনেক ইতিহাসবিদই এই কারণগুলো আলোচনা করেছেন। এ থেকে বোঝা যায় মুসলিম উম্মাহ নিজেই নিজের পরাজয়ের জন্য দায়ী ছিলো। আল্লাহ তাদের উপর কোনো যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে।

টিকাঃ
[২০] মুহাম্মাদ ইবনে মালিক শাহ ১০৭২-১০৯২ সাল পর্যন্ত তুর্কি সেলজুক সাম্রাজ্যের সুলতান ছিলেন।-সম্পাদক
[২১] এর আরবী নাম ৮০, ইংরেজীতে acre, ako ইত্যাদি নামে পরিচিত হলেও সাধারণত এটা akko হিসেবে উচ্চারিত হয়। বর্তমান এটি ইসরায়েলে অবস্থিত।- সম্পাদক
[২২] মা'আররাত আল নু'মান সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে অবস্থিত। -সম্পাদক

📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 দ্বিতীয় ক্রুসেড: হাত্তিনে বিজয়ের পূর্বাভাস

📄 দ্বিতীয় ক্রুসেড: হাত্তিনে বিজয়ের পূর্বাভাস


আগেই বলা হয়েছে যে মুসলিম ঐক্যের অবক্ষয়ই ছিলো ক্রুসেডারদের জেরুজালেম দখলে সাফল্যের প্রধান কারণ। একটি বিপ্লবী ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে ক্রুসেডারদেরকে পরাজিত করা তাই অসম্ভব হয়ে গিয়েছিলো। এই বিপ্লবের একটি আভাস পাওয়া যায় যখন ৫২১ হিজরিতে 'ইমাদুদ্দীন যাঙ্কি মসুল থেকে মা'আররাত আন-নু'মান পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। 'ইমাদুদ্দীন অসংখ্যবার ক্রুসেডারদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এর মধ্যে অন্যতম এবং গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আর-রাহা-তে ৫৩৯ হিজরিতে সংঘটিত সংঘর্ষ। যুদ্ধে পরাজিত হলে এই অঞ্চল থেকে ক্রুসেডারদের প্রভাব দুর্বল হয়ে যায়।

এইসব পরাজয়ের কারণে ক্রুসেডাররা আরো উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং দ্বিতীয় ক্রুসেডের পরিকল্পনা করে। এই যুদ্ধে ফ্রান্সের রাজা পঞ্চম লুই এবং জার্মান সম্রাট তৃতীয় কনরাড অংশ নেন।

তাঁরা 'ইমাদুদ্দীন মাহমুদকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। তিনি তাঁর পিতা 'ইমাদুদ্দীন যাঙ্কির মৃত্যুর পর তাঁর রাজ্যের পশ্চিমাংশ শাসন করেন। তাঁকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানানোর কারণ হলো তাঁকেই তারা ফ্র্যাংকদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করতো। ক্রুসেডাররা শামের দিকে অগ্রসর হয়ে অল্প সময়ের জন্য তা অবরোধ করে হাল ছেড়ে দেয়। ৫৪৩ হিজরিতে অবরোধ তুলে ফেলা হয়। এভাবেই দ্বিতীয় ক্রুসেডের সমাপ্তি ঘটে। ক্রুসেডারদের ব্যর্থতা মুসলিমদেরকে উজ্জীবিত করে তোলে যা পরবর্তীকালে হাত্তিনের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

টিকাঃ
[২৩] ইমাদুদ্দীন যাঙ্কির বেশ কয়েকজন ছেলে ছিলো। তাদের মধ্যে বড় দুইজন ছিলেন সাইফুদ্দীন এবং নুরুদ্দীন মাহমুদ। এই দুই ভাই বাবার রেখে যাওয়া সাম্রাজ্যকে দুই ভাগে ভাগ করেন। সাইফুদ্দীন মসুলকে রাজধানী রেখে পূর্ব দিকের অংশ শাসন করেন এবং নুরুদ্দীন আলেপ্পোকে রাজধানী করে পশ্চিম দিকের দখল নেন। নুরুদ্দীনের শাসনকৃত অংশ ছিলো ক্রুসেডারদের ভূখণ্ডের কাছাকাছি। যে কারণে ক্রুসেডারদের সাথে নুরুদ্দীনের সংঘর্ষ হওয়াটা অনুমিতই ছিলো।- সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00