📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 দামেস্কে সালাহউদ্দীন

📄 দামেস্কে সালাহউদ্দীন


সালাহউদ্দীন এই দাওয়াত পেয়ে খুবই খুশি হন। কারণ এর মাধ্যমে শামের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার বৈধতা হাসিল হয়েছে। তিনি ফ্র্যাংকদের তোয়াক্কা না করে দামেস্কে চলে যান। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করেন এবং নিজের সামর্থ্যের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকেন।

তিনি বসরা হয়ে যান। সেখানকার রাজকুমার তাঁকে সাদরে অভ্যর্থনা জানায়। ৫৭০ হিজরি (১১৭৪ খ্রিষ্টাব্দ) সনের রবিউল আউয়াল মাসে তিনি দামেস্কে পৌঁছান। দুর্গকে তাঁর কাছে সমর্পণ না করা পর্যন্ত তিনি তাঁর পিতার আবাসস্থলে অবস্থান করেন। তারপর তিনি দূর্গের দিকে অগ্রসর হন এবং এর ধনসম্পদ হস্তগত করেন। তিনি দুনিয়াবি সম্পদ ও ভোগ-বিলাসিতার জন্য সম্পদ হস্তগত করতেন না। পরিমিত সম্পদ দিয়েই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর চরিত্র সম্পর্কিত অধ্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়া তিনি দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাহলে সালাহউদ্দীন এই অর্জিত সম্পদ দিয়ে কী করতেন? তিনি ইসলামী বিধান অনুযায়ী দারিদ্র্য ও অশিক্ষা দূরীকরণ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্যই দরিদ্র ও অভাবীদের মাঝে এই সম্পদ বিতরণ করতেন।

রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মধ্য দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়। সবাই তাঁর উপর আশা-ভরসা করে এবং মুসলিম ভূমিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে জেরুজালেম মুক্ত করার জন্য প্রত্যয়ী হয়।

কবিগণ তাঁকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন এবং বহুল আকাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে প্রেরণা দিতে থাকেন। ওয়াজিশ আল-'আসাদি তাঁকে উদ্দেশ্য করে লেখেন:
বিজয় নিশান উঁচিয়ে তুলে ওড়ালেন কতবারই
আরও বিজয় ছিনিয়ে আনুক আপনার তরবারি।
রবের কসম! এমনই এক সিংহ সালাহউদ্দীন
ঝাঁপ দিলে সে শিকার পড়ে লুটিয়ে প্রাণহীন।
জাল্লাক যবে মিনতি করে, “বাঁচাও আমায় বাঁচাও!”
কেউ দেখে না, কেউ ফেরে না, শুধুই "পালাও পালাও!”
আপনি ঠিকই জয় করলেন দুর্গম সে পারারার,
গড়লেন যা ভেঙে পড়েছিলো শক্ত হাতে আবার।
মিশরে যেভাবে প্রাণ ফেরালেন ক্ষণে ক্ষণে বারবার,
সেখানেও ঠিক ঘটলো সেটাই, ফিরে এলো ন্যায়বিচার।
ইসলামী নিশান উড়িয়ে দিলেন দিক-দিগন্ত জুড়ে,
লাঞ্ছিত হলো কাফির ক্রুসেডার পালালো সব পিছ মুড়ে।
দুনিয়াবি কোনো প্রশংসার দিকে তাকালেন না ফিরে
ভোগ-বিলাসকে পায়ে ঠেলে সরিয়ে দিলেন দূরে।
শামকে যদি না বাঁচাতে তুমি ধ্বংস হতো এর সবই,
স্মৃতি হয়ে শুধু রয়ে যেতো যে হৃদয়ে আঁকা ছবি।

নাশু আদ-দাওলাহ আবুল ফাদল তাঁর কবিতায় লেখেন:
দু'আর জবাবে আল্লাহ পাঠালেন দামেস্কে সালাহউদ্দীন
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল 'আলামীন!
রাজা হয়েও তিনি এক আল্লাহর গোলামি করেন খুব
কী জানি কোন যাদুবলে তাঁকে চেনে প্রতীচী-পূব।

সালাহউদ্দীন দামেস্কের বিচারালয়ে বসে সব অবিচার দূর করতে শুরু করেন। যালিম শাসকদের চাপানো করের বোঝা থেকে জনগণকে মুক্ত করেন। সা'আদাহ ইবনু 'আব্দুল্লাহ একটি কবিতায় তাঁর ব্যাপারে বলেন:
দামেস্কের সব অবিচার দূর করার জারি হলো ফরমান
মুকুটের সাথে সাথে পেলেন রাজা জনগণের সম্মান
ফল ছিঁড়ে খায়, ঘুরে ফিরে দেখে প্রজারা ন্যায়বিচারের বাগান।

দামেস্কের ক্ষমতায় থিতু হওয়ার পর সালাহউদ্দীন তাঁর বক্তব্য-বক্তৃতায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি আল-মালিক আস-সালিহকে সাহায্য করার জন্যই এসেছেন। উদাহরণস্বরূপ, দামেস্কের ক্ষমতা পাওয়ার পর তিনি হালাব (আলেপ্পো)-এর দূতকে বলেন, “জেনে রাখবেন, আমি দামেস্কে এসেছি কেবল ইসলামের ভূখণ্ডগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা, পরিস্থিতি ঠিক করা, জনগণের নিরাপত্তা বিধান করা, নুরুদ্দীনের ছেলেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও যুলুমের অপসারণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে।”

📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 হোমস, হামাহ ও হালাব

📄 হোমস, হামাহ ও হালাব


দামেস্ক অধিকারের পর তিনি অল্প সময় সেখানে অবস্থান করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন এবং অন্যায় অবিচার দূর করেন। তারপর তিনি তাঁর ভাই সাইফুদ্দীন তাগতাকিনকে সেখানকার শাসক হিসেব নিযুক্ত করে হোমসের দিকে অগ্রসর হন। তিনি এর দূর্গটি ছাড়া পুরো শহরই দখল করেন। সালাহউদ্দীন সেখানে বেশি সময় নষ্ট করলেন না। তাঁর সেনাপতিদেরকে দূর্গ অবরোধের জন্য রেখে হামাহ'র দিকে অগ্রসর হলেন। হামাহ'র শাসক ছিলেন 'ইযযুদ্দীন জুরদিক, যিনি মিশরের তৃতীয় অভিযানে সালাহউদ্দীনের লেফটেন্যান্ট ছিলেন। তিনি অবশ্য প্রথমে আত্মসমর্পণ করেননি। কিন্তু সালাহউদ্দীন তাঁকে জানালেন যে, তাঁর আসার উদ্দেশ্য হলো শহরটিকে ফ্র্যাংকদের হাত থেকে রক্ষা করা এবং মসুলের শাসক সাইফুদ্দীনের হাত থেকে আল-জাযিরাহ মুক্ত করা। এছাড়া আল-মালিক আল-সালিহ ইসমা'ঈলের প্রতি নিজের আনুগত্যের কথাও জানালেন। জুরদিক এবার শুধু আত্মসমর্পণই করলেন না, হালাবের শাসক সা'দুদ্দীন কামাশতাকিনের কাছে সালাহউদ্দীনের দূত হিসেবে কাজ করতেও রাজি হয়ে গেলেন।

হালাবের আসল শাসক শামসুদ্দীন ইবনুদ দায়াহ-কে হটিয়ে তা দখল করেছিলেন সা'দুদ্দীন। তিনি ইবনুদ দায়াহ ও তার ভাই ও পুত্রদের বন্দী করে ক্রুসেডারদের সাথে সন্ধি করেছিলেন। অন্যায় দখলকারী কামাশতাকিনের কাছে জুরদিককে দিয়ে সালাহউদ্দীন বার্তা পাঠালেন যেন ইবনুদ দায়াহ সহ সকল বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়। জুরদিক এই বার্তা নিয়ে হালাবে পৌঁছলে কামাশতাকিন তাঁকেও বন্দী করেন। কিন্তু তাঁর জানা ছিলো না যে সালাহউদ্দীন তাকে এই সব যুলুমের মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য করবেন।

কামাশতাকিন শুধু এটুকু করেই ক্ষান্ত হননি। মিসইয়াফে অবস্থানকারী এবং ইসমা'ঈলিয়্যাহ গোষ্ঠীর রাশিদুদ্দীন সিনানের কাছে সাহায্য চেয়ে তিনি বার্তাও পাঠান। সালাহউদ্দীনকে হত্যা করতে রশিদুদ্দীন একটি গুণ্ডাদল পাঠান। তারা সালাহউদ্দীনকে অনুসরণ করতে করতে হালাবের পশ্চিমে অবস্থিত জুশান শিবির পর্যন্ত যায়। কিন্তু তারা তাঁর তাঁবুতে ঢুকতে পারার আগেই সৈনিকরা তাদেরকে আক্রমণ করে।

৫৭১ হিজরিতে 'আযায নামে হালাবের একটি গ্রামে সালাহউদ্দীনের অবস্থানকালে এরকম আরেকটি আক্রমণের ঘটনা ঘটে। কিছু আত্মঘাতী হামলাকারী তাঁর তাঁবু আক্রমণ করে। তাঁর দেহরক্ষীদের মতো পোশাক পরে তিনজন লোক তাঁর তাঁবুতে ঢুকে যায় এবং তাঁর মাথায় আঘাত করে। তিনি প্রায় মারাই যাচ্ছিলেন কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর পরিহিত বর্ম আচ্ছাদিত জামার কারণে আঘাত এরচেয়ে গুরুতর হতে পারেনি। ইসমা'ঈলী আত্মঘাতী হামলাকারীরা সালাহউদ্দীনের দেহরক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং উভয়পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। অন্য সৈন্যরা সাথে এসে যোগ দিলে আত্মঘাতী হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সৈন্যরা তাদেরকে ধাওয়া করে ও তাদের কয়েকজনকে হত্যা করতে সমর্থ হয়।

সুলতান সালাহউদ্দীন প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন। পরের বছর হালাব থেকে ফিরে এসে তিনি হামাহ'র পশ্চিম দিকে মিসইয়াফে তাদের দূর্গের দিকে যাত্রা করেন। তিনি তাদের জন্য মিনজানিকের ব্যবস্থা করেন। তাদের বহু সংখ্যককে হত্যা ও বন্দী করেন। তারা যেসব অর্থ ও গবাদি পশু ছিনিয়ে নিয়েছিলো তা উসুল করে নেন এবং তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিয়ে সমুচিত শিক্ষা দিয়ে আসেন।

কামাশতাকিন হতাশ হয়ে এবার ক্রুসেডারদের সাহায্য চান। ক্রুসেডাররা এতে সাড়া দিয়ে তৃতীয় রেইমন্ডের নেতৃতে একটি বাহিনী প্রেরণ করে। সালাহউদ্দীন এরই মধ্যে হালাব মুক্ত করে ক্রুসেডারদের মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে হোমসের দিকে রওনা করেন। ক্রুসেডাররা সালাহউদ্দীনের আসার খবর পেয়েই পালিয়ে যায়। সালাহউদ্দীন তারপর দামেস্কে গিয়ে বা'আলবেক দখল করেন।

নূরুদ্দীনের ছেলেদের ষড়যন্ত্রের কারণে সালাহউদ্দীনকে এসময় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শামের বেশ কিছু শহর সালাহউদ্দীনের দখলে আসার পর নূরুদ্দীনের ছেলেরা ভাবে যে তিনি আরো অঞ্চল দখল করে ক্ষমতায় গেড়ে বসবেন। তারা মসুলের শাসক সাইফুদ্দীন গাযিকে অনুরোধ করে তিনি যেন তার জ্ঞাতিভাই আল-মালিক আস-সালিহকে সাহায্য করেন। তিনি আল-মালিকের সাহায্যার্থে সেনা, অস্ত্র ও রসদ প্রস্তুত করেন।

তিনি হালাবে এসে হালাবের বাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে সালাহউদ্দীনের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। সালাহউদ্দীন দেখলেন যে এই সংঘর্ষের ফলে অযথা রক্তপাত হবে আর এর সুফল ভোগ করবে ফ্র্যাংকরা। তিনি সমঝোতার আহ্বান জানান। তিনি এই শর্তে সব বিজিত শহর তাদেরকে দিয়ে দিতে রাজি হলেন যে, রাজার পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত শাসক হিসেবে তিনি দামেস্কে থাকবেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ তা মেনে না নিয়ে সব শহর ফিরিয়ে দিয়ে তাঁকে মিশরে ফেরত যেতে বলে। ফলে লড়াই করা ছাড়া সালাহউদ্দীনের সামনে আর কোনো বিকল্প থাকলো না।

এক আরব কবি বলেন:
কণ্টকাকীর্ণ পথই যখন একমাত্র পথ
তখন এ পথেই চলার নিতে হয় শপথ।

সালাহউদ্দীন যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন এবং হামাহ'র নিকটবর্তী স্থানে ৫৭০ হিজরি সনের ৯ই রমাদ্বান তাদের মুখোমুখি হন। তুমুল আক্রমণ করে তিনি তাদেরকে এতই ভড়কে দেন যে পরিস্থিতির ভয়াবহতায় কোনো সৈনিক আর তার সহকর্মীর খোঁজ নিচ্ছিলো না। তারা হালাবে পালিয়ে যায়। সালাহউদ্দীন তাদেরকে ধাওয়া করে তাদের রসদ ছিনিয়ে নেন ও হালাবে তাদেরকে ঘিরে ফেলেন। পরাজয়ের পর সাইফুদ্দীন পুনরায় প্রস্তুতি নিতে মসুলে ফিরে যায়। সালাহউদ্দীন তাঁকে ধাওয়া করে সুলতান পাহাড়ে তার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সালাহউদ্দীন আবারো জয়লাভ করে মসুলের বাহিনীর বেশিরভাগকে বন্দী করে তাদের মালপত্র হস্তগত করেন।

এরপর সালাহউদ্দীন বাযা'আহ-তে যান এবং তাঁর হাতে দূর্গের পতন ঘটে। এরপর তিনি মানবাজ দখল করেন এবং 'আযায দূর্গের পতনের আগ পর্যন্ত তা আবরোধ করে রাখেন। তিনি আবার হালাবের দিকে অগ্রসর হন। হালাব অবরোধ করে রাখার সময় নূরুদ্দীনের কন্যা, আল-মালিক আস-সালিহ'র বোন সালাহউদ্দীনের সাথে দেখা করতে বেরিয়ে আসেন। সালাহউদ্দীন তাঁকে সাদরে অভ্যর্থনা জানান ও অনেক দামী দামী উপহার দেন। তিনি তাঁর প্রজাদের দাবি-দাওয়া জানতে চান। আল-মালিকের বোন জানান যে তারা 'আযায চায়। নূরুদ্দীনের যথাযথ সম্মানে সালাহউদ্দীন 'আযায ফিরিয়ে দেন ও তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে হালাবের ভেতর পৌঁছে দিয়ে আসেন।

অবরোধ চরমে পৌঁছলে আল-মালিক আস-সালিহ প্রজাদের সাথে পরামর্শ করে সমঝোতা করতে রাজি হন। তিনি শর্ত দেন যে সালাহউদ্দীনের জয় করা শহরগুলোই শুধু তাঁর অধীনে থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী সালাহউদ্দীন দামেস্ক, হোমস, হামাহ, আল-মা'আররাহ এবং আরো কিছু ছোট শহর ও সেগুলোর দূর্গের অধিকারী হন। আল-মালিক আস-সালিহ'র দখলে থাকে কেবল হালাব ও এর সংলগ্ন কিছু শহর।

এই সমঝোতার পর সালাহউদ্দীন ৫৭৬ হিজরিতে মিশরের অবস্থা তদারক করতে সেখানে ফেরত আসেন। তিনি মিশর পৌঁছতে না পৌঁছতেই খবর আসে যে আল-মালিক আস-সালিহ'র মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বয়স ছিলো মাত্র উনিশ বছর। তিনি অসিয়ত করে যান যে তাঁর জ্ঞাতিভাই ও মসুলের শাসক 'ইযযুদ্দীন মাস'উদ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন। 'ইযযুদ্দীন খবর পাওয়ার সাথে সাথে মসুল ত্যাগ করে হালাবের দিকে রওনা দেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথেই তাঁর ভাই ও সিনজিরের শাসক 'ইমাদুদ্দীন তাঁর সাথে স্থান বিনিময় করার প্রস্তাব দেন। 'ইযযুদ্দীন তাতে সাড়া দিয়ে নিজে সিনজিরের শাসক হন। আর 'ইমাদুদ্দীন ৫৭৮ হিজরির ১৩ই মুহাররম হালাবের শাসক হিসেব দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরে হালাব বিজয় করে 'ইমাদুদ্দীনকে নিজের বশ্যতা স্বীকার করান সালাহউদ্দীন। ৫৭৯ হিজরির ১৭ই সফর জনগণ তাঁকে সানন্দে বরণ করে। কবি ও কাহিনীকারেরা তাঁর কাজের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে আর তাঁর অমর কীর্তিগাঁথা নিয়ে কবিতা রচনা করে। দামেস্কের কাযি মহিউদ্দীন ইবনুয যাকি বলেন:
সফর মাসে আপনার তলোয়ারে হালাব বিজয়
যেন রজবে জেরুসালেম বিজয়ের লক্ষণ হয়।

ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, হালাব বিজয়ের চার মাস পর ঠিক রজব মাসেই জেরুসালেম বিজয় হয়। হালাব বিজয়ের পর কবিতায় যারা সালাহউদ্দীনের প্রশংসা করেন, তাঁদের একজন ইউসুফ আল-বারা'ই বলেন:
আপনি যখন হালাব করেন জয়
সেখানে তখন খুশির জোয়ার বয়।
সে আপনার হাতে নিজেকে সঁপে দেয়
শাসনাধিকার প্রয়োগ করুন, থাকুন নির্ভয়।

হালাবের মর্যাদার প্রশংসায় আবু তাইয়ি নাজ্জার বলেন:
হালাব হলো শামের রাজা, ইউসুফ তার বাড়ালেন জৌলুস
যে-ই একে জয় করে তারই ঝরে যায় সব কলুষ।
যে-ই এখানে বাস করেছে সে-ই পেয়েছে সম্মান গভীর-অতল
যে-ই একে শাসন করেছে সে-ই শাসন করেছে পর্বত-সমতল।

এই পর্যায়ে সালাহউদ্দীন তিনটি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেন- ইসমা'ঈলীদের, ফ্র্যাংকদের এবং নূরুদ্দীনের রাজকুমারদের। ইরাক, শাম ও মিশরে ইসলামের ঐক্য বাধাগ্রস্ত করতে এই তিনটি শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো। কিন্তু প্রজ্ঞা, ক্ষমতা ও দৃঢ়তা দিয়ে সালাহউদ্দীন তাদের উপর বিজয়ী হন।

টিকাঃ
[১৩] ফাদা'ইহ আল আল-বাতিনিয়্যাহ 'আন মাবাদি' আল-ইসমা'ঈলিয়্যাহ গ্রন্থে ইমাম গাযালি বলেন যে, এই গোষ্ঠীটি বাহ্যিকভাবে শি'য়াদের একটি উপদল হলেও ভেতরে ভেতরে তারা পাক্কা কাফির। তারা হিজাবের বিধানে বিশ্বাস করে না। অনেক হারামকে হালাল বানায়। অন্যান্য ধর্মকে অস্বীকার করে না। কিন্তু তারা এসব বিশ্বাসকে ইসমা'ঈল জা'ফার আস-সাদিকের থেকে পাওয়া বলে দাবি করে।
[১৪] বাযা'আহ বর্তমান সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশের একটি শহর।- সম্পাদক
[১২] সিনজির বর্তমান সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের একটা গ্রামের নাম। -সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00