📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 নূরুদ্দীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক

📄 নূরুদ্দীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক


ফাতিমি খলিফার মৃত্যুর পর নুরুদ্দীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তৎপর হয়ে ওঠেন সালাহউদ্দীন। অন্যথায় নুরুদ্দীনের মনে হতে পারতো যে সালাহউদ্দীন ক্ষমতায় জেঁকে বসতে চাইছেন। শিরকুহ’র সময় থেকে নুরুদ্দীনের সাথে যে ভালো বোঝাপড়া চলে আসছিলো, তা তিনি বজায় রাখেন। যৌবনে তাঁর প্রতি নুরুদ্দীনের অনুগ্রহকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণে রাখেন।

কিছু সময় পরই আব্বাসি খলিফার পরিবর্তে নুরুদ্দীনের নামে খুতবা দেওয়ার আদেশ দেন সালাহউদ্দীন। তিনি তাঁর নাম খচিত মুদ্রা প্রচলন করেন এবং তাঁকে প্রাসাদের কোষাগার থেকে উপঢৌকন পাঠান।

মিশরে সালাহউদ্দীনের শাসনামলে কিছু বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি তাঁকে অমান্য করে এবং মিশরে বসবাস করতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা সালাহউদ্দীনের সাথে নুরুদ্দীনের কলহ বাঁধিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং এই হীন প্রচেষ্টায় কিছু মাত্রায় সফলও হয়। কিন্তু প্রজ্ঞাবান জনগণ এই চক্রান্তগুলো ধরে ফেলে এবং উভয়পক্ষকে সুপরামর্শ দিয়ে শত্রুতার কুফল বোঝায়। অন্তর্কলহ থেকে কেবল বহিঃশত্রুরাই উপকৃত হয়। অল্প সময়ের মাঝেই উভয় পক্ষের মাঝে আস্থা পুনরুদ্ধার হয়। ৫৬৯ হিজরি তথা ১১৭৩ নুরুদ্দীনের মৃত্যু পর্যন্ত সালাহউদ্দীন তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাকেন।

এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সালাহউদ্দীন স্বাধীনতার পথে সব বাধা দূর করতে সমর্থ হন এবং প্রাচ্যের মুসলিমদের পক্ষে এক দুর্জয় শাসক ও যোদ্ধায় পরিণত হন। বিভিন্ন সময় ক্রুসেডারদের যুলুমে মুসলিমদের যে ক্ষতি হয়েছিলো, আল্লাহ তার কড়ায়-গণ্ডায় শোধ তোলার নিয়তি লিখে দিয়েছেন সালাহউদ্দীনের জন্য। পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে ইনশাআল্লাহ আলোচনা করবো সালাহউদ্দীন কীভাবে মুসলিম ভূমিগুলোকে নিজের শাসনাধীনে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং হাত্তিনের মহাগুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে ক্রুসেডারদের পরাজিত করে ইসলাম ও মুসলিমদের গৌরব পুনরুদ্ধার করেন।

“এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তাকেই তিনি দান করেন। এবং আল্লাহ প্রাচুর্যের অধিকারী, সর্বজ্ঞ।”[১২]

টিকাঃ
[১২] সূরাহ আল-মা'ইদাহ ৫:৫৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00