📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 ফাতিমি খলিফার উজির

📄 ফাতিমি খলিফার উজির


দুই মাস পর আসাদুদ্দীন শিরকুহ'র মৃত্যু হলে সালাহউদ্দীন তিন দিন শোক পালন করেন। বয়স ও অভিজ্ঞতায় আরো বড় বড় জেনারেলগণ থাকার পরও উজির হিসেবে আল-'আদিদ বেছে নেন ইউসুফ সালাহউদ্দীনকে।

ইতিহাসবিদগণ বলেন যে, সালাহউদ্দীনকে বাছাইয়ের কারণ হলো তাঁর কম বয়সের সুযোগ নিয়ে তাঁকে হুকুমের গোলামে পরিণত করার বাসনা। তবে তাঁর তাকদিরে ছিলো একেবারেই ভিন্ন ফলাফল। উজির হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সময় সালাহউদ্দীনের বয়স ছিলো বত্রিশ। ততদিনে নূরুদ্দীন ও আসাদুদ্দীনের সাথে থেকে থেকে সালাহউদ্দীন হয়ে উঠেছেন খুবই অভিজ্ঞ ও দক্ষ।

সালাহউদ্দীন মিশরের জনগণের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং দুহাত খুলে সম্পদ বণ্টন করেন। নাহলে তাঁর বিরুদ্ধে তারা মিশরীয় রাজকুমারদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এ আচরণের ফলে মিশরবাসী তাঁকে আপন করে নিতে শুরু করে। তার উপর ফ্র্যাংকদেরকে পরাজিত করা এবং তাদের হাত থেকে দামিয়েতা, গাযা ও 'আকাবাহ মুক্ত করার মাধ্যমে তাঁর খ্যাতি আরো ছড়িয়ে পড়ে। এই শহরগুলোর পাশাপাশি তিনি 'আকাবাহ পোতাশ্রয় মুক্ত করেন যা ছিলো লোহিত সাগরে যাওয়ার রাস্তা। এই পথ ধরেই মিশরীয়রা মক্কায় হাজ্জের উদ্দেশ্যে গমন করতো। এই মহান বিজয় এবং হাজ্জগমনের রাস্তার নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সালাহউদ্দীন মিশরবাসীদের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। তার উপর মিশরবাসী শি'য়াদের কবল থেকে বেরিয়ে এসে সুন্নী মতবাদে যোগ দেয় এবং সালাহউদ্দীনের সাথে মিলে আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বদ্ধপরিকর হয়।

📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের অবসান

📄 অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের অবসান


আগেই বলা হয়েছে যে, সালাহউদ্দীন খুব অল্পবয়সে দায়িত্ব পান। ফলে ফাতিমি সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠপোষকতায় কর্মরত কর্তাব্যক্তিরা তাঁকে হিংসা করতে থাকে। বিদেশ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে তাদের অধিকার হরণ করতে থাকা এক আপদ হিসেবেই তাঁকে দেখতে শুরু করে। তার উপর মিশরে ফাতিমিদের প্রভাব বৃদ্ধি করতেও তারা এই নওজোয়ান উজিরের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত করতে থাকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলো খলিফাহর ঘনিষ্ঠ সহচর নাজাহ, 'ইমারাহ আল- ইয়ামানি এবং কানযুদ দাওলাহ'র ষড়যন্ত্র।

📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 নাজাহ’র ষড়যন্ত্র

📄 নাজাহ’র ষড়যন্ত্র


নাজাহ ছিলো সর্বশেষ ফাতিমি খলিফা আল-'আদিদের দরবারের এক খোজা পুরুষ। ৫৬৪ হিজরিতে সে সালাহউদ্দীনের বিরুদ্ধে একদল মিশরীয়র সাথে মিলে ক্রুসেডারদের সাথে চক্রান্ত করে।

নপুংসক এই গাদ্দার ক্রুসেডারদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাদেরকে মিশর আক্রমণ করার আহ্বান জানায়। তার পরিকল্পনা ছিলো ক্রুসেডাররা যখন আক্রমণ করবে তখন সালাহউদ্দীনকে পেছন থেকে আক্রমণ করে উভয় সঙ্কটে ফেলে দেওয়া। চিঠি লিখে সে একটি নতুন জুতায় তা লুকিয়ে রাখে এবং ফ্র্যাংকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়।

এর আগেই জুতোটি সালাহউদ্দীনের এক অনুসারীর হস্তগত হয় এবং সে দ্রুত সালাহউদ্দীনকে তা জানিয়ে দেয়। কিন্তু সালাহউদ্দীন নাজাহ'র অনুসারীদের প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি আপাতত গোপন রাখেন এবং উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় থাকেন।

একবার নাজাহ কায়রোর বাইরে নিজের দূর্গের উদ্দেশ্যে রওনা হলে সালাহউদ্দীন তাকে হত্যা করতে এক দল সৈন্য পাঠান। এই ঘটনার পর ফাতিমি খলিফার অনুসারি সৈন্যরা ফুঁসে উঠে। খলিফাহ'র পঞ্চাশ হাজার সুদানী সেনা সালাহউদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর হয়। সালাহউদ্দীনের সাথে তাদের যুদ্ধ বেঁধে যায় যা দু'দিন স্থায়ী হয়। তাদেরকে পরাজিত করে সালাহউদ্দীন নাজাহ ও সুদানী সেনাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেন।

শুধু যে সুদানীরাই বিদ্রোহ করেছিলো তা না। ফাতিমি রাজকুমাররাও দেশে যুদ্ধ ও কলহের আগুন লাগিয়ে দেয়।

📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 ইমারাহ আল-ইয়ামানির ষড়যন্ত্র

📄 ইমারাহ আল-ইয়ামানির ষড়যন্ত্র


আরেকটি উল্লেখ করার মত ষড়যন্ত্র ছিলো বিখ্যাত কাহিনীকার 'ইমারাহ আল-ইয়ামানির ষড়যন্ত্র। একদিকে আল-'আদিদের এক ছেলেকে ক্ষমতায় বসিয়ে ফাতিমি শাসন পুনরুদ্ধার এবং সালাহউদ্দীনকে বিতাড়িত করার জন্য সে কায়রোতে বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী জোগাড় করে। অন্যদিকে দ্রুত ফ্র্যাংকদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে মিশর আক্রমণের জন্য আহ্বান জানায়। বিরাট সংখ্যক সালাহউদ্দীন বিরোধী এ কাজে সাহায্য করে।

তাদের একজন পুরষ্কারের আশায় যাইনুদ্দীন ইবনু নাজাকে ডেকে সালাহউদ্দিনের হাতে ধরিয়ে দেয়। সালাহউদ্দীন তাদের সবাইকে হত্যা করে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের ব্যাপারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এই ষড়যন্ত্র সংঘটিত হয় ৫৬৯ হিজরি সনে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00