📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 মিশরকেন্দ্রিক দ্বন্দের দ্বিতীয় পর্যায়

📄 মিশরকেন্দ্রিক দ্বন্দের দ্বিতীয় পর্যায়


মিশরে গিয়ে আসাদুদ্দীন শিরকুহ'র লাভ হয়। তিনি বিস্তর গবেষণা করে আবিষ্কার করেন যে মিশরই হলো সেই ভূমি, যাকে ব্যবহার করে তিনি ক্রুসেডারদেরকে পরাজিত করতে পারবেন। তিনি নূরুদ্দীনকে বিষয়টি অবগত করেন এবং একে দখল করার অনুমতি চান। নূরুদ্দীন তাতে সাড়া দিয়ে ৫৬২ হিজরিতে শিরকুহ ও সালাহউদ্দীনের নেতৃত্বে একটি বাহিনীকে দ্বিতীয়বারের মতো অভিযানে প্রেরণ করেন। উজির শাওয়ির যখন শামের বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার খবর পান, তখন তিনি ক্রুসেডার মিত্রদের সাহায্য চান এবং তারা সাহায্য করতে রাজি হয়। উঁচু মিশরের মুনিয়ায় এই দুই দলের সংঘর্ষ হয়। ৫৬৩ সালে শত্রুদের বিরুদ্ধে শামের বাহিনী বিজয়ী হয়। এই যুদ্ধ সালাহউদ্দীনের বীরত্ব ও সাহসিকতার এক উজ্জ্বল প্রমাণ।

শামের বাহিনী এরপর আলেক্সান্দ্রিয়ার দিকে অগ্রসর হয় এবং একরকম বিনা বাধায় তা দখল করে নেয়। আসাদুদ্দীন তাঁর ভাতিজা সালাহউদ্দীনকে আলেক্সান্দ্রিয়ার শাসক হিসেবে নিযুক্ত করেন। শাসক হিসেবে সালাহউদ্দীনের এটিই অভিষেক। তাকদিরের লিখনে তিনি যেন তাঁর মেধা ও যোগ্যতা প্রমাণ করার এক সুবর্ণ সুযোগ পেলেন। আসাদুদ্দীন আল-ফুস্তাত ও কায়রোতে যাওয়া মাত্রই বাইজেন্টাইন বাহিনীর সাহায্যে ক্রুসেডার বাহিনী আলেক্সান্দ্রিয়া আক্রমণ করে স্থল ও নৌ উভয় পথে এর উপর অবরোধ আরোপ করে। আলেক্সান্দ্রিয়ার জনগণ প্রায় আত্মসমর্পণ করেই ফেলেছিলো। কিন্তু চাচার আগমনের আগ পর্যন্ত সালাহউদ্দীন শত্রুদের প্রতিরোধ করে রাখতে সমর্থ হন। ফলাফলস্বরূপ, উভয়পক্ষ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং মিশর থেকে সরে যেতে রাজি হয়।

📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 মিশরকেন্দ্রিক দ্বন্দের সর্বশেষ ধাপ

📄 মিশরকেন্দ্রিক দ্বন্দের সর্বশেষ ধাপ


রাজা আলমারিক চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে কিছু সৈন্য মিশরে রেখে দেয় এবং শামের বাহিনীর চলে যাওয়ার অপেক্ষা করতে থাকে। তারা অভিযানের প্রস্তুতি নেয়, বুলবাইস শহর দখল করে প্রচুর মানুষ হত্যা করে এবং আল-ফুস্তাত দখল করার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়। উজির শাওয়ির যখন খবর পান যে ক্রুসেডাররা আল-ফুস্তাত দখল করতে আসছে, তখন তিনি সেখানে আগুন ধরিয়ে দেন এবং চুয়ান্ন দিন যাবত এই অবস্থাই থাকে। ক্রুসেডাররা তখন কায়রোর দিকে অগ্রসর হয়ে একে অবরোধ করে। শাওয়ির ক্রুসেডারদের সাথে সমঝোতা করেন। এদিকে শামের বাহিনীকে তিনি পুনরায় আসার আহ্বান করেছিলেন এবং তারা এতে সাড়া দিয়ে আবারো বাহিনী প্রেরণ করে।

নূরুদ্দীন মিশর দখল করার এই সুযোগকে লুফে নেন। তিনি তৃতীয়বারের মতো শিরকুহ ও সালাহউদ্দীনের নেতৃত্বে বাহিনী প্রেরণ করেন। তাঁরা এসে মিশরীয় সেনাবাহিনীর সাথে মিলিত হলে ক্রুসেডাররা লড়াই না করেই পালিয়ে যায়। শিরকুহ কায়রোতে প্রবেশ করার পর জনগণ তাঁকে সাদরে বরণ করে নেয় এবং তাঁর মাঝে ভালো লক্ষণ আঁচ করতে পারে। ফাতিমি খলিফা আল-'আদিদ তাঁকে কাছে টেনে নেন এবং তাঁর সাথে ভালো আচরণ করেন। শাওয়ির আস-সা'দীর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছিলো, যার জের ধরে ৫৬৪ হিজরিতে তিনি খুন হন। আসাদুদ্দীন শিরকুহ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। কিন্তু মাত্র দুই মাস পরই ৫৬৪ হিজরি মোতাবেক ১১৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।

📘 সালাহউদ্দীন আইয়ুবী > 📄 বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

📄 বিশ্লেষণ ও মন্তব্য


এখন পর্যন্ত আলোচিত ঘটনা থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, চাচার সাথে মিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতা ও যুদ্ধ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সালাহউদ্দীন অসাধারণ সাহসিকতা ও প্রজ্ঞার এক দুর্লভ সমন্বয় প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে শুরু থেকেই বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে নিয়ে গিয়ে ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করছিলেন। তিনি যেসব যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, সেগুলো নিঃসন্দেহে তাঁর অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস ও ঈমানের ঝুলিতে একেকটি অর্জন। পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে আমরা ইনশাআল্লাহ আলোচনা করবো কীভাবে তিনি মুসলিম ভূমিগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে একটি একক ইসলামী বাহিনী গড়ে তোলেন। এর ফলেই হাত্তিনের যুদ্ধে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে অবিস্মরণীয় বিজয় অর্জিত হয় এবং তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00