📄 শিক্ষা
আগেই বলা হয়েছে সালাহউদ্দীন শৈশবে বা'আলবেকে ছিলেন। স্বভাবতই তাঁর বিদ্যাপীঠ এক শহর থেকে আরেক শহরে পরিবর্তিত হতে থাকে। অন্যান্য সম্ভ্রান্ত মুসলিমদের সন্তানদের মতোই তিনি লেখাপড়া, কুরআন হিফয করা ও আরবি ভাষার নিয়ম রপ্ত করেন।
তাবাকাত আশ-শাফ'ইয়্যাহর লেখক বলেন যে, সালাহউদ্দীন হাদীস শিখেন আল-হাফিয আস-সালাফি, ইবনু 'আউফ, আন-নাইসাবুরি এবং 'আব্দুল্লাহ ইবনু বাররির কাছে। তিনি ছিলেন বিচারক, কুরআনের হাফিয এবং তুখোড় কবি।
ইতিহাসবিদগণ একমত যে, পূর্ব থেকে পশ্চিম, সামারকান্দ থেকে কর্ডোভা, সব জায়গা থেকে আলিমগণ দামেস্কের মাসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোতে পড়তে এবং শিক্ষকতা করতে আসতেন। সালাহউদ্দীন এঁদের সোহবত পেয়েছিলেন। বিশেষ করে আল-উমাওয়ি মাসজিদের খতিব 'আব্দুল্লাহ ইবনু আবি 'আসরুনের কাছে। তাঁকে দামেস্কে এনেছিলেন নূরুদ্দীন, যিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের উদ্দেশ্যে দামেস্কে এবং শামের বড় বড় শহরগুলোতে প্রচুর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। আবি আ'সরুন এত দক্ষ ও বিখ্যাত ছিলেন যে, তিনি দামেস্কের প্রধান বিচারপতির পদ লাভ করেন। এই আলিমকে সালাহউদ্দীন খুব সম্মান করতেন এবং যত্ন নিতেন, বিশেষত তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার পর।
অশ্বচালনা, বর্শা নিক্ষেপ, শিকার ও সমরকৌশলে সালাহউদ্দীন খুবই দক্ষ ছিলেন। তিনি যে পরিবেশে থাকতেন, সেখানে এসব শেখার জন্য খুব উপযুক্ত ছিলো। ফলস্বরূপ তিনি সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান এবং যুদ্ধের ময়দানের জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারার গুণ রপ্ত করেন। এছাড়া দক্ষ যোদ্ধার মৌলিক সব গুণাবলিই তাঁর মধ্যে ছিলো। যেমন: মেধা, বুদ্ধি, বংশ, পরিবেশ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা সব! একজনের ভেতর এত গুণের সমাহার খুবই দুর্লভ।
সবাই যখন দিশেহারা হয়ে পড়তো, তখনও তাঁর হৃদয় থাকতো অবিচল আর চিন্তাশক্তি থাকতো ভারসাম্যপূর্ণ। এটিও ইতিহাসের মহান ব্যক্তিদের একটি গুণ। উদাহরণস্বরূপ, শাম বিজয়ের সময় খবর আসে যে তাঁর ভাই তাজুল মুলুককে হত্যা করে হয়েছে। তারপর তাঁর আরেক ভাই আল-মালিক আল-মুযযাফফারের মৃত্যুসংবাদ আসে। শেষের জন ছিলেন দূর্গের নিরাপত্তা বিভাগের একজন দক্ষ প্রকৌশলী। কিন্তু এসব দুঃসংবাদ সালাহউদ্দীনকে ব্যথিত করলেও বিচলিত করতে পারেনি।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, সালাহউদ্দীন ছিলেন দক্ষ রাজনীতিবিদ, অভিজ্ঞ নেতা, প্রশিক্ষিত যোদ্ধা এবং সম্মানিত আলিম। তাঁর তাকদিরে লেখাই ছিলো যে তিনি হবেন হাত্তিনের বিজয়ী বীর, ক্রুসেডারদের ত্রাস, পূর্ব-পশ্চিম সবখানে খ্যাতিমান, উত্তরসূরীদের আদর্শ এবং ইতিহাসের এক মহান চরিত্র। সালাহউদ্দীনের মতো এমন ইসলামী জযবাধারী, তেজস্বী, ইসলামের সুরক্ষিত ঘাঁটি ও নবীদের ভূমির প্রতিরক্ষাকারী আরেকটি সন্তান মুসলিম মায়েরা আর জন্ম দিতে পারেনি। কবির ভাষায়,
হায়!
এমনই ছিলেন আমার পিতাগণ!
কে আমায় এনে দেবে আবার সে রতন?