📘 সালাফি দাওয়াতের মূলনীতি 📄 (খ) ইলম ও দলীল ছাড়া ফওয়া দেওয়া

📄 (খ) ইলম ও দলীল ছাড়া ফওয়া দেওয়া


২. ইলম ও দলীল ছাড়া ফৎওয়া দেওয়া (الإফতা بغير علم ودليل) :
'যেকোন মাযহাবের ফিক্বহী সিদ্ধান্ত সঠিক' এরূপ ফৎওয়া দানের ফলে মুফতীগণ প্রত্যেক ফৎওয়া তলবকারীকে ঐসব ফৎওয়াই দিয়ে থাকেন, যেগুলি তার অনুসৃত ফিক্বহী রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল। বরং তাদের কেউ কেউ প্রত্যেক মাসআলায় প্রত্যেক মাযহাবের সবচেয়ে সহজ বিধানটি সন্ধান করেন। অতঃপর সেটি দিয়ে ফৎওয়া দেন। ফলে শরী'আত অনুযায়ী আমল করার বিষয়টিকে অপদস্থ করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট হয়। বরং উক্ত আমল এক প্রকার দূর হয়ে যায়। কারণ প্রত্যেক মাযহাবে এমন কিছু অতীব উদার কথা আছে, কুরআন ও হাদীছে যার বিপরীত এসেছে। এ বইয়ে যা বর্ণনার সুযোগ নেই। কিছু লোক এ ব্যাপারে আরও বেশী উদারতা দেখিয়ে থাকে। তারা যেকোন আলেমের যেকোন কথা অনুযায়ী ফৎওয়া দেয়। দূরের ও নিকটের অনেকেই জানেন যে, আধুনিক বহু সংখ্যক আলেম সূদ, মদ, মহিলাদের পোষাক ও তাদের অধিকার সমূহ এবং ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ বিষয়ে কি সব ফৎওয়া দিয়ে থাকেন। আমরা যদি এসব ও অন্যান্য বিষয়ে বাতিল ফৎওয়া সমূহ একত্রে জমা করি, তাহ'লে ইসলামকে পুরাপুরি ও ব্যাপকভাবে ধ্বংসকারী একাধিক ভলিউম গ্রন্থ রচিত হয়ে যাবে।

(খ) এসব বাতিল ফৎওয়া সমূহ কেবল ব্যবহারিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং আমলের সীমানা অতিক্রম করে তা আক্বীদা ও গায়েবী বিষয় সমূহের মধ্যেও প্রবেশ করেছে। ফলে সেখানেও লোকেরা নানা রকমের রায় ও ধ্যান-ধারণার বশীভূত হয়ে পড়েছে। বহু আলেম আক্বীদা ও গায়েবী বিষয় সমূহে বহু ছহীহ হাদীছ বাদ দিয়েছেন এবং এসব বিষয়ে তারা নিজ নিজ ধারণা-কল্পনা ও ইজতেহাদ মতে কথা বলেছেন, যেসব বিষয়ে কোন ইজতেহাদ চলে না। তারা স্ব স্ব যুগের অমুসলিম চিন্তাবিদদের রায় সমূহেরও আশ্রয় নিয়েছেন।

টিকাঃ
১৩. লেখকের تنزيه السنة والقرآن عن أن يكونا من أصول الضلال والكفران বইটিতে দ্রষ্টব্য।

📘 সালাফি দাওয়াতের মূলনীতি 📄 (গ) কুরআন ও সুন্নাহর পঠন-পাঠনের পথ রুদ্ধ করা

📄 (গ) কুরআন ও সুন্নাহর পঠন-পাঠনের পথ রুদ্ধ করা


৩. কুরআন ও সুন্নাহর পঠন ও পাঠনের পথ রুদ্ধ করা (توعير طريق دراسة القرآن والسنة) :
বিভিন্ন প্রকারের ভয়-ভীতির মাধ্যমে এটা করা হয়। যেমন আমরা অহরহ প্রত্যেক কর্কশভাষীর কাছে শুনছি যে, কুরআন ও সুন্নাহ্ পঠন-পাঠন ও তদনুযায়ী আমলকরণ বিভ্রান্তি বৈ কিছুই নয়। আমরা আরও শুনে থাকি যে, কুরআনের আয়াত ও হাদীছ সমূহকে সর্বপ্রথম ইমাম ও ফক্বীহদের কথার সম্মুখে পেশ করতে হবে। ভাবখানা এই, যেন মানুষের কথাই আসল দলীল, আল্লাহ ও তার রাসূলের কথা নয়। এ ধরনের ভয়-ভীতি ও আশংকা সৃষ্টি মানুষকে কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ বুঝ হাছিল করার পথ রুদ্ধ করেছে এবং জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে তাদেরকে আল্লাহ্র রাস্তা হ'তে বিরত রেখেছে। এটাকে তারা আল্লাহ্ পথের পথিকদের বাঁকা পথে নিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। এর দ্বারা তারা সরাসরি আল্লাহ্ কিতাবের বিরোধিতা করেছে, যা আমাদেরকে কেবল দলীল অনুসরণের হুকুম দিয়েছে ও সর্বদা চোখ খোলা রাখতে বলেছে। যা আমাদেরকে তাক্বলীদ বা অন্ধ অনুসরণ ও বিনা দলীলে বাপ-দাদার তরীকা অবলম্বন করা হ'তে নিষেধ করেছে। ঐসব লোকেরা রাসূল (ছাঃ)-এরও বিরোধিতা করেছে, যিনি কেবল হাদীছের তাবলীগের নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেন, نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأَ سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَفِظَهَا فَأَدَّاهَا كَمَا سَمِعَهَا - 'আল্লাহ ঐ ব্যক্তির চেহারাকে আনন্দোচ্ছ্বল করবেন, যে ব্যক্তি আমার হাদীছ শুনল। অতঃপর তা মুখস্থ করল এবং যেমনভাবে শুনল ঠিক তেমনভাবে প্রচার করল'। অন্যত্র তিনি বলেন, بَلِّغُوْا عَنِّى وَلَوْ آيَةً 'একটি আয়াত জানা থাকলেও তা তোমরা আমার পক্ষ হ'তে প্রচার করে দাও'।

টিকাঃ
১৪. মুসনাদে বাযযার হা/৩৪১৬, সনদ হাসান; তিরমিযী হা/২৬৬৭; ইবনু মাজাহ হা/২৩০; মিশকাত হা/২৩০; ছহীহ আত-তারগীব হা/৯১।
১৫. বুখারী হা/৩৪৬১; মিশকাত হা/১৯৮।

📘 সালাফি দাওয়াতের মূলনীতি 📄 (ঘ) জীবনের বহু ক্ষেত্র হ’তে শরী‘আত অনুযায়ী আমল বন্ধ করা

📄 (ঘ) জীবনের বহু ক্ষেত্র হ’তে শরী‘আত অনুযায়ী আমল বন্ধ করা


৪. জীবনের বহু ক্ষেত্র হ'তে শরী'আত অনুযায়ী আমল বন্ধ করা (إيقاف العمل بالشريعة في كثير من نواحي الحياة) :
বর্তমান যুগে যারা ইসলাম কিছুটা বুঝেন, সেই সব মুসলিমের নিকট একথা অত্যন্ত পরিষ্কার যে, মাত্র কয়েকটি ক্ষেত্র বাদে আমাদের জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্র হ'তে ইসলামকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন শাসনকার্য, রাজনীতি, দণ্ডবিধি সমূহ, শিক্ষা, সমাজ, সাহিত্য প্রভৃতি বৈষয়কি ক্ষেত্র সমূহ। এর কতগুলি কারণও আছে। যেমন (১) মুসলিম এলাকা সমূহ কাফেরদের হস্তগত হওয়া এবং সেখানে তাদের চিন্তাধারা ও আচরণ সমূহের অনুপ্রবেশ ও তার অন্ধ অনুকরণ করা। এতদ্ব্যতীত আরও একটি কারণ রয়েছে যা আমাদের আলোচনার মুখ্য বিষয়। তা হ'ল (২) ফিক্বহী ইজতিহাদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া। অর্থাৎ ঠিক সেই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা যেখানে ছিলেন ফিকুহ শাস্ত্রের ইমামগণ বহু যুগ পূর্বে। অথচ এরপরে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহু নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটেছে। যেসবের যথার্থ ইসলামী সমাধানের জন্য ফিক্বহী আন্দোলন অবশ্যই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শরী'আত গবেষণার ক্ষেত্রে এই জড়বদ্ধতা এবং রাজনীতি ইসলামী তরীকা হ'তে বিচ্যুত হওয়ার ফলে মুসলিমদের আন্দোলন বিকল হয়ে পড়ে এবং তাদেরকে দৈনন্দিন জীবনে কিছু গ্রহণ ও কিছু বর্জনের মাঝে দিশেহারা করে ফেলে। অতঃপর স্বাভাবিকভাবেই তাদের উপর জয়লাভ করে সরকারী প্রশাসন যন্ত্রের ও তার অনুগত মিডিয়া সমূহের শক্তিশালী প্রভাব। আর এসব কিছুর মধ্যেই নমুনা ছিল ইসলামী শরী'আত ও রীতি-নীতিকে মুছে দেওয়ার এবং কালেমায়ে শাহাদাতের দ্বিতীয়াংশের প্রকৃত তাৎপর্যকে বিদায় করে দেওয়ার। যেখানে বলা হয়েছে, أَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ 'আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল'।

ইসলামকে বুঝা ও তদনুযায়ী আমল করার জন্য সালাফী তরীকা তার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে- জনসাধারণ্যে প্রচলিত এইসব পরিণতিগুলিকে অবদমিত করতে, যা রাসূল (ছাঃ)-এর অনুসরণ ও জনগণের মধ্যে প্রতিবন্ধক হিসাবে রয়েছে। সেকারণ এই দাওয়াত সর্বদা মানুষকে তাক্বলীদ হারাম করার দিকে আহবান করে এবং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এ কথা ওয়াজিব মনে করে যে, সে যেন তার প্রত্যেকটি প্রশ্নের জবাবের জন্য কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলীল তলব করে। এর দ্বারা যেন কেউ এটা না বুঝেন যে, আমরা প্রত্যেককে মুজতাহিদ হওয়া ওয়াজিব বলছি। তা নয়। বরং আমরা প্রত্যেককে এ কথা বলি যে, তিনি যেন দলীলের অনুসারী হন। তিনি যেন তার প্রতিপালকের কিতাব ও তার নবীর সুন্নাহ থেকে প্রমাণের সন্ধানী হন। আর এর মাধ্যমেই কেবল উম্মতের সকল দল এক হ'তে পারে, কিতাব ও সুন্নাহ্ চর্চা বৃদ্ধি পেতে পারে, ইলমী পরিবেশ উন্নত হ'তে পারে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃসূলভ সহানুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ অবস্থায় কেউ মুসলিম উম্মাহকে সহজে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। কেননা প্রত্যেক ফৎওয়া তলবকারীর জন্য তখন কুরআন ও সুন্নাহর মানদণ্ড দাঁড় করানো হবে। কেবল এ অবস্থায় মুসলিম উম্মাহ্র নিকট রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মর্যাদা ও তাঁর অনুসরণের গুরুত্ব যথার্থভাবে উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে। আর এভাবেই কেবল সম্ভব হবে ঐসব লোকদের মুখে লাগাম পরানো, যারা হর-হামেশা বিনা দলীলে ফৎওয়া দিতে অভ্যস্ত। কেননা তখন তারা জানবে যে, লোকেরা উপযুক্ত দলীল-প্রমাণ ছাড়া কিছুই আর গ্রহণ করবে না। ফলে ঐ ব্যক্তি যখন নিজের রায় থেকে কোন কথা বলবে, তখন স্পষ্ট বলে দেবে যে, এটা আমার রায়। এতে ভুল হবার সম্ভাবনা আছে। আর যখন বলবে যে, এটি শরী'আতের হুকুম, তখন জনসাধারণ তার নিকটে আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের বাণী থেকে প্রমাণ চাইবে। পূর্বের দু'টি কাজের মাধ্যমে (অর্থাৎ তাক্বলীদ হারাম করা ও দলীলের অনুসরণ করা) এবং অন্য বিষয়ের (যেমন দাওয়াত ও সংগঠনের) মাধ্যমে জনসাধারণের নিকট কুরআন ও হাদীছ চর্চার একটি নতুন ময়দানের আবির্ভাব ঘটবে। উম্মতের মধ্যে নবজীবনের সূত্রপাত হবে। (শারঈ ইলমের) জ্যোতি সর্বত্র বিকশিত হবে। তার সামনে সর্বদা দিগদর্শন স্পষ্ট থাকবে। ফলে যেখানেই সে যাক না কেন বিভ্রান্ত হবে না বা (অন্য আদর্শের) লোকেরা তাকে লাগামহারা পশুর মত পিছে পিছে ঘুরাতে পারবে না, যেটা আল্লাহ চান সেটা ব্যতীত। যখন আমরা এভাবে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক ফিকুহকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারব, তখন আমরা বর্তমান নাস্তিক্যবাদী স্রোতকে বন্ধ করে দিতে পারব। মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাবলীর জবাবে আমরা অমুক বা অমুকের কথা পেশ না করে সরাসরি আল্লাহ্র বা তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর কথা পেশ করব। যদি তারা তা মনোযোগ সহকারে শোনে, তাহ'লে তারা মুসলিম হবে। আর যদি অস্বীকার করে ও প্রত্যাখ্যান করে, তাহ'লে তারা কাফের হবে। এভাবে রাস্তা সমূহ পরিষ্কার হয়ে যায় এবং বেঁচে থাকেন তিনিই, যিনি দলীল সহ বাঁচেন। আর ধ্বংস হয় সেই, যে দলীল ছাড়া বাঁচতে চায়।

📘 সালাফি দাওয়াতের মূলনীতি 📄 ৩য় মূলনীতি : তাযকিয়াহ বা শুদ্ধিতা

📄 ৩য় মূলনীতি : তাযকিয়াহ বা শুদ্ধিতা


সালাফী দাওয়াতের তৃতীয় মূলনীতি হ'ল তাযকিয়াহ বা আত্মশুদ্ধি। যেজন্য রাসূল (ছাঃ)-এর আগমন ঘটেছিল। বরং বলা যেতে পারে যে, এটাই হ'ল সকল রিসালাতের মূল লক্ষ্য ও ফলাফল। আল্লাহ তা'আলা বলেন, هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُوْلاً مِنْهُمْ يَتْلُوْ عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيْهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِতাবَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ - 'তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি নিরক্ষরদের মধ্য হ'তে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন। যিনি লোকদের নিকট আল্লাহ্ আয়াত সমূহ পাঠ করে শুনান, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও সুন্নাহ শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে ছিল' (জুম'আ ৬২/২)।

তিনি আরও বলেন, لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُوْلاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُوْ عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِতাবَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ 'বিশ্বাসীদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকে একজনকে রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেছেন। যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াত সমূহ পাঠ করেন ও তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত (কুরআন ও সুন্নাহ) শিক্ষা দেন। যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে ছিল' (আলে ইমরান ৩/১৬৪)।

উপরোক্ত দু'টি আয়াতে আল্লাহ আমাদের নিকট নবী প্রেরণকে 'অনুগ্রহ' হিসাবে বর্ণনা করেছেন। যে নবীর অন্যতম প্রধান কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহ্ আয়াত সমূহ পাঠ করা। এটা একটি বড় নে'মত। কেননা এর ফলে আমরা আল্লাহর কালাম একজন মানুষের মুখ দিয়ে শুনতে পাই। অতঃপর তিনি আল্লাহ্ আয়াত বা অহী দ্বারা এই উম্মতকে পবিত্র করেন। অতঃপর তাদেরকে কিতাব ও হিকমতের শিক্ষা দ্বারা মূর্খতার অন্ধকার হ'তে বের করে আনেন। 'কিতাব' অর্থ কুরআন এবং 'হিকমত' অর্থ মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত সকল প্রকারের উপকারী ইলম। এজন্যেই সুন্নাহকে 'হিকমত' বলা হয়। কিতাবও অনেক সময় 'হিকমত' অর্থে আসে。

এখন প্রশ্ন হ'ল তাযকিয়াহ কি, যা রাসূল (ছাঃ)-এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব? 'তাযকিয়াহ' অর্থ আত্মার পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা। তাকে যাবতীয় ক্লেদ-কালিমা হ'তে মুক্ত করা। 'নফসে যাকিইয়াহ (النفس الزكية) অর্থ পবিত্রাত্মা। যাবতীয় রকমের খেয়ানত, হিংসা-বিদ্বেষ, যুলুম ও ঈর্ষার কালিমা হ'তে যে আত্মা পবিত্র থাকে। এই অর্থ আরবদের কথা থেকেই নেয়া হয়েছে। যেমন তারা বলে থাকেন, زكا الزرع اذا نما وأينع ‘শস্য দানা কলুষমুক্ত হয়েছে, যখন তা বর্ধিত হয় ও পরিপক্ক হয়’। এমনিভাবে পরিচ্ছন্ন গন্ধকে সুগন্ধি বলা হয়。

পবিত্রতার ক্ষেত্রে আত্মা সমূহের পারস্পরিক পার্থক্য বর্ণনায় মহান আল্লাহ বলেন, وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا ، فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا ، قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا، وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا- ‘শপথ মানুষের ও তার বিন্যস্তকরণে’ ‘অতঃপর তিনি তার মধ্যে দুষ্কৃতির ও সুকৃতির প্রেরণা নিক্ষেপ করেছেন’। ‘অবশ্যই সফল হয় সেই ব্যক্তি, যে তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং নিরাশ হয় সেই ব্যক্তি, যে তার আত্মাকে কলুষিত করে’ (শাম্স ৯১/৭-১০)।

সূরা শাম্স-এর উক্ত আয়াত সমূহে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, সফলতা নির্ভর করে নফসের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধিতার উপর। পরপর এগারোটি শপথ করে একথাটি বলা হয়েছে। কেবল একটি বিষয় বলার জন্য পরপর এতগুলি কসম খাওয়ার নযীর সমগ্র কুরআন মাজীদে নেই।

এই কথাটিই আল্লাহ অন্যত্র অন্যভাবে বলেন যে, পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধিতার গুণ হাছিল না করা পর্যন্ত কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন, وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ - 'যারা তাদের প্রতিপালকের ভয়ে ভীত, তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। অতঃপর তারা জান্নাতের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছলে দরজা খুলে দেওয়া হবে। তখন জান্নাতের দাররক্ষীরা (ফেরেশতা) বলবে, আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হৌক! আপনারা সুখী হৌন! অতঃপর চিরকালের জন্য এখানে প্রবেশ করুন' (যুমার ৩৯/৭৩)।

এখানে পবিত্রটাই তাদের জান্নাতে প্রবেশ লাভের একমাত্র কারণ। এটাই হ'ল ইবাদতের ফল ও উদ্দেশ্য। আর এই আত্মিক পরিশুদ্ধি হাছিলের জন্যেই কেবল রাসূল (ছাঃ)-এর আগমন ঘটেছিল। তাঁর উপর অসংখ্য দরূদ ও সালাম বর্ষিত হৌক!

উপরের আলোচনা থেকে আমরা দু'টি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি।-
(১) তাযকিয়ায়ে নাক্স বা আত্মার পরিশুদ্ধি আনয়ন রাসূল আগমনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। বরং একটু পরেই আমরা জানতে পারব যে, এটাই ছিল রাসূল প্রেরণের মূল লক্ষ্য ও সমগ্র মানব অস্তিত্বের একমাত্র উদ্দেশ্য।
(২) জান্নাতে প্রবেশের জন্য ওটাই অপরিহার্য গুণ। যে ব্যক্তি এই গুণে গুণান্বিত নয়, সে ব্যক্তি জান্নাতের অধিকারী নয়।

এক্ষণে আরেকটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, উক্ত উদ্দেশ্য বা তাযকিয়াহ হাছিলের জন্য আল্লাহ বা তাঁর রাসূল আমাদের নিকট কি কি মাধ্যম বিবৃত করেছেন? অন্য কথায় নফস কিভাবে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র হ'তে পারে, এই আবশ্যিক গুণ হাছিলের জন্য আল্লাহর নবী কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন?

এ প্রশ্নের জবাব দানের জন্য আমাদেরকে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ শরী'আত সামনে রাখতে হবে এবং তা গভীর অনুসন্ধিৎসা নিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। চাই তা আক্বীদার বিষয় হৌক বা ইবাদতের বিষয় কিংবা ব্যবহারিক বিষয় হৌক। এর প্রত্যেকটির মধ্যে আমরা তাযকিয়াহ বা পরিশুদ্ধির সম্পর্ক দেখতে পাব। গভীরভাবে চিন্তা করলে আমরা দেখব যে, শুদ্ধিতা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোন আমল নেই। বরং ইসলামের সমস্ত রীতি-পদ্ধতি, আক্বীদা-বিশ্বাস ও আচরণবিধি সব কিছুরই শেষ ফল গিয়ে দাঁড়ায় তাযকিয়াহ বা আত্মার পরিশুদ্ধি।

আমরা সর্বদা একথা জানি যে, 'যাকাত' অর্থ হ'ল পবিত্রতা ও নাপাকী হ'তে দূরে থাকা। অতএব 'তাওহীদ' হ'ল তাযকিয়াহ। কেননা তাওহীদ অর্থ আল্লাহকে প্রতিপালক হিসাবে একক বলে স্বীকার করা। যিনি ব্যতীত কোন প্রতিপালক নেই। আর এই সত্যের স্বীকৃতি ও সাক্ষ্যদান একটি তাযকিয়াহ। কেননা সত্যকে স্বীকার করে নেওয়াটা পুণ্য। আর অস্বীকার করা ও প্রত্যাখ্যান করাটা নিকৃষ্টতা। আর তা কি ধরনের নিকৃষ্টতা? জ্ঞানী ও দূরদর্শী ব্যক্তির নিকট আল্লাহ্ চাইতে বড়, স্পষ্ট ও প্রকাশ্য সত্য আর কিছুই নেই। পক্ষান্তরে আল্লাহকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করা ও তাঁর সাথে শরীক করা হ'ল সবচেয়ে বড় নিকৃষ্টতা ও অপবিত্রতা। আর এ কারণেই আল্লাহ বলেছেন, إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ মুশরিকরা নাপাক বৈ কিছুই নয়' (তওবাহ ৯/২৮)। এর একমাত্র কারণ হ'ল যে, তাদের অন্তরগুলি শিরক, কুফর এবং আল্লাহ্ গুণাবলীকে অস্বীকার প্রভৃতি দ্বারা কলুষিত। প্রকাশ্যভাবে তাদের অনেকের দেহ পবিত্র থাকতে পারে। কিন্তু যতদিন তাদের অন্তর জগৎ শিরক ও কুফরের নাপাকী দ্বারা পূর্ণ থাকবে, ততদিন তারা আত্মা ও অনুভূতির দিক দিয়ে অপবিত্র থাকবে。

সকল প্রকারের ইবাদত, চাই তা আর্থিক হৌক বা দৈহিক হৌক, সবই তাযকিয়াহ বা পবিত্রতা হাছিলের আমল। কেননা তা হৃদয়ে আল্লাহ্ স্মরণ এনে দেয় এবং তাকে স্রষ্টার সঙ্গে মিলিয়ে দেয়। আর এভাবেই অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়। অতএব যে ব্যক্তি প্রত্যেকটি কাজে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং তার প্রতিপালককে ভয় করে, সে নিষিদ্ধ বস্তু সমূহ হ'তে দূরে থাকে। আর নিষিদ্ধ কর্ম সমূহ নাপাক ও অশুদ্ধ এবং উত্তম কর্ম সমূহ পাক ও বিশুদ্ধ।

এজন্যই 'ছালাত' হ'ল সকল সৎকর্মের সেরা। কেননা ছালাতই তাযকিয়াহ হাছিলের সর্বাপেক্ষা সফল মাধ্যম। যা দিনে ও রাতে বার বার আদায় করা হয়। যার মধ্যে আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। তার প্রতিটি উঠাবসা অন্তরকে আল্লাহ্ হাকীকত বা প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধিতে সহায়ক হয়। আল্লাহ বলেন, إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে' (আনকাবূত ২৯/৪৫)। কেননা এটি উপদেশ লালন করে ও আল্লাহভীরুতা আনয়ন করে。

এ কারণেই আহলে সুন্নাতের ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) ফৎওয়া দিয়েছেন যে, যবরদস্তীভাবে দখলকৃত যমীনের মসজিদে ছালাত বাতিল'। এটি তাঁর অতীব দূরদর্শী জ্ঞানের পরিচায়ক। কেননা তিনি মনে করেন যে, অধিকৃত কোন মাটিতে ছালাত ও দো'আর অনুষ্ঠান ছালাত আদায়কারীর অপবিত্র অন্তঃকরণ ও আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার শামিল। এজন্য যে, ঐ ব্যক্তি যদি সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে স্মরণকারী হ'ত, তাহ'লে সে কখনোই অধিকৃত মাটি কামড়ে পড়ে থাকত না। বরং তাকে মুক্ত করে যথার্থ মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দিত।

যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে একজন মহিলা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হ'ল যে, يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ فُلَانَةً تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ، وَتَفْعَلُ، وَتَصَدَّقُ، وَتُؤْذِي حِيرَانَهَا بلسানها؟ 'যে রাতভর 'ছালাত' ও দিনভর 'ছিয়াম' আদায় করে এবং অন্যান্য নেকীর কাজ করে ও ছাদাক্বা করে, কিন্তু প্রতিবেশীকে যবান দ্বারা কষ্ট দেয়। জবাবে তিনি বলেন, لَا خَيْرَ فِيهَا، هِيَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ এতে তার কোন কল্যাণ নেই। সে জাহান্নামী। প্রশ্নকারী বলল, অমুক মহিলা পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে। পনীরের টুকরা দান করে। কিন্তু কাউকে কষ্ট দেয় না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ঐ মহিলা জান্নাতের অধিকারী'।

তাৎপর্য অত্যন্ত পরিষ্কার। কেননা যদি ঐ মহিলা সত্যিকার অর্থে 'ছালাত আদায়কারী' বা 'ছিয়াম পালনকারী' হ'ত, তাহ'লে অবশ্যই সে নিজের নফসকে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার মত নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে বিরত রাখত। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অন্যত্র বলেছেন, مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ কথা ও তার উপর আমল করা ছাড়তে পারল না, আল্লাহ্ কোন প্রয়োজন নেই যে, সে খানাপিনা ছেড়ে দিক'।

অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে খানাপিনা ত্যাগ করল, অথচ সে আল্লাহর ভয়ে মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করতে পারল না, তার আল্লাহভীতি ও তাক্বওয়ার দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে তার ছিয়াম ও ইবাদতের উদ্দেশ্য পণ্ডকারী মাত্র।

এজন্য আমাদের উচিত হবে না ইসলামের ইবাদত সমূহ এবং সেসবের উদ্দেশ্য ও ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করা। বরং আল্লাহ সর্বদা আমল ও তার ফলাফলকে এক করে দেখিয়েছেন। যেমন তিনি বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ বিশ্বাসীগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম ফরয করা হ'ল, যেমন তা ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হ'তে পার' (বাক্বারাহ ২/১৮৩)।

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْনَ তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দাসত্ব কর। যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হ'তে পার' (বাক্বারাহ ২/২১)।

এর দ্বারা বুঝা গেল যে, সমস্ত ইবাদতের উদ্দেশ্য হ'ল আল্লাহভীতি অর্জন করা। এখানে আল্লাহ বিষয়টি প্রকাশ করেছেন لَعَلَّ (সম্ভবতঃ) শব্দ দ্বারা। যা আকাংখার অর্থ দেয়। অথচ আল্লাহ কিছুই আকাংখা করেন না। কেননা তিনি যা চান, তাই-ই করেন। কিন্তু এখানে আশা বা আকাংখা করা বলা হয়েছে বান্দার দিকে উদ্দেশ্য করে। কেননা প্রত্যেক ইবাদতকারী মুত্তাক্বী হয় না। বরং মুনাফিকরা সৎকর্ম ও ইবাদত করে প্রকাশ্যভাবে। কিন্তু তারা তাতে অবিশ্বাসী ও অস্বীকারকারী। এর দ্বারা আমরা এটাও বুঝলাম যে, ইবাদত করা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির তাক্বওয়া অর্জিত হ'ল না, সে ব্যক্তি তার ইবাদতে খিয়ানতকারী ও তা বিনষ্টকারী। সুতরাং যথার্থ ইবাদতকারীর পরিচয় হ'ল এই যে, তিনি অবশ্যই পরিশুদ্ধ হবেন, আল্লাহর ভয়ে ভীত হবেন ও সৎকর্মশীল হবেন। আর এটাই হ'ল তাযকিয়াহ বা পবিত্রতা। বরং ইবাদত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে আত্মশুদ্ধির জন্য। ইবাদত ব্যতীত কোন ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হ'তে পারে না। কেননা আনুগত্য পবিত্রতা থেকেই আসে। অতঃপর আল্লাহ্ অনুগ্রহ, করুণা ও নে'মত সমূহ আমাদের উপর ভরপুর। তার আনুগত্য করাই আমাদের সকল সৎকর্ম এবং কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতির প্রথম সোপান। সে কারণেই শুদ্ধিতা ও পবিত্রতা কল্পনাই করা যায় না আল্লাহর হুকুম সমূহের আনুগত্য ও নিষেধসমূহ হ'তে বিরত থাকা ব্যতীত。

পবিত্র কুরআনে বহু স্থানে ইবাদতকে তাক্বওয়ার অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, - وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةً يَا أُوْلِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْনَ 'আর হে জ্ঞানীগণ! হত্যার বদলে হত্যার মধ্যে তোমাদের জীবন নিহিত রয়েছে। যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হ'তে পার' (বাক্বারাহ ২/১৭৯)।

وَأَنَّ হَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السبل فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ সরল পথ। অতএব তোমরা এর অনুসরণ কর। অন্য পথ সমূহের অনুসরণ করো না। তাহ'লে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুৎ করে দেবে। এসব বিষয় তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হ'তে পার' (আন'আম ৬/১৫৩)।

উপরোক্ত আয়াতগুলির মাধ্যমে তাযকিয়াহ্র তৃতীয় আরেকটি অর্থ আমরা জানতে পারলাম। সেটি হ'ল এই যে, কেবলমাত্র তাযকিয়াহ বা পবিত্রতা বাস্তবায়নের জন্যই ইসলামী শরী'আতের সকল বিধি-বিধান রচিত হয়েছে। যেমন তাওহীদ, ইবাদত, ছালাত, ছিয়াম, যাকাত, হজ্জ, পিতা-মাতার আনুগত্য, আত্মীয়তা রক্ষা, নির্লজ্জ ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করা এবং ন্যায়বিচার ও সৎকর্ম নিশ্চিতকারী বিষয় সমূহ সবই এসেছে, কেবলমাত্র এই তাযকিয়াহ বাস্তব বায়নের জন্য। এই সমস্ত আদেশ নিষেধাবলীর কোনটি সরাসরি তাযকিয়াহ্হ্র রুকন ও আবশ্যিক বিষয়। আবার কোনটি তাযকিয়াহ হাছিলের সহায়ক।

উপরোক্ত অর্থের উপরে স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে নিম্নের এ আয়াতটি যাতে তোমার মনে কোনরূপ সন্দেহ না থাকে, যেখানে আল্লাহ তাঁর রাসূল (ছাঃ)-কে বলেছেন, وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ 'নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত' (কূলম ৬৮/৪)। বলা বাহুল্য তাঁর চরিত্র কুরআনের উপরে আমলের বাস্তব চিত্র বৈ কিছুই নয়, যা তাযকিয়াহ্হ্র সকল পর্যায়কে শামিল করে। যেমন একদা সা'দ বিন হিশাম আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূল (ছাঃ)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলে তিনি জবাবে বলেন, كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنُ 'তাঁর জীবন চরিত ছিল কুরআন'।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এজন্যই বলেছেন যে, بُعِثْتُ لأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الأَخْلاقِ 'আমি সচ্চরিত্রতার পূর্ণতা সাধনের জন্য প্রেরিত হয়েছি'। রাসূল (ছাঃ)-এর রিসালাতকে এ বিষয়ের উপরে সীমায়িত করা এ কথারই পূর্ণ প্রমাণ বহন করে যে, ইসলামের রিসালাত পুরোপুরিভাবে তাযকিয়াহ ও শুদ্ধিতার রিসালাত।

যখন আমরা জানতে পারলাম যে, ইসলাম পবিত্রতার ধর্ম এবং রাসূল (ছাঃ)-এর আগমন কেবলমাত্র এজন্যই ঘটেছিল, তখন সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একথাও জেনে নেওয়া ওয়াজিব যে, আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) উক্ত তাযকিয়াহ হাছিলের যাবতীয় নিয়ম-পদ্ধতি ও আমল পরিপূর্ণ করে গিয়েছেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা স্বীয় দ্বীন ও নে'মতকে তাঁর রাসূল ও মুমিনদের উপর পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেন, الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا - 'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার নে'মতকে সম্পূর্ণ করলাম। আর ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম' (মায়েদাহ ৫/৩)। এর অর্থ হ'ল এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কোন তরীকা বা পথ-পন্থার উদ্ভব ঘটানো যাবে না। একই অবস্থা নৈকট্য হাছিলের সকল ক্ষেত্রে। কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে যেকোন নবোদ্ভূত পথ-পন্থা ফাসাদ ও পদস্খলনের দিকে নিয়ে যাবে। বরং তা পরিত্যক্ত হবে এবং তা আল্লাহর নিকট কবুল হবে না。

আমরা দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান যুগে মুসলিমদের উপর নতুন নতুন তরীকা আবিষ্কারের দুয়ার কিভাবে খুলে গিয়েছে এবং সেখানে কত ধরনের অপকর্ম প্রবেশ করেছে। তাছাউওফের নামে 'ইছলাহে নাফস' বা আত্মশুদ্ধির পদ্ধতিসমূহে ও তার পরিমণ্ডলে কত যে পাপ জমা হয়েছে, তার সীমা-পরিসীমা নেই। তারবিয়াত ও ইবাদতের গণ্ডি পেরিয়ে এই পাপ মিথ্যা হাদীছ তৈরী, আক্বীদা ধ্বংস করা ও শরী'আত দলনের ক্ষেত্র অতিক্রম করেছে। যাকে তারা 'যাহেরী ইলম' বলে থাকে। আর যত বিদ'আত, কল্পকাহিনী ও বাজে অনুষ্ঠানাদির দরজা সেখানে খুলে গিয়েছে ব্যাপকভাবে।

এরপর তারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যের ইবাদত তথা শিরকের মহাপাতকে লিপ্ত হয়েছে। (আর এসবের রক্ষাকবচ হিসাবে আবিষ্কার করেছে) ধ্বংসকারী দার্শনিক মতবাদ সমূহ। যেমন অদ্বৈতবাদ, সর্বেশ্বরবাদ প্রভৃতি পারসিক ও হিন্দুয়ানী মতবাদ। অতঃপর তারা আবিষ্কার করেছে 'ক্বাযা ও কুদর' তথা তাক্বদীর বিষয়ে এমন এক আত্মবিনাশী মতবাদ, যেখানে সবকিছু আল্লাহ্ ইচ্ছাতেই হয় এবং সেখানে মানুষকে একটি দায়িত্বমুক্ত জড় পদার্থের ন্যায় কল্পনা করা হয়েছে। ফলে আল্লাহর অনুগত বান্দা এবং অবাধ্য বান্দার মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য থাকে না। বরং সেখানে পাপীরাই সৎলোকদের চাইতে অধিক মর্যাদাবান হয়।

উপরোক্ত ছুফী মতবাদের মুকাবিলায় আর একটি ফিক্বহী জড়তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল, যা কুরআন ও সুন্নাহ্ দলীল সমূহকে মর্মার্থ বিহীন কতগুলি বাহ্যিক শব্দাবলীর সমাহারে পর্যবসিত করল। বিশেষ করে কুরআন ও সুন্নাহ্ বিধানগুলিকে যখন মেশিনের ছাঁচের ন্যায় মানুষের তৈরী বিভিন্ন ফিক্‌হী পরিভাষার ছাঁচে ঢেলে দেওয়া হ'ল (যাকে উছুলে ফিক্বহ বলা হয়)। এভাবে কিতাব ও সুন্নাহ্র মূল উৎস হ'তে মানুষ দূরে চলে যাওয়ার পর তারা এইসব মনগড়া ছাঁচ বা নিয়ম-বিধিসমূহের উপর এমনভাবে আমল শুরু করল এবং সেগুলির প্রতি এমন ভীতি ও পবিত্রতার অনুভূতি প্রকাশ করতে লাগল, যেমনটি করা আবশ্যক ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালামের প্রতি。

অতঃপর এইসব ছাঁচকে কৌশল বানিয়ে কাজ করা তাদের জন্য সহজ হয়ে গেল। ফলে এমন বহু বিষয় হালালে পরিণত হ'ল যা বাহ্যিকভাবে শরী'আত সম্মত গণ্য হ'লেও প্রকৃত প্রস্তাবে তা হারাম। যেমন কোন বস্তু প্রকৃত মূল্যের চাইতে বেশী দামে বাকীতে বিক্রি করা, হিল্লা বিবাহ, ব্যবসার বিভিন্ন পদ্ধতিতে সূদ খাওয়া, অলী ও সাক্ষী ছাড়াই কেবল পারস্পরিক সম্প্রদানের ভিত্তিতে যেনা করা প্রভৃতি। এরপর লোকেরা আরও লাগাম ছাড়া হ'ল। তারা তাদের পসন্দমত যেকোন শায়খ ও আলেমের কথাকে দ্বীনের দলীল হিসাবে গ্রহণ করতে শুরু করল। এভাবে নিষেধকারী শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ল। নৈতিকতার স্তম্ভ ধ্বসে পড়ল। তাযকিয়াহ বা আত্মশুদ্ধির পদ্ধতিগুলি বিনষ্ট হ'ল। একমাত্র যে কারণেই ইসলাম এসেছিল।

সালাফী তরীকা উপরোক্ত ছুফী (বাতেনী) তরীকা ও ফিক্বহী (যাহেরী) তরীকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে তাযকিয়াহ আল্লাহর দ্বীনের যথাস্থানে রক্ষিত হয়েছে। একেই সে মুসলিম জীবনের উদ্দেশ্য হিসাবে গণ্য করেছে এবং এর জন্য শরী'আত সম্মত পদ্ধতি সমূহ অনুসরণ করেছে, যা কিতাব ও সুন্নাহতে মওজুদ রয়েছে। ঐ দু'টির বাইরে তাযকিয়াহ নেই এবং ঐ দু'টি ব্যতীত তাযকিয়াহ কখনোই হাছিল হ'তে পারে না। আর সে কারণেই সালাফী তরীকায় ছুফীদের আবিষ্কৃত ইবাদত ও সুলুক সমূহ বাতিল করা হয়েছে। যেমন পরিত্যক্ত স্থান ও কবরস্থান সমূহে নির্জন বাস, নির্দিষ্ট এক ধরনের খাদ্যের উপর বেঁচে থাকা, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লোক সঙ্গ ত্যাগ করা, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকা, কথাবার্তা না বলা, রৌদ্রে বসে থাকা, শরী'আত বিরোধী নানা কাজের মাধ্যমে নিজেকে কষ্ট দেওয়া, বিভিন্ন বিদ'আতী যিকর- আযকার পাঠ করা, নাচ-গান ও সিমা' সহ বিভিন্ন শয়তানী অনুষ্ঠান করা, যেগুলি ছুফী তরীকার অপরিহার্য অঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হয়। এমনিভাবে সালাফী তরীকা ঐসব তথাকথিত কাশফ ও ইলহামকে বাতিল ঘোষণা করেছে, যা শয়তানী ধোঁকা কিংবা নাস্তিক্যবাদী দর্শন চিন্তা বৈ কিছুই নয়।

সালাফী তরীকা ঐসব যাহেরী কট্টর মতবাদীদেরকেও বাতিল গণ্য করেছে, যারা দলীল নিয়ে চলে, কিন্তু তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ভুলে যায়। এই বক্র ফিকুহ যা দ্বীন বিষয়ক সকল কথাকে দলীল সাব্যস্ত করেছে এবং দলীলবিহীন সকল ফৎওয়াকে শারঈ বিধানে পরিণত করেছে। আর এর মাধ্যমে বহু হারাম হালাল হয়ে গেছে। সংস্কার ও সংশোধনের পথ সমূহ বিনষ্ট হয়েছে। লোকদের অন্তরগুলি অন্ধকার হয়ে গেছে এবং সেখানে আসমানী অহি তথা আল্লাহ্র কিতাব ও তার রাসূলের সুন্নাতের জ্যোতি নিভে গেছে।

সালাফী তরীকা হ'ল সংশোধন, প্রশিক্ষণ, আল্লাহর নৈকট্য হাছিল ও শুদ্ধিতা অর্জনের জন্য। এখানে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ব্যতীত সে কাউকে শ্রেষ্ঠতম নমুনা মনে করে না। তিনি মানবজাতির মধ্যে আত্মার দিক দিয়ে সর্বাপেক্ষা পবিত্র, মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ, চরিত্রে সুদৃঢ় এবং তরীকা ও পদ্ধতিতে শ্রেষ্ঠতম পথ প্রদর্শক। যেমন তিনি এরশাদ করেছেন, 'নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু এবং তার সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞান রাখি আমিই'। একারণেই সালাফী তরীকা শুচিতা ও শুদ্ধিতা অর্জনে এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে আল্লাহ্র কালামের পর রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাহ ও চরিত্র মাধুর্যকেই ভিত্তি হিসাবে গণ্য করে। এমনিভাবে প্রথম যুগের ছাহাবায়ে কেরামের জীবন চরিতকে আমরা পরিশুদ্ধ আত্মাসমূহের নেতা হিসাবে মনে করি। যাঁরা ছিলেন কথায়, কাজে ও চরিত্রে কুরআন ও সুন্নাহ্ বাস্তব নমুনা এবং আত্মার পরিশুদ্ধিতা ও পবিত্রতার জীবন্ত প্রতীক। পরবর্তী যুগের কারু সঙ্গে তাঁদের কখনোই তুলনা চলবে না। তাঁরা হ'লেন স্বর্ণযুগের মানুষ এবং মুসলিম মিল্লাতের জন্য সব চাইতে উপকারী।

তাঁদের পরেই হ'লেন তাবেঈগণ এবং প্রতি যুগের ঐসব আমল সম্পন্ন আলেমগণ, যারা ছিলেন সালাফী তরীকার অনুসারী। যার মূলনীতি সমূহ ইতিপূর্বে আমরা ব্যাখ্যা করে এসেছি। অতএব যে সকল আলেম তাওহীদ, ইত্তেবা ও তাযকিয়াহ্ ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ্ তরীকার অনুসারী এবং যাঁরা প্রকাশ্য শিরক, বাজে তাবীল, ভ্রান্ত সুলুক ও বাতিল ছুফীতত্ত্ব সমূহে নিপতিত হয়নি, তাঁরাই হ'লেন ছাহাবা ও তাবেঈগণের পরবর্তী নেতৃবৃন্দ। আর তাযকিয়াহ্ ক্ষেত্রে এর মধ্যেই সালাফী তরীকা সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। এটিই হ'ল যথার্থ নমুনা। যা আল্লাহ ও তার রাসূলের কালামের শুধুমাত্র যাহেরী রূপ নয়। আর যথার্থ নমুনা দ্বারা আমরা মনে করি, যার মধ্যে বাতেনী ও যাহেরী দু'টি দিকই থাকবে। যা যথার্থ হবে, বানোয়াট নয়। যেখানে ঈমান থাকবে, কপটতা নয়। শুদ্ধিতা ও পবিত্রতা থাকবে, পাপ ও নিন্দাবাদ নয়। সাধ্যমত পবিত্রতা থাকবে, যা মানুষের পক্ষে সম্ভব। যাতে মানুষ এমন যোগ্য হয়ে ওঠে যে, আল্লাহ্ ফেরেশতাগণ তার উপর জান্নাতের দরজায় সালাম দিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলে, 'তোমরা সুখী হও। অতঃপর এখানে প্রবেশ কর চিরকালের জন্য' (যুমার ৩৯/৭৩)। অতঃপর আমরা আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা জানাই, তিনি যেন আমাদেরকে ঐসব সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন।

টিকাঃ
১৬. সূরা শামসের প্রথম ৮টি আয়াতে বর্ণিত আটটি সৃষ্টবস্তুর শপথ করা হয়েছে।
১৭. উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে' (১ম সংস্করণ ১৪২২ হি.) ১০/৬০।
১৮. ইমাম বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১০৯; ছহীহাহ হা/১৯০; মিশকাত হা/৪৯৯২, আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত।
১৯. বুখারী হা/১৯০৩; মিশকাত হা/১৯৯৯।
২০. আহমাদ হা/২৫৩৪১; ছহীহুল জামে' হা/৪৮১১।
২১. হাকেম হা/৪২২১; মাননীয় লেখক إنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتمَّমَ صَالِحَ الْأৈখ্লাক্ব 'আমি সচ্চরিত্রতার পূর্ণতা সাধনের জন্য ব্যতীত প্রেরিত হইনি' (আহমাদ হা/৮৯৩৯; ছহীহাহ হা/৪৫)।
২২. বইটির ২য় সংস্করণ যেটি ১৯৯৪ সাল থেকে আমাদের কাছে আছে, সেটির পৃষ্ঠা সংখ্যা সর্বসাকুল্যে ৪৭০। প্রকাশক: মাকতাবা ইবনে তাইমিয়াহ, কুয়েত, তাবি।
২৩. উর্দুতে সিমা' (السماع) বলতে ছুফীদের বিশেষ এক ধরনের নাচ-গানকে বুঝায় এবং 'সুলুক' (السلوك) হ'ল আল্লাহর নৈকট্য হাছিলের নামে তাদের আবিষ্কৃত ক্রিয়া-কর্ম সমূহ।
২৪. বুখারী হা/২০; হাদীছটি আয়েশা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন কাউকে কোন কাজের নির্দেশ দিতেন, তখন সেটি তাদের সাধ্যমত করার জন্য বলতেন। তারা বলল, আমরা আপনার মত নই, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি ক্রুদ্ধ হ'লেন এবং চেহারায় তা প্রকাশ পেল। অতঃপর তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু ও আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী আমি'।

ফন্ট সাইজ
15px
17px