📄 লেখক কর্তৃক ২য় সংস্করণের ভূমিকা
আল্লাহ্র প্রতি যথাযোগ্য হাম্দ এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর প্রতি দরূদ ও সালাম শেষে প্রায় সাত বছর পূর্বে অত্র বইয়ের ১ম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন এলাকার সালাফী ভাইয়েরা তা লুফে নেন। কেউ কেউ কলম দিয়ে নকল করে নেন, কোথাও বা একটি কপি পর পর কয়েক জনে পালা করে পড়েছেন। কেউবা ফটোকপি করে নিয়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করেছেন। এসবই আল্লাহ্ একান্ত মেহেরবানীতেই সম্ভব হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত কলেবরে হ'লেও বইটি আল্লাহ্র রহমতে তার বিষয়বস্তুকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সমর্থ হয়েছে। সালাফী তরীকার দিক নির্দেশনায় এবং ইসলামী রিসালাতের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যায় এই বই পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। যা সালাফী দাওয়াতের উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করেছে এবং সালাফী তরীকার মূলনীতি সমূহ রচনা করেছে। যা ইসলাম বুঝা ও তার উপর আমল করার জন্য স্থায়ী পদ্ধতি। যা আল্লাহ্র রহমতে উম্মতের একমাত্র মুক্তির পথ এবং এটাই উম্মতের সম্মান ও বিজয়ের পথ। আল্লাহর রহমতে আমরা তার বরকত ও প্রমাণ সমূহ প্রত্যক্ষ করেছি। এই অনুপম সালাফী তরীকা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে সালাফে ছালেহীন তথা ইসলামের প্রাথমিক যুগের হকপন্থীদের যথার্থ তরীকার উপর ভিত্তি করে তার চরিত্র, গুণাবলী, ইলম ও আমল অনুযায়ী। এই দ্বীনের বিস্ময় সমূহ শেষ হবার নয়। তার খনি সমূহ ফুরাবার নয়। এই উম্মতের মধ্যে চিরদিন একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। যাদের শেষ দল দাজ্জালের সঙ্গে লড়াই করবে।
আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সালাফী ভাইদের দেখতে পাচ্ছি যে, তারা উক্ত তরীকার উপরে চলছেন। তারা ইসলামকে যথার্থ রূপে বুঝেছেন এবং তাকে নিজেদের জীবনে রূপায়িত করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পূর্ণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার সাথে আল্লাহ্ দিকে আহ্বানের অপরিহার্য দায়িত্ব স্কন্ধে তুলে নিয়েছেন। তাঁরা মুসলিমদের আক্বীদা, আমল ও আচরণগত যেকোন বিচ্যুতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছেন এবং বাতিলপন্থীদের মোকাবিলায় সার্বিক জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছেন। আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা যে, এই দলের মঙ্গলময় অগ্রযাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংশয় ও তার নিরসন: অলস লোকদের হামলা থেকে আজকের সালাফী আন্দোলন নিরাপদ নয়। তারা সবসময় এই দাওয়াতের পিছনে সন্দেহ সৃষ্টির কাজে লিপ্ত রয়েছে। আল্লাহ্ জন্য সমস্ত প্রশংসা যে, এই সব সন্দেহ চিরদিন পায়ের তলে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। সময়ের তালে তাদের সকল গোমর ফাঁক হয়ে গেছে এবং সালাফে ছালেহীনের তরীকায় ইসলামকে বুঝবার চেষ্টায় রত প্রাথমিক ছাত্রটিও এখন এইসব সন্দেহবাদের মোক্ষম জবাব দিতে সক্ষম।
সংশয়গুলির মধ্যে উদাহরণ স্বরূপ:
১ম সংশয়: আপনারা কেন নিজেদেরকে সালাফী বলেন? অথচ তা কিতাব ও সুন্নাহতে নেই। উত্তরে আমরা বলি যে, সংগত কারণে কোন নাম গ্রহণ করা মোটেই অন্যায় নয়। চাই তা কোন শারঈ বিষয়ে হৌক বা অন্য কোন মুবাহ (জায়েয) বিষয়ে হৌক। শারঈ বিষয়ে এই ধরনের নামকরণ বরং ওয়াজিবের পর্যায়ে পড়ে। যেমন মুসলিমগণ ইলমে ইসনাদ বা হাদীছের সনদ সমূহের বিদ্যায় 'মুছতালাহুল হাদীছ' (مصطلح الحديث) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন। যদিও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে এ ধরনের ইলমের কোন অস্তিত্ব ছিল না এবং তা বিদ'আতও নয়। কেননা এর একমাত্র উদ্দেশ্য হ'ল রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ সমূহের হেফাযত ও সংরক্ষণ।
এমনিভাবে কোন মুসলিম 'মুহাজেরীন' হিসাবে অভিহিত হয়েছেন (মক্কা থেকে মদীনায়) হিজরতের কারণে। কেউ 'আনছার' হিসাবে আখ্যায়িত হয়েছেন (মুহাজিরগণের) সাহায্যকারী হওয়ার কারণে। কেউ 'তাবেঈ' হিসাবে পরিচিত হয়েছেন পূর্ববর্তী মুহাজিরীন ও আনছার ছাহাবীদের শিষ্য হওয়ার কারণে। যাদের ব্যাপারে কল্যাণের সাক্ষ্য দান করা হয়েছে।
এক্ষণে এতে কোন্ ক্ষতি রয়েছে যে, আমরা আমাদের 'সালাফী' নামকরণ করেছি? যারা দ্বীন বুঝার ক্ষেত্রে সালাফে ছালেহীনের পদ্ধতির অনুসরণ করে। আর সালাফে ছালেহীন যাদের আমরা অনুসরণ করি, তারা হ'লেন ছাহাবা ও আল্লাহর রহমতে তাদের শিষ্য তাবেঈগণ। যারা হ'লেন স্বর্ণযুগের মানুষ। আর এই নামকরণ অবশ্যই যরূরী, যাতে এই হেদায়াত প্রাপ্ত দলটির সাথে অন্যান্য ভ্রান্ত দলগুলির পার্থক্য করা সম্ভব হয়। যারা দ্বীন বুঝবার ক্ষেত্রে ছাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত নীতি পরিত্যাগ করে চরমপন্থী খারেজীদের অথবা অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যাকারীদের অথবা অন্ধবিশ্বাসী মুক্বাল্লিদগণের তরীকা অনুসরণ করেছে।
এতদসত্ত্বেও আমরা নাম নিয়ে কোনরূপ যিদ করি না। বরং আমরা চাই যে, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী কালেমায়ে শাহাদাতের উপর কায়েম থাকুক এবং এতদুভয়ের চাহিদামতে সাধ্য পক্ষে আমল করুক। যেসব মুসলিম আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মহব্বত করে, আমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই। আমরা কোন সালাফীকে সাহায্য করি না, যদি সে বাতিলপন্থী হয় এবং যদিও তার প্রতিপক্ষ কাফের হয়। আমরা কোন অন্যায় কর্মে কোন সালাফীকে সমর্থন করি না। বরং আমরা প্রত্যেক মুসলিমকে তার দ্বীন, আক্বীদা ও ঈমান অনুযায়ী মহব্বত করে থাকি। মোটকথা আমরা 'সালাফী দাওয়াতে'র ধারক ও বাহক। ইসলাম বুঝা ও তার উপর আমলের পূর্ণাঙ্গ তরীকা এই দাওয়াতের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। যুগ যুগ ধরে সালাফী বিদ্বানগণ এই দাওয়াতের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে গিয়েছেন, আজও করে চলেছেন।
অতঃপর কে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে ইমাম শাফেঈ (রহঃ) প্রণীত 'ফিকুহের মূলনীতি' সংক্রান্ত কিতাব থেকে? যা তিনি লিখেছেন তাঁর 'কিতাবুর রিসালাহ' (كتاب الرسالة)-এর মধ্যে? কে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে খারেজীদের সম্পর্কে আলী (রাঃ) ও ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বিতর্ক এবং তার মাধ্যমে মুসলমানদের সম্মান ও সম্পদ হালাল করা হ'তে তাদেরকে বিরত রাখার ব্যাপারে? কে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে ইমাম মালেক (রহঃ)-এর ফিক্হ থেকে এবং ধর্মদ্রোহী যিন্দীকুকূদের সন্দেহবাদ সমূহের বিরুদ্ধে ইমাম আহমাদ (রহঃ) ও ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহঃ)-এর কিতাব সমূহ থেকে? যেসব ছিল শারঈ কল্যাণ সমূহের বিষয়ে এবং ভ্রান্ত ফিরক্বা সমূহের প্রতিবাদে লিখিত। এগুলি এবং এতদ্ব্যতীত অন্যান্যগুলি যা সালাফী তরীকার ভিত্তিসমূহ তৈরী করে। আধুনিক যুগের কোন শিক্ষার্থীর জন্য এসব থেকে দূরে থাকার কোন উপায় নেই। তবে এসব কিছুই বাড়তি জ্ঞান লাভের জন্য। বরং সব কিছুর পূর্বে আমাদেরকে কিতাব ও সুন্নাহর দলীলসমূহের শরণাপন্ন হ'তে হবে। এটাই হ'ল সালাফী তরীকা। যার সবটুকুই কুরআন ও সুন্নাহ্ আলোকিত দলীল সমূহের অনুসরণ এবং ঐ সকল বিদ্বানগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, যারা এই দ্বীনকে বুঝানো ও তার প্রচারের জন্য দণ্ডায়মান ছিলেন তাদের পদাংক অনুসরণ মাত্র।
mজার ব্যাপার এই যে, যারা 'সালাফী' নামটাকে সহ্য করতে পারেন না, তারা কিন্তু নিজেরা নিজেদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা নাম নির্বাচন করে নিয়েছেন। নিজেরা যে দোষে দোষী, অন্যকে সেই কারণেই তারা অপরাধী বলছেন। এগুলি স্রেফ প্রবৃত্তির অনুসরণ মাত্র।
তবে আমাদের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য এই যে, আমরা এই নামের প্রতি কোনরূপ যিদ পোষণ করি না, এ নামকে আমরা রক্ষাকবচ মনে করি না এবং এই নামকে আমরা ইসলামের প্রতীক বা প্রতিরূপ হিসাবে ভাবি না। বরং প্রথমে ও শেষে আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা 'মুসলিম' ইনশাআল্লাহ। এই নামেই আল্লাহ আমাদের নামকরণ করেছেন। আমরা ইসলামকে দ্বীন হিসাবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছি। 'সালাফী দাওয়াত' বলতে আমরা সঠিক ইসলামের চাইতে বেশী কিছু বুঝি না, যা কুরআন ও সুন্নাহ্ যথার্থ প্রতিরূপ এবং যা সালাফে ছালেহীনের প্রকৃত অনুসারী।
২য় সংশয় : তাদের কেউ কেউ বলেন, আপনারাও তো 'মুক্বাল্লিদ'। এটি অপবাদ মাত্র। কেননা আমরা মোটেই মুক্বাল্লিদ নই। বরং একজন খাঁটি সালাফী অবশ্যই হক ও দলীলের অনুসারী। উম্মতের বিদ্বানগণের প্রতি তারা সম্মান প্রদর্শনকারী। তাদের প্রচেষ্টা সমূহের মূল্যায়নকারী, তাদের ফিক্হ ও বিদ্যাবত্তা সম্পর্কে বাড়াবাড়ি না করে। কোনরূপ তিরষ্কারকারী, লা'নতকারী, নির্লজ্জ বক্তব্য দানকারী ও বেহুদা বাক্যবাগীশ না হয়ে নিরপেক্ষভাবে তারা হকের অনুসারী হন, যেখানেই তা পাওয়া যাক না কেন。
প্রকৃত সালাফীর পক্ষে একজন 'ইঁচড়ে পাকা' ব্যক্তি হওয়াও সম্ভবপর নয় যে, দু'চার পাতা কুরআন-হাদীছ পাঠ করেই নিজেকে উম্মতের সেরা বিদ্বানদের সমতুল্য মনে করবে। যাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করা হয়েছে। অতঃপর সে বলবে উদাহরণ স্বরূপ : আমিও তো মালেক ও শাফেঈ (রহঃ)-এর মত। কিংবা আমিও তেমন বুঝি, যেমন বুঝতেন আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হানীফা (রহঃ)। বরং খাঁটি সালাফী নিজেকে যথাস্থানেই গণ্য করেন এবং পূর্ববর্তী উম্মত ও বিদ্বানগণের যথার্থ মর্যাদা দান করেন। তারা হকের অনুসরণের ভিত্তিতে তাদেরকে যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে থাকেন। যখন তাঁদের কোন কথা দলীলের বিপরীত দেখেন, তখন দলীল না বুঝার কারণে প্রথমে নিজেকে ধিক্কার দেন। অতঃপর তাঁদের ইজতিহাদের পক্ষে ওযর পেশ করে বলেন, হয়তবা তাঁদের নিকট দলীলটি পৌঁছেনি, অথবা উক্ত দলীলের মর্ম তিনি যা বুঝেছেন, আমরা হয়ত তা বুঝিনি। 'রাফ'উল মালাম 'আনিল আয়েম্মাতিল আ'লাম' ('বরেণ্য বিদ্বানগণের উপর থেকে নিন্দা দূরীকরণ') নামক গ্রন্থে ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন。
আমি স্বচক্ষে এমন ছেলেদের দেখেছি, যাদের বয়স এখনও সতের বছর পার হয়নি, যারা ইলমের সামান্য কিছু শিখেছে। যখন তাদের কাছে কোন ইমামের ইজতিহাদ সংক্রান্ত আলোচনা আসে, তখন তারা বলে, 'আমরাও মানুষ তারাও মানুষ'। আশ্চর্য! তুমি বিদ্যার ক্ষেত্রে কতটুকু ওযনের মানুষ যে তাদের সঙ্গে নিজেকে সমান জ্ঞান করলে? বরং এটাই বলা উচিত যে, 'আমি যা বুঝি তা এই' অথবা 'এটাই আমার বিদ্যার দৌড়। এর বেশী বুঝবার ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দান করেননি'।
সংক্ষেপ কথা হ'ল, সালাফীগণ অন্ধ অনুসারী মুক্বাল্লিদ নয়, বরং অনুসারী মুত্তাক্বী। বিদ্বানগণের মর্যাদা দানের ক্ষেত্রে তারা দোষ বর্ণনায়, তিরষ্কার করায় ও গালি প্রদানে বে-শরম বা অতিরঞ্জনকারী নয়। তারা সর্বদা আল্লাহর নিকট এই প্রার্থনাই করে, 'হে আল্লাহ! তুমি আমাদের ও পূর্ববর্তী ঈমানদার ভাইদের ক্ষমা কর। আমাদের অন্তরে ঈমানদারগণের প্রতি কোনরূপ বিদ্বেষ রেখ না। হে প্রভু! তুমি বড়ই স্নেহপরায়ণ ও দয়াশীল' (হাশর ৫৯/১০)。
এমনিভাবে সালাফীগণ বিভিন্ন ইখতেলাফী বিষয়কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর কালামের নিকট সোপর্দ করেন এবং তার সঠিক মর্ম অনুধাবনের জন্য উম্মতের নেতৃস্থানীয় বিদ্বানবর্গ, ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে এযাম ও ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাদের অনুগামীদের মতামত বিশ্লেষণ করেন (কোন একজন নির্দিষ্ট বিদ্বানের অন্ধ তাক্বলীদ করেন না)। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালাম বুঝার জন্য এসব বিদ্বানগণের মতামত থেকে হেদায়াত গ্রহণ করা দোষের কিছু নয়। কেননা প্রথমতঃ আমরা কেউই 'অহী' নাযিলের অবস্থা প্রত্যক্ষ করিনি। দ্বিতীয়তঃ ছাহাবায়ে কেরাম আল্লাহ ও রাসূলের কালামের মর্মার্থ অনুধাবনে আমাদের সবার চাইতে বেশী জ্ঞানী। এমনিভাবে উম্মতের নেতৃস্থানীয় বিদ্বানবর্গ, যাদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য প্রদান করা হয়েছে, তারা ছিলেন আমাদের চাইতে অনেক বেশী বুঝের অধিকারী ও বেশী জ্ঞানী। যারা দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণ খুলুছিয়াতের সঙ্গে ইলম ও আমলের ময়দানে বিচরণ করেছেন। এক্ষণে যদি কোন শিশু বা কিশোর, যারা এখনো কুরআন ভাল করে পড়তে শিখেনি, জার-মাজরূর, ফেল-ফা'এল বুঝেনি, তারা যদি নিজেদেরকে উম্মতের সেরা বিদ্বানগণের ও মুসলমানদের নেতৃবৃন্দের সমান মনে করে, তবে সেটি হ'ল একটি স্পষ্ট ভ্রান্তি。
আমি নিজে কিছু ছেলেকে দেখেছি, যারা নিজেদেরকে বড় আলেম ভেবে কিভাবে পবিত্র কুরআনও সুন্নাহর সঙ্গে খেল-তামাশা করছে। তারা হালাল- হারাম, দাওয়াত, রাজনীতি, ইবাদত ও অন্যান্য ব্যবহারিক বিষয়ে এমন খাম- খেয়ালী আচরণ করে থাকে, যাতে বিজ্ঞানময় ইসলাম কিছু পাগল, আহমক ও উদাসীনদের দ্বীনের পর্যায়ে পড়ে যায়। এর চাইতে বড় বেওকূফী আর কি হ'তে পারে যে, দ্বীনের তাবলীগ ও কুরআন-সুন্নাহ হ'তে হুকুম বের করার দায়িত্ব নিবে ঐ ব্যক্তি, যে আরবী সাহিত্যে কোনরূপ দখল রাখে না। যে উছুলে ফিক্বহ ও তার নিয়ম-কানুন কিছুই বুঝে না। মোটকথা সালাফীগণ মুক্বাল্লিদ নয় বা তারা অহংকারী বে-শরম নয়। তারা ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে এযাম, ওলামায়ে দ্বীন ও উম্মতের নেতৃস্থানীয় বিদ্বানগণের চাইতে অধিক বুঝবার ধারণাও পোষণ করেন না। যারা বিগত যুগ থেকে আজ পর্যন্ত পূর্ণ ইখলাছের সঙ্গে দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে ব্যাপৃত আছেন। বরং প্রকৃত সালাফী তিনিই, যিনি কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী, দলীল ও সত্যের সন্ধানকারী এবং বিদ্বানগণের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনকারী। তাঁদের দোষ-ত্রুটি সন্ধানকারী নয়। যা থেকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পরে কেউ মুক্ত নন। যারা যাবতীয় বিচ্ছিন্নতা ও স্থায়ী শত্রুতাপূর্ণ ঝগড়ার বিপরীতে মুসলমানদের জামা'আতকে ধারণকারী, তারাই হ'ল প্রকৃত সালাফী। আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা করি, তিনি আমাদেরকে তাদের মত করুন!
এটি সংযোজন। এই বরকতময় বইয়ের ভূমিকায় এটুকু যোগ করা ব্যতীত কোন উপায় ছিল না। অত্র বইটি দ্বিতীয়বার দেখবার সুযোগ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমি এর কিছু কিছু বক্তব্য সংশোধন করেছি এবং শেষ অংশে সালাফী দাওয়াতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি ও তার বরকত সমূহের আলোচনা নতুনভাবে যোগ করেছি। আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন একে আমাদের নেকীসমূহের পাল্লায় লিখে নেন এবং মুসলিম উম্মাহকে একই তাওহীদের কালেমার উপর ঐক্যবদ্ধ করে দেন। তিনি যেন আমাদের হাতগুলিকে ইসলামের সম্মান রক্ষা ও সাহায্যের জন্য কবুল করে নেন। আল্লাহ সকল কর্মের উপরে বিজয়ী। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না。
ইতি আব্দুর রহমান আব্দুল খালেক
কুয়েত: জুম'আ ২৬শে মুহাররম ১৪০৩ হি. ১২ই নভেম্বর ১৯৮২ খৃ.
টিকাঃ
৩. 'সালাফ' আরবী শব্দের বাংলা অর্থ হ'ল- পূর্ব পুরুষগণ। সেই অর্থে 'সালাফে ছালেহীন' বলতে সৎকর্মশীল পূর্বপুরুষগণ। যার দ্বারা ছাহাবা, তাবেঈন ও বিগত যুগের মুহাদ্দিছগণকে বুঝানো হয়।
৪. ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদ্রীস শাফেঈ (১৫০-২০৪ হি./৭৬৭-৮২০ খৃ.), কিতাবুর রিসালাহ, তাহকীক: আহমাদ মুহাম্মাদ শাকের (১৩৫৮ হি./১৯৩৯ খৃ.) বৈরূত ছাপা, দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, তাবি)। যা ১৮২১টি ক্রমিকে তাহকীকসহ ৫৯৩ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত এবং সর্বসাকুল্যে ৭২৬ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত।
৫. ইবনু আব্দিল বার্র, জামে'উ বায়ানিল 'ইলমি ওয়া ফাযলিহী (বৈরূত : তাবি) ২/১০৪ হা/১৮৩৪; ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৭/২৯০-৯২ 'খারেজীদের উত্থান' অনুচ্ছেদ।
📄 সালাফী দাওয়াতের মূলনীতি : এক নজরে
১. সালাফী দাওয়াত বলতে ছাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে ছালেহীনের বিশুদ্ধ ইসলামের দাওয়াতকে বুঝায়।
২. সালাফী দাওয়াতের মূলনীতি হ'ল ৩টি : তাওহীদ, ইত্তেবা ও তাযকিয়াহ তথা আল্লাহ্ একত্ব, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর অনুসরণ ও আত্মশুদ্ধি অর্জন।
৩. সাধারণ ধারণা মতে তাওহীদ অর্থ তাওহীদে রুবুবিয়াত তথা আল্লাহ ব্যতীত কোন সৃষ্টিকর্তা নেই। কিন্তু সালাফী আক্বীদা মতে তাওহীদের মূলনীতি হ'ল চারটি : (ক) তাওহীদে আসমা ও ছিফাত তথা কোনরূপ পরিবর্তন ও দূরতম ব্যাখ্যা ছাড়াই আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর একত্বের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা যেমনটি তাঁর উপযোগী। (খ) ইবাদতের জন্য আল্লাহকে একক গণ্য করা। (গ) ঈমান আনা এ ব্যাপারে যে, মানুষের দুনিয়াবী জীবনে প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে বিধান রচনার একমাত্র হকদার হ'লেন আল্লাহ। (ঘ) তাওহীদের উপরোক্ত তিনটি বিষয়ের প্রতিটিই লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবনের জন্য এক একটি রুকন বা স্তম্ভ।
৪. ইত্তেবা : অর্থ অনুসরণের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে একক হিসাবে মান্য করা। যা কালেমায়ে শাহাদাতের দ্বিতীয় অংশের দাবী।
৫. ইত্তেবা যথার্থ হ'তে পারে না চারটি বিষয় ব্যতীত। (ক) একথা জানা যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় মহান প্রতিপালকের পক্ষ হ'তে বান্দাদের প্রতি একজন মুবাল্লিগ বা প্রচারক ছিলেন। তিনি দু'টি 'অহী' নিয়ে এসেছিলেন। একটি আল্লাহ্ কিতাব। অন্যটি তাঁর সুন্নাহ। (খ) দ্বীন হ'ল- একটি পদ্ধতি, একটি তরীকা ও একটি ব্যাপক (সামাজিক) রঙের নাম। কেবল আল্লাহ্ সঙ্গে বান্দার একান্ত সম্পর্ক মাত্র নয়। এর অর্থ হ'ল, আল্লাহ্ হুকুম অনুযায়ী তাঁর রাসূল (ছাঃ) হ'লেন মানুষের সার্বিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের বিধানদাতা। অতএব ব্যবসা-বাণিজ্য, বিবাহ-তালাক, শাসন ও রাজনীতি এবং দণ্ডবিধি সমূহ প্রভৃতি বিষয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছকে অমান্য করা ছালাত, ছিয়াম, যাকাত, হজ্জ প্রভৃতিকে অমান্য করার ন্যায় গুনাহের কাজ। (গ) পূর্বোক্ত দু'টি বিষয়ের আলোচনায় রাসূল (ছাঃ)-এর মর্যাদা এমন এক স্তরে উন্নীত হয়েছে, যার নিকটবর্তী হওয়া কোন মানুষের পক্ষে সম্ভবপর নয়। সেকারণ তার বিরোধিতায় দুনিয়ার কারু কোন কথা গ্রহণযোগ্য হবে না। চাই তিনি ইমাম, ফক্বীহ, নেতা, রাজনীতিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক যিনিই হৌন না কেন। যে ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর কথার পরেও অন্য কারু কোন কথা পেশ করল, সে ব্যক্তি মন্দ কাজ করল, সীমালংঘন করল ও যুলুম করল। সে ব্যক্তি কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমায়ে উম্মতের বিরোধিতা করল। (ঘ) ইত্তেবা বা অনুসরণ কখনোই পূর্ণাঙ্গ হবে না রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা ব্যতীত।
৬. ইত্তেবা দুর্বল হওয়া এবং রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি প্রশমিত হওয়ার কারণ ৪টি (ক) তাক্বলীদকে জায়েয গণ্য করা (খ) ইলম ও দলীল ছাড়া ফৎওয়া দেওয়া (গ) কুরআন ও সুন্নাহ্ পঠন ও পাঠনের পথ রুদ্ধ করা (ঘ) জীবনের বহু ক্ষেত্র হ'তে শরী'আত অনুযায়ী আমল বন্ধ করা।
৭. তৃতীয় মূলনীতি: তাযকিয়াহ বা শুদ্ধিতা। এতে দু'টি বিষয় রয়েছে: (ক) রাসূল আগমনের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল আত্মশুদ্ধি আনয়ন করা। (খ) জান্নাতে প্রবেশের জন্য ওটাই অপরিহার্য গুণ। যে ব্যক্তি এই গুণে গুণান্বিত নয়, সে ব্যক্তি জান্নাতের অধিকারী নয়।
৮. শুদ্ধিতা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোন আমল নেই। বরং ইসলামের সমস্ত রীতি-পদ্ধতি, আক্বীদা-বিশ্বাস ও আচরণবিধি সব কিছুরই শেষ ফল গিয়ে দাঁড়ায় তাযকিয়াহ বা আত্মার পরিশুদ্ধি।
৯. পরবর্তীকালে তাছাউওফের নামে ইছলাহে নাফস বা আত্মশুদ্ধির বহু তরীকা সৃষ্টি হয়েছে। যা তারবিয়াত ও ইবাদতের গতি পেরিয়ে আক্বীদা ধ্বংস করা ও শরী'আত দলনের ক্ষেত্র অতিক্রম করেছে। তারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যের ইবাদত তথা শিরকের মহাপাতকে লিপ্ত হয়েছে এবং অদ্বৈতবাদ, সর্বেশ্বরবাদ প্রভৃতি নানাবিধ শিরকী মতবাদ আবিষ্কার করেছে। ফলে পাপীরাই সেখানে সৎলোকের চাইতে অধিক মর্যাদাবান হিসাবে গণ্য হয়।
১০. ছুফী মতবাদের মুকাবিলায় একটি ফিক্বহী জড়তা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। যা কুরআন ও সুন্নাহ্ বিধানগুলিকে মেশিনের ছাঁচের ন্যায় তাদের মনগড়া উছুলে ফিক্বহের পরিভাষার ছাঁচে ঢেলে দেয়। ফলে মানুষ কিতাব ও সুন্নাহর মূল উৎস হ'তে দূরে সরে যায়। এইসব ছাঁচ বহু হালালকে হারাম করে এবং হারামকে হালাল করে।
১১. সালাফী তরীকা উপরোক্ত ছুফী ও ফিক্বহী তরীকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে তাযকিয়াহ আল্লাহর দ্বীনের যথাস্থানে রক্ষিত হয়েছে। এর জন্য সে শরী'আত সম্মত পদ্ধতি সমূহ অনুসরণ করেছে, যা কিতাব ও সুন্নাহতে মওজুদ রয়েছে। ঐ দু'টির বাইরে তাযকিয়াহ নেই এবং ঐ দু'টি ব্যতীত তাযকিয়াহ কখনোই হাছিল হ'তে পারে না।
১২. সালাফী তরীকা ঐসব যাহেরী কট্টর মতবাদীদেরকেও বাতিল গণ্য করেছে, যারা দলীল নিয়ে চলে, কিন্তু তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ভুলে যায়।... এই তরীকা হ'ল সংশোধন, প্রশিক্ষণ, আল্লাহ্ নৈকট্য হাছিল ও শুদ্ধিতা অর্জনের জন্য। এখানে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ব্যতীত সে কাউকে শ্রেষ্ঠতম নমুনা মনে করে না। তিনি মানবজাতির মধ্যে আত্মার দিক দিয়ে সর্বাপেক্ষা পবিত্র, মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ, চরিত্রে সুদৃঢ় এবং তরীকা ও পদ্ধতিতে শ্রেষ্ঠতম পথ প্রদর্শক।
১৩. সালাফী দাওয়াতের উদ্দেশ্য সমূহ ৪টি : (ক) খাঁটি মুসলিম তৈরী করা (খ) এমন একটি মুসলিম সমাজ কায়েম করা যেখানে আল্লাহ্ কালেমা উন্নত থাকবে এবং কুফরীর কালেমা অবনমিত হবে (গ) আল্লাহর জন্য দলীল কায়েম করা (ঘ) আমানত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট ওযর পেশ করা।
১৪. সালাফী তরীকায় দাওয়াত দানকারীকে অবশ্যই নিম্নোক্ত দু'টি বিষয়কে তার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করতে হবে।- (ক) (দাওয়াতের) আমানত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ্র নিকট ওযর পেশ করা। (খ) হঠকারী বান্দাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর জন্য দলীল কায়েম করা। এরপর বাকী দু'টি উদ্দেশ্য আল্লাহর উপরে ন্যস্ত করতে হবে। চাইলে তিনি তাড়াতাড়ি সে দু'টি বাস্তবায়িত করবেন, চাইলে দেরীতে করবেন। সে দু'টি হ'ল: (ক) মানুষের হেদায়াত পাওয়া এবং (খ) তাঁর শরী'আত যমীনে কায়েম হওয়া।
১৫. সালাফী দাওয়াতের বৈশিষ্ট্য সমূহ ৩টি : (ক) তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা (খ) ঐক্যের বাস্তবায়ন (গ) ইসলামের বুঝকে সহজবোধ্য করা।
১৬. সালাফী দাওয়াতের মাধ্যমে উম্মতের ঐক্যের দাওয়াত। যা ব্যবহারিক জীবনে একক বিধান চালু করতে চায় কিতাব ও সুন্নাহ্ ভিত্তিতে। ইমামদের কথা তারা গ্রহণ করবে। কিন্তু কোন একজনের রায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবে না। অতএব হে আমার জাতি! এই দাওয়াতের মধ্যে কোন ত্রুটি আছে কি?
১৭. কিন্তু এই সহজ-সরল দ্বীন আজ মানুষের নিকট অবোধ্য করে তোলা হয়েছে এবং পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ হ'তে সরাসরি ফায়েদা হাছিলের পথ লোকদের জন্য রুদ্ধ করা হয়েছে। ফলে ইসলাম এখন রূপকথার গল্প সমূহের মত হয়ে গেছে। এর কারণ হ'ল ইসলাম বিষয়ক শাখা- প্রশাখা সমূহের জন্য বিভিন্ন পরিভাষার ছড়াছড়ি। ইলম ও মা'রেফাতের (নামে আলাদা পরিভাষা) সৃষ্টি হ'ল, যাতে ইসলামের কিছুই নেই।... আরবী সাহিত্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকেও দেখছি যে, কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে কিছুই জ্ঞান রাখেন না, সামান্য কিছু ব্যতীত। এমনিভাবে উছুলে ফিক্বহে অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তি তাওহীদ ভাল বুঝেন না। এমনকি তিনি ওযূর নিয়মটাও ভালভাবে জানেন না।
১৮. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বর্তমানে এমন সব আলেম তৈরী করছে, যারা মিম্বরে ও স্টেজে দাঁড়িয়ে লোকদের নিকট উচ্চকণ্ঠে বক্তৃতা করেন। কিন্তু ছহীহ ও মওযু' হাদীছ এবং বানাওয়াট কথাসমূহের পার্থক্য বুঝেন না। এভাবে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলি ইসলামী শিক্ষার বিভিন্ন শাখার উপরে পৃথক পৃথক বিশেষজ্ঞ তৈরী করছে, যারা ইসলামের সামষ্টিক জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন।
১৯. সালাফী দাওয়াতের প্রধান প্রচেষ্টা হ'ল মানুষের জন্য ইসলামের বুঝকে সহজ করে দেওয়া। আর তা হ'ল সমস্ত মানুষের নিকট কিতাব ও সুন্নাহর শিক্ষা ও জ্ঞান সহজ ও স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার সমস্ত পথ খুলে দেয়া। যাতে এই জ্ঞান সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।... বরং ইসলামের জ্ঞান হবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। যেমন মুক্ত বায়ু থেকে আমরা নিঃশ্বাস নিয়ে থাকি।
২০. এই সহজবোধ্যতা বিগত যুগে যত না যরূরী ছিল, বর্তমান যুগে তা আরও অধিক যরূরী এবং আমাদের জন্য অধিক প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দিয়েছে। কেননা এ যুগের মানুষ তাদের সমস্ত জীবনটাই বলতে গেলে দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জনের মধ্যে লিপ্ত রাখে।... আর সে কারণেই সালাফী শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরাপদ পদ্ধতি। কেননা এটি মানুষের কাছ থেকে খুব কম সময় নেয় এবং তাকে সর্বাধিক ফায়েদা প্রদান করে।
২১. এই ফায়েদাটিই হ'ল সালাফী তরীকায় পদচারণার প্রধান বৈশিষ্ট্য। যা নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর তরীকা। যা তিনি অতি অল্প আয়াসে ও স্বল্প প্রচেষ্টায় সমস্ত উম্মতকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাঁর ছাহাবীগণও সেটা করে গিয়েছেন।... এভাবে আমরা মনে করি সালাফী উত্তরসুরীগণ তাদের প্রথম যুগের নেতৃবৃন্দের ন্যায় উপরোক্ত বিশেষ গুণ সমূহের অধিকারী হবে।