📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 রমাদ্বান আসার আগে

📄 রমাদ্বান আসার আগে


রমাদ্বানের মূল উদ্দেশ্য কি শুধু বাজার করা? খাওয়া দাওয়া? আমাদের এই বাজারকেন্দ্রিক ব্যস্ততা আর গৃহস্থালীর কেতাদুরস্ততা আমাদেরকে রমাদ্বানের প্রকৃত প্রস্তুতি থেকে দূরে রাখছে না তো? শুধু কি উদরপূর্তিই রমাদ্বানের মূল উদ্দেশ্য?
না, একদম না। রমাদ্বানের মূল উদ্দেশ্য এসব না। বরং নবী করিম ﷺ রজব ও শাবান মাস থেকেই রমাদ্বানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। আত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিতেন। রমাদ্বান আসার পূর্বমূহুর্তে সালাফগণও একইভাবে প্রস্তুতি নিতেন। আমরাও ঠিক একইভাবে নিজেদেরকে ঢেলে সাজাতে পারি। এজন্য রমাদ্বানের আসল উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিম্নলিখিত দশটি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি বি-ইযনিল্লাহি তায়ালা -
১। আন্তরিক তাওবাহঃ তাওবাহ সবসময়কার জন্য। নবীজি ﷺ দিনে সত্তরবারের অধিক তাওবাহ করতেন। আমাদেরও বেশী বেশী তাওবাহ করা উচিৎ। রামাদ্বান আসার আগে নিজের কৃত গুনাহের জন্য বেশী বেশী তাওবাহ ও ইস্তিগফার করা, রমাদ্বানে একদম পুতঃপবিত্র আর প্রশান্ত আত্মা নিয়ে রহমত হাসিলের উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল হওয়া। বেলা শেষে এসবই মূখ্য।
মহান আল্লাহ্ বলেন, أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”(১)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর; কেননা আমি আল্লাহর কাছে দৈনিক একশতবার তাওবাহ করে থাকি।”(২)
২। দুআঃ সালাফদের কেউ কেউ রমাদ্বান আসার ছয়মাস আগে থেকেই দুআ করতেন। আল্লাহর কাছে কাঁদতেন যেন তিনি তাঁদেরকে রমাদ্বান পর্যন্ত জীবিত রাখেন। প্রতিটি মুসলিমের উচিৎ বেশী বেশী দুআ করা যেন মহান আল্লাহ্ তাঁদেরকে রমাদ্বান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। সুস্থ শরীরে আর দৃঢ় প্রত্যয়ে পুরোটা রমাদ্বান ইবাদাত বন্দেগীতে কাটানোর সামর্থ্য যেন তিনি দেন, আর প্রতিটি আমল কবুল যেন তিনি করে নেন, আমিন।
৩। প্রফুল্ল চিত্তঃ রমাদ্বানকে কখনই বোঝা মনে না করা বরং এই নিয়ামতকে রহমান আল্লাহর তরফ থেকে উপহার বা বিশেষ নিয়ামত মনে করা। সারাটি মাস জুড়ে জান্নাতের দরজা খুলে রাখা হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে রাখা হয়- এই উম্মতের জন্য এটা কতটা নিয়ামতের, কতটা সম্মানের, তা বেশী বেশী অনুধাবন করা। রমাদ্বান কুরআন নাযিলের মাস। রমাদান ক্ষমার মাস। রহমতের মাস। নাজাতের মাস। তাকওয়া অর্জনের মাস। নিজেকে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার মাস। এ জন্য আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানীর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা আমাদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কখনই এ মাসটিকে অবহেলা, অবজ্ঞা ও হেলায়ফেলায় কাটিয়ে দেওয়া উচিৎ নয়।
মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ
"বল, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীতে। সুতরাং এরই (ইসলাম ও কুরআনের) প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা সঞ্চয় করেছ।"(৩)
৪। বিগত বছরের ক্বাযা সিয়াম পালনঃ রমাদ্বান আসার আগে, শাবান মাসে আগের ক্বাযা সিয়ামগুলো করে ফেলা। আম্মাজান আয়িশা (রাঃ) আগের বছরের ক্বাযা সিয়ামগুলো শাবান মাস ছাড়া করতে পারতেন না। (৪) হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন, মা আয়িশা (রাঃ) শাবান মাসে বিগত ক্বাযা রোজা করার গুরুত্ব এ জন্যই বুঝিয়েছেন যেন তা, রমাদ্বান পর্যন্ত তা প্রলম্বিত না হয়। (৫)
৫। রমাদ্বানের বিভিন্ন মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে জানা। রমাদ্বানের গুরুত্ব অনুধাবন করা।
৬। দুনিয়াবী যতরকমের ব্যস্ততা আছে তা রমাদ্বান মাস আসার আগে আগেই শেষ করে ফেলা। রমাদ্বান মাস একনিষ্ঠ হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদাতে সচেষ্ট থাকা।
৭। পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে মাশোয়ারা করা। ছোট ছোট মজলিস করা। রমাদ্বানের আহকাম, বিধিবিধান, গুরুত্ব, ফজিলত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা। পরিবারের ছোটদের সিয়াম পালনে উৎসাহিত করা।
৮। ইসলামিক কিতাবাদি সংগ্রহ করা, নিজে পড়া, মাসজিদের ঈমামদের মাঝে বিতরণ করা যেন, সেখান থেকে উনারা খুতবা বা তাফসীর মাহফিলে সবাইকে নসিহত করতে পারেন।
৯। শাবান মাসে বেশী বেশী সিয়াম পালন করে শারীরিক আর মানুষিকভাবে নিজেকে রমাদ্বানের একদম ফিট করে তোলা।
১০। আল কুরআনঃ সালামাহ ইবনে কুহাঈল (রা:) বলেন, শাবান হলো কুরআন তিলাওয়াতকারীদের মাস। শাবান শুরু হলেই আমর ইবনে কায়েস (রা:) তার দোকান বন্ধ করে দিতেন আর কুরআন তিলোওয়াতের জন্য সময় বের করে নিতেন। (৬)
আবু বকর আল-বাল্কি (রহঃ) খুব চমৎকার উক্তি করেছেন। তিনি বলেন, রজব হলো বীজ বপনের মাস, শাবান হলো সেচের মাস আর রমাদ্বান হলো ফসল কর্তনের মাস। তিনি আরো বলেন, রজব মাস হলো বাতাস বওয়ার মাস, শাবান হলো সেই বাতাসে মেঘের ঘনঘটার মাস আর রামাদ্বান হলো বৃষ্টি নামার মাস। (৭)
যদি কেউ রজবে বীজ না বপে তাহলে কোথায় সে পানি সেচ দিবে আর কিভাবেই বা তার ফসল পাকবে?

টিকাঃ
১। আন-নুর আয়াতঃ৩১
২। সহীহ মুসলিম - ৬৬১৩
৩। সূরা ইউনুস, আয়াতঃ৫৮
৪। বুখারীঃ১৮৪৯ ও মুসলিমঃ ১১৪৬
৫। বুখারীর হাদিসের ব্যাখ্যায় তাঁর ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেন。
৬। লাতাইফ-আল-মা'রিফ, ইবনু রজব (রহ)
৭। লাতাইফ-আল-মা'রিফ, পৃষ্ঠাঃ ২১৮, আল-মাক্তাবতুল ইসলাম সংস্করণ।

📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 রমাদ্বানের প্রথম রাতে

📄 রমাদ্বানের প্রথম রাতে


উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর নির্দেশনা -
রমাদ্বান মাসের চাঁদ দেখা দিলে উমার (রাঃ) মাগরিব সলাত আদায় করার পর সকলের উদ্দেশ্যে বলতেন,
- তোমরা বসো। নিশ্চয়ই রমাদ্বান মাসের সিয়াম তোমাদের উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর কিয়ামুল লাইল তোমাদের উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য নয়, তবে তোমাদের কেউ যদি তা আদায় করতে সক্ষম হয় তবে তার করা উচিৎ। এটা তোমাদের জন্য অতিরিক্ত আমল যার ব্যাপারে আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে অবহিত করেছেন। কাজেই যদি কেউ রাতে কিয়ামুল লাইলে দাঁড়াতে না পারে, সে তাঁর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুক।
আর তোমরা এ ধরণের কথা বলা থেকে বিরত থাকো - 'অমুক আর অমুক যদি সিয়াম পালন করে তবে আমিও পালন করব, আর অমুক আর অমুক যদি রাতে সলাত আদায় করে তবে আমিও করব। অতএব, সিয়াম ও কিয়াম শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই করবে। আর তোমরা এও জানো যে, সলাতের পর পরবর্তী সলাতের জন্য অপেক্ষা করা সলাতের মধ্যেই থাকারই নামান্তর।'
তোমরা আল্লাহর ঘরে অনর্থক ও আজগুবি কথা বলা থেকে বিরত থাকো, তোমরা আল্লাহর ঘরে অনর্থক ও আজগুবি কথা বলা থেকে বিরত থাকো, তোমরা আল্লাহর ঘরে অনর্থক ও আজগুবি কথা বলা থেকে বিরত থাকো,
এই মাস আসার আগের কয়েকটি দিন তোমাদের কেউ রোজা রেখো না। এই মাস আসার আগের কয়েকটি দিন তোমাদের কেউ রোজা রেখো না। এই মাস আসার আগের কয়েকটি দিন তোমাদের কেউ রোজা রেখো না।
যতক্ষণ পর্যন্ত চাঁদ দেখা না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা সিয়াম শুরু করো না, অতঃপর তা দেখা গেলে ত্রিশদিন পূর্ণ কর। আর পাহাড়ের বুকে আঁধার নেমে না আসা পর্যন্ত তোমার রোজা ভঙ্গ করো না (অর্থ্যাৎ সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত।) (১)
রাদিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু।

টিকাঃ
১। তথ্যসূত্রঃ আব্দুর রাজ্জাক আস-সানা'নী, আল-মুসান্নাফঃ ৭৭৪৮

📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 তিনটি জিনিস হলো

📄 তিনটি জিনিস হলো


ঈমান
তিনটি জিনিস হলো ঈমান।
১। যখন কোন এক শীতের রাতে কারো নৈশকালীন নির্গমন (স্বপ্নদোষ) হয়, এরপর সে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে - তখন শুধু আল্লাহই তাকে দেখতে পায় - অতঃপর সে গোসল করে পবিত্র হয়ে নেয়।
২। তীব্র গরমে যখন কোন বান্দা সিয়াম পালন করে।
৩। জনমানবহীন প্রান্তরে কোন এক বান্দা সলাত আদায় করে, যেখানে আল্লাহ ছাড়া আর কেউই তাকে দেখতে পায়না।

টিকাঃ
তথ্যসূত্রঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত, ঈমাম আল-বায়হাক্বী সংকলিত, শুয়াবুল ঈমান - ৫১

📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 সালাফদের সিয়াম

📄 সালাফদের সিয়াম


রমাদ্বান মাসে উসমান (রাঃ) এর দিন কাটত সিয়াম পালন করে আর রাত পার হত সলাত ও সিজদায় পড়ে থেকে। (১) উসমান (রাঃ) যেদিন শহীদ হন সেদিনও তিনি সিয়ামরত অবস্থাতেই ছিলেন। (২)
রমাদ্বানের দিনগুলিতে উনারা আল্লাহর ইবাদাতে কাটিয়ে দিতেন, আজেবাজে কথাবার্তা থেকে মুক্ত থাকতেন।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলতেন, তুমি যখন রোজা রাখবে তখন তোমার কান, চোখ, ও জিহবাকে অনর্থক কথাবার্তা ও খারাপ কাজকর্ম থেকে মুক্ত রাখবে। শান্ত থাকবে এবং রোজা থাকা অবস্থাকে রোজা না থাকার অবস্থার সাথে গুলিয়ে ফেলবে না। (৩)
সালাফে সলেহীন যেভাবে রমাদ্বানে খারাপ কাজকর্ম থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখতেন, একইভাবে বেদ্বীন গুনাহগারদের সুহবত থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখতেন। তাদের সাথে মিশতেন না। এমনকি আব্দুল্লাহ ইবনু মাস'উদ (রাঃ) এর একটি ঘটনা থেকে জানা যায়, তিনি এক বিয়ের দাওয়াতকে উপেক্ষা করেছিলেন শুধুমাত্র সেখানে শারিয়াহ বহির্ভূত কার্যকলাপ থাকার কারণে। সালাফগণ সকল প্রকার পাপাচার ও বিদআত থেকে মুক্ত থাকতেন। এভাবেই উনারা উনাদের আত্মা পবিত্র রাখতেন, বিশুদ্ধ রাখতেন। দুষ্ট লোকদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও দুনিয়াবী চলাফেরা উনাদের কখনই আকৃষ্ট ও মোহাবিষ্ট করতে পারত না। শুধুমাত্র নেককার লোকদের সুহবত ও সান্নিধ্যে থেকে ঈমান তরতাজা রাখতেন। উনাদের মধ্যে কিঞ্চিত পরিমাণ শারিয়াহ বহির্ভূত কোন বিষয়াদি পরিলক্ষিত হত না। ইফতারের সময় হলে উনারা গরীব দুঃখীদের মাঝে ছুটে চলে যেতেন।
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) গরীব দুঃখীদের মাঝে বসে তাদের সাথে ইফতার করতেন। ইফতার গ্রহণের সময় যদি কেউ এসে উনার কাছে এসে খাবার চাইত, তখন তিনি তার নিজের অংশটুকু তাঁকে দিয়ে দিতেন। ইমাম ইবন শিরিন (রহ) বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) ইফতারির সময় মাঝে মাঝে স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে সিয়াম ভঙ্গ করতেন। (৪)
ঈমাম সুয়ূতী (রহ) বলেন, এর মানে হল, ইফতারের সময়ে ইফতারি গ্রহণের আগে স্ত্রী সহবাস করতেন। এরপর মাগরিব সলাত আদায় করতেন। যাতে করে সলাত এবং অন্যান্য ইবাদাত পূর্ণ মনোযোগের সাথে সম্পন্ন করতে পারেন। কাজেই বিবাহিতরা চাইলে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) এর এই সুন্নাহর উপর জীবনে একবার হলেও আমল করতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন মাগরিবের সলাত আদায়ে খুব বেশী দেরি না হয়ে যায়। (৫)
কোন এক সালাফ তার মৃত্যুশয্যায় সিয়াম নিয়ে হৃদয় বিদারক একটি উক্তি করেছিলেন। বিদায় বেলায় তাঁকে কাঁদতে দেখে কেউ একজন জিজ্ঞেস করেছিল, "আপনি কাঁদছেন কেন?" জবাবে তিনি বলেছিলেন, "কাঁদছি এ জন্য যে, অনেকের মত আমি আর রোজা করতে পারব না, অনেকের মত আল্লাহকে আর স্মরণ করতে পারব না, অনেকের মত আর সলাত আদায় করতে পারব না।"(৬)

টিকাঃ
১। সুনান আল বায়হাক্বীঃ ৪/৩০১
২। আল- হিলিয়াহঃ ১/৫৫
৩। ইবনে আবি শায়িবা, ২/২৪২
৪। আল হায়ছামী, আল মাজমা'আল যাওয়াইদ (৩/১৫৬), উমদাতুল ক্বারী, হাদিসঃ ১৯৫৫, সনদঃ হাসান。
৫। ঈমাম আত-ত্ববারাণী, মু'জাম আল-কাবির (১২/২৬৯) হাদিস নম্বরঃ ১৩০৮০, আল-উইশাহ ফী ফাওয়াইদ আন-নিকাহ
৬। সাইলেন্ট মোমেন্টসঃ দ্য ডেসক্রিপশন অব বিফোর এন্ড আফটার ডেথ আসপেক্টস। দারুস সালাম পাবলিশার্স, রিয়াদঃ২০০৪, পৃষ্ঠাঃ ৫৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00