📄 রমাদ্বান কড়া নাড়ে
আলহামদুলিল্লাহ, রমাদ্বান মাস দরজায় কড়া নাড়ছে। এ মাসে আমরা পুরো উদ্যমে সলাত আদায় করব, কুরআন তিলাওয়াত করব, বেশী বেশী দান সদাক্বা করব, কোমর বেঁধে সিয়াম পালন করব, লাইলাতুল কদরের তালাশ করব, সাহরী ও ইফতার করব, ইতিকাফ করব, চোখের পানি ফেলে দুআ ও ইস্তিগফার করব। কতশত প্রস্তুতি হাতে নিয়েছি আমরা ই বি-ইযনিল্লাহি তায়ালা। কিন্তু, একটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের ব্যাপারে আমরা বরাবরের মতই উদাসীন থাকব। আর সেটা হচ্ছে, যাদের সাথে আমাদের মনমালিন্য হয়েছে, আমরা তাদের সাথে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলব না। পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বেরাদার, বন্ধুবান্ধব, কলিগ, সহপাঠীদের সাথে ভেঙে যাওয়া সম্পর্কগুলো জোড়া লাগাবো না। এগুলো অমিমাংসিত রেখেই রমাদ্বান শুরু করব। শাইত্বনের ধোঁকায় পড়ে হয়ত কোন এক কারণে পরিচিতজনদের সাথে আমাদের মনমালিন্য হয়েছিল, কোন এক কারণে তাঁদের সাথে ঝগড়া হয়েছিল কিন্তু সেই ভারী বোঝা এখনও বহন করে চলছি নিজের অজান্তে। যা কখনই ঠিক হচ্ছে না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ একদা তার সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, "আমি কী তোমাদেরকে এমন আমলের কথা বলে দিবো না যা সলাত, সিয়াম এবং সদাক্বার চাইতে উত্তম? উত্তর এলো, "হ্যাঁ।" তিনি তখন বললেন, إصلاح ذاتِ الْبَيْنِ "মানুষের মধ্যে মিমাংসা করে দেওয়া"।
আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমাদের তওবাহ ও দুআ কবুল না হওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে এটিও একটি কারণ – এক মুসলিমের সাথে আরেক মুসলিমের কলহের জের। একজনের সাথে আরেকজনের অমিমাংসিত হিসাব কিতাব। অনেক দিন ধরে জিইয়ে রাখা রাগ, ক্ষোভ, হিংসা, বিদ্বেষ। এগুলোর কারণে আল্লাহর দরবারে আমাদের তাওবাহ ও দুআ কবুল হয় না।
অপর এক হাদীসে রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন,
"মানুষের আমলনামা প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়, অতঃপর আল্লাহ সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন, তারা ব্যতীত যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে, আর দুই ব্যক্তি যারা নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়। আরো বলা হয়েছে, যতক্ষণ না তারা নিজেদের মধ্যে মিমাংসা করে নেয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে ক্ষমা করা হয় না। (২৯)
কাজেই, আমরা যা জলঘোলা করার ছিল, তা করে ফেলেছি। দিনে দিনে অনেক দিন হয়েছে। কালে কালে অনেক কাল হয়েছে। এবার দীল নরম করার পালা। ঠান্ডা মাথায় নিজের আসল লাভ ক্ষতি নিয়ে চিন্তা করার পালা। আমাদের সামনে এমন একটি মাস আসতে যাচ্ছে, যখন আমরা পাগলের মত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকব, কবরের আযাব থেকে মাফ চাইতে থাকব, জান্নাত চাইতে থাকব, জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাইব, কিন্তু আমাদের সকল দু'আই আল্লাহ্ ফিরিয়ে দিবেন শুধুমাত্র এই একটি কারণে। আর তা হল, মুসলিম ভাইবোনদের সাথে বিবাদ মিটমাট না করা। প্রিয় ভাই, আমাকে বলুন, তুচ্ছ এই দুনিয়াবী অহংকার, রাগ ও জিদের কারণে আল্লাহর রহম থেকে কে বঞ্চিত হতে চায়?
ভাই, বলি শুনুন, কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে যদি আপনার এরকম কোন ঝামেলা থেকে থাকে, তাহলে তার সাথে আজকেই এসব ঝামেলা মিটিয়ে ফেলুন। মনমালিন্য, রাগারাগি, ঝগড়াঝাটি প্রলম্বিত না করে আজকেই এর একটি সুরাহা করুন। এই চোরাবালির ফাঁদে নিজের আমল হারিয়ে ফেলবেন না। আপনার নিজের এরকম কোন ঝামেলা না থাকলে, পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে থাকলে আজকেই তা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। ধরুন -
- পিতা ও পুত্রের মধ্যে,
- স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে,
- ভাইদের ও বোনদের মধ্যে,
- ব্যবসায়ীক পার্টনারদের মধ্যে,
- মাসজিদ কমিটির সদস্যদের মধ্যে,
- অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে
দেরী না করে মিমাংসা করে ফেলুন, মিটমাট করিয়ে দিন, যাতে করে আপনাদের মধ্যে এরকম কোন ঝামেলা আর না থাকে। বিশ্বাস করুন, আপনার এক কদম এগিয়ে আসার কারণে মহান আল্লাহ্ আপনার জন্য উত্তম প্রতিদানের ব্যবস্থা করবেন। এই আমলের মাধ্যমে আপনি জান্নাত হাসিল করতে পারবেন বি-ইযনিল্লাহি তায়ালা।
রমাদ্বান কড়া নাড়ছে। যার সাথে আপনার ঝামেলা হয়েছে তাঁর দরজায় কড়া নাড়ুন। তাঁর সামনে গিয়ে হাসিমুখে লম্বা একটা সালাম দিয়ে তাঁকে বুকে জড়িয়ে নিন। দেখা করা সম্ভব না হলে মোবাইল ফোনটি হাতে তুলে নিন। তার সাথে এক মিনিট কথা বলুন। নরম ভাষায় তাঁর কাছে ক্ষমা চান। দেখবেন বরফ গলে যাবে। অথবা ধরুন দোষ তাঁরই, তবুও তাঁর সাথে কথা বলে মিটমাট করে ফেলুন। বরফ ভেঙে ফেলুন।
আল্লাহর রহমত হাসিল করুন। বারাকাল্লাহু ফীক।
টিকাঃ
১। মুসনাদে আহমদ, আবু দারদা (রাঃ) এর বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত
২। সহিহ মুসলিম, আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত বিশুদ্ধ সূত্রে
📄 রমাদ্বান আসার আগে
রমাদ্বানের মূল উদ্দেশ্য কি শুধু বাজার করা? খাওয়া দাওয়া? আমাদের এই বাজারকেন্দ্রিক ব্যস্ততা আর গৃহস্থালীর কেতাদুরস্ততা আমাদেরকে রমাদ্বানের প্রকৃত প্রস্তুতি থেকে দূরে রাখছে না তো? শুধু কি উদরপূর্তিই রমাদ্বানের মূল উদ্দেশ্য?
না, একদম না। রমাদ্বানের মূল উদ্দেশ্য এসব না। বরং নবী করিম ﷺ রজব ও শাবান মাস থেকেই রমাদ্বানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। আত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিতেন। রমাদ্বান আসার পূর্বমূহুর্তে সালাফগণও একইভাবে প্রস্তুতি নিতেন। আমরাও ঠিক একইভাবে নিজেদেরকে ঢেলে সাজাতে পারি। এজন্য রমাদ্বানের আসল উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিম্নলিখিত দশটি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি বি-ইযনিল্লাহি তায়ালা -
১। আন্তরিক তাওবাহঃ তাওবাহ সবসময়কার জন্য। নবীজি ﷺ দিনে সত্তরবারের অধিক তাওবাহ করতেন। আমাদেরও বেশী বেশী তাওবাহ করা উচিৎ। রামাদ্বান আসার আগে নিজের কৃত গুনাহের জন্য বেশী বেশী তাওবাহ ও ইস্তিগফার করা, রমাদ্বানে একদম পুতঃপবিত্র আর প্রশান্ত আত্মা নিয়ে রহমত হাসিলের উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল হওয়া। বেলা শেষে এসবই মূখ্য।
মহান আল্লাহ্ বলেন, أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”(১)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর; কেননা আমি আল্লাহর কাছে দৈনিক একশতবার তাওবাহ করে থাকি।”(২)
২। দুআঃ সালাফদের কেউ কেউ রমাদ্বান আসার ছয়মাস আগে থেকেই দুআ করতেন। আল্লাহর কাছে কাঁদতেন যেন তিনি তাঁদেরকে রমাদ্বান পর্যন্ত জীবিত রাখেন। প্রতিটি মুসলিমের উচিৎ বেশী বেশী দুআ করা যেন মহান আল্লাহ্ তাঁদেরকে রমাদ্বান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। সুস্থ শরীরে আর দৃঢ় প্রত্যয়ে পুরোটা রমাদ্বান ইবাদাত বন্দেগীতে কাটানোর সামর্থ্য যেন তিনি দেন, আর প্রতিটি আমল কবুল যেন তিনি করে নেন, আমিন।
৩। প্রফুল্ল চিত্তঃ রমাদ্বানকে কখনই বোঝা মনে না করা বরং এই নিয়ামতকে রহমান আল্লাহর তরফ থেকে উপহার বা বিশেষ নিয়ামত মনে করা। সারাটি মাস জুড়ে জান্নাতের দরজা খুলে রাখা হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে রাখা হয়- এই উম্মতের জন্য এটা কতটা নিয়ামতের, কতটা সম্মানের, তা বেশী বেশী অনুধাবন করা। রমাদ্বান কুরআন নাযিলের মাস। রমাদান ক্ষমার মাস। রহমতের মাস। নাজাতের মাস। তাকওয়া অর্জনের মাস। নিজেকে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার মাস। এ জন্য আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানীর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা আমাদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কখনই এ মাসটিকে অবহেলা, অবজ্ঞা ও হেলায়ফেলায় কাটিয়ে দেওয়া উচিৎ নয়।
মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ
"বল, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীতে। সুতরাং এরই (ইসলাম ও কুরআনের) প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা সঞ্চয় করেছ।"(৩)
৪। বিগত বছরের ক্বাযা সিয়াম পালনঃ রমাদ্বান আসার আগে, শাবান মাসে আগের ক্বাযা সিয়ামগুলো করে ফেলা। আম্মাজান আয়িশা (রাঃ) আগের বছরের ক্বাযা সিয়ামগুলো শাবান মাস ছাড়া করতে পারতেন না। (৪) হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন, মা আয়িশা (রাঃ) শাবান মাসে বিগত ক্বাযা রোজা করার গুরুত্ব এ জন্যই বুঝিয়েছেন যেন তা, রমাদ্বান পর্যন্ত তা প্রলম্বিত না হয়। (৫)
৫। রমাদ্বানের বিভিন্ন মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে জানা। রমাদ্বানের গুরুত্ব অনুধাবন করা।
৬। দুনিয়াবী যতরকমের ব্যস্ততা আছে তা রমাদ্বান মাস আসার আগে আগেই শেষ করে ফেলা। রমাদ্বান মাস একনিষ্ঠ হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদাতে সচেষ্ট থাকা।
৭। পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে মাশোয়ারা করা। ছোট ছোট মজলিস করা। রমাদ্বানের আহকাম, বিধিবিধান, গুরুত্ব, ফজিলত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা। পরিবারের ছোটদের সিয়াম পালনে উৎসাহিত করা।
৮। ইসলামিক কিতাবাদি সংগ্রহ করা, নিজে পড়া, মাসজিদের ঈমামদের মাঝে বিতরণ করা যেন, সেখান থেকে উনারা খুতবা বা তাফসীর মাহফিলে সবাইকে নসিহত করতে পারেন।
৯। শাবান মাসে বেশী বেশী সিয়াম পালন করে শারীরিক আর মানুষিকভাবে নিজেকে রমাদ্বানের একদম ফিট করে তোলা।
১০। আল কুরআনঃ সালামাহ ইবনে কুহাঈল (রা:) বলেন, শাবান হলো কুরআন তিলাওয়াতকারীদের মাস। শাবান শুরু হলেই আমর ইবনে কায়েস (রা:) তার দোকান বন্ধ করে দিতেন আর কুরআন তিলোওয়াতের জন্য সময় বের করে নিতেন। (৬)
আবু বকর আল-বাল্কি (রহঃ) খুব চমৎকার উক্তি করেছেন। তিনি বলেন, রজব হলো বীজ বপনের মাস, শাবান হলো সেচের মাস আর রমাদ্বান হলো ফসল কর্তনের মাস। তিনি আরো বলেন, রজব মাস হলো বাতাস বওয়ার মাস, শাবান হলো সেই বাতাসে মেঘের ঘনঘটার মাস আর রামাদ্বান হলো বৃষ্টি নামার মাস। (৭)
যদি কেউ রজবে বীজ না বপে তাহলে কোথায় সে পানি সেচ দিবে আর কিভাবেই বা তার ফসল পাকবে?
টিকাঃ
১। আন-নুর আয়াতঃ৩১
২। সহীহ মুসলিম - ৬৬১৩
৩। সূরা ইউনুস, আয়াতঃ৫৮
৪। বুখারীঃ১৮৪৯ ও মুসলিমঃ ১১৪৬
৫। বুখারীর হাদিসের ব্যাখ্যায় তাঁর ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেন。
৬। লাতাইফ-আল-মা'রিফ, ইবনু রজব (রহ)
৭। লাতাইফ-আল-মা'রিফ, পৃষ্ঠাঃ ২১৮, আল-মাক্তাবতুল ইসলাম সংস্করণ।
📄 রমাদ্বানের প্রথম রাতে
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর নির্দেশনা -
রমাদ্বান মাসের চাঁদ দেখা দিলে উমার (রাঃ) মাগরিব সলাত আদায় করার পর সকলের উদ্দেশ্যে বলতেন,
- তোমরা বসো। নিশ্চয়ই রমাদ্বান মাসের সিয়াম তোমাদের উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর কিয়ামুল লাইল তোমাদের উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য নয়, তবে তোমাদের কেউ যদি তা আদায় করতে সক্ষম হয় তবে তার করা উচিৎ। এটা তোমাদের জন্য অতিরিক্ত আমল যার ব্যাপারে আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে অবহিত করেছেন। কাজেই যদি কেউ রাতে কিয়ামুল লাইলে দাঁড়াতে না পারে, সে তাঁর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুক।
আর তোমরা এ ধরণের কথা বলা থেকে বিরত থাকো - 'অমুক আর অমুক যদি সিয়াম পালন করে তবে আমিও পালন করব, আর অমুক আর অমুক যদি রাতে সলাত আদায় করে তবে আমিও করব। অতএব, সিয়াম ও কিয়াম শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই করবে। আর তোমরা এও জানো যে, সলাতের পর পরবর্তী সলাতের জন্য অপেক্ষা করা সলাতের মধ্যেই থাকারই নামান্তর।'
তোমরা আল্লাহর ঘরে অনর্থক ও আজগুবি কথা বলা থেকে বিরত থাকো, তোমরা আল্লাহর ঘরে অনর্থক ও আজগুবি কথা বলা থেকে বিরত থাকো, তোমরা আল্লাহর ঘরে অনর্থক ও আজগুবি কথা বলা থেকে বিরত থাকো,
এই মাস আসার আগের কয়েকটি দিন তোমাদের কেউ রোজা রেখো না। এই মাস আসার আগের কয়েকটি দিন তোমাদের কেউ রোজা রেখো না। এই মাস আসার আগের কয়েকটি দিন তোমাদের কেউ রোজা রেখো না।
যতক্ষণ পর্যন্ত চাঁদ দেখা না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা সিয়াম শুরু করো না, অতঃপর তা দেখা গেলে ত্রিশদিন পূর্ণ কর। আর পাহাড়ের বুকে আঁধার নেমে না আসা পর্যন্ত তোমার রোজা ভঙ্গ করো না (অর্থ্যাৎ সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত।) (১)
রাদিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু।
টিকাঃ
১। তথ্যসূত্রঃ আব্দুর রাজ্জাক আস-সানা'নী, আল-মুসান্নাফঃ ৭৭৪৮
📄 তিনটি জিনিস হলো
ঈমান
তিনটি জিনিস হলো ঈমান।
১। যখন কোন এক শীতের রাতে কারো নৈশকালীন নির্গমন (স্বপ্নদোষ) হয়, এরপর সে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে - তখন শুধু আল্লাহই তাকে দেখতে পায় - অতঃপর সে গোসল করে পবিত্র হয়ে নেয়।
২। তীব্র গরমে যখন কোন বান্দা সিয়াম পালন করে।
৩। জনমানবহীন প্রান্তরে কোন এক বান্দা সলাত আদায় করে, যেখানে আল্লাহ ছাড়া আর কেউই তাকে দেখতে পায়না।
টিকাঃ
তথ্যসূত্রঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত, ঈমাম আল-বায়হাক্বী সংকলিত, শুয়াবুল ঈমান - ৫১