📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 সালাফদের কুরআন তিলাওয়াত

📄 সালাফদের কুরআন তিলাওয়াত


ইমাম ইবনু রজব (রহ) বলেন,
কোন কোন সালাফ রমাদ্বানের কিয়ামুল লাইলে প্রত্যেক তিন রাত্রে কুরআন খতম করতেন। কোন কোন সালাফ প্রত্যেক সাত রাত্রে; তন্মধ্যে কাতাদাহ, কোন কোন সালাফ প্রত্যেক দশ রাত্রে এক খতম করতেন। তাদের মাঝে রয়েছেন আবু রাজা আত্তারিদি, কোন কোন সালাফ রমাদ্বানের সলাতে এবং সলাত ছাড়া তিলাওয়াত করে খতম করতেন। আসওয়াদ (রহ) রমাদ্বানের প্রত্যেক দুই রাতে খতম করতেন আর নাখয়ি (রহ) বিশেষ করে তা করতেন শেষ দশকে। আর মাসের অন্যান্য সময়ে প্রত্যেক তিন রাতে। কাতাদাহ (রহ) সাতদিনে কুরআন খতম করতেন এবং রমাদ্বানের প্রত্যেক তিনরাতে ও রমাদ্বানের শেষ দশকে প্রতিরাতে এক খতম করতেন। আবু হানিফা (রহ) রমাদ্বানে সালাত ব্যতীত ষাট খতম করতেন। ইমাম শাফি'ঈ (রহ) এর ব্যাপারেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। আর কাতাদা (রহ) রমাদ্বানে কুরআন দেখে দেখে পড়তেন। (৪০)

ইমাম যুহরি (রহ) রমাদ্বান মাস উপস্থিত হলে বলতেন, "নিশ্চয় এ মাসটি কুরআন তিলাওয়াত এবং খাবার খাওয়ানোর মাস। (৪১)

ইমাম বুখারি (রহ) এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, তিনি রমাদ্বান মাসে চল্লিশবারের বেশি খতম করতেন। ইমাম যাহাবী (রহ) বলেন, "মুসাব্বিহ বিন সাইদ বলেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বুখারি রমাদ্বানের প্রত্যেক দিনে এক খতম করতেন এবং তারাবীহ'র পর প্রত্যেক তিনদিনে এক খতম করতেন। (৪২)

হাফিজ ইবনু হাজার আসকালানি (রহ) বলেন, "মুকসিম ইবনু সাইদ বলেছেন, রমাদ্বান মাসে ঈমাম বুখারির কাছে রাতের প্রথম ভাগে তার সাথীবৃন্দ জমায়েত হত। তিনি তাদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করতেন। প্রতি রাকআতে বিশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এভাবেই তিনি কুরআন খতম করতেন। আর সাহরির সময় অর্ধেক থেকে এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করতেন। আর প্রতি রাতে ইফতারের সময় তার খতম সম্পন্ন হত। আর তিনি বলেন, প্রত্যেক খতমের সময় কবুল দুআ রয়েছে।" (৪৩)

মুহাম্মাদ বিন আবি হাতিম আল ওয়াররাক (রহ) বলেন, "আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারি) সাহরির সময়ে তের রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং এক রাকআতে বিতর করতেন।"(৪৪)

ইমাম ইবনু রজব (রহ) বলেন, "ইবনু আবদিল হিকাম বলেছেন, রমাদ্বান মাস উপস্থিত হলে, ইমাম মালিক (রহ) হাদিসের মজলিস এবং আহলে ইলমের সাথে বসতেন না। কুরআনের নিয়ে তিলাওয়াত করার জন্য বসে যেতেন।" (৪৫)

আবদুর রাজ্জাক (রহ) বলেন, "সুফিয়ান আস-সাওরি (রহ) রমাদ্বান আসলে অন্য সকল (নফল) ইবাদত ছেড়ে দিয়ে কুরআন তিলাওয়াতে মনোযোগ দিতেন। আয়িশা (রাঃ) রমাদ্বান মাসে দিনের প্রথমাংশে মুসহাফ নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। অতঃপর যখন সূর্য উদিত হত তখন ঘুমাতেন। (৪৬)

আর সুফিয়ান আস-সাওরি (রহ) বলেন, যুবাইদ ইলয়ামি (রহ) যখন রমাদ্বান মাস আসত তখন কুরআনের মুসহাফ জমা করতেন এবং সাথীদেরকে (তিলাওয়াত করার জন্য) একত্রিত করতেন। (৪৭)

ইমাম নববি (রহ) কুরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে বলেন, "কুরআন তিলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া এবং বেশি বেশি তিলাওয়াত করা আবশ্যক। সালাফগণ তাদের সাধ্যানুযায়ী খতম করতেন। এটা উনাদের অভ্যাস ছিল।" (৪৮)

ইবনু আবু দাউদ (রহ) কোন কোন সালাফ সম্পর্কে বলেন, তারা প্রত্যেক দুই মাসে এক খতম কুরআন পড়তেন। কেউ কেউ প্রত্যেক দশরাত্রিতে এক খতম, কেউ কেউ প্রত্যেক আট রাত্রিতে এক খতম, আর অধিকাংশরা প্রত্যেক সাত রাত্রিতে এক খতম করতেন। কেউ কেউ প্রত্যেক ছয় রাত্রিতে, কেউ কেউ প্রত্যেক পাঁচদিনে, কেউ কেউ প্রত্যেক চার রাত্রিতে এবং অনেকেই প্রতি তিন দিনে এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করতেন। কারো কারো ব্যাপারে জানা যায়, তারা প্রতি দুই রাতে, কেউ কেউ একদিন- একরাতে এক খতম, কেউ কেউ একদিন-একরাতে দুই খতম, কেউ কেউ দিনে-রাতে তিন খতম আর কেউ কেউ আট খতম; কেউ চার খতম দিনে আর চার খতম রাতে করতেন। যারা দিনে-রাতে এক খতম দিয়েছেন তাদের মাঝে রয়েছেন, আমীরুল মুমিনীন উসমান ইবনু আফফান (রা), তামিম আদ দারি (রা), সাইদ ইবনু জুবাইর (রা), মুজাহিদ (রহ) এবং ইমাম শাফিয়ি (রহ) প্রমূখ ও অন্যান্য। (৪৯)

আর যারা দিনে তিন খতম দিতেন তাদের মাঝে রয়েছেন, সালিম বিন ঈতর (রা) যিনি মুয়াবিয়া (রাঃ) এর শাসনামলে মিশরের কাজি ছিলেন।

আর যারা এক সপ্তাহে কুরআন খতম করতেন তাদের সংখ্যা অনেক। যেমন, উসমান ইবনু আফফান, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, যায়দ ইবনু সাবিত, উবাই ইবনু কা'ব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওইয়া আজমাইন) এবং তাবিয়িদের এক জামাআত; যেমন, আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াজিদ, আলকামাহ ও ইবরাহিম (রাহিমাহুমুল্লাহ) প্রমূখ। (৫০)

আল্লামা ইমাম আন নববি (রহ) বলেন,
"সালাফদের এই কুরআন খতমে ইখতিয়ার করাটা ব্যক্তির অবস্থাভেদে পরিবর্তিত হয়েছে। সুতরাং গভীর চিন্তাভাবনার কারণে সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম বিষয় যদি প্রকাশ হয়ে যায় সে যেন ততটুকু পরিমাণ তিলাওয়াতের পর ইকতিসার করে (ক্ষ্যান্ত দেয়)। অনুরূপ যে ব্যক্তি ইলমের প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত অথবা দ্বীনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খেদমতে নিয়োজিত এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত তারও উচিত ততটুকু পরিমাণ তিলাওয়াত করা যাতে এর কারণে সে যে গুরুত্ববহ কাজে নিয়োজিত তার যেন কোন ব্যাঘাত না ঘটে। আর যদি সে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্য হতে না হয়ে থাকে, তাহলে সে যেন তার সামর্থ্য অনুপাতে অস্বস্তির পর্যায়ে না গিয়ে এবং অনর্থক কথাবার্তা বাদ দিয়ে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করে। যদিও পূর্ববর্তীদের একটি জামাআত একদিন একরাতে কুরআন খতম করাকে অপছন্দ করেছেন। এবং এর পক্ষে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রা) বর্ণিত হাদিস রয়েছে।
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল বলেন, "যে ব্যক্তি তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতম করবে সে মর্ম বুঝবে না।"(৫১)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু রজব (রহ) বলেন,
"তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতমকে কেবল সর্বদা পাঠ করার জন্য নিষেধারোপ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ফজিলতপূর্ণ সময়, যেমন রমাদ্বান মাস বিশেষত সে সকল রাতে যাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা হয় অথবা বিভিন্ন ফজিলতপূর্ণ স্থান (যেমন মক্কায় যেখানে বিভিন্ন স্থানের লোকেরা প্রবেশ করে), এসকল স্থানে স্থান ও কালকে গনিমত মনে করে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। আর এটি ইমাম আহমাদ, ইসহাক ও অন্যান্য ইমামদের (রাহিমাহুমুল্লাহ) মত। (৫২)

তবে, সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য (আল্লাহু আ'লামু) এবং সবচেয়ে উত্তম হল, তিনদিনের কমে কুরআন খতম না করা। কেননা উত্তম নির্দেশনা হল রাসুল এর নির্দেশনা।

ইমাম বিন বাজ (রহ) বলেন,
"মুমিন মুমিনার জন্য শরিয়তসম্মত হল, ফায়দা অর্জন, ইলম হাসিল, অন্তরের একাগ্রতা এবং কালামুল্লাহ থেকে উপকার লাভের আশা করা। তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদাব্বুর (চিন্তাভাবনা), তা'আক্কুল (বুঝতে পারা) এবং বেশি বেশি করা, শুধুমাত্র খতমের আশায় তিলাওয়াত না করা। উদ্দেশ্য হওয়া কালামুল্লাহ থেকে ইসতিফাদা (উপকার) এবং অন্তরের একাগ্রতা ও বিনম্রতা অর্জন করা; কুরআন অনুযায়ী আমল করে এবং যা তিলাওয়াত করা হয় তা অনুধাবনের মাধ্যমে অন্তর নরম করা। আর যদি কেউ কুরআন স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করে এবং তিনদিনে খতম করে অথবা পাঁচদিনে কিংবা সাতদিনে তাহলে কোন অসুবিধা নেই। তবে উত্তম হল, তিনদিনের কম সময়ে খতম না করা। প্রত্যেক দিন দশ পারা তিলাওয়াত করা যাতে করে তাদাব্বুর তথা চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করা যায়, যাতে তাআক্কুল তথা পুরোপুরি বুঝতে পারা যায়, তাড়াতাড়ি না হয়। আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাওফিক দিন। "(৫৩)

টিকাঃ
৪০। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৮
৪১। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৮
৪২। সিয়ারু আ'লামিন নুবালা-লিযযাহাবি ২/৪/৪৩৯
৪৩। হাদিউস সারি ইবনু হাজার আসকালানি: ৪৮১
৪৪। প্রাগুক্ত, এবং তাহজিবুল আসমা ওয়াললুগাহ লিন-নববি: ১/৭৫, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ১২/৪/৪৪১
৪৫। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৮
৪৬। প্রাগুক্ত
৪৭। প্রাগুক্ত
৪৮। আত তিবয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন: ৪৬
৪৯। প্রাগুক্ত
৫০। প্রাগুক্ত
৫১। [[আবু দাউদ: ১৩৯৪, তিরমিজি:২৯৫০, ইবনু মাজাহ: ১৩৯৭) আত তিবয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন: ৪৬]
৫২। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৮
৫৩। শরহু সামাহাতিশ শাইখ আল্লামা আবদুল আজিজ বিন বাজ আলা কিতাবি ওয়াযাইফু রামাদান আবদির রাহমান বিন মুহাম্মাদ বিন কাসিম: ১৪০

📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 ই‘তিকাফ করা এবং সর্বদা মাসজিদে থাকা

📄 ই‘তিকাফ করা এবং সর্বদা মাসজিদে থাকা


রমাদ্বানের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হল, আল্লাহ তা'আলার ইত্বাআত করার জন্য সর্বদা মাসজিদে অবস্থান করা। এবং আল্লাহ তা'য়ালার সাথে মুনাজাত করা তথা একান্তে আলাপ করা। রাসুল এর বিবি আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
"রাসূল রমাদ্বানের শেষ দশকে আল্লাহ তা'য়ালা তার ওফাত দানের আগ পর্যন্ত ইতিকাফ করেছেন, এবং তারপর তার বিবিগণ ইতিকাফ করেছেন।"(৫৪)
আম্মাজান আয়িশা (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি জিবরীল (আঃ) এর ব্যাপারে বলেন,
নবি এর উপর কুরআন প্রত্যেক বছর একবার পেশ করা হয়, কিন্তু যে বছর তাঁকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে সে বছর তাকে দুইবার পেশ করা হয়। প্রত্যেক বছর তিনি দশদিন ইতিকাফ করতেন, কিন্তু যে বছর তাকে উঠিয়ে নেওয়া হয় সে বছর তিনি বিশদিন ইতিকাফ করেন।(৫৫)
ইবনু হাজার আসকালানি (রহ) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইরশাদ করেন, "বিশদিন দ্বারা উদ্দেশ্য মাঝের দশদিন ও শেষের দশদিন। "(৫৬)

টিকাঃ
৫৪। বুখারি: ২০২৬, মুসলিম: ১১৭২
৫৫। বুখারি: ৪৯৯৮
৫৬। ফাতহুল বারী: ৯/৪৬

📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 রমাদ্বানে মু'মিনের মুজাহাদা

📄 রমাদ্বানে মু'মিনের মুজাহাদা


ইবনু রজব (রহ) বলেন,
"জেনে রাখা উচিত, রমাদ্বান মাসে মুমিনগণ জমায়েত হয় অন্তরের দুইটি মুজাহাদার জন্য। এক, দিনে সিয়াম পালন, আর রাতে কিয়ামুল লাইলের দণ্ডায়মান হওয়া। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুই জিহাদ ও মুজাহাদাকে একত্রিত করবে, এগুলোর হুকুম পুরিপূর্ণভাবে আদায় করবে এবং এ'দুয়ের উপর সবর করবে তাহলে তাকে অগণিত আজর (প্রতিদান) দেওয়া হবে।" (৫৬)
কুরআন এবং সিয়াম কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। এ ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ইরশাদ করেন,
الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة يقول الصيام أي رب منعته الطعام والشهوات بالنهار فشفعني فيه ويقول القرآن منعته النوم بالليل فشفعني فيه قال فيشفعان
"সিয়াম এবং কুরআন কিয়ামতের দিবসে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সিয়াম বলবে, হে রব! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার এবং স্ত্রী সম্ভোগ হতে দূরে রেখেছি, সুতরাং আপনি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে রব! আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে দূরে রেখেছি, সুতরাং তার পক্ষে আমার সুপারিশ কবুল করুন। রাসূল বলেন, তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে। "(৫৭)
আমি আল্লাহ তা'য়ালার কাছে তাঁর সুন্দরনামসমূহ ও সর্বোচ্চ গুণাবলীর দ্বারা প্রার্থণা করছি, তিনি যেন সকল মুসলিমকে প্রতিটি কল্যাণ কাজ এবং তিনি যাতে রাজিখুশি থাকেন তা করার তাওফীক দান করেন।
এবং নবী এর অনুসরণ করার তাওফীক দান করেন, যেমনটি আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা পছন্দ করেন।
আল্লাহ্‌ তা'আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবাগণের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সকল অনুসারীদের উপর রহমত বর্ষণ করুন।
আমীন।

টিকাঃ
৫৬। লাতায়েফুল মা'আরেফ: ৩১৮
৫৭। মুসনাদ আহমাদ: ৬১২৬, হাকিম: ১/৫৫৪

📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 গুরুত্ব কথা

📄 গুরুত্ব কথা


নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র, শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য। আমরা তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থণা করি। আমাদের নফসের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তাআলা যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথচ্যুতকারী কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথে ফিরাবার কেউ নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও প্রেরিত রাসুল। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু'জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা করে থাক এবং আত্মীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। (১)
অপর এক আয়াতের ইরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (২)
অন্য এক আয়াতের তিনি ইরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (৩)
মহান আল্লাহ্ কুরআনুল কারীমের এই আয়াতগুলোতে তাকওয়ার বা অন্তরে আল্লাহর ভয়ের ব্যাপারে বলেছেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই তাঁর আসলে কোন ভয় নেই। যে তাকওয়ার দিক থেকে যত মিস্কিন তাঁর অবাধ্যতার পরিণام তত বেশী। তাকওয়া বাড়ানোর উপায়ের মধ্যে সিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ঢাল।

টিকাঃ
১। সুরা আন-নিসা, আয়াতঃ ১
২। সুরা আলে ইমরান: ১০২
৩। সুরা আহযাব: ৭০-৭১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00