📄 লাইলাতুল কদরের তালাশ
عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال تحروا ليلة القدر في الوتر من العشر الأواخر من رمضان আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "তোমরা রমাদ্বানের শেষ দশকে বেজোড় রাত্রিতে লাইলাতুল কদরের তালাশ করো।" (১৬)
ভিন্ন শব্দে আরো অন্য এক হাদীসে নবী বলেন, تحروا ليلة القدر في العشر الأواخر من رمضان তোমরা রমাদ্বানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। (১৭)
লাইলাতুল কদর জোড় রাত্রিতেও হতে পারে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূল ইরশাদ করেন- التمسوا في أربع وعشرين "তোমরা তা তালাশ কর চব্বিশতম রজনিতে।" (১৮)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم هي في العشر هي في تسع يمضين أو في سبع يبقين يعني ليلة القدر আল্লাহর রাসুল বলেন, তা শেষ দশকে, তা অতিবাহিত নবম রাতে অথবা অবশিষ্ট সপ্তম রাতে অর্থাৎ লাইলাতুল কদর। (১৯)
অন্য এক সুত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসুল বলেছেন, التمسوها في العشر الأواخر من رمضان ليلة القدر في تاسعة تبقى في سابعة تبقى في خامسة تبقى
তোমরা লাইলাতুল কদর রমাদ্বানের শেষ দশকে অনুসন্ধান করো। লাইলাতুল কদর (শেষ দিক হতে গণনায়) নবম, সপ্তম বা পঞ্চম রাত অবশিষ্ট থাকে। (২০)
সাহাবায়ে কিরামগণও রমাদ্বানের শেষ দশদিনে ইবাদতে অনেক পরিশ্রম করতেন। আম্মাজান আয়িশা (রা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে সে রাতে কি বলব? তিনি বললেন, তুমি বলো -
اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী" 'হে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমা করতেই ভালোবাসো, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও'। (২১)
টিকাঃ
১৬। বুখারি: ২০১৭
১৭। বুখারি: ২০২০
১৮। বুখারি: ২০২২
১৯। বুখারি: ২০২২
২০। বুখারি: ২০২১
২১। জামিউত তিরমিজি: ৩৫৩১, সুনানে ইবনু মাজাহ: ৩৮৫০
📄 কিয়ামুল লাইল
তারাবীহ'র নামকরণ করার কারণ হল, এই সলাতে প্রত্যেক চার রাকাআতের পর বিশ্রাম নেওয়া হয়। আর তারাবীহকেই রমাদ্বান মাসে রাতের প্রথমাংশের কিয়ামুল লাইল। প্রত্যেক দুই সালামের পর অর্থাৎ চার রাকআত আদায় করে পর এই সলাতে বিশ্রাম নেওয়া হয়ে থাকে। হযরত আয়িশা (রাঃ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রমাদ্বানে আল্লাহর রাসূল এর সালাত কেমন ছিল? আয়িশা (রাঃ) বলেন,
"আল্লাহর রাসুল রমাদ্বান এবং রমাদ্বানর বাইরে এগারো রাকাআতের বেশি পড়তেন না; তিনি চার রাকআত পড়তেন, তোমরা আমাকে তার সৌন্দর্য এবং দীর্ঘতার ব্যাপারে প্রশ্ন করো না, অতঃপর পড়তেন চার রাকআত, তোমরা আমাকে তার সৌন্দর্য এবং দীর্ঘতার ব্যাপারে প্রশ্ন করো না, তারপর তিন রাকআত পড়তেন।"(২২)
আয়িশা (রাঃ) এর উক্তি "তিনি চার রাকআত পড়তেন... অতঃপর চার রাকআত..." এটি প্রথম চার রাকআতের সাথে দ্বিতীয় চার রাকআত এবং শেষের দিন রাকআত আলাদা তা প্রমাণ বহন করে। আর তিনি চার রাকআতের মাঝে প্রত্যেক দুই রাকআতের পর সালাম ফিরিয়েছেন তাও প্রমাণ বহন করে আয়িশা (রাঃ) এর হাদিসের কারণে। কেননা আয়িশা (রাঃ) অপর হাদিসে বলেন,
"রাসুলুল্লাহ রাত্রিবেলায় এগার রাকআত পড়তেন এবং এক রাকআতের বিতর করতেন।
অন্য শব্দে আছে, "তিনি প্রত্যেক দুই রাকআতে সালাম ফিরাতেন এবং এক রাকআত দ্বারা বিতর করতেন।"(২৩)
আর এটি প্রথম হাদিসের ব্যাখ্যা। আর রাসূলুল্লাহ প্রত্যেক দুই রাকআতের পর সালাম ফিরাতেন। অন্য এক হাদিসে এসেছে, "রাত্রিবেলার সালাত দু'রাকআত দু'রাকআত করে।"(২৪)
ইমাম নববি (রহঃ) কিয়ামুল লাইল বা তারাবীহ'র ব্যাপারে বলেন, "এটি মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সকল উলামাহ একমত। "(২৫)
তারাবীহ'র ক্ষেত্রে উত্তম হল, ইমামের পিছনে ততক্ষণ থাকা যতক্ষণ না তিনি সলাত শেষ করেন। আবু যর (রাঃ) এর এক হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, "আমরা রাসুল এর সাথে রমাদ্বান মাসের সিয়াম পালন করেছি। তিনি এ মাসের সাত দিন বাকি থাকার আগ পর্যন্ত আমাদের নিয়ে সালাতে দাঁড়াননি। তিনি আমাদের নিয়ে সে রাত্রিতে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সালাতে দাঁড়ানো ছিলেন। অতঃপর মাস বাকি থাকার ষষ্ঠ দিনে দাঁড়াননি। তারপর মাস বাকি থাকার পঞ্চম রাতে দাঁড়ালেন এমনকি অর্ধরাত অবধি দাঁড়ানো ছিলেন। আমরা তখন রাসুলুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এই রাত্রের বাকি সময়েও আমাদের নিয়ে নফল সালাত আদায় করতেন? রাসুলুল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে প্রস্থান করা অবধি সালাত আদায় করবে (কিয়ামুল লাইল করবে) তাকে পুরো রাত কিয়ামুল লাইলের নেকি দান করা হবে। রাসূল আমাদের নিয়ে চতুর্থ রাত্রিতে কিয়ামুল লাইল করেননি। তৃতীয় রাতে তার পরিবার, স্ত্রীগণ ও লোকজনকে জমা করলেন এবং আমাদের সাথে নিয়ে সেহরির শেষ সময় পর্যন্ত কিয়ামুল লাইল করলেন, এমনকি আমরা চিন্তিত ছিলাম সেহরি খেতে পারব কিনা? অতঃপর মাসের বাকি রাতগুলোতে আমাদের নিয়ে দন্ডায়মান হননি। "(২৬)
আম্মাজান আয়িশা (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে,
রাসুলুল্লাহ কোন এক রাতের মধ্যভাগে বের হলেন এবং মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন, সকালে তাঁরা এ নিয়ে আলোচনা করলেন। ফলে (দ্বিতীয় রাতে) এর চেয়ে অধিক সাহাবা একত্রিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। পরের দিন সকালেও তাঁরা এ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ফলে তৃতীয় রাতে মাসজিদে লোকসংখ্যা অত্যাধিক বৃদ্ধি পেল। আল্লাহর রাসুল বের হলেন এবং সাহাবিগণ তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। কিন্তু চতুর্থ রাতে লোক সংখ্যা এত বেশি হল যে, মাসজিদে জায়গা সংকুলান হল না। কিন্তু রাতে রাসুল মসজিদে আসলেন না। তাদের মধ্য থেকে কিছু লোক 'সলাত' বলে ডাকতে শুরু করল। কিন্তু তিনি ঐ রাতে আর বের হলেন না। অবশেষে তিনি ফজরের সলাতের জন্য বের হলেন এবং ফজরের সলাত শেষ করে লোকদের দিকে ফিরলেন। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও ছানা বর্ণনা করলেন। অত"পর বললেন, "আম্মা বা'দ (অতপর বক্তব্য এইযে) এখানে তোমাদের উপস্থিতি আমার নিকট গোপন ছিল না, কিন্তু আমার আশঙ্কা ছিল, তা তোমাদের জন্য ফরজ করে দেওয়া হয় আর তোমরা তা আদায় করতে অপারগ হয়ে পড়। (২৭)
ইমাম ইবনু রজব (রহ) বলেন,
"হযরত উমার (রাঃ) সাহাবী উবাই বিন কা'ব এবং তামিম আদদারি (রাঃ) কে আদেশ দেন তারা যেন রমাদ্বান মাসে লোকদেরকে সাথে নিয়ে কিয়ামুল লাইল তথা তারাবীহ'র সালাত আদায় করেন। তখন ঈমাম সাহেব এক রাকাআতে দুইশত আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এমতবস্থায় তারা লম্বা কিয়ামের কারণে লাঠির উপর ভর দিয়ে থাকতেন। আর উনারা এ থেকে বিরত হতেন কেবল ফজরের সময় হয়ে আসলে। অতঃপর তাবিয়িদের যুগে রমাদ্বানের কিয়ামুল লাইলে উনারা প্রত্যেক আট রাকাআতে সুরা বাকারাহ পড়তেন। উনারা যদি বারো রাকাআত পড়তেন তাহলে সেটি (সুরা বাকারাহ) তাদের নিকট হালকা মনে হত।” (২৮)
ইমাম ইবনু রজব আরো বলেন, "ইমাম আহমদ (রহ) তার কোন কোন সাথীকে বলেন (যাদেরকে নিয়ে তিনি রমাদ্বানে সালাত আদায় করতেন), "এই জাতি হল দুর্বল জাতি, পাঁচ, ছয়, সাত আয়াত করে পড়ো।" তিনি বলেন, "আমি পড়েছি এবং সাতাশতম রাত্রিতে খতম করেছি। (২৯)
হাসান আল বসরি (রহ) বলেন, "উমার (রাঃ) লোকদেরকে নিয়ে রমাদ্বানের রাত্রিতে সলাত আদায় করতে বললে, তিনি পাঁচ আয়াত বা ছয় আয়াত করে তিলাওয়াত করেন।"(৩০)
আর ইমাম আহমদ (রহ) এর কথা প্রমাণ করে যে, তিনি মুক্তাদীদের অবস্থার উপর বিবেচনা করে কুরআন তিলাওয়াতের কথা বলেছেন। যাতে তাদের উপর কোন কষ্ট না হয়।
তাকে ব্যতীত অন্যান্য ফুকাহায়ে কিরামের মধ্যে ঈমাম আবু হানিফা (রহ) এর সাথীবর্গ ও অন্যান্য সালাফগণ এরূপ বলেছেন। আর আবু যর (রাঃ) এর বর্ণনা থেকে জানা হয়েছে যে, রাসূল তাদেরকে নিয়ে তেইশতম রাত্রিতে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কিয়ামুল লাইল আদায় করেছেন এবং পঁচিশতম রাত্রিতে অর্ধরাত্রি পর্যন্ত। তখন সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) তাকে বলেন, "যদি আপনি আমাদের নিয়ে বাকি রাতও নফল সলাত আদায় করতেন? অতঃপর তিনি বলেন 'নিশ্চয় ব্যক্তি যখন ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করে, এমনকি যখন সে (ইমামের সাথেই) তা থেকে বিরত হয় তার জন্য বাকি রাতের (সলাত আদায়ের) সাওয়াব লিখা হয়।' আহলুস সুনাহ এটিকে তাখরিজ করেছেন। ইমাম তিরমিজি এটি হাসান বলেছেন। (৩১)
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْقَارِيِّ قَالَ : خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَيْلَةً فِي رَمَضَانَ إِلَى الْمَسْجِدِ ، فَإِذَا النَّاسُ أَوْزَاعٌ مُتَفَرِّقُونَ يُصَلَّى الرَّجُلُ لِنَفْسِهِ وَيُصَلِّى الرَّجُلُ فَيُصَلِّى بِصَلَاتِهِ الرَّهْطُ ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : وَاللَّهِ إِنِّي لأَرَى لَوْ جَمَعْتُ هَؤُلَاءِ عَلَى قَارِي وَاحِدٍ لَكَانَ أَمْثَلَ ثُمَّ عَزَمَ فَجَمَعَهُمْ عَلَى أُتِيَ بْنِ كَعْبٍ قَالَ : ثُمَّ خَرَجْتُ مَعَهُ لَيْلَةً أُخْرَى ، وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلَاةِ قَارِيْهِمْ ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ ، وَالَّتِي يَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي يَقُومُونَ . يُرِيدُ آخِرَ اللَّيْلِ وَكَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ أَوَّلَهُ
আবদুর রাহমান বিন আবদিল কারি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:, "আমি রমাদ্বানের এক রাত্রিতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে মাসজিদে নববিতে বের হলাম। হঠাৎ দেখা গেল যে, লোকেরা এলোমেলোভাবে বিভিন্ন জামাআতে বিভক্ত। কেউ একাকী সালাত আদায় করছে আবার কোন ব্যক্তি সলাত আদায় করছে এবং লোকেরা তাঁর ইকতিদা করে সলাত আদায় করছে। উমর (রাঃ) বললেন, 'আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি একজন ক্বারীর (ইমাম) পিছনে জমা করে দেই, তবে তা উত্তম হবে।' এরপর তিনি উবাই বিন কা'ব (রাঃ) এর পেছনে সকলকে জমা করে দিলেন। পরে আরেক রাতে আমি তাঁর সাথে বের হই। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে সালাত আদায় করছিল। উমর (রাঃ) বললেন, 'কতই না সুন্দর এই বিদআত (নতুন ব্যবস্থা।) তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাকো তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা সালাত আদায় করো'। এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন, কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা সলাত আদায় করত。(৩২)
আমি শাইখ ইমাম আবদুল আজিজ ইবন বাজ (রহ) কে উমর (রাঃ) এর (نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ ) (কতই না সুন্দর এই বিদাআত) এই কথার ব্যাপারে বলতে শুনেছি যে তিনি বলেন- "এখানে বিদআত দ্বারা শাব্দিক বিদআত উদ্দেশ্য (আমলগত নয়), আর এখানে উদ্দেশ্য হল তারা নতুনভাবে রমাদ্বান মাসজুড়ে জামাআতবদ্ধভাবে সলাত আদায় করেছে। আর এটি উমর (রাঃ) এর উক্তির কারণ।"(৩৩)
হযরত নুমান বিন বাশির (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, "আমরা একবার (রমাদ্বানের) তেইশতম রাত্রিতে রাসূল এর সাথে রাত্রের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সলাতে দন্ডায়মান ছিলাম। অতঃপর আমরা তাঁর সাথে পঁচিশতম রাত্রিতে অর্ধরাত্র পর্যন্ত সলাতে দন্ডায়মান ছিলাম, অতপর আমরা সাতাইশতম রাত্রিতে এত পরিমাণ দন্ডায়মান ছিলাম যে, আমরা মনে করলাম যে 'ফালাহ' পাব না। আর সাহাবীগণ সাহরিকে 'ফালাহ' নামে বলতেন। "(৩৪)
আর আবু যর (রাঃ) এর হাদিসে আমরা জেনেছি, "যখন সাতাইশতম রাত্রি আসত নবীজি তাঁর পরিবার এবং মহিলাদেরকে একত্রিত করতেন আর লোকদেরকে নিয়ে কিয়ামুল লাইল আদায় করতেন।"
সালাতুত তারাবীহ'র রাকাত সংখ্যা কত? সালাতুত তারাবীহ'র কোন নির্দিষ্ট রাকাত নেই। এর কোন সীমারেখা বেঁধে দেওয়া নেই। রাকাত সংখ্যা নির্ধারিত নেই। নবীজি কেবল বলেছেন,
صلاة الليل مثنى مثنى فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى
"রাতের সলাত দুই দুই (রাকাআত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি আশঙ্কা করে ফজরের, সে যেন এক রাকআত সলাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সলাত আদায় করল (এক রাকআত), তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে।"(৩৫)
সুতরাং বিশ রাকআত পড়েন আর তিন রাকআত বিতর অথবা ছত্রিশ রাকআত পড়েন আর তিন রাকআত বিতর কিংবা একচল্লিশ রাকআত পড়েন তাতে কোন অসুবিধা নেই। (৩৬)
কিন্তু উত্তম হল যা রাসূলুল্লাহ করেছেন। আর তা হল, তের রাকআত অথবা এগারো রাকআত। কেননা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর হাদিস এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ রাত্রিতে তের রাকআত পড়তেন। (৩৭)
আর আয়িশা (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে, "রাসুলুল্লাহ রমাদ্বান ও এর বাইরে বাইরে এগারো রাকআতের বেশি পড়তেন না। (৩৮)
সুতরাং এটিই হল উত্তম এবং সাওয়াবের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ।
আর কেউ যদি এর চেয়ে বেশি পড়ে তাহলে কোন অসুবিধে নেই। কেননা রাসুল এর এই হাদিসে বলা আছে,
صلاة الليل مثنى مثنى فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى
"রাতের সলাত দুই দুই রাকাআত করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজরের আশঙ্কা করে সে যেন এক রাকআত সালাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত আদায় করল তার জন্য বিতর হয়ে যাবে। "
কাজেই কিয়ামুল লাইল বা তারাবীহ'র রাকআতের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা রয়েছে। এখানে বাড়াবাড়ির কোন স্থান নেই। তবে, উত্তম হল এগারো রাকআত পড়া। আল্লাহই তাওফীক দানকারী। (৩৯)
টিকাঃ
২২। বুখারি: ১১৪৭, মুসলিম: ৭৩৮
২৩। মুসলিম: ৭৩৬
২৪। বুখারি: ৯৯০, মুসলিম: ৭৪৯
২৫। শরহুন নববি আলা সহিহ মুসলিম: ৬/২৮৬
২৬। তিরমিজি: ৮০৬, আবু দাউদ: ১৩৭৫, নাসায়ি: ১৬০৫, আহমাদ: ৫/১৫৯, ইবনু মাজাহ
২৭। বুখারি: ৯২৪, মুসলিম: ১৬৬৯
২৮। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৬
২৯। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৬
৩০। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৬
৩১। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৬
৩২। বুখারি: ২০১০
৩৩। ডক্টর সাইদ বিন ওয়াহাফ কাহতানি (রহ) শাইখ বিন বায (রহ) এর বুখারির ২০১০ নং হাদিসের দরসে শুনেছিলেন।
৩৪। সুনানুন নাসায়ি: ১৬০৬
৩৫। বুখারি: ৯৯০, মুসনাদ আহমাদ: ৪৮৪৮
৩৬। সুনানুত তিরমিজি: ৩/১৬১, আল মুগনি লিইবনি কুদামাহ: ২/৬০৪, ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়াহ: ২৩/১১২-১১৩]
৩৭। সহিহ মুসলিম: ৭৬৪
৩৮। বুখারি: ১১৪৭, মুসলিম: ৭৩৮
৩৯। দেখুন: ফাতাওয়া ইমাম বিন বাজ: ১১/৩২০-৩২৪
📄 সালাফদের কুরআন তিলাওয়াত
ইমাম ইবনু রজব (রহ) বলেন,
কোন কোন সালাফ রমাদ্বানের কিয়ামুল লাইলে প্রত্যেক তিন রাত্রে কুরআন খতম করতেন। কোন কোন সালাফ প্রত্যেক সাত রাত্রে; তন্মধ্যে কাতাদাহ, কোন কোন সালাফ প্রত্যেক দশ রাত্রে এক খতম করতেন। তাদের মাঝে রয়েছেন আবু রাজা আত্তারিদি, কোন কোন সালাফ রমাদ্বানের সলাতে এবং সলাত ছাড়া তিলাওয়াত করে খতম করতেন। আসওয়াদ (রহ) রমাদ্বানের প্রত্যেক দুই রাতে খতম করতেন আর নাখয়ি (রহ) বিশেষ করে তা করতেন শেষ দশকে। আর মাসের অন্যান্য সময়ে প্রত্যেক তিন রাতে। কাতাদাহ (রহ) সাতদিনে কুরআন খতম করতেন এবং রমাদ্বানের প্রত্যেক তিনরাতে ও রমাদ্বানের শেষ দশকে প্রতিরাতে এক খতম করতেন। আবু হানিফা (রহ) রমাদ্বানে সালাত ব্যতীত ষাট খতম করতেন। ইমাম শাফি'ঈ (রহ) এর ব্যাপারেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। আর কাতাদা (রহ) রমাদ্বানে কুরআন দেখে দেখে পড়তেন। (৪০)
ইমাম যুহরি (রহ) রমাদ্বান মাস উপস্থিত হলে বলতেন, "নিশ্চয় এ মাসটি কুরআন তিলাওয়াত এবং খাবার খাওয়ানোর মাস। (৪১)
ইমাম বুখারি (রহ) এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, তিনি রমাদ্বান মাসে চল্লিশবারের বেশি খতম করতেন। ইমাম যাহাবী (রহ) বলেন, "মুসাব্বিহ বিন সাইদ বলেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বুখারি রমাদ্বানের প্রত্যেক দিনে এক খতম করতেন এবং তারাবীহ'র পর প্রত্যেক তিনদিনে এক খতম করতেন। (৪২)
হাফিজ ইবনু হাজার আসকালানি (রহ) বলেন, "মুকসিম ইবনু সাইদ বলেছেন, রমাদ্বান মাসে ঈমাম বুখারির কাছে রাতের প্রথম ভাগে তার সাথীবৃন্দ জমায়েত হত। তিনি তাদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করতেন। প্রতি রাকআতে বিশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এভাবেই তিনি কুরআন খতম করতেন। আর সাহরির সময় অর্ধেক থেকে এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করতেন। আর প্রতি রাতে ইফতারের সময় তার খতম সম্পন্ন হত। আর তিনি বলেন, প্রত্যেক খতমের সময় কবুল দুআ রয়েছে।" (৪৩)
মুহাম্মাদ বিন আবি হাতিম আল ওয়াররাক (রহ) বলেন, "আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারি) সাহরির সময়ে তের রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং এক রাকআতে বিতর করতেন।"(৪৪)
ইমাম ইবনু রজব (রহ) বলেন, "ইবনু আবদিল হিকাম বলেছেন, রমাদ্বান মাস উপস্থিত হলে, ইমাম মালিক (রহ) হাদিসের মজলিস এবং আহলে ইলমের সাথে বসতেন না। কুরআনের নিয়ে তিলাওয়াত করার জন্য বসে যেতেন।" (৪৫)
আবদুর রাজ্জাক (রহ) বলেন, "সুফিয়ান আস-সাওরি (রহ) রমাদ্বান আসলে অন্য সকল (নফল) ইবাদত ছেড়ে দিয়ে কুরআন তিলাওয়াতে মনোযোগ দিতেন। আয়িশা (রাঃ) রমাদ্বান মাসে দিনের প্রথমাংশে মুসহাফ নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। অতঃপর যখন সূর্য উদিত হত তখন ঘুমাতেন। (৪৬)
আর সুফিয়ান আস-সাওরি (রহ) বলেন, যুবাইদ ইলয়ামি (রহ) যখন রমাদ্বান মাস আসত তখন কুরআনের মুসহাফ জমা করতেন এবং সাথীদেরকে (তিলাওয়াত করার জন্য) একত্রিত করতেন। (৪৭)
ইমাম নববি (রহ) কুরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে বলেন, "কুরআন তিলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া এবং বেশি বেশি তিলাওয়াত করা আবশ্যক। সালাফগণ তাদের সাধ্যানুযায়ী খতম করতেন। এটা উনাদের অভ্যাস ছিল।" (৪৮)
ইবনু আবু দাউদ (রহ) কোন কোন সালাফ সম্পর্কে বলেন, তারা প্রত্যেক দুই মাসে এক খতম কুরআন পড়তেন। কেউ কেউ প্রত্যেক দশরাত্রিতে এক খতম, কেউ কেউ প্রত্যেক আট রাত্রিতে এক খতম, আর অধিকাংশরা প্রত্যেক সাত রাত্রিতে এক খতম করতেন। কেউ কেউ প্রত্যেক ছয় রাত্রিতে, কেউ কেউ প্রত্যেক পাঁচদিনে, কেউ কেউ প্রত্যেক চার রাত্রিতে এবং অনেকেই প্রতি তিন দিনে এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করতেন। কারো কারো ব্যাপারে জানা যায়, তারা প্রতি দুই রাতে, কেউ কেউ একদিন- একরাতে এক খতম, কেউ কেউ একদিন-একরাতে দুই খতম, কেউ কেউ দিনে-রাতে তিন খতম আর কেউ কেউ আট খতম; কেউ চার খতম দিনে আর চার খতম রাতে করতেন। যারা দিনে-রাতে এক খতম দিয়েছেন তাদের মাঝে রয়েছেন, আমীরুল মুমিনীন উসমান ইবনু আফফান (রা), তামিম আদ দারি (রা), সাইদ ইবনু জুবাইর (রা), মুজাহিদ (রহ) এবং ইমাম শাফিয়ি (রহ) প্রমূখ ও অন্যান্য। (৪৯)
আর যারা দিনে তিন খতম দিতেন তাদের মাঝে রয়েছেন, সালিম বিন ঈতর (রা) যিনি মুয়াবিয়া (রাঃ) এর শাসনামলে মিশরের কাজি ছিলেন।
আর যারা এক সপ্তাহে কুরআন খতম করতেন তাদের সংখ্যা অনেক। যেমন, উসমান ইবনু আফফান, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, যায়দ ইবনু সাবিত, উবাই ইবনু কা'ব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওইয়া আজমাইন) এবং তাবিয়িদের এক জামাআত; যেমন, আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াজিদ, আলকামাহ ও ইবরাহিম (রাহিমাহুমুল্লাহ) প্রমূখ। (৫০)
আল্লামা ইমাম আন নববি (রহ) বলেন,
"সালাফদের এই কুরআন খতমে ইখতিয়ার করাটা ব্যক্তির অবস্থাভেদে পরিবর্তিত হয়েছে। সুতরাং গভীর চিন্তাভাবনার কারণে সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম বিষয় যদি প্রকাশ হয়ে যায় সে যেন ততটুকু পরিমাণ তিলাওয়াতের পর ইকতিসার করে (ক্ষ্যান্ত দেয়)। অনুরূপ যে ব্যক্তি ইলমের প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত অথবা দ্বীনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খেদমতে নিয়োজিত এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত তারও উচিত ততটুকু পরিমাণ তিলাওয়াত করা যাতে এর কারণে সে যে গুরুত্ববহ কাজে নিয়োজিত তার যেন কোন ব্যাঘাত না ঘটে। আর যদি সে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্য হতে না হয়ে থাকে, তাহলে সে যেন তার সামর্থ্য অনুপাতে অস্বস্তির পর্যায়ে না গিয়ে এবং অনর্থক কথাবার্তা বাদ দিয়ে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করে। যদিও পূর্ববর্তীদের একটি জামাআত একদিন একরাতে কুরআন খতম করাকে অপছন্দ করেছেন। এবং এর পক্ষে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রা) বর্ণিত হাদিস রয়েছে।
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল বলেন, "যে ব্যক্তি তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতম করবে সে মর্ম বুঝবে না।"(৫১)
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু রজব (রহ) বলেন,
"তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতমকে কেবল সর্বদা পাঠ করার জন্য নিষেধারোপ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ফজিলতপূর্ণ সময়, যেমন রমাদ্বান মাস বিশেষত সে সকল রাতে যাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা হয় অথবা বিভিন্ন ফজিলতপূর্ণ স্থান (যেমন মক্কায় যেখানে বিভিন্ন স্থানের লোকেরা প্রবেশ করে), এসকল স্থানে স্থান ও কালকে গনিমত মনে করে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। আর এটি ইমাম আহমাদ, ইসহাক ও অন্যান্য ইমামদের (রাহিমাহুমুল্লাহ) মত। (৫২)
তবে, সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য (আল্লাহু আ'লামু) এবং সবচেয়ে উত্তম হল, তিনদিনের কমে কুরআন খতম না করা। কেননা উত্তম নির্দেশনা হল রাসুল এর নির্দেশনা।
ইমাম বিন বাজ (রহ) বলেন,
"মুমিন মুমিনার জন্য শরিয়তসম্মত হল, ফায়দা অর্জন, ইলম হাসিল, অন্তরের একাগ্রতা এবং কালামুল্লাহ থেকে উপকার লাভের আশা করা। তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদাব্বুর (চিন্তাভাবনা), তা'আক্কুল (বুঝতে পারা) এবং বেশি বেশি করা, শুধুমাত্র খতমের আশায় তিলাওয়াত না করা। উদ্দেশ্য হওয়া কালামুল্লাহ থেকে ইসতিফাদা (উপকার) এবং অন্তরের একাগ্রতা ও বিনম্রতা অর্জন করা; কুরআন অনুযায়ী আমল করে এবং যা তিলাওয়াত করা হয় তা অনুধাবনের মাধ্যমে অন্তর নরম করা। আর যদি কেউ কুরআন স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করে এবং তিনদিনে খতম করে অথবা পাঁচদিনে কিংবা সাতদিনে তাহলে কোন অসুবিধা নেই। তবে উত্তম হল, তিনদিনের কম সময়ে খতম না করা। প্রত্যেক দিন দশ পারা তিলাওয়াত করা যাতে করে তাদাব্বুর তথা চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করা যায়, যাতে তাআক্কুল তথা পুরোপুরি বুঝতে পারা যায়, তাড়াতাড়ি না হয়। আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাওফিক দিন। "(৫৩)
টিকাঃ
৪০। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৮
৪১। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৮
৪২। সিয়ারু আ'লামিন নুবালা-লিযযাহাবি ২/৪/৪৩৯
৪৩। হাদিউস সারি ইবনু হাজার আসকালানি: ৪৮১
৪৪। প্রাগুক্ত, এবং তাহজিবুল আসমা ওয়াললুগাহ লিন-নববি: ১/৭৫, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ১২/৪/৪৪১
৪৫। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৮
৪৬। প্রাগুক্ত
৪৭। প্রাগুক্ত
৪৮। আত তিবয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন: ৪৬
৪৯। প্রাগুক্ত
৫০। প্রাগুক্ত
৫১। [[আবু দাউদ: ১৩৯৪, তিরমিজি:২৯৫০, ইবনু মাজাহ: ১৩৯৭) আত তিবয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন: ৪৬]
৫২। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৮
৫৩। শরহু সামাহাতিশ শাইখ আল্লামা আবদুল আজিজ বিন বাজ আলা কিতাবি ওয়াযাইফু রামাদান আবদির রাহমান বিন মুহাম্মাদ বিন কাসিম: ১৪০
📄 ই‘তিকাফ করা এবং সর্বদা মাসজিদে থাকা
রমাদ্বানের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হল, আল্লাহ তা'আলার ইত্বাআত করার জন্য সর্বদা মাসজিদে অবস্থান করা। এবং আল্লাহ তা'য়ালার সাথে মুনাজাত করা তথা একান্তে আলাপ করা। রাসুল এর বিবি আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
"রাসূল রমাদ্বানের শেষ দশকে আল্লাহ তা'য়ালা তার ওফাত দানের আগ পর্যন্ত ইতিকাফ করেছেন, এবং তারপর তার বিবিগণ ইতিকাফ করেছেন।"(৫৪)
আম্মাজান আয়িশা (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি জিবরীল (আঃ) এর ব্যাপারে বলেন,
নবি এর উপর কুরআন প্রত্যেক বছর একবার পেশ করা হয়, কিন্তু যে বছর তাঁকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে সে বছর তাকে দুইবার পেশ করা হয়। প্রত্যেক বছর তিনি দশদিন ইতিকাফ করতেন, কিন্তু যে বছর তাকে উঠিয়ে নেওয়া হয় সে বছর তিনি বিশদিন ইতিকাফ করেন।(৫৫)
ইবনু হাজার আসকালানি (রহ) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইরশাদ করেন, "বিশদিন দ্বারা উদ্দেশ্য মাঝের দশদিন ও শেষের দশদিন। "(৫৬)
টিকাঃ
৫৪। বুখারি: ২০২৬, মুসলিম: ১১৭২
৫৫। বুখারি: ৪৯৯৮
৫৬। ফাতহুল বারী: ৯/৪৬