📄 একে অপরকে কুরআন শোনানো
জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর রমাদ্বান মাসে নবীজি এর সাথে বিশেষ সাক্ষাৎ করতে আসতেন। রমাদ্বানের প্রতিরাতে তিনি এসে রাসুল কে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন, অতঃপর রাসুল জিবরীলকে শোনাতেন।
সহিহ হাদিসে এসেছে:
عن ابن عباس قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس وكان أجود ما يكون في رمضان حين يلقاه جبريل وكان يلقاه في كل ليلة من رمضان فيدارسه القرآن فلرسول الله صلى الله عليه وسلم أجود بالخير من الريح المرسلة
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আল্লাহর রাসুল ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমাদ্বান মাসে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরাইল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাদ্বানের প্রতিরাতেই জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তারা একে অপরকে কুরআন শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল রহমতের বায়ু অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন। (১০)
অপর এক হাদীসে এসেছে,
عن عائشة عن فاطمة عليها السلام أسر إلى النبي صلى الله عليه وسلم أن جبريل كان يعارضني بالقرآن كل سنة وإنه عارضني العام مرتين ولا أراه إلا حضر أجلي
মাসরুক (রহ) হযরত আয়িশা (রাদিঃ) এর মাধ্যমে হযরত ফাতিমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, "নবীজি আমাকে গোপনে বলেছেন, প্রতি বছর জিবরীল আমার সঙ্গে একবার কুরআন শোনান ও শোনেন; কিন্তু এ বছর তিনি আমার সঙ্গে দু'বার এ কাজ করেন। আমার মনে হচ্ছে আমার মৃত্যু আসন্ন। "(১১)
টিকাঃ
১০। বুখারি: ৬, ১৯০২, ৩২২০, ৩৫৫৪, ৪৯৯৭, মুসলিম: ৩২০৮, আহমাদ: ৩৬১৬
১১। বুখারি: ৪৯৯৭ নং হাদিসের পূর্বে ক্রমিক বিহীন হাদিস
📄 মা আয়িশার (রাঃ) চোখে নবীর ﷺ রমাদ্বান
নবীজি রমাদ্বানের শেষ দশকে বেশী বেশী ইবাদাত করতেন, যা অন্য কোন সময় করতেন না। হযরত আ'য়িশা (রাঃ) বলেন,
"আল্লাহর রাসুল রমাদ্বানে শেষ দশকে এত চেষ্টা মেহনত করতেন যা অন্য কোন মাসে করতেন না।" (১২)
তিনি আরো বলেন, عن مسروق عن عائشة رضي الله عنها قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل العشر شد مئزره وأحيا ليله وأيقظ أهله
"যখন রমজানের শেষদশ প্রবেশ করত তখন রাসুল সাঃ কোমরে কাপড় বেঁধে নেমে পড়তেন, রাত্রি জাগরণ করতেন এবং তাঁর পরিবারবর্গকে জাগাতেন। (১৩)
আয়িশা (রাঃ) আরো বলেন,
নবীজি রমাদ্বানের প্রথম দুই দশক সালাত ও ঘুম দ্বারা মিলাতেন। অতঃপর শেষ দশকে আসত তিনি লুঙ্গি কষে বাঁধতেন। (১৪)
আয়িশা (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন,
"আমি রাসুল কে একমাত্র রমাদ্বান ব্যতীত দেখিনি, রাত্রিতে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সালাতে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং পুরোটা মাস একাধারে রোজা রাখতে।"(১৫)
টিকাঃ
১২। মুসলিম: ১১৭৫
১৩। বুখারি: ১০৫৩
১৪। মুসনাদ আহমাদ: ৪০/১৫৯ হাদিস নং ২৪১৩১
১৫। মুসলিম: ৭৪৬
📄 লাইলাতুল কদরের তালাশ
عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال تحروا ليلة القدر في الوتر من العشر الأواخر من رمضان আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "তোমরা রমাদ্বানের শেষ দশকে বেজোড় রাত্রিতে লাইলাতুল কদরের তালাশ করো।" (১৬)
ভিন্ন শব্দে আরো অন্য এক হাদীসে নবী বলেন, تحروا ليلة القدر في العشر الأواخر من رمضان তোমরা রমাদ্বানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। (১৭)
লাইলাতুল কদর জোড় রাত্রিতেও হতে পারে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূল ইরশাদ করেন- التمسوا في أربع وعشرين "তোমরা তা তালাশ কর চব্বিশতম রজনিতে।" (১৮)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم هي في العشر هي في تسع يمضين أو في سبع يبقين يعني ليلة القدر আল্লাহর রাসুল বলেন, তা শেষ দশকে, তা অতিবাহিত নবম রাতে অথবা অবশিষ্ট সপ্তম রাতে অর্থাৎ লাইলাতুল কদর। (১৯)
অন্য এক সুত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসুল বলেছেন, التمسوها في العشر الأواخر من رمضان ليلة القدر في تاسعة تبقى في سابعة تبقى في خامسة تبقى
তোমরা লাইলাতুল কদর রমাদ্বানের শেষ দশকে অনুসন্ধান করো। লাইলাতুল কদর (শেষ দিক হতে গণনায়) নবম, সপ্তম বা পঞ্চম রাত অবশিষ্ট থাকে। (২০)
সাহাবায়ে কিরামগণও রমাদ্বানের শেষ দশদিনে ইবাদতে অনেক পরিশ্রম করতেন। আম্মাজান আয়িশা (রা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে সে রাতে কি বলব? তিনি বললেন, তুমি বলো -
اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী" 'হে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমা করতেই ভালোবাসো, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও'। (২১)
টিকাঃ
১৬। বুখারি: ২০১৭
১৭। বুখারি: ২০২০
১৮। বুখারি: ২০২২
১৯। বুখারি: ২০২২
২০। বুখারি: ২০২১
২১। জামিউত তিরমিজি: ৩৫৩১, সুনানে ইবনু মাজাহ: ৩৮৫০
📄 কিয়ামুল লাইল
তারাবীহ'র নামকরণ করার কারণ হল, এই সলাতে প্রত্যেক চার রাকাআতের পর বিশ্রাম নেওয়া হয়। আর তারাবীহকেই রমাদ্বান মাসে রাতের প্রথমাংশের কিয়ামুল লাইল। প্রত্যেক দুই সালামের পর অর্থাৎ চার রাকআত আদায় করে পর এই সলাতে বিশ্রাম নেওয়া হয়ে থাকে। হযরত আয়িশা (রাঃ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রমাদ্বানে আল্লাহর রাসূল এর সালাত কেমন ছিল? আয়িশা (রাঃ) বলেন,
"আল্লাহর রাসুল রমাদ্বান এবং রমাদ্বানর বাইরে এগারো রাকাআতের বেশি পড়তেন না; তিনি চার রাকআত পড়তেন, তোমরা আমাকে তার সৌন্দর্য এবং দীর্ঘতার ব্যাপারে প্রশ্ন করো না, অতঃপর পড়তেন চার রাকআত, তোমরা আমাকে তার সৌন্দর্য এবং দীর্ঘতার ব্যাপারে প্রশ্ন করো না, তারপর তিন রাকআত পড়তেন।"(২২)
আয়িশা (রাঃ) এর উক্তি "তিনি চার রাকআত পড়তেন... অতঃপর চার রাকআত..." এটি প্রথম চার রাকআতের সাথে দ্বিতীয় চার রাকআত এবং শেষের দিন রাকআত আলাদা তা প্রমাণ বহন করে। আর তিনি চার রাকআতের মাঝে প্রত্যেক দুই রাকআতের পর সালাম ফিরিয়েছেন তাও প্রমাণ বহন করে আয়িশা (রাঃ) এর হাদিসের কারণে। কেননা আয়িশা (রাঃ) অপর হাদিসে বলেন,
"রাসুলুল্লাহ রাত্রিবেলায় এগার রাকআত পড়তেন এবং এক রাকআতের বিতর করতেন।
অন্য শব্দে আছে, "তিনি প্রত্যেক দুই রাকআতে সালাম ফিরাতেন এবং এক রাকআত দ্বারা বিতর করতেন।"(২৩)
আর এটি প্রথম হাদিসের ব্যাখ্যা। আর রাসূলুল্লাহ প্রত্যেক দুই রাকআতের পর সালাম ফিরাতেন। অন্য এক হাদিসে এসেছে, "রাত্রিবেলার সালাত দু'রাকআত দু'রাকআত করে।"(২৪)
ইমাম নববি (রহঃ) কিয়ামুল লাইল বা তারাবীহ'র ব্যাপারে বলেন, "এটি মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সকল উলামাহ একমত। "(২৫)
তারাবীহ'র ক্ষেত্রে উত্তম হল, ইমামের পিছনে ততক্ষণ থাকা যতক্ষণ না তিনি সলাত শেষ করেন। আবু যর (রাঃ) এর এক হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, "আমরা রাসুল এর সাথে রমাদ্বান মাসের সিয়াম পালন করেছি। তিনি এ মাসের সাত দিন বাকি থাকার আগ পর্যন্ত আমাদের নিয়ে সালাতে দাঁড়াননি। তিনি আমাদের নিয়ে সে রাত্রিতে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সালাতে দাঁড়ানো ছিলেন। অতঃপর মাস বাকি থাকার ষষ্ঠ দিনে দাঁড়াননি। তারপর মাস বাকি থাকার পঞ্চম রাতে দাঁড়ালেন এমনকি অর্ধরাত অবধি দাঁড়ানো ছিলেন। আমরা তখন রাসুলুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এই রাত্রের বাকি সময়েও আমাদের নিয়ে নফল সালাত আদায় করতেন? রাসুলুল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে প্রস্থান করা অবধি সালাত আদায় করবে (কিয়ামুল লাইল করবে) তাকে পুরো রাত কিয়ামুল লাইলের নেকি দান করা হবে। রাসূল আমাদের নিয়ে চতুর্থ রাত্রিতে কিয়ামুল লাইল করেননি। তৃতীয় রাতে তার পরিবার, স্ত্রীগণ ও লোকজনকে জমা করলেন এবং আমাদের সাথে নিয়ে সেহরির শেষ সময় পর্যন্ত কিয়ামুল লাইল করলেন, এমনকি আমরা চিন্তিত ছিলাম সেহরি খেতে পারব কিনা? অতঃপর মাসের বাকি রাতগুলোতে আমাদের নিয়ে দন্ডায়মান হননি। "(২৬)
আম্মাজান আয়িশা (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে,
রাসুলুল্লাহ কোন এক রাতের মধ্যভাগে বের হলেন এবং মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন, সকালে তাঁরা এ নিয়ে আলোচনা করলেন। ফলে (দ্বিতীয় রাতে) এর চেয়ে অধিক সাহাবা একত্রিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। পরের দিন সকালেও তাঁরা এ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ফলে তৃতীয় রাতে মাসজিদে লোকসংখ্যা অত্যাধিক বৃদ্ধি পেল। আল্লাহর রাসুল বের হলেন এবং সাহাবিগণ তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। কিন্তু চতুর্থ রাতে লোক সংখ্যা এত বেশি হল যে, মাসজিদে জায়গা সংকুলান হল না। কিন্তু রাতে রাসুল মসজিদে আসলেন না। তাদের মধ্য থেকে কিছু লোক 'সলাত' বলে ডাকতে শুরু করল। কিন্তু তিনি ঐ রাতে আর বের হলেন না। অবশেষে তিনি ফজরের সলাতের জন্য বের হলেন এবং ফজরের সলাত শেষ করে লোকদের দিকে ফিরলেন। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও ছানা বর্ণনা করলেন। অত"পর বললেন, "আম্মা বা'দ (অতপর বক্তব্য এইযে) এখানে তোমাদের উপস্থিতি আমার নিকট গোপন ছিল না, কিন্তু আমার আশঙ্কা ছিল, তা তোমাদের জন্য ফরজ করে দেওয়া হয় আর তোমরা তা আদায় করতে অপারগ হয়ে পড়। (২৭)
ইমাম ইবনু রজব (রহ) বলেন,
"হযরত উমার (রাঃ) সাহাবী উবাই বিন কা'ব এবং তামিম আদদারি (রাঃ) কে আদেশ দেন তারা যেন রমাদ্বান মাসে লোকদেরকে সাথে নিয়ে কিয়ামুল লাইল তথা তারাবীহ'র সালাত আদায় করেন। তখন ঈমাম সাহেব এক রাকাআতে দুইশত আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এমতবস্থায় তারা লম্বা কিয়ামের কারণে লাঠির উপর ভর দিয়ে থাকতেন। আর উনারা এ থেকে বিরত হতেন কেবল ফজরের সময় হয়ে আসলে। অতঃপর তাবিয়িদের যুগে রমাদ্বানের কিয়ামুল লাইলে উনারা প্রত্যেক আট রাকাআতে সুরা বাকারাহ পড়তেন। উনারা যদি বারো রাকাআত পড়তেন তাহলে সেটি (সুরা বাকারাহ) তাদের নিকট হালকা মনে হত।” (২৮)
ইমাম ইবনু রজব আরো বলেন, "ইমাম আহমদ (রহ) তার কোন কোন সাথীকে বলেন (যাদেরকে নিয়ে তিনি রমাদ্বানে সালাত আদায় করতেন), "এই জাতি হল দুর্বল জাতি, পাঁচ, ছয়, সাত আয়াত করে পড়ো।" তিনি বলেন, "আমি পড়েছি এবং সাতাশতম রাত্রিতে খতম করেছি। (২৯)
হাসান আল বসরি (রহ) বলেন, "উমার (রাঃ) লোকদেরকে নিয়ে রমাদ্বানের রাত্রিতে সলাত আদায় করতে বললে, তিনি পাঁচ আয়াত বা ছয় আয়াত করে তিলাওয়াত করেন।"(৩০)
আর ইমাম আহমদ (রহ) এর কথা প্রমাণ করে যে, তিনি মুক্তাদীদের অবস্থার উপর বিবেচনা করে কুরআন তিলাওয়াতের কথা বলেছেন। যাতে তাদের উপর কোন কষ্ট না হয়।
তাকে ব্যতীত অন্যান্য ফুকাহায়ে কিরামের মধ্যে ঈমাম আবু হানিফা (রহ) এর সাথীবর্গ ও অন্যান্য সালাফগণ এরূপ বলেছেন। আর আবু যর (রাঃ) এর বর্ণনা থেকে জানা হয়েছে যে, রাসূল তাদেরকে নিয়ে তেইশতম রাত্রিতে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কিয়ামুল লাইল আদায় করেছেন এবং পঁচিশতম রাত্রিতে অর্ধরাত্রি পর্যন্ত। তখন সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) তাকে বলেন, "যদি আপনি আমাদের নিয়ে বাকি রাতও নফল সলাত আদায় করতেন? অতঃপর তিনি বলেন 'নিশ্চয় ব্যক্তি যখন ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করে, এমনকি যখন সে (ইমামের সাথেই) তা থেকে বিরত হয় তার জন্য বাকি রাতের (সলাত আদায়ের) সাওয়াব লিখা হয়।' আহলুস সুনাহ এটিকে তাখরিজ করেছেন। ইমাম তিরমিজি এটি হাসান বলেছেন। (৩১)
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْقَارِيِّ قَالَ : خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَيْلَةً فِي رَمَضَانَ إِلَى الْمَسْجِدِ ، فَإِذَا النَّاسُ أَوْزَاعٌ مُتَفَرِّقُونَ يُصَلَّى الرَّجُلُ لِنَفْسِهِ وَيُصَلِّى الرَّجُلُ فَيُصَلِّى بِصَلَاتِهِ الرَّهْطُ ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : وَاللَّهِ إِنِّي لأَرَى لَوْ جَمَعْتُ هَؤُلَاءِ عَلَى قَارِي وَاحِدٍ لَكَانَ أَمْثَلَ ثُمَّ عَزَمَ فَجَمَعَهُمْ عَلَى أُتِيَ بْنِ كَعْبٍ قَالَ : ثُمَّ خَرَجْتُ مَعَهُ لَيْلَةً أُخْرَى ، وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلَاةِ قَارِيْهِمْ ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ ، وَالَّتِي يَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي يَقُومُونَ . يُرِيدُ آخِرَ اللَّيْلِ وَكَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ أَوَّلَهُ
আবদুর রাহমান বিন আবদিল কারি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:, "আমি রমাদ্বানের এক রাত্রিতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে মাসজিদে নববিতে বের হলাম। হঠাৎ দেখা গেল যে, লোকেরা এলোমেলোভাবে বিভিন্ন জামাআতে বিভক্ত। কেউ একাকী সালাত আদায় করছে আবার কোন ব্যক্তি সলাত আদায় করছে এবং লোকেরা তাঁর ইকতিদা করে সলাত আদায় করছে। উমর (রাঃ) বললেন, 'আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি একজন ক্বারীর (ইমাম) পিছনে জমা করে দেই, তবে তা উত্তম হবে।' এরপর তিনি উবাই বিন কা'ব (রাঃ) এর পেছনে সকলকে জমা করে দিলেন। পরে আরেক রাতে আমি তাঁর সাথে বের হই। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে সালাত আদায় করছিল। উমর (রাঃ) বললেন, 'কতই না সুন্দর এই বিদআত (নতুন ব্যবস্থা।) তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাকো তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা সালাত আদায় করো'। এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন, কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা সলাত আদায় করত。(৩২)
আমি শাইখ ইমাম আবদুল আজিজ ইবন বাজ (রহ) কে উমর (রাঃ) এর (نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ ) (কতই না সুন্দর এই বিদাআত) এই কথার ব্যাপারে বলতে শুনেছি যে তিনি বলেন- "এখানে বিদআত দ্বারা শাব্দিক বিদআত উদ্দেশ্য (আমলগত নয়), আর এখানে উদ্দেশ্য হল তারা নতুনভাবে রমাদ্বান মাসজুড়ে জামাআতবদ্ধভাবে সলাত আদায় করেছে। আর এটি উমর (রাঃ) এর উক্তির কারণ।"(৩৩)
হযরত নুমান বিন বাশির (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, "আমরা একবার (রমাদ্বানের) তেইশতম রাত্রিতে রাসূল এর সাথে রাত্রের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সলাতে দন্ডায়মান ছিলাম। অতঃপর আমরা তাঁর সাথে পঁচিশতম রাত্রিতে অর্ধরাত্র পর্যন্ত সলাতে দন্ডায়মান ছিলাম, অতপর আমরা সাতাইশতম রাত্রিতে এত পরিমাণ দন্ডায়মান ছিলাম যে, আমরা মনে করলাম যে 'ফালাহ' পাব না। আর সাহাবীগণ সাহরিকে 'ফালাহ' নামে বলতেন। "(৩৪)
আর আবু যর (রাঃ) এর হাদিসে আমরা জেনেছি, "যখন সাতাইশতম রাত্রি আসত নবীজি তাঁর পরিবার এবং মহিলাদেরকে একত্রিত করতেন আর লোকদেরকে নিয়ে কিয়ামুল লাইল আদায় করতেন।"
সালাতুত তারাবীহ'র রাকাত সংখ্যা কত? সালাতুত তারাবীহ'র কোন নির্দিষ্ট রাকাত নেই। এর কোন সীমারেখা বেঁধে দেওয়া নেই। রাকাত সংখ্যা নির্ধারিত নেই। নবীজি কেবল বলেছেন,
صلاة الليل مثنى مثنى فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى
"রাতের সলাত দুই দুই (রাকাআত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি আশঙ্কা করে ফজরের, সে যেন এক রাকআত সলাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সলাত আদায় করল (এক রাকআত), তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে।"(৩৫)
সুতরাং বিশ রাকআত পড়েন আর তিন রাকআত বিতর অথবা ছত্রিশ রাকআত পড়েন আর তিন রাকআত বিতর কিংবা একচল্লিশ রাকআত পড়েন তাতে কোন অসুবিধা নেই। (৩৬)
কিন্তু উত্তম হল যা রাসূলুল্লাহ করেছেন। আর তা হল, তের রাকআত অথবা এগারো রাকআত। কেননা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর হাদিস এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ রাত্রিতে তের রাকআত পড়তেন। (৩৭)
আর আয়িশা (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে, "রাসুলুল্লাহ রমাদ্বান ও এর বাইরে বাইরে এগারো রাকআতের বেশি পড়তেন না। (৩৮)
সুতরাং এটিই হল উত্তম এবং সাওয়াবের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ।
আর কেউ যদি এর চেয়ে বেশি পড়ে তাহলে কোন অসুবিধে নেই। কেননা রাসুল এর এই হাদিসে বলা আছে,
صلاة الليل مثنى مثنى فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى
"রাতের সলাত দুই দুই রাকাআত করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজরের আশঙ্কা করে সে যেন এক রাকআত সালাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত আদায় করল তার জন্য বিতর হয়ে যাবে। "
কাজেই কিয়ামুল লাইল বা তারাবীহ'র রাকআতের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা রয়েছে। এখানে বাড়াবাড়ির কোন স্থান নেই। তবে, উত্তম হল এগারো রাকআত পড়া। আল্লাহই তাওফীক দানকারী। (৩৯)
টিকাঃ
২২। বুখারি: ১১৪৭, মুসলিম: ৭৩৮
২৩। মুসলিম: ৭৩৬
২৪। বুখারি: ৯৯০, মুসলিম: ৭৪৯
২৫। শরহুন নববি আলা সহিহ মুসলিম: ৬/২৮৬
২৬। তিরমিজি: ৮০৬, আবু দাউদ: ১৩৭৫, নাসায়ি: ১৬০৫, আহমাদ: ৫/১৫৯, ইবনু মাজাহ
২৭। বুখারি: ৯২৪, মুসলিম: ১৬৬৯
২৮। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৬
২৯। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৬
৩০। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৬
৩১। লাতায়েফুল মাআরেফ: ৩১৬
৩২। বুখারি: ২০১০
৩৩। ডক্টর সাইদ বিন ওয়াহাফ কাহতানি (রহ) শাইখ বিন বায (রহ) এর বুখারির ২০১০ নং হাদিসের দরসে শুনেছিলেন।
৩৪। সুনানুন নাসায়ি: ১৬০৬
৩৫। বুখারি: ৯৯০, মুসনাদ আহমাদ: ৪৮৪৮
৩৬। সুনানুত তিরমিজি: ৩/১৬১, আল মুগনি লিইবনি কুদামাহ: ২/৬০৪, ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়াহ: ২৩/১১২-১১৩]
৩৭। সহিহ মুসলিম: ৭৬৪
৩৮। বুখারি: ১১৪৭, মুসলিম: ৭৩৮
৩৯। দেখুন: ফাতাওয়া ইমাম বিন বাজ: ১১/৩২০-৩২৪