📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 রমাদ্বানে দান ও সদকার আধিক্য

📄 রমাদ্বানে দান ও সদকার আধিক্য


রাসুল ছিলেন সবচেয়ে দানশীল ব্যক্তি। রমাদ্বানে জিবরীল উপস্থিত হলে তিনি আরো বেশি দানশীল হয়ে উঠতেন। রমাদ্বানের বরকতময় মাসে যখন জিবরীল (আঃ) নবীজি এর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতেন, তখন তিনি রহমতের বায়ু অপেক্ষা অধিক দানশীল হতেন। (১)

টিকাঃ
১। বুখারি: ৬, মুসলিম: ২৩০৮

📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 একে অপরকে কুরআন শোনানো

📄 একে অপরকে কুরআন শোনানো


জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর রমাদ্বান মাসে নবীজি এর সাথে বিশেষ সাক্ষাৎ করতে আসতেন। রমাদ্বানের প্রতিরাতে তিনি এসে রাসুল কে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন, অতঃপর রাসুল জিবরীলকে শোনাতেন।

সহিহ হাদিসে এসেছে:
عن ابن عباس قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس وكان أجود ما يكون في رمضان حين يلقاه جبريل وكان يلقاه في كل ليلة من رمضان فيدارسه القرآن فلرسول الله صلى الله عليه وسلم أجود بالخير من الريح المرسلة

হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আল্লাহর রাসুল ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমাদ্বান মাসে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরাইল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাদ্বানের প্রতিরাতেই জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তারা একে অপরকে কুরআন শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল রহমতের বায়ু অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন। (১০)

অপর এক হাদীসে এসেছে,
عن عائشة عن فاطمة عليها السلام أسر إلى النبي صلى الله عليه وسلم أن جبريل كان يعارضني بالقرآن كل سنة وإنه عارضني العام مرتين ولا أراه إلا حضر أجلي

মাসরুক (রহ) হযরত আয়িশা (রাদিঃ) এর মাধ্যমে হযরত ফাতিমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, "নবীজি আমাকে গোপনে বলেছেন, প্রতি বছর জিবরীল আমার সঙ্গে একবার কুরআন শোনান ও শোনেন; কিন্তু এ বছর তিনি আমার সঙ্গে দু'বার এ কাজ করেন। আমার মনে হচ্ছে আমার মৃত্যু আসন্ন। "(১১)

টিকাঃ
১০। বুখারি: ৬, ১৯০২, ৩২২০, ৩৫৫৪, ৪৯৯৭, মুসলিম: ৩২০৮, আহমাদ: ৩৬১৬
১১। বুখারি: ৪৯৯৭ নং হাদিসের পূর্বে ক্রমিক বিহীন হাদিস

📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 মা আয়িশার (রাঃ) চোখে নবীর ﷺ রমাদ্বান

📄 মা আয়িশার (রাঃ) চোখে নবীর ﷺ রমাদ্বান


নবীজি রমাদ্বানের শেষ দশকে বেশী বেশী ইবাদাত করতেন, যা অন্য কোন সময় করতেন না। হযরত আ'য়িশা (রাঃ) বলেন,
"আল্লাহর রাসুল রমাদ্বানে শেষ দশকে এত চেষ্টা মেহনত করতেন যা অন্য কোন মাসে করতেন না।" (১২)

তিনি আরো বলেন, عن مسروق عن عائشة رضي الله عنها قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل العشر شد مئزره وأحيا ليله وأيقظ أهله

"যখন রমজানের শেষদশ প্রবেশ করত তখন রাসুল সাঃ কোমরে কাপড় বেঁধে নেমে পড়তেন, রাত্রি জাগরণ করতেন এবং তাঁর পরিবারবর্গকে জাগাতেন। (১৩)

আয়িশা (রাঃ) আরো বলেন,
নবীজি রমাদ্বানের প্রথম দুই দশক সালাত ও ঘুম দ্বারা মিলাতেন। অতঃপর শেষ দশকে আসত তিনি লুঙ্গি কষে বাঁধতেন। (১৪)

আয়িশা (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন,
"আমি রাসুল কে একমাত্র রমাদ্বান ব্যতীত দেখিনি, রাত্রিতে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সালাতে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং পুরোটা মাস একাধারে রোজা রাখতে।"(১৫)

টিকাঃ
১২। মুসলিম: ১১৭৫
১৩। বুখারি: ১০৫৩
১৪। মুসনাদ আহমাদ: ৪০/১৫৯ হাদিস নং ২৪১৩১
১৫। মুসলিম: ৭৪৬

📘 সালাফদের সিয়াম > 📄 লাইলাতুল কদরের তালাশ

📄 লাইলাতুল কদরের তালাশ


عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال تحروا ليلة القدر في الوتر من العشر الأواخر من رمضان আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "তোমরা রমাদ্বানের শেষ দশকে বেজোড় রাত্রিতে লাইলাতুল কদরের তালাশ করো।" (১৬)

ভিন্ন শব্দে আরো অন্য এক হাদীসে নবী বলেন, تحروا ليلة القدر في العشر الأواخر من رمضان তোমরা রমাদ্বানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। (১৭)

লাইলাতুল কদর জোড় রাত্রিতেও হতে পারে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূল ইরশাদ করেন- التمسوا في أربع وعشرين "তোমরা তা তালাশ কর চব্বিশতম রজনিতে।" (১৮)

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم هي في العشر هي في تسع يمضين أو في سبع يبقين يعني ليلة القدر আল্লাহর রাসুল বলেন, তা শেষ দশকে, তা অতিবাহিত নবম রাতে অথবা অবশিষ্ট সপ্তম রাতে অর্থাৎ লাইলাতুল কদর। (১৯)

অন্য এক সুত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসুল বলেছেন, التمسوها في العشر الأواخر من رمضان ليلة القدر في تاسعة تبقى في سابعة تبقى في خامسة تبقى

তোমরা লাইলাতুল কদর রমাদ্বানের শেষ দশকে অনুসন্ধান করো। লাইলাতুল কদর (শেষ দিক হতে গণনায়) নবম, সপ্তম বা পঞ্চম রাত অবশিষ্ট থাকে। (২০)

সাহাবায়ে কিরামগণও রমাদ্বানের শেষ দশদিনে ইবাদতে অনেক পরিশ্রম করতেন। আম্মাজান আয়িশা (রা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে সে রাতে কি বলব? তিনি বললেন, তুমি বলো -

اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী" 'হে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমা করতেই ভালোবাসো, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও'। (২১)

টিকাঃ
১৬। বুখারি: ২০১৭
১৭। বুখারি: ২০২০
১৮। বুখারি: ২০২২
১৯। বুখারি: ২০২২
২০। বুখারি: ২০২১
২১। জামিউত তিরমিজি: ৩৫৩১, সুনানে ইবনু মাজাহ: ৩৮৫০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00