📘 সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব > 📄 অনুপকারী ইলম

📄 অনুপকারী ইলম


অনেক এমন লোকের কথাও জানা যায়, যাদের ইলম প্রদান করা হলেও সে ইলম তাদের কোনো উপকারে আসেনি। এ-জাতীয় ইলম যদিও প্রকৃতপক্ষে উপকারী, কিন্তু যাকে তা দেওয়া হয়েছে সে উপকৃত হতে পারেনি। কুরআনে এর বেশ কয়েকটি উদাহরণ রয়েছে।
প্রথম আয়াত:
مَثَلُ الَّذِينَ حُمِلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَل الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
যাদের তাওরাত দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করেনি, তারা সেই গাধার ন্যায়, যে পুস্তক বহন করে। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাঁদের দৃষ্টান্ত কতই-না নিকৃষ্ট! আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।
দ্বিতীয় আয়াত:
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ - وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِمَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ
আর আপনি তাঁদের শুনিয়ে দিন সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম। অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে। আর তার পেছনে লেগেছে শয়তান। ফলে সে পথভ্রদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। অবশ্য আমি চাইলে সে সকল নিদর্শনের বদৌলতে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু সে তো অধঃপতিত ও আপন রিপুর অনুগামী হয়ে পড়ে রইল।
তৃতীয় আয়াত:
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَذَا الْأَدْنَى وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِنْ يَأْتِهِمْ عَرَضٌ مِثْلُهُ يَأْخُذُوهُ
অতঃপর তাঁদের পরে এসেছে এমন কিছু অপদার্থ, যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে। তারা নিকৃ পার্থিব উপকরণ আহরণ করছে এবং বলছে, আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। বস্তুত এমন ধরনের উপকরণ যদি আবারও তাঁদের সামনে উপস্থিত হয় তবে তারা তাও তুলে নেবে।
চতুর্থ আয়াত:
وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ
আল্লাহ তাআলা তাকে ইলম থাকা সত্ত্বেও পথভ্র করেছেন।
অবশ্য এটা তখন এই বিষয়ের উদাহরণ হবে যখন ইলম দ্বারা পথভ্রষ্ট ব্যক্তির ইলম উদ্দেশ্য নেওয়া হবে। (আর যদি আল্লাহর ইলম উদ্দেশ্য হয় তখন আর আলোচ্য বিষয়ের উদাহরণ হবে না। কারণ, তখন অর্থ হবে, আল্লাহ তাআলা তাকে জেনেশুনে পথভ্রষ্ট করেছেন।

টিকাঃ
[১] সূরা জুমুআ (৬২): ৫
[১] সুরা আ'রাফ (০৭): ১৭৫-৭৬
[২] সূরা আরাফ (০৭): ১৬৯
[৩] সূরা জাসিয়া (৪৫): ২৩

📘 সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব > 📄 নিন্দনীয় ইলম

📄 নিন্দনীয় ইলম


আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের যেসব আয়াতে নিন্দনীয় ইলমের উল্লেখ করেছেন সেগুলো নিচে প্রদত্ত হলো।
প্রথম আয়াত:
وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ
তারা এমন ইলম অর্জন করে যা তাঁদের ক্ষতি বৈ উপকার করে না। তারা ভালো করে জানে, নিশ্চয়ই যারা জাদু অবলম্বন করে আখেরাতে তাদের কোনো অংশ নেই।
দ্বিতীয় আয়াত:
فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوا بِمَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
তাদের কাছে যখন তাদের রাসূলগণ স্প প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিল, তখন তারা নিজেদের ইলমের দম্ভ প্রকাশ করেছিল। তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছিল, তাই তাদের গ্রাস করে নিয়েছিল।
তৃতীয় আয়াত:
يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ
দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক বিষয়ের ইলম তাদের রয়েছে। অথচ আখেরাত সম্পর্কে তারা উদাসীন।

টিকাঃ
[১] সূরা বাকারা (০২): ১০২
[২] সূরা মুমিন (৪০): ৮৩
[৩] সূরা রুম (৩০): ৭

📘 সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব > 📄 হাদীসের আলোকে ইলমের শ্রেণিবিভাগ

📄 হাদীসের আলোকে ইলমের শ্রেণিবিভাগ


হাদীস শরীফেও ইলমকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উপকারী ও অনুপকারী। আল্লাহ তাআলা আমাদের অনুপকারী ইলম থেকে রক্ষা করুন এবং উপকারী ইলম দান করুন।
সহীহ মুসলিমে সাহাবী যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল বলতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُبِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعْ، وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعْ، وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعْ، وَ مِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অনুপকারী ইলম, অবিনত অন্তর, অপরিতৃপ্ত আত্মা এবং অগ্রহণযোগ্য দোআ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
সুনানের চারও ইমাম তাদের গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। যার কোনোটাতে আছে, এমন দোআ থেকে, যা শোনা হয় না। কোনো বর্ণনায় আছে, তোমার থেকে এই চারোটি বিষয় থেকে পানাহ চাই।
ইমাম নাসায়ী জাবের থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ বলতেন,
اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَ أَعُوْذُبِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী ইলম প্রার্থনা করছি। এবং অনুপকারী ইলম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
ইবনে মাজাহ যে শব্দে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন সেখানে আছে, রাসূল ইরশাদ করেছেন,
اسَلُوْا اللهَ عِلْمًا نَافِعًا وَ تَعَوَذُوْا بِاللَّهِ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ
আল্লাহর কাছে উপকারী ইলমের প্রার্থনা করো। এবং অপকারী ইলম থেকে পানাহ চাও।
ইমাম তিরমিজী আবু হুরাইরা এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসূল বলতেন,
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا
হে আল্লাহ, তুমি আমাকে তোমার প্রদত্ত ইলম দ্বারা উপকৃত করো, আমাকে উপকারকারী ইলম শিক্ষা দাও এবং আমার ইলম বৃদ্ধি করো।
ইমাম নাসায়ী আনাস থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল এভাবে দুআ করতেন,
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَارْزُقْنِي عِلْمًا تَنْفَعُنِي بِهِ
হে আল্লাহ, তুমি আমাকে তোমার প্রদত্ত ইলম দ্বারা উপকৃত করো, আমাকে উপকারকারী ইলম শিক্ষা দাও এবং উপকারী ইলম প্রদান করো।
আবু নুয়াইম আনাস থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল বলতেন,
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْئَلُكَ إِيْمَانًا دَائِمًا، فَرُبَّ إِيْمَانٍ غَيْرُ دَائِمٍ، وَأَسْئَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، فَرُبَّ عِلْمٍ غَيْرُ نَافِعٍ
হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে স্থায়ী ঈমান প্রার্থনা করছি। (কারণ,) অনেক ঈমান অস্থায়ী। এবং আপনার কাছে উপকারী ইলম প্রার্থনা করছি। (কারণ,) অনেক ইলম অনুপকারী।
ইমাম আবু দাউদ সাহাবী বুরাইদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন,
إِنَّ مِنَ البَيَانِ سِحْرًا، وَإِنَّ مِنَ الْعِلْمِ جَهْلًا
| নিশ্চয় কিছু কথা জাদু আর কিছু ইলম অজ্ঞতা
ইবনে সওহান 'কিছু ইলম অজ্ঞতা' এই কথার ব্যাখ্যায় বলেছেন,
এর মানে হলো, কোনো আলেমের একটা বিষয়ে ইলম না থাকা সত্ত্বেও তা জানার ভান করা। ফলে সেই বিষয়টা তার অজানাই থেকে যায়।
এর অন্য আরেকটি ব্যাখ্যা করা হয়। তা হলো, যে ইলম উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি করে তা একধরনের অজ্ঞতাই। কারণ, এমন ইলম থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। তাই এই দিক বিবেচনায় এটি সাধারণ অজ্ঞতার চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট। এর উদাহরণ হলো জাদু। যা দ্বীন-দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ইলম।

টিকাঃ
[১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭২২
[২] লেখক ইমাম নাসায়ী এর কথা বললেও হাদীসটি ঠিক এই শব্দে তাঁর কিতাবে নেই; বরং হুবহু এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে। হাদীস নং: ৮২।
[১] সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৪৩
[২] হাদীস নং: ৩৫৯৯
[৩] সুনানে কুবরা, হাদীস নং: ৭৮১৯
[৪] হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৬/১৭৯
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫০১২

📘 সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব > 📄 কিছু অনুপকারী ইলম

📄 কিছু অনুপকারী ইলম


রাসূল থেকে অনুপকারী কিছু ইলমের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। মারাসিলে আবু দাউদে যায়দ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, "রাসূল কে বলা হল, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, অমুকে কত্তো ইলমের অধিকারী!'
তিনি বললেন, 'কোন বিষয়ে?'
তারা বলল, 'মানুষের বংশধারা বিষয়ে।'
তখন তিনি বললেন, 'এটি অনুপকারী ইলম। যা না জানা থাকলেও তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। "
আবু নুয়াইম তাঁর রিয়াযাতুল মুতাআল্লিমীন গ্রন্থে বাকিয়্যা ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে হাদীসটি মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সেখানে আছে, তারা বলল, 'সে আরবদের বংশধারা, কবিতা এবং যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি ইলম রাখে।'
এই হাদীসের শেষে আরও কিছু অংশ অতিরিক্ত আছে। তা হলো,
الْعِلْمُ ثَلَاثَةٌ مَا خَلَاهُنَّ فَهُوَ فَضْلُ: آيَةً مُحْكَمَةٌ، أَوْ سُنَّةٌ قَائِمَةً، أَوْ فَرِيضَةً عَادِلَةٌ
ইলম তিনটি জিনিস। এ ছাড়া বাকি সবই অতিরিক্ত বিষয়। এক. সুস্প আয়াত, দুই. প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ, তিন, মৃত ব্যক্তির মীরাস তার ওয়ারিসদের মধ্যে ইনসাফ ভিত্তিক বণ্টন।
আবূ দাউদ ও ইবনে মাজাহ আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে মারফু সূত্রে অন্য আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তা হল,
العلم ثلاثة ما سوي ذلك فهو فضل: آية محكمة، أو سنة قائمة، أو فريضة عادلة
ইলম তিনটি জিনিস। এ ছাড়া বাকি সবই অতিরিক্ত বিষয়। এক: সুস্পষ্ট আয়াত, দুই: প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ, তিন: মৃত ব্যক্তির মীরাস তার ওয়ারিসদের মধ্যে ইনসাফভিত্তিক বণ্টন।
এই হাদীসের সনদে আব্দুর রহমান ইফ্রিকী রয়েছেন। তাঁর দুর্বলতার বিষয়টি প্রসিদ্ধ।
আবু হুরাইরা এর সূত্রে রাসূল থেকে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হয় এই পরিমাণ বংশধারা সম্পর্কীয় জ্ঞান অর্জন করার নির্দেশ পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন,
تَعَلَّمُوا مِنْ أَنْسَابِكُمْ مَا تَصِلُوْنَ بِهِ أَرْحَامَكُمْ
তোমরা সেই পরিমাণ বংশধারা সম্পর্কীয় ইলম অর্জন করো, যার মাধ্যমে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হয়।
হুমাইদ ইবনে যানজুইয়াহ আবু হুরাইরা থেকে মারফু সূত্রে অন্য সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সেটি হলো,
تَعَلَّمُوْا مِنْ أَنْسَابِكُمْ مَا تَصِلُوْنَ بِهِ أَرْحَامَكُمْ ثُمَّ انْتَهُوا، وَتَعَلَّمُوْا مِنَ الْعَرَبِيَّةِ مَا تَعْرِفُوْنَ بِهِ كِتَابَ اللهِ ثُمَّ انْتَهُوا،
তোমরা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে পারো এই পরিমাণ বংশধারা সম্পর্কীয় ইলম অর্জন করে ক্ষান্ত হও। আল্লাহর কিতাব বুঝতে সক্ষম হও এই পরিমাণ আরবী ভাষার ইলম অর্জন করে বিরত হও। জলে-স্থলের অন্ধকারে পথ চলতে পারো এই পরিমাণ জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইলম অর্জন করে নিবৃত হও।
এই হাদীসের সনদে ইবনে লাহীয়া নামক রাবী আছে। (তিনি দুর্বল)
নুআইম ইবনে আবী হিন্দের বর্ণনায় এসেছে, উমর বলেছেন,
জলে-স্থলের অন্ধকারে পথ চলতে পারো এই পরিমাণ জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইলম অর্জন করে নিবৃত হও। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে পারো এই পরিমাণ বংশধারা সম্পর্কীয় ইলম অর্জন করো। যেসব মহিলাদের তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে ও যাদের তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে তাদের সম্পর্কেও ইলম অর্জন করো। অতঃপর ক্ষান্ত হও।
মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে মিসআর বর্ণনা করেছেন যে, উমর বলেছেন,
তোমরা জ্যোতির্বিদ্যার ততটুকু শেখো যার দ্বারা কেবলা ও রাস্তা চিনতে পারো।
ইবরাহীম নাখয়ী পথ খুঁজে পেতে সহায়ক হয় পরিমাণ জ্যোতির্বিদ্যা শেখার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা আছে বলে মনে করতেন না।
ইমাম আহমাদ ও ইসহাক চন্দ্রের কক্ষপথ সম্পর্কে ইলম অর্জন করা বৈধ হওয়ার মত পোষণ করতেন। ইসহাক আরও বলেছেন,
যেসব নক্ষত্রের মাধ্যমে পথ চিনতে সহজ হয় সেগুলোর নামের বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা যাবে।
তবে কাতাদাহ চন্দ্রের কক্ষপথ বিষয়ক জ্ঞান অর্জনকে অপছন্দ করতেন। আর ইবনে উআইনা এই বিষয়ে কোনো অনুমতিই দিতেন না। তাদের দুজন থেকে হারব এমনটি বর্ণনা করেছেন।
বিখ্যাত তাবেয়ী তাউস বলেছেন,
অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও সংখ্যাতত্ত্ববিদ এমন রয়েছে, আল্লাহর দরবারে যাদের কোনো দাম নাই।
হারব এটি বর্ণনা করেছেন। হুমাইদ ইবনে যানজুয়াহ এটি তাউসের সূত্রে সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
এই নিষেধাজ্ঞা ও নিন্দাবাদ জ্ঞাপনকে সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরা হবে, যেখানে এগুলোর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। আর যেখানে কেবলই পথ চলার সুবিধার্থে এই ইলম অর্জন করা হয় সেখানে একে নিন্দনীয় ধরা হবে না। কারণ, প্রথমটা বিশ্বাস করা হারাম। এই বিষয়ে মারফু হাদীসও বর্ণিত হয়েছে। রাসূল ইরশাদ করেছেন,
مَنْ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ النُّجُوْمِ فَقَدِ اقْتَبَسَ شُعبةً مِن السِّحْرِ
যে ব্যাক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কোনো অংশের জ্ঞান অর্জন করল সে মূলত জাদুবিদ্যারই একটা অংশ শিখল।
ইবনে আব্বাস এর সূত্রে আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদ সাহাবী কুবাইসা এর সূত্রে আরেকটি মারফু হাদীস উল্লেখ করেছেন। তা হলো,
العَافِيَةُ والطَّيَرَةُ والطرق مِنَ الْجِبْتِ والْعَافِيَة زجر الطير والطرق: الخط في الطريق
পাখির সাহায্যে কোনো কিছুর ভালো-মন্দ নির্ণয় করা, কোনো কিছুকে অশুভ লক্ষণ ভাবা এবং মাটিতে রেখা টেনে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা কুফুরি।
'আত-তারক' হচ্ছে মাটিতে রেখা টানা। আর 'ইয়াফা' অর্থ হচ্ছে, কঙ্কর নিক্ষেপকরে শুভ-অশুভনির্ণয়করা।
সুতরাং নক্ষত্রের প্রভাব বিষয়ক জ্ঞান অর্জন হারাম ও বাতিল। এবং এই অনুযায়ী আমল করা, যেমন: নক্ষত্রের নৈকট্য অর্জন করার চেষ্টা করা ইত্যাদি হলো কুফুরী। পারতপক্ষে যে জ্ঞান অর্জন করা হয় পথ খুঁজে পাওয়া, কেবলা চেনা ও ঠিকঠাক রাস্তায় চলার জন্য, সেটা প্রয়োজন অনুপাতে শেখা হলে তখন তা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে বৈধ। এর অতিরিক্ত শেখার তেমন কোনো দরকার নেই। এটি এরচেয়েও আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে মানুষকে বিমুখ করে দেয়।

টিকাঃ
[১] আল-জামি, ইবনু ওয়াহব: ৩১
[২] জামিউ বয়ানিল ইলম, ইবনে আবদুল বার, ২/২৩
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ২৮৮৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৫৪
[২] সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং: ১৯৭৯
[৩] শুয়াবুল ঈমান, বাইহাকী, হাদিস নং: ১৭২৩
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৩৯০৫
[২] সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৩৯০৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00