📘 সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব > 📄 ইলমের শ্রেণিবিভাগ

📄 ইলমের শ্রেণিবিভাগ


কখনো আল্লাহ তাআলা তার কিতাবে ইলমকে প্রশংসনীয় ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। এটি হলো উপকারী ইলম। আবার কখনো নিন্দনীয় ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। এটি হলো অনুপকারী ইলম। উপকারী ইলমবিষয়ক আয়াতসমূহ পবিত্র কুরানে আল্লাহ তাআলা উপকারী ইলমকে বিভিন্ন আয়াতে কারিমায় তুলে ধরেছেন। নিচে সেগুলো উপস্থাপিত হলো।
প্রথম আয়াত:
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ
বলুন, যাদের ইলম আছে আর যাদের ইলম নেই তারা কি সমান।
দ্বিতীয় আয়াত:
شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ
আল্লাহ তাআলা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। ফেরেশতারা এবং ইলমের অধিকারী ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গও সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
তৃতীয় আয়াত:
وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
বলুন, হে আমার রব, আমার ইলম বাড়িয়ে দাও।
চতুর্থ আয়াত:
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
আল্লাহর বান্দাদের মধ্য হতে কেবল ইলমের অধিকারী ব্যক্তিরাই আল্লাহকে ভয় করে।
পঞ্চম আয়াত:
যেখানে আদম আলাইহিস সালামের ঘটনা আল্লাহ তাআলা কুরআনে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে সব ধরনের নামসমূহ শিক্ষা দিয়ে সেগুলো যখন ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করা হলো তখন তারা বলেছিল,
سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
আপনি তো মহান! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন এর বাইরে আমাদের কোনো ইলম নেই। নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
পঞ্চম আয়াত:
যেখানে আল্লাহ তাআলা মুসা আ. এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। মুসা আ. খিযির আ.কে উদ্দেশ করে বলেছিলেন,
هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا
আমি কি আপনার অনুসরণ করব এই শর্তে যে, আপনাকে যে সঠিক পথের ইলম দেওয়া হয়েছে তা থেকে আপনি আমাকে শিক্ষা দেবেন?

টিকাঃ
[১] সূরা যুমার (৩৯): ৯
[২] সূরা আল ইমরান (০৩): ১৮
[৩] সূরা ত্বহা (২০): ১১৮
[১] সূরা ফাতির (৩৫): ২৮
[২] সূরা বাকারা (০২): ৩২
[৩] সূরা কাহাফ (১৮): ৬৬

📘 সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব > 📄 অনুপকারী ইলম

📄 অনুপকারী ইলম


অনেক এমন লোকের কথাও জানা যায়, যাদের ইলম প্রদান করা হলেও সে ইলম তাদের কোনো উপকারে আসেনি। এ-জাতীয় ইলম যদিও প্রকৃতপক্ষে উপকারী, কিন্তু যাকে তা দেওয়া হয়েছে সে উপকৃত হতে পারেনি। কুরআনে এর বেশ কয়েকটি উদাহরণ রয়েছে।
প্রথম আয়াত:
مَثَلُ الَّذِينَ حُمِلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَل الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
যাদের তাওরাত দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করেনি, তারা সেই গাধার ন্যায়, যে পুস্তক বহন করে। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাঁদের দৃষ্টান্ত কতই-না নিকৃষ্ট! আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।
দ্বিতীয় আয়াত:
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ - وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِمَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ
আর আপনি তাঁদের শুনিয়ে দিন সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম। অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে। আর তার পেছনে লেগেছে শয়তান। ফলে সে পথভ্রদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। অবশ্য আমি চাইলে সে সকল নিদর্শনের বদৌলতে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু সে তো অধঃপতিত ও আপন রিপুর অনুগামী হয়ে পড়ে রইল।
তৃতীয় আয়াত:
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَذَا الْأَدْنَى وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِنْ يَأْتِهِمْ عَرَضٌ مِثْلُهُ يَأْخُذُوهُ
অতঃপর তাঁদের পরে এসেছে এমন কিছু অপদার্থ, যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে। তারা নিকৃ পার্থিব উপকরণ আহরণ করছে এবং বলছে, আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। বস্তুত এমন ধরনের উপকরণ যদি আবারও তাঁদের সামনে উপস্থিত হয় তবে তারা তাও তুলে নেবে।
চতুর্থ আয়াত:
وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ
আল্লাহ তাআলা তাকে ইলম থাকা সত্ত্বেও পথভ্র করেছেন।
অবশ্য এটা তখন এই বিষয়ের উদাহরণ হবে যখন ইলম দ্বারা পথভ্রষ্ট ব্যক্তির ইলম উদ্দেশ্য নেওয়া হবে। (আর যদি আল্লাহর ইলম উদ্দেশ্য হয় তখন আর আলোচ্য বিষয়ের উদাহরণ হবে না। কারণ, তখন অর্থ হবে, আল্লাহ তাআলা তাকে জেনেশুনে পথভ্রষ্ট করেছেন।

টিকাঃ
[১] সূরা জুমুআ (৬২): ৫
[১] সুরা আ'রাফ (০৭): ১৭৫-৭৬
[২] সূরা আরাফ (০৭): ১৬৯
[৩] সূরা জাসিয়া (৪৫): ২৩

📘 সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব > 📄 নিন্দনীয় ইলম

📄 নিন্দনীয় ইলম


আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের যেসব আয়াতে নিন্দনীয় ইলমের উল্লেখ করেছেন সেগুলো নিচে প্রদত্ত হলো।
প্রথম আয়াত:
وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ
তারা এমন ইলম অর্জন করে যা তাঁদের ক্ষতি বৈ উপকার করে না। তারা ভালো করে জানে, নিশ্চয়ই যারা জাদু অবলম্বন করে আখেরাতে তাদের কোনো অংশ নেই।
দ্বিতীয় আয়াত:
فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوا بِمَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
তাদের কাছে যখন তাদের রাসূলগণ স্প প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিল, তখন তারা নিজেদের ইলমের দম্ভ প্রকাশ করেছিল। তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছিল, তাই তাদের গ্রাস করে নিয়েছিল।
তৃতীয় আয়াত:
يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ
দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক বিষয়ের ইলম তাদের রয়েছে। অথচ আখেরাত সম্পর্কে তারা উদাসীন।

টিকাঃ
[১] সূরা বাকারা (০২): ১০২
[২] সূরা মুমিন (৪০): ৮৩
[৩] সূরা রুম (৩০): ৭

📘 সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব > 📄 হাদীসের আলোকে ইলমের শ্রেণিবিভাগ

📄 হাদীসের আলোকে ইলমের শ্রেণিবিভাগ


হাদীস শরীফেও ইলমকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উপকারী ও অনুপকারী। আল্লাহ তাআলা আমাদের অনুপকারী ইলম থেকে রক্ষা করুন এবং উপকারী ইলম দান করুন।
সহীহ মুসলিমে সাহাবী যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল বলতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُبِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعْ، وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعْ، وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعْ، وَ مِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অনুপকারী ইলম, অবিনত অন্তর, অপরিতৃপ্ত আত্মা এবং অগ্রহণযোগ্য দোআ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
সুনানের চারও ইমাম তাদের গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। যার কোনোটাতে আছে, এমন দোআ থেকে, যা শোনা হয় না। কোনো বর্ণনায় আছে, তোমার থেকে এই চারোটি বিষয় থেকে পানাহ চাই।
ইমাম নাসায়ী জাবের থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ বলতেন,
اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَ أَعُوْذُبِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী ইলম প্রার্থনা করছি। এবং অনুপকারী ইলম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
ইবনে মাজাহ যে শব্দে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন সেখানে আছে, রাসূল ইরশাদ করেছেন,
اسَلُوْا اللهَ عِلْمًا نَافِعًا وَ تَعَوَذُوْا بِاللَّهِ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ
আল্লাহর কাছে উপকারী ইলমের প্রার্থনা করো। এবং অপকারী ইলম থেকে পানাহ চাও।
ইমাম তিরমিজী আবু হুরাইরা এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসূল বলতেন,
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا
হে আল্লাহ, তুমি আমাকে তোমার প্রদত্ত ইলম দ্বারা উপকৃত করো, আমাকে উপকারকারী ইলম শিক্ষা দাও এবং আমার ইলম বৃদ্ধি করো।
ইমাম নাসায়ী আনাস থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল এভাবে দুআ করতেন,
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَارْزُقْنِي عِلْمًا تَنْفَعُنِي بِهِ
হে আল্লাহ, তুমি আমাকে তোমার প্রদত্ত ইলম দ্বারা উপকৃত করো, আমাকে উপকারকারী ইলম শিক্ষা দাও এবং উপকারী ইলম প্রদান করো।
আবু নুয়াইম আনাস থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল বলতেন,
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْئَلُكَ إِيْمَانًا دَائِمًا، فَرُبَّ إِيْمَانٍ غَيْرُ دَائِمٍ، وَأَسْئَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، فَرُبَّ عِلْمٍ غَيْرُ نَافِعٍ
হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে স্থায়ী ঈমান প্রার্থনা করছি। (কারণ,) অনেক ঈমান অস্থায়ী। এবং আপনার কাছে উপকারী ইলম প্রার্থনা করছি। (কারণ,) অনেক ইলম অনুপকারী।
ইমাম আবু দাউদ সাহাবী বুরাইদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন,
إِنَّ مِنَ البَيَانِ سِحْرًا، وَإِنَّ مِنَ الْعِلْمِ جَهْلًا
| নিশ্চয় কিছু কথা জাদু আর কিছু ইলম অজ্ঞতা
ইবনে সওহান 'কিছু ইলম অজ্ঞতা' এই কথার ব্যাখ্যায় বলেছেন,
এর মানে হলো, কোনো আলেমের একটা বিষয়ে ইলম না থাকা সত্ত্বেও তা জানার ভান করা। ফলে সেই বিষয়টা তার অজানাই থেকে যায়।
এর অন্য আরেকটি ব্যাখ্যা করা হয়। তা হলো, যে ইলম উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি করে তা একধরনের অজ্ঞতাই। কারণ, এমন ইলম থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। তাই এই দিক বিবেচনায় এটি সাধারণ অজ্ঞতার চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট। এর উদাহরণ হলো জাদু। যা দ্বীন-দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ইলম।

টিকাঃ
[১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭২২
[২] লেখক ইমাম নাসায়ী এর কথা বললেও হাদীসটি ঠিক এই শব্দে তাঁর কিতাবে নেই; বরং হুবহু এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে। হাদীস নং: ৮২।
[১] সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৪৩
[২] হাদীস নং: ৩৫৯৯
[৩] সুনানে কুবরা, হাদীস নং: ৭৮১৯
[৪] হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৬/১৭৯
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫০১২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00