📘 সালাফের দরবারবিমুখতা > 📄 আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের দরবারবিমুখতা

📄 আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের দরবারবিমুখতা


'আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ৩৫ র. বলেন, 'তোমরা 'ইলম অর্জন করো। অতঃপর ওটা ছড়িয়ে দাও। কেননা, 'ইলমের মাধ্যমেই তোমরা নিয়ামতের মূল্য বুঝবে। আর যখন নিয়ামতের মূল্য বুঝবে, তখন শুকরিয়া আদায় করবে। আর যখন শুকরিয়া আদায় করবে, তখন নিয়ামত আরও বাড়বে। আর মনে মনে শক্ত করে এই পণ করো—যুহদের তালা দিয়ে তোমরা প্রবৃত্তির দরজা বন্ধ করে দেবে। বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা বিতরণ করবে। কারণ, প্রকৃত বন্ধুত্বের বড়ই অভাব। শত্রুতা—সে তো সবখানে বিদ্যমান।'

ইবনু মুবারক র. বলেন, 'একদিন একজন খোদাভীরু বুযুর্গ ব্যক্তি জনৈক কাযীর দরবারে গেলেন। দরবারে তখন কাযীর সামনে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত আসামীদের পেশ করা হচ্ছিলো। যখনই কাযী কারও ব্যাপারে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিচ্ছিলেন, বুযুর্গ তার ব্যাপারে সুপারিশ করছিলেন। এভাবে পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেলো। তখন বুযুর্গ সুপারিশ করতে লজ্জা পেলেন। সপ্তম ব্যক্তির ব্যাপারেও কাযী মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেন এবং সে-আদেশ কার্যকর হলো। অতঃপর কাযী বুযুর্গকে লক্ষ করে বললেন, 'আপনি জানেন, আমি কেন তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি?' বুযুর্গ বললেন, 'না।' আমীর বললেন, 'তার ব্যাপারে রায় ঘোষণার সময় আপনি নীরব ছিলেন। কিছুই বলেননি। তাই আমি ভাবলাম, হয়তো সে আপনার সঙ্গে বড় কোনো অন্যায় করে থাকবে। সে-কারণে মৃত্যুদণ্ড দিলাম।'

ইবনু মুবারক র. বলেন, 'এ-কথা শোনার পরে বুযুর্গ মাথায় হাত দিলেন। বলতে লাগলেন—'আফসোস, তাদের সামনে চুপ থাকাও ক্ষতিকর। তা হলে কথা বলা কতটা ভয়ংকর! আল্লাহকে সাক্ষ্য রেখে বলছি, আজ থেকে আর কোনো দিন তাদের দরবারে আসবো না।'

সাকান ইবনু হাকীম মাররূযী একবার হাজ্জের সংকল্প করলেন। বের হওয়ার আগে 'আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক র.-এর কাছে গিয়ে বললেন, 'অমুক (শাসক) বরাবর আমার জন্য একখানা সুপারিশপত্র লিখে দিন।' ইবনু মুবারক বললেন, 'তার বরাবর নয়, সুফিয়ান সাওরী বরাবর একখানা পত্র লিখে দিচ্ছি।' পত্র নিয়ে সুফিয়ান সাওরী র.-এর কাছে গেলে সাকান তার কাছ থেকে অনেক উপকৃত হন।

ফেরার সময় সুফিয়ান সাওরীর কাছে বিদায় নিতে গেলে তিনি বলেন, 'আবূ 'আবদুর রহমানকে (অর্থাৎ ইবনু মুবারককে) আমার সালাম বলবে। আর তাকে এই ওসীয়তনামাটা দেবে।' সাকান ইবনু মুবারকের কাছে যথারীতি ওসীয়তনামাটা পৌঁছে দিলেন। সুফিয়ান র.-এর মৃত্যুর পরে ইবনু মুবারক র. সাকানকে ডেকে বললেন, 'ওসীয়তনামায় কী লেখা ছিলো, জানো?' সাকান বললেন, 'না।' ইবনু মুবারক আঙুলের ইশারা দিয়ে বললেন, 'তাদের ধারে-কাছেও যেয়ো না।' ৩৫

দাউদ ইবনু রুশাইদ বলেন, "আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক র. রাজদরবারে গমন নিয়ে কিছু পঙ্ক্তি রচনা করেন-
خُذْ منَ الجَارُوشِ والأرْزِ وَالخُبْز والشعير
واجْعَلنْ ذاكَ حَلالاً تنجُ مِنْ حرِ السَّعِيرِ
وانا ما اسْتَطَعْت هَذا ك الله عن دار الأمير
لا تَزُرْها واجتنبها إنها شرّ مَزُور
تُوهِّنُ الدِّين وَتَد نيك من الحوب الكبير

চাল-ডাল যা পাও, সেটা খেয়েই বেঁচে থাকো। হালালভাবে এগুলো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারলেও পরকালের আগুন থেকে বাঁচতে পারবে। কিন্তু কখনোই রাজদরবারে যেয়ো না। সেখান থেকে সাধ্যমতো দূরে থাকো। কারণ, এর চেয়ে নিকৃষ্ট দর্শনস্থল আর নেই। এটা তোমার দ্বীনকে শেষ করে দেবে। তোমাকে নিয়ে যাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

সালামা ইবনু সুলাইমান মারওয়াযী "আবদুল্লাহ'র কিতাব পড়ছিলেন। লোকেরা বললো-'শুধু 'আবদুল্লাহ না-বলে 'আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (পুরো নাম) বলুন।' তিনি বললেন, 'মাক্কতে যখন 'আবদুল্লাহ বলা হয়, তখন তিনি ইবনু 'আব্বাস।' মাদীনাতে যখন 'আবদুল্লাহ বলা হয়, তখন তিনি ইবনু 'উমার। কুফাতে যখন 'আবদুল্লাহ বলা হয়, তখন তিনি ইবনু মাসউদ। আর খোরাসানে যখন 'আবদুল্লাহ বলা হয়, তখন তিনি ইবনুল মুবারক।'

সুফিয়ান সাওরী র. বলতেন-'আমি পূর্ণ একটি বছর 'আবদুল্লাহ ইবনু মুবারকের মতো জীবন যাপনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি!' ৩৬

নু'আইম ইবনু হাম্মাদ বলেন, 'আমি 'আবদুর রহমান ইবনু মাহদীকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'সুফিয়ান সাওরী আর 'আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের মাঝে আপনার কাছে কে উত্তম?' তিনি বললেন, 'ইবনুল মুবারক।' আমি বললাম, 'মানুষ তো আপনার বিপরীত কথা বলে।' তিনি বললেন, 'মানুষ নিশ্চিত হয়ে দেখেনি।' এই কথা পরে আমি বিশর ইবনুল হারেসকে বললাম। তিনি বললেন, 'আপনার কিতাব থেকে এটা মুছে ফেলুন।'

মাররূযী বলেন, 'আমি ইমাম আহমাদকে বলতে শুনেছি-খোরাসানে 'আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের মতো আর কারও জন্ম হয়নি।'

তিনি আরও বলেন, 'তাকওয়ার কারণেই আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বুলন্দ করেছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'আবূ তুমাইলা ইবনুল মুবারকের শানে এই পঙ্ক্তি পাঠ করতেন:
كنت فخرا لمرو إذ كنت فيها
ثم صارت كسائر البلدان

আপনি যত দিন মারও-তে ছিলেন, তত দিন আপনি ছিলেন তার গর্ব। এরপর সেটা অন্যান্য শহরের মতোই হয়ে গেছে।

হাসান ইবনু 'ঈসা বলেন, 'আমি কুফাতে ইবনুল মুবারক র.-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। এমন সময় সেখানে একজন বৃদ্ধ লোক এলেন। তার গায়ে ছিলো দামি পোশাক। চোখে-মুখে আভিজাত্যের ছাপ। সঙ্গে ছিলো একটি তুর্কি ঘোড়া। লোকটি ইবনুল মুবারকের কাছে এসে তার সঙ্গে অনেক সময় ধরে উসমান ইবনুল আসওয়াদের হাদীস নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করলেন। আমি ভাবলাম-তিনি ওটা উসমান থেকে শুনে থাকবেন। কারণ, তিনি বয়সে ইবনুল মুবারকের সমবয়সী কিংবা তার চেয়ে বড় ছিলেন।

অতঃপর তিনি ইবনুল মুবারককে লক্ষ করে বললেন, 'আবূ 'আবদুর রহমান, আল্লাহ জানেন, আপনার এই অবস্থার কারণেই আমি আপনাকে মুহাব্বত করি।' এরপর তিনি আরও বললেন, 'আপনাকে মুহাব্বতের যদি কোনো কারণই না থাকতো, তবুও শাসকগোষ্ঠী থেকে দূরে থাকার কারণে আপনাকে আমি মুহাব্বত করতাম।'

ইবনুল মুবারক প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বললেন, 'ঘোড়াটি আমার ভালো লাগেনি।' লোকটি বললেন, 'আমি মাত্রই আমীরুল মুমিনীনের আস্তাবল-তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে এলাম। এটা দেখে তিনি আমাকে দুই হাজার দিরহাম দিয়েছেন।' তখন ইবনুল মুবারক মাথা নিচু করে চুপ রইলেন। কোনো কথা বললেন না। একপর্যায়ে লোকটি চলে গেলো। তখন তিনি আমাকে বললেন, 'তোমার আশ্চর্য লাগে না, তাকে দেখে! আমি শাসক থেকে দূরে থাকি বিধায় সে নাকি আমাকে মুহাব্বত করে। অথচ সে এখন তাদের দরবার থেকেই এসেছে!'

ইসমা'ঈল ইবনু আবুল 'আব্বাস বর্ণনা করেন, 'আমি কুফাতে ইবনুল মুবারক ر.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, 'আরবরা যখন খোরাসানে আসতে শুরু করে, প্রথমে তারা সেখানকার ধনী ও সম্ভ্রান্ত লোকদের কাছে (তাদের বাড়ি ও জায়গাতে) থাকে। পরে ধীরে ধীরে তারা তাদের ধন-সম্পদ, জায়গা-জমি দখল করে নেয়। যুক্তি দিয়ে বলে, এগুলো আমাদের অর্জন। পরে তাদের মধ্যে কেউ কেউ খোরাসানীদেরকে এক তৃতীয়াংশ সম্পদ ফিরিয়ে দেয়। বাকি সম্পদ আরবদের হাতেই থেকে যায়। একপর্যায়ে আবূ মুসলিম খোরাসানী আসে এবং আরবদেরকে হত্যা করে তাদের সেই সম্পদ নিয়ে নেয়। সে-সব সম্পদের ভাগ এমন কিছু মানুষের হাতে আসে, যারা সেটা ফিরিয়ে দিতে চায়। কিন্তু কাদেরকে দেবে—আরবদেরকে দেবে, যাদের হাত থেকে আবূ মুসলিম নিয়েছিলো? নাকি খোরাসানীদেরকে দেবে, যাদের হাত থেকে আরবরা নিয়েছিলো?' ইবুনল মুবারক আমার প্রশ্ন শুনে বললেন, 'এ-প্রশ্ন কুফার কাউকে করেছো?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, শারীক ইবনু 'আবদুল্লাহকে করেছি।' তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'শারীক কী বলেছে?' আমি বললাম, 'তিনি বলেছেন, সেগুলো খোরাসানীদেরকে ফিরিয়ে দেবে, যাদের থেকে আরবরা ছিনিয়ে নিয়েছিলো।' তখন ইবনুল মুবারক চুপ থাকলেন। কিছু দিন পরে দেখা হলে আমাকে বললেন, 'আবুল 'আব্বাস, শারীক তোমাকে যে-ফাতওয়া দিয়েছেন, আমারও সেটাই সঠিক মনে হয়।'

টিকাঃ
৩৫. প্রথম সারির তাবি'অ-তাবি'ঈন ইমাম 'আবদুল্লাহ ইবন মুবারক র. (১১৮-১৮১ হি.)। বড় বড় তাবি'ঈদের কাছে 'ইলম অর্জন করেন। ইমাম আ'যম আবু হানিফা র.-এর কাছে 'ইলম ও 'আমাল শেখেন। ইমাম আ'যমের ব্যাপারে তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা রয়েছে। তার অন্য কয়েজন উল্লেখযোগ্য শাইখ হচ্ছেন—হিশাম ইবনু 'উরওয়া, আ'মাশ, সুলাইমান আত-তাইমী, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আনসারী। তার কয়েকজন শাগরিদ হচ্ছেন মা'মার ইবনু রাশিদ, ইয়াহইয়া আল- কান্ডান, ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন, 'ইসহাক ইবনু রাহওয়াইহ। ইবনু মুবারকের উল্লেখযোগ্য একটি কিতাব—আয-যুহদ।
৩৬. যাহাবীর সিয়ার ৮/৩৮৯

📘 সালাফের দরবারবিমুখতা > 📄 আহমাদ ইবনু হাম্বল র. এর দরবারবিমুখতা

📄 আহমাদ ইবনু হাম্বল র. এর দরবারবিমুখতা


ইমাম আবূ বাকর মাররূযী র. বলেন: আমরা (সামাররা) শিবিরে ছিলাম। তখন ইসহাক ইবনু হাম্বল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল র.-কে খলীফার দরবারে গমনের জন্য অনুরোধ করছিলেন। তিনি বলছিলেন, 'আপনি গিয়ে খলীফাকে আদেশ-উপদেশ দিলে তিনি আপনার কথা শুনবেন, আশা করি। কারণ, ইসহাক ইবনু রাহওয়াইহ ৩৭ ও তো খোরাসানের শাসক ইবনু তাহিরের দরবারে যান। তাকে আদেশ-উপদেশ দেন।' ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল র. জবাবে বলেন, 'ইসহাককে দিয়ে আমার সামনে যুক্তি দিচ্ছো? কিন্তু আমি তো তার কাজে সন্তুষ্ট নই। আমাকে দেখার মাঝে তার কোনো কল্যাণ নেই। তাকে দেখার মাঝেও আমার কোনো কল্যাণ নেই।'

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল র. বলতেন, 'খলীফার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে গেলে তাকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা আবশ্যক (কিন্তু সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার জন্য শাসকের দরবারে যাওয়া আবশ্যক নয়)।'

'আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক র.-এর ভাগিনা ইসমাঈল ইমাম আহমাদ র.-কে খলীফার দরবারে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন যুক্তি পেশ করলেন। তিনি প্রতিউত্তরে বললেন, 'তোমার মামা ('আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক) বলতেন, খলীফাদের ধারে-কাছেও যেয়ো না। যদি একান্তই যেতে হয়, তবে তাদের সঙ্গে সত্য কথা বলো। আমার আশঙ্কা, যদি আমি তাদের কাছে যাই, তবে সত্য বলতে পারবো না!' ৩৮

আহমাদ ইবনু হাম্বল র. বলেন, 'শাসকের কাছে যাওয়া ফিতনা। তাদের সঙ্গে ওঠাবসা করা ফিতনা। আমরা দূরে থেকেও নিজেদেরকে নিরাপদ ভাবতে পারছি না। কাছে গেলে কী হবে!'

ইবরাহীম ইবনু শাম্মাস বলেন, 'আমরা 'আবদুর রহমান ইবনু মাহদীর কাছে ছিলাম। এমন সময় আহমাদ র. আগমন করলেন। ইবনু মাহদী তার দিকে ইশারা করে বললেন-যে-ব্যক্তি সুফিয়ান সাওরীর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান (তার মতো কাউকে) দেখতে চায়, তবে সে যেন ইনার দিকে তাকায়।'৩৯

মাররূযী বলেন, 'আমি ইমাম আহমাদ র.-কে বলতে শুনেছি- 'যদি কুফার কোনো ব্যক্তিকে হাদীসে বিশেষজ্ঞ ও দরিদ্র জীবন-যাপন করতে দ্যাখো, তবে ভেবে নিয়ো, সে শ্রেষ্ঠ মানুষ।' এরপর তিনি বললেন, 'তারা আসহাবে কুরআন।'

মাররূযী বলেন, 'আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলকে বললাম, 'এক (ক্ষমতাশালী) লোক জবরদখল করা একটি বাড়ি আমার বাবাকে দিয়েছে। ওটা কি আমি ওয়াকফ করে দেবো?' তিনি বললেন, 'না। যার বাড়ি তাকে ফেরত দাও।' ৪০

মাররূযী বলেন, 'আমি ইমাম আহমাদ র.-কে বললাম, 'কারও যদি জায়গাজমি থাকে, সরকারি কর-উসুলকারী ব্যক্তি এলে তাকে আপ্যায়ন করা যাবে কি?' তিনি বললেন, 'যদি যুলুমের ভয় থাকে, তবে যাবে।' আমি জানতে চাইলাম, 'এটা কি ঘুষের ভেতরে পড়বে না?' তিনি বললেন, 'যদি যুলুম প্রতিহত করতে করা হয়, তবে সমস্যা নেই।'

ইমাম আহমাদ র.-কে জিজ্ঞাসা করা হলো— 'কাযী সাওয়ারের মতো ব্যক্তিকে 'আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন'—এই কথা বলা যাবে কি?' তিনি বললেন, 'আল্লাহ তাকে সংশোধন করলে তোমার আমার ক্ষতি কী?'

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল র. বলতেন—'যদি আমি খলীফার দরবারে যেতাম, তবে মুহাজির ও আনসারদের পরিবার-পরিজনের আগে অন্য কোনো প্রসঙ্গ তুলতাম না।'

যুহাইর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, 'আমি ইমাম আহমাদকে (নির্যাতন পরবর্তী সময়ে) নৌকা থেকে বের হওয়ার পরে সর্বপ্রথম স্বাগত জানিয়েছি। তাঁর গায়ে তখন (খলীফাপ্রদত্ত) পোশাকটা ছিলো। সেটা পড়ে গেলো। তিনি সেটা টানতে লাগলেন। ওটা ছাড়া আর কিছুই তাঁর গায়ে ছিলো না।'

একবার (খলীফা মুতাওয়াককিলের) গভর্নর ইয়াহইয়া ইবনু খাকান ইমাম আহমাদ র.-এর কাছে এলেন। তার সঙ্গে সামান্য কিছু জিনিস ছিলো। ইমাম আহমাদের সেগুলোকে খুব কম মনে হলো। তখন আমি তাকে বললাম, 'মানুষ বলে, এগুলোর দাম এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা।' তিনি বললেন, 'তাই?' এরপর তিনি সেগুলো ইয়াহইয়ার হাতে তুলে দিলেন। ইয়াহইয়া দরজা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, 'যদি আপনার কাছে আপনার সঙ্গী-সাথিদের জন্য কিছু আসে, আপনি সেটা গ্রহণ করবেন?' তিনি বললেন, 'না।' ইয়াহইয়া বললেন, 'ঠিক আছে, আমি এ-সব কথা খলীফাকে জানাবো।'

ইমাম মাররূযী র. বলেন, 'আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলকে বললাম, 'আপনি ওগুলো গ্রহণ করে বণ্টন করে দিলে কী হতো?' তখন তার চেহারা মলিন হয়ে গেলো। তিনি বললেন, 'আমি কেন সেগুলো বণ্টন করবো? আমি কি বাদশার-উযির!'

খলীফার দূত ইয়াকুব ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল র.-এর কাছে এসে বললেন, 'আমার পুত্র আপনার কাছে মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে আসবে, আপনি তাকে এক-দুটো হাদীস বর্ণনা করবেন।' তিনি বললেন, 'না, সে আসবে না।' ইয়াকুব বেরিয়ে যাওয়ার পরে ইমাম বললেন, 'তার নাক তো আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তাকে কীসের হাদীস বর্ণনা করবো! আমি হাদীস বর্ণনা করে আমার গলায় রশি পরাবো?'

টিকাঃ
৩৭. খোরাসানের হাফিযে হাদীস ইমাম ইসহাক ইবনু রাহওয়াইহ (১৬১-২৩৮ হি.)। ফুযাইল ইবনু 'ইয়ায, সুফিয়ান ইবনু 'উয়াইনা, 'আবদুর রহমান ইবনু মাহদী প্রমুখের মতো মনীষীর কাছ থেকে 'ইলম অর্জন করেন। বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসা'ঈ প্রমুখ ইমামের উসতায! দুনিয়াবিরাগতা, খোদাভীতি ও পরহেযগারিতার ক্ষেত্রে তার জুড়ি ছিলো না।
৩৮. এটি তিনি বিনয়ের কারণে এবং শাসকের দরবারে না-যাওয়ার জন্য বলেছেন; নতুবা শাসকের সামনে সত্য উচ্চারণে, হকের ঝাণ্ডা বুলন্দ রাখার জন্য শাসকের অমানবিক দমন-পীড়ন সহ্য করার ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ র. হলেন মুসলিম-উম্মাহর চির আদর্শপুরুষ।
৩৯. মুসলিম-উম্মাহর বিখ্যাত ইমাম ও মুহাদ্দিস। একটি অতি সাধারণ ঘর থেকে ও সাধারণ একজন মানুষের ঔরসে জন্ম নিয়ে তিনি পরবর্তীতে আহলুস সুন্নাহর ইমাম হয়ে গেছেন। তার প্রসিদ্ধ শাইখদের মাঝে একজন হলেন ইমাম সফিয়ান সাওরী। 'ইবাদাত ও যুহদের ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ছিলেন। ১৯৮ হিজরীতে ওফাত পান।
৪০. কারণ, সম্পদটি ছিলো হারাম পন্থায় অর্জিত। উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করলেও সেটা হারামই থাকবে।

📘 সালাফের দরবারবিমুখতা > 📄 তাউস ইবনু কাইসান র. এর দরবারবিমুখতা

📄 তাউস ইবনু কাইসান র. এর দরবারবিমুখতা


ইমাম তাউস ৪১ র.-এর ছেলে বর্ণনা করেন-'একবার আমি আমার পিতাকে বললাম, 'আপনারা সবাই একত্র হয়ে বাদশার দরবারে গিয়ে তাকে নসীহত করলে সমস্যা কী?' কয়েকদিন পরে আমরা এক জায়গাতে ছিলাম। হঠাৎ সেখানে গভর্নর সাহেব এসে উপস্থিত হলেন। তিনি আমাদের কক্ষে এলেন এবং সালাম দিলেন, কিন্তু আব্বাজান তার সঙ্গে কোনো কথা বললেন না। মাথা উঁচু করে তার দিকে তাকালেনও না। গভর্নর বের হয়ে গেলে আমি তার পেছনে পেছনে বের হলাম; বলতে লাগলাম- 'আব্বাজান আপনাকে চিনতে পারেননি।' তিনি জবাবে বললেন, 'তোমার আব্বাজান আমাকে চিনেছেন বলেই এমন আচরণ করেছেন।' এরপর আমি যখন আব্বাজানের কাছে ফিরে এলাম তিনি বললেন, 'বেটা, সে-দিন তুমি আমাকে কী বলেছিলে আর. আজকে নিজে কী করলে! নিজের জিহ্বাটাকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে না! সামনে পেয়ে তোষামোদি করলে!'

শাসকের প্রতি তাউস র. অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। কিন্তু একসময় তারা তাঁকে একটি দায়িত্ব দেয়। তিনি এটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করলেন। ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করতে লাগলেন। শাসক-সম্প্রদায় এটা জানতে পেরে তাকে সম্পদের হিসাব দিতে বললো। তিনি তাদেরকে একটি চিঠি ধরিয়ে দিলেন। তাতে লেখা ছিলো-'বণ্টন করে দিয়েছি।'

তাউস র. মাক্কা থেকে এলেন। তখন সেখানে নতুন একজন আমীর এলো। তাঊসের সঙ্গীগণ আমীরের ব্যাপারে তার কাছে অনেক প্রশংসা করে বললেন, 'যদি তাকে একটু দেখতে যেতেন!' তিনি বললেন, 'তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।' তারা বললেন, 'আপনার ব্যাপারে তার পক্ষ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা করছি।' তিনি বললেন, 'তা হলে এতক্ষণ তার ব্যাপারে তোমরা যা বলেছো, সে তো তেমন নয়!'

তাউস র. একটি 'ইলমী মজলিসে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় সেখানে খলীফা সুলাইমান ইবনু 'আবদিল মালিক এলেন; কিন্তু তিনি ভ্রুক্ষেপই করলেন না। দারস শেষ করে উঠে দাঁড়ালে তাকে বলা হলো-'আমীরুল মুমিনীন এসেছেন।' তিনি বললেন, 'আমি ইচ্ছা করেই এমন করেছি; যাতে সে বুঝতে পারে, আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে এমন লোক রয়েছে, যে তার দুনিয়ার দিকে ফিরেও তাকায় না।'

রজা ইবনু হাইওয়া একদিন মসজিদে ইমাম তাউস ইবনু কাইসান র.-কে দেখতে পেলেন। তাকে দেখে তিনি সোজা সুলাইমান ইবনু 'আবদিল মালিকের কাছে গেলেন। সুলাইমান তখন ভাবী-সম্রাট। রজা তাকে বললেন, 'তাউসকে মসজিদে দেখেছি। আপনি তাকে ডেকে পাঠাবেন?' সুলাইমান তাউসকে ডেকে পাঠালেন। তাউস এলে রজা সুলাইমানকে বললেন, 'তিনি কথা বলার আগ পর্যন্ত আপনি কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না।'

তাউস অনেক সময় বসে থাকলেন। এরপর নিজেই আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম কী সৃষ্টি করেছেন?' আমরা বললাম, 'জানি না।' তিনি বললেন, 'আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন।' অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমরা জানো, সবশেষে কার মৃত্যু হবে?' আমরা বললাম, 'না।' তিনি বললেন, 'সবশেষে মৃত্যুর মৃত্যু হবে।' অতঃপর তিনি বললেন, 'তোমরা জানো, আল্লাহর কাছে গোটা সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে ঘৃণিত কে?' আমরা বললাম, 'না।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কাছে তাঁর সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে ঘৃণিত হলো ঐ বান্দা, যাকে তিনি রাজত্ব দিয়েছেন; কিন্তু সে তা আল্লাহর অবাধ্যতায় ব্যবহার করে।' এরপর তিনি উঠে চলে গেলেন। রজা বলেন, 'তখন আমি লক্ষ করলাম, সুলাইমান তার হাত দিয়ে অনবরত মাথা চুলকাচ্ছিলেন। আমার ভয় হলো, নখের আঘাতে তার মাথা থেকে রক্ত বের হয় কি না।'

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল তাউস র.-এর ব্যাপারে আলোচনা-প্রসঙ্গে বললেন, 'তিনি তাদের (শাসকদের) বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। একবার তাউসের ছেলে তার নাম জাল করে 'উমার ইবনু আবদুল আযীয র.-এর কাছে একটি চিঠি পাঠালো। 'উমার র. তাকে তিনশো স্বর্ণমুদ্রা দিলেন। যখন তাউসের কাছে এই সংবাদ পৌঁছলো, তখন তিনি নিজের জমি বিক্রি করে 'উমার ইবনু আবদুল আযীযের কাছে অর্থ ফেরত পাঠালেন। পরে সেই ছেলের মুমুর্ষ অবস্থায় যখন তাকে ছেলেকে দেখতে যেতে বলা হলো, তিনি অস্বীকার করলেন।'

তাউস র. এক মেঘময় কনকনে শীতের সকালের নামায পড়ছিলেন। তার পাশ দিয়ে মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (অথবা) আইউব ইবনু ইয়াহইয়া দলবল নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাউস তখন সিজদায় ছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফের নির্দেশে তাউসের মাথার ওপর একটি শাল ছুড়ে মারা হলো। কিন্তু তিনি স্বাভাবিকভাবেই দু'আ শেষ করে সিজদা থেকে মাথা তুললেন। সালাম ফেরানোর পরে তাকিয়ে কাঁধের ওপর শাল দেখে ঝেড়ে ফেলে দিলেন। এরপর বাড়ির পথে পা বাড়ালেন। দ্বিতীয়বার সেটার দিকে তাকিয়ে দেখলেন না।

নু'মান (ইবনু আবী শাইবা) বর্ণনা করেন, 'তাউস র. মাঝেমাঝে লোকালয়ের বাইরে চলে যেতেন। সেখানে গিয়ে একাকী নামায পড়তেন। এমন এক মেঘময় দিনে তিনি বের হন। নামাযে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ সিজদায় পড়ে থাকেন। এমন সময় মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফের ভাই) সেখান থেকে তার দলবল নিয়ে যাচ্ছিলো। মুহাম্মাদ দেখলো, তিনি ঠাণ্ডায় কাঁপছেন। তখন সে তার ওপর একটি শাল ছুড়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি সিজদা থেকে মাথা উঠালেন না। পরে যখন মাথা উঠিয়ে, সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করলেন, শালটি দেখতে পেলেন। তিনি দাঁড়িয়ে সেটাকে শরীর থেকে ঝেড়ে ফেললেন। অতঃপর চলে গেলেন।

মুহাম্মাদের কাছে এই সংবাদ পৌঁছলে সে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয় এবং ইমামকে ডেকে পাঠায়। ইমাম সেখানে যাওয়ার পরে জিজ্ঞাসা করা হয়- 'আপনার (যাকাত-হিসাব করার) নথি কোথায়?' তিনি বললেন, 'কীসের নথি? আপনি কি আমাকে কর বা জিযয়া ওঠানোর জন্য পাঠিয়েছেন? আমি তো বরং বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে সেখানের ধনী লোকদের সাদাকাগুলো সংগ্রহ করতাম। এরপর গরিবদের মাঝে সেটা বিতরণ করতাম। আমার কাছে কোনো নথি বা সম্পদ নেই।' তখন মুহাম্মাদ তাকে জেলে বন্দি করে রাখলো এবং (তার ভাই) হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফকে চিঠি লিখে জানালো। হাজ্জাজ জবাবি চিঠিতে লিখলেন—'আহম্মক কোথাকার, তাউসকে চেনো না! তাকে তার পরিবারের কাছে যেতে দাও। তাদের সঙ্গে আগে সবাই যেভাবে আচরণ করেছে, সেভাবে আচরণ করো।'

নু'মান বলেন, তখন আমি জানতে পারলাম যে, তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সেখানকার অধিবাসীদেরকে সমবেত করে বলেন-'আল্লাহ তোমাদের রহম করুন। সাদাকা করো।' তখন একটা ফলকে সাদাকা বাবদ পাওয়া সম্পদগুলো লিখে রাখতেন। অতঃপর মিসকীনদেরকে ডেকে অন্য ফলকে তাদের মাঝে সম্পদ বিতরণের তথ্য লিখে রাখতেন। এভাবেই তিনি কারও কাছ থেকে গ্রহণ করতেন আর কারও কাছে বিতরণ করতেন। যখন কাজ শেষ হতো, ফলকটি মুছে নিজের গন্তব্যে যাত্রা শুরু করতেন।'

মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ ইয়ামানের গভর্নর ছিলেন। একবার তিনি তাউস ও ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহকে ডেকে পাঠালেন। তারা উভয়ে এলেন। সে-দিন ছিলো কনকনে শীতের দিন। মুহাম্মাদ তাউসের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁপছেন। ভাবলেন, শীতে কাঁপুনি এসেছে। তখন তাকে এক হাজার দিরহামের একটি মূল্যবান শাল প্রদানের নির্দেশ দিলেন। শালটি তার কাঁধে রাখা হলো। কিন্তু তিনি এমনভাবে কাঁপতে থাকলেন যে, একপর্যায়ে শালটি পড়ে গেলো। তখন মুহাম্মাদ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন। তারা দু'জনে বেরিয়ে এলেন। ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ তাকে বললেন, 'আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। শুধু শুধু তাকে রাগিয়ে লাভ কী? আপনি সেটা নিয়ে আসতেন, এরপর কাউকে সাদাকা করে দিতেন!' তাউস বললেন, 'এটা তখন সম্ভব হতো, যদি সব মানুষ আমার মাথা দিয়ে চিন্তা করতো। ঘটনার শুরু ও শেষ তাদের জানা থাকতো। শাসকের কাছ থেকে পুরস্কার নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ আমাকে আদর্শ মেনে অনুসরণ করবে। অথচ তাদের কেউ জানবে না, আমি ওটা গ্রহণ করে সাদাকা করে দিয়েছি।'

এক ব্যক্তি তাউসের কাছে কিছু চাইলো। ৪২ তিনি বললেন, 'তুমি কি আমার গলায় রশি দিয়ে ঘোরাতে চাও?'

ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ তাউস র.-কে বললেন, 'আবূ 'আবদুর রহমান, খুব বেশি কঠোরতা করে ফেলছেন।' তিনি ইবনু মুনাব্বিহকে বললেন, 'আর তুমি খুব বেশি উদার হয়ে যাচ্ছো!'

তাউস র.-এর ছেলে থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, 'আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। পিতার কাছে এসে বললাম, 'আমার সঙ্গে চলুন।' এরপর আমি গিয়ে জামাকাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করলাম। যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে পিতার কাছে এলাম। তিনি বললেন-যাবেন না।' ৪৩

তাউস র.-এর ছেলে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন—রাসূল বলেছেন, “এত দিন নবীগণ ছিলেন। এরপর আসবে আমীর-উমারা। তারা (দ্বীনের) কিছু মানবে আর কিছু ছাড়বে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা (পরকালে) মুক্তি পাবে। আর যাদের তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে, তারাও হয়তো নিরাপদে থাকবে। কিন্তু যারা তাদের সঙ্গে তাদের দুনিয়ায় মিশে যাবে, তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।” ৪৪

টিকাঃ
৪১. তিনি প্রথম সারির তাবি'ঈ তাউস ইবনু কাইসান র.। ইবনু 'আব্বাস -এর ঘনিষ্ঠ শাগরিদ। ইবনু 'আব্বাস ছাড়াও অন্যান্য প্রায় অর্ধশত সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তাদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। ইসলামের বড় বড় অনেক ইমাম তার শিষ্য। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য-মুজাহিদ, 'আতা, যুহরী, যাহহাক প্রমুখ। তিনি ছিলেন বড় মাপের দুনিয়াবিরাগ ব্যক্তিত্ব-ফলে শাসককে পাত্তা দিতেন না। নিজে তাদের দরবারে যেতেন না। তাদের কেউ এলে ভ্রুক্ষেপ করতেন না। উপরের ঘটনাগুলো এর স্পষ্ট প্রমাণ। (বিস্তারিত দেখুন-আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫/২৪৪; তাবাকাতে কুবরা ৫/ ৫৪০; সিফাতুস সাফওয়াহ ২/১৮৮)
৪২. খুব সম্ভব তাকে শাসকদের সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ করা হয়েছিলো।।
৪৩. পিতার আজ্ঞাবহ ছিলেন। রহিমাহুল্লাহ।
৪৪. জামি'উ মা'মার ইবনু রাশিদ (১১/৩২৯); মুসান্নাফে ইবনু আবী শাইবা (১৫/২৩৪)

📘 সালাফের দরবারবিমুখতা > 📄 কাযীর পদ গ্রহণ থেকে সালাফের দূরাবস্থান

📄 কাযীর পদ গ্রহণ থেকে সালাফের দূরাবস্থান


'ইমরান ইবনু হাত্তান বলেন, 'আমি আয়েশা-এর কাছে গিয়ে কাযীদের ব্যাপারে কথা বললাম। তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "কিয়ামতের দিন ন্যায় বিচারকদেরও এমন অবস্থা তৈরি হবে যে, সে সুরাইয়া-তারকায় ঝুলে থাকার কষ্ট সহ্য করতে রাজি হবে, কিন্তু দুই ব্যক্তির মাঝে একটি খেজুরের ব্যাপারে ফয়সালা দিতেও রাজি হবে না।”” ৪৫

লাইস ইবনু আবী সুলাইম সূত্রে আয়েশা থেকে বর্ণিত-নবীজী সা. ইরশাদ করেন, “কিয়ামতের দিন কাযীদের এমন অবস্থা তৈরি হবে যে, পৃথিবীতে দুইজনের মাঝে ফয়সালার পরিবর্তে যদি তারকার সঙ্গে ঝুলে থাকার প্রস্তাবও দেওয়া হতো, সেটাও গ্রহণ করে নিতো।” ৪৬

আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত-নবীজী সা. বলেছেন, "কিয়ামতের দিন এমন একটি সম্প্রদায় থাকবে, যারা কামনা করবে, যদি তাদের চুলের মুঠি ধরে সুরাইয়া-তারকার সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হতো আর তারা আসমান ও যমিনের মাঝে দুলতে থাকতো, তাও গ্রহণ করে নিতো-বিনিময়ে যদি পৃথিবীতে (শাসকের সঙ্গে) কোনো কাজে জড়িত না হতো।” ৪৯

মু'আয ইবনু জাবাল থেকে বর্ণিত-নবীজী সা. বলেছেন, “কাযী জাহান্নামের এমন একটি গহ্বরে পতিত হবে, যা (এখান থেকে) এডেন (ইয়ামান) থেকেও দূরে।" ৪৮

উসমান ইবনু 'উমার-কে বললেন, 'যাও, গিয়ে মানুষের মাঝে বিচারকার্য করো।' ইবনু 'উমার বললেন, 'আমীরুল মুমিনীন, আমাকে অব্যাহতি দিন।' উসমান বললেন, 'না, তোমাকে করতেই হবে।' ইবনু 'উমার বললেন, 'আমার ওপর এত দ্রুত ফয়সালা দেবেন না। আপনি কি আল্লাহর নবীকে বলতে শোনেননি- “যে-ব্যক্তি আল্লাহর আশ্রয় নিলো, সে সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিলো-?” তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, শুনেছি।' ইবনু 'উমার বললেন, 'আমি কাযী হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।' উসমান বললেন, 'কেন কাযী হতে চাচ্ছো না? তোমার পিতাও তো ('উমার) মানুষের মাঝে ফয়সালা করতেন।' ইবনু 'উমার বললেন, 'আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি-“যে-কাযী বিচারকার্যে যুলুম করবে, সে জাহান্নামে যাবে। যে-কাযী না-জেনে বিচার করবে, সেও জাহান্নামে যাবে। আর যে-কাযী জেনে- শুনে ইনসাফের সঙ্গে বিচার করবে, সে হয়তো কোনোমতে পার পাবে (সাওয়াবও নেই, গুনাহও নেই)। এরপরে আর কোন আশায় কাযী হতে যাবো?' ৪৯

ফযাইল ইবনু 'ইয়ায র. বলেন, 'কাযীদেরকে ওপর ঈর্ষা কোরো না। সাধারণ মানুষকে দয়া করো। যে-ব্যক্তি কাযী র দায়িত্ব নিলো, সে ছুরিবিহীন যবাই হয়ে গেলো। যে-ব্যক্তি কাযীর দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছে, তার উচিত হলো একদিন বিচারকার্যে অন্য দিন কান্নাকাটিতে কাটানো। কারণ, কিয়ামতের দিন তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে।'

ইবনু শুবরুমা ৫০ র. বলেন, 'তরবারির নিচে যাওয়া আর কাযীর পদ গ্রহণ করা একই কথা।'

ইবনু হুসাইন বলেন, 'আমি ইমাম শা'বী র.-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তার কাছে দু'জন ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে এলো। তিনি আমাকে বললেন, 'আপনি কথা বলুন।' আমি বললাম, 'আমার দ্বারা সম্ভব নয়।' অতঃপর তিনি তাদের মাঝে ফয়সালা করে দিলেন। তারা চলে যাওয়া পরে বললেন, 'জানি না, ঠিক করলাম, নাকি ভুল করলাম! কিন্তু আমি (সরকারী বিচারক হিসেবে) ফয়সালা করিনি। ইবনু হুসাইন বলেন, 'অতঃপর তিনি সে-সব লোকদের অভিশাপ দিলেন, যারা সেচ্ছায় কাযী হতে চায়।'

আবূ হামেদ খোরাসানী বলেন, 'খোরাসানের পথে কোনো এক শহরে একবার শাকীক বলখী ৫১র. আগমন করেন। সেখানকার কাযী তার কাছে এলে তিনি তাকে বললেন, 'তুমি কুরআন পড়ো?' কাযী বললেন, 'হ্যাঁ।' শাকীক বললেন, 'তাবারাকা' (সূরা মুলক) থেকে পড়ো। কাযী পড়তে পড়তে যখন আল্লাহর বাণী :

الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ ﴾

| যাতে তিনি পরীক্ষা করেন, তোমাদের মাঝে কে সর্বোত্তম 'আমালকারী। [সূরা মুলক ২] পর্যন্ত পৌঁছলেন, শাকীক তার গলা ধরে বললেন, 'তোমাদের মাঝে কার সওয়ারী সর্বোত্তম? তোমাদের মাঝে কার কাপড় সর্বোত্তম? তোমাদের মাঝে কার চেহারা সবচেয়ে সুন্দর? তোমাদের মাঝে কার বাড়ি সবচেয়ে সুন্দর? তখন কাযী শাকীক র.-কে লক্ষ করে বললেন, 'আমি আল্লাহকে ওয়াদা দিচ্ছি, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ পর্যন্ত আর এই কাজ (বিচার) করবো না।'

দাউদ ইবনু 'আলী খাল্লাদ ইবনু 'আবদুর রহমানকে ৫২ ইয়ামানে বিচারক নিয়োগ করার জন্য ডেকে পাঠালেন। খবর শুনে খাল্লাদের মাথা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলো! ইমাম আহমাদ বলেন, 'তিনি ফারেসী তথা অনারব ছিলেন।'

আবূ আঊন ৫৩ মিসরে এলেন। যুদ্ধ-বিগ্রহ ও খুন-খারাবির পরে মিসর দখল করে নিলেন। অতঃপর হাইওয়াহ ইবনু শুরাইহকে ৫৪ ডেকে পাঠালেন। তিনি এলে আবূ আউন তাকে বললেন, 'আমরা রাজা-বাদশাগণ যা বলি, তা-ই হয়। যে-ব্যক্তি আমাদের অবাধ্যতা করে, তাকে হত্যা করে ফেলি।' আমি তোমাকে কাযী হিসেবে নিয়োগ করলাম। হাইওয়াহ বললেন, 'আমি একটু বাড়িতে গিয়ে কথা বলে আসতে পারি?' তিনি বললেন, 'যাও।'

হাইওয়াহ ইবনু শুরাইহ বাড়িতে এসে মাথা ও দাড়ি ধৌত করলেন। সুগন্ধি লাগালেন। সবেচেয়ে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরলেন। এরপর আবূ আউনের কাছে ফিরে গেলেন। গিয়ে বললেন, 'আমি আপনার জবাবে সেটাই বলবো, যেটা বলেছিলেন ফিরাউনের যাদুকররা:

(وَأَنتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا )

(অর্থাৎ, আপনি যা করার করুন)। আমি আপনার দেওয়া কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবো না। আবূ আঊন তাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তিনি চলে গেলেন।

এক ব্যক্তি কাযীর দায়িত্বে নিয়োজিত হলো। ইবনুল মুবারক র. তার সম্পর্কে আলোচনা-প্রসঙ্গে বললেন, 'তার জন্য যথেষ্ট যে, সে বিশাল বিপদের মুখোমুখি হবে'।

আবুশ শা'সা ৫৫ বলেন, 'হাকাম ইবনু আইউব বসরার কয়েকজনের নিকট কাযী নির্বাজনের জন্য চিঠি লিখলেন। তাদের মাঝে আমিও ছিলাম। যদি (শেষমেশ) আমাকেও কাযীর দায়িত্ব দেওয়া হতো, তবে আমি সওয়ারী নিয়ে বের হয়ে যেতাম। (বসরা থেকে দূরে) পৃথিবীর কোনো প্রান্তে পালিয়ে যেতাম।'

ইবনুল মুবারক র.-কে বলা হলো- "আবূ 'আবদুর রহমান, সুফিয়ান সাওরী তো শাসকদের মাঝে সংস্কারের কাজ করতেন না।' তিনি বললেন, 'আল্লাহু আকবার। (তাদের দরবার থেকে) পলায়নের চেয়ে বীরত্বের কাজ আর কী হতে পারে?'

শরীক কাযীর দায়িত্ব গ্রহণের পরে সুফিয়ান সাওরী র. বলতেন- 'বন্দি হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সবর করতে পারতেন।'

হাসান ইবনু 'ঈসা বর্ণনা করেন, 'খোরাসানের গভর্নর ফযল ইবনু ইয়াহইয়া ইমাম খালেদ ইবনু সবীহের নিকট খোরাসানের কাযী পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। ফলে গভর্নর তাকে বন্দি করলো। তিনি ছিলেন খোরাসানের সবচেয়ে বড় আলিম, সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিস। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও ফযল তাকে এ-ছুতোয় জেলে বন্দি করে রাখে।'

হাসান বলেন, 'আমি ইবনুল মুবারক র.-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। এমন সময় সেখানে আবূ ইয়াহইয়া আকসাম ইবনু মুহাম্মাদ আসেন। ইবনুল মুবারক তাকে জিজ্ঞাসা করেন, 'আবূ ইয়াহইয়া, কোত্থেকে এসেছেন?' তিনি বললেন, 'জেল থেকে। সেখানে খালেদ ইবনু সবীহকেও দেখেছি।' ইবনুল মুবারক র. বললেন, 'তাকে কেমন দেখলেন?' আবূ ইয়াহইয়া বললেন, 'আমি এমন একজন মানুষকে দেখেছি, যাকে তরবারি দিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেললেও কাযীর পদ গ্রহণ করবেন না। এর কারণ হলো, তাকে আমি বলতে শুনেছি-'ধরে নিলাম, এ-ব্যাপারে আমিই সবেচেয়ে অভিজ্ঞ মানুষ। কিন্তু রাসূলুল্লাহর সাহাবগণ যে-সব বিষয়ে মতানৈক্য করেছেন, সে-সব বিষয়ে আমি কী করবো? তা ছাড়া কোনো বিষয় না-জানার কারণে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে দিতে পারি! ফলে দেখা যাবে, একজনের সম্পত্তি আরেকজনকে দিয়ে দেবো। জানতেও পারবো না যে, আমি ঠিক করলাম, নাকি বেঠিক করলাম!' এ-কথা শুনে আনন্দে ইবনুল মুবারক র.- এর মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। তিনি বললেন, 'আবুল হাইসাম, আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দিন।'

ইবনুল মুবারক র.-কে বলা হলো-“মারও' অঞ্চলের গভর্নর একজন কাযী নিয়োগ করতে চান। এ-ব্যাপারে তিনি কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করতে আগ্রহী। মানুষ গভর্নরের কাছে যাদের নাম পেশ করেছে, তাদের মাঝে নজর ইবনু মুহাম্মাদ, খালেদ ইবনু সবীহ, মারও'র কয়েকজন মাশায়েখসহ আপনার নামও রয়েছে।' এ-কথা শুনে ইবনুল মুবারক র. বললেন, 'তারা কি মনে করেছেন, আমি কারও ব্যাপারে পরামর্শ দেবো? কখনো না। আমার কাছে যদি ফুযাইল ইবনু 'ইয়াযের নাম পেশ করা হয়, তাকে নিয়োগের ব্যাপারেও পরামর্শ দেবো না।'

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামান তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন-'সুফিয়ান সাওরীর সঙ্গে আমার একদিন সাক্ষাৎ হলো। আমি বললাম, 'কোথায় যাচ্ছেন?' তিনি বললেন, 'হাম্মাদ ইবনু মূসার কাছে।' আমি বললাম, '(আপনার যাওয়ার দরকার নেই) আমি তাকে আপনার কাছে নিয়ে আসছি।' তখন তিনি মসজিদে চলে গেলেন। আমি হাম্মাদের কাছে গিয়ে বললাম, 'সুফিয়ান আপনাকে ডাকছেন।' তিনি আমার সঙ্গে এলেন। সুফিয়ান তাকে দেখে বললেন, 'তুমি শাসকের দরবারে উপস্থিত হও। আমরা উপস্থিত হই না। তারপরেও সেখানে আমাদের কথা ওঠে কী করে? সামনে থেকে যদি আমার নাম আসে, বলে দিয়ো, সে 'বিপদাক্রান্ত'।'

মা'মার বলেন, 'যখন ইবনু শুবরুমাকে (গভর্নরের পদ থেকে) অপসারিত করা হলো, তখন (অন্যান্যদের সঙ্গে) আমি তাকে বিদায় জানাতে গেলাম। একপর্যায়ে যখন সবাই চলে গেলো এবং তিনি আর আমি ছাড়া অন্য কেউ রইলাম না, তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'আবূ উরওয়া, সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। এখানে আমি আসার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমার এই জামা পরিবর্তন করে অন্য কোনো জামা পরিনি।' অতঃপর অনেক্ষণ চুপ থাকেন। এরপর বলেন, 'আমি হালালের কথা বলছি। আর হারামের পথ তো বন্ধ।'

ইমাম ওয়াকী' বলেন, 'কাযী আবূ ইউসুফ র.-এর ওফাতের পরে খলীফা হারুনুর রশীদ আমাদেরকে ডেকে পাঠালেন। তখন আমি, ইবনু ইদরীস ও হাফস ইবনু গিয়াস রওয়ানা হলাম। একটি জাহাজে করে আমরা বাগদাদে পৌঁছলাম। যখন খলীফার দরবারে ঢুকলাম, ইবনু ইদরীস কাঁপতে লাগলেন। দরজার কাছাকাছি গিয়ে তার কাঁপুনি আরও বেড়ে গেলো। একপর্যায়ে তিনি হাত ঝাঁকাতে লাগলেন। খলীফা হারুনুর রশীদ তখন একটি কুরসীতে বসা ছিলেন। তার পাশে ছিলো বিশালদেহী এক তুর্কি লোক। ওয়াকী' বলেন—তখন আমি বললাম, 'খলীফা তার পাশে বসানোর জন্য এই তুর্কি ছাড়া আর কাউকে পেলেন না!'

অতঃপর খলীফা কথা বলা শুরু করলেন। ইবনু ইদরীসের অবস্থা দেখে বললেন, তাকে দিয়ে হবে না। এরপর হাফসের দিকে মনোযোগী হলেন। তাকে প্রধান বিচারপতি বানাতে চাইলেন। কিন্তু হাফস অস্বীকৃতি জানালেন। খলীফা বারবার তাকে বোঝাচ্ছিলেন, মানাতে চেষ্টা করছিলেন, আর তিনি প্রত্যাখ্যান করছিলেন। ওয়াকী' বলেন—এভাবে তিনি বারবার আমাদেরকে অনুরোধ করছিলেন আর আমরা প্রত্যাখ্যান করছিলাম। তিনি পীড়াপীড়ি করছিলেন আর আমরাও আমাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম; তখন তুর্কি লোকটি কথা বলে উঠলো। তার কথা শুনে দেখলাম, তার ভাষা কুরাইশের চেয়েও বিশুদ্ধ। সে বললো, 'আমীরুল মুমিনীন যদি আবূ সারায়া, আবূ র'দ, হাম্মাদ বারবারীর মতো ব্যক্তিদেরকে প্রশাসনে নিয়োগ দিতেন, তবে তোমরাই বলতে তিনি যালিম। আমাদের ওপর এমন লোকদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন, যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া উচিত হয়নি। আবার এখন যখন তোমাদেরকে নিয়োগ দিতে ডেকেছেন, তখন সেটাও অস্বীকার করছো। খলীফা হারুন তখনো হাফসকে মানাতে চেষ্টা করছিলেন। শেষমেশ বললেন, 'যদি (বাগদাদে দায়িত্ব পালন) না-ই করতে চান, তবে কুফার দায়িত্ব নিন। ঘরে বসে দায়িত্ব পালন করুন!' ৫৬

ওয়াকী' বলেন—আমি তুর্কি লোকটির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। সবাই জানালো- 'সে 'ঈসা ইবনু জা'ফর।'

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেন, 'ওয়াকী' কে এখানে-বাগদাদে নিয়ে এসে কাযীর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো, কিন্তু তিনি অব্যাহতি চাইলেন। পরে তাকে অব্যাহতি ইবনু হুবাইরা কাসিম ইবনুল ওয়ালীদকে ডেকে পাঠালেন। তিনি দূতকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কেন ডেকেছেন?' দূত বললো, 'কুফার কাযী নিয়োগের জন্য।' তিনি বললেন, 'ঠিক আছে, এখানে অপেক্ষা করুন, আমি আসছি।' তিনি ঘরে ঢুকে দাসীকে ডেকে বললেন, 'আমার চুল এলোমেলো করে (কিছু অংশ) কেটে দাও।' দাসী করে দিলো। এরপর তিনি পুরনো ছেঁড়াখোঁড়া একটা কাপড় পরে বের হলেন। আমীর তার এমন জবুথবু অবস্থা দেখে বললেন, 'এই তার অবস্থা? যাও বেরিয়ে যাও।' এরপর তাকে বের করে দেওয়া হলো। তার জায়গাতে অন্য একজনকে ডেকে পাঠানো হলো।

'আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক র. বলেন, 'সেই লোকটি ছিলেন ইবনু আবী লাইলা। ৫৭ দূত তাকে ডাকতে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'কেন ডেকেছেন?' দূত বললো, 'আপনাকে কাযী নিয়োগের জন্য।' তিনি বললেন, 'অপেক্ষা করো।' এরপর ঘরে ঢুকে সবচেয়ে সুন্দর পোশাকটি পরলেন। সুন্দর করে পাগড়ি বাঁধলেন। সুগন্ধি লাগালেন। এরপর দূতের সঙ্গে বের হলেন। আমীর তাকে দেখে বললেন, 'এমন লোককেই নিয়োগ দেওয়া যায়। আমি আপনাকে কুফার কাযী হিসেবে মনোনীত করলাম।' এভাবেই তিনি কাযী হয়ে গেলেন।' ৫৮

ইবনু মুবারক র. বলেন, 'উনি অমন করেছেন দ্বীনের জন্য, আর ইনি এমন করেছেন দুনিয়ার জন্য।'

এক ব্যক্তি হাসান ইবনু সালিহের কাছে এসে ইবনু আবী লাইলা-প্রদত্ত ফাতওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তিনি কোনো জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানালেন। কারণ, ইবনু আবী লাইলা তখন কাযীর দায়িত্বে ছিলেন।

একবার রাস্তায় (কাযী) শুরাইহের সঙ্গে এক লোকের সাক্ষাৎ হলো। লোকটি তাকে বললো, "আবূ উমাইয়া, আপনার বয়স হয়েছে। শরীর নরম হয়ে গেছে। আর ওদিকে আপনার পরিবার ঘুষ খাচ্ছে।' তিনি বললেন, 'সত্যি!' লোকটি বললো, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'আজকের পর থেকে আপনি কিংবা অন্য কেউ আর এমন কথা বলার সুযোগ পাবে না।'

অতঃপর শুরাইহ হাজ্জাজের কাছে গিয়ে নিজের বয়স ও শারীরীক দুর্বলতার কথা তুলে ধরে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করলেন। হাজ্জাজ বললেন, 'তোমার জায়গায় যোগ্য কোনো লোক দিতে পারলেই তবে তোমাকে অব্যাহতি দেবো, এর আগে না।' তিনি বললেন, 'এমন লোক আমি দিতে পারবো।' হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করলেন, 'কে?' তিনি বললেন, 'আবূ বুরদা ইবনু আবী মূসা।' তখন হাজ্জাজ তাকে কাযী হিসেবে নিয়োগ দিলেন। শুরাইহকে অব্যাহতি দিলেন। পরবর্তীতে শা'বীর সঙ্গে তার দেখা হলে শা'বী তাকে বললেন, 'আমার নামটা বলতে পারলেন না!' তিনি বললেন, 'আপনার ভালোর জন্যই আপনার নাম বলিনি।' ৫৯

যখন ইমাম ও কাযী আবূ ইউসুফ র. ইন্তেকাল করলেন, ফুযাইল ইবনু 'ইয়ায র. বললেন, 'তোমাদের মাঝে এমন কেউ কি আছে, যে তাকে ঈর্ষা করে?'

ইমাম মাকহুল ৬০ বলেন, 'আমার দুই হাত কেটে ফেললেও আমি কাযী হতে পারবো না। আমার মাথা ছিন্ন করে ফেললেও আমি বাইতুল মালের দায়িত্ব নিতে পারবো না।'

ইয়াযীদ ইবনু হারুন ৬১ বলেন, 'আমি চল্লিশ বছরের অধিক সময় ধরে তার মুখ থেকে এটা শুনেছি।'

হাফস ইবনু গিয়াসকে কেউ বললো- 'যদি আপনি কাযীর দায়িত্ব না নিতেন!' তিনি বললেন, 'অন্তরে নেই, অথচ মুখে বলবো, এটা আমার পছন্দ নয়।'

হাফস ইবনু গিয়াস শারকিয়্যাহ পূর্বাঞ্চলের কাযী ছিলেন। তিনি একটি বিচার করছিলেন, এমন সময় খলীফা হারুনুর রশীদের চিঠি এলো। দূত এসে দাঁড়িয়ে রইলো। বিচার শেষ করার আগ পর্যন্ত তিনি চিঠি গ্রহণ করলেন না। পরে চিঠি খুলে দেখলেন, তাতে লেখা রয়েছে—'বিচারটি না করা হোক।' বললেন, 'করা হয়ে গেছে।” ৬২

'আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক র. থেকে বর্ণিত-বনী ইসরাঈলের এক কাযী মারা গেলো। তখন বাদশা তাদের মাঝে সবচেয়ে ভালো লোকদেরকে সমবেত করলেন। অতঃপর বললেন, 'তোমাদের মাঝ থেকে একশো জন মানুষকে বাছাই করো।' তারা একশো জনকে বাছাই করলো। বাদশা সেই একশো জনকে বললেন, 'তোমরা তোমাদের সেরা দশ জনকে বাছাই করো।' তারা বাছাই করলো। বাদশা সেই দশজনকে বললেন, 'তোমরা তোমাদের সেরা তিনজনকে বাছাই করো।' তারা করলেন। অতঃপর বাদশা সেই তিনজনকে বললেন, 'তোমরা তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম কে, সেটা নির্ধারণ করো।' তারা একজনকে নির্বাচন করলেন। তখন বাদশা তাকে কাযী হওয়ার প্রস্তাব দিলেন, কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। তখন তার কাছে ওহী এলো- 'কেন তুমি বনী ইসরাঈলের কাযী হতে চাচ্ছো না?' তিনি বললেন, 'অজ্ঞাতসারে যুলুম করে ফেলার ভয়ে।' তাকে বলা হলো- 'তোমার জন্য একটি নিদর্শন দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ইনসাফ ও যুলুম বুঝতে পারবে। তোমার ঘরের এমন জায়গায় একটি লোহা স্থাপন করো, যেটা সচরাচর হাত দিয়ে নাগাল পাও। যদি ইনসাফের সঙ্গে ফয়সলা করো, তখন ঘরে এসে সেটা ছুঁতে পারবে। আর যদি যুলুম করে ফেলো, তবে সে-দিন সেটার নাগাল পাবে না।' তখন তিনি রাজি হলেন এবং কাযীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। কাজ শেষ করে ঘরে এসে লোহাটা ছুঁয়ে দেখলেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন।

একদিন বিচারকার্য শেষ করে ঘরে এসে দেখলেন, লোহাটি নাগাল পাচ্ছেন না। তখন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। বুঝতে পারছিলেন না, কী হয়ে গেলো! তখন তার কাছে ওহী এলো-'দু'জন লোক তোমার কাছে বিচার নিয়ে এসেছিলো। তুমি মনে মনে কামনা করেছিলে, যেন ফয়সালা তাদের একজনের পক্ষে যায়, অন্যজনের পক্ষে না- যায়।' এ-কথা শুনে তিনি বললেন, 'প্রভু, এটা আমার কেবল মনে এসেছিলো। কাজে বাস্তবায়ন করিনি!' কেবল মনে আসার কারণেই যদি এই দশা হয়, কাজে পরিণত করলে কী হতো! এরপর তিনি কাযীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। ৬০

টিকাঃ
৪৫. মুসনাদু আবু দাউদ তায়ালিসী ৩/১৩২; মুসনাদু আহমাদ ৬/৭৫: বাইহাকী ১০/৯৬। তবে হাদীসটি যঈফ (দুর্বল)।
৪৬. মুসনাদু আবী ইয়া'লা ৮/১৮৮; তাবারানীর মু'জামুল আওসাত ৪/১৬৭। তবে হাদীসটির শুদ্ধতা নিয়ে আপত্তি রয়েছে।
৪৭. মুসনাদু আহমাদ ২/৩৫২; মুসনাদু আবী 'ইয়ালা ১১/৮৪; হাকিম ৪/৯১; বাইহাকী ১০/৯৭। হাদীসটির সনদ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তবে একাধিক সনদে কাছাকাছি অর্থের বক্তব্য বিদ্যমান থাকা হাদীসটির মূল বক্তব্যকে শক্তিশালী করছে।
৪৮. মুসনাদু 'আবদ ইবনু হুমাইদ (১০৮); ওয়াকী'র আখবারুল কুযাত (১/১৯); তাবারানীর মুসনাদু শামিয়্যীন ২/৯৫। হাদীসটির সনদ যঈফ।
৪৯. এটি ইবনু 'উমার -এর নিজস্ব চিন্তা ও মানহাজ। নতুবা কেউ যদি ইনসাফ ও ইখলাসের সঙ্গে কাযীর দায়িত্ব পালন করেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন অবশ্যই এর বিনিময় প্রদান করবেন। এ-ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহতে অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। বিভিন্ন নবী-রাসূল, সাহাবীদের মাঝে শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ বিচারের কাজ করেছেন; বরং সৎ মানুষগণ এ-কাজ না করলে অসৎ লোকেরা এটা দখল করবে। কিন্তু এটা একটি ভয়ংকর দায়িত্ব! অসংখ্য সহীহ হাদীসে এই দায়িত্বের ঝুঁকি ও ভয়ংকর পরিণতির কথা এসেছে। সে-কারণে অধিকাংশ সাহাবী ও সালাফে সালিহীন এমন ভয়ংকর দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতেন। ইবনু 'উমারও তার স্বভাবত বিনয় ও যুহদের কারণে এটা পরিত্যাগ করেছেন। এটা ছিলো সেই সোনালি যুগের কথা। বর্তমান সময়ে এ-দায়িত্ব কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, সেটা বলা বাহুল্য।
৫০. ইরাকের ফকীহ। তাবি'ঈদের অন্তর্ভুক্ত। আনাস ইবনু মালিক -সহ কয়েকজন সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, 'আবদুল্লাহ ইবনু মুবারকের মতো ইমামরা তার শাগরিদ। পরবর্তীতে তিনি কুফার কাযী হয়েছিলেন। সম্ভবত কাযীর পদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই উপরের মন্তব্যটা করে থাকবেন। এমনও আরও কিছু ঘটনা তার থেকে বর্ণিত আছে।
৫১. খোরাসানের বলখের অধিবাসী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আর ইমাম। ইবরাহীম ইবনু আদহাম র.-এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং যুহদ শেখেন। ধনীর দুলাল হয়েও একসময় যাহিদদের ইমাম হয়ে যান। ১৯৪ হিজরীতে তিনি এক জিহাদে শাহাদাত বরণ করেন।
৫২. মুহাদ্দিস। ইমাম আবু দাউদ, নাসা'ঈ প্রমুখ তার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৫৩. বনু আব্বাসের বীর 'আবদুল মালিক ইবনু ইয়াযীদ। খোরাসান ও মিসরের গভর্নর।
৫৪. মিসরের ফকীহ ইমাম হাইওয়াহ ইবনু শুরাইহ। তিনি মুস্তাজাবুদ দা'ওয়াহ ছিলেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক, ইবনু ওয়াহব প্রমুখ ইমামগণ তার ছাত্র। যুহদ ও ইবাদতে তিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন।
৫৫. ইবসে 'আব্বাস-এর প্রথম সারির শাগরিদ। হাসান বসরী ও ইবনু সীরীনের সমপর্যায়ের তাবি'ঈ। বসরার বিখ্যাত ইমাম। 'আমর ইবনু দীনার, আইউব সাখতিয়ানী প্রমুখ ছিলেন তার শিষ্য। তিনি কাযীর দায়িত্ব গ্রহণ পছন্দ করতেন না। ৯৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
৫৬. 'ঈসা ইবন জা'ফরের যুক্তি ফেলে দেওয়ার মতো নয়। ভালো লোকেরা দায়িত্ব না-নিলে অনেক সময় সে-জায়গাতে খারাপ লোক আসে; তখন আরও জটিলতা তৈরি হয়। মোটকথা, কাযীর দায়িত্ব গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যান দু'টির ক্ষেত্রেই যুক্তি রয়েছে। তবে সালাফে সালিহীন তাদের ঈমান, আখিরাত, তাকওয়া এ-সব চিন্তা করে এ-সব দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতেন।
৫৭. কুফার মুহাদ্দিস। ইবনু মাজাহ র.-এর উসতায।
৫৮. মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা (৭৬-১৪৮ হি.)। কুফার কাযী, মুফতী ও ফকীহ। প্রায় ৪০ বছর কাযীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ব্যাপারে ইবন মুবারক র.-এর মন্তব্য যুহদ ও অপার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।
৫৯. ছিলো, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামদের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচকই ছিলো। এর অন্যতম কারণ তাদের তাকওয়া, ইখলাস, আখিরাতের প্রতি অনুরাগ, দুনিয়ার প্রতি নিরাসক্তি, পাশাপাশি কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চিন্তা ও কারও কারও দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক সমকালীনর যুলুমবাজ শাসকদের চিত্র।
৬০. শামের বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ। প্রথম সারির তাবি'ঈদের একজন। ইবনু শিহাব যুহরীর সমপর্যায়ের।
৬১. তাবি'অ-তাবি'ঈন শাইখুল ইসলাম ইয়াযীদ ইবনু হারুন (১১৮-২০৬ হি.)। ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন, 'আলী ইবনুল মাদীনী, আহমাদ ইবনু হাম্বল প্রমুখ ইমামগণ তার ছাত্র ছিলেন।
৬২. কারণ, তার আশঙ্কা ছিলো, চিঠিটি ন্যায়বিচারে বাধা হতে পারে। সে-কারণে বিচার শেষ না-করে খোলেননি। এটা দ্বারা হাফস ইবনু গিয়াসের ইনসাফ ও খোদাভীতিরই প্রমাণ পাওয়া যায়।
৬৩. এটির সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনা সত্য হোক না হোক, বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব যে যথেষ্ট গুরুতর ও ভয়ংকর, সেটা প্রতিষ্ঠিত সত্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00