📄 সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের দরবারবিমুখতা
মাইমূন ইবনু মিহরান বলেন, 'একদিন দুপুরে উমাইয়া-খলীফা 'আবদুল মালিক (ইবনু মারওয়ান) ঘুমাতে পারলেন না। উঠে প্রহরীকে বললেন, 'মসজিদে আমাদের কোনো বক্তা আছে কি না, দ্যাখো তো (খলীফার উদ্দেশ্য ছিলো-ঘুমের সময়টুকু গল্প কিংবা আলোচনার মাঝে কাটাতে)!' প্রহরী মসজিদে এসে সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবকে ১৭ দেখতে পেলো। দূর থেকে ইশারায় ডেকে দরজার দিকে পা বাড়ালো। সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব নিজের জায়গাতে বসে থাকলেন। প্রহরী ভাবলো, তিনি তার ইশারা দেখেননি। তখন আরও কাছে এসে ইশারা করলো। যখন বুঝলো, তিনি ইশারা দেখেছেন, তখন ফিরে গেলো। দরজাতে আসার পরে লক্ষ করলো, ইবনুল মুসাইয়্যিব স্বস্থানেই বসা। এবার প্রহরী (কিছুটা ক্রদ্ধ হয়ে) সা'ঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের একেবারে মাথার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। বললো, 'আমীরুল মুমিনীনের ডাকে সাড়া দিন।' ইবনুল মুসাইয়্যিব বললেন, 'তিনি আমার কাছে তোমাকে পাঠিয়েছেন?' সে বললো, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'আমি কে?' প্রহরী বললো, 'সেটা তো আমি জানি না। কিন্তু তিনি বলেছেন, মসজিদে আমাদের কোনো বক্তা থাকলে ডেকে নিয়ে এসো। আপনাকেই আমার সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হলো।' সা'ঈদ বললেন, 'ফিরে গিয়ে তাকে বলো, আমি তাদের বক্তা নই।' প্রহরী ফিরে গিয়ে পুরো ঘটনা তুলে ধরলে 'আবদুল মালিক বললেন, 'সত্য বলেছেন। তিনি সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব।'
জা'ফর ইবনু সুলাইমান বলেন, 'বসরার এক লোকের কাছে আমি শুনেছি, খলীফা 'আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান হাজ্জ শেষ করে মাদীনাতে এলেন। সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবকে একজন দূত মারফত ডেকে পাঠালেন। দূত তাকে মসজিদে পেলো। কাছে এসে বললো, 'চলুন।' তিনি বললেন, 'কোথায়?' দূত বললো, 'আমীরুল মুমিনের কাছে।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম, তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তার কোনো কথাও আমার মানার সুযোগ নেই।' দূত ফিরে গিয়ে খলীফাকে হুবহু এ-কথাগুলোই শুনিয়ে দিলো। 'আবদুল মালিক বললেন, 'দূর হও! তাকে ডেকে নিয়ে আসো। তার সঙ্গে নরম ব্যবহার কোরো।' দূত মসজিদে এসে বললো, 'চলুন।' সা'ঈদ বললেন, 'কোথায়?' দূত বললো, 'আমীরুল মুমিনীনের কাছে।' সা'ঈদ বললেন, 'আল্লাহর কসম, তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তার কোনো কথা আমার মানারও সুযোগ নেই।' দূত তখন ফিরে গিয়ে খলীফাকে সব কথা শোনালো। খলীফা বললেন, 'আবার যাও। তাকে ডেকে নিয়ে আসো। কঠোর ব্যবহার কোরো না।' দূত তৃতীয়বারের মতো মসজিদে এসে বললো, 'চলুন।' সা'ঈদ বললেন, 'কোথায়?' দূত বললো, 'আমীরুল মুমিনীনের কাছে।' সা'ঈদ বললেন, 'আল্লাহর কসম, তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তার কোনো কথা আমার মানারও সুযোগ নেই।' তখন দূত বললো, 'খলীফা আপনার সঙ্গে নরম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। নতুবা তিনি বললে আপনার মাথা নিয়ে তার দরবারে হাজির করতাম!' সা'ঈদ শান্তভাবে বললেন, 'মাথার ভয় নেই। যাওয়া তো দূরের কথা, আমি বসা থেকেও উঠতে পারবো না!' দূত তখন ফিরে গিয়ে খলীফাকে সব কথা শোনালো। খলীফা বললেন, 'আবূ মুহাম্মাদ তার সিদ্ধান্ত পাল্টাবে না। থাক, দরকার নেই। থাক দরকার নেই!'
সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব র.-এর এক ক্রীতদাস পালিয়ে গেলো। পরে সে রোমানদের বিরুদ্ধে মুসলিম-বাহিনীর সঙ্গে জিহাদে অংশ নিলো। ক্রীতদাসটি ছিলো অত্যন্ত সাহসী ও লড়াকু। মুসলিম-বাহিনীর সামনে থেকে লড়াই করতো। কিন্তু হঠাৎ করেই সে পিছু হটতে শুরু করে। যুদ্ধের গতি কমিয়ে দেয়। কুরাইশী এক সিপাহসালার তাকে ডেকে বলেন, 'কী খবর তোমার? আগে তো যুদ্ধ করতে? এখন ছেড়ে দিলে কেন?' সে বললো, 'আমি ইবনুল মুসাইয়্যিবের ক্রীতদাস। যেহেতু তার অনুমতি ছাড়া যুদ্ধে এসেছি, তাই ভয় হয়, যদি মারা যাই!' সিপাহসালার তাকে বললেন, 'তুমি যুদ্ধ করো। ভয়ের কিছু নেই। যদি মারা যাও, তবে ইবনুল মুসাইয়্যিব তোমার যত দাম চাইবে, সেটা আমি তাকে পরিশোধ করবো।' সিপাহসালারের কথা শুনে সে আবারও পূর্ণ উদ্যমে যুদ্ধে শরীক হলো এবং শাহাদাত বরণ করলো।
কুরাইশী সিপাহসালার মাদীনায় ফিরে সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবকে ডেকে পাঠালেন, কিন্তু তিনি এলেন না। তখন সিপাহসালার নিজেই সাঈদের কাছে এসে বললেন, 'আমি মাদীনায় এসেছি। একজন কুরাইশী হিসেবে আপনি আমাকে দেখতে আসবেন, সেই প্রত্যাশা ছিলো; কিন্তু আপনি আসেননি। আপনাকে লোক দিয়ে ডাকালাম, তাও যাননি।' ইবনুল মুসাইয়্যিব র. বললেন, 'আপনার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন ছিলো না, তাই যাইনি। যদি আমার কাছে আপনার কোনো প্রয়োজন থাকে, তা হলে তো আপনিই আসবেন!' কুরাইশী বললেন, 'আমার প্রয়োজন আছে। আপনার গোলাম যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। আমি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আপনি তার যত দাম চাইবেন, আপনাকে সেটা পরিশোধ করবো। সুতরাং আপনি দাম বলুন।' সা'ঈদ বললেন, 'আল্লাহর শপথ, আমি কখনোই তার দাম গ্রহণ করবো না। সে (পালানোর কারণে) জাহান্নামে গেলেও আমি (মালিক হিসেবে তার জিহাদের) সাওয়াব পাবো।'
খলীফা 'উমার ইবনু 'আবদুল আযীয র. বলতেন, 'আমার কাছে মাদীনার আলিমগণ আসেন। আর সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের 'ইলম আসে (তিনি আসেন না)।' ১৮
হাম্মাদ আল খাইয়াত বলেন, 'শাসকের বিপক্ষে অবিচলতার ক্ষেত্রে ইবনু আবী যি'বকে সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের সঙ্গে তুলনা করা হতো।' মাররূযী বলেন, 'আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলকে বললাম, সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবকে তো তারা (শাসকরা) মেরেছে।' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, মেরেছে। তবে তারা তাকে একবার হাদিয়াও দিয়েছিলো। কিন্তু তিনি বললেন, 'যতক্ষণ না এটা হালাল, না হারাম, সেটা জানবো— ততক্ষণ পর্যন্ত এটা গ্রহণ করবো না।' শেষমেশ সালিম ও কাসিমের সহায়তায় ওটা গ্রহণ করা থেকে রেহাই পান।'
ইবনু হাম্বল বলেন, 'ফিতনার সময় মসজিদে নববীতে সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ছাড়া আর কারও (তালীমী ও তরবিয়তী) মজলিস অব্যাহত ছিলো না।'
টিকাঃ
১৭. সাইয়েদুত তাবি'ঈন, 'আলিমু আহলিল মাদীনাহ সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব র.। বিখ্যাত মুহাদ্দিস। মাদীনার সাতজন ফকীহের একজন। 'উমার ইবনুল খাত্তাব -এর যুগে মাদীনাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুসাইয়্যিব বাইয়াতে রিযওয়ানের সদস্য। সাহাবীদের কাছ থেকে 'ইলম অর্জন করেন। তার শিক্ষকদের কতিপয় হলেন-যায়িদ ইবনু সাবিত, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস, 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস, ইবনু 'উমার রা। আবু হুরাইরা রা.-এর একান্ত সান্নিধ্যে থাকেন। তার মেয়ে বিবাহ করে জামাতা হন। তিনি অধিকাংশ সময় মাসজিদে থাকতেন। চল্লিশ বছর জামা'আতে নামায ছোটেনি কখনো। ত্রিশ বছর ধরে মাসজিদের বাইরে মু'আযযিনের আজান শোনেননি। হকের ব্যাপারে সা'ঈদ ছিলেন আপসহীন। শাসকের সঙ্গে মোসাহেবি করতেন না। তাদের অন্যায় দেখে নীরব থাকতেন না। অথচ উমাইয়া শাসকদের অনেকেই ছিলো উৎপীড়ক, অন্যায়কারী। ফলে তার সঙ্গে শাসকদের বিরূপ সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রত্যাখ্যান করেন। তারা ডাকলেও সাড়া দেননি। কোনো বর্ণনাতে পাওয়া যায়, তিনি সে-সব যালিম শাসকের জন্য বদদু'আ করতেন! শাসকগোষ্ঠী একসময় তাকে নজরবন্দি করে ফেলে। মাসজিদে তার 'ইলমী মাজালিসগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাকে নরম করার কৌশল হিসেবে উমাইয়া খলীফা 'আব্দুল মালিক ইবনু মারওয়ান তার ছেলে যুবরাজ ওয়ালীদের জন্য সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু সা'ঈদ যুবরাজকে প্রত্যাখ্যান করে কুরাইশের এক সাধারণ যুবকের হাতে মেয়েকে তুলে দেন। বিয়ের মোহরানা ছিলো দুই দিরহাম। উমাইয়া শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে। তাকে বেত্রাঘাত করা হয়। বন্দি করে মাদীনার অলিতেগলিতে ঘোরানো হয়।
১৮. সত্য ও সততা, ন্যায় ও নীতির পরম আদর্শ খলীফায়ে রাশিদ 'উমার ইবনু 'আবদিল 'আযীয র.। এমন বুযুর্গ খলীফার দরবারে যেতেও যদি আমাদের সালাফের আপত্তি থাকে, তবে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর কাছে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলার থাকে না।
📄 উমার ইবনু ‘আবদিল আযীযের তাকওয়া
এক ব্যক্তি 'উমার ইবনু 'আবদিল আযীয র.-এর সামনে এসে তার গুণকীর্তন করতে লাগলেন। 'উমার তাকে বললেন, 'আমি আমার ব্যাপারে যা জানি, তুমিও যদি তা জানতে, তবে আমার দিকে তাকাতেও না।'
'উমার ইবনু 'আবদিল আযীয র. বলতেন: রাজ-বাদশারা হলেন বাজারের মতো। এখানে সে-ই আসে যে নিজেকে পণ্য মনে করে। অথবা এখানে যে-ই আসে, বিকে যায়।
একবার 'উমার ইবনু 'আবদিল 'আযীয র. লোকদের মাঝে কিছু জিনিস বিতরণ করলেন। ইবনু সিরীন র.-এর কাছেও পাঠালেন; কিন্তু তিনি সেটা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন। বললেন, "উমারের ব্যাপারে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমার দরকার নেই (তাই নিইনি)।'
📄 হাসান বসরীর তাকওয়া
হাসান বসরী র. এভাবে দু'আ করতেন- 'হে আল্লাহ, সকল প্রশংসা আপনার জন্য। আপনি আমাদের রিযিককে প্রশস্ত করে দিয়েছেন। আমাদেরকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। আমাদেরকে সুস্থ-সবল রেখেছেন। আমরা যা চেয়েছি, আমাদেরকে সব কিছু থেকে দান করেছেন।'
হাসান বসরী র. বলেছেন, 'যে-ব্যক্তি কামাই নিয়ে পেরেশান থাকে, কোথায় কোথায় সে ব্যয় করবে, সেটা নিয়েও সে পেরেশান হয়।'
এক ব্যক্তি এসে হাসান বসরী র.-কে জিজ্ঞাসা করলো, 'কেমন আছেন?' তিনি বললেন, 'দুটো নিয়ামতের মাঝে ডুবে আছি। একটি নিয়ামত আমার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রেখেছে। আরেকটি নিয়ামতের কারণে লোকেরা আমার প্রশংসা করে, অথচ আমার ভেতরের খবর তারা জানে না।'
এক ব্যক্তি হাসান বসরী র.-এর কাছে এসে বললো, 'আবূ সা'ঈদ, কেমন আছেন?' তিনি বললেন, 'ভালো।' লোকটি বললো, 'আপনার অবস্থা কেমন যাচ্ছে?' হাসান বসরী হাসলেন। বললেন, 'আমাকে আমার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছো? ধরো, একদল লোক একটি নৌকায় উঠেছে। মাঝ-সমুদ্রে যাওয়ার পরে তুফানের আঘাতে নৌকাটি ভেঙে চৌচির হয়ে গেলো। যাত্রীদের প্রত্যেকে একেকটি কাঠখণ্ড জড়িয়ে ধরে সমুদ্রের পানিতে ভাসতে লাগলো। তাদের অবস্থা কেমন হবে?' লোকটি বললো, 'মারাত্মক ভয়াবহ অবস্থা!' তিনি বললেন, 'আমার অবস্থা তাদের চেয়েও খারাপ।'
হাসান বসরী 'উমার ইবনু আব্দুিল আযীয র.-এর কাছে চিঠি লিখলেন: "জেনে রাখুন, আপনার সামনে বড় বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। এখনো সে পর্যন্ত পৌঁছোননি; কিন্তু একদিন সেগুলোর মুখামুখি হতে হবে। হয়তো মুক্তি মিলবে, নয়তো দুর্ভাগ্য ও ধ্বংস। আর মুমিনের সর্বশেষ ফিতনা হলো কবরের ফিতনা।”
📄 ফুযাইল ইবনু ইয়ায ও রাজ-দরবার
ফুযাইল ইবনু 'ইয়ায ১৯র. বলতেন, 'আমাদের জন্য তাদের দরবারে যাওয়া নিষেধ। আর যদি যেতেই হয়, তবে হক কথা বলা আবশ্যক।'
ফুযাইল ইবনু 'ইয়ায বলেন, 'প্রকৃত মুজাহিদ আলিম সে নয়, যে শাসকের দরবারে গিয়ে ভালো-মন্দ কিছু কথা বলে। পরে যখন শাহি ভোজের দাওয়াত পায় সোজা, দস্তরখানে গিয়ে শরীক হয়। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকারী প্রকৃত আলিম তো সেই ব্যক্তি, যে শাসক থেকে দূরে থাকে।'
ফুযাইল আরও বলেন, 'কত আলিম রাজদরবারে দ্বীন ও ঈমান নিয়ে প্রবেশ করে আর শূন্য-হাতে বেরিয়ে আসে। আল্লাহ যেন আমাদেরকে দ্বীনী পরীক্ষা ও ঈমানের মুসীবত থেকে রক্ষা করেন।'
আরও বলেন, 'অনেক সময় রাজদরবারে গমনকারী আলিমের মাঝে কিছুটা দ্বীনদারি থাকে। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসে রিক্ত হস্তে, নিঃস্ব হয়ে।' লোকেরা জিজ্ঞাসা করলেন-'কীভাবে?' তিনি বললেন, 'রাজার মিথ্যাচারকে সত্য বলে মাথা নাড়ায়। তার চাটুকারিতা ও মোসাহেবিতে মত্ত হয়।'
ফুযাইল ইবনু 'ইয়ায বলেন, 'যে-ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে সম্মান (তথা পালন) করবে, আল্লাহও তাকে সম্মানিত করবেন। এর জন্য আত্মীয়-স্বজন, বংশ-গৌরবের দরকার হবে না।'
টিকাঃ
১৯. বিখ্যাত বুযুর্গ ও তাসাওউফের ইমাম (১০৭-১৮৭ হি.)। অত্যধিক ইবাদতের কারণে তার উপাধি ছিলো 'আবিদুল হারামাইন'। তার শাইখদের মাঝে প্রসিদ্ধ হলেন—সুলাইমান ইবনু আ'মাশ ও সুফিয়ান সাওরী র.। 'আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক র.-সহ অনেক ইমাম তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।