📄 জন্ম হয়েছে কবরে!
উমর ইবনুল খাত্তাব-এর ভৃত্য এবং বিখ্যাত তাবেঈ আবু যায়িদ আসলাম বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাবএকদিন লোকজনের মাঝে উপস্থিত হলেন; এমন সময় জনৈক ব্যক্তি তার শিশু ছেলেকে কাঁধে চড়িয়ে উমর-এর পাশ
দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের দেখে তিনি বললেন, বাবা ও ছেলের মধ্যে এত অমিল তো আমি আর কখনো দেখিনি। লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, তার মা মৃত্যুর পর তাকে প্রসব করেছে! আমীরুল মুমিনীন বললেন, বলো কী! তা কীভাবে সম্ভব? লোকটি বলল, একবার কিছু কাজে দূরের সফরে বের হলাম। ছেলেটি তখন আমার স্ত্রীর গর্ভে। আমি বের হওয়ার আগে তাকে বললাম, তোমার গর্ভে যে সন্তান রয়েছে, আমি তাকে আল্লাহর তাআলার কাছে আমানত রেখে যাচ্ছি। আল্লাহ তাকে নিরাপদ রাখুন। সফর থেকে ফিরে জানতে পারলাম, আমার স্ত্রী ইনতিকাল করেছে। এক রাতের ঘটনা। আমি আর আমার চাচাতো ভাই খোলা ময়দানে বসে আছি। হঠাৎ দেখলাম অদূরের কবরস্থানে বাতির আলোর মতো আলো জ্বলছে। আমি ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কিসের আলো? সে বলল, প্রতিরাতেই তোমার স্ত্রীর কবরে আলোটি দেখতে পাই। কিন্তু কিসের আলো তা জানি না। লোকটি বলল, এরপর আমি একটি কুঠার নিয়ে কবরের কাছে গিয়ে দেখি কবরটি খোলা আর ছেলেটি তার মায়ের কোলে। এমন সময় কেউ একজন আমাকে লক্ষ্য করে বলল,
হে আল্লাহর নিকট আমানত প্রদানকারী, তোমার গচ্ছিত আমানত গ্রহণ করো। তুমি যদি তার মাকে আমানত রেখে যেতে, তবে তাকেও ফিরে পেতে। এ কথা শুনে আমি ছেলেটিকে তুলে নিলাম। আর কবরটিও বন্ধ হয়ে গেল.**
টিকাঃ
১৮৭. মানাকিব আমারিল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (ইবনুল জাওযী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ), ৬৬। সনদ মাকবুল।
📄 প্রাচীন কবর হতে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন উপদেশ
১. প্রখ্যাত তাবেঈ আমর বিন মাইমুন বর্ণনা করেন, সাহাবী জারীর বিন আবদুল্লাহ বাজালী বলেন, আমরা পারস্যের একটি শহর জয় করলাম। আমাদের কাছে খবর এল যে, কাছেই একটি গুহায় অনেক ধন-সম্পদ রয়েছে। আমরা কিছু স্থানীয় মানুষকে নিয়ে সেই গুহায় প্রবেশ করলাম। সেখানে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও ধন-সম্পদ ছিল। আমরা তা বাজেয়াপ্ত করে একটি খিলানযুক্ত বাংকারের মতো গুপ্তঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম। ঘরটির প্রবেশ পথ একটি বড় শিলাখণ্ড দিয়ে আড়াল করা ছিল। পাথরের আড়াল সরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই একটি স্বর্ণখচিত পালঙ্ক দেখতে পেলাম। পালঙ্কে দানবাকৃতির অনেক পুরোনো এক মৃত ব্যক্তি শায়িত রয়েছে। এমন
মানুষ আমি কখনো দেখিনি। সেখানে কিছু তৈজসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। লোকটির মাথার কাছে এক টুকরো কাঠের মধ্যে কিছু লেখা খোদাই করা রয়েছে। স্থানীয় লোকজন আমাকে তা পড়ে শোনাল। সেখানে লেখা ছিল,
হে আল্লাহ তাআলার মালিকানাধীন বান্দা! তুমি আপন স্রষ্টার সামনে ঔদ্ধত্য প্রকাশ কোরো না। তাঁর দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার কোরো না। জেনে রেখো, তোমার জীবৎকাল যত দীর্ঘই হোক, মৃত্যুই তোমার পার্থিব জীবনের শেষ পরিণাম। তোমার সামনে হিসাবের দরবার রয়েছে। এখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সময় ফুরিয়ে আসলে হঠাৎ একদিন তোমাকে পাকড়াও করা হবে। তুমি যা কিছু পছন্দ করো, এখন থেকেই আখিরাতের কল্যাণের জন্য তা পাঠাতে থাকো। সেখানে তুমি তা পেয়ে যাবে। পার্থিব জীবনের ধোঁকায় না পড়ে মৃত্যুর পাথেয় সংগ্রহ করো।
হে আল্লাহ তাআলার মালিকানাধীন বান্দা, আমার অবস্থা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আমার পরিণতিতে তোমাদের জন্য শিক্ষার বিষয় রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমার মধ্যে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ রেখেছেন।
আমি পারস্য সম্রাট বাহরাম বিন বাহরাম। আমি ছিলাম তাদের মধ্যে সবচেয়ে উৎপীড়ক, কঠোর, দীর্ঘ অভিলাষী, রাজনৈতিক আভিজাত্যের অধিকারী, আরামপ্রিয় ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলায় পারদর্শী একজন সম্রাট।
আমি নিজের রাজত্বকে বহুদূর বিস্তার করেছি, প্রচণ্ড প্রতাপশালী শাসকদের কচুকাটা করেছি, বড় বড় বাহিনীকে পরাস্ত করেছি আর বিদ্বানদের খুঁজে খুঁজে অপদস্থ করে ছেড়েছি। দীর্ঘ পাঁচ শ বছরের জীবৎকালে আমি এ পরিমাণ সম্পদ জমা করেছি, যা ইতিপূর্বে আর কেউ করতে পারেনি। এতকিছুর পরও আমি নিজের মৃত্যুকে ঠেকাতে পারিনি।"
২. হাসান বিন জাহওয়ার বর্ণনা করেন, হাইছাম বিন আদী বলেন, কয়েকজন আলিম আমাকে বলেছেন যে, তারা ইস্পাহানে একটি জলাশয় খনন করছিলেন। মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বিশাল এক পাথরখণ্ড বেরিয়ে আসল। পাথরটি তাদের কাছে বিশেষ কিছু মনে হলো। এমন কিছু আগে কেউ দেখেনি। কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়ে গেল। তারা পাথরটি উল্টাতেই নিচে একটি ঘর দেখতে পেল। ঘরটিতে স্বর্ণখচিত চারটি পালঙ্ক ছিল। প্রথম পালঙ্কটিতে একজন বৃদ্ধের লাশ রাখা ছিল; যাকে দেখেই বোঝা যায় যে, তিনি নেতৃস্থানীয় কেউ হবেন। তার মাথায় চুল ছিল না। লম্বা দাড়ি ছিল। তার পালঙ্কের ওপর পান্নাখচিত ও আংটাবিশিষ্ট কিছু পাত্র রাখা ছিল।
দ্বিতীয় পালঙ্কে একজন সুদর্শন যুবকের মৃতদেহ ছিল। তার বিছানায় তিনটি পাত্র ছিল। আর মাথার পাশে একটি মুকুট ঝুলানো ছিল।
তৃতীয় পালঙ্কে এক বালকের দেহ ছিল। তার দুই কানে ছিল দুটি দুল। প্রতিটি দুলেই মুক্তো লাগানো।
চতুর্থ পালঙ্কে চাঁদমুখী এক যুবতীর মৃতদেহ ছিল। তার পালঙ্কেও অনেক পাত্র ছিল। তার হাতে বালা ও পান্নাখচিত চুড়ি ছিল।
প্রতিটি দেহের শিয়র ঘেঁষে ফারসী ভাষায় কিছু লেখা ছিল। স্থানীয় লোকজন ফারসী জানা একজন মানুষকে ডেকে এনে তা পড়তে দিল।
প্রথম ব্যক্তির শিয়র পাশে লেখা ছিল, আমি রুস্তম! এই নগরীর শাসক। আমি খুবই কঠিন মানুষ ছিলাম। কত নিআমতের স্বাদ আমি গ্রহণ করেছি! এত সম্পদ আমি জমা করেছি, ইতিপূর্বে কেউ যা করতে পারেনি। বহু সৈন্যদলকে আমি পরাজয়ের গ্লানি উপহার দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে উত্থিত তরবারি ভোঁতা করে দিয়েছি। এত কিছুর পরেও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় আমি খুঁজে পাইনি।
দ্বিতীয় ব্যক্তির পাশে লেখা ছিল, 'আমি সাবুর বিন মালিক। দুরন্ত যৌবনেই মৃত্যু আমাকে আঘাত করেছে। আমার যাবতীয় প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে। মৃত্যু যদি আমার কাছে বিনিময় দাবি করত, তাহলে আমি সবচেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দিতাম।
তৃতীয় লাশের পাশে লেখা ছিল, আমি বাহরাম বিন মালিক। মৃত্যু এক অনিবার্য বিপর্যয়। মানুষ যদি চিরকাল জমিনের বুকে থাকত, তাহলে আমরাও থাকতাম।
চতুর্থ পালঙ্কে নারীদেহের পাশে লেখা ছিল, আমি মিনাহাত বিনতে মালিক। মৃত্যু আমার আভিজাত্য কেড়ে নিয়েছে। কোমলতা ছিনিয়ে নিয়ে ব্যথিত করেছে। তোমরা দুনিয়ার ধোঁকায় পড়ো না।
বর্ণনাকারী বলেন, স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে প্রচুর মূল্যবান সম্পদ লাভ করেন।
৩. আবদুল্লাহ বিন আইয়াশ হামাদানী ❑ নাজরানের কিছু লোক আমাকে বলেছেন যে, আমরা একবার মহান এক ব্যক্তিত্বের কবর খুঁড়তে বের হলাম। প্রাচীনকালের সম্রাটদের কবরস্থান হিসেবে পরিচিত এক জায়গায় আমরা কবর খুঁড়তে গিয়ে মাটির নিচে কারুকার্যখচিত একটি লোহার কফিন পেলাম। কফিনটি খুলতেই ভেতরে চুল- দাড়ি আঁচড়ানো, হালকা গড়নের এবং অভিজাত পোশাকে পরিহিত এক বৃদ্ধের মৃতদেহ পেলাম। লোকটির মাথার পাশে এক টুকরো কাগজে পেলাম। তাতে লেখা, আমি লৌহমানব জুনাইদাহ বিন জুনাইদ। আমি ছয় শ বছর বেঁচে ছিলাম। আমার আজকের অবস্থা নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছ। দুনিয়া এবং তার প্রেমিকদের জন্য আফসোস! দুনিয়ার লোভ ও ধোঁকায় নিপতিত ব্যক্তির জন্য ধ্বংস অনিবার্য।
৪. ঈসা বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়ার বিন দাইসান বলেন, মুআবিয়া -এর আমলে একবার শরৎকালে প্রচুর বৃষ্টি হলো। পানির ঢল নেমে এক জায়গায় ফাটল দেখা দিল। জায়গাটিতে পাথরে নির্মিত একটি ঘর ছিল। ঘরের মূল ফটকটিও পাথরের ছিল। স্রোতের ধাক্কায় দরজাটি খুলে গেলে দেখা গেল একটি কবর। কবরের ওপর এক টুকরো লোহার পাত রাখা। তাতে লেখা,
আমি বারান বুহাইর। সম্রাটের সন্তান সম্রাট। আমি সাত শ বছর বেঁচে ছিলাম। শত-সহস্র কুমারীর সতীত্ব হরণ করেছি। হাজার হাজার বাহিনীকে পরাস্ত করেছি। সবশেষে মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। যে ব্যক্তি আমার কবর দেখবে; সে যেন আল্লাহকে ভয় করে। আর এ কথা জেনে রাখে যে, মৃত্যুই তার শেষ পরিণাম।
৫. হুসাইন বিন আবদুল্লাহ কুরাইশী জনৈক আনসারীর কাছ থেকে বর্ণনা করেন, দাউদ যখন ভুল করে বসলেন; তখন তিনি কিছু সময়ের জন্য শুধু ইবাদত-বন্দেগীতে মগ্ন থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই ইচ্ছায় তিনি একজন পাদরির সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে তার নাম ধরে ডাকলেন। কিন্তু পাদরি কোনো সাড়া দিল না। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর পাদরি বলল, এভাবে আমার নাম ধরে কে ডাকাডাকি করছে? তার মা-বাবা বোধ হয় তাকে এ ব্যাপারে ভয়-ভীতি দেখায়নি। আর তার ইবাদত-বন্দেগীও তেমন কাজে আসেনি! পাদরির কথা শুনে দাউদ বললেন, আমি দাউদ। সুরম্য প্রাসাদ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অশ্ব, সুন্দরী নারী আর বিভিন্ন সম্পদের অধিকারী। পাদরি বলল, এগুলোর বিনিময়ে আপনি যদি জান্নাত লাভ করতে পারতেন, তবে কামিয়াব হতেন। দাউদ বললেন, কে তুমি? পাদরি বলল, আমি এক তৃষ্ণার্ত ও অনুসন্ধিৎসু বৈরাগী। দাউদ বললেন, তোমার প্রিয় বন্ধু কে? কার সাথে উঠাবসা করো তুমি? পাদরি বলল, আপনি যদি তা দেখতে চান তাহলে পাহাড়ের শীর্ষে চড়ুন। দাউদ পাহাড়ের চূড়ায় তার আস্তানায় প্রবেশ করে একটি মৃতদেহ দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, এই কি তোমার প্রিয় বন্ধু, উঠাবসার সঙ্গী? সে বলল, হ্যাঁ। দাউদ বললেন, এই লোকটি কে? পাদরি বলল, তিনি একজন বাদশাহ। তার মাথার পাশে তামার পাত্রে তার ঘটনা লিপিবদ্ধ রয়েছে। দাউদ কাছে গিয়ে তা পড়লেন। তাতে লেখা ছিল, আমি অমুকের সন্তান অমুক। আমি একজন সম্রাট। আমি হাজার বছর জীবন পেয়েছি। হাজার নগরী আবাদ করেছি। হাজার বাহিনীকে পরাজিত করেছি। হাজার নারীর ঘ্রাণ নিয়েছি। হাজার কুমারীর সতীচ্ছেদ করেছি। আমার রাজত্ব চলাকালেই একদিন মালাকুল মাওত চলে এসেছেন। তিনি আমার সাম্রাজ্য হতে আমাকে বের করে নিয়ে গিয়েছেন। আজ আমার অবস্থা হলো, মাটি আমার বিছানা। পোকা- মাকড় আমার প্রতিবেশী।
লেখাটি পড়ে দাউদ অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়লেন।
৬. তাবেঈ লাইস বিন আবু সুলাইম বর্ণনা করেন, বিখ্যাত তাবেঈ মুজাহিদ বিন জাবার বলেন, ইবরাহীম বাইতুল্লাহর ভিত্তি গড়ার সময় একটি পাথর দেখতে পান, যাতে খোদাই করে লেখা ছিল,
হে আদমসন্তান, কল্যাণের বীজ বপন করো। আনন্দের শস্য লাভ করবে। মন্দের বীজ বপন কোরো না। তাহলে পরিতাপের ফল ভোগ করতে হবে। হে আদমসন্তান, তোমরা মন্দ আমল করো। কিন্তু পরিণামে শাস্তিকে অপছন্দ করো! মনে রেখো, কাটাগুল্ম থেকে আঙুর ফল আশা করা যায় না।
৭. আবু জাকারিয়া তাইমী বলেন, একবার খলীফা সুলাইমান বিন আবদুল মালিক মসজিদুল হারামে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় তার নিকট একটি শিলালিপি আনা হলো। তিনি লেখার পাঠোদ্ধার করার মতো কাউকে খুঁজছিলেন। অবশেষে ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ -এর কাছে নিয়ে গেলে তিনি তা পড়ে শোনালেন। পাথরটিতে লেখা ছিল,
আদমসন্তান, তুমি যদি তোমার অবশিষ্ট জীবনের দিকে লক্ষ করে দেখতে, তাহলে দীর্ঘ জীবনের আশা ত্যাগ করতে। আমল বৃদ্ধিতে আগ্রহী হতে। জীবনের প্রতি আশা-আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে আনতে। আগামীকাল তুমি অপমানজনক অবস্থার সম্মুখীন হবে। অচিরেই তোমার অনুগত, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব হারিয়ে যাবে। প্রিয় সন্তান দূরে সরে যাবে। জন্মদাতা পিতা ও আত্মীয়স্বজন তোমাকে প্রত্যাখ্যান করবে। তুমি না দুনিয়াতে আর ফিরে আসতে পারবে, না তোমার আমলের পরিমাণ কেউ বাড়িয়ে দিতে পারবে। অতএব দুঃখ ও অপমানের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসার আগেই বিচার-দিবসের জন্য আমল শুরু করো। লেখাটি পড়ার পর খলীফা সুলাইমান বিন আবদুল মালিক কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
৮. মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বুরজুলানী বর্ণনা করেন, আবু মুহাম্মাদ সাইয়াত বলেন, আমি আবুল আব্বাস ওয়ালিদ -এর কাছ থেকে শুনেছি যে, ইয়াযিদ বিন মুআবিয়াহর মৃত্যুর পর ৬৪ হিজরিতে কাবা ধসিয়ে দেওয়া হয়। তখন কাবার ধ্বংসস্তূপে একটি ইট পাওয়া যায়। তার গায়ে হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল,
মরণ-যন্ত্রণার ব্যাপারে সতর্ক থেকো। মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য আমল শুরু করো। কারণ, মৃত্যুর থাবা থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। আর মৃত্যুর পর ফিরে আসারও কোনো সুযোগ নেই। মৃত্যুর ফিরিশতা আল্লাহর এমনই অনুগত যে, কখনো অবাধ্য হয় না।
৯. মুগীরা সাওয়াফ বলেন, আমি বাইতুল মুকাদ্দাসে একটি ইটের ওপর এই লেখা পড়েছি যে,
ভালোভাবে ভেবে দেখো, তোমার পূর্বে কত উম্মতকে মৃত্যুর ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে? সমস্ত প্রশংসা পবিত্র সেই সত্তার, যিনি মৃতকে জীবন দান করেন। সকল বস্তুর ওপর তিনি একক ক্ষমতার অধিকারী।
১০. আবু আবদুর রহমান যাহিদ বলেন, আমি বাইতুল মুকাদ্দাসে একটি লাঠিজাতীয় বস্তুতে নিচের লেখাটি পড়েছি,
এমন এক ঘরে তোমার জীবন কাটবে, তুমি চলে যাওয়ার পর তোমার প্রতি আস্থা রাখা লোকজনও যে ঘরের ব্যাপারে ভীত হয়ে উঠবে। আর তোমার অনুগত লোকজন অন্যের হয়ে যাবে।
১১. আবদুল্লাহ বিন লাহীআহ বলেন, আলেকজান্দ্রিয়া শহরের একজন অধিবাসী আমাকে বলেছেন যে, একবার নীলনদ থেকে একটি দামি শিলাপাথর উদ্ধার করা হয়। পাথরটিতে রোমান ভাষায় কিছু লেখা ছিল। এক ব্যক্তি এসে লেখাটি পড়ে কাঁদতে লাগল। লোকজন বলল, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! এই লেখাটি আমাকে কাঁদিয়েছে। বলল, এখানে কী লেখা আছে? তিনি বললেন,
নেক আমল করে তা ভুলে যাও। তবে গুনাহ করলে তা মনে রেখো। যে ব্যক্তি তা করবে, সে হয়তো দীর্ঘ প্রশান্তির কোনো পথ খুঁজে পাবে।
টিকাঃ
১৮৮. বাহরাম বিন বাহরাম বিন হরমুজ বিন সাবুর বিন ইবদশীর। তিনি দ্বিতীয় বাহরাম নামে প্রসিদ্ধ। মুসলিম ঐতিহাসিকগণ হরমুজ বিন সাবুরকে দ্বিতীয় বাহরামের পিতামহ হিসেবে উল্লেখ করলেও পশ্চিমা ও ইরানি ঐতিহাসিকদের অধিকাংশই চাচা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পারস্যের বিখ্যাত সাসানীয় সাম্রাজ্যের পঞ্চম শাসক। তিনি ২৭৪-২৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। আল কামিলু ফিত তারীখ (ইবনুল আসীর), ১/৩৬৬, ৩৫৭। আল মুনতাজাম (ইবনুল জাওযী), ২/৮৩। এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইরানিকা, ৩/৫১৪-৫২২。
১৮৯. ভুল তথ্য। খ্রিষ্টপূর্ব ও পরবর্তী ইরানের ইতিহাসে এত বছর রাজত্বকারী কোনো সম্রাটের ইতিহাস পাওয়া যায় না。
১৯০. আত তাবসিরাতু লি ইবনিল জাওযী, ১/৩৪৪。
১৯১. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৬৮১, ৫৮২। বর্ণনা: ৮৮৬৮। (দারু আতলাসিল খাযরা, সৌদি আরব)
১৯২. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৬৮২। বর্ণনা: ৮৮৬৯。
১৯৩. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৬৮২। বর্ণনা ৮৮৭০。
১৯৪. দাউদ -এর ভুল বলতে অনেকেই পরনারীর প্রতি তার দৃষ্টিপাত ও সাময়িক কামনার কথা বুঝে থাকেন। জালালুদ্দীন সুয়ূতী ও আবু হাতিম রাজী নিজ নিজ তাফসীরগ্রন্থে ঘটনাটি বর্ণনা করলেও তা অগ্রহণযোগ্য, যথাযথ সূত্রবিহীন এবং ইসরাঈলী রিওয়ায়াত। হাফিয ইবনুল কাসীর এই ঘটনাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন; বরং দুজন বিচারপ্রার্থীর দেয়াল টপকে দাউদ -এর ইবাদতখানায় প্রবেশের ঘটনাটি গ্রহণযোগ্য। তাফসীরু জালালাইন, ১/৬০০, ৬০১। তাফসীরু ইবনি আবী হাতিম, ১০/২৩৮, ২৩৯। তাফসীরু ইবনি কাসীর, ৭/৫১-৫৩। সুরা সোয়াদ, (৩৮): ২২-২৪ এর ব্যাখ্যায়。
১৯৫. বাগিয়্যাতুত তলাব ফি তারীখি হালাব, ৭/৪১৬।। সনদ দুর্বল。
১৯৮. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৫৮৮। বর্ণনা: ৮৮৯১。
১৯৯. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৫৮৮। বর্ণনা: ৮৮১২。
২০০. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৫৮৮। বর্ণনা: ৮৮৯৩。
২০১. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৫৮৮। বর্ণনা: ৮৮৯৪。
📄 সমাধিক্ষেত্রে উপদেশমূলক বাক্য লেখার অসিয়ত
১. সাওরাহ বিন কুদামা আসওয়ারী বলেন, আমি বিখ্যাত আবিদ আবদুল আযীয বিন সালমান-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি উপকূলীয় এলাকায় রাস্তার পাশে অবস্থিত একটি কবর-ফলকে এই পঙ্ক্তিটি পড়েছি,
ألحقنا الموت بآبائنا *** وكل من عاش فيوما يموت
মৃত্যু আমাদের প্রাক্তনের সারিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে,
মনে রেখো, আজ যে বেঁচে আছে; একদিন তাকেও মরতে হবে।
আমি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কার কবর? তারা বলল, জনৈক বৃদ্ধের। তিনি ১২০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। শেষ সময়ে তিনি তার কবর-ফলকে এই কথাগুলো লিখে দেওয়ার অসিয়ত করেন。
২. আবু খুযাইমাহ নামরী বলেন, মুহাল্লাব বিন আবু সফরাহ এর এক দাসী মৃত্যুর সময় তার কবরে এই কথাগুলো লেখার অসিয়ত করেন,
ألا أيها القبر الذي حل لحده *** قصيرة عمر حبذا أنت يا قبر
فخير لها ما الذي ساء موتها *** وخير لنا منها المثوبة والأجر
কবর! সেই ব্যক্তির জন্য কতই-না উত্তম হবে তুমি,
মৃত্যু যার দমবদ্ধ জীবনের আগল খুলে দিয়েছে।
মৃত্যুর তিক্ত স্বাদ ভুলে তোমাকে স্বাগত জানাই হে কবর!
আমলের প্রতিদান লাভের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে এখানে。
৩. আবু আলী সুফী বলেন, আমি হুসাইন বিন মাখলাদ বিন মাইমুন-এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেন, আমাদের একজন সাদা মনের প্রতিবেশী ছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি কবরে এই কথাগুলো লিখে দিতে বলে যান,
এই দুনিয়া এক পরীক্ষার জায়গা, আর আখিরাত হলো প্রতিদান লাভের স্থান। আল্লাহ তাআলা পরম করুণাময় এক প্রভু। হে পরম করুণাময়, আপনার সর্বহারা নিঃস্ব বান্দার প্রতি রহম করুন। আপনার রহমত বান্দাকে অন্যদের চেয়ে মহিমান্বিত করে তোলে। হে ওই সত্তা, যিনি আমার মা-বাবার চেয়েও বহুগুণ দয়ালু!
যে ব্যক্তি নিজের জন্য এই দুআ পাঠ করবে আর আমার জন্য দুআ করবে, তার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমীন! ইয়া রাব্বাল আলামীন!!
তিনি আরও বলেন, আমি আরেক কবরে লেখা দেখলাম,
يَا مَنْ أَبْطَرَهُ الْغِنَى ... وَأَسْكَرَتْهُ شَهْوَةُ الدُّنْيَا
اسْتَعِدُّوا لِلسَّفْرَةِ الْعُظْمَى *** فَقَدْ دَنَا مَوْرِدُكُمْ عَلَى أَهْلِ الْبَلاءِ
বিত্ত-বৈভবের নেশায় বুদ্ধি খুইয়ে বসা হে নির্বোধ!
সম্পদই যার একমাত্র নেশায় পরিণত হয়েছে,
এসব ছেড়ে দুর্গম এক যাত্রাপথের প্রস্তুতি নাও,
শীঘ্রই তোমার এই পথ শ্বাপদসংকুল উপত্যকায় গিয়ে থামবে。
৪. আবু জাকারিয়া জাশামী বলেন, তুরস্কের আনতাকিয়া শহরে আযদী গোত্রের এক ব্যক্তি মৃত্যুকালে তার কবরে এই বাক্যটি লিখে রাখার অসিয়ত করে যান,
যেদিন তুমি মহান আল্লাহ তাআলার সামনে দাঁড়াবে, সেদিন যেন তুমি বেশি বেশি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ করতে পার। ইখলাসের সাথে এই কালিমা পাঠ করার দরুন আল্লাহ তাআলা হয়তো তোমার প্রতি রহম (দয়া ও ক্ষমার আচরণ) করবেন।
৫. আবু হাতিম হানজালী বলেন, আমি ইরানের রাই শহরের একটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে এই লেখাটি দেখতে পাই,
عَبْدُ مُذْنِبُ وَرَبُّ غَفُورٌ
বান্দা গুনাহগার। মহান প্রতিপালক ক্ষমাশীল।
ঘটনাটি আমি মুহাম্মাদ বিন আবদুল করীম-এর কাছে বর্ণনা করি। তিনি বললেন, কবরটি আমার ভাইয়ের। আমিই তার কবরে এই বাক্যটি লিখে দিয়েছি。
৬. মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুসা ইস্পাহানী বলেন, আমাদের একজন সঙ্গী তার কাফনে এই কথা লিখে দিতে অসিয়ত করেন,
اللَّهُمَّ حَقَّقْ حُسْنَ ظَنِّي بِكَ
“হে আল্লাহ, আপনার প্রতি আমার সুধারণাকে বাস্তবে রূপ দান করুন।”
টিকাঃ
২০২. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৫৬৯, ৫৭০। বর্ণনা: ৮৮৩৮。
২০৩. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৫৭০। বর্ণনা: ৮৮৩৯。
২০৪. আল ইতিবারু ওয়া সিলআতুল আরিফীন, ১/২৮০。
২০৫. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৫৮০। বর্ণনা: ৮৮৬৫。
২০৬. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪। কবর অধ্যায়। বর্ণনা নং ২৭১। সনদ সহিহ。
২০৭. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪। কবর অধ্যায়। বর্ণনা নং ২৭২。
📄 সমাধিক্ষেত্রে খোদাই করা পঙক্তিমালা
১. মালিক বিন দীনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, একবার সিরিয়া যাওয়ার পথে আমি একটি কবরের নামফলকে নিচের পঙ্ক্তিমালাটি পড়েছি,
يا أيها الركب سيروا إن مصيركم ... أن تصبحوا ذات يوم لا تسيرونا
حثوا المطايا وارخوا من أزمتها *** قبل الممات وقضوا ما تقضونا
كنا أناسا كما كنتم فغيرنا دهر *** وعن قليل كما صرنا تصيرونا
হে পথিক-দল, শীঘ্রই অন্তিম যাত্রা শুরু করো,
সময় দ্রুতই শেষ হয়ে আসছে, অচিরেই একদিন থামতে হবে তোমায়,
সে যাত্রার রসদ জোগাড়ে মনোযোগ দাও, এপারের বোঝা হ্রাস করে নাও।
শেষবারের মতো শুয়ে পড়ার আগেই যা করার করে নাও।
আমরা তোমাদেরই মতো ছিলাম, কিন্তু আজ-কালের গর্ভে বিস্মৃত হয়েছি।
শীঘ্রই, খুব শীঘ্রই তোমার সামনেও এই পরিণতি ঘনিয়ে আসছে।
২. সাওরাহ বিন কুদামা আসওয়ারী বলেন, আমি আবু মালিক যাইগাম রাসিবী-এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইরাকের উবুল্লা শহরে একটি কবর-ফলকে পেয়েছি,
أنا البعيد القريب الدار منظره *** بين الجنادل والأحجار مرموس
আমি পাথরকণার প্রান্তরে এমনি এক ঘর,
আমি ছোট পাথুরে ভূমিতে প্রোথিত এমন এক ঘর,
চোখের দেখায় যা খুবই কাছে, আদতে বহুদূর।
৩. আমর বিন সাইফ মক্কী বলেন, একবার আমি তায়েফের উদ্দেশে বের হলাম। পথিমধ্যে আমার উটনী পথ হারিয়ে একটি জলাশয়ের কাছে গিয়ে পৌঁছল। সেখানে লোকালয় হতে দূরে একটি নতুন কবর দেখতে পেলাম। জায়গাটিতে রাখাল কিংবা পথহারা মুসাফির ব্যতীত অন্য কারও তেমন আনাগোনা ছিল বলে মনে হয় না। কবরটির নামফলকে লেখা দেখলাম,
رحم الله من بكي لغريب
وقد عفى غبر القبر وجهه فمحى الحسن والصفا
তার প্রতি আল্লাহ তাআলা দয়া ও মেহেরবানি করুন,
যে এই অচেনা মরহুমের জন্য দু-ফোঁটা অশ্রু ঝরাবে।
কবর তার যাবতীয় সৌন্দর্য ও গুণাবলি নিশ্চিহ্ন করে চিরচেনা চেহারাটুকু ধূলিমলিন করে দিয়েছে।
আল্লাহর শপথ! সেদিন তার জন্য কাঁদতে কাঁদতে আমি নোনা অশ্রুজলের স্বাদ গ্রহণ করেছি。
৪. ইবরাহীম বিন ইয়াকুব বর্ণনা করেন, ইয়াহইয়া বিন ইউনুস শিরাজী বলেন, আমি শিরাজ শহরের একটি কবরে এই লেখাটি পড়েছি,
ذهب الأحبة بعد طول تودد *** ونأى المزار فأسلموك وأقشعوا
خذلوك أفقر ما تكون بغربة *** لم يؤنسوك وكربة لم يدفعوا
فقضى القضاء وصرت صاحب حفرة *** عند الأحبة أعضوا وتصدعوا
মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে ফিরে গেছে প্রিয়দের কাফেলা,
দূর হতে শুধু সালাম ও দুআ দিয়ে চলে যায় জিয়ারতে আসা স্বজন।
বিপদাপদে যে লোকগুলো মুখ ফিরিয়ে ভুলে যায়নি,
তারা কিনা আজ রেখে গেল কবরে, যেন একেবারেই অচেনা!
সময়ের হিসেব ফুরিয়ে আসতেই চিড় ধরে সব বাঁধনেই,
আত্মার আত্মীয়তা ছিন্ন করে প্রিয়জন শুয়ে আছে আঁধার কবরে。
৫. বনু হাশীম গোত্রের আবু জাফর কুরাইশী বলেন, জনৈক ব্যক্তি গানের সুরে হালকা চালে বসরার এক কবরস্থানের দিকে বেরিয়ে পড়ল। চলতে চলতে একটি কবরের লেখা পড়ে সে সব ভুলে গেল। সেখানে লেখা ছিল,
يا غافل القلب عن ذكر المنيات *** عن ما قليل ستثوي بين أموات
فاذكر محلك من قبل الحلول به *** وتب إلى الله من لهو ولذات
إن الحمام له وقت إلى أجل *** فاذكر مصائب أيام وساعات
لا تطمئن إلى الدنيا وزينتها *** قد حان للموت يا ذا اللب أن يأتي
হে উদাসীন, মৃত্যুকে যে ভুলে বসে আছ,
অতি শীঘ্রই নিজেকে তুমি মৃতদের সারিতে দেখবে।
শেষের সে যাত্রা শুরুর আগেই ঠিকানাটুকু স্মরণ করো,
অতীতের ভুল-ভ্রান্তির জন্য তাওবার হাত তোলো।
বদ্ধ এ খাঁচায় সময় আগে থেকেই বেঁধে দেওয়া,
অতএব শেষ-দিবসের আসন্ন বিভীষিকা স্মরণে রেখো।
জীবনের এ হেঁয়ালি নেশায় হারিয়ে যেয়ো না,
হে বুদ্ধিমান, মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, দ্রুতপদে তা এগিয়ে আসছে।
৬. ইবনু আবিদ দুনিয়া বলেন, বনু হাশীমের মুক্তিপ্রাপ্ত গোলাম আবুল হাসান বলেন যে, তিনি একটি কবরের প্রাচীরে এই লেখাটি পড়েছেন,
يَا أَيُّهَا الْوَاقِفُ بِالْقُبُورِ *** بَيْنَ أُنَاسٍ غُيَّبٍ حُضُورٍ
قَدْ سَكَنُوا فِي خِرَبٍ مَهْجُورٍ *** بَيْنَ الثَّرَى وَجَنْدَلِ الصُّخُورِ
la تَكُ عَنْ حَظَّكَ فِي غُرُورٍ
কবরবাসী! প্রতিনিয়ত সমাজ থেকে কত মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে,
ধূলিমলিন পাথুরে ধ্বংসস্তূপে তাদের সমাধি হয়েছে।
রোজ হাশরের প্রতীক্ষায় তাদের একাকী প্রহর কাটছে,
তুমি তাই ললাটের লিখনে পরিতাপ টেনে এনো না,
মনে রেখো, কবরই আমাদের শেষ ঠিকানা।
৭. মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বুরজুলানী বর্ণনা করেন, একটি কবরে আমি পড়েছি,
إن يكن مات صغيرا فلا شيء عن صغير
كان ريحاني فصار اليوم ريحان القبور
أي أغصان مليحات بديعات بنور
غرستها في بساتين البلى أيدي الدهور
শৈশবেই মৃত্যু এসে ছিনিয়ে নিলেও এখন আর সে শিশু নয়,
আমার নয়নমণি ইতিমধ্যে জান্নাতের রাইহানা হয়ে ফুটেছে।
আগমনেই তার আলোয় চারদিক ঝলমল করে উঠেছিল,
আর আজ তাকে সময়ের কঠিন হাতে সঁপে দিয়ে গেলাম。
৮. আমর বিন যুবাইর সররাফ বলেন, আমি সিরিয়ার মাহালিবাহ দুর্গের পাশে একটি শানবাঁধানো সমাধিস্তম্ভে নিচের পঙ্ক্তিটি লিখিত পেয়েছি,
مَنْ أَبْصَرَ الْقَبْرَ فَقَدْ رَأَى عِبَرًا
جنادلا يبكين عن أوجه نضرا
কবরের দিকে ফিরে তাকালেও শিক্ষণীয় কিছু খুঁজে পাবে,
পাথরের ভাষায় কত শত যৌবন অশ্রু ফেলে নীরবে。
তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! লেখাটি পড়ে আমি নিজেকে সংবরণ করতে পারলাম না।
৯. ইবনু আবিদ দুনিয়া বলেন, আমার কিছু বন্ধুর কাছে শুনেছি, বসরার একটি কবরে তারা নিচের লেখাটি পড়েছেন,
لَئِنْ كُنْتَ لَهْوًا لِلْعُيُونِ وَقُرَّةً ... لَقَدْ صِرْتَ سُقْمًا لِلْقُلُوبِ الصَّحَائِحِ
وَهَوَّنَ وَجْدِي أَنَّ يَوْمَكَ مُدْرِي ... وَأَنِّي غَدًا مِنْ أَهْلِ تِلْكَ الضَّرَائِحِ
মনের ডাকে সাড়া দিয়ে তুমি যদি মন্দ কিছু করে বসো,
তবে তুমি তোমার সুস্থ মানসিকতাটুকু হারিয়ে ফেলবে।
মানসম্মান ধুলোয় মিশিয়ে আজ তোমার এই পরিণতি,
অতি শীঘ্রই আমিও কবরের আঁধারে এসে ঠাঁই নেব।
১০. ইবনু আবিদ দুনিয়া বলেন, সুহাইব-এর এক ছেলের কাছ থেকে একদল আলিম বর্ণনা করেন, তার কাছে বসরার কিছু লোক বর্ণনা করেছেন যে, সালিহ মুররি একটি পরিত্যক্ত প্রাসাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক প্রান্তে দুটি কবর দেখতে পেলেন। কবর দুটির পাশে একজন হাবশী ব্যক্তি বসা ছিল। তিনি বললেন, হে সালিহ, এই প্রাসাদের মালিক দুজনের অবস্থা দেখে আপনার শিক্ষা নেওয়া উচিত। একটি কবরে লেখা ছিল,
يَا أَيُّهَا الرَّكْبُ سِيرُوا الْيَوْمَ وَاعْتَبِرُوا *** فَعَنْ قَلِيلٍ تَكُونُوا مِثْلَنَا عِبَرًا
كُنَّا وَكَانَتْ لَنَا الدُّنْيَا بِلَذَّتِهَا *** فَمَا اعْتَبَرْنَا وَمَا كُنَّا لِنَزْدَجِرَا
حَتَّى رَمَانَا الرَّدَى مِنْهُ بِأَسْهُمِهِ *** فَلَمْ يُبْقِ لَنَا عَيْنًا وَلَا أَثَرًا
হে পথিক, সম্মুখে অগ্রসর হও, শিক্ষা গ্রহণ করো,
তোমরা তো আমাদের মতোই, খুব বেশি শিখতে চাও না।
একসময় যাবতীয় ভোগ-বিলাসিতা নিয়ে আমরাও এখানে ছিলাম,
একসময় আমরা এই দুনিয়াতে ছিলাম, যাবতীয় স্বাদ নিয়ে দুনিয়াও সাথে ছিল,
কিন্তু সে সময় কোনো শিক্ষাই আমরা আমলে নিইনি। নিজেদের নিয়ে ভাবিনি।
পরিশেষে আচমকা একদিন সব লুটে নিয়ে দুনিয়া আমাদের ছুঁড়ে ফেলেছে।
আজ তার কিছু স্মৃতি আর গুটিকয়েক সাক্ষী ছাড়া কিছুই নেই।
১১. ইসহাক বিন হাকিম বলেন, জনৈক শাইখ আমার কাছে বর্ণনা করে বলেন, আমরা সিরিয়া যাওয়ার পথে একটি কবরস্থানের পাশে যাত্রাবিরতি করি। সেখানে একটি কবরের ফলকে এই লেখাটি দেখতে পাই,
أَيَضْمَنُ لِي فَتًى تَرْكَ الْمَعَاصِي *** وَأَرْهَنُهُ الْكَفَالَةَ بِالْخَلاصِ
أَطَاعَ اللَّهَ قَوْمٌ فَاسْتَرَاحُوا *** وَلَمْ يَتَجَرَّعُوا غُصَصَ الْمَعَاصِي
ভরা যৌবনে গুনাহ ছাড়ার ওয়াদা করেছিলাম,
আজ সে দায় হতে মুক্তির ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছি।
এক জামাত তো রবের আনুগত্যে শান্তির পথ বেছে নিয়েছে,
পাপাচারের বিষাক্ত পেয়ালায় যারা আদৌ ঠোঁট ছোঁয়ায়নি।
১২. মুহাম্মাদ বিন আলী তঈল বর্ণনা করেন, বসরাতে এক লোক আমাকে বলেন, আমি (বর্তমান ইরানের খুজিস্তানের প্রধান শহর) আহওয়াজে একটি কবরের ফলকে এই পঙ্ক্তিমালা পাঠ করেছি,
الْمَوْتُ أَخْرَجَنِي مِنْ دَارِ مَمْلَكَتِي *** فَالتَّرْبُ مُضْطَجَعِي مِنْ بَعْدِ تَتْرِيفِي
لِلَّهِ عَبْدُ رَأَى قَبْرِي فَأَحْزَنَهُ *** وَخَافَ مِنْ دَهْرِهِ رَيْبَ التَّصَارِيفِ
هَذَا مَصِيرُ ذَوِي الدُّنْيَا وَإِنْ جَمَعُوا *** فِيهَا وَغَرَّهُمْ طُولُ التَّسَاوِيفِ
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ مِنْ عَمْدِي وَمِنْ خَطَئِي *** وَأَسْأَلُ اللَّهَ فَوْزِي يَوْمَ تَوْقِيفِي
আপন বাসস্থান হতে মৃত্যু আমাকে নিগৃহীত করে ছেড়েছে,
কবরের মাটিও নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার ফন্দি এঁটেছে
শপথ প্রভুর! আমার কবর দেখতেই লোকজন আনমনা হয়ে পড়ে,
জীবনের রন্ধ্রে রন্দ্রে নানা শঙ্কা তাদের মনে দোল খায়।
আসলে পার্থিব আশা-আকাঙ্ক্ষায় বাঁচা সকলের অবস্থাই এমন,
পুরো জীবন সীমাহীন দুর্ভাবনা তাড়িয়ে বেড়ায়।
রবের দরবারে তাই ক্ষমা চাই, যত ভুল ও ভ্রান্ত কামনার জন্য।
সেই সাথে রোজ হাশরে সৌভাগ্যের আশায় বুক বাঁধি।
১৩. মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বুরজুলানী বর্ণনা করেন, কোনো এক কবরস্থানে একটি কবরের ফলকে আমি এই লেখাটি পড়েছি,
وَلَيْسَ لِلْمَيِّتِ فِي قَبْرِهِ *** فِطْرُ وَلَا أَضْحَى وَلَا عَشْرُ
نَأَى عَنِ الْأَهْلِ عَلَى قُرْبِهِ *** كَذَاكَ مَنْ مَسْكَنُهُ الْقَبْرُ
সমাহিত ব্যক্তির জন্য ফিতর বা আযহা বলে কোনো ঈদ নেই,
প্রিয়জন ছেড়ে দূরে কোথাও যেমন উপভোগ্য কিছু থাকে না,
কবরের জীবনও তেমনি উদাস, জৌলুসহীন。
১৪. ইবনু আবিদ দুনিয়া বলেন, আরেকটি কবরে লেখা ছিল,
عِشْتُ دَهْرًا فِي نَعِيمٍ *** وَسُرُورٍ وَاغْتِبَاطِ
ثُمَّ صَارَ الْقَبْرُ بَيْتِي *** وَتَرَى الْأَرْضِ بِسَاطِي
কতকাল আমি বিত্ত-বৈভব আর প্রাচুর্যের মাঝে কাটিয়ে দিয়েছি,
শেষ পর্যন্ত কবরের ঘরে মাটির শয্যায় শায়িত হয়েছি。
১৫. ইবনু আবিদ দুনিয়া বলেন, এক কবরে আমি এই লেখাটি দেখেছি,
الْقَبْرُ بَيْتُ سَوْفَ تَسْكُنُهُ *** مَاذَا عَمِلْتَ لِيَوْمِ الْقَبْرِ يَا سَاهِي
কবর, সে তো বেদনার ঠিকানা, অচিরেই আমরা যার বাসিন্দা হতে চলেছি,
হায় উদাসী মন! সেদিনের জন্য কী আমল করেছ তুমি?
১৬. ইবনু আবিদ দুনিয়া বলেন, এক কবরে আমি এই লেখাটি পড়েছি,
أنا في القبر وحيدا قد تبرأ الأهل مني
أسلموني بذنوبي خبت إن لم يعف عني
আঁধার কবরে একাকী পড়ে আছি, প্রিয়জন সেরে গেছে দাফনের দায়,
মহান রবের দয়া ও ক্ষমা চাই, মাথা পেতে নিয়েছি সব গুনাহের দায়。
১৭. মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বুরজুলানী বর্ণনা করেন, কোনো এক নির্জন প্রান্তরে অবস্থিত একটি কবরে আমি লেখাটি পড়েছি,
قَبْرُ عَزِيزٍ عَلَيْنَا *** لَوْ أَنَّهُ كَانَ يُفْدَى
أَسْكَنْتُ قُرَّةَ عَيْنِي *** وَمُنْيَةَ النَّفْسِ لَحْدًا
مَا جَارَ خَلْقُ عَلَيْنَا *** وَلَا الْقَضَاءُ تَعَدَّى
وَالصَّبْرُ أَحْسَنُ شَيْءٍ *** بِهِ الْفَتَى يَتَرَدَّى
সমাহিত প্রিয়তমের জন্য যদি নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারতাম,
তা হতো চোখের শীতলতা, বয়ে আনত চিত্তের তৃপ্তি।
আজ আর কেউ রইবে না পাশে, নিয়তির খাতায় ফিরবে না কেউ,
এ বেদনা সয়ে যাওয়া ছাড়া কিছুই করার নেই。
১৮. মুহাম্মাদ বিন উমর বিন ঈসা আম্বারী বলেন, একবার আমি বসরার একটি কবরস্থানে ছিলাম। হঠাৎ আকাশে মেঘ ছেয়ে গেলে আমি একটি গম্বুজের নিচে আশ্রয় গ্রহণ করি। গম্বুজটি একটি কবরের ওপর নির্মিত ছিল। কবরটির ফলকে লেখা ছিল,
سَيُعْرَضُ عَنْ ذِكْرِي وَتُنْسَى مَوَدَّتِي *** وَيَحْدُثُ بَعْدِي لِلْخَلِيلِ خَلِيلُ
إِذَا انْقَطَعَتْ يَومًا مِنَ الْعَيْشِ مُدَّتِي *** فَإِنَّ عَنَاءَ الْبَاكِيَاتِ قَلِيلُ
কিছুদিনের মধ্যেই স্মৃতির আড়াল হয়ে মুছে যাব সব মন থেকে,
হৃদয়ে হৃদয়ে আমার স্থান চলে যাবে অন্য কারও দখলে।
কবরের জীবনে এক-একটি দিন শেষ হতেই,
নোনা জলে স্মৃতি ধরে রাখা প্রিয়দের তালিকা ছোট হতে থাকে।
১৯. উমর বিন আবদুল্লাহ বলেন, জনৈক ব্যক্তি তাকে বলেন, আমি একটি গম্বুজবিশিষ্ট কবরে লিপিবদ্ধ এই পঙ্ক্তিটি পড়েছি,
يَا مَنْ يَصِيرُ غَدًا إِلَى دَارِ الْبِلَى *** وَيُفَارِقُ الإِخْوَانَ وَالْخَلانَا
إِنَّ الأَمَاكِنَ فِي الْمَعَادِ عَزِيزَةٌ *** فَاخْتَرْ لِنَفْسِكَ إِنْ عَقَلْتَ مَكَانًا
দিন ফুরোলেই স্বজনের মায়া ছেড়ে যে ব্যক্তি আঁধার কবরে চলে যাচ্ছে,
মনে রেখো, এ ঘর খুব প্রিয় কোনো জায়গা নয়।
তুমি যদি বুদ্ধিমান হও, তবে এ ঘরখানি এখনই সাজিয়ে নাও。
২০. আবু আলী নাযযার বলেন, জনৈক ব্যক্তি নিচের লেখাটি খোদাই করে নিজের পরিবারের একজনের কবরে রেখে দেয়,
وَكَيْفَ بَقَائِي بَعْدَ الْفِي وَصَاحِبِي *** وَنَفْسِي قَدْ ذَابَتْ وَمَاتَ سُرُورُهَا
وَإِنِّي لَآتٍ قَبْرَهُ فَمُسَلَّمُ * وَإِنْ لَمْ تَعْلَمْ حُفْرَةً مَنْ يَزُورُهَا
প্রিয় বন্ধুর অকাল বিদায়ে আমি ভালো থাকি কীভাবে?
হৃদয়ের আবেগ বিগলিত হয়ে নেমে গেছে সুখের পারদ,
আমি তো নিত্যই জিয়ারতে আসি, কিন্তু বন্ধু নীরব থাকে,
হায়! তোমার তো সাক্ষাৎপ্রার্থীর সাথে সাক্ষাৎ কিংবা আলাপের উপায় নেই。
২১. আবু আলী নাযযার বলেন, এক কবরের ফলকে খোদাই করে লেখা আছে,
يَا أَيُّهَا الْمَيِّتُ الْمُغَيَّبُ في الثَّرَى *** زُرْتَ الْقُبُورَ فَمَا تَحِسُّ وَلَا تَرَى
لَمَّا نُقِلْتَ إِلَى الْمَقَابِرِ مَيِّتَا *** لَمْ يَبْقَ دَمْعُ جَامِدُ إِلَّا جَرَى
جَاوَرْتَ قَوْمًا لَا تَوَاصُلَ بَيْنَهُمْ *** وَيَفُوتُ ضَيْفَهُمُ الْكَرَامَةُ وَالْقِرَى
কবরের আঁধারে আড়াল হওয়া মৃত ব্যক্তি!
নিয়মিত আমি তোমাদের জিয়ারতে আসি,
তুমি তার কিছুই দেখতে পাও না, বুঝতে পার না।
আমিও একদিন খাটলিতে চড়ে এখানে আসব,
সেদিন অশ্রু শুকিয়ে বিলাপ করার মতো কিছুই আর থাকবে না।
সেদিন এমন কিছু প্রতিবেশী হবে, যাদের সাথে সম্পর্কের পথ নেই।
উপায় নেই ডেকে এনে খানিকটা আপ্যায়নের。
২২. উমর বিন আবদুর রহমান বর্ণনা করেন, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া সুকরী বলেন, আমার কাছে এই খবর পৌঁছেছে যে, একটি কবরে শিয়র ঘেঁষে পাথরের নিচে এই লেখাটি পাওয়া গেছে,
وَغَافِلٍ أُوذِنَ بِالصَّوْتِ *** لَمْ يَأْخُذِ الْعُدَّةَ لِلْقَوْتِ
إِنْ لَمْ تَزُلْ نِعْمَتُهُ قَبْلَهُ *** زَالَ عَنِ النَّعْمَةِ بِالْمَوْتِ
মৃত্যুর ফরমান জারি হয়ে গেছে, আর সে কিনা এখনো উদাসীন!
হায়! আখিরাতের সামানা আদৌ তৈরি হয়নি।
এপার থেকে যা কিছু এখনো পাঠানো হয়নি,
মৃত্যুর আঘাতে সেসব নিঃশেষ হয়ে যাবে।
২৩. আমার পিতা মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বর্ণনা করেন, সাকিফ গোত্রের জনৈক বৃদ্ধ বলেন, ইরাকের হীরা শহরের একটি কবরে নিচের পঙ্ক্তিমালা লেখা একটি পাথর পাওয়া যায়,
حَلَبْتُ الدَّهْرَهَ أَشْطَرَهُ سَعِيدًا *** وَيَلْتُ مِنَ الْمُنَى فَوْقَ الْمَزِيدِ
وَكَافَحْتُ الأُمُورَ وَكَافَحَتْنِي *** وَلَمْ أَخْضَعْ لِمُعْضَلَةٍ كَرُودِ
وُلِدْتُ أَنَالُ فِي الشَّرَفِ القُرُيَّا *** وَلَكِنْ لَا سَبِيلَ إِلَى الْخُلُو
অনন্ত অসীমের গভীর সাধনায় জীবন ব্যয় করেছি,
সুদূর বিস্তৃত কল্পনার জাল বিছিয়েছি,
সাফল্যের কঠিন চড়াই উতরাতে সামর্থ্যের শেষ বিন্দু পর্যন্ত বিলিয়ে এসেছি।
সবশেষে কবরের আঁধার ঠিকানায় সমাহিত,
হাজার সাধনাতেও এখানে থাকার কোনো সুযোগ মিলেনি。
২৪. আবু বকর বিন মুহাম্মাদ হারীরী বলেন, একটি কবরে লেখা ছিল,
يَا أَيُّهَا الْوَاقِفُ بِالْقَبْرِ عِشَاءً وَسَحَرْ *** إِنَّ فِي الْقَبْرِ عِظَامًا بَالِيَاتٍ وَعِبَ
দিনের আলোয় বা রাতের আঁধারে যে কবর জিয়ারত করে,
মনে রেখো, জীর্ণ হাড়ের স্তূপ এখানে চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে।
২৫. ইবনু আবিদ দুনিয়া বলেন, সিরিয়ার ঈলা শহরের একটি কবরে আমি নিচের লেখাগুলো পড়েছি,
الْمَوْتُ بَحْرُ غَالِبٌ مَوْجُهُ *** تَضِلُّ فِيهِ حِيلَةُ السَّابِحِ
يَا نَفْسُ إِنِّي قَائِلٌ فَاسْمَعِي *** مَقَالَةٌ مِنْ مُشْفِقٍ نَاصِحِ
مَا اسْتَصْحَبَ الإِنْسَانُ فِي قَبْرِهِ *** مِثْلَ التَّقَى وَالْعَمَلِ الصَّالِحِ
মৃত্যু হলো উত্তাল সাগরের মতো,
দক্ষ সাঁতারুও যেখানে হেরে যায়।
হে মন, ভারাক্রান্ত হয়ে কিছু নসিহত করছি,
ভালো করে শুনে রাখো,
কবরের একাকী জীবনে খোদাভীতি আর নেক আমলের চেয়ে ভালো কোনো বন্ধু হতে পারে না。
২৬. আবদুল মালিক বিন হিশام বলেন, একটি কবরে নিচের পঙ্ক্তিটি পাওয়া গেছে,
اِصْبِرْ لِدَهْرٍ نَالَ مِنْكَ فَهُكَذَا
مَضَتِ الدُّهُوْرُ فَرَحُ وَحُزْنُ مَرَّةً
لَا الْحُزْنُ دَامَ وَلَا السُّرُوْرُ
সময়ের স্রোতে যা কিছু এসেছে, ধৈর্য সহকারে তা প্রতিহত করো,
সময়ের স্রোতেই আবার ভেসে যাবে সব,
এ জীবনে সুখ-দুখ কোনোটাই স্থায়ী নয়。
২৭. সুওয়াইদ বিন আমর কালবী বলেন, জনৈক ব্যক্তির কবরে লিখিত রয়েছে,
بادر شبابك قبل وقت رحيله *** واعمل ليومك يا أخا الأشراف
সময় শেষ হয়ে আসার আগেই যৌবনের শক্তিকে কাজে লাগাও,
প্রিয় ভাই, এখন থেকেই আখিরাতের আমলে মন দাও。
২৮. মাসারিহ নামক এলাকার মসজিদের ইমাম কুলাইব বিন ওয়াইল বলেন,
আমরা এই শতকের শুরুতে ভারতীয় উপমহাদেশের জিহাদে অংশগ্রহণ করেছি।
সে সময় আতকাবাহ নামক স্থানে একটি গাছ দেখতে পাই, যাতে একটি লাল গোলাপ ফুটে ছিল। আর তাতে শ্বেত বর্ণে স্পষ্ট হরফে লেখা ছিলঃ
لا إله إلا الله محمد رسول الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ)。
টিকাঃ
২০৮. হিলইয়াতুল আওলিয়া ওয়া তবাকাতুল আসফিয়া, ২/৩৮৩। মালিক বিন দীনার অধ্যায়。
২০১. আহওয়ালুল কুবুর, ১৪৭。
২১০. আল আহওয়াল (ইবনু রজব হাম্বলী), ১৪৭。
২১১. আহওয়ালুল কুবুর, ১৪৬。
২১২, আহওয়ালুল কুবুর, ১৪৭。
১১৩. মাহীরুল গরামিস সাকিন, ৫১২。
২১৪. আল ইতিবারু ওয়া সিলআতুল আরিফীন, ১/২৮০。
২১৫. মাওসুআতু ইবনি আবিদ দুনিয়া, ৪/৫৭০। বর্ণনা: ৮৮৩৯。
২১৬. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫১২。
২১৭. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫১৫。
২১৮. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫০৮。
২১৯. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫০৮。
২২০. মাহীরুল গরামিস সাকিন, ৫১০。
২২১. মাহীরুল গরামিস সাকিন, ৫১২。
২২২. মাহীরুল গরামিস সাকিন, ৫১৫。
২২৩. আহওয়ালুল কুবুর, ১৪৮。
২২৪. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫০৯。
২২৫. বিদায়া ওয়া নিহায়া, ১১/১২২। (দারু হাজার)
২২৬. বুসতানুল ওয়াইজীন ওয়া রিয়াদুস সামিঈন, ১৬৬。
২২৭. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫১৪。
২২৮. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫১৪。
২২৯. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫১৪。
২৩০. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫১৩; মুজামুল বুলদান, ২/৫২১。
২৩১. মাহীরুল গরামিস সাকিন, ৫১৩。
২৩২. মাছীরুল গরামিস সাকিন, ৫১৩। সনদ সহীহ。
২৩৩. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৯৬২৭。
২৩৪. আহওয়ালুল কুবুর, ১৪৭১。
২৩৫. মুজামু ইবনিল মুকরি, ১৭০। বর্ণনা নং ৫০৫。