📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 সালাফের দেখা কবরের আযাব

📄 সালাফের দেখা কবরের আযাব


১. ইমাম শাবী বলেন, আবদুল্লাহ বিন উমর রাসুল-কে বললেন,
إِنِّي مَرَرْتُ بِبَدْرٍ فَرَأَيْتُ رَجُلًا يَخْرُجُ مِنَ الْأَرْضِ فَيَضْرِبُهُ رَجُلٌ بِمِقْمَعَةٍ مَعَهُ حَتَّى يَغِيبَ فِي الْأَرْضِ ثُمَّ يَخْرُجُ فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ ذَلِكَ مِرَارًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ذَاكَ أَبُو جَهْلِ بْنُ هِشَامٍ يُعَذِّبُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
আমি বদর প্রান্তরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম মাটি ফুঁড়ে এক লোক উঠে আসছে। এমন সময় আরেকজন এসে হাতুড়ি দিয়ে তাকে আঘাত করল। আঘাতের তীব্রতায় সে মাটিতে দেবে (অদৃশ্য) হয়ে গেল। এভাবে কয়েকবার তার সাথে এমন ঘটনা ঘটে। সব শুনে রাসুল বললেন, এই লোকটি হলো আবু জাহল বিন হিশাম। কিয়ামত পর্যন্ত তাকে এভাবেই শাস্তি দেওয়া হবে।”
২. আমর বিন দীনার বলেন, সালিম বিন আবদুল্লাহ তার পিতা আবদুল্লাহ বিন উমর ইবনুল খাত্তাব হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
একবার আমি মক্কা-মদীনা সফর করছিলাম। পথিমধ্যে পানিভর্তি একটি ছোট পাত্র নিয়ে একটি কবরস্তানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তি কবর হতে বের হয়ে আসল। তার গলায় বেড়ি পরানো। সে আমাকে বলল, হে আবদুল্লাহ, আমাকে পানি পান করান। হে আবদুল্লাহ, আমাকে সিক্ত করুন। আল্লাহর শপথ! আমি বুঝতে পারলাম না, সে কি আমার নাম জানত নাকি আরবদের স্বাভাবিক রীতি হিসেবে আবদুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) বলে ডাকছিল? এমন সময় আরেক ব্যক্তি উঠে এসে বলল, হে আবদুল্লাহ, তাকে সিক্ত করবেন না। তাকে পানি পান করাবেন না। অতঃপর তার গলার বেড়ি ধরে টেনে তাকে কবরে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। "
৩. হিশাম বিন উরওয়াহ তার পিতা উরওয়াহ বিন যুবাইর-এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, একবার তিনি মক্কা-মদীনা সফর করছিলেন। পথিমধ্যে
একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে হঠাৎ একটি কবর হতে লোহার বেড়ি জড়ানো অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এক লোক বেরিয়ে এল। বেরিয়ে এসেই সে বলল, হে আবদুল্লাহ, আমাকে পানি পান করান। বারি সিক্ত করুন। ইতিমধ্যে তার পেছনে আরেকজন লোক বেরিয়ে এসে বলল, হে আবদুল্লাহ, আপনি তাকে সিক্ত করবেন না। পানি দেবেন না।
বর্ণনাকারী বলেন, এ দৃশ্য দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে উটের পিঠ থেকে উল্টে পড়ে যান। তার জিনিসপত্র এদিক-সেদিক ছড়িয়ে রইল। সকালে যখন তার জ্ঞান ফিরল, তখন ধুলোবালিতে তার চুল সাদা হয়ে ছাগামাহ ঘাসের ন্যায় হয়ে যায়।
সফর শেষে খলীফা উসমান বিন আফফান -কে বিষয়টি জানালে তিনি একাকী সফর করতে নিষেধ করেন。
৪. আবু কুযআ বসরী নিজের কিংবা অন্য একজনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, একবার আমরা আমাদের এলাকা ও বসরার মধ্যবর্তী জলাধারগুলোর একটির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে এক জায়গায় আমরা বিকট স্বরে গাধার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমরা স্থানীয় একজনকে বললাম, এই ভয়ংকর আওয়াজটি কিসের? সে বলল, আওয়াজটি আমাদের এলাকার একজন মৃত ব্যক্তির। জীবদ্দশায় তার মা তাকে কিছু বললে উত্তরে সে বলত, তুমি অমন কর্কশ স্বরেই চ্যাঁচাতে থাকো। তার মৃত্যুর পর থেকে প্রতিরাতে তার কবর হতে এমন কর্কশ আওয়াজ ভেসে আসে。
৫. আমর বিন দীনার বলেন, মদীনায় এক লোক ছিল, যার একজন বোন থাকত মদীনার শেষ প্রান্তে। বোনটি নানা কষ্টে ভুগত। সে মাঝে মাঝে তার বোনকে দেখতে যেত। দেখে আবার ফিরে আসত। একসময় বোনটি মারা গেল। খবর পেয়ে লোকটি এসে জানাযার ব্যবস্থা করল। কবর পর্যন্ত বোনের লাশ নিয়ে গেল। যথাযথভাবে দাফন করে বাড়ি ফিরল। ঘরে ফিরে তার মনে পড়ল যে, কবরে নামার সময় ভুল করে তার মুদ্রার থলেটি সেখানে ফেলে এসেছে। থলেটি উদ্ধার করতে এক ব্যক্তির সাহায্য কামনা করলে সে এগিয়ে আসল। উভয়ে কবরস্থানে গিয়ে কবরের মাটি কিছুটা সরাতেই থলেটি পেয়ে গেল। তখন ভাইটি বলল,
আরেকটু খুঁড়ে দেখো তো আমার বোনটার কী অবস্থা? একটু দেখি। কথামতো কবরের একটি ইট সরাতেই দেখা গেল, পুরো কবর আগুনের শিখায় দাউ দাউ করছে। ইটটি যথাস্থানে রেখে লোকটি তড়িঘড়ি তার মায়ের কাছে ফিরে আসল। মাকে জিজ্ঞাসা করল, আমার বোনের অবস্থা কেমন ছিল বলুন তো। মা বললেন, তোমার বোনের কথা আর বোলো না। সে তো ধ্বংস হয়ে গেছে! ছেলে বলল, তার কী সমস্যা ছিল খুলে বলুন। মা বললেন, সে নামায আদায়ে খুব টালবাহানা করত। তা ছাড়া অযুর ব্যাপারে যথাযথ খেয়াল রাখত না। আর প্রতিবেশীরা শুয়ে পড়লে তাদের দরজায় কান পাতত। আড়ি পেতে শোনা কথাগুলো আবার মানুষের মাঝে বলে বেড়াত。
৬. হুসাইন আসাদী বর্ণনা করেন, মারছাদ বিন হাওশাব বলেন, একবার আমি ইউসুফ বিন আমর-এর নিকট বসা ছিলাম। তার পাশেই এক ব্যক্তি বসে ছিলেন, যার চেহারার এক পাশ লোহার মতো শক্ত ও সমান হয়ে আছে।
ইউসুফ তাকে বললেন, তুমি যা দেখেছ, মারছাদকে তা খুলে বলো।
সে বলল, কুৎসিত এই ঘটনাটি যখন ঘটে তখন আমি যুবক। দেশে তখন প্লেগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি ভাবলাম, শহরের কোনো এক প্রান্তে চলে যাই যেখানে লোকজনের দাফন হয়। এবং এসব কাজে অংশ নেওয়া যায়। যেই ভাবা সেই কাজ। এমনই একদিন আমি কবর খোঁড়ার কাজে মগ্ন ছিলাম। কাজ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ের কথা। আমি একটি কবর খুঁড়ে তার মাটি অন্য কবরের ওপর ফেলছিলাম। এমন সময় একজন পুরুষ মানুষের মৃতদেহ আনা হলো। তাকে দাফন করে মাটি দিয়ে লোকজন চলে গেল। লোকজন চলে যাওয়ার পরপরই পশ্চিম দিক হতে উটের মত বিশালাকৃতির ও সাদা বর্ণের দুটি পাখি উড়ে এল। একটি তার মাথার দিকে আর অন্যটি পায়ের দিকে এসে নামল। পাখি দুটি তাকে জাগিয়ে তুলল। একটি পাখি তার কবরে নেমে গেল। অন্যটি এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে রইল। আমি তখন আমার কর্মরত কবরের এক কোনায় চলনশক্তি হারিয়ে বসে ছিলাম। আমার মুখ এমনভাবে হা হয়ে ছিল, যেন কোনোভাবেই তা পূর্ণ হওয়ার মতো নয়। ইতিমধ্যে কবরে নামা পাখিটি মৃত ব্যক্তির হাতের ডান দিকে একটি ঠোকর মারল। আমি শুনতে পেলাম, পাখিটি
তাকে বলছে, তুমি কি শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সময় দুটি ফিনফিনে মিসরীয় পোশাক গায়ে চাপিয়ে অহংকার করতে করতে যাওনি? লোকটি বলল, এ বিষয়ে আমি দুর্বল ছিলাম।
এ কথা বলতে পাখিটি তাকে আরেকটি ঠোকর মারল। এতে পুরো কবর পানি বা চর্বি-জাতীয় কিছুর ফেনায় ভরে উঠল। এভাবে তিনবার ঠোকর মারল। আর তিনবারই কবরে পানি বা চর্বি-জাতীয় কিছুর ফেনা ছড়িয়ে পড়ল। অতঃপর মাথা উঠাতেই পাখিটির দৃষ্টি পড়ল আমার দিকে।
আমাকে দেখেই সে বলে উঠল, আল্লাহ তার অকল্যাণ করুন! সে কোথায় বসে আছে দেখেছ? এই বলেই আমার চেহারার একপাশে ঠোকর মেরে বসল। ঠোকর খেয়ে আমি সারা রাত অচেতন অবস্থায় সেখানেই পড়ে রইলাম। সকালে হুঁশ ফেরার পর আমি নিজের এই অবস্থা দেখতে পেলাম। আর নিজের বসে থাকার কথা মনে করতে লাগলাম।
বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হুবহু এমন কিংবা কাছাকাছি কথা বলেছেন।
৭. আবু আবদুর রহমান বিন বুহাইর বর্ণনা করেন, ইরাকের মুজিবিয়া শহরের ছাগার নামক এলাকার হাসান বিন ফুরাত নামক জনৈক ব্যক্তি নিজের অবস্থান বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, একদিন তিনি আবু ইসহাক ফারাযি-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এসে কাফন-চোরদের তাওবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললেন, যারা কবর খোঁড়ে, তাদের কি তাওবা করার কোনো সুযোগ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। নিয়ত যদি ঠিক থাকে তবে তার তাওবা কবুল হবে। আর তার সত্যতা সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহ তাআলাই অবগত আছেন।
লোকটি বলল, কবর খুঁড়তে গিয়ে আমি এমন অনেক লাশ দেখেছি, যাদের চেহারা কিবলা হতে ঘুড়ে গিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে আবু ইসহাক ফারাযি-এর সঠিক ধারণা না থাকায় তিনি ইমাম আওযাঈ-এর নিকট 'কাফন-চোরদের' বিষয়টি জানিয়ে পত্র পাঠালেন। জবাবে ইমাম আওযাঈ লিখলেন, নিয়ত ঠিক থাকলে তার তাওবা কবুল
হবে। আর নিয়তের সততার বিষয়টি আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। আর সে যে, বিভিন্ন মানুষের চেহারা কিবলা হতে ঘুরে যেতে দেখেছে; তারা হলো সেসব মানুষ, যারা সুন্নাতবিমুখ অবস্থায় মারা গিয়েছে。
৮. আবদুল মুমিন বিন আবদুল্লাহ বলেন, এক কাফন-চোর তাওবা করে কবর খননের কাজ ছেড়ে দেয়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কবর খননকালে তোমার দেখা সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা কী ছিল?
সে বলল, একবার আমি কবর খুঁড়ে একটি লাশ উঠালাম। লাশটির সারা দেহে পেরেক মারা ছিল। তার মাথায় একটি বড়সড় পেরেক ঠোকা ছিল। এমনি আরেকটি ছিল পায়ে।
এমনিভাবে আরেক কাফন-চোরকে তার তাওবার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল, একবার আমি একটি লাশ কবর থেকে তুললাম। সে সময় আমি তার চেহারা কিবলা হতে অন্য দিকে ঘুড়ানো অবস্থায় পেয়েছি।
৯. মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বর্ণনা করেন, আবুল হারীশ তার মায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আব্বাসি খলীফা আবু জাফর মানসুর ১৩৬ হিজরিতে খিলাফত লাভ করে কুফার চারপাশে যখন পরিখা খনন শুরু করেন, লোকজন তখন পরিখাস্থল হতে নিজেদের মৃত স্বজনদের স্থানান্তর করেন। সে সময় এক মৃত যুবককে নিজের হাতে কামড় দেওয়া অবস্থায় দেখা যায়।
১০. মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বর্ণনা করেন, হুওয়াইরিছ বিন জুবাব বলেন, একবার আমি উটের পিঠে চড়ে অনেক পুরোনো ও বিশাল একটি গাছের নিচে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় পাশের একটি কবর হতে এক ব্যক্তি উঠে এল। যার চেহারা ও মাথায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। গায়ে লোহার পোশাক জড়ানো। বেড়িয়ে এসেই সে বলতে লাগল, আমাকে একটু পানি পান করান। পানি পান করান। এমন সময় তার পেছনে আরেক ব্যক্তি বেরিয়ে আসল। সে বলতে লাগল, এই কাফিরকে পানি পান করাবে না। বলেই সে তাকে ধরে ফেলল। পেছনে আসা লোকটি তার গায়ে জড়ানো শেকলের দু-প্রান্ত ধরে টেনে-
হিঁচড়ে নিয়ে গেল এবং আমাদের সামনে দিয়ে দুজনই কবরে ঢুকে গেল। এ দৃশ্য দেখে আমার উট ঘাবড়ে গিয়ে ছুটে পালাতে লাগল। আমি কোনোভাবেই তাকে বাগে আনতে পারছিলাম না। ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে ছুটতে অবশেষে উটটি 'আরকুষ যবইয়াহ' এলাকায় এসে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। আমি উটের পিঠ হতে নেমে মাগরিব ও এশার নামায আদায় করলাম। এরপর আবার উটের পিঠে উঠে সকালে মদীনায় আসলাম। মদীনায় আমি উমর ইবনুল খাত্তাব-এর সাথে সাক্ষাৎ করে ঘটনাটি বললাম। সব শুনে তিনি বললেন, হুওয়াইরিছ, তুমি খুব বিস্ময়কর ঘটনা শোনালে! অবশ্য তোমাকে মিথ্যা বলার অপবাদ দিচ্ছি না।
মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বলেন, এরপর উমর শহরের উভয় প্রান্তের ইসলামপূর্ব জাহিলী যুগ দেখা বয়স্ক লোকজনকে ডেকে পাঠালেন। লোকজন জমা হলে তিনি হুওয়াইরিছ-কেও ডেকে পাঠালেন। তিনি আসলে উমর সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হুওয়ারিছের প্রতি আমি সন্দেহ পোষণ করছি না। তবে সে খুব আশ্চর্যজনক ঘটনা শুনিয়েছে। হুওয়াইরিছ, তুমি আমাকে যা শুনিয়েছ, তাদেরও তা শোনাও। তিনি ঘটনাটি শোনালেন। ঘটনা শুনে উপস্থিত লোকজন বলে উঠল, আমীরুল মুমিনীন, আমরা লোকটিকে চিনতে পেরেছি। সে গিফার গোত্রের লোক। জাহিলী যুগেই তার মৃত্যু হয়েছে। উমর তার ব্যাপারে আরও কিছু জানতে চাইলে তারা বলল, সে জাহিলী যুগের প্রথা মেনে চলা লোকদের একজন ছিল। তবে সে আরব রীতি অনুসারে অতিথি আপ্যায়ন করত না।
১১. মুফাযযাল বিন ইউনুস জুফী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে, একবার খলীফা উমর বিন আবদুল আযীয মাসলামাহ বিন আবদুল মালিককে জিজ্ঞাসা করলেন, মাসলামাহ, তোমার পিতা খলীফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ানের দাফন-কাফনের কাজ কে করেছে? মাসলামাহ বললেন, আমীরুল মুমিনীন, অমুক অমুক করেছে।
তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিককে কারা দাফন করেছে? মাসলামাহ বললেন, অমুক অমুক।
খলীফা বললেন, তাদের সাথে যা ঘটেছে বলে আমি জেনেছি, তোমাকে তা বলি শোনো। তাদের উভয়ের দাফনকারীগণ আমাকে বলেছে যে, তোমার পিতা
আবদুল মালিক ও ভাই ওয়ালিদকে কবরে নামানোর পরে যখন কাফনের গিট খুলে দিতে লাগল; তখন দেখা গেল যে, তাদের চেহারা পেছন দিকে ঘুরে গিয়েছে!
মাসলামাহ, ভালো করে খেয়াল রাখবে। আমি যখন মৃত্যুবরণ করব, তুমি আমাকে দাফন করবে। আর সে সময় আমার চেহারার দিকে লক্ষ রাখবে। দেখবে যে, আমার অবস্থাও কি আপন লোকদের মতো হয়েছে নাকি আমি তা হতে নাজাত লাভ করেছি!
মাসলামাহ বলেন, উমর বিন আবদুল আযীয-এর ইনতিকালের পর আমি তাকে কবরে শুইয়ে দিয়ে চেহারার প্রতি লক্ষ করে দেখলাম যে, তার চেহারা ঠিক আছে。
১২. আবু আবদুল্লাহ আবদুল মুমিন বিন আবদুল্লাহ মুসিলী বর্ণনা করেন, ফিলিস্তিনের রামলা শহরের জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, একবার আমরা প্রবল ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়লাম। বাতাসের ঝাপটায় কবরের মাটি পর্যন্ত সরে গেল। তখন আমি কিছু কবরবাসীকে কিবলা হতে মুখ ঘোরানো অবস্থায় দেখতে পেলাম। মাত্র এগারো দিন আগে মৃত্যুবরণ করা এক বৃদ্ধ আমলাদার লোকের কথা আমার মনে পড়ে গেল। আমি তার কবরের পাশে গিয়ে দেখলাম, তার চেহারা কিবলামুখী আছে। তবে তার নাকে সামান্য আঁচড়ের দাগ রয়েছে। তার সবকিছু ঠিকঠাক দেখে আমরা 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করলাম。
১৩. আবদুল মুমিন আরও বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, আমার এক মেয়ের মৃত্যুর পর আমি আমি তাকে কবরে নামালাম। কবর হতে উঠে সব ঠিকঠাক করার সময় একটি ইট ঠিক করতে গিয়ে দেখি, তার চেহারা কিবলা হতে ঘুরে গিয়েছে! ব্যাপারটা দেখে আমি একেবারেই ভেঙে পড়লাম। এই অবস্থাতেই একদিন তাকে স্বপ্নে দেখলাম। সে আমাকে বলল, বাবা, আমাকে এমন অবস্থায় দেখে তুমি ভেঙে পড়েছ? আমার আশেপাশের অধিকাংশ লোকের চেহারাই কিবলা হতে ঘুরে গিয়েছে। তার কথায় মনে হলো, এই মানুষগুলো জীবদ্দশায় কবীরা গুনাহে লিপ্ত ছিল。
১৪. আবু উআইনাহ ইবনুল মুহাল্লাব বলেন, আমি ইয়াযিদ বিন মুহাল্লাবকে বলতে শুনেছি, সুলাইমান বিন আবদুল মালিক খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাকে ইরাক ও খুরাসানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দান করেন। সে সময় উমর বিন আবদুল আযীয আমাকে এই বলে সতর্ক করেন যে, ইয়াযিদ, আল্লাহকে ভয় করো। খলিফা ওয়ালিদের লাশ যখন আমি কবরে নামাই তখন কাফনের মধ্যেই সে ছটফট করছিল。
১৫. সালাম তঈল বর্ণনা করেন, আমর বিন মাইমুন বলেন, আমি উমর বিন আবদুল আযীয -কে বলতে শুনেছি, খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিককে যারা কবরে নামিয়েছে, আমি তাদের একজন। তাকে কবরে নামানোর সময় আমি লক্ষ করলাম যে, তার দুই হাঁটু ভাঁজ হয়ে ঘাড়ের দিকে বাঁকা হয়ে আসছে। এই দৃশ্য দেখে তার এক ছেলে বলে উঠল, আল্লাহ, আমার পিতাকে আপনি শান্তি দান করুন। হে কাবার রব, আমার পিতাকে শান্তি দান করুন! তার কথা শুনে আমি বললাম, কাবার রবের কসম! তোমার পিতার জন্য সে সময় ফুরিয়ে গেছে।
পরবর্তী সময়ে উমর বিন আবদুল আযীয এই ঘটনা বলে মানুষকে উপদেশ দিতেন。
১৬. আবদুল হামীদ বিন মাহমুদ মিওয়ালি বলেন, একবার আমি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস -এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় একদল লোক এসে তাকে বলল, আমরা হজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সফর করে এসেছি। আমাদের একজন সফরসঙ্গী সিফাহ নামক স্থানে এসে মৃত্যুবরণ করেন। আমরা তার মৃতদেহ বহন করে কিছুদূর এগিয়ে যাই। এরপর সুবিধামতো জায়গা দেখে আমরা তার জন্য কবর খনন করি। কবর খননের কাজ শেষ হতেই কবরে কালো বিষাক্ত সাপ কিলবিল করতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে আমরা সেখান হতে সরে অন্যত্রে আরেকটি কবর খনন করি। সেখানেও কবর খনন শেষ হতেই কালো বিষাক্ত সাপে কবর ভরে যায়। এখন তাকে ফেলে রেখে আমরা আপনার নিকট এসেছি। সব শুনে ইবনু আব্বাস বললেন, এটা হলো তার অপকর্মের ফলাফল। তোমরা গিয়ে তাকে
কোনো একটি কবরে দাফন করে দাও। সেই পবিত্র সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তার জন্য পুরো দুনিয়া খুঁড়ে ফেললেও এ রকম চিত্রই দেখতে পাবে।
বর্ণনাকারী বলেন, আমরা গিয়ে তাকে দাফন করে আসলাম। অতঃপর আমাদের সাথে থাকা তার জিনিসপত্র নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমরা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার স্বামীর কী এমন বদ আমল ছিল? তিনি বললেন, সে তৈরি খাবার বিক্রি করত। সে রোজ রোজ তার পরিবারস্থ লোকদের কামাই-রোজগার কেড়ে নিত। তাদের দিয়ে যব ভাঙিয়ে অন্যায়ভাবে তা খাবারে মিশিয়ে দিত。
১৭. আবু ইসহাক সাহিবুশ বলেন, একবার আমাকে একটি লাশ গোসল করানোর জন্য ডাকা হলো। আমি মৃত ব্যক্তির চেহারা হতে কাপড় সরাতেই দেখলাম, একটি সাপ তার গলা পেঁচিয়ে আছে।
তিনি বলেন, আমি মৃতদেহের গোসল না সেরেই চলে আসি। লোকজন তখন বলাবলি করছিল যে, লোকটি সালাফদের গালিগালাজ করত。
১৮. হুসাইন বিন আলী বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، فَجَعَلَ أُمَّةً مُحَمَّدٍ فِي زُمْرَةٍ فَيَلْقَى أَوَّلُهُمْ آخِرَهُمْ، فَيُصَافِحُونَهُمْ، وَيُعَانِقُونَهُمْ، وَيُسَلِّمُونَ عَلَيْهِمْ، وَيَقُولُونَ: إِخْوَانُنَا هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَانُوا يَتَرَكَّمُونَ عَلَيْنَا، وَيَسْتَغْفِرُونَ لَنَا. قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَمَا مِنْ أَحَدٍ خَارِجٍ مِنَ الدُّنْيَا شَاتِمًا لِأَحَدٍ مِنْهُمْ إِلَّا سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِ دَابَّةٌ فِي قَبْرِهِ تَقْرِضُ لَحْمَهُ، فَيَجِدُ أَلَمَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা যখন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল উম্মতকে একত্র করবেন; তখন মুহাম্মাদ -এর উম্মতকে এমন এক স্থানে রাখবেন যেখানে পূর্ববর্তী উম্মতগণ এসে পরবর্তীদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারা একে অপরের সাথে মুসাফাহা করবে, মুআনাকা করবে এবং একে অপরকে সালাম জানাবে।
পাশাপাশি তারা এ কথাও বলবে যে, এরা আমাদের সেসব ভাই, যারা পার্থিব জীবনে আমাদের প্রতি রহমতের জন্য দুআ করেছেন। আমাদের জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
রাসুল আরও বলেছেন যে, তবে যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কারও প্রতি বিষোদগার করতে করতে মৃত্যুবরণ করবে; তার জন্য আল্লাহ একটি হিংস্র প্রাণী লেলিয়ে দেবেন, যা তার গোশত খুবলে খাবে। তার এই শাস্তি কিয়ামত পর্যন্ত চলবে।
১৯. সাঈদ বিন খালিদ বিন ইয়াযিদ আনসারী বসরার জনৈক গোরখোদকের কাছ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন আমি একটি কবর খনন করলাম। কাজ সেরে পাশেই মাটিতে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দুজন মহিলা আমার সাথে সাক্ষাৎ করল। তাদের একজন আমাকে বলল, হে আল্লাহর বান্দা, আমরা আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, এই মহিলাকে আমাদের নিকট হতে দূরে দাফন করুন। আমাদের তার প্রতিবেশী বানিয়ে দেবেন না! তিনি বলেন, এই স্বপ্ন দেখে আমি জেগে উঠি। কিছুক্ষণ পর জনৈকা মহিলার লাশ নিয়ে আসলে আমি লোকজনকে বলি, তার কবর তোমাদের পেছনে তৈরি করা হয়েছে। এই বলে আমি তাদের অন্য কবর দেখিয়ে দিই। রাত্রিবেলা আমি স্বপ্নে আবার সেই দুই মহিলাকে দেখতে পাই। তাদের একজন আমাকে বলল, আপনাকে আল্লাহ তাআলা উত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অকল্যাণ থেকে রক্ষা করেছেন। আমি বললাম, ব্যাপার কী? আপনি কথা বলছেন কিন্তু আপনার সঙ্গিনী কোনো কথা বলছে না! মহিলাটি বললেন, সে কোনো রকম অসিয়ত না করেই মারা গেছে। আর অসিয়ত ছাড়া মৃত্যুবরণকারীর জন্য নিয়ম হলো, সে কিয়ামত পর্যন্ত কোনো কথা বলতে পারবে না।
২০. আবু উসমান উমাওয়ি বলেন, আমি আমার পিতা ইয়াহইয়া বিন সাঈদ -এর নিকট বনু আসাদ গোত্রের গোরখোদকদের সম্পর্কে আবু বকর বিন আইয়াশ -এর একটি ঘটনা শুনেছি। তিনি বলেন, একবার আমি একদল গোরখোদকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তাদের একজন আমাকে বিন আইয়াশের
বর্ণিত একটি ঘটনাটি শোনায়। সে বলে, আমি আর এক সঙ্গী, আমরা বনু আসাদের কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত ছিলাম। এক রাতে একটি ঘটনা ঘটল। আমি একটি কবর থেকে কথাবার্তার আওয়াজ শুনতে পেলাম। এক কবর হতে অন্য কবরবাসীকে উদ্দেশ্য করে কে যেন বলছে, হে আবদুল্লাহ!
উত্তর এল, বলো, জাবির!
প্রথমজন বলল, আমাদের মা মারা গিয়েছেন। তিনি আমাদের কাছে আসছেন।
দ্বিতীয়জন বলল, তাতে আমাদের কী লাভ? আমরা তো আর তার দ্বারা কোনো উপকারও পাচ্ছি না। বাবা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে শপথ করেছেন যে, তিনি তার জানাযা পড়বেন না।
তারা এভাবে কয়েকবার বলাবলি করল। তাদের কথা শুনে আমি আমার সঙ্গীর কাছে চলে এলাম। সেও তাদের কথোপকথন শুনতে পেয়েছে কিন্তু বোঝেনি। আমি তাকে বিস্তারিত বুঝিয়ে বললে সে বুঝতে পারে। পরের দিন এক লোক এসে আগের রাতে কথাবার্তা হওয়া কবর দুটি দেখিয়ে আমাকে বলল, এই দুই কবরের মাঝে আমার জন্য একটি কবর খুঁড়ে দিন। আমি কবর দুটি দেখিয়ে বললাম, এর নাম জাবির, আর ওর নাম কি আবদুল্লাহ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তাকে গতরাতে শোনা ঘটনা খুলে বললাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি শপথ করেছিলাম যে, তার জানাযা পড়ব না। তবে সেটা অন্যায় ছিল। আমি আমার কসমের জন্য কাফফারা দেব, তার জানাযা পড়ব এবং তার জন্য রহমতের দুআ করব। এই বলে তিনি চলে গেলেন। এ সময় তার হাতে একটি ছড়ি আর পানির পাত্র ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি এই শপথের জন্য কাফফারা আদায় করা ছাড়াও হজের নিয়ত করলাম।

টিকাঃ
১২৮. মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী, ৬/৩৩৫। রিওয়ায়াত নং ৬৫৬০। আরও রয়েছে: দালাইলুন নাবুওয়াতি লিল-বাইহাকী, ৩/৮৯, ৯০। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/২৮৯, ২৯০। সনদ গরীব。
১৫৯. মান আশা বাদাল মাওতি, পৃ: ৩২। রূহ, ৯৪。
১৬০. আল-আহওয়াল, ৬৪ এবং রূহ (ইবনুল কায়্যিম), ৯৪。
১৬১. মান আ'শা বা'দাল মাওতি, ২৭। বর্ণনা নং ২৬。
১৬২, রূহ (ইবনু কাইয়্যিম জাওযিয়্যাহ), ৬৭, ৬৮。
১৬১. রুহ, ১০০। আহওয়ালুল কুবুর, ১৮。
১৬৪. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮। তাওয়াবীন, ২৮৩-২৮৫。
১৬৫. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮。
১৬৬. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮。
১৬৭. মান আশা বাদাল মাওত, ৫০। বর্ণনা নং ৫৬。
১৬৮. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮。
১৬৯. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮。
১৭০. রূহ, ৯৭。
১৭১. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/৫০৩-৫০৬。
১৭২, তারীখু দিমাশক, ৬৩/১৮০。
১70. শরহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ, ৬/১২১৬; শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৩২। বর্ণনা নং ৪৯২৮。
১78. আস সুন্নাতু লি ইবনি আসিম, ২/৪৮৩। বর্ণনা নং ১০০২। সনদ দুর্বল。
১75. আন-নাহিয়াতু আন ত'নি আমীরিল মুমিনিনা মুআবিয়া (দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ), ১/২০। সনদ মুরসাল। হাসান。
১৭৬. আহওয়ালুল কুবুর, ১৬। সনদ দুর্বল। তবে অসিয়ত না করে মৃত্যুবরণ করলে কথা বলতে না পারা সম্পর্কিত কিছু হাদিস পাওয়া যায়। সেসব হাদিসের সনদও দুর্বল。
১৭৭. আল হাওয়াতিফ, ৫৬। বর্ণনা নং ৫৫。

১. ইমাম শাবী বলেন, আবদুল্লাহ বিন উমর রাসুল-কে বললেন,
إِنِّي مَرَرْتُ بِبَدْرٍ فَرَأَيْتُ رَجُلًا يَخْرُجُ مِنَ الْأَرْضِ فَيَضْرِبُهُ رَجُلٌ بِمِقْمَعَةٍ مَعَهُ حَتَّى يَغِيبَ فِي الْأَرْضِ ثُمَّ يَخْرُجُ فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ ذَلِكَ مِرَارًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ذَاكَ أَبُو جَهْلِ بْنُ هِشَامٍ يُعَذِّبُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
আমি বদর প্রান্তরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম মাটি ফুঁড়ে এক লোক উঠে আসছে। এমন সময় আরেকজন এসে হাতুড়ি দিয়ে তাকে আঘাত করল। আঘাতের তীব্রতায় সে মাটিতে দেবে (অদৃশ্য) হয়ে গেল। এভাবে কয়েকবার তার সাথে এমন ঘটনা ঘটে। সব শুনে রাসুল বললেন, এই লোকটি হলো আবু জাহল বিন হিশাম। কিয়ামত পর্যন্ত তাকে এভাবেই শাস্তি দেওয়া হবে।”
২. আমর বিন দীনার বলেন, সালিম বিন আবদুল্লাহ তার পিতা আবদুল্লাহ বিন উমর ইবনুল খাত্তাব হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
একবার আমি মক্কা-মদীনা সফর করছিলাম। পথিমধ্যে পানিভর্তি একটি ছোট পাত্র নিয়ে একটি কবরস্তানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তি কবর হতে বের হয়ে আসল। তার গলায় বেড়ি পরানো। সে আমাকে বলল, হে আবদুল্লাহ, আমাকে পানি পান করান। হে আবদুল্লাহ, আমাকে সিক্ত করুন। আল্লাহর শপথ! আমি বুঝতে পারলাম না, সে কি আমার নাম জানত নাকি আরবদের স্বাভাবিক রীতি হিসেবে আবদুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) বলে ডাকছিল? এমন সময় আরেক ব্যক্তি উঠে এসে বলল, হে আবদুল্লাহ, তাকে সিক্ত করবেন না। তাকে পানি পান করাবেন না। অতঃপর তার গলার বেড়ি ধরে টেনে তাকে কবরে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। "
৩. হিশাম বিন উরওয়াহ তার পিতা উরওয়াহ বিন যুবাইর-এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, একবার তিনি মক্কা-মদীনা সফর করছিলেন। পথিমধ্যে
একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে হঠাৎ একটি কবর হতে লোহার বেড়ি জড়ানো অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এক লোক বেরিয়ে এল। বেরিয়ে এসেই সে বলল, হে আবদুল্লাহ, আমাকে পানি পান করান। বারি সিক্ত করুন। ইতিমধ্যে তার পেছনে আরেকজন লোক বেরিয়ে এসে বলল, হে আবদুল্লাহ, আপনি তাকে সিক্ত করবেন না। পানি দেবেন না।
বর্ণনাকারী বলেন, এ দৃশ্য দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে উটের পিঠ থেকে উল্টে পড়ে যান। তার জিনিসপত্র এদিক-সেদিক ছড়িয়ে রইল। সকালে যখন তার জ্ঞান ফিরল, তখন ধুলোবালিতে তার চুল সাদা হয়ে ছাগামাহ ঘাসের ন্যায় হয়ে যায়।
সফর শেষে খলীফা উসমান বিন আফফান -কে বিষয়টি জানালে তিনি একাকী সফর করতে নিষেধ করেন。
৪. আবু কুযআ বসরী নিজের কিংবা অন্য একজনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, একবার আমরা আমাদের এলাকা ও বসরার মধ্যবর্তী জলাধারগুলোর একটির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে এক জায়গায় আমরা বিকট স্বরে গাধার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমরা স্থানীয় একজনকে বললাম, এই ভয়ংকর আওয়াজটি কিসের? সে বলল, আওয়াজটি আমাদের এলাকার একজন মৃত ব্যক্তির। জীবদ্দশায় তার মা তাকে কিছু বললে উত্তরে সে বলত, তুমি অমন কর্কশ স্বরেই চ্যাঁচাতে থাকো। তার মৃত্যুর পর থেকে প্রতিরাতে তার কবর হতে এমন কর্কশ আওয়াজ ভেসে আসে。
৫. আমর বিন দীনার বলেন, মদীনায় এক লোক ছিল, যার একজন বোন থাকত মদীনার শেষ প্রান্তে। বোনটি নানা কষ্টে ভুগত। সে মাঝে মাঝে তার বোনকে দেখতে যেত। দেখে আবার ফিরে আসত। একসময় বোনটি মারা গেল। খবর পেয়ে লোকটি এসে জানাযার ব্যবস্থা করল। কবর পর্যন্ত বোনের লাশ নিয়ে গেল। যথাযথভাবে দাফন করে বাড়ি ফিরল। ঘরে ফিরে তার মনে পড়ল যে, কবরে নামার সময় ভুল করে তার মুদ্রার থলেটি সেখানে ফেলে এসেছে। থলেটি উদ্ধার করতে এক ব্যক্তির সাহায্য কামনা করলে সে এগিয়ে আসল। উভয়ে কবরস্থানে গিয়ে কবরের মাটি কিছুটা সরাতেই থলেটি পেয়ে গেল। তখন ভাইটি বলল,
আরেকটু খুঁড়ে দেখো তো আমার বোনটার কী অবস্থা? একটু দেখি। কথামতো কবরের একটি ইট সরাতেই দেখা গেল, পুরো কবর আগুনের শিখায় দাউ দাউ করছে। ইটটি যথাস্থানে রেখে লোকটি তড়িঘড়ি তার মায়ের কাছে ফিরে আসল। মাকে জিজ্ঞাসা করল, আমার বোনের অবস্থা কেমন ছিল বলুন তো। মা বললেন, তোমার বোনের কথা আর বোলো না। সে তো ধ্বংস হয়ে গেছে! ছেলে বলল, তার কী সমস্যা ছিল খুলে বলুন। মা বললেন, সে নামায আদায়ে খুব টালবাহানা করত। তা ছাড়া অযুর ব্যাপারে যথাযথ খেয়াল রাখত না। আর প্রতিবেশীরা শুয়ে পড়লে তাদের দরজায় কান পাতত। আড়ি পেতে শোনা কথাগুলো আবার মানুষের মাঝে বলে বেড়াত。
৬. হুসাইন আসাদী বর্ণনা করেন, মারছাদ বিন হাওশাব বলেন, একবার আমি ইউসুফ বিন আমর-এর নিকট বসা ছিলাম। তার পাশেই এক ব্যক্তি বসে ছিলেন, যার চেহারার এক পাশ লোহার মতো শক্ত ও সমান হয়ে আছে।
ইউসুফ তাকে বললেন, তুমি যা দেখেছ, মারছাদকে তা খুলে বলো।
সে বলল, কুৎসিত এই ঘটনাটি যখন ঘটে তখন আমি যুবক। দেশে তখন প্লেগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি ভাবলাম, শহরের কোনো এক প্রান্তে চলে যাই যেখানে লোকজনের দাফন হয়। এবং এসব কাজে অংশ নেওয়া যায়। যেই ভাবা সেই কাজ। এমনই একদিন আমি কবর খোঁড়ার কাজে মগ্ন ছিলাম। কাজ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ের কথা। আমি একটি কবর খুঁড়ে তার মাটি অন্য কবরের ওপর ফেলছিলাম। এমন সময় একজন পুরুষ মানুষের মৃতদেহ আনা হলো। তাকে দাফন করে মাটি দিয়ে লোকজন চলে গেল। লোকজন চলে যাওয়ার পরপরই পশ্চিম দিক হতে উটের মত বিশালাকৃতির ও সাদা বর্ণের দুটি পাখি উড়ে এল। একটি তার মাথার দিকে আর অন্যটি পায়ের দিকে এসে নামল। পাখি দুটি তাকে জাগিয়ে তুলল। একটি পাখি তার কবরে নেমে গেল। অন্যটি এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে রইল। আমি তখন আমার কর্মরত কবরের এক কোনায় চলনশক্তি হারিয়ে বসে ছিলাম। আমার মুখ এমনভাবে হা হয়ে ছিল, যেন কোনোভাবেই তা পূর্ণ হওয়ার মতো নয়। ইতিমধ্যে কবরে নামা পাখিটি মৃত ব্যক্তির হাতের ডান দিকে একটি ঠোকর মারল। আমি শুনতে পেলাম, পাখিটি
তাকে বলছে, তুমি কি শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সময় দুটি ফিনফিনে মিসরীয় পোশাক গায়ে চাপিয়ে অহংকার করতে করতে যাওনি? লোকটি বলল, এ বিষয়ে আমি দুর্বল ছিলাম।
এ কথা বলতে পাখিটি তাকে আরেকটি ঠোকর মারল। এতে পুরো কবর পানি বা চর্বি-জাতীয় কিছুর ফেনায় ভরে উঠল। এভাবে তিনবার ঠোকর মারল। আর তিনবারই কবরে পানি বা চর্বি-জাতীয় কিছুর ফেনা ছড়িয়ে পড়ল। অতঃপর মাথা উঠাতেই পাখিটির দৃষ্টি পড়ল আমার দিকে।
আমাকে দেখেই সে বলে উঠল, আল্লাহ তার অকল্যাণ করুন! সে কোথায় বসে আছে দেখেছ? এই বলেই আমার চেহারার একপাশে ঠোকর মেরে বসল। ঠোকর খেয়ে আমি সারা রাত অচেতন অবস্থায় সেখানেই পড়ে রইলাম। সকালে হুঁশ ফেরার পর আমি নিজের এই অবস্থা দেখতে পেলাম। আর নিজের বসে থাকার কথা মনে করতে লাগলাম।
বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হুবহু এমন কিংবা কাছাকাছি কথা বলেছেন।
৭. আবু আবদুর রহমান বিন বুহাইর বর্ণনা করেন, ইরাকের মুজিবিয়া শহরের ছাগার নামক এলাকার হাসান বিন ফুরাত নামক জনৈক ব্যক্তি নিজের অবস্থান বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, একদিন তিনি আবু ইসহাক ফারাযি-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এসে কাফন-চোরদের তাওবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললেন, যারা কবর খোঁড়ে, তাদের কি তাওবা করার কোনো সুযোগ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। নিয়ত যদি ঠিক থাকে তবে তার তাওবা কবুল হবে। আর তার সত্যতা সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহ তাআলাই অবগত আছেন।
লোকটি বলল, কবর খুঁড়তে গিয়ে আমি এমন অনেক লাশ দেখেছি, যাদের চেহারা কিবলা হতে ঘুড়ে গিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে আবু ইসহাক ফারাযি-এর সঠিক ধারণা না থাকায় তিনি ইমাম আওযাঈ-এর নিকট 'কাফন-চোরদের' বিষয়টি জানিয়ে পত্র পাঠালেন। জবাবে ইমাম আওযাঈ লিখলেন, নিয়ত ঠিক থাকলে তার তাওবা কবুল
হবে। আর নিয়তের সততার বিষয়টি আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। আর সে যে, বিভিন্ন মানুষের চেহারা কিবলা হতে ঘুরে যেতে দেখেছে; তারা হলো সেসব মানুষ, যারা সুন্নাতবিমুখ অবস্থায় মারা গিয়েছে。
৮. আবদুল মুমিন বিন আবদুল্লাহ বলেন, এক কাফন-চোর তাওবা করে কবর খননের কাজ ছেড়ে দেয়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কবর খননকালে তোমার দেখা সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা কী ছিল?
সে বলল, একবার আমি কবর খুঁড়ে একটি লাশ উঠালাম। লাশটির সারা দেহে পেরেক মারা ছিল। তার মাথায় একটি বড়সড় পেরেক ঠোকা ছিল। এমনি আরেকটি ছিল পায়ে।
এমনিভাবে আরেক কাফন-চোরকে তার তাওবার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল, একবার আমি একটি লাশ কবর থেকে তুললাম। সে সময় আমি তার চেহারা কিবলা হতে অন্য দিকে ঘুড়ানো অবস্থায় পেয়েছি।
৯. মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বর্ণনা করেন, আবুল হারীশ তার মায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আব্বাসি খলীফা আবু জাফর মানসুর ১৩৬ হিজরিতে খিলাফত লাভ করে কুফার চারপাশে যখন পরিখা খনন শুরু করেন, লোকজন তখন পরিখাস্থল হতে নিজেদের মৃত স্বজনদের স্থানান্তর করেন। সে সময় এক মৃত যুবককে নিজের হাতে কামড় দেওয়া অবস্থায় দেখা যায়।
১০. মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বর্ণনা করেন, হুওয়াইরিছ বিন জুবাব বলেন, একবার আমি উটের পিঠে চড়ে অনেক পুরোনো ও বিশাল একটি গাছের নিচে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় পাশের একটি কবর হতে এক ব্যক্তি উঠে এল। যার চেহারা ও মাথায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। গায়ে লোহার পোশাক জড়ানো। বেড়িয়ে এসেই সে বলতে লাগল, আমাকে একটু পানি পান করান। পানি পান করান। এমন সময় তার পেছনে আরেক ব্যক্তি বেরিয়ে আসল। সে বলতে লাগল, এই কাফিরকে পানি পান করাবে না। বলেই সে তাকে ধরে ফেলল। পেছনে আসা লোকটি তার গায়ে জড়ানো শেকলের দু-প্রান্ত ধরে টেনে-
হিঁচড়ে নিয়ে গেল এবং আমাদের সামনে দিয়ে দুজনই কবরে ঢুকে গেল। এ দৃশ্য দেখে আমার উট ঘাবড়ে গিয়ে ছুটে পালাতে লাগল। আমি কোনোভাবেই তাকে বাগে আনতে পারছিলাম না। ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে ছুটতে অবশেষে উটটি 'আরকুষ যবইয়াহ' এলাকায় এসে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। আমি উটের পিঠ হতে নেমে মাগরিব ও এশার নামায আদায় করলাম। এরপর আবার উটের পিঠে উঠে সকালে মদীনায় আসলাম। মদীনায় আমি উমর ইবনুল খাত্তাব-এর সাথে সাক্ষাৎ করে ঘটনাটি বললাম। সব শুনে তিনি বললেন, হুওয়াইরিছ, তুমি খুব বিস্ময়কর ঘটনা শোনালে! অবশ্য তোমাকে মিথ্যা বলার অপবাদ দিচ্ছি না।
মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বলেন, এরপর উমর শহরের উভয় প্রান্তের ইসলামপূর্ব জাহিলী যুগ দেখা বয়স্ক লোকজনকে ডেকে পাঠালেন। লোকজন জমা হলে তিনি হুওয়াইরিছ-কেও ডেকে পাঠালেন। তিনি আসলে উমর সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হুওয়ারিছের প্রতি আমি সন্দেহ পোষণ করছি না। তবে সে খুব আশ্চর্যজনক ঘটনা শুনিয়েছে। হুওয়াইরিছ, তুমি আমাকে যা শুনিয়েছ, তাদেরও তা শোনাও। তিনি ঘটনাটি শোনালেন। ঘটনা শুনে উপস্থিত লোকজন বলে উঠল, আমীরুল মুমিনীন, আমরা লোকটিকে চিনতে পেরেছি। সে গিফার গোত্রের লোক। জাহিলী যুগেই তার মৃত্যু হয়েছে। উমর তার ব্যাপারে আরও কিছু জানতে চাইলে তারা বলল, সে জাহিলী যুগের প্রথা মেনে চলা লোকদের একজন ছিল। তবে সে আরব রীতি অনুসারে অতিথি আপ্যায়ন করত না।
১১. মুফাযযাল বিন ইউনুস জুফী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে, একবার খলীফা উমর বিন আবদুল আযীয মাসলামাহ বিন আবদুল মালিককে জিজ্ঞাসা করলেন, মাসলামাহ, তোমার পিতা খলীফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ানের দাফন-কাফনের কাজ কে করেছে? মাসলামাহ বললেন, আমীরুল মুমিনীন, অমুক অমুক করেছে।
তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিককে কারা দাফন করেছে? মাসলামাহ বললেন, অমুক অমুক।
খলীফা বললেন, তাদের সাথে যা ঘটেছে বলে আমি জেনেছি, তোমাকে তা বলি শোনো। তাদের উভয়ের দাফনকারীগণ আমাকে বলেছে যে, তোমার পিতা
আবদুল মালিক ও ভাই ওয়ালিদকে কবরে নামানোর পরে যখন কাফনের গিট খুলে দিতে লাগল; তখন দেখা গেল যে, তাদের চেহারা পেছন দিকে ঘুরে গিয়েছে!
মাসলামাহ, ভালো করে খেয়াল রাখবে। আমি যখন মৃত্যুবরণ করব, তুমি আমাকে দাফন করবে। আর সে সময় আমার চেহারার দিকে লক্ষ রাখবে। দেখবে যে, আমার অবস্থাও কি আপন লোকদের মতো হয়েছে নাকি আমি তা হতে নাজাত লাভ করেছি!
মাসলামাহ বলেন, উমর বিন আবদুল আযীয-এর ইনতিকালের পর আমি তাকে কবরে শুইয়ে দিয়ে চেহারার প্রতি লক্ষ করে দেখলাম যে, তার চেহারা ঠিক আছে。
১২. আবু আবদুল্লাহ আবদুল মুমিন বিন আবদুল্লাহ মুসিলী বর্ণনা করেন, ফিলিস্তিনের রামলা শহরের জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, একবার আমরা প্রবল ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়লাম। বাতাসের ঝাপটায় কবরের মাটি পর্যন্ত সরে গেল। তখন আমি কিছু কবরবাসীকে কিবলা হতে মুখ ঘোরানো অবস্থায় দেখতে পেলাম। মাত্র এগারো দিন আগে মৃত্যুবরণ করা এক বৃদ্ধ আমলাদার লোকের কথা আমার মনে পড়ে গেল। আমি তার কবরের পাশে গিয়ে দেখলাম, তার চেহারা কিবলামুখী আছে। তবে তার নাকে সামান্য আঁচড়ের দাগ রয়েছে। তার সবকিছু ঠিকঠাক দেখে আমরা 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করলাম。
১৩. আবদুল মুমিন আরও বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, আমার এক মেয়ের মৃত্যুর পর আমি আমি তাকে কবরে নামালাম। কবর হতে উঠে সব ঠিকঠাক করার সময় একটি ইট ঠিক করতে গিয়ে দেখি, তার চেহারা কিবলা হতে ঘুরে গিয়েছে! ব্যাপারটা দেখে আমি একেবারেই ভেঙে পড়লাম। এই অবস্থাতেই একদিন তাকে স্বপ্নে দেখলাম। সে আমাকে বলল, বাবা, আমাকে এমন অবস্থায় দেখে তুমি ভেঙে পড়েছ? আমার আশেপাশের অধিকাংশ লোকের চেহারাই কিবলা হতে ঘুরে গিয়েছে। তার কথায় মনে হলো, এই মানুষগুলো জীবদ্দশায় কবীরা গুনাহে লিপ্ত ছিল。
১৪. আবু উআইনাহ ইবনুল মুহাল্লাব বলেন, আমি ইয়াযিদ বিন মুহাল্লাবকে বলতে শুনেছি, সুলাইমান বিন আবদুল মালিক খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাকে ইরাক ও খুরাসানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দান করেন। সে সময় উমর বিন আবদুল আযীয আমাকে এই বলে সতর্ক করেন যে, ইয়াযিদ, আল্লাহকে ভয় করো। খলিফা ওয়ালিদের লাশ যখন আমি কবরে নামাই তখন কাফনের মধ্যেই সে ছটফট করছিল。
১৫. সালাম তঈল বর্ণনা করেন, আমর বিন মাইমুন বলেন, আমি উমর বিন আবদুল আযীয -কে বলতে শুনেছি, খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিককে যারা কবরে নামিয়েছে, আমি তাদের একজন। তাকে কবরে নামানোর সময় আমি লক্ষ করলাম যে, তার দুই হাঁটু ভাঁজ হয়ে ঘাড়ের দিকে বাঁকা হয়ে আসছে। এই দৃশ্য দেখে তার এক ছেলে বলে উঠল, আল্লাহ, আমার পিতাকে আপনি শান্তি দান করুন। হে কাবার রব, আমার পিতাকে শান্তি দান করুন! তার কথা শুনে আমি বললাম, কাবার রবের কসম! তোমার পিতার জন্য সে সময় ফুরিয়ে গেছে।
পরবর্তী সময়ে উমর বিন আবদুল আযীয এই ঘটনা বলে মানুষকে উপদেশ দিতেন。
১৬. আবদুল হামীদ বিন মাহমুদ মিওয়ালি বলেন, একবার আমি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস -এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় একদল লোক এসে তাকে বলল, আমরা হজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সফর করে এসেছি। আমাদের একজন সফরসঙ্গী সিফাহ নামক স্থানে এসে মৃত্যুবরণ করেন। আমরা তার মৃতদেহ বহন করে কিছুদূর এগিয়ে যাই। এরপর সুবিধামতো জায়গা দেখে আমরা তার জন্য কবর খনন করি। কবর খননের কাজ শেষ হতেই কবরে কালো বিষাক্ত সাপ কিলবিল করতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে আমরা সেখান হতে সরে অন্যত্রে আরেকটি কবর খনন করি। সেখানেও কবর খনন শেষ হতেই কালো বিষাক্ত সাপে কবর ভরে যায়। এখন তাকে ফেলে রেখে আমরা আপনার নিকট এসেছি। সব শুনে ইবনু আব্বাস বললেন, এটা হলো তার অপকর্মের ফলাফল। তোমরা গিয়ে তাকে
কোনো একটি কবরে দাফন করে দাও। সেই পবিত্র সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তার জন্য পুরো দুনিয়া খুঁড়ে ফেললেও এ রকম চিত্রই দেখতে পাবে।
বর্ণনাকারী বলেন, আমরা গিয়ে তাকে দাফন করে আসলাম। অতঃপর আমাদের সাথে থাকা তার জিনিসপত্র নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমরা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার স্বামীর কী এমন বদ আমল ছিল? তিনি বললেন, সে তৈরি খাবার বিক্রি করত। সে রোজ রোজ তার পরিবারস্থ লোকদের কামাই-রোজগার কেড়ে নিত। তাদের দিয়ে যব ভাঙিয়ে অন্যায়ভাবে তা খাবারে মিশিয়ে দিত。
১৭. আবু ইসহাক সাহিবুশ বলেন, একবার আমাকে একটি লাশ গোসল করানোর জন্য ডাকা হলো। আমি মৃত ব্যক্তির চেহারা হতে কাপড় সরাতেই দেখলাম, একটি সাপ তার গলা পেঁচিয়ে আছে।
তিনি বলেন, আমি মৃতদেহের গোসল না সেরেই চলে আসি। লোকজন তখন বলাবলি করছিল যে, লোকটি সালাফদের গালিগালাজ করত。
১৮. হুসাইন বিন আলী বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، فَجَعَلَ أُمَّةً مُحَمَّدٍ فِي زُمْرَةٍ فَيَلْقَى أَوَّلُهُمْ آخِرَهُمْ، فَيُصَافِحُونَهُمْ، وَيُعَانِقُونَهُمْ، وَيُسَلِّمُونَ عَلَيْهِمْ، وَيَقُولُونَ: إِخْوَانُنَا هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَانُوا يَتَرَكَّمُونَ عَلَيْنَا، وَيَسْتَغْفِرُونَ لَنَا. قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَمَا مِنْ أَحَدٍ خَارِجٍ مِنَ الدُّنْيَا شَاتِمًا لِأَحَدٍ مِنْهُمْ إِلَّا سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِ دَابَّةٌ فِي قَبْرِهِ تَقْرِضُ لَحْمَهُ، فَيَجِدُ أَلَمَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা যখন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল উম্মতকে একত্র করবেন; তখন মুহাম্মাদ -এর উম্মতকে এমন এক স্থানে রাখবেন যেখানে পূর্ববর্তী উম্মতগণ এসে পরবর্তীদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারা একে অপরের সাথে মুসাফাহা করবে, মুআনাকা করবে এবং একে অপরকে সালাম জানাবে।
পাশাপাশি তারা এ কথাও বলবে যে, এরা আমাদের সেসব ভাই, যারা পার্থিব জীবনে আমাদের প্রতি রহমতের জন্য দুআ করেছেন। আমাদের জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
রাসুল আরও বলেছেন যে, তবে যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কারও প্রতি বিষোদগার করতে করতে মৃত্যুবরণ করবে; তার জন্য আল্লাহ একটি হিংস্র প্রাণী লেলিয়ে দেবেন, যা তার গোশত খুবলে খাবে। তার এই শাস্তি কিয়ামত পর্যন্ত চলবে।
১৯. সাঈদ বিন খালিদ বিন ইয়াযিদ আনসারী বসরার জনৈক গোরখোদকের কাছ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন আমি একটি কবর খনন করলাম। কাজ সেরে পাশেই মাটিতে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দুজন মহিলা আমার সাথে সাক্ষাৎ করল। তাদের একজন আমাকে বলল, হে আল্লাহর বান্দা, আমরা আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, এই মহিলাকে আমাদের নিকট হতে দূরে দাফন করুন। আমাদের তার প্রতিবেশী বানিয়ে দেবেন না! তিনি বলেন, এই স্বপ্ন দেখে আমি জেগে উঠি। কিছুক্ষণ পর জনৈকা মহিলার লাশ নিয়ে আসলে আমি লোকজনকে বলি, তার কবর তোমাদের পেছনে তৈরি করা হয়েছে। এই বলে আমি তাদের অন্য কবর দেখিয়ে দিই। রাত্রিবেলা আমি স্বপ্নে আবার সেই দুই মহিলাকে দেখতে পাই। তাদের একজন আমাকে বলল, আপনাকে আল্লাহ তাআলা উত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অকল্যাণ থেকে রক্ষা করেছেন। আমি বললাম, ব্যাপার কী? আপনি কথা বলছেন কিন্তু আপনার সঙ্গিনী কোনো কথা বলছে না! মহিলাটি বললেন, সে কোনো রকম অসিয়ত না করেই মারা গেছে। আর অসিয়ত ছাড়া মৃত্যুবরণকারীর জন্য নিয়ম হলো, সে কিয়ামত পর্যন্ত কোনো কথা বলতে পারবে না।
২০. আবু উসমান উমাওয়ি বলেন, আমি আমার পিতা ইয়াহইয়া বিন সাঈদ -এর নিকট বনু আসাদ গোত্রের গোরখোদকদের সম্পর্কে আবু বকর বিন আইয়াশ -এর একটি ঘটনা শুনেছি। তিনি বলেন, একবার আমি একদল গোরখোদকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তাদের একজন আমাকে বিন আইয়াশের
বর্ণিত একটি ঘটনাটি শোনায়। সে বলে, আমি আর এক সঙ্গী, আমরা বনু আসাদের কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত ছিলাম। এক রাতে একটি ঘটনা ঘটল। আমি একটি কবর থেকে কথাবার্তার আওয়াজ শুনতে পেলাম। এক কবর হতে অন্য কবরবাসীকে উদ্দেশ্য করে কে যেন বলছে, হে আবদুল্লাহ!
উত্তর এল, বলো, জাবির!
প্রথমজন বলল, আমাদের মা মারা গিয়েছেন। তিনি আমাদের কাছে আসছেন।
দ্বিতীয়জন বলল, তাতে আমাদের কী লাভ? আমরা তো আর তার দ্বারা কোনো উপকারও পাচ্ছি না। বাবা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে শপথ করেছেন যে, তিনি তার জানাযা পড়বেন না।
তারা এভাবে কয়েকবার বলাবলি করল। তাদের কথা শুনে আমি আমার সঙ্গীর কাছে চলে এলাম। সেও তাদের কথোপকথন শুনতে পেয়েছে কিন্তু বোঝেনি। আমি তাকে বিস্তারিত বুঝিয়ে বললে সে বুঝতে পারে। পরের দিন এক লোক এসে আগের রাতে কথাবার্তা হওয়া কবর দুটি দেখিয়ে আমাকে বলল, এই দুই কবরের মাঝে আমার জন্য একটি কবর খুঁড়ে দিন। আমি কবর দুটি দেখিয়ে বললাম, এর নাম জাবির, আর ওর নাম কি আবদুল্লাহ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তাকে গতরাতে শোনা ঘটনা খুলে বললাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি শপথ করেছিলাম যে, তার জানাযা পড়ব না। তবে সেটা অন্যায় ছিল। আমি আমার কসমের জন্য কাফফারা দেব, তার জানাযা পড়ব এবং তার জন্য রহমতের দুআ করব। এই বলে তিনি চলে গেলেন। এ সময় তার হাতে একটি ছড়ি আর পানির পাত্র ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি এই শপথের জন্য কাফফারা আদায় করা ছাড়াও হজের নিয়ত করলাম।

টিকাঃ
১২৮. মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী, ৬/৩৩৫। রিওয়ায়াত নং ৬৫৬০। আরও রয়েছে: দালাইলুন নাবুওয়াতি লিল-বাইহাকী, ৩/৮৯, ৯০। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/২৮৯, ২৯০। সনদ গরীব。
১৫৯. মান আশা বাদাল মাওতি, পৃ: ৩২। রূহ, ৯৪。
১৬০. আল-আহওয়াল, ৬৪ এবং রূহ (ইবনুল কায়্যিম), ৯৪。
১৬১. মান আ'শা বা'দাল মাওতি, ২৭। বর্ণনা নং ২৬。
১৬২, রূহ (ইবনু কাইয়্যিম জাওযিয়্যাহ), ৬৭, ৬৮。
১৬১. রুহ, ১০০। আহওয়ালুল কুবুর, ১৮。
১৬৪. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮। তাওয়াবীন, ২৮৩-২৮৫。
১৬৫. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮。
১৬৬. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮。
১৬৭. মান আশা বাদাল মাওত, ৫০। বর্ণনা নং ৫৬。
১৬৮. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮。
১৬৯. আহওয়ালুল কুবুর, ৬৮。
১৭০. রূহ, ৯৭。
১৭১. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/৫০৩-৫০৬。
১৭২, তারীখু দিমাশক, ৬৩/১৮০。
১70. শরহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ, ৬/১২১৬; শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৩২। বর্ণনা নং ৪৯২৮。
১78. আস সুন্নাতু লি ইবনি আসিম, ২/৪৮৩। বর্ণনা নং ১০০২। সনদ দুর্বল。
১75. আন-নাহিয়াতু আন ত'নি আমীরিল মুমিনিনা মুআবিয়া (দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ), ১/২০। সনদ মুরসাল। হাসান。
১৭৬. আহওয়ালুল কুবুর, ১৬। সনদ দুর্বল। তবে অসিয়ত না করে মৃত্যুবরণ করলে কথা বলতে না পারা সম্পর্কিত কিছু হাদিস পাওয়া যায়। সেসব হাদিসের সনদও দুর্বল。
১৭৭. আল হাওয়াতিফ, ৫৬। বর্ণনা নং ৫৫。

📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 সালাফের দেখা কবরের বিভিন্ন অবস্থা

📄 সালাফের দেখা কবরের বিভিন্ন অবস্থা


১. হাম্মাদ বিন যায়িদ বর্ণনা করেন, তুফাওয়াহ বংশের জনৈক ব্যক্তি বলেন, আমরা এক ব্যক্তিকে দাফন করলাম। পরে একটি বিষয় ঠিকঠাক করার জন্য আবার (কবর খুঁড়তে) গেলাম। গিয়ে দেখি মৃতদেহটি কবরে নেই।
২. রবী বিন সুবাইহ বলেন, ছাবিত বুনানী যখন ইনতিকাল করলেন, আমি, হুমাইদ তঈল এবং আবু জাফর জাসর ইবনু ফারকাদ তার কবরে নামলাম। আমরা তাকে কবরে শুইয়ে দিয়ে কাঁচা ইট দিয়ে কবর ঠিকঠাক করে দিচ্ছিলাম। হুমাইদ তঈল ছিলেন মাথার দিকে। হঠাৎ তিনি খেয়াল করলেন যে, ছাবিত বুনানী কবরে নেই। এ দৃশ্য দেখে তিনি ইশারায় আমাদের তা জানালেন। আমরা তাকে ইশারা করে লোকজনকে জানাতে নিষেধ করলাম। আমরা কবর ঠিকঠাক করে ফিরে আসলাম। ফিরে এসে হুমাইদ তঈল আমীর সুলাইমান বিন আলী-এর কাছে গিয়ে সব খুলে বললেন। পরদিন রাত্রি ঘনিয়ে এলে তিনি ঘোড়া হাঁকিয়ে সেখানে গিয়ে ইট সরিয়ে ছাবিত বুনানী-কে কবরে পেলেন না। কবরের মাটি সমান করে দিয়ে তিনি ফিরে আসলেন। সকালে আমরা সবাই ছাবিত বুনানী-এর মেয়ের কাছে গিয়ে তার আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমার মনে হচ্ছে আপনারা তাকে কবরে খুঁজে পাননি! বললাম, হ্যাঁ, কিন্তু এর রহস্য কী? তিনি বললেন, পঞ্চাশ বছর যাবৎ তিনি শেষরাতে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে এই দুআ করতেন,
يَا رَبِّ، إِنْ كُنْتَ أَعْطَيْتَ أَحَدًا الصَّلَاةَ فِي قَبْرِهِ فَأَعْطِيْنِيْهَا
হে আমার রব, আপনি যদি কবরে কাউকে নামায পড়ার সুযোগ দান করেন তবে আমাকেও সে সুযোগ দান করুন।
ইনশাআল্লাহ, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তার এই দুআ ফিরিয়ে দেবেন না।
বর্ণনাকারী রবী বিন সুবাইহ বলেন, আবু জাফর জাসর বললেন, সেই পবিত্র সত্তার শপথ, যিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই! আমি রাত্রিবেলা স্বপ্নে তাকে সবুজ পোশাকে কবরে নামায আদায় করতে দেখেছি।
৩. ইয়াজিদ বিন তরীফ বাজালী বলেন, যামাযিম যুদ্ধের সময় আমার এক ভাই মৃত্যুবরণ করে। তাকে কবর দেওয়ার পরে আমি তার কবরে মাথা ঠেকিয়ে কিছু শোনার চেষ্টা করি। আমি আমার বাম কানে ভাইয়ের দুর্বল কণ্ঠের আওয়াজ শুনে চিনতে পারি। সে তখন বলছিল, আল্লাহ। এরপরই তাকে আরেকজন প্রশ্ন করল, তোমার দ্বীন কী? সে বলল, ইসলাম।
৪. আলা বিন আবদুর কারীম বলেন, এক লোক মারা গেল। তার এক ভাই ছিলেন, যিনি চোখে কম দেখতেন। তিনি বলেন, ভাইয়ের দাফনের পর লোকজন যখন চলে গেল, আমি কবরে মাথা রাখলাম। আমি কবরের ভেতর থেকে আওয়াজ শুনতে পেলাম, তোমার রব কে? তোমার নবী কে? এরপরই আমি আমার ভাইয়ের পরিচিত কণ্ঠ শুনতে পেলাম। সে বলছিল, আল্লাহ আমার রব। মুহাম্মাদ আমার নবী। তারপর কবরের ভেতর থেকে তির ছুড়ে যাওয়ার মত শাঁ শাঁ শব্দ বের হতে লাগল। এই আওয়াজ শুনে আমার শরীর হিম হয়ে গেল। আমি ফিরে আসলাম。
৬. মুহাম্মাদ বিন মুসা সাইগ বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ বিন নাফি মাদানী বলেন, মদিনাবাসী জনৈক ব্যক্তির ইনতিকাল হলে তাকে যথারীতি দাফন করা হয়। এক ব্যক্তি স্বপ্নে তাকে জাহান্নামীদের মধ্যে দেখতে পায়। এই অবস্থা দেখে সে খুব বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। এর সাত বা আট দিন পর লোকটি তাকে আবার স্বপ্নে দেখে। এবার তাকে জান্নাতে দেখতে পায়। লোকটি তাকে বলল, তুমি না বলেছিলে, তুমি জাহান্নামী?
কবরবাসী বলল, আমি সেখানেই ছিলাম। আমাদের পাশে এক সালিহ (পুণ্যবান) ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। তিনি তার আশেপাশের চল্লিশজনের জন্য সুপারিশ করেন। আমিও তাদের একজন。

টিকাঃ
১৭৮. শরহুস সুদূর, ১৯৭。
১৭৯. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৫২০; হিলইয়াতুল আওলিয়া ওয়া তবাকাতুল আসফিয়া, ২/৩১৯;
তবাকাতুল কুবরা লিইবনি সাআদ, ৭/১৭৪。
১৮০. তাহযীবুল আছার মুসনাদু উমর, ২/৫১৩। বর্ণনা নং ৫৩৬。
১৮১. ইরশাদুস সারী, ৩/৪৭৮। ১৩৭৪ নং হাদিসে কবরের আযাব সংক্রান্ত আলোচনায়。
১৮২, রূহ, ৯০。

১. হাম্মাদ বিন যায়িদ বর্ণনা করেন, তুফাওয়াহ বংশের জনৈক ব্যক্তি বলেন, আমরা এক ব্যক্তিকে দাফন করলাম। পরে একটি বিষয় ঠিকঠাক করার জন্য আবার (কবর খুঁড়তে) গেলাম। গিয়ে দেখি মৃতদেহটি কবরে নেই।
২. রবী বিন সুবাইহ বলেন, ছাবিত বুনানী যখন ইনতিকাল করলেন, আমি, হুমাইদ তঈল এবং আবু জাফর জাসর ইবনু ফারকাদ তার কবরে নামলাম। আমরা তাকে কবরে শুইয়ে দিয়ে কাঁচা ইট দিয়ে কবর ঠিকঠাক করে দিচ্ছিলাম। হুমাইদ তঈল ছিলেন মাথার দিকে। হঠাৎ তিনি খেয়াল করলেন যে, ছাবিত বুনানী কবরে নেই। এ দৃশ্য দেখে তিনি ইশারায় আমাদের তা জানালেন। আমরা তাকে ইশারা করে লোকজনকে জানাতে নিষেধ করলাম। আমরা কবর ঠিকঠাক করে ফিরে আসলাম। ফিরে এসে হুমাইদ তঈল আমীর সুলাইমান বিন আলী-এর কাছে গিয়ে সব খুলে বললেন। পরদিন রাত্রি ঘনিয়ে এলে তিনি ঘোড়া হাঁকিয়ে সেখানে গিয়ে ইট সরিয়ে ছাবিত বুনানী-কে কবরে পেলেন না। কবরের মাটি সমান করে দিয়ে তিনি ফিরে আসলেন। সকালে আমরা সবাই ছাবিত বুনানী-এর মেয়ের কাছে গিয়ে তার আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমার মনে হচ্ছে আপনারা তাকে কবরে খুঁজে পাননি! বললাম, হ্যাঁ, কিন্তু এর রহস্য কী? তিনি বললেন, পঞ্চাশ বছর যাবৎ তিনি শেষরাতে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে এই দুআ করতেন,
يَا رَبِّ، إِنْ كُنْتَ أَعْطَيْتَ أَحَدًا الصَّلَاةَ فِي قَبْرِهِ فَأَعْطِيْنِيْهَا
হে আমার রব, আপনি যদি কবরে কাউকে নামায পড়ার সুযোগ দান করেন তবে আমাকেও সে সুযোগ দান করুন।
ইনশাআল্লাহ, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তার এই দুআ ফিরিয়ে দেবেন না।
বর্ণনাকারী রবী বিন সুবাইহ বলেন, আবু জাফর জাসর বললেন, সেই পবিত্র সত্তার শপথ, যিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই! আমি রাত্রিবেলা স্বপ্নে তাকে সবুজ পোশাকে কবরে নামায আদায় করতে দেখেছি।
৩. ইয়াজিদ বিন তরীফ বাজালী বলেন, যামাযিম যুদ্ধের সময় আমার এক ভাই মৃত্যুবরণ করে। তাকে কবর দেওয়ার পরে আমি তার কবরে মাথা ঠেকিয়ে কিছু শোনার চেষ্টা করি। আমি আমার বাম কানে ভাইয়ের দুর্বল কণ্ঠের আওয়াজ শুনে চিনতে পারি। সে তখন বলছিল, আল্লাহ। এরপরই তাকে আরেকজন প্রশ্ন করল, তোমার দ্বীন কী? সে বলল, ইসলাম।
৪. আলা বিন আবদুর কারীম বলেন, এক লোক মারা গেল। তার এক ভাই ছিলেন, যিনি চোখে কম দেখতেন। তিনি বলেন, ভাইয়ের দাফনের পর লোকজন যখন চলে গেল, আমি কবরে মাথা রাখলাম। আমি কবরের ভেতর থেকে আওয়াজ শুনতে পেলাম, তোমার রব কে? তোমার নবী কে? এরপরই আমি আমার ভাইয়ের পরিচিত কণ্ঠ শুনতে পেলাম। সে বলছিল, আল্লাহ আমার রব। মুহাম্মাদ আমার নবী। তারপর কবরের ভেতর থেকে তির ছুড়ে যাওয়ার মত শাঁ শাঁ শব্দ বের হতে লাগল। এই আওয়াজ শুনে আমার শরীর হিম হয়ে গেল। আমি ফিরে আসলাম。
৬. মুহাম্মাদ বিন মুসা সাইগ বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ বিন নাফি মাদানী বলেন, মদিনাবাসী জনৈক ব্যক্তির ইনতিকাল হলে তাকে যথারীতি দাফন করা হয়। এক ব্যক্তি স্বপ্নে তাকে জাহান্নামীদের মধ্যে দেখতে পায়। এই অবস্থা দেখে সে খুব বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। এর সাত বা আট দিন পর লোকটি তাকে আবার স্বপ্নে দেখে। এবার তাকে জান্নাতে দেখতে পায়। লোকটি তাকে বলল, তুমি না বলেছিলে, তুমি জাহান্নামী?
কবরবাসী বলল, আমি সেখানেই ছিলাম। আমাদের পাশে এক সালিহ (পুণ্যবান) ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। তিনি তার আশেপাশের চল্লিশজনের জন্য সুপারিশ করেন। আমিও তাদের একজন。

টিকাঃ
১৭৮. শরহুস সুদূর, ১৯৭。
১৭৯. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৫২০; হিলইয়াতুল আওলিয়া ওয়া তবাকাতুল আসফিয়া, ২/৩১৯;
তবাকাতুল কুবরা লিইবনি সাআদ, ৭/১৭৪。
১৮০. তাহযীবুল আছার মুসনাদু উমর, ২/৫১৩। বর্ণনা নং ৫৩৬。
১৮১. ইরশাদুস সারী, ৩/৪৭৮। ১৩৭৪ নং হাদিসে কবরের আযাব সংক্রান্ত আলোচনায়。
১৮২, রূহ, ৯০。

📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 বাদশাহ যুলকারনাইন ও বিভিন্ন জাতির লোকজন

📄 বাদশাহ যুলকারনাইন ও বিভিন্ন জাতির লোকজন


১. আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ খুযাঈ বলেন, বাদশাহ যুলকারনাইন একবার এমন এক জাতির মাঝে উপস্থিত হলেন যাদের হাতে জমিনের বুকে জীবনযাপন করার মতো তেমন কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না। তারা নিজেদের জন্য কবর খুঁড়ে রাখত আর সকালবেলা যত্নসহকারে কবরগুলো পরিষ্কার করে সেখানে নামায আদায় করে দুআ করত। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো লতাপাতা ও সবজি আহার করত। জমিতে উৎপন্ন শস্যই ছিল তাদের প্রধান। এ দৃশ্য দেখে যুলকারনাইন তাদের সর্দারের কাছে দূত পাঠালেন।
বর্ণনাকারী বলেন, সংবাদ পেয়ে সর্দার এই সংবাদ পাঠালেন যে, তার নিকট আমার কোনো প্রয়োজন নেই। এই সংবাদ পেয়ে যুলকারনাইন নিজেই তার সাথে দেখা করলেন। তখন সর্দার বললেন, আপনার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন থাকলে তো আমি নিজেই আসতাম। যুলকারনাইন বললেন, আমি তোমাদের এমন অবস্থা আর কোনো উম্মতের মাঝে দেখিনি! তারা বলল, সেটা আবার কী? তিনি বললেন, তোমাদের নিকট দুনিয়া এবং দুনিয়ার কোনো ভোগ-সামগ্রী নেই। তোমরা জীবনকে উপভোগ করার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্য সংগ্রহ করো না কেন? তারা বলল, আমরা তা পছন্দ করি না। কারণ, কেউ যখন এসব অর্জন করতে শুরু করে তখন তার মধ্যে এসবের প্রতি অতিরিক্ত লোভ-লালসা সৃষ্টি হয় এবং সে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে। তিনি বললেন, তোমরা কবর খনন করে থাকো। আর সকাল হলেই যত্নসহকারে সেগুলো পরিষ্কার করে সেখানে নামায আদায় করো। এর কারণ কী? তারা বলল, এসবের উদ্দেশ্য হলো, যখন আমাদের মাঝে ইহকালীন আশা-আকাঙ্ক্ষা উঁকি দেয়, আমরা খননকৃত কবরগুলোর দিকে দৃষ্টি দিই, তখন এগুলো আমাদের দুনিয়ার আশা-আকাঙ্ক্ষায় মত্ত হতে বাধা দেয়।
বাদশাহ বললেন, আমি লক্ষ করে দেখলাম, তোমরা শুধু জমি হতে উৎপন্ন শস্যই আহার করো। তোমরা চতুষ্পদ প্রাণী লালনপালন করো না কেন? তা করলে তো তোমরা দুধ পান করতে পারতে। সওয়ারি পেতে। তোমাদের জীবন সহজ হতো! তারা বলল, আমরা নিজেদের পাকস্থলিকে এসব অবলা প্রাণীর কবর বানাতে চাই না। তা ছাড়া আমরা খেয়াল করে দেখেছি যে জমিতে প্রচুর পরিমাণে শস্য উৎপাদিত হয়। আর মানুষের জন্য প্রয়োজন পরিমাণ খাদ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট। মাত্রাতিরিক্ত হলে আমরা সে খাদ্য গ্রহণ করি না। এরপর সর্দার পেছন হতে হাত বাড়িয়ে একটি
মানুষের মাথার খুলি এনে সামনে রাখলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি জানেন ইনি কে? তিনি বললেন, না। উনি কে? সর্দার বললেন, এই লোকটি পৃথিবীতে রাজত্বকারীদেরই একজন। আল্লাহ তাআলা তাকে জমিনের ওপর কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। রাজত্ব পেয়ে সে একাধারে নিষ্ঠুর, জালিম ও খিয়ানাতকারী হয়ে ওঠে। যার পরিণামে আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর বিভীষিকা দ্বারা তাকে পাকড়াও করেছেন। আজকে সে ছুড়ে ফেলা পাথরের মতো গড়াগড়ি খাচ্ছে। আল্লাহ তাআলা তার আমলের হিসাব গ্রহণের আগ পর্যন্ত এভাবেই চলবে। অতঃপর হিসাব গ্রহণ করে আখিরাতে তিনি তাকে তার আমলের উপযুক্ত বিনিময় দেবেন। অতঃপর সর্দার আরও একটি খুলি তুলে ধরে জিজ্ঞাসা করলেন, উনাকে চেনেন? যুলকারনাইন বললেন, না। কে উনি? সর্দার বললেন, ইনিও একজন বাদশাহ। আল্লাহ তাআলা আগেরজনের পরে তাকে ক্ষমতা দান করেছিলেন। আর সে নিজ চোখেই পূর্ববর্তীদের অন্যায়, অনাচার ও নাফরমানির ভয়াবহ পরিণাম দেখেছিল। তাই তিনি আল্লাহ তাআলার অনুগত হয়ে ওঠেন। তাঁর ভয়ে ভীত হন। আর প্রজা-সাধারণের প্রতি ন্যায়পরায়ণ হয়ে ওঠেন। আজকে তার পরিণতিও আপনি দেখতে পাচ্ছেন। আল্লাহ তাআলা তার আমলের হিসাব গ্রহণ করবেন এবং আখিরাতে তাকে তার উপযুক্ত বিনিময় দান করবেন। অতঃপর সর্দার যুলকারনাইনের মাথার খুলির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই খুলিও সেই খুলি দুটির মতোই। অতএব হে যুলকারনাইন, ভেবে দেখুন, আপনি কী করছেন?
বাদশাহ যুলকারনাইন বললেন, তুমি কি আমার সঙ্গী হবে? আমি তোমাকে ভাইয়ের মর্যাদা দেব, মন্ত্রী বানাব, কিংবা আমার সম্পত্তির অংশীদার বানাতে চাই। সর্দার বললেন, আমি আর আপনি একই স্থানে থাকা ঠিক হবে না। আর আমাদের সবার একইরকম হয়ে যাওয়াটাও ঠিক নয়। যুলকারনাইন প্রশ্ন করলেন, কেন? তিনি বললেন, কারণ মানুষ আপনার শত্রু। কিন্তু আমার বন্ধু। বাদশাহ বললেন, সেটা কীভাবে? সর্দার বললেন, আপনার রাজত্ব ও সম্পদের কারণেই তারা আপনার সাথে শত্রুতা পোষণ করে থাকে। পক্ষান্তরে আমার কাছে এমন কিছু নেই যার জন্য কারও সাথে শত্রুতা তৈরি হতে পারে। আমার কাছে তো কেবল প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী রয়েছে। এরপর বাদশাহ যুলকারনাইন সেখান থেকে ফিরে আসেন.**
২. খালফ বিন খালীফা বর্ণনা করেন, আবু হাশিম রুম্মানী বলেন, আমার নিকট এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে, বাদশাহ যুলকারনাইন পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছেছিলেন। একবার তিনি এমন এক ব্যক্তির সন্ধান পান, যার হাতে একটি ছড়ি ছিল, আর সে তা দিয়ে মৃত মানুষের হাড়গোড় উলটে-পালটে দেখত। সাধারণত যুলকারনাইন কোথাও গেলে সেখানকার লোকজন তার সাথে সাক্ষাৎ করে কুশল বিনিময় করত। কিন্তু এই লোকটি তার সাথে দেখা করতে আসল না। এতে যুলকারনাইন খানিকটা বিস্মিত হয়ে নিজেই তার কাছে গেলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি আমার কাছে আসলে না, কথাবার্তা বললে না, কারণ কী? সে বলল, আপনার নিকট আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আর এটা জানা বিষয় যে, আমার নিকট আপনার কোনো প্রয়োজন থাকলে আপনিই আমার কাছে আসবেন। বাদশাহ জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এসব কী নাড়াচাড়া করছ? লোকটি বলল, মৃত মানুষের হাড়গোড়। চল্লিশ বছর যাবৎ এটাই আমার কাজ। আমি এই জীর্ণ হাড়গুলোর মধ্যে সম্ভ্রান্ত লোকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার কাছে সব একইরকম মনে হচ্ছে। যুলকারনাইন বললেন, তুমি কি আমার সঙ্গী হবে? আমার পাশে থাকবে? লোকটি বলল, আপনি যদি আমার বিষয়ে একটি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে আমি আপনার সঙ্গী হব। বাদশাহ জিজ্ঞাসা করলেন, কী দায়িত্ব? লোকটি বলল, আমার মৃত্যু আসলে আপনি তা ঠেকিয়ে দেবেন। যুলকারনাইন বললেন, তা তো সম্ভব নয়। লোকটি বলল, তাহলে আপনার সাথে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই。
৩. সাঈদ বিন আবু হিলাল লাইসী বলেন, বর্ণিত আছে যে, বাদশাহ যুলকারনাইন তার বিশ্ব-সফরে এক শহরে যাত্রাবিরতি করলেন। শহরের আবাল- বৃদ্ধ-বনিতা সকলে তার চারপাশে জড়ো হয়ে তার বহর দেখতে লাগল। নগর ফটক ঘেঁষে এক বৃদ্ধ নিজের আমলে মশগুল ছিলেন। যুলকারনাইনের বাহিনী তার পাশ কেটে চলে গেলেও তিনি তাদের দিকে ফিরে তাকালেন না। এতে যুলকারনাইন বিস্মিত হয়ে বৃদ্ধকে ডেকে পাঠালেন। তিনি আসতেই বাদশাহ বললেন, আপনার ব্যাপারটা কী? শহরের লোকজন সব আমার চারপাশে জড়ো হলো কিন্তু আপনি আসলেন না। ব্যাপার কী? বৃদ্ধ বললেন, আপনি কিসে চড়ে এসেছেন তার প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই। একজন বাদশাহ এবং একজন নিঃস্ব লোকের একই
দিন মৃত্যু ঘটে। আমরা উভয়কে দাফন করি। কিছুদিন পর উভয়ের লাশ উত্তোলন করা হয়। গোশত পচে-গলে মিশে গেছে। হাড়-গোড় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই আপনার রাজত্ব আমাকে আকর্ষণ করে না। বাদশাহ যুলকারনাইন শহর ছেড়ে যাওয়ার সময় বৃদ্ধকে গভর্নর নিযুক্ত করে যান。
৪. হারিস বিন মুহাম্মাদ তামিমী কুরাইশ বংশের জনৈক বৃদ্ধের কাছ থেকে বর্ণনা করেন যে, বাদশাহ ইসকানদার (যুলকারনাইন) এক শহরে উপস্থিত হলেন যেখানে পর পর সাত জন শাসক শাসনক্ষমতা পরিচালনা করে ইতিহাসের গর্ভে হারিয়ে গিয়েছেন। ইসকানদার জিজ্ঞাসা করলেন, এই জমিনে শাসনকারীদের কোনো বংশধর বেঁচে আছে কি? লোকজন বলল, হ্যাঁ, একজন বেঁচে আছেন, তিনি কবরস্থানে থাকেন। বাদশাহ তাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন জিনিস তোমাকে কবরস্থানে পড়ে থাকতে কৌতূহল জুগিয়েছে? লোকটি বলল, আমি শাসক ও প্রজাদের হাড়গোড়ের মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে তা জানতে চাই। আমি উভয় শ্রেণির হাড়গোড় জমা করেছি। কিন্তু সেখানে শাসক ও প্রজা সাধারণকে একইরকম পেয়েছি। ইসকানদার বললেন, তুমি কি আমার সাথে যাবে? এতে তোমার মাধ্যমে তোমার পূর্বপুরুষের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার হবে। আর তোমার কোনো ইচ্ছা থাকলে তাও পূরণ করা হবে। লোকটি বলল, আমার মনের বাসনা তো অনেক বড়। আপনি যদি তা পূরণ করতে পারেন তো বলুন। বাদশাহ জানতে চাইলেন, কী তোমার মনস্কামনা? সে বলল, মৃত্যুহীন জীবন, বার্ধক্যহীন যৌবন, দারিদ্র্যহীন প্রাচুর্য আর বিরক্তিহীন বিলাসিতা। বাদশাহ বললেন, এ তো অসম্ভব! লোকটি বলল, তাহলে আপনি নিজেদের মর্যাদা রক্ষা করুন আর আমাকে রাজা-বাদশাহদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাতে দিন। বাদশাহ ইসকানদার বললেন, লোকটি আমার দেখা সবচেয়ে জ্ঞানী লোকদের অন্যতম একজন।

টিকাঃ
১৮৩. তারীখে দামিশক, ১৭/৩৫৩-৩৫৫। তা ছাড়া আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এর কিতাবুয যুহদ, ২/৫৮ ও জালালুদ্দীন সুযুতী এ এর দুররুল মানসুর, ৫/৪৪৯ (সুরা কাহফ, (১৮): ৮৩ এর ব্যাখ্যায়) সমার্থক বর্ণনা রয়েছে。
১৮৪. তারীখু দিমাশক, ১৭/৩৫৩। সনদ হাসান。
১৮৫. কিতাবুয যুহদ, ২/৫৮
১৮৬. তারীখু দিমাশক, ১৭/৩৫৫। সনদ দুর্বল。

১. আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ খুযাঈ বলেন, বাদশাহ যুলকারনাইন একবার এমন এক জাতির মাঝে উপস্থিত হলেন যাদের হাতে জমিনের বুকে জীবনযাপন করার মতো তেমন কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না। তারা নিজেদের জন্য কবর খুঁড়ে রাখত আর সকালবেলা যত্নসহকারে কবরগুলো পরিষ্কার করে সেখানে নামায আদায় করে দুআ করত। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো লতাপাতা ও সবজি আহার করত। জমিতে উৎপন্ন শস্যই ছিল তাদের প্রধান। এ দৃশ্য দেখে যুলকারনাইন তাদের সর্দারের কাছে দূত পাঠালেন।
বর্ণনাকারী বলেন, সংবাদ পেয়ে সর্দার এই সংবাদ পাঠালেন যে, তার নিকট আমার কোনো প্রয়োজন নেই। এই সংবাদ পেয়ে যুলকারনাইন নিজেই তার সাথে দেখা করলেন। তখন সর্দার বললেন, আপনার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন থাকলে তো আমি নিজেই আসতাম। যুলকারনাইন বললেন, আমি তোমাদের এমন অবস্থা আর কোনো উম্মতের মাঝে দেখিনি! তারা বলল, সেটা আবার কী? তিনি বললেন, তোমাদের নিকট দুনিয়া এবং দুনিয়ার কোনো ভোগ-সামগ্রী নেই। তোমরা জীবনকে উপভোগ করার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্য সংগ্রহ করো না কেন? তারা বলল, আমরা তা পছন্দ করি না। কারণ, কেউ যখন এসব অর্জন করতে শুরু করে তখন তার মধ্যে এসবের প্রতি অতিরিক্ত লোভ-লালসা সৃষ্টি হয় এবং সে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে। তিনি বললেন, তোমরা কবর খনন করে থাকো। আর সকাল হলেই যত্নসহকারে সেগুলো পরিষ্কার করে সেখানে নামায আদায় করো। এর কারণ কী? তারা বলল, এসবের উদ্দেশ্য হলো, যখন আমাদের মাঝে ইহকালীন আশা-আকাঙ্ক্ষা উঁকি দেয়, আমরা খননকৃত কবরগুলোর দিকে দৃষ্টি দিই, তখন এগুলো আমাদের দুনিয়ার আশা-আকাঙ্ক্ষায় মত্ত হতে বাধা দেয়।
বাদশাহ বললেন, আমি লক্ষ করে দেখলাম, তোমরা শুধু জমি হতে উৎপন্ন শস্যই আহার করো। তোমরা চতুষ্পদ প্রাণী লালনপালন করো না কেন? তা করলে তো তোমরা দুধ পান করতে পারতে। সওয়ারি পেতে। তোমাদের জীবন সহজ হতো! তারা বলল, আমরা নিজেদের পাকস্থলিকে এসব অবলা প্রাণীর কবর বানাতে চাই না। তা ছাড়া আমরা খেয়াল করে দেখেছি যে জমিতে প্রচুর পরিমাণে শস্য উৎপাদিত হয়। আর মানুষের জন্য প্রয়োজন পরিমাণ খাদ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট। মাত্রাতিরিক্ত হলে আমরা সে খাদ্য গ্রহণ করি না। এরপর সর্দার পেছন হতে হাত বাড়িয়ে একটি
মানুষের মাথার খুলি এনে সামনে রাখলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি জানেন ইনি কে? তিনি বললেন, না। উনি কে? সর্দার বললেন, এই লোকটি পৃথিবীতে রাজত্বকারীদেরই একজন। আল্লাহ তাআলা তাকে জমিনের ওপর কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। রাজত্ব পেয়ে সে একাধারে নিষ্ঠুর, জালিম ও খিয়ানাতকারী হয়ে ওঠে। যার পরিণামে আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর বিভীষিকা দ্বারা তাকে পাকড়াও করেছেন। আজকে সে ছুড়ে ফেলা পাথরের মতো গড়াগড়ি খাচ্ছে। আল্লাহ তাআলা তার আমলের হিসাব গ্রহণের আগ পর্যন্ত এভাবেই চলবে। অতঃপর হিসাব গ্রহণ করে আখিরাতে তিনি তাকে তার আমলের উপযুক্ত বিনিময় দেবেন। অতঃপর সর্দার আরও একটি খুলি তুলে ধরে জিজ্ঞাসা করলেন, উনাকে চেনেন? যুলকারনাইন বললেন, না। কে উনি? সর্দার বললেন, ইনিও একজন বাদশাহ। আল্লাহ তাআলা আগেরজনের পরে তাকে ক্ষমতা দান করেছিলেন। আর সে নিজ চোখেই পূর্ববর্তীদের অন্যায়, অনাচার ও নাফরমানির ভয়াবহ পরিণাম দেখেছিল। তাই তিনি আল্লাহ তাআলার অনুগত হয়ে ওঠেন। তাঁর ভয়ে ভীত হন। আর প্রজা-সাধারণের প্রতি ন্যায়পরায়ণ হয়ে ওঠেন। আজকে তার পরিণতিও আপনি দেখতে পাচ্ছেন। আল্লাহ তাআলা তার আমলের হিসাব গ্রহণ করবেন এবং আখিরাতে তাকে তার উপযুক্ত বিনিময় দান করবেন। অতঃপর সর্দার যুলকারনাইনের মাথার খুলির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই খুলিও সেই খুলি দুটির মতোই। অতএব হে যুলকারনাইন, ভেবে দেখুন, আপনি কী করছেন?
বাদশাহ যুলকারনাইন বললেন, তুমি কি আমার সঙ্গী হবে? আমি তোমাকে ভাইয়ের মর্যাদা দেব, মন্ত্রী বানাব, কিংবা আমার সম্পত্তির অংশীদার বানাতে চাই। সর্দার বললেন, আমি আর আপনি একই স্থানে থাকা ঠিক হবে না। আর আমাদের সবার একইরকম হয়ে যাওয়াটাও ঠিক নয়। যুলকারনাইন প্রশ্ন করলেন, কেন? তিনি বললেন, কারণ মানুষ আপনার শত্রু। কিন্তু আমার বন্ধু। বাদশাহ বললেন, সেটা কীভাবে? সর্দার বললেন, আপনার রাজত্ব ও সম্পদের কারণেই তারা আপনার সাথে শত্রুতা পোষণ করে থাকে। পক্ষান্তরে আমার কাছে এমন কিছু নেই যার জন্য কারও সাথে শত্রুতা তৈরি হতে পারে। আমার কাছে তো কেবল প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী রয়েছে। এরপর বাদশাহ যুলকারনাইন সেখান থেকে ফিরে আসেন.**
২. খালফ বিন খালীফা বর্ণনা করেন, আবু হাশিম রুম্মানী বলেন, আমার নিকট এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে, বাদশাহ যুলকারনাইন পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছেছিলেন। একবার তিনি এমন এক ব্যক্তির সন্ধান পান, যার হাতে একটি ছড়ি ছিল, আর সে তা দিয়ে মৃত মানুষের হাড়গোড় উলটে-পালটে দেখত। সাধারণত যুলকারনাইন কোথাও গেলে সেখানকার লোকজন তার সাথে সাক্ষাৎ করে কুশল বিনিময় করত। কিন্তু এই লোকটি তার সাথে দেখা করতে আসল না। এতে যুলকারনাইন খানিকটা বিস্মিত হয়ে নিজেই তার কাছে গেলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি আমার কাছে আসলে না, কথাবার্তা বললে না, কারণ কী? সে বলল, আপনার নিকট আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আর এটা জানা বিষয় যে, আমার নিকট আপনার কোনো প্রয়োজন থাকলে আপনিই আমার কাছে আসবেন। বাদশাহ জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এসব কী নাড়াচাড়া করছ? লোকটি বলল, মৃত মানুষের হাড়গোড়। চল্লিশ বছর যাবৎ এটাই আমার কাজ। আমি এই জীর্ণ হাড়গুলোর মধ্যে সম্ভ্রান্ত লোকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার কাছে সব একইরকম মনে হচ্ছে। যুলকারনাইন বললেন, তুমি কি আমার সঙ্গী হবে? আমার পাশে থাকবে? লোকটি বলল, আপনি যদি আমার বিষয়ে একটি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে আমি আপনার সঙ্গী হব। বাদশাহ জিজ্ঞাসা করলেন, কী দায়িত্ব? লোকটি বলল, আমার মৃত্যু আসলে আপনি তা ঠেকিয়ে দেবেন। যুলকারনাইন বললেন, তা তো সম্ভব নয়। লোকটি বলল, তাহলে আপনার সাথে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই。
৩. সাঈদ বিন আবু হিলাল লাইসী বলেন, বর্ণিত আছে যে, বাদশাহ যুলকারনাইন তার বিশ্ব-সফরে এক শহরে যাত্রাবিরতি করলেন। শহরের আবাল- বৃদ্ধ-বনিতা সকলে তার চারপাশে জড়ো হয়ে তার বহর দেখতে লাগল। নগর ফটক ঘেঁষে এক বৃদ্ধ নিজের আমলে মশগুল ছিলেন। যুলকারনাইনের বাহিনী তার পাশ কেটে চলে গেলেও তিনি তাদের দিকে ফিরে তাকালেন না। এতে যুলকারনাইন বিস্মিত হয়ে বৃদ্ধকে ডেকে পাঠালেন। তিনি আসতেই বাদশাহ বললেন, আপনার ব্যাপারটা কী? শহরের লোকজন সব আমার চারপাশে জড়ো হলো কিন্তু আপনি আসলেন না। ব্যাপার কী? বৃদ্ধ বললেন, আপনি কিসে চড়ে এসেছেন তার প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই। একজন বাদশাহ এবং একজন নিঃস্ব লোকের একই
দিন মৃত্যু ঘটে। আমরা উভয়কে দাফন করি। কিছুদিন পর উভয়ের লাশ উত্তোলন করা হয়। গোশত পচে-গলে মিশে গেছে। হাড়-গোড় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই আপনার রাজত্ব আমাকে আকর্ষণ করে না। বাদশাহ যুলকারনাইন শহর ছেড়ে যাওয়ার সময় বৃদ্ধকে গভর্নর নিযুক্ত করে যান。
৪. হারিস বিন মুহাম্মাদ তামিমী কুরাইশ বংশের জনৈক বৃদ্ধের কাছ থেকে বর্ণনা করেন যে, বাদশাহ ইসকানদার (যুলকারনাইন) এক শহরে উপস্থিত হলেন যেখানে পর পর সাত জন শাসক শাসনক্ষমতা পরিচালনা করে ইতিহাসের গর্ভে হারিয়ে গিয়েছেন। ইসকানদার জিজ্ঞাসা করলেন, এই জমিনে শাসনকারীদের কোনো বংশধর বেঁচে আছে কি? লোকজন বলল, হ্যাঁ, একজন বেঁচে আছেন, তিনি কবরস্থানে থাকেন। বাদশাহ তাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন জিনিস তোমাকে কবরস্থানে পড়ে থাকতে কৌতূহল জুগিয়েছে? লোকটি বলল, আমি শাসক ও প্রজাদের হাড়গোড়ের মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে তা জানতে চাই। আমি উভয় শ্রেণির হাড়গোড় জমা করেছি। কিন্তু সেখানে শাসক ও প্রজা সাধারণকে একইরকম পেয়েছি। ইসকানদার বললেন, তুমি কি আমার সাথে যাবে? এতে তোমার মাধ্যমে তোমার পূর্বপুরুষের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার হবে। আর তোমার কোনো ইচ্ছা থাকলে তাও পূরণ করা হবে। লোকটি বলল, আমার মনের বাসনা তো অনেক বড়। আপনি যদি তা পূরণ করতে পারেন তো বলুন। বাদশাহ জানতে চাইলেন, কী তোমার মনস্কামনা? সে বলল, মৃত্যুহীন জীবন, বার্ধক্যহীন যৌবন, দারিদ্র্যহীন প্রাচুর্য আর বিরক্তিহীন বিলাসিতা। বাদশাহ বললেন, এ তো অসম্ভব! লোকটি বলল, তাহলে আপনি নিজেদের মর্যাদা রক্ষা করুন আর আমাকে রাজা-বাদশাহদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাতে দিন। বাদশাহ ইসকানদার বললেন, লোকটি আমার দেখা সবচেয়ে জ্ঞানী লোকদের অন্যতম একজন।

টিকাঃ
১৮৩. তারীখে দামিশক, ১৭/৩৫৩-৩৫৫। তা ছাড়া আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এর কিতাবুয যুহদ, ২/৫৮ ও জালালুদ্দীন সুযুতী এ এর দুররুল মানসুর, ৫/৪৪৯ (সুরা কাহফ, (১৮): ৮৩ এর ব্যাখ্যায়) সমার্থক বর্ণনা রয়েছে。
১৮৪. তারীখু দিমাশক, ১৭/৩৫৩। সনদ হাসান。
১৮৫. কিতাবুয যুহদ, ২/৫৮
১৮৬. তারীখু দিমাশক, ১৭/৩৫৫। সনদ দুর্বল。

📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 জন্ম হয়েছে কবরে!

📄 জন্ম হয়েছে কবরে!


উমর ইবনুল খাত্তাব-এর ভৃত্য এবং বিখ্যাত তাবেঈ আবু যায়িদ আসলাম বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাবএকদিন লোকজনের মাঝে উপস্থিত হলেন; এমন সময় জনৈক ব্যক্তি তার শিশু ছেলেকে কাঁধে চড়িয়ে উমর-এর পাশ
দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের দেখে তিনি বললেন, বাবা ও ছেলের মধ্যে এত অমিল তো আমি আর কখনো দেখিনি। লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, তার মা মৃত্যুর পর তাকে প্রসব করেছে! আমীরুল মুমিনীন বললেন, বলো কী! তা কীভাবে সম্ভব? লোকটি বলল, একবার কিছু কাজে দূরের সফরে বের হলাম। ছেলেটি তখন আমার স্ত্রীর গর্ভে। আমি বের হওয়ার আগে তাকে বললাম, তোমার গর্ভে যে সন্তান রয়েছে, আমি তাকে আল্লাহর তাআলার কাছে আমানত রেখে যাচ্ছি। আল্লাহ তাকে নিরাপদ রাখুন। সফর থেকে ফিরে জানতে পারলাম, আমার স্ত্রী ইনতিকাল করেছে। এক রাতের ঘটনা। আমি আর আমার চাচাতো ভাই খোলা ময়দানে বসে আছি। হঠাৎ দেখলাম অদূরের কবরস্থানে বাতির আলোর মতো আলো জ্বলছে। আমি ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কিসের আলো? সে বলল, প্রতিরাতেই তোমার স্ত্রীর কবরে আলোটি দেখতে পাই। কিন্তু কিসের আলো তা জানি না। লোকটি বলল, এরপর আমি একটি কুঠার নিয়ে কবরের কাছে গিয়ে দেখি কবরটি খোলা আর ছেলেটি তার মায়ের কোলে। এমন সময় কেউ একজন আমাকে লক্ষ্য করে বলল,
হে আল্লাহর নিকট আমানত প্রদানকারী, তোমার গচ্ছিত আমানত গ্রহণ করো। তুমি যদি তার মাকে আমানত রেখে যেতে, তবে তাকেও ফিরে পেতে। এ কথা শুনে আমি ছেলেটিকে তুলে নিলাম। আর কবরটিও বন্ধ হয়ে গেল.**

টিকাঃ
১৮৭. মানাকিব আমারিল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (ইবনুল জাওযী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ), ৬৬। সনদ মাকবুল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00