📄 কবর : এক অন্ধকার জগৎ
আবু হুরায়রা বলেন,
أَنَّ امْرَأَةً، سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ - أَوْ شَابًا - فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عَنْهَا - أَوْ عَنْهُ - فَقَالُوا مَاتَ . قَالَ : أَفَلَا كُنْتُمْ آذَنْتُمُونِي . قَالَ فَكَأَنَّهُمْ صَغَرُوا أَمْرَهَا - أَوْ أَمْرَهُ - فَقَالَ : دُلُّونِي عَلَى قَبْرِهِ . فَدَلُّوهُ فَصَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ : إِنَّ هَذِهِ الْقُبُورَ مَمْلُوءَةً ظُلْمَةً عَلَى أَهْلِهَا وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُنَوِّرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِي عَلَيْهِمْ.
একটি কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা অথবা যুবক মসজিদে নববীতে ঝাড়ু দিত। রাসুল কিছুদিন তাকে না দেখে তার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। সাহাবীগণ বললেন, সে তো মারা গেছে। রাসুল বললেন, তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? বর্ণনাকারী বলেন, খুব সম্ভব তারা বিষয়টিকে গুরুত্বহীন মনে করেছিলেন। রাসুল ﷺ বললেন, আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। তারা তাঁকে কবর দেখিয়ে দিলে তিনি কবরের ওপর জানাযার নামায আদায় করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, এই কবর অন্ধকারে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। আমার জানাযার নামাযের দরুন আল্লাহ আযযা ওয়া যাল্লা তা আলোকিত করে দেন।”
টিকাঃ
১২. সহিহ মুসলিম, ৯৫৬। জানাযা অধ্যায়।
📄 কবর : অতি সংকীর্ণ এক ঠিকানা
জাবির বিন আবদুল্লাহ আনসারি বলেন,
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا إِلَى سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ حِينَ تُوُفِّيَ، قَالَ: فَلَمَّا صَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَوُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَسُويَ عَلَيْهِ، سَبَّحَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَبِّحْنَا طَوِيلًا ، ثُمَّ كَبَّرَ فَكَبَّرْنَا، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، لِمَ سَبَّحْتَ ؟ ثُمَّ كَبَّرْتَ؟ قَالَ: لَقَدْ تَضَايَقَ عَلَى هَذَا الْعَبْدِ الصَّالِحِ قَبْرُهُ حَتَّى فَرَّجَهُ اللَّهُ عَنْهُ.
সাদ ইবনু মুআয যখন ইন্তিকাল করেন, তখন আমরা রাসুল -এর সাথে তাঁর জানাযায় হাজির হলাম। জানাযার নামায আদায় করে তাকে যখন কবরে রাখা হলো ও মাটি সমান করে দেওয়া হলো, তখন রাসুল সেখানে (দীর্ঘক্ষণ) তাসবীহ পাঠ করলেন। আমরাও তাঁর সাথে অনেক সময় তাসবীহ পড়লাম। তারপর রাসুল তাকবীর বললেন। আমরাও (তাঁর সাথে) তাকবীর বললাম। অতঃপর রাসুল -কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কেন এভাবে তাসবীহ পড়লেন ও তাকবীর বললেন? তিনি বললেন, এ নেক ব্যক্তির কবর খুব সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল (তাই আমি তাসবীহ ও তাকবীর পড়লাম)। এতে আল্লাহ তাআলা তার কবরকে প্রশস্ত করে দিলেন।
টিকাঃ
১০. মুসনাদু আহমাদ, ১৪৮৭৩। সনদ হাসান।
📄 কবরের আযাব : এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা
আল্লাহ তাআলা বলেন,
(وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْر الْحَقِّ وَكُنتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُون)
আর আপনি যদি দেখতেন, যখন যালিমরা মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর থাকবে আর ফেরেশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের করে দাও, আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে।
এর ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারী মৃত্যুর পর পর শাস্তির ঘোষণাকে কবরের আযাব বলে উল্লেখ করেছেন।
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
(سَنُعَذِّبُهُم مَّرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ)
অচিরেই তাদের আমি দুইবার (বারবার) শাস্তি দেব। পরে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে মহা শাস্তির দিকে।
এখানে দুইবার শাস্তির ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারী বলেন, প্রথম বার হলো কবরের আযাব।
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ ﴿٤٥﴾ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ﴾
আর নিকৃষ্ট (কঠিন) শাস্তি ফেরআউন গোষ্ঠীকে ঘিরে ফেলল, সকাল সন্ধ্যায় তাদের উপস্থিত করা হয় জাহান্নামের সামনে, আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে (সেদিন বলা হবে) ফেরআউন গোষ্ঠীকে কঠিন শাস্তিতে প্রবিষ্ট করো।”
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনুল কাসির বলেন, এই আয়াতটি আলমে বরযখ তথা কবরজগতে শাস্তির প্রমাণ বহন করে।
আম্মাজান আয়িশা হতে বর্ণিত,
أَنَّ يَهُودِيَّةٌ، دَخَلَتْ عَلَيْهَا، فَذَكَرَتْ عَذَابَ الْقَبْرِ، فَقَالَتْ لَهَا أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ. فَسَأَلَتْ عَائِشَةُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَذَابٍ الْقَبْرِ فَقَالَ : نَعَمْ عَذَابُ الْقَبْرِ. قَالَتْ عَائِشَةُ ـ رضى الله عنها - فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ صَلَّى صَلَاةً إِلَّا تَعَوَّذَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ. زَادَ غُنْدَرُ، عَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ.
এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোক আয়িশা -এর কাছে এসে কবরের আযাব সম্পর্কে আলোচনা করে তাঁকে (দুআ করে) বলল, আল্লাহ আপনাকে কবরের আযাব হতে রক্ষা করুন! পরে আয়িশা কবরের আযাব সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল -এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, হাঁ, কবরের আযাব (সত্য)। আয়িশা বলেন, এরপর থেকে নবী -কে এমন কোনো সালাত আদায় করতে দেখিনি, যাতে তিনি কবরের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেননি।
এই হাদিসের বর্ণনায় গুনদার অধিক উল্লেখ করেছেন যে, 'কবরের আযাব একেবারে বাস্তব।'
টিকাঃ
১৪. সুরা আনআম, (৬) : ১৩।
১৫. সুরা তাওবা, (৯) : ১০১।
১৬. সহিহ বুখারী, জানাযা অধ্যায়। কবরের আযাব-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের ভূমিকা।
১৭. সুরা মুমিন/গাফির, (৪০): ৪৫, ৪৬
১৮. তাফসীরু ইবনি কাসীর, ৭/১৩৩। উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায়।
📄 কাফন-দাফনের সময় সালাফের বিভিন্ন নসীহাহ
১. উমর ইবনুল খাত্তাব বর্ণনা করেন। রাসুল বলেছেন,
مَا مِن ميّتٍ يُوضَعُ على سريره فيُخطى به ثلاث خُطى إِلَّا تَكَلَّمَ بكلام يسمعه من شاء اللهُ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ الجِنَّ والإنس، يقول: يا إخوتاه، ويا حملة نَعْشَاهُ، لا تَغُرَّنَّكُمُ الدُّنيا كما غَرَّتْني، ولا يَلعَبَنَّ بِكُمُ الزَّمانُ كما لعِبَ بي، خَلَفْتُ مَا تَرَكْتُ لِوَرَثَتِي وَالدَّيَانُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُحَاسَبِي وَأَنْتُمْ تَشِيعُونِي وَتَوَدَعُونِي
মৃত ব্যক্তিকে খাটিয়াতে রেখে তিন কদম যাওয়ার আগেই মৃত ব্যক্তি এমন ভাষায় কিছু কথা বলে, যা মানুষ ও জীন ব্যতীত আল্লাহ তাআলা যাকে শোনাতে চান সে শোনে। মৃত ব্যক্তি বলে, হে আমার ভাইয়েরা, আমাকে বহনকারী বন্ধুগণ, সাবধান! দুনিয়া আমাকে যেমন ধোঁকায় ফেলেছিল। তোমাদের যেন তেমন ধোঁকা দিতে না পারে। সময় আমাকে নিয়ে যে খেলা খেলেছে। তা যেন তোমাদের সাথে না খেলে। আমি যা অর্জন করেছি, আজ তা উত্তরাধিকারীদের হাতে ছেড়ে চলে যাচ্ছি। কিয়ামতের দিন হিসাবের দায়ভার আমাকেই নিতে হবে। তোমরা তো সামান্য সময়ের জন্য পেছনে চলে বিদায় দিতে আসছ!
২. আবু হুরায়রা সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তার সম্মুখ দিয়ে দিনের আলোয় কোনো জানাযা অতিবাহিত হলে তিনি বলতেন, তুমি দিনের আলোয় যাও, আমরা রাতে আসছি। আর রাতে গেলে বলতেন, তুমি রাতে যাও, আমরা দিনে আসছি।”
৩. তাবিঈ আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-হানী বলেন, একবার আমি সাহাবী আবু উমামা বাহিলী এর সাথে জানাযার সালাত আদায় করি। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি বললেন, পুনরুত্থানের আগ পর্যন্ত এটাই আলমে বরযখ (কবরজগৎ)।
৪. আলী বিন যুফার আস সাআদী বর্ণনা করেন। সাহাবী আহনাফ বিন কাইস এর সামনে দিয়ে একটি জানাযা গেল। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যিনি এমন দিনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
৫. মালিক বিন দীনার বলেন। আমরা হাসান বসরী -এর সাথে এক জানাযায় শরীক ছিলাম। হঠাৎ তিনি শুনতে পেলেন একজন আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করছে, কার জানাযা হচ্ছে? হাসান বললেন, "আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। এই লাশটি হলাম আমি আর তুমি। তোমরা পূর্ববর্তীদের আলোচনা নিয়ে পড়ে আছ। আর এভাবেই আমাদের পরবর্তী লোকজন পূর্ববর্তীদের সাথে মিলিত হবে (অন্যের আলোচনা করতে করতে মৃত্যু চলে আসবে)।"
৬. কিতরি আল খাশশাব বলেন, আমরা এক জানাযায় অংশগ্রহণ করলাম। সেখানে ইমাম শাবী -সহ কুফার গণ্যমান্য লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। লাশ দাফনের পর ইমাম শাবী বললেন, 'মৃত্যু হলো বান্দার পার্থিব জীবনের পরিসমাপ্তি।' তার কথায় উপস্থিত সকলে কান্নায় ভেঙে পড়ল।
৭. সাওয়াদাহ বিন আবুল আসাদ বলেন, আমার পিতা আবুল আসাদ -এর সম্মুখ দিয়ে কোনো জানাযা অতিক্রম করলে তিনি বলতেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। হায়! এ দৃশ্য দেখে আমি যেন একেবারে নিঃস্ব সর্বহারা হয়ে গেলাম।
৮. দাউদ ইবনুল মুহাব্বার বলেন, আমার পিতা মুহাব্বার বিন কাহযাম বিন সুলাইমান বলেছেন, একবার আমরা একটি জানাযার খাটিয়া বহন করে রবী বিন বাররা -এর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। আমাদের দেখে তিনি বললেন, এই অপরিচিত লোকটি কে?
আমরা বললাম, সে তো আমাদের অপরিচিত নয়; বরং খুব কাছের এবং আপন একজন মানুষ।
জবাব শুনে তিনি বললেন, জীবিত ব্যক্তিদের জন্য মৃত ব্যক্তির চেয়ে অচেনা অপরিচিত আর কে হতে পারে?
এ কথা বলেই তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। আল্লাহর শপথ! তার এই কথায় উপস্থিত সকলেই ডুকরে কেঁদে উঠল।
৯. হাতিম বিন সুলাইমান তাঈ বলেন, আমি আবদুল ওয়াহিদ বিন যায়িদ -এর সাথে হাওশাব -এর জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি বললেন, হে আবু বিশর, আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন। এই দিনটির ব্যাপারে আপনি সদা সতর্ক ছিলেন। আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন। মৃত্যুর ব্যাপারে আপনি ছিলেন সদা শঙ্কিত। আল্লাহর শপথ! যদি সম্ভব হতো তাহলে আপনার মৃত্যুর পর আমার পা-দুটো আমাকে আর বয়ে বেড়াত না (সব ছেড়ে আমলে মশগুল হয়ে পড়তাম)।
বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা বলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
১০. মুনকাদির বিন মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির বলেন। আমরা সাফওয়ান বিন সুলাইম -এর সাথে এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। সেখানে আমার পিতা এবং ইমাম আবু হাযিম -ও উপস্থিত ছিলেন। লোকজন মৃত ব্যক্তিকে বিশিষ্ট একজন আবিদ বলে মন্তব্য করল। জানাযার পর সাফওয়ান বললেন, এবার তার আমল করার সুযোগ শেষ। এখন থেকে সে জমিনবাসীর দুআর মুখাপেক্ষী। আল্লাহর শপথ! এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই কাঁদতে শুরু করল।
১১. সাহল বিন আসলাম আদাওয়ি বলেন। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, মুতাররিফ বিন আবদুল্লাহ বিন শিখখির এক জানাযায় শরীক ছিলেন। দাফন শেষে যখন সুন্নাত অনুযায়ী কবরের মাটি সমান করে দেওয়া হলো, তিনি বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! এবার তার ইহকালীন যাত্রার ইতি ঘটল।
১২. মুহাম্মাদ বিন খালফ বর্ণনা করেন, মুহাম্মাদ বিন আলা তাইমী উকবাহ বাযযার-এর কাছ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "আমি একজন বেদুইনকে দেখলাম, সে একটি জানাযা দেখতেই এগিয়ে এসে বলল, "আহলান সাহলান! স্বাগতম!" আমি বললাম, "কী কারণে স্বাগত জানাচ্ছ?” লোকটি বলল, "এমন ব্যক্তিকে কেন স্বাগত জানাব না, যাকে এমন প্রতিবেশীর কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যার অনুগ্রহ প্রতিনিয়ত বর্ষিত হচ্ছে। যিনি সুমহান ক্ষমাশীল!" তার কথায় আমার মনে হলো আমি যেন ব্যাপারটা তখনই জানতে পারলাম।
১৩. মুহাম্মাদ বিন উআইনাহ বলেন, আমি এক ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। সেখানে একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। কবরের মাটি সমান করে দেওয়ার পর তিনি বললেন, "হে অমুক, আজ তুমি সব দায় থেকে মুক্ত হলে, আর তোমাকেও মুক্ত করা হলো। আমরা তোমাকে রেখে ফিরে যাচ্ছি। অবশ্য আমরা তোমার পাশে থাকলেও তোমার কোনো লাভ হবে না। অতঃপর কবরের দিকে ফিরে আরও বললেন, হে কবরবাসী, তোমরা আজ বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে আছ। অথচ বিষয়টি আমাদের কারওই নজর কাড়েনি।
১৪. আবু বকর ইবনু আবিদ দুনিয়া বলেন, এক জানাযায় আমি এক টুকরো কাগজ পেলাম, যাতে লেখা ছিল, তোমরা তোমাদের ধ্যান-জ্ঞান সব দুনিয়ার জন্য ব্যয় করেছ। আর অত্যাসন্ন মৃত্যুকে বেমালুম ভুলে গেছ! আল্লাহর শপথ! অচিরেই এক আঁধার ছেয়ে আসা দিনে মৃত্যু তোমাদের জাপটে ধরবে। সেদিন তোমরা সমস্ত নিআমতের স্বাদ ভুলে যাবে আর চরম অপদস্থ হবে। কিন্তু সেদিনের অপমান তোমাদের কোনো উপকারে
আসবে না। সাবধান! সাবধান!! সাবধান!!! আচমকা মৃত্যু চলে আসার আগে, পচে-গলে মিটে যাওয়া লোকজনের প্রতিবেশী হওয়ার আগে সতর্ক হও।
টিকাঃ
১৯. সহিহ বুখারী, ১৩৭২। জানাযা অধ্যায়।
২০. মুসনাদু ফারুক, ১/২৩৫। সনদ মুনকাতি। তবে সমার্থক বর্ণনা পাওয়া যায়।
২১. মুসান্নাকু আবদুর রাজ্জাক, ৩/৫৪১। বর্ণনা নং ৬৬৬১। তা ছাড়া আবু দারদা -এর ব্যাপারেও এ রকম বর্ণনা রয়েছে। উয়নুল আখবার, ২/৩৩১। সনদ মুরসাল।
২২. আহওয়ালুল কুবুর, ৬।
২৩. তারীখু দিমাশক, ২৪/৩২৬।
২৪. হায়াতুস সালাফি বাইনাল কওলি ওয়াল আমাল, ১/৬৯৯।
২৫. ফসলুল খুত্তাব, ২/২০০।
২৬. আয যুহদু লি আহমাদ বিন হাম্বল, ২১১৮। বর্ণনা: ১৫২৯।
২৭. হিলইয়াতুল আওলিয়া ওয়া তবাকাতুল আসফিয়া, ৬/২৯৭।
২৮. তারীখু দিমাশক, ৩৭/২২৫।
২৯. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৬৬। সাফওয়ান বিন সুলাইম -এর জীবনীতে।
৩০. তারীখু দিমাশক, ৫৮/৩৩৩।
৩১. আহওয়ালুল কুবুর, ১৫৭।
৩২. আল ইতিবারু ওয়া সিলওয়াতুল আরিফীন, ১/২৭২।
৩৩. হায়াতুস সালাফি বাইনাল কওলি ওয়াল আমাল, ১/৭০১।